মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডিয়ারবর্ন শহরের একটি জনপ্রিয় শপিং মলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ গুলিবর্ষণে রূপ নিলে দুইজন নিহত এবং আরও একজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ জুলাই) বিকেলে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় আতঙ্কে ক্রেতা ও কর্মচারীরা প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে মল থেকে বেরিয়ে যান।
ডিয়ারবর্ন পুলিশ জানিয়েছে, শহরের ফেয়ারলেন টাউন সেন্টার শপিং মলে পরিচিত দুই পক্ষের একদল তরুণের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। পরে সেটি মারামারিতে রূপ নেয় এবং একপর্যায়ে উভয় পক্ষ থেকেই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
ডিয়ারবর্ন পুলিশের প্রধান ইসা শাহিন সাংবাদিকদের বলেন, এটি কোনো এলোমেলো বা উদ্দেশ্যহীন হামলা ছিল না। সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিরা একে অপরের পরিচিত ছিলেন। মলে দেখা হওয়ার পর তাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত গুলিবর্ষণে গড়ায়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সংঘর্ষে জড়িত উভয় পক্ষের কাছেই হ্যান্ডগান ছিল।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ দুইজনের একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। অপরজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আহত তৃতীয় ব্যক্তির পরিচয় বা শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
গুলির শব্দ ছড়িয়ে পড়তেই পুরো শপিং মলে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। শত শত মানুষ দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় মল থেকে বের হওয়ার সময় একজন পথচারী একটি গাড়ির ধাক্কায় আহত হন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তিনি গুলিবিদ্ধ ছিলেন না।
ঘটনার পরপরই ফেয়ারলেন টাউন সেন্টার খালি করে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মলটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডিয়ারবর্ন পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে গুলির শব্দ শোনার পর মানুষকে দৌড়ে শপিং মল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। যদিও এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মিশিগান অঙ্গরাজ্য পুলিশের স্পেশালিস্ট লেফটেন্যান্ট টাইরান হাওয়ার্ড জানান, রাজ্য পুলিশ তদন্তে ডিয়ারবর্ন পুলিশকে সহায়তা করছে। ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে তিনি স্থানীয় পুলিশের বক্তব্যের দিকেই ইঙ্গিত করেন।
ফেয়ারলেন টাউন সেন্টার ডেট্রয়েটের পশ্চিমে অবস্থিত ডিয়ারবর্ন শহরের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র। মলটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এখানে ১২৫টিরও বেশি দোকান ও রেস্তোরাঁ রয়েছে এবং প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে কেনাকাটা করতে আসেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনতা দিবসের ছুটির সময় প্রতিবছরই বন্দুক-সহিংসতার ঘটনা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। গান ভায়োলেন্স আর্কাইভ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের স্বাধীনতা দিবসের ছুটির সপ্তাহান্তে দেশজুড়ে ৫০০টিরও বেশি গুলির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। এমন প্রেক্ষাপটে এবারের ঘটনাও নতুন করে জননিরাপত্তা ও অস্ত্র সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান বার্নার্ডিনো কাউন্টিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী এবং তার গর্ভের যমজ সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। একই দুর্ঘটনায় ওই নারীর দুই কিশোর সন্তান গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেটিএলএ এবং দ্য সান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুন ৩৩ বছর বয়সী লোরেনা লোপেজ তার ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই সন্তানকে নিয়ে একটি পার্টিতে যাচ্ছিলেন। পথে একটি মোড়ে তাদের গাড়িকে অপর একটি গাড়ি জোরে ধাক্কা দেয়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, ২৫ বছর বয়সী অপর গাড়িচালক স্টপ সাইন অমান্য করে দ্রুতগতিতে মোড় অতিক্রম করার সময় লোপেজের গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটান। ধাক্কার তীব্রতায় পরিবারের নিসান আলটিমা গাড়িটি উল্টে যায় এবং এর ছাদ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই লোরেনা লোপেজ এবং তার গর্ভের যমজ সন্তান, একটি ছেলে ও একটি মেয়ের মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, লোপেজ পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং মাত্র দুই সপ্তাহ পর তার 'বেবি শাওয়ার' অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। দুর্ঘটনায় আহত লোপেজের দুই সন্তানকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, তাদের দুজনেরই গুরুতর মস্তিষ্কে আঘাত, মস্তিষ্কে ফোলা এবং পাঁজরের হাড় ভেঙে গেছে। তারা এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছে। অন্যদিকে, সংঘর্ষে জড়িত টয়োটা ক্যামরি গাড়িটির চালক দুর্ঘটনার পর গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। পরে গাড়িটিতে আগুন ধরে গেলে উদ্ধারকর্মীরা তাকে বের করে হাসপাতালে পাঠান। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে গাড়ির বিভিন্ন অংশ। পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেন। ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী ডেনিস স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সংঘর্ষের শব্দ ছিল এতটাই বিকট যে তা তার কাছে "সুপারসনিক বিস্ফোরণের" মতো মনে হয়েছে। লোপেজের মৃত্যুর পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবারে। পরিবারের সদস্যরা তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং আহত দুই সন্তানের চিকিৎসা ব্যয় বহনে সহায়তার জন্য একটি গোফান্ডমি তহবিলও চালু করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় চালকের গতি, স্টপ সাইন অমান্যের অভিযোগ এবং অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিল পাচারের দায়ে দুই বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড ভোগ শেষে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরই মেক্সিকোর নাগরিক আইরিস রিয়াল-বেসেরাকে (Iris Real-Becerra) হেফাজতে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস)। আইসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রিয়াল-বেসেরা যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিল পাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে দুই বছরের কারাদণ্ড ভোগ করেন। সাজা শেষ হওয়ার পর ফেডারেল কারাগার থেকে মুক্তি পেলেই তাকে আইস কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছেন। ফেন্টানিল একটি অত্যন্ত শক্তিশালী কৃত্রিম ওপিওয়েড, যা সামান্য পরিমাণেও প্রাণঘাতী হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই মাদক যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান এবং মাদকবিরোধী বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে ফেন্টানিল-সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা কমার প্রবণতা দেখা গেলেও, প্রতিবছর এখনও কয়েক দশক হাজার মানুষ এ মাদকের কারণে প্রাণ হারাচ্ছেন। আইস জানিয়েছে, মাদক পাচারের মতো গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সাজা শেষে তাদের অভিবাসন হেফাজতে নেওয়া হয় এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রয়োজনে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বলছে, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ তাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী মাদকের প্রবেশ কমানো এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে আইরিস রিয়াল-বেসেরার অভিবাসন মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ বা তাকে কবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে, সে বিষয়ে আইস এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের আসন্ন ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রাইমারি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট নেতা ও মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবার প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন মুসলিম প্রার্থী ও চিকিৎসক ড. আবদুল এল-সায়েদকে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, প্রভাবশালী লবি-সমর্থিত সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটিগুলো (সুপার প্যাক) এল-সায়েদকে পরাজিত করতে কোটি কোটি ডলার ব্যয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে স্যান্ডার্স বলেন, ড. আবদুল এল-সায়েদকে হারাতে AIPAC-সংশ্লিষ্ট এবং অন্যান্য বিলিয়নিয়ার-অর্থায়িত সুপার প্যাক বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে। তার দাবি, এসব গোষ্ঠী এমন প্রার্থীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে, যারা প্রতিষ্ঠিত ক্ষমতার কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করেন এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থে অবস্থান নেন। বার্নি স্যান্ডার্সের মতে, ড. এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক হিসেবে স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে দেখেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচির সমর্থক। এছাড়া তিনি শ্রমজীবী মানুষের মজুরি বৃদ্ধি, শ্রমিক ইউনিয়নের অধিকার শক্তিশালী করা এবং সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার নিয়ে ভিন্নধর্মী অবস্থান নিয়েছেন। একই পোস্টে স্যান্ডার্স ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তারও সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিপুল অর্থ ব্যয় করে প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীগুলো নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করতে চায় এবং জনগণের পক্ষে অবস্থান নেওয়া প্রার্থীদের পরাজিত করার চেষ্টা করছে। তিনি সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অর্থের প্রভাব নয়, ভোটারদের ঐক্যই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করতে পারে। তাই মিশিগানের ডেমোক্র্যাট ভোটারদের ড. আবদুল এল-সায়েদের পক্ষে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ড. আবদুল এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং মিশিগানের সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তিনি এর আগে ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়নের জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। বর্তমানে তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল ধারার অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে বিবেচিত হন। অন্যদিকে, AIPAC (American Israel Public Affairs Committee) যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থী লবিং সংগঠন। যদিও সংগঠনটি নিজে সুপার প্যাক নয়, তবে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যয়কারী সংগঠনগুলো বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থী সমর্থন বা বিরোধিতায় উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করে থাকে। আগামী ৪ আগস্ট মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রাইমারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে স্যান্ডার্সের এই প্রকাশ্য সমর্থন এবং নির্বাচনী অর্থায়ন নিয়ে তার অভিযোগ ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তবে স্যান্ডার্সের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সুপার প্যাকগুলোর কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।