যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে একযোগে পরিচালিত অভিযানে কোটি কোটি ডলার মূল্যের নকল বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের পণ্য জব্দ করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (NYPD)। পুলিশের ভাষ্য, শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত সমন্বিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল ব্র্যান্ডের পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, অভিযানে নকল হ্যান্ডব্যাগ, জুতা, পোশাক, ঘড়ি, অলংকার ও অন্যান্য বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এসব পণ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লোগো ও ট্রেডমার্ক অবৈধভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ পুলিশের।
এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, একই সময়ে ম্যানহাটনের একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হয়। জব্দ করা পণ্যের বাজারমূল্য কয়েক মিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বা কার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশের দাবি, নকল পণ্যের এই অবৈধ ব্যবসা শুধু ক্রেতাদের প্রতারিত করে না, বরং বৈধ ব্যবসা, মেধাস্বত্ব এবং সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থারও ক্ষতি করে। তাই এ ধরনের অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তদন্তকারীরা এখন জব্দ করা পণ্যের উৎস, সরবরাহ চক্র এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ করছেন। মামলার তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে একযোগে পরিচালিত অভিযানে কোটি কোটি ডলার মূল্যের নকল বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের পণ্য জব্দ করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (NYPD)। পুলিশের ভাষ্য, শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত সমন্বিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল ব্র্যান্ডের পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, অভিযানে নকল হ্যান্ডব্যাগ, জুতা, পোশাক, ঘড়ি, অলংকার ও অন্যান্য বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এসব পণ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লোগো ও ট্রেডমার্ক অবৈধভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ পুলিশের। এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, একই সময়ে ম্যানহাটনের একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হয়। জব্দ করা পণ্যের বাজারমূল্য কয়েক মিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বা কার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশের দাবি, নকল পণ্যের এই অবৈধ ব্যবসা শুধু ক্রেতাদের প্রতারিত করে না, বরং বৈধ ব্যবসা, মেধাস্বত্ব এবং সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থারও ক্ষতি করে। তাই এ ধরনের অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তদন্তকারীরা এখন জব্দ করা পণ্যের উৎস, সরবরাহ চক্র এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ করছেন। মামলার তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
মিয়ানমারের একটি বিলাসবহুল হোটেলে নিহত অবস্থায় পাওয়া মার্কিন কূটনীতিক ড্যানিয়েল রিভাকে হত্যার অভিযোগে তাঁর সাবেক স্ত্রীকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মাথা ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রিভাকে হত্যা করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৪৩ বছর বয়সী ড্যানিয়েল রিভার মরদেহ গত মাসে ইয়াঙ্গুনের সাকুরা রেসিডেন্স অ্যান্ড হোটেল থেকে উদ্ধার করা হয়। হোটেলটি ইয়াঙ্গুনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে প্রায় এক মাইল দূরে। ঘটনার পরপরই রিভার সাবেক স্ত্রী, থাইল্যান্ডের নাগরিক পাভিনি সুপাসিরিভিসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার তিনি আদালতে হাজির হন। হত্যার অভিযোগের পাশাপাশি মিয়ানমারের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ওই অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এরপর হত্যা মামলার বিচার শুরু হবে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, রিভার মাথা ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিক আঘাত করা হয়। হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্তের কমপক্ষে ১০ বছরের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। ড্যানিয়েল রিভা নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের লং আইল্যান্ডের ইস্ট নরউইচ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করতেন। মিয়ানমারে দায়িত্ব পালনের আগে দক্ষিণ আমেরিকার সুরিনাম এবং এশিয়ার তিমুর-লেস্তেতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনে কর্মরত ছিলেন। ২০১৮ সালের জুনে পেশায় পেস্ট্রি শেফ পাভিনি সুপাসিরিভিসানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তবে ঠিক কবে তাদের বিচ্ছেদ হয়েছে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সহকর্মীরা রিভাকে একজন সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে স্মরণ করেছেন। মার্কিন কূটনীতিক ফাউস্তো ডি গুজমান বলেন, রিভা মানুষের পাশে দাঁড়াতে সব সময় প্রস্তুত থাকতেন এবং কর্মস্থলে উষ্ণতা ও আন্তরিকতা ছড়িয়ে দিতেন। শৈশবের বন্ধু ম্যাট গ্রান্টও তাঁকে স্মরণ করে বলেন, রিভা শুধু বন্ধু নন, তাঁর কাছে ভাইয়ের মতো ছিলেন। দীর্ঘ চার দশকের বন্ধুত্বে তিনি ছিলেন কৌতূহলী, প্রাণবন্ত ও অসাধারণ একজন মানুষ। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর রিভার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কথা উল্লেখ করে ঘটনার বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অন্যদিকে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটক থাই নাগরিককে কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে মিয়ানমারে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তদন্তকারীরা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দেশটির চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কোনো সম্পর্কের তথ্য প্রকাশ করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস মহামারির সময় সংঘটিত দেশের অন্যতম বড় সরকারি অর্থ আত্মসাতের মামলার এক প্রধান অভিযুক্তকে চার বছরের বেশি সময় পলাতক থাকার পর সোমালিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্ত আবদিকারিম আইদলেহকে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে যৌথ অভিযানে আটক করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ৪২ বছর বয়সী আবদিকারিম আইদলেহকে বৃহস্পতিবার দিনের বেলায় পরিচালিত এক অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে অংশ নেয় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এবং সোমালিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। তিনি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে বহুল আলোচিত ‘ফিডিং আওয়ার ফিউচার’ জালিয়াতি মামলায় অভিযুক্ত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, মহামারির সময় শিশুদের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির নামে প্রায় ২৫ কোটি ডলার আত্মসাৎ করা হয়। মিনেসোটার ভারপ্রাপ্ত মার্কিন অ্যাটর্নি ড্যানিয়েল রোজেন বলেন, আইদলেহ এই জালিয়াতি চক্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর ভাষায়, তিনি বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ঘুষ ও প্রলোভনের মাধ্যমে এই প্রতারণায় যুক্ত করেন এবং মার্কিন করদাতাদের অর্থ আত্মসাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। রোজেন আরও জানান, আইদলেহ ছিলেন এই চক্রের মূল হোতা অ্যামি বকের পর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। সম্প্রতি অ্যামি বককে এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ৪০ বছরের বেশি কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তদন্তকারীদের অভিযোগ, আইদলেহ বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং ব্যবসাকে ভুয়া বিল ও অতিরঞ্জিত হিসাব জমা দিতে নির্দেশ দেন। পরে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা বিভাগ থেকে সেই ভুয়া দাবির বিপরীতে সরকারি অর্থ আদায় করা হয়। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে অন্তত ৫০ লাখ ডলার ঘুষ ও অবৈধ কমিশন গ্রহণ করেন। তার বিরুদ্ধে তারবার্তার মাধ্যমে প্রতারণা (ওয়্যার ফ্রড), ফেডারেল কর্মসূচিতে ঘুষ, অর্থপাচার এবং ষড়যন্ত্রের মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। এফবিআই মিনিয়াপোলিস কার্যালয়ের বিশেষ এজেন্ট ক্রিস্টোফার ডটসন বলেন, এই গ্রেপ্তার প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিস্তৃত। কেউ বিদেশে পালিয়ে গেলেই আইনের হাত থেকে রেহাই পাবেন, এমন ধারণা ঠিক নয়। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ‘ফিডিং আওয়ার ফিউচার’ মামলায় এখন পর্যন্ত ৭৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৬ জন ইতোমধ্যে দোষ স্বীকার করেছেন অথবা আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। অভিযুক্তদের অধিকাংশই সোমালি বংশোদ্ভূত। এছাড়া মিনেসোটায় শিশু পরিচর্যা, আবাসন এবং আচরণগত স্বাস্থ্যসেবাসহ করদাতাদের অর্থে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে জালিয়াতির অভিযোগেও আরও অনেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ড্যানিয়েল রোজেন বলেন, শুধু ‘ফিডিং আওয়ার ফিউচার’ মামলাই নয়, মিনেসোটায় সরকারি সামাজিক কর্মসূচিগুলোকে কেন্দ্র করে সংঘটিত প্রতারণার মোট পরিমাণ ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে তদন্তকারীদের ধারণা। তিনি বলেন, এই মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে এলেও করদাতাদের অর্থ সুরক্ষিত রাখতে অন্যান্য জালিয়াতির ঘটনাগুলোর তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।