যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সামনে নিজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটকে নিয়ে এক বিতর্কিত ও অস্বস্তিকর রসিকতা করেছেন। ‘পিপল’ ম্যাগাজিনের ১ এপ্রিলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প রসিকতার ছলে অভিযোগ তোলেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি যে ‘নেতিবাচক প্রচারণা’র শিকার হচ্ছেন, তার পেছনে লেভিটের ব্যর্থতা থাকতে পারে। গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই ঘটনা ঘটে।
ট্রাম্প দাবি করেন, বর্তমানে তিনি ‘৯৩ শতাংশ খারাপ প্রচারণা’ পাচ্ছেন এবং সরাসরি লেভিটের দিকে তাকিয়ে বলেন, “তুমি খুব ভালো কাজ করছ না।” প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে তাৎক্ষণিক অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছুক্ষণ পরই ট্রাম্প হাসতে হাসতে যোগ করেন, “আমরা কি তাকে রাখব? আমার মনে হয়, রাখাই যায়।” পরে ইয়াহু নিউজের এক প্রতিবেদনে হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধি নিশ্চিত করেছেন যে, মন্তব্যটি স্রেফ কৌতুক হিসেবেই করা হয়েছিল।
চলমান গণমাধ্যমের সমালোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও বলেন, তাকে নিয়ে প্রকাশিত অধিকাংশ সংবাদই ‘নেতিবাচক এবং ভুয়া’। তবে ভোটাররা তার নির্বাচনী জয়ের মাধ্যমে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে তারা এসব প্রতিবেদনে আস্থা রাখেন না। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে ২৬ বছর বয়সী লেভিট প্রায়ই ট্রাম্পের এমন আকস্মিক মন্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। এর আগেও গত অক্টোবরে সাংবাদিকদের সামনে তার কাজের মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন প্রেসিডেন্ট।
ব্যক্তিগত জীবনে লেভিট বর্তমানে তার দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় আছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, মাতৃত্বকালীন ছুটি হিসেবে আগামী মে মাস থেকে তিনি সাময়িকভাবে হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব থেকে বিরতি নেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠন আমেরিকান-ইসলামিক সম্পর্ক বিষয়ক কাউন্সিল (সিএআইআর) ইস্টার সানডে পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প -এর 'ইসলামকে উপহাস' করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সিএআইআর এক বিবৃতিতে জানায়, ট্রাম্পের ওই পোস্টে ইরানে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকির পাশাপাশি 'বিকৃতভাবে ইসলামকে উপহাস' করা হয়েছে, যা 'বেপরোয়া, বিপজ্জনক এবং মানবজীবনের প্রতি উদাসীনতা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ।' বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'এই ধরনের বক্তব্য শূন্য থেকে আসে না। এটি মুসলিমবিরোধী বক্তব্য ও নীতির দীর্ঘ ধারাবাহিকতার অংশ, যা দেশে ও বিদেশে মুসলমানদের মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে।' ট্রাম্প তাঁর ওই ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টের শেষে আল্লাহর প্রশংসা হোক বাক্যটি ব্যবহার করেন। সিএআইআর উল্লেখ করে, পশ্চিমা বিশ্বে অনেকেই—ট্রাম্পসহ এই বাক্যটিকে কেবল ইসলামের সঙ্গে যুক্ত করে দেখেন। তবে বাস্তবে 'আল্লাহ' শব্দটি আরবি ভাষায় 'ঈশ্বর' এরই অনুবাদ, যা কোনো একটি ধর্মের একচেটিয়া নয়। সিএআইআর আরও জানায়, 'সহিংস হুমকির প্রেক্ষাপটে ‘আল্লাহর প্রশংসা হোক’এই বাক্যটির ব্যবহার উদ্বেগজনক। এটি একদিকে ধর্মীয় ভাষাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা, অন্যদিকে ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি অবমাননাকর মনোভাবের প্রতিফলন।' ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি:
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয় বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধাক্কা তৈরি করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান যুদ্ধ, অর্থনীতি, মুদ্রাস্ফীতি ও অন্যান্য নীতি-প্রয়োগ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে তার প্রতি অসন্তুষ্টি ও অনুশোচনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্টের সাম্প্রতিক YouGov জরিপে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া ৩৮ শতাংশ ভোটার এখন তার ওপর আগের মতো ভরসা রাখতে পারছেন না। কমলা হ্যারিসের ভোটারদের তুলনায় এই সংখ্যা দ্বিগুণ। জরিপে আরও দেখা গেছে, ট্রাম্পের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত ‘শ্রমজীবী শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের’ মধ্যে তার জনপ্রিয়তা ৬৩ শতাংশ থেকে নেমে মাত্র ৪৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জরিপে বলা হয়েছে, ভোটাররা এখন ট্রাম্পের নীতি ও কার্যকলাপে অসন্তুষ্ট। বিশেষ করে গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা (৪৫%), মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা (৩৯%), অর্থনৈতিক নীতি (৩০%) এবং ইরান নীতি (২৮%)–এর কারণে ভোটাররা তার নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। ভোটারদের অনুশোচনা স্পষ্ট করে, ৫ শতাংশ সরাসরি বলেছেন যে তারা ট্রাম্পকে ভোট দিয়ে ভুল করেছেন। ১৬ শতাংশ ভোটার কোনো না কোনোভাবে পুনরায় নির্বাচনে ভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন। বিশেষ করে ৩০ বছরের কম বয়সী এবং হিস্পানিক ভোটারদের মধ্যে এই অনুশোচনার হার যথাক্রমে ১৭% ও ১৬%। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের ভোটারদের এই মিশ্র প্রতিক্রিয়া এবং অসন্তুষ্টি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী বা পরবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘নিশ্চিহ্ন’ করার যে দাবি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করেছিলেন, তার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মাথায় চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ল মার্কিন বিমানবাহিনী। শুক্রবার ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে তেহরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। চলমান যুদ্ধের পাঁচ সপ্তাহের মাথায় এই প্রথম ইরানের অভ্যন্তরে কোনো মার্কিন মানবচালিত বিমান ধ্বংসের ঘটনা নিশ্চিত হওয়া গেল। সিএনএন-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন বলছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার প্রায় অর্ধেক এখনো অক্ষত। এমনকি দেশটির ড্রোন সক্ষমতার ৫০ শতাংশ এখনো কার্যকর রয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের আগের দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত। হেগসেথ দাবি করেছিলেন যে, মার্কিন বাহিনী ইরানের আকাশে ‘সম্পূর্ণ আধিপত্য’ বিস্তার করেছে, যা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। ভূপাতিত এফ-১৫ই বিমানটির দুজন ক্রু সদস্য প্যারাসুটের মাধ্যমে জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হন। মার্কিন বিশেষ বাহিনী একজনকে উদ্ধার করতে পারলেও অন্যজন এখনো ইরানি ভূখণ্ডে নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে খুঁজে বের করতে ব্যাপক তল্লাশি শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান সরকার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নিখোঁজ মার্কিন পাইলটকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি বড় অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। একই দিনে কুয়েতের আকাশে ইরানের গুলিতে একটি এ-১০ ওয়ার্থহগ বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাইলট অক্ষত থাকলেও পরপর দুটি বিমান হারানোর ঘটনায় মার্কিন সামরিক কৌশল নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, রণক্ষেত্রের বাস্তবতা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবির চেয়ে অনেক বেশি জটিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, ইরান এখনো এই অঞ্চলে ‘ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ’ চালানোর সক্ষমতা রাখে। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মাধ্যমে ইরানের ক্ষতি করা হলেও তেহরানের প্রতিরক্ষা দেয়াল যে পুরোপুরি ভাঙেনি, শুক্রবারের ঘটনাই তার প্রমাণ। নিখোঁজ পাইলটকে ঘিরে এখন যুদ্ধের মোড় কোন দিকে ঘোরে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।