যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, কোন অভিবাসীরা এগিয়ে আর কারা পড়ছেন পিছিয়ে?
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপত্র বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। নতুন নীতি ও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের ফলে কিছু শ্রেণির আবেদনকারীর সুযোগ বাড়লেও অন্যদের জন্য প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে আর্থিক সক্ষমতা, সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা এবং আবেদনকারীর অভিবাসন শ্রেণি এখন আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
নতুন নীতিতে মার্কিন নাগরিকের স্বামী-স্ত্রী, অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান এবং কিছু নিকট আত্মীয় এখনও তুলনামূলকভাবে অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। এছাড়া উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী, বিশেষজ্ঞ পেশাজীবী এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন—এমন আবেদনকারীরাও তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তবে সব ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা ও আর্থিক যাচাই আরও কঠোর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সরকারি ভাতা, খাদ্য সহায়তা, মেডিকেইড বা অন্যান্য জনকল্যাণমূলক সুবিধার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরশীল আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন আবারও ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি ফিরিয়ে আনছে, যার ফলে অভিবাসন কর্মকর্তারা আবেদনকারীর আর্থিক স্বনির্ভরতা মূল্যায়ন করবেন। সংশ্লিষ্ট নীতি ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
এছাড়া প্রশাসন এমন একটি প্রস্তাবও বিবেচনা করছে, যেখানে বিদেশে থাকা কিছু গ্রিন কার্ড আবেদনকারীকে এক লাখ ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য জামানত জমা দিতে হতে পারে। প্রশাসনের দাবি, এর উদ্দেশ্য হলো আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অভিবাসীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়া আরও কঠিন হবে।
সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনের কারণে ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশের কর্মসংস্থানভিত্তিক ও পারিবারিক অভিবাসনের আবেদন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে গেছে। অনেক আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গিয়ে আবেদন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, যা সময় ও অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।
অভিবাসন অধিকারকর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, নতুন নীতির ফলে অনেক পরিবার প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও সরকারি স্বাস্থ্যসেবা বা খাদ্য সহায়তা নিতে ভয় পেতে পারে। তাদের মতে, এতে নিম্ন আয়ের অভিবাসী পরিবারগুলোর ওপর সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড নীতিতে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে আবেদনকারীর আর্থিক স্বনির্ভরতা, কর্মদক্ষতা এবং অভিবাসনের আইনি ভিত্তি। ফলে যাদের স্থিতিশীল আয়, উচ্চ দক্ষতা বা শক্তিশালী পারিবারিক যোগসূত্র রয়েছে তারা তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও নিম্ন আয়ের ও সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল অনেক আবেদনকারীর জন্য স্থায়ী বসবাসের পথ আগের তুলনায় আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্ক: মধ্যরাতে হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ছে পুলিশ বা অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার কর্মকর্তারা। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে দরজা খুলে দেওয়ার আগে কর্মকর্তাদের পরিচয়, আসার কারণ এবং তাদের কাছে ঘরে প্রবেশের বৈধ অনুমতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অভিবাসন কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে আদালতের বিচারকের স্বাক্ষর করা পরোয়ানা এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব প্রশাসনিক পরোয়ানার মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত পার্থক্য। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের অধিকারবিষয়ক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পুলিশ বা অভিবাসন কর্মকর্তারা দরজায় এলেই বাসিন্দাকে দরজা খুলতে হবে এমন নয়। দরজা বন্ধ রেখেই কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা যায় এবং তাদের পরিচয়পত্র বা ব্যাজ দেখাতে বলা যায়। কর্মকর্তারা কেন এসেছেন এবং তাদের কাছে বিচারকের স্বাক্ষর করা পরোয়ানা আছে কি না, সেটিও জানতে চাওয়া যেতে পারে। আইসের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। আইসের কর্মকর্তাদের দেওয়া প্রশাসনিক পরোয়ানা সাধারণত আদালতের বিচারকের স্বাক্ষর করা পরোয়ানা নয়। ২০২৬ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত একটি নীতিগত নথিতেও বলা হয়েছে, আইসের প্রশাসনিক পরোয়ানা ব্যক্তিগত স্থানে সম্মতি ছাড়া প্রবেশের সাধারণ আইনগত অনুমতি দেয় না। বিচারকের স্বাক্ষর করা বিচারিক পরোয়ানা এর থেকে আলাদা। নিউইয়র্ক সিটি কম্পট্রোলারের কার্যালয়ের অভিবাসীবিষয়ক অধিকার নির্দেশিকাতেও বলা হয়েছে, আইস কর্মকর্তারা বাড়িতে এলে বাসিন্দারা দরজা না খুলে ভেতর থেকে কথা বলতে পারেন। কর্মকর্তাদের বিচারকের স্বাক্ষর করা তল্লাশি বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে কি না, তা জানতে এবং থাকলে পরোয়ানাটি দরজার নিচ দিয়ে বা জানালার মাধ্যমে দেখাতে বলতে পারেন। তবে পুলিশ এবং আইসের ক্ষেত্রে আইনগত নিয়ম পুরোপুরি এক নয়। পুলিশ কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের জন্য আদালতের বৈধ পরোয়ানা নিয়ে এলে এবং সেই ব্যক্তি বাড়ির ভেতরে আছেন বলে যুক্তিসংগত বিশ্বাস থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। আবার জরুরি পরিস্থিতি, সম্মতি বা আইনে স্বীকৃত কিছু বিশেষ অবস্থাতেও পরোয়ানা ছাড়া পুলিশের প্রবেশের প্রশ্ন আলাদাভাবে বিবেচিত হয়। নিউইয়র্কের আদালতের সাম্প্রতিক রায়গুলোতেও এ ধরনের ব্যতিক্রমের কথা উঠে এসেছে। বাড়িতে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সম্মতি। বাসিন্দা নিজে দরজা খুলে কর্মকর্তাদের ভেতরে আসার অনুমতি দিলে পরবর্তী আইনগত পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। তাই কর্মকর্তারা দরজায় এলে না বুঝে বা আতঙ্কের কারণে তাদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়াই নিরাপদ। নিউইয়র্কের আদালতের সাম্প্রতিক একটি মামলাতেও ব্যক্তিগত বাসস্থানে তল্লাশি বা গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সম্মতি ও জরুরি পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। কর্মকর্তারা কোনো পরোয়ানা দেখালে সেটি ভালোভাবে দেখার সুযোগ চাওয়া যেতে পারে। সেখানে কার নাম রয়েছে, কোন ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে এবং তল্লাশি বা গ্রেপ্তারের জন্য কী অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু কোনো কাগজ দেখানো হয়েছে বলেই সেটিকে আদালতের পরোয়ানা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আইসের কর্মকর্তারা জোর করে বাড়িতে প্রবেশ করলে শারীরিকভাবে বাধা না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে শান্ত থাকতে, প্রবেশে সম্মতি দেওয়া হয়নি তা স্পষ্টভাবে জানাতে এবং নিজের নীরব থাকার অধিকার প্রয়োগ করতে। কোনো নথিতে স্বাক্ষর করার আগে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের অভিবাসন পরিস্থিতি সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া উচিত নয়। তবে মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা ভুয়া নথি তৈরি করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। আইসের হাতে কেউ আটক হলে তার আইনজীবী রাখার অধিকার রয়েছে, যদিও ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির মতো সরকার থেকে বিনামূল্যে আইনজীবী পাওয়ার অধিকার অভিবাসন আটকের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে আদালতে আইসের বাড়িতে প্রবেশের ক্ষমতা নিয়েও আইনি লড়াই চলছে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নসহ কয়েকটি সংগঠন এমন একটি নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছে, যেখানে বিচারকের স্বাক্ষর করা পরোয়ানা ছাড়াই বাড়িতে প্রবেশের ক্ষমতা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে অভিবাসন কর্মকর্তাদের বাড়িতে প্রবেশের আইনগত সীমা নিয়ে বিষয়টি বর্তমানে আদালতেরও নজরে রয়েছে। নিউইয়র্কে বসবাসকারী অভিবাসীদের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। নগর কর্তৃপক্ষের অভিবাসীবিষয়ক দপ্তরের মাধ্যমে অভিবাসীরা নিজেদের পছন্দের ভাষায় আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পান। জরুরি পরিস্থিতিতে আগে থেকেই পরিবারের জন্য একজন আইনজীবী বা নির্ভরযোগ্য আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ করে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, কেউ নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে গভীর রাতে দরজায় এলে প্রথমে পরিচয় জানতে চাওয়া যেতে পারে। দরজা খুলে বাইরে গিয়ে কথা বলার পরিবর্তে দরজার ভেতর থেকেই কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা যায়। তবে জরুরি পরিস্থিতি বা বৈধ আইনগত পদক্ষেপের ক্ষেত্রে পুলিশের ক্ষমতা ভিন্ন হতে পারে। তাই প্রতিটি পরিস্থিতিকে একই নিয়মে দেখা ঠিক নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো সচেতনতামূলক কার্ডকে সরাসরি আইনি পরামর্শ হিসেবে নেওয়া উচিত নয়। মধ্যরাতে পুলিশ বা আইস দরজায় এলে প্রথমে শান্ত থাকতে হবে, কর্মকর্তাদের পরিচয় জানতে হবে, তারা কেন এসেছেন তা বুঝতে হবে এবং ঘরে প্রবেশের জন্য কী ধরনের আইনগত অনুমতি রয়েছে তা যাচাই করতে হবে। বিশেষ করে অভিবাসন-সংক্রান্ত কোনো জটিল পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়ো করে কোনো নথিতে স্বাক্ষর না করে এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে শারীরিক সংঘর্ষে না জড়িয়ে দ্রুত একজন যোগ্য অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। নিজের অধিকার আগে থেকে জানা এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য পরিবারের সবাইকে প্রস্তুত রাখাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ১৫ বছর বয়সে খুন, সেই কিশোরের ৪০ বছরের কারাদণ্ড
‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে নতুন প্রস্তাব!’ মস্কো ও কিয়েভ সফরে ট্রাম্পের দুই বিশেষ দূত
তুরস্কের ব্যাংকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়াল ওয়াশিংটন
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তার জামাতা জ্যারেড কুশনার। শনিবার মস্কোতে পৌঁছানোর পর তাদের স্বাগত জানান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ প্রতিনিধি কিরিল দিমিত্রিয়েভ। পরে পুতিনের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদলের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মস্কো সফর শেষে উইটকফ ও কুশনার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে যাবেন। যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম তারা কিয়েভ সফর করছেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিনিধিদল যুদ্ধ বন্ধের একটি প্রস্তাব নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা করবে। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প তাদের ‘দারুণ আলোচক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুদ্ধ শেষ করার একটি প্রস্তাব তারা সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের কিয়েভ সফরকে সামনে রেখে মস্কো থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এসেছে। শনিবার মধ্যরাত থেকে পরবর্তী তিন দিন কিয়েভে কোনো হামলা না চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন পুতিন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, আমেরিকান প্রতিনিধিদের কিয়েভ সফর ও সেখানে তাদের যোগাযোগের প্রস্তুতির সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সম্পর্ক রয়েছে। তবে এর মধ্যেই কিয়েভের কাছাকাছি দুটি বিমানবন্দরে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এর মধ্যে বরিসপিল বিমানবন্দরও রয়েছে, যেটি একসময় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হতো। জেলেনস্কির ধারণা, ইউক্রেনে মার্কিন প্রতিনিধিদের বিমানযোগে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ও প্রস্তুতির প্রতিক্রিয়াতেই এসব হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিদেশি নেতারা সাধারণত পোল্যান্ড থেকে রেলপথে কিয়েভে যাতায়াত করে আসছেন। বিমানবন্দরে হামলার খবরের কারণে উইটকফ ও কুশনারের কিয়েভ সফরের পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি। এর মধ্যেই শুক্রবার কিয়েভে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর সদর দপ্তরেও রুশ হামলার খবর পাওয়া যায়। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টরের তীব্র সংকট তৈরি হওয়ায় রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে কিয়েভ অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। একই সময়ে পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরীগুলোর একটি অংশও রুশ বাহিনীর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে। অন্যদিকে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় রাশিয়া যে সহজে ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়, তার ইঙ্গিতও দিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন, ইউক্রেন পরিস্থিতিতে মাটির বাস্তবতা যুক্তরাষ্ট্রকে বিবেচনায় নিতে হবে। তার দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি কিয়েভের অনুকূলে নেই এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রুশ বাহিনী ধীরে ধীরে আরও এগিয়ে যাচ্ছে। তবে কিয়েভে মার্কিন প্রতিনিধিদের সফরকে স্বাগত জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা যতটা সম্ভব গঠনমূলক ও বাস্তবভিত্তিক হওয়া দরকার। যুদ্ধ কীভাবে বাস্তবসম্মতভাবে শেষ করা যায়, সে বিষয়ে সম্ভাব্য পথ খুঁজে বের করাই তাদের লক্ষ্য। ফলে মস্কো ও কিয়েভে উইটকফ-কুশনারের ধারাবাহিক সফরকে যুদ্ধ অবসানের নতুন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ছেলেকে ক্যানসারে হারিয়ে বাইডেনকে চিঠি, ৫ দিন পর যে উত্তর পেলেন মা
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মাথা ন্যাড়া করছেন যুক্তরাষ্ট্রের নারীরা
কলেজ ডিগ্রি ছাড়াই ৬ অঙ্কের বেতন! যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে নতুন ক্যারিয়ারের সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধূসর নেকড়ে ও মেক্সিকান নেকড়ের জন্য থাকা বিপন্ন প্রজাতির আইনি সুরক্ষা তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভবিষ্যতে গবাদিপশু রক্ষার জন্য খামারি ও পশুপালকদের নেকড়ে হত্যার সুযোগ তৈরি হতে পারে। নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ও আমেরিকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে খামারিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংগঠনগুলো ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের আশঙ্কা, এতে নেকড়ের সংখ্যা বাড়ানোর কয়েক দশকের প্রচেষ্টা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে বন্য অবস্থায় মেক্সিকান নেকড়ের সংখ্যা ছিল ৩১৯টি। ১৯৯৮ সালে তাদের আবার বনে ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এই সংখ্যা ছিল মাত্র চারটি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার ধূসর নেকড়ে রয়েছে। তবে মানুষের কর্মকাণ্ডে তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলের বড় একটি অংশ ধ্বংস হওয়ায় প্রজাতিটি এখনো বিপন্ন হিসেবে বিবেচিত। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের ফলে খামারিরা এখনই নেকড়ে গুলি করে হত্যা করতে পারবেন—এমন নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রসচিব ডগ বার্গামকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নেকড়েদের সংখ্যা ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। নেকড়েদের সংখ্যা যথেষ্ট বেড়েছে কি না এবং তাদের বিপন্ন প্রজাতির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, সেটিই পর্যালোচনা করা হবে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, গবাদিপশুর ওপর নেকড়ের হামলা তুলনামূলকভাবে বিরল। তাদের মতে, নেকড়ের হামলার কারণে খামারিদের আয়ের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে না। ওয়েস্টার্ন ওয়াটারশেডস প্রজেক্টের উপপরিচালক গ্রেটা অ্যান্ডারসন বলেন, নেকড়েকে বড় হুমকি হিসেবে তুলে ধরে কয়েকজন খামারিকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তার দাবি, বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য নীতির প্রভাব থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর একটি কৌশল। ওয়ালফ কনজারভেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, নেকড়ের আক্রমণে গবাদিপশু মারা গেলে বর্তমান ব্যবস্থায় খামারিরা ক্ষতির সর্বোচ্চ শতভাগ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য নেকড়ের হামলা ঠেকাতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অর্থ সহায়তা দেয়। গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ওয়ালফ রিকভারি প্রজেক্টের নির্বাহী পরিচালক ক্লেয়ার মাসার বলেন, শুধু নেকড়ের সংখ্যা বেড়েছে বলেই মেক্সিকান নেকড়েকে পুরোপুরি নিরাপদ বলা যায় না। এখন ফেডারেল সুরক্ষা দুর্বল করা হলে কয়েক দশকের সংরক্ষণ প্রচেষ্টা ঝুঁকিতে পড়বে। ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশ এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের দাম রেকর্ড পর্যায়ে রয়েছে। খরার পাশাপাশি গবাদিপশুর মধ্যে পরজীবী সংক্রমণের কারণে মাংসের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। দাম কমানোর চেষ্টা হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন গরুর মাংস আমদানির ওপর কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। এতে মার্কিন খামারিদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, কারণ তারা মনে করছেন এতে তাদের সীমিত লাভের ওপর আরও চাপ পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নেকড়েদের বিরুদ্ধে অভিযান নতুন কিছু নয়। উনিশ শতকের শেষ দিকে দেশটির সরকার নেকড়েদের নির্মূল করতে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছিল। কৃষক ও ভূমিমালিকরাও নেকড়ে ধরে হত্যা করতেন। এসব কারণে একসময় যুক্তরাষ্ট্রে নেকড়ে প্রায় বিলুপ্তির পথে চলে যায়। বর্তমানে নেকড়েদের সুরক্ষার জন্য কঠোর আইন রয়েছে। ফলে গবাদিপশুর ওপর হামলা করলেও অনুমতি ছাড়া নেকড়ে হত্যা করা অনেক ক্ষেত্রে ফেডারেল আইনে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বি-১/বি-২ ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস
ট্রাম্পের নীতির প্রচারে হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে ৫ ভিডিও গেম