মার্কিন সংগীতজগতের প্রখ্যাত সেশন কণ্ঠশিল্পী এবং কিংবদন্তি গায়ক স্টিভি ওয়ান্ডারের দীর্ঘদিনের সহশিল্পী জিম গিলস্ট্র্যাপ মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে স্বাভাবিক কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তবে তাঁর মৃত্যুর নির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ প্রকাশ করা হয়নি।
জিম গিলস্ট্র্যাপের মৃত্যুতে মার্কিন সংগীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি ছিলেন সেই শিল্পীদের একজন, যাঁদের কণ্ঠ কোটি মানুষ শুনেছেন, কিন্তু অনেকেই তাঁর নাম জানতেন না। নেপথ্যের কণ্ঠশিল্পী হিসেবেই তিনি বিশ্বসংগীতে অসাধারণ অবদান রেখে গেছেন।
বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী স্টিভি ওয়ান্ডারের অমর গান ‘ইউ আর দ্য সানশাইন অব মাই লাইফ’-এর শুরুতে যে পুরুষ কণ্ঠ শোনা যায়, সেটি ছিল জিম গিলস্ট্র্যাপের। পরে গানটিতে যুক্ত হন লানি গ্রোভস এবং এরপর স্টিভি ওয়ান্ডার নিজে গানটি এগিয়ে নেন। গানটি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তা পায় এবং স্টিভি ওয়ান্ডারের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সৃষ্টি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
শুধু একটি গানেই নয়, গিলস্ট্র্যাপ স্টিভি ওয়ান্ডারের ব্যাকিং ভোকাল দল ওয়ান্ডারলাভ–এর সদস্য হিসেবে একাধিক ঐতিহাসিক অ্যালবামে কাজ করেন। এর মধ্যে ‘টকিং বুক’, ‘ইনারভিশনস’ এবং ‘ফুলফিলিংনেস ফার্স্ট ফিনালে’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর কণ্ঠ এসব অ্যালবামের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জিম গিলস্ট্র্যাপের সংগীতজীবন পাঁচ দশকেরও বেশি সময় বিস্তৃত। তিনি শুধু স্টিভি ওয়ান্ডারের সঙ্গেই নয়, বিশ্বের বহু খ্যাতিমান শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কুইন্সি জোন্স, মাইকেল জ্যাকসন, অ্যারেথা ফ্র্যাঙ্কলিন, হুইটনি হিউস্টন, জর্জ বেনসন, বিল উইদার্স, গ্ল্যাডিস নাইট, লুথার ভ্যান্ড্রস, প্যাটি লাবেল, ডলি পার্টন, জেমস ইনগ্রাম, টেডি পেন্ডারগ্রাস, কেনি লগিনস এবং আরও অনেকে। সেশন কণ্ঠশিল্পী হিসেবে তাঁর অবদান মার্কিন জনপ্রিয় সংগীতের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়।
ব্যাকিং ভোকালিস্ট হিসেবে সাফল্যের পাশাপাশি একক শিল্পী হিসেবেও তিনি পরিচিতি পান। ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত তাঁর গান ‘সুইং ইয়োর ড্যাডি’ যুক্তরাজ্যের সংগীত তালিকায় চতুর্থ স্থানে ওঠে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আর-অ্যান্ড-বি তালিকায়ও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে। একই নামে প্রকাশিত তাঁর অ্যালবামও শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায়। পরে তিনি ‘লাভ টক’ নামে আরেকটি একক অ্যালবাম প্রকাশ করেন।
জিম গিলস্ট্র্যাপ টেলিভিশন জগতেও স্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন। জনপ্রিয় মার্কিন টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘গুড টাইমস’–এর থিম সংগীতে তাঁর কণ্ঠ ব্যবহৃত হয়, যা সে সময় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। এছাড়া বিভিন্ন চলচ্চিত্র, টেলিভিশন অনুষ্ঠান এবং অ্যালবামে তাঁর কণ্ঠ শোনা গেছে।
জিম গিলস্ট্র্যাপ ছিলেন এমন একজন শিল্পী, যিনি নিজে সবসময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে না থাকলেও তাঁর কণ্ঠ অসংখ্য কালজয়ী গানের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আধুনিক মার্কিন পপ, সোল ও আর-অ্যান্ড-বি সংগীতে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। একই সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, চলমান সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে আলোচনায় বসতে ওয়াশিংটন প্রস্তুত থাকলেও তেহরান এখনো আন্তরিকতা দেখাচ্ছে না। সিএনএনের ‘দ্য সিচুয়েশন রুম’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক উলফ ব্লিটজারের সঙ্গে আলাপকালে পেন্স বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ট্রাম্প সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তিনি মনে করেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করা পেন্স বলেন, যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় বর্তমান প্রেসিডেন্টের আগ্রহ তিনি বুঝতে পারেন। তবে তাঁর মতে, শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানো কিংবা হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে ইরানের সদিচ্ছা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। পেন্সের বক্তব্যের সঙ্গে মিল রেখে ইরানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। বুধবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি বলেন, মতপার্থক্য কমানো এবং সংঘাতের সমাধান খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্র এখনো আলোচনার জন্য প্রস্তুত। রুবিও বলেন, ইরান আন্তরিকভাবে আলোচনায় এগিয়ে এলে যুক্তরাষ্ট্রও একই মনোভাব দেখাবে। তবে তেহরান কূটনৈতিক উদ্যোগে সাড়া না দিলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, ইরান এখনো আলোচনাকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে না। তবে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত আছে কি না কিংবা নতুন কোনো যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ চলছে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান এমন সময় সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে টানা সামরিক সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও নৌবাণিজ্যের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে কোনো বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ এবং দামের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে। ম্যানিলায় আঞ্চলিক বৈঠকেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত তাদের অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি এবং সরবরাহব্যবস্থায় চাপ বাড়াতে পারে। ওয়াশিংটন একদিকে আলোচনার দরজা খোলা রাখার কথা বলছে, অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানও চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ থাকলেও ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও আঞ্চলিক তৎপরতা থেকে নিজেদের এবং মিত্রদের রক্ষার জন্য অভিযান প্রয়োজন। তবে তেহরান বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, মার্কিন সামরিক হামলা ও চাপের মধ্যে অর্থবহ আলোচনা সম্ভব নয়। ফলে উভয় পক্ষ প্রকাশ্যে কূটনীতির কথা বললেও সংঘাত বন্ধের কার্যকর পথ এখনো স্পষ্ট হয়নি।
একসময় বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে বিবেচিত যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট এখন বৈশ্বিক তালিকার দশম স্থানে নেমে এসেছে। ২০২৬ সালের হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সে মার্কিন নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়া বা পৌঁছানোর পর ভিসা নিয়ে ১৭৯টি গন্তব্যে যেতে পারছেন। দুই দশক আগে তালিকার শীর্ষে থাকা দেশটির জন্য এটি বৈশ্বিক ভ্রমণসুবিধায় দীর্ঘমেয়াদি পিছিয়ে পড়ার চিত্র। হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র তালিকার প্রথম স্থানে ছিল। দুই দশক পর দেশটি দশম স্থানে অবস্থান করছে। সমান স্কোরের কারণে দশম অবস্থানের আগে মোট ৩৬টি দেশের পাসপোর্ট রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়া ১৯২টি গন্তব্যে যেতে পারেন। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। গত ২০ বছরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অগ্রগতি ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য; দেশটি ১৪৯টি নতুন ভিসামুক্ত গন্তব্য যোগ করে র্যাঙ্কিংয়ে ৫৭ ধাপ এগিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টের সুবিধা পুরোপুরি কমে যায়নি। বরং অন্যান্য দেশ দ্রুত নতুন ভিসামুক্ত সুবিধা অর্জন করায় তুলনামূলক অবস্থানে পিছিয়ে পড়েছে দেশটি। হেনলির তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র খুব অল্পসংখ্যক দেশের সঙ্গে নতুন ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার যোগ করতে পেরেছে। একই সময়ে ইউরোপ ও এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ কূটনৈতিক সমঝোতা ও শিথিল ভিসানীতির মাধ্যমে নিজেদের নাগরিকদের ভ্রমণসুবিধা বাড়িয়েছে। হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সে ১৯৯টি পাসপোর্ট এবং ২২৭টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার তথ্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসানীতি ও প্রবেশবিধি যাচাই করে তালিকাটি নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। তবে পাসপোর্টের ক্ষমতা নিয়ে সব প্রতিষ্ঠানের তালিকা এক নয়। আর্টন ক্যাপিটালের গ্লোবাল পাসপোর্ট পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ে ভিসামুক্ত ও আগমনী ভিসার সুবিধা আলাদাভাবে হিসাব করা হয়। সেই তালিকায় ২০২৬ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রথম এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হেনলির তালিকা থেকে কিছুটা ভিন্ন। পদ্ধতিগত পার্থক্যের কারণে একই পাসপোর্টের অবস্থান একেক সূচকে একেক রকম হতে পারে। বিশ্বজুড়ে ভ্রমণের সুযোগ গত দুই দশকে সামগ্রিকভাবে বেড়েছে। ২০০৬ সালে একটি পাসপোর্টে গড়ে ৫৮টি গন্তব্যে আগাম ভিসা ছাড়া যাওয়া যেত। ২০২৬ সালে সেই গড় বেড়ে ১০৮টিতে পৌঁছেছে। তবে শীর্ষ ও নিচের দেশগুলোর মধ্যে ব্যবধান এখনো বড়, যা নাগরিকদের আন্তর্জাতিক চলাচলের সুযোগে বৈষম্য তুলে ধরে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে মোটর ভেহিকল কমিশনের (এমভিসি) সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে প্রায় ৬ হাজার ৬০০ জন অ-যুক্তরাষ্ট্র নাগরিক ভুলবশত ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছিলেন। এদের মধ্যে ৪০০ জনেরও কম ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছে অঙ্গরাজ্য সরকার। গভর্নর মিকি শেরিল ঘটনাটিকে ‘গুরুতর সফটওয়্যার ত্রুটি’ হিসেবে উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। গভর্নরের কার্যালয় জানায়, ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স বা অঙ্গরাজ্যের পরিচয়পত্রের জন্য আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু সফটওয়্যারের ত্রুটির কারণে তাদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়ে যায়। এই ঘটনা বর্তমান প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই ঘটেছিল। বিষয়টি জানার পর গভর্নর শেরিল সংশ্লিষ্ট সব নাম ভোটার তালিকা থেকে অপসারণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কীভাবে এই ত্রুটি ঘটল তা তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং সফটওয়্যার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে নতুন সেবাদাতা নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ভুলবশত নিবন্ধিত হওয়া ৬ হাজার ৬০০ জনের মধ্যে ৪০০ জনেরও কম ব্যক্তি ভোট দিয়েছেন। তবে রাজ্য প্রশাসনের দাবি, এখন পর্যন্ত এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি যাতে মনে হয় এই ভোট কোনো নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন করেছে। ঘটনার পর নিউ জার্সিতে নির্বাচন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান নেতারা বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে গভর্নর শেরিল বলেছেন, নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা বজায় রাখতে দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন ত্রুটি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিউ জার্সি প্রশাসন জানিয়েছে, সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে নিবন্ধিত হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হচ্ছে না, কারণ তারা আবেদন করার সময় নিজেদের নাগরিক নন বলে সঠিক তথ্যই দিয়েছিলেন। ভুলটি ঘটেছে সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনিক সফটওয়্যার ব্যবস্থার কারণে।