যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে আবারও বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি। তবে এই প্রবৃদ্ধির নেতৃত্বে নেই ওয়াল স্ট্রিটের বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। বরং স্থানীয় ছোট ও মাঝারি বিনিয়োগকারীরাই এখন সবচেয়ে বেশি বাড়ি কিনছেন এবং আবাসন বাজারে তাদের প্রভাব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।
Newsweek–এর এক প্রতিবেদনে Realtor.com–এর নতুন গবেষণার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট বাড়ি বিক্রির ১১ দশমিক ৩ শতাংশই বিনিয়োগকারীরা কিনেছেন। ২০২৪ সালে এ হার ছিল ১১ শতাংশ। যদিও এই বৃদ্ধি খুব বেশি নয়, তবুও এটি দেখাচ্ছে যে সাধারণ ক্রেতাদের তুলনায় বিনিয়োগকারীরা এখনো বাজারে তুলনামূলকভাবে সক্রিয়।
গবেষণা অনুযায়ী, গত বছর বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৫ লাখ ৩৪ হাজার বাড়ি কিনেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। একই সময়ে সাধারণ ক্রেতাদের বাড়ি কেনার সংখ্যা ২ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। উচ্চ সুদের হার, বাড়ির দাম বৃদ্ধি এবং সামগ্রিকভাবে ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা এখনো চাপের মধ্যে রয়েছেন।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার বাড়ি বিক্রি করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কম এবং ২০২০ সালের পর সর্বনিম্ন। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বোঝা যায় যে মহামারির সময় কেনা সম্পত্তি দ্রুত বিক্রি করে দেওয়ার প্রবণতা কমে এসেছে এবং বাজার এখন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রাতিষ্ঠানিক বা বড় করপোরেট বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। সম্প্রতি কংগ্রেসে উত্থাপিত ২১শ শতকের ‘রোড টু হাউজিং অ্যাক্ট’-এও বড় বিনিয়োগকারীদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই আইনে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেননি এবং নাগরিকত্ব যাচাইসংক্রান্ত সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট আগে পাস করার দাবি জানান। ফলে আইনটির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।
তবে গবেষণায় উঠে এসেছে ভিন্ন বাস্তবতা। বর্তমানে বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা, যারা বছরে ৩৫০টির বেশি বাড়ি কেনেন, তারা মোট বিনিয়োগকারী ক্রয়ের মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করছেন। এটি ২০১১ সালের পর সর্বনিম্ন। ২০২১ সালের সর্বোচ্চ অবস্থানের তুলনায় তাদের বাড়ি কেনার পরিমাণ প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে।
Realtor.com–এর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হান্না জোন্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারী বাজার এখন একটি নতুন ভারসাম্যে পৌঁছেছে। তাঁর মতে, বর্তমানে মোট বিনিয়োগকারী ক্রয়ের প্রায় ৬৩ শতাংশই ছোট বিনিয়োগকারীদের, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ফলে আবাসন বাজারে প্রতিযোগিতার ধরন বদলাচ্ছে, যদিও বিশেষ করে তুলনামূলক সাশ্রয়ী এলাকার বাড়িগুলোর ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ছোট বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি বাড়ি কিনছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিডওয়েস্ট ও সান বেল্ট অঞ্চলে। কারণ এসব এলাকায় বাড়ির দাম তুলনামূলক কম, ভাড়ার চাহিদা শক্তিশালী এবং আবাসন বাজারে লেনদেনও সক্রিয়।
৫০টি বৃহত্তম মহানগর এলাকার মধ্যে মেমফিস (টেনেসি) বিনিয়োগকারীদের ক্রয়ের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে। সেখানে বিক্রি হওয়া মোট বাড়ির ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ কিনেছেন বিনিয়োগকারীরা। এরপর রয়েছে কানসাস সিটি (২১ দশমিক ২ শতাংশ) এবং সেন্ট লুইস (২১ দশমিক ১ শতাংশ)। এছাড়া বার্মিংহাম (আলাবামা) এবং ওকলাহোমা সিটিতেও বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য।
অন্যদিকে, পোর্টল্যান্ড, হার্টফোর্ড, স্যাক্রামেন্টো, সিয়াটল এবং বোস্টনে বিনিয়োগকারীদের বাড়ি কেনার হার সবচেয়ে কম। এসব এলাকায় আবাসনের সরবরাহ সীমিত এবং সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তুলনামূলক বেশি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মহামারির পর বড় করপোরেট বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি কমে গেলেও ছোট বিনিয়োগকারীরা এখনো সাধারণ ক্রেতাদের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছেন। ২০২১-২২ সালের বাজারের সর্বোচ্চ সময়ের তুলনায় ২০২৫ সালে মোট বাড়ি বিক্রি ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে। কিন্তু একই সময়ে বিনিয়োগকারীদের ক্রয় কমেছে মাত্র ২২ দশমিক ৬ শতাংশ।
এ ছাড়া মহামারির আগের সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, সামগ্রিক বাড়ি বিক্রি এখনো ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ কম থাকলেও বিনিয়োগকারীদের বাড়ি কেনার পরিমাণ ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
Realtor.com জানিয়েছে, তাদের এই গবেষণায় করপোরেট মালিকানার দলিল বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে তথ্যগুলো মূলত সীমিত পরিসরে করপোরেট কাঠামো, যেমন এলএলসি (LLC), ব্যবহার করে বাড়ি কেনা ছোট ও মাঝারি বিনিয়োগকারীদের কার্যক্রমকে প্রতিফলিত করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সোমবার ছিল সুপ্রিম কোর্টে এক নাটকীয় দিন। একদিনে চারটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় প্রকাশ করেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। এর মধ্যে একটি রায়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও বাকি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আদালত তাঁর অবস্থানের বিপক্ষে রায় দিয়েছে। ফলে একই দিনে বড় একটি আইনি সাফল্যের পাশাপাশি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ধাক্কার মুখে পড়েছেন তিনি। বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আদালতের সিদ্ধান্তগুলো দেখিয়েছে যে রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ সুপ্রিম কোর্ট সব ক্ষেত্রেই ট্রাম্পের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে না। কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তিন উদারপন্থি বিচারপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এবং ট্রাম্প মনোনীত বিচারপতিরাও একমত হয়েছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায়টি ছিল স্বাধীন ফেডারেল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের অপসারণে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা নিয়ে। প্রায় ৯০ বছর আগে দেওয়া একটি ঐতিহাসিক নজিরে বলা হয়েছিল, কংগ্রেসের গঠিত স্বাধীন সংস্থার কমিশনারদের প্রেসিডেন্ট ইচ্ছামতো বরখাস্ত করতে পারবেন না। ট্রাম্প প্রশাসনের চ্যালেঞ্জের পর সুপ্রিম কোর্ট সেই দীর্ঘদিনের নজির বাতিল করে দেয়। ছয়জন রক্ষণশীল বিচারপতির সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, যারা প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করেন, তারা প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে অপসারণযোগ্য হওয়া উচিত। এতে তারা প্রেসিডেন্টের কাছে এবং প্রেসিডেন্ট জনগণের কাছে জবাবদিহির মধ্যে থাকবেন। এই রায়ের ফলে শুধু বর্তমান প্রেসিডেন্টই নন, ভবিষ্যতের প্রেসিডেন্টরাও ফেডারেল ট্রেড কমিশনসহ বিভিন্ন স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তাদের অপসারণ ও নতুন নিয়োগে আগের তুলনায় অনেক বেশি ক্ষমতা পাবেন। নির্বাচন, যোগাযোগ, শ্রম, আর্থিক ও পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন সংস্থার ক্ষেত্রেও এই নজির প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। রায়ের পর ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, "৯০ বছরের নজির পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। এমন সময়ে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যখন সেটির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল।" তবে একই দিনে ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর বোর্ডের সদস্য লিসা কুককে অপসারণের প্রশ্নে ট্রাম্পের অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছে সুপ্রিম কোর্ট। পাঁচ-চার ভোটের রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস, রক্ষণশীল বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানফ এবং তিন উদারপন্থি বিচারপতি একমত হয়ে ট্রাম্পের উদ্যোগে স্থগিতাদেশ দেন। ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, লিসা কুক বন্ধকী ঋণসংক্রান্ত জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। তবে আদালত বলেছে, তাঁকে অপসারণের আগে অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। রবার্টস সতর্ক করে বলেন, প্রেসিডেন্ট যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নির্বিচারে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন, তাহলে তার গুরুতর পরিণতি হতে পারে। নির্বাচনী ব্যবস্থাসংক্রান্ত আরেকটি মামলাতেও ট্রাম্প পরাজিত হন। ডাকযোগে পাঠানো ভোট নির্বাচন দিনের ডাকমোহর থাকলে পরে পৌঁছালেও তা গণনা করা যাবে কি না, এ প্রশ্নে আদালত ট্রাম্পের আপত্তি খারিজ করে দেয়। এই মামলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত লেখেন ট্রাম্প মনোনীত বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের সময়, স্থান ও পদ্ধতি নির্ধারণের ব্যাপক ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যগুলোর রয়েছে। ডাকযোগে ভোট নিয়ে জালিয়াতির আশঙ্কার বিষয়ে ট্রাম্পের দাবি আদালত গ্রহণ করেনি। এই রায়ের পর ট্রাম্প কংগ্রেসকে তাঁর নির্বাচনী সংস্কার প্রস্তাব পাস করার আহ্বান জানান। ওই প্রস্তাবে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। দিনের আরেকটি বড় ধাক্কা আসে লেখক ই. জিন ক্যারলের করা মানহানি মামলায়। সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আপিল শুনতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে ২০২৩ সালে জুরির দেওয়া ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণের রায় বহাল থাকে। ই. জিন ক্যারল অভিযোগ করেছিলেন, ১৯৯০-এর দশকে নিউইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরের পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে ট্রাম্প তাঁকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। পরে ওই অভিযোগ অস্বীকার করে তাঁকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য করায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দেওয়ানি আদালত ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সুপ্রিম কোর্ট কোনো অতিরিক্ত ব্যাখ্যা ছাড়াই সেই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন নাকচ করে দেয়। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা ও আইনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তিনি মানহানির অভিযোগকে "হাস্যকর" বলেও মন্তব্য করেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ৫০ লাখ ডলারের এই মামলায় ট্রাম্পের আইনি লড়াই কার্যত শেষ হয়ে গেছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। যদিও ক্যারলের পক্ষে দেওয়া পৃথক ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের আরেকটি ক্ষতিপূরণের রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আপিল প্রক্রিয়া এখনো চলমান। সোমবারের রায়গুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিয়েছে। প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের পক্ষে অবস্থান নিলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা, নির্বাচনী বিধান এবং বিচারিক রায়ের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আদালত নির্বাহী ক্ষমতার সীমা টেনে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় থাকেন, সেটি শুধু লটারির জ্যাকপট জেতার সম্ভাবনাই নয়, সেই অর্থ দিয়ে কেমন বাড়ি কেনা সম্ভব, সেটিও অনেকাংশে নির্ধারণ করতে পারে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিছু অঙ্গরাজ্যে অন্যগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি মানুষ লটারির বড় পুরস্কার জিতছেন। একই সঙ্গে এসব রাজ্যে জ্যাকপট জিতলে কী ধরনের বিলাসবহুল বাড়ি কেনা সম্ভব, সে চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। রিয়েল এস্টেটবিষয়ক সংবাদমাধ্যম Realtor.com প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে Vegas Insider-এর যুক্তরাষ্ট্রের লটারি–সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, লটারির জ্যাকপট বিজয়ীর সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে মিশিগান। এ পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যটিতে ৪৬টি জ্যাকপট জয়ের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। বছরে গড়ে ৭২ দশমিক ৭ জন এবং প্রতি ১০ লাখ বাসিন্দার বিপরীতে ৯৮ দশমিক ৪ জন বিজয়ীর হিসাব পাওয়া গেছে। মিশিগানের পরের অবস্থানে রয়েছে ভার্জিনিয়া, নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, মেরিল্যান্ড, আইওয়া, ম্যাসাচুসেটস, নিউ জার্সি, রোড আইল্যান্ড ও মিসৌরি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারীদের জন্য বড় অঙ্কের লটারি জেতা শুধু ভাগ্যের বিষয় নয়, বরং বিলাসবহুল আবাসনের স্বপ্নও বাস্তবে রূপ দিতে পারে। তবে সেই স্বপ্নের বাড়ির ধরন নির্ভর করবে পুরস্কারের পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার আবাসন বাজারের ওপর। মিশিগান: কয়েক মিলিয়ন ডলারে বিলাসবহুল বাড়ি ডেট্রয়েটভিত্তিক রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান Max Broock Realtors-এর সহযোগী ব্রোকার এরিকা কলিকা সুইঙ্ক বলেন, মেট্রো ডেট্রয়েটে একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার ডলার, আর পুরো মিশিগানে তা প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার ডলার। তাঁর মতে, কর পরিশোধের পরও যদি কয়েক মিলিয়ন ডলার হাতে থাকে, তাহলে বার্মিংহাম, ব্লুমফিল্ড হিলস, গ্রস পয়েন্ট কিংবা লেক হিউরনের তীরবর্তী এলাকায় ১০ লাখ থেকে ৫০ লাখ ডলারের বিলাসবহুল বাড়ি সহজেই কেনা সম্ভব। একই বাজেটে ডেট্রয়েট শহরে ঐতিহাসিক প্রাসাদ কিংবা অভিজাত পেন্টহাউসও কেনা যেতে পারে। ভার্জিনিয়া: জ্যাকপট জিতলে মিলতে পারে বিলাসবহুল প্রাসাদ উত্তর ভার্জিনিয়ায় একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ ডলার। আরলিংটনভিত্তিক রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ডেল জিন্টি বলেন, বড় অঙ্কের লটারি জিতলে আর্লিংটন, ম্যাকলিন, গ্রেট ফলস ও ভিয়েনা এলাকায় ৩০ লাখ থেকে দেড় কোটি ডলারের কাস্টম নির্মিত বিলাসবহুল প্রাসাদ কেনা সম্ভব। এসব বাড়িতে সাধারণত রিসোর্ট–ধাঁচের সুইমিং পুল, হোম থিয়েটার, আধুনিক রান্নাঘর, হট টাব এবং অন্যান্য বিলাসবহুল সুবিধা থাকে। নিউ জার্সি: ইয়ট রাখার সুযোগসহ জলপাড়ের বাড়ি নিউ জার্সির মনমাউথ কাউন্টিতে একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৭ লাখ ডলারের বেশি। ডগলাস এলিম্যান রিয়েল এস্টেটের বিক্রয় প্রতিনিধি ক্রিস ক্যাটজ বলেন, বড় জ্যাকপট জয়ীরা সাধারণত রামসন, মনমাউথ বিচ ও ওশানপোর্ট এলাকায় ৪০ লাখ থেকে দেড় কোটি ডলারের জলপাড়ের বাড়ির প্রতি আগ্রহী হন। এসব বাড়িতে ব্যক্তিগত নৌঘাট, ইয়ট রাখার ব্যবস্থা এবং আটলান্টিক মহাসাগরে সহজ যাতায়াতের সুযোগ থাকে। অন্যদিকে, যারা রক্ষণাবেক্ষণের ঝামেলা কম চান, তাদের জন্য সমুদ্রতীরবর্তী বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টও আকর্ষণীয় বিকল্প। এসব ভবনের পেন্টহাউসের দাম ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ডলারের মধ্যে। ক্যালিফোর্নিয়া: একবার লটারি জিতলেও যথেষ্ট নাও হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসন বাজারগুলোর একটি ক্যালিফোর্নিয়া। নিউপোর্ট বিচ এলাকায় একটি বাড়ির গড় বিক্রয়মূল্য প্রায় ৪৮ লাখ ডলার। স্থানীয় ব্রোকার পাবলো রেনার বলেন, প্রকৃত অর্থে ‘স্বপ্নের বাড়ি’ কিনতে হলে অন্তত ১ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ ডলারের বাজেট প্রয়োজন। আর অনেক বিলাসবহুল বাড়ির দাম ২ থেকে ৩ কোটি ডলার পর্যন্তও হতে পারে। এসব বাড়িতে প্রশান্ত মহাসাগরের দৃশ্য, ব্যক্তিগত নৌঘাট, ব্যক্তিগত সুইমিং পুল, ছাদবাগান, লিফট এবং সমুদ্রসৈকতে সরাসরি প্রবেশের মতো সুবিধা থাকে। নিউইয়র্ক: পুরস্কারের অঙ্কই নির্ধারণ করবে বাড়ির ধরন নিউইয়র্ক সিটিতে লটারির অর্থ দিয়ে কী ধরনের বাড়ি কেনা যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে পুরস্কারের পরিমাণের ওপর। ব্রাউন হ্যারিস স্টিভেন্সের রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ম্যাথিউ মেলিঞ্জার বলেন, কয়েক মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার দিয়ে শহরের ভালো এলাকায় একটি মানসম্মত অ্যাপার্টমেন্ট কেনা সম্ভব। তবে ম্যানহাটনের অভিজাত এলাকায় বিলাসবহুল কন্ডোমিনিয়াম, ঐতিহাসিক ভবন বা টাউনহাউসের দাম কয়েক কোটি ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ফলে বড় অঙ্কের জ্যাকপট জিতলেও অনেক সময় সেটি মানুষের ধারণার তুলনায় কম হতে পারে। শুধু বাড়ি কিনলেই দায়িত্ব শেষ নয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লটারি জেতার পর অনেকেই বাড়ির দাম নিয়েই ভাবেন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় বিবেচনা করেন না। এরিকা সুইঙ্কের মতে, বিলাসবহুল বাড়ি কিনে ফেলাই সবচেয়ে বড় বিষয় নয়। সম্পত্তি কর, বীমা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল, কর্মচারীদের বেতন, বাগান পরিচর্যা এবং নিয়মিত সংস্কার বাবদ প্রতি বছর কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। তিনি জানান, বিশেষ করে পুরোনো বা উচ্চমূল্যের বাড়ির ক্ষেত্রে প্রতি বছর বাড়ির মোট মূল্যের ২ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ধরা উচিত। অর্থাৎ ২০ লাখ ডলারের একটি বাড়ির জন্য বছরে শুধু রক্ষণাবেক্ষণেই ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজার ডলার খরচ হতে পারে। তাঁর পরামর্শ, বড় অঙ্কের লটারি জেতার পর বাড়ি কেনার আগে আর্থিক পরামর্শক, হিসাবরক্ষক, সম্পত্তি–সংক্রান্ত আইনজীবী এবং অভিজ্ঞ রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। কারণ, লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু অর্থ ব্যয় করা নয়, দীর্ঘমেয়াদে সেই সম্পদ সংরক্ষণ করাও।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যের উইন্ডসর শহরের বার্টি–মার্টিন রিজিওনাল ডিটেনশন সেন্টারে কয়েদিদের দখলচেষ্টার পর কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সোমবার (২৯ জুন) ভোরে শুরু হওয়া এ ঘটনায় দুইজন কারারক্ষীকে জিম্মি করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয় এবং কারাগারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। নর্থ ক্যারোলিনা স্টেট ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এসবিআই) জানায়, স্থানীয় সময় ভোর প্রায় ৫টার দিকে কারাগারে থাকা ৮৮ জন কয়েদি দায়িত্বরত তিনজন কারারক্ষীর ওপর হামলা চালিয়ে স্থাপনাটির একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এ সময় একজন কারারক্ষী নিরাপদে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হলেও অপর দুইজনকে জিম্মি করা হয়। ঘটনার খবর পাওয়ার পর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নর্থ ক্যারোলিনা স্টেট ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এসবিআই), এফবিআই এবং একাধিক সংস্থা যৌথভাবে উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টা ধরে আলোচনার পর প্রথমে জিম্মি দুই কারারক্ষীকে নিরাপদে মুক্ত করা হয়। পরে বিশেষায়িত বাহিনী কারাগারে প্রবেশ করে ধাপে ধাপে পুরো স্থাপনাটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযানের পর সব কয়েদি ও কারাকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। যাদের সামান্য আঘাত লেগেছে, তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনার কারণে সাধারণ মানুষের জন্য কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়নি। বার্টি কাউন্টির শেরিফ টায়রন রাফিন জানান, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কারাগারটির ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের কাজ চলছে এবং কয়েদিদের অন্য নিরাপদ সংশোধনাগারে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে কী কারণে কয়েদিরা এই দখলচেষ্টায় নামে এবং ঘটনার সময় কেন মাত্র তিনজন কারারক্ষী দায়িত্বে ছিলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বার্টি–মার্টিন রিজিওনাল ডিটেনশন সেন্টার মূলত বার্টি ও মার্টিন কাউন্টির বন্দিদের জন্য পরিচালিত একটি আঞ্চলিক আটককেন্দ্র। সাম্প্রতিক এই ঘটনা কেন্দ্রটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জনবল সংকট নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।