লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস অ্যাঞ্জেলেস (বাফলা)-এর নবনির্বাচিত ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের কমিটির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যায় বাফলার কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সভাপতি ইলিয়াস এম. শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক নাসির সৈয়দ জেবুলের নেতৃত্বে নতুন কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে সদ্যবিদায়ী কমিটির সদস্য, নির্বাচন কমিশনের সদস্য এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (বিওটি) চেয়ার ড. রুবিনা নাজিব নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। উল্লেখ্য, ২০১০ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসের ২৯টি বাংলাদেশি সংগঠনকে নিয়ে বাফলা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ঐক্য, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে কাজ করে আসছে। নতুন কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন—সহ-সভাপতি দাউদ বাফাতিয়া, ফাইন্যান্স সেক্রেটারি ড. রাসেল মাহমুদ জুয়েল, অর্গানাইজিং সেক্রেটারি খোরশেদ আলম রতন, পাবলিক রিলেশনস অফিসার মাসুক আল হোসাইন এবং কালচারাল সেক্রেটারি সায়লা রুমি। শপথ গ্রহণের পর বক্তব্যে সভাপতি ইলিয়াস এম. শিকদার সদ্যবিদায়ী কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাফলা দীর্ঘদিন ধরে লস অ্যাঞ্জেলেসের বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে আসছে। ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর ও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। সাধারণ সম্পাদক নাসির সৈয়দ জেবুল বলেন, বাংলাদেশ ডে প্যারেডসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন কমিটি কাজ করবে। এ সময় নতুন কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও কমিউনিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দায়িত্ব নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালনের অঙ্গীকার করেন। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে সদ্যবিদায়ী কমিটির নেতৃবৃন্দ নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। উপস্থিত অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে বাফলা লস অ্যাঞ্জেলেসের বাংলাদেশি কমিউনিটির স্বার্থ, ঐক্য, সম্প্রীতি ও সার্বিক কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের কামিং শহরে দ্রুত বর্ধনশীল মুসলিম কমিউনিটির চাহিদা পূরণে নতুন মসজিদ নির্মাণের জন্য ৭ দশমিক ৫ একর জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে মাসজিদ আল রহমান (Cumming Community Center)। জমিটি কিনতে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে ২ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যে তহবিল সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ। মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জমি বিক্রির জন্য মালিকের সঙ্গে চুক্তি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে প্রকল্পটি ডিউ ডিলিজেন্স পর্যায়ে রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ সংগ্রহ করা গেলে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপর নতুন মসজিদ ও কমিউনিটি ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। বর্তমানে কামিংয়ের পিচট্রি পার্কওয়েতে অবস্থিত মাসজিদ আল রহমান উত্তর জর্জিয়ার অন্যতম ব্যস্ত ইসলামিক সেন্টার। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা, ইসলামিক শিক্ষা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হলেও গত কয়েক বছরে মুসল্লির সংখ্যা এতটাই বেড়েছে যে বিদ্যমান অবকাঠামো আর চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। বিশেষ করে কামিং, আলফারেটা, জনস ক্রিক, সুয়ানি ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিম পরিবারের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তর আটলান্টার এই অঞ্চলটি তথ্যপ্রযুক্তি ও করপোরেট খাতের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থানের কেন্দ্র হওয়ায় দেশ-বিদেশের অনেক পেশাজীবী পরিবার এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছে। ফলে স্থানীয় মসজিদগুলোতেও মুসল্লির সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান মসজিদে জুমার দিন মুসল্লিদের চাপ সামাল দিতে তিনটি পৃথক জামাত আয়োজন করতে হয়। এরপরও অনেক মুসল্লিকে জায়গার সংকটে পড়তে হয়। রমজান, ঈদ এবং বিভিন্ন কমিউনিটি আয়োজনেও একই ধরনের স্থান সংকট দেখা দেয়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান মসজিদ থেকে প্রায় ৪০০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত ৭ দশমিক ৫ একর জমি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষের মতে, ভবিষ্যতে উত্তর জর্জিয়ার মুসলিম কমিউনিটির চাহিদা পূরণে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার কার্যত কোনো বিকল্প নেই। পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন ক্যাম্পাসে একটি বৃহৎ মসজিদ, ৩০০টির বেশি পার্কিং সুবিধা, একটি বহুমুখী কমিউনিটি ভবন এবং বর্তমান স্থানে ইসলামিক স্কুল প্রতিষ্ঠা বা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বহুমুখী ভবনটি জুমার অতিরিক্ত জামাত, ঈদের নামাজ, বড় কমিউনিটি সমাবেশ, ক্রীড়া কার্যক্রম এবং অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহার করা হবে। তহবিল সংগ্রহ অভিযানে বিভিন্ন পর্যায়ে অনুদান দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। কেউ ১০০ ডলারে প্রতীকী একটি ইট, এক হাজার ডলারে একটি মুসাল্লা বা নামাজের স্থান, ৬ হাজার ডলারে একটি পার্কিং স্পেস এবং ২৫ হাজার ডলারে একটি শ্রেণিকক্ষের ব্যয় বহনে অংশ নিতে পারবেন। মসজিদ কর্তৃপক্ষ মুসলিম কমিউনিটির সদস্যদের এই উদ্যোগকে সদাকায়ে জারিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতদের মধ্যেও এই উদ্যোগের কথা ছড়িয়ে দিয়ে জমি অধিগ্রহণের তহবিল সংগ্রহে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। মাসজিদ আল রহমান পরিচালনাকারী কামিং কমিউনিটি সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত ৫০১(সি)(৩) অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে দেওয়া অনুদান যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত কর আইনের আওতায় কর-ছাড়ের জন্য যোগ্য। নতুন মসজিদ প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য, মাস্টারপ্ল্যান, অগ্রগতির সর্বশেষ অবস্থা এবং অনলাইনে অনুদান দেওয়ার সুবিধা সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন: https://cummingcommunitycenter.com/
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় আবাস এখনো নিউইয়র্ক। তবে গত কয়েক বছরে বাড়িভাড়া, বাড়ির মূল্য, সম্পত্তি কর, গাড়ির বীমা, ডে-কেয়ার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় অনেক বাংলাদেশি পরিবার নিউইয়র্ক ছেড়ে অন্য অঙ্গরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করছেন। বিশেষ করে যারা প্রথম বাড়ি কিনতে চান, সন্তানদের ভালো স্কুলে পড়াতে চান কিংবা অবসরের পর তুলনামূলক শান্ত ও সাশ্রয়ী জীবন কাটাতে চান, তাদের মধ্যে এই প্রবণতা স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি ব্যুরো, আবাসন বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের তুলনায় দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কম। একই সঙ্গে এসব এলাকায় কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মুসলিম কমিউনিটি এবং বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বসতির মানচিত্রে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আমেরিকা বাংলার বিশ্লেষণে আবাসন ব্যয়, মধ্যম পারিবারিক আয়, চাকরির সুযোগ, বাংলাদেশি কমিউনিটি, মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, হালাল ব্যবসা, সন্তানের শিক্ষার পরিবেশ এবং নিউইয়র্কের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধা বিবেচনা করে বাংলাদেশি পরিবারের জন্য সবচেয়ে উপযোগী ১০টি অঙ্গরাজ্যের চিত্র তুলে ধরা হলো। জর্জিয়া: দক্ষিণের নিউইয়র্ক বাংলাদেশি পরিবারের কাছে বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোর একটি জর্জিয়া। আটলান্টা মেট্রো এলাকার ডুলুথ, লিলবার্ন, ডোরাভিল, চ্যাম্বলি, টাকার, নরক্রস, আলফারেটা, কামিং ও ডিকেটর গত এক দশকে বাংলাদেশি কমিউনিটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অঙ্গরাজ্যটিতে মধ্যম পারিবারিক আয় প্রায় ৮০ হাজার ডলার এবং একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৩৯০ থেকে ৪১০ হাজার ডলারের মধ্যে। নিউইয়র্কে যে দামে একটি ছোট কনডো কেনা যায় না, সেই অর্থে জর্জিয়ায় অনেক ক্ষেত্রে চার বা পাঁচ বেডরুমের বাড়ি কেনা সম্ভব। বাংলাদেশি ব্যবসার ক্ষেত্রেও জর্জিয়া এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আটলান্টা মেট্রো এলাকায় অসংখ্য বাংলাদেশি গ্রোসারি, হালাল সুপারমার্কেট, মাছ-মাংসের দোকান, রেস্টুরেন্ট, ট্রাভেল এজেন্সি, চিকিৎসক, আইনজীবী এবং অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। অনেক বাংলাদেশি মার্কেট সপ্তাহের সাত দিন গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকে, এমনকি কিছু এলাকায় ২৪ ঘণ্টা সেবাও দেওয়া হয়। ধর্মীয় পরিবেশও সমৃদ্ধ। আটলান্টা অঞ্চলে ডজনখানেক বড় মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার, ফুল-টাইম ইসলামিক স্কুল, হিফজ প্রোগ্রাম এবং সানডে মাদ্রাসা রয়েছে। ঈদ জামাত, রমজানের ইফতার, ইসলামিক কনফারেন্স এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক অনুষ্ঠান নিয়মিত আয়োজন করা হয়। এ কারণেই অনেক বাংলাদেশি এখন আটলান্টাকে অনানুষ্ঠানিকভাবে “দক্ষিণের নিউইয়র্ক” বলে উল্লেখ করেন। ফ্লোরিডা: বাংলাদেশের আবহাওয়ার কাছাকাছি, অবসরজীবনের নতুন গন্তব্য নিউইয়র্ক থেকে স্থানান্তরিত হওয়া বাংলাদেশিদের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য এখন ফ্লোরিডা। ট্যাম্পা, অরল্যান্ডো, কিসিমি, জ্যাকসনভিল ও মায়ামিতে বাংলাদেশি কমিউনিটি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফ্লোরিডায় ব্যক্তিগত আয়ের ওপর কোনো অঙ্গরাজ্য কর নেই। মধ্যম পারিবারিক আয় প্রায় ৭৫ হাজার ডলার এবং একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৪২০ হাজার ডলার । বাংলাদেশি পরিবারের কাছে ফ্লোরিডার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর আবহাওয়া। বছরের অধিকাংশ সময় উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু বিরাজ করায় অনেকেই এটিকে বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেন। এখানকার প্রকৃতি, সবুজ পরিবেশ এবং দীর্ঘ গ্রীষ্মকাল নতুন অভিবাসীদের সহজে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। ফ্লোরিডায় আম, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, পেয়ারা, নারিকেল, লিচুসহ বিভিন্ন উষ্ণমণ্ডলীয় ফলের চাষ হয় এবং স্থানীয় বাজারে সহজেই পাওয়া যায় এমনকি অনেক বাংলাদেশি পরিবারের ব্যাকয়ার্ডে এসব ফলমূলের বাগান রয়েছে। যারা এই অঙ্গরাজ্যে থাকেন তারা মনে করেন, খাবার ও আবহাওয়ার দিক থেকে ফ্লোরিডা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অনেক অঙ্গরাজ্যের তুলনায় বাংলাদেশের কাছাকাছি অনুভূতি দেয়। অবসরপ্রাপ্তদের কাছেও ফ্লোরিডা অত্যন্ত জনপ্রিয়। রাজ্য আয়কর না থাকা, উষ্ণ আবহাওয়া এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার কারণে অনেক বাংলাদেশি সিনিয়র নাগরিক অবসরের পর এখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন। ট্যাম্পা, অরল্যান্ডো ও জ্যাকসনভিলে বর্তমানে একাধিক মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার, ফুল-টাইম ইসলামিক স্কুল, উইকএন্ড মাদ্রাসা, হালাল মার্কেট এবং বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। টেক্সাস: চাকরি ও কর সুবিধার বড় কেন্দ্র ডালাস, হিউস্টন, প্লানো, আরভিং, অস্টিন ও সুগার ল্যান্ডে বাংলাদেশি কমিউনিটি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। মধ্যম পারিবারিক আয় প্রায় ৮০ হাজার ডলার। একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৩৪০ থেকে ৩৬০ হাজার ডলার। ব্যক্তিগত আয়ের ওপর কোনো অঙ্গরাজ্য কর না থাকায় অনেক পরিবার টেক্সাসকে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের জন্য বেছে নিচ্ছেন। প্রযুক্তি, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ এবং ব্যবসায়িক খাতে প্রচুর কর্মসংস্থান রয়েছে। পাশাপাশি ইসলামিক সেন্টার, ইসলামিক একাডেমি, মসজিদ, হালাল সুপারমার্কেট এবং বাংলাদেশি ব্যবসা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিউ জার্সি: নিউইয়র্কের সবচেয়ে কাছের বিকল্প যারা নিউইয়র্কে চাকরি বা ব্যবসা বজায় রাখতে চান কিন্তু বসবাসের জন্য তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক পরিবেশ খুঁজছেন, তাদের জন্য নিউ জার্সি অন্যতম সেরা বিকল্প। জার্সি সিটি, প্যাটারসন, এডিসন, উডব্রিজ ও নর্থ ব্রান্সউইকে শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ নিউইয়র্কে যাতায়াত করেন। অসংখ্য মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, বাংলাদেশি গ্রোসারি, রেস্টুরেন্ট এবং কমিউনিটি সংগঠনের কারণে নতুন অভিবাসীদের জন্য এখানকার পরিবেশ বেশ পরিচিত। মেরিল্যান্ড: নিউইয়র্কের কাছাকাছি, চাকরির বড় বাজার বাল্টিমোর, সিলভার স্প্রিং, এলিকট সিটি ও ডিসি মেট্রো এলাকায় বাংলাদেশি কমিউনিটি দ্রুত বাড়ছে। মধ্যম পারিবারিক আয় এক লাখ ডলারের বেশি, যা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চগুলোর মধ্যে অন্যতম। স্বাস্থ্যসেবা, বায়োটেক, শিক্ষা, সরকারি সংস্থা এবং ফেডারেল কন্ট্রাক্টিং খাতে প্রচুর কর্মসংস্থান রয়েছে। বাল্টিমোর থেকে কয়েক ঘণ্টার ড্রাইভেই নিউইয়র্কে পৌঁছানো যায়। এখানেও বাংলাদেশি গ্রোসারি, হালাল ব্যবসা, ইসলামিক সেন্টার ও মসজিদের সংখ্যা বাড়ছে। নর্থ ক্যারোলাইনা: প্রযুক্তি খাতের নতুন গন্তব্য র্যালি, ক্যারি, মরিসভিল ও শার্লটে তথ্যপ্রযুক্তি, গবেষণা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের চাকরির কারণে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের সংখ্যা বাড়ছে। ভালো পাবলিক স্কুল, তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ক্রমবর্ধমান মুসলিম কমিউনিটি এই অঙ্গরাজ্যকে পরিবারগুলোর কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। মিশিগান: পুরোনো বাংলাদেশি কমিউনিটির শক্ত ঘাঁটি হ্যামট্রাম্যাক, ট্রয়, ক্যান্টন ও ওয়ারেনে বহু বছর ধরেই বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। মধ্যম বাড়ির মূল্য প্রায় ২৬০ হাজার ডলার, যা তালিকার অনেক অঙ্গরাজ্যের তুলনায় কম। মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, হিফজ মাদ্রাসা, হালাল মার্কেট এবং বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট সহজেই পাওয়া যায়। পেনসিলভানিয়া: কম খরচে নিউইয়র্কের কাছাকাছি ফিলাডেলফিয়া, হ্যারিসবার্গ ও পিটসবার্গে বাংলাদেশি কমিউনিটি ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হচ্ছে। মধ্যম বাড়ির মূল্য প্রায় ৩০০ হাজার ডলারের কাছাকাছি। নিউইয়র্কের তুলনায় আবাসন ব্যয় অনেক কম হওয়ায় অনেক পরিবার এই অঙ্গরাজ্য বেছে নিচ্ছেন। ভার্জিনিয়া: উচ্চ আয় ও উন্নত শিক্ষা ফেয়ারফ্যাক্স, অ্যাশবার্ন, আলেকজান্দ্রিয়া ও উডব্রিজ এলাকায় তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং ফেডারেল সরকারের চাকরির বড় বাজার রয়েছে। মধ্যম পারিবারিক আয় ১ লাখ ডলারের কাছাকাছি। উন্নত পাবলিক স্কুল, ইসলামিক স্কুল এবং শক্তিশালী মুসলিম কমিউনিটির কারণে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের কাছে এটি একটি আকর্ষণীয় অঙ্গরাজ্য। মিনেসোটা: নিরাপদ পরিবেশ ও ইসলামিক কমিউনিটি মিনিয়াপোলিস, ব্লুমিংটন ও ইডেন প্রেইরিতে শক্তিশালী মুসলিম কমিউনিটি, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং নিরাপদ পরিবেশের কারণে বাংলাদেশি পরিবারের আগ্রহ বাড়ছে। সোমালি, দক্ষিণ এশীয় ও অন্যান্য মুসলিম কমিউনিটির উপস্থিতির কারণে অসংখ্য মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার, হালাল ব্যবসা এবং ইসলামিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন অঙ্গরাজ্যে যাওয়ার আগে শুধু বাড়ির দাম বা ভাড়া নয়, চাকরির সুযোগ, সন্তানের স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা, সম্পত্তি কর, গাড়ি ও বাড়ির বীমা, নিকটস্থ মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, বাংলাদেশি গ্রোসারি এবং কমিউনিটি সাপোর্ট—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। এক সময় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের স্বপ্নের ঠিকানা ছিল শুধু নিউইয়র্ক। কিন্তু সময় বদলেছে। আজ জর্জিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, নিউ জার্সি, মেরিল্যান্ড, নর্থ ক্যারোলাইনা, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া, ভার্জিনিয়া ও মিনেসোটায় দ্রুত গড়ে উঠছে নতুন বাংলাদেশি জনপদ। ফলে অনেক প্রবাসী এখন মনে করছেন, আমেরিকায় ভালো জীবন মানেই শুধু নিউইয়র্ক নয়; বরং যেখানে কম খরচে নিজের বাড়ি, সন্তানের জন্য ভালো স্কুল, শক্তিশালী বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটি এবং উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ রয়েছে, সেখানেই তৈরি হচ্ছে আগামী দিনের নতুন প্রবাসী বাংলাদেশ।
মিশিগানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় আঘাত হানা শক্তিশালী বজ্রঝড় ও ঘণ্টায় ৬০ মাইলের বেশি গতির দমকা হাওয়ায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ঝড়ে বহু গাছ উপড়ে পড়ে, বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ডেট্রয়েট মেট্রো এলাকাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিটিই এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪০ জন গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিলেন। পরে রাত ১১টা নাগাদ ডিটিই ও কনজিউমার্স এনার্জির সেবা এলাকাসহ পুরো মিশিগানে বিদ্যুৎহীন গ্রাহকের সংখ্যা ৪ লাখেরও বেশি ছাড়িয়ে যায়। শনিবার সকাল পর্যন্তও অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। ডিটিই এনার্জি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইন মেরামত, উপড়ে পড়া গাছ সরানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগের কাজ চলছে। এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মিশিগানে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেক পরিবারও চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে। তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান ও রেফ্রিজারেটর বন্ধ রয়েছে। ফলে শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ সদস্যদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক পরিবার। এ পরিস্থিতিতে আমেরিকা বাংলার সঙ্গে কথা বলেন মিশিগান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ পদপ্রার্থী মিনহাজ চৌধুরী। তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় ঝড়ের পর থেকে তার নিজের বাসাতেও বিদ্যুৎ নেই। মিনহাজ চৌধুরী বলেন, “গতকাল সন্ধ্যা থেকে আমাদের বাসায় বিদ্যুৎ নেই। প্রচণ্ড গরমে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খুব কষ্টে সময় কাটছে। শুধু আমাদের নয়, আশপাশের অনেক বাংলাদেশি পরিবারেরও একই অবস্থা। সবাই অপেক্ষা করছেন কখন বিদ্যুৎ ফিরে আসবে।” তিনি আরও বলেন, ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় গাছ ভেঙে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তবে ইউটিলিটি কোম্পানির কর্মীরা মাঠে কাজ করছেন এবং যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরেই মিশিগানসহ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চল তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, উচ্চ তাপমাত্রা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট একসঙ্গে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান, অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়া এবং বিদ্যুৎ না থাকলে নিরাপদ ও শীতল স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গাড়ি চালানোর সময় হঠাৎ তীব্র বুকে ব্যথা অনুভব করেন নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ রাহুল রব। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। শরীর ঘামে ভিজে যায়, শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে। জীবন বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে তিনি ফোন করেন বড় ভাই মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে। কিন্তু চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার পরও শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন রাহুল রব বড় ভাইকে ফোন করে জানান যে তিনি হঠাৎ অসুস্থ বোধ করছেন। তাঁর বুকের মাঝখানে তীব্র ব্যথা হচ্ছিল এবং শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছিল। ভাইয়ের কণ্ঠে উদ্বেগ টের পেয়ে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ দ্রুত তাঁর অবস্থান জানতে চান এবং নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামিয়ে অপেক্ষা করতে বলেন। আব্দুল্লাহ জানান, তিনি দ্রুত ভাইয়ের কাছে রওনা দেন। পথে থাকতেই আবার ফোন আসে রাহুলের কাছ থেকে। তখন তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আব্দুল্লাহ ৯১১-এ ফোন করেন। তবে প্রথমবার জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ রাহুলের সঠিক অবস্থান শনাক্ত করতে পারেনি। পরে পুনরায় যোগাযোগ করা হলে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশ আসে। প্যারামেডিকরা দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে রাহুল রবকে জরুরি চিকিৎসা দেন। পরে তাঁকে দ্রুত ব্রুকলিনের নিউইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ান ব্রুকলিন মেথডিস্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করেন। পরিবারকে জানানো হয়, চিকিৎসা শেষে পরে তাঁরা দেখা করতে পারবেন। সেই আশায় মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বাড়ির পথে রওনা দেন এবং রাহুলের স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর হাসপাতাল থেকে আবার ফোন আসে। পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন, হয়তো দ্রুত হাসপাতালে যেতে বলা হবে। পরিবর্তে চিকিৎসকদের কাছ থেকে আসে হৃদয়বিদারক সংবাদ। সব ধরনের চেষ্টা সত্ত্বেও রাহুল রবকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। রাহুল রবের গ্রামের বাড়ি সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র সন্তান, ভাই-বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। তিনি পরিবার নিয়ে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড সিটি এলাকায় বসবাস করতেন। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে রাহুল রব ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় একজন ব্যক্তি। তাঁর আন্তরিকতা, বন্ধুবৎসল আচরণ এবং মানুষের পাশে থাকার মানসিকতার কারণে তিনি সবার কাছে প্রিয় ছিলেন। পরিচিতজনেরা তাঁকে এমন একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন, যিনি সবসময় হাসিমুখে মানুষের খোঁজখবর নিতেন এবং সহজেই সবাইকে আপন করে নিতে পারতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কমিউনিটির বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের নেতারা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই তাঁর মানবিক গুণাবলি ও বন্ধুসুলভ ব্যক্তিত্বের কথা স্মরণ করেছেন। এক শোকবার্তায় বলা হয়, জ্যাকসন হাইটসের ব্যস্ত জনপদে রাহুল রব ছিলেন এক পরিচিত হাসিমুখ, যার উপস্থিতি অনেক মানুষের দিনকে আনন্দময় করে তুলত। সোমবার (২২ জুন) বাদ জোহর জ্যাকসন হাইটসে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটি সংগঠনের নেতারাও। প্রিয় মানুষটিকে শেষ বিদায় জানাতে মানুষের এই উপস্থিতি তাঁর প্রতি কমিউনিটির গভীর ভালোবাসার প্রতিফলন হয়ে ওঠে। রাহুল রবের অকাল প্রয়াণে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যু পরিবার, বন্ধু এবং শুভানুধ্যায়ীদের জীবনে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে।
নিউইয়র্কের কুইন্সের উডসাইড এলাকায় বেসরকারি স্যানিটেশন ট্রাকের ধাক্কায় ১৯ বছর বয়সী বাংলাদেশি তরুণী নিশাত জান্নাতের মৃত্যুর প্রায় নয় সপ্তাহ পর ট্রাকচালককে গ্রেপ্তার করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ। দীর্ঘ তদন্তের পর গত ৩ জুন চালকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মার্চ রাত প্রায় ১২টার দিকে ব্রঙ্ক্সের বাসিন্দা ৩৯ বছর বয়সী মেয়রা ক্রুজ রয়্যাল ওয়েস্ট সার্ভিসেসের একটি গার্বেজ ট্রাক চালিয়ে রুজভেল্ট অ্যাভিনিউয়ের পূর্বমুখী লেন থেকে ৬২ স্ট্রিটে উত্তর দিকে মোড় নিচ্ছিলেন। ওই সময় নিশাত জান্নাত ৬২ স্ট্রিটের উত্তর পাশের ক্রসওয়াক দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় ট্রাকটি তাকে সরাসরি ধাক্কা দেয় এবং তিনি ট্রাকের নিচে আটকে যান। ১০৮ প্রিসিংক্টের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিশাতকে ট্রাকের ডান পাশে আটকে থাকা অবস্থায় দেখতে পায়। পরে জরুরি সেবা বিভাগের কর্মীরা তাকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করেন। তদন্তে জানা যায়, উডসাইডের ৫৫ স্ট্রিটের বাসিন্দা নিশাত জান্নাত সেদিন রাতে জামাইকার পার্সনস বুলেভার্ড পার্কিং গ্যারেজে রিসেপশনিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তিনি তার ছোট বোনের জন্মদিন উপলক্ষে একটি কেক কিনেছিলেন। বাড়ি থেকে মাত্র আধা মাইল দূরে একটি ক্ষতিগ্রস্ত ক্রসওয়াক দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। ঘটনার পর নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের হাইওয়ে ডিস্ট্রিক্টের কলিশন ইনভেস্টিগেশন স্কোয়াড তদন্ত শুরু করে। প্রায় নয় সপ্তাহের তদন্ত শেষে গত ৩ জুন সকালে মেয়রা ক্রুজকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বেসাইডের ১১১ প্রিসিংক্টে তাকে বুক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পথচারীকে অগ্রাধিকার না দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন না করে গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। তাকে একটি ডেস্ক অ্যাপিয়ারেন্স টিকিট দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৩ জুন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিশাত জান্নাতের মৃত্যু নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে। গত ১৫ মে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য এবং কমিউনিটি বোর্ড-২-এর প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। বিক্ষোভকারীরা রুজভেল্ট অ্যাভিনিউয়ে পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তারা ভাঙা ক্রসওয়াক, অপর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং ভারী যানবাহনের ঝুঁকিপূর্ণ চলাচলের বিষয়টি তুলে ধরেন। কমিউনিটির নেতারা সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে অবকাঠামোগত নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার এলাকায় ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি, যা স্থানীয়দের কাছে এখন ‘লিটল বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত। ইউনিয়নপোর্ট রোড ও স্টারলিং অ্যাভিনিউকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই এলাকায় বাংলাদেশি সংস্কৃতি, খাবার, ধর্মীয় কার্যক্রম ও ছোট-বড় ব্যবসার এক প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই এখানে দেখা যায় বাংলা ভাষাভাষী মানুষের ভিড়। স্থানীয় ব্যবসায়ী মোস্তাক রফিক আহমেদ জানান, তাঁর পরিচালিত একটি রেস্টুরেন্টে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক বাঙালি গ্রাহক আসেন। তাঁর ভাষায়, এখানে এলে মনে হয় যেন ছোট্ট একটি বাংলাদেশে আছি। একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন কমিউনিটির সদস্য সুমাইয়া মীম। তিনি বলেন, এখানে নিজের মানুষ, সংস্কৃতি ও পরিবেশ সবকিছুই পাওয়া যায়, যা প্রবাস জীবনে এক ধরনের স্বস্তি দেয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্রঙ্কসের কমিউনিটি ডিস্ট্রিক্ট ৯ এলাকায় ১২ হাজারের বেশি পরিবারে বাংলা ভাষা ব্যবহৃত হয়, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। সাউন্ডভিউ এলাকাও এর অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশি অভিবাসীদের এই এলাকায় বসতি গড়ার শুরু ১৯৯০-এর দশকে। মূলত বৈচিত্র্যভিত্তিক ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রে এসে এখানে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের আগমনে এই কমিউনিটি আরও বিস্তৃত হয়। কমিউনিটির দীর্ঘদিনের সদস্য মোহাম্মদ মুজুমদার বলেন, শুরুতে অল্প কয়েকজন থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবার ও পরিচিতদের আগমনে এই কমিউনিটি বড় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের এক বাংলাদেশি কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনায় পুরো কমিউনিটি শোকাহত হয় এবং স্থানীয় মসজিদে বিপুল মানুষের উপস্থিতি কমিউনিটির ঐক্যকে আরও দৃশ্যমান করে তোলে। স্থানীয়দের মতে, একই ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের কারণে পার্কচেস্টার এখন প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি নিরাপদ ও সহায়ক আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। অনেক পরিবারই তাদের সন্তানদের বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখতে এখানে বসবাসকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।