প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস পরিস্থিতির মধ্যে ভারতের ঐতিহাসিক তাজমহলে দেখা গেল এক ভিন্নরকম দৃশ্য। গরম থেকে বাঁচতে প্রাঙ্গণের একটি ফোয়ারাকেই যেন অস্থায়ী ‘ওয়াটার পার্কে’ পরিণত করেছে একদল বানর। তাদের সেই জলকেলির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি তাজমহল এলাকায় দেখা যায়, কয়েকটি বানর ফোয়ারার পানিতে নেমে আনন্দে মেতে উঠেছে। কেউ পানিতে ঝাঁপ দিচ্ছে, কেউ একে অপরকে তাড়া করছে, আবার কেউ পানির ছিটা উড়িয়ে খেলায় ব্যস্ত। তীব্র রোদের মধ্যে তাদের আচরণ দেখে মনে হয়েছে, গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতেই তারা ফোয়ারাটিকে বেছে নিয়েছে।
এ সময় তাজমহল দেখতে আসা পর্যটকেরা দৃশ্যটি উপভোগ করেন। অনেকে দাঁড়িয়ে বানরগুলোর কাণ্ডকারখানা দেখেন এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পর্যটকদের ভাষ্য, এমন প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বানরগুলোর এই দুষ্টুমি তাদের মুখে হাসি এনে দিয়েছে এবং ভ্রমণকে আরও উপভোগ্য করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বানরগুলো নির্ভয়ে ফোয়ারার চারপাশে ছোটাছুটি করছে। তাদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস তৈরি করেছে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ লিখেছেন, গরম থেকে বাঁচতে বানরগুলো মানুষের চেয়েও বুদ্ধিমান। আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, তাজমহল ভ্রমণের সঙ্গে এমন দৃশ্য দেখার অভিজ্ঞতা সহজে ভোলার নয়।
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র তাজমহল তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও স্থাপত্যশৈলীর জন্য সুপরিচিত। তবে এবার বানরদের এই জলকেলি সেই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক দর্শনার্থীর মতে, ইতিহাসের পাশাপাশি এমন প্রাণবন্ত দৃশ্য তাদের সফরকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
প্রায় ৪০ বছর পর লেবাননের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি বাণিজ্যিক বিমান চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন–এর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন, যেন দেশের সব দেশীয় এয়ারলাইনকে লেবাননে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ১৯৮৫ সালের পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি লেবাননে যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালু হবে। যুক্তরাষ্ট্র ১৯৮৫ সালে লেবাননের উদ্দেশে সব বাণিজ্যিক ফ্লাইট স্থগিত করেছিল। ওই বছর গ্রিসের এথেন্স থেকে ইতালির রোমগামী টিডব্লিউএ ফ্লাইট ৮৪৭ ছিনতাই করে বৈরুতে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৭ দিন ধরে চলা সেই জিম্মি সংকটে একজন মার্কিন নৌবাহিনীর ডুবুরি নিহত হন। এরপর থেকেই লেবাননে সরাসরি মার্কিন ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়। তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পরও তাৎক্ষণিকভাবে ফ্লাইট চালু হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) জানিয়েছে, বৈরুত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার পরই কোনো মার্কিন এয়ারলাইন এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। এফএএ আরও জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ বাস্তবায়নে তারা সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও বিমান পরিবহন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কাজ করবে, যাতে নিরাপদভাবে লেবাননে ফ্লাইট পুনরায় চালু করা যায়। তবে বাস্তবতা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো লেবাননের জন্য ‘ডু নট ট্রাভেল’ বা ভ্রমণ না করার সতর্কতা বহাল রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে মার্কিন নাগরিকদের দেশটিতে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরও নিরাপত্তাজনিত কারণে অপ্রয়োজনীয় মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের লেবানন ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণেই মার্কিন তিনটি বড় এয়ারলাইন—আমেরিকান এয়ারলাইন্স, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স এবং ডেল্টা এয়ার লাইন্স—এখনো ইসরায়েলের তেলআবিবে ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে। এর আগে চলতি বছরই ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত দীর্ঘদিনের বিমান চলাচল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। প্রায় সাত বছর পর মায়ামি থেকে কারাকাসে আবারও মার্কিন বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হয়। লেবাননের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যদিও নিরাপত্তা মূল্যায়নের ফলাফলই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে সরাসরি ফ্লাইট কবে থেকে শুরু হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওতে একটি শাহেদ ড্রোনের গায়ে স্পেনের তরুণ ফুটবল তারকা লামিন ইয়ামালের একটি ছবি সংযুক্ত অবস্থায় দেখা যায়। ছবিতে ইয়ামালকে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ড্রোনে ছবিটি কেন লাগানো হয়েছিল বা এর উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। প্রেস টিভির টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত একটি শাহেদ ড্রোনের সামনের অংশে ইয়ামালের ছবি লাগানো রয়েছে। ভিডিওতে ড্রোনটির লক্ষ্যবস্তু বা হামলার স্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাও ভিডিওটির প্রতীকী বার্তা বা প্রেক্ষাপট সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করেনি। ভিডিওতে ব্যবহৃত ছবিটি চলতি বছরের মে মাসে বার্সেলোনার লা লিগা শিরোপা উদ্যাপনের সময় তোলা বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। সে সময় লামিন ইয়ামালকে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে দেখা যায় এবং ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায়ও স্থান পায়। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ইয়ামালের ওই অবস্থানের সমালোচনা করেছিলেন। অন্যদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে ইয়ামালের অধিকারকে সমর্থন জানান। গাজা যুদ্ধের পর থেকে স্পেন ও ইসরায়েলের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই এই বিতর্ক আরও আলোচনায় আসে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার সময় প্রতীকী ছবি বা বার্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন পক্ষ জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করে থাকে। তবে এই নির্দিষ্ট ভিডিওতে ব্যবহৃত ইয়ামালের ছবির উদ্দেশ্য বা এর সঙ্গে কোনো সামরিক সিদ্ধান্তের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এমন দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে শাহেদ ড্রোন ব্যবহারের একাধিক ভিডিও ইরানি রাষ্ট্রীয় ও রাষ্ট্র-সমর্থিত গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব ভিডিওর অনেক ক্ষেত্রেই অবস্থান, সময় কিংবা নির্দিষ্ট সামরিক দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো উল্লেখ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের সময় সামরিক শক্তির পাশাপাশি প্রতীকী ও প্রচারমূলক বার্তাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এ ধরনের ভিডিওর ক্ষেত্রে প্রেক্ষাপট ও উৎস যাচাই করে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধ ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইরান প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে। পেজেশকিয়ানের বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পরও পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের কাছে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির ওপর বাইরের শক্তিগুলো পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে, যার লক্ষ্য ইরানের ভেতরে চাপ সৃষ্টি করা, অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করা। তবে তাঁর দাবি, সামরিক চাপের মধ্যেও ইরানের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও সংহতি বজায় থাকলে দেশটি পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। পেজেশকিয়ান একই সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, আলোচনার টেবিলে ইরান প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফল অর্জন করেছে। তবে তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গিয়ে সেই অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করেননি। এর আগে তিনি বলেছিলেন, ইরানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে; তবে একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, আগের যুদ্ধবিরতি কার্যকর নেই। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে সামরিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলেও অন্যদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনাও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। মধ্যস্থতাকারীদের ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সেই কূটনৈতিক তৎপরতারই নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে—যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার টেবিলে একটি টেকসই সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করা। আপাতত তেহরানের অবস্থান থেকে যে বার্তা স্পষ্ট, তা হলো—আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও চাপের মুখে আত্মসমর্পণ নয়।