‘আমরা তেলাপোকা, আমরা থাকব’: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ভারতের জেএনজিদের আন্দোলন
ভারতের তরুণদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ নতুন এক রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থার নানা অসংগতি এবং বেকারত্বের হতাশা থেকে জন্ম নেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এখন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে রাস্তায় নেমেছে।
১৭ বছর বয়সী সৌরভ কুশওয়াহা সেই আন্দোলনেরই একজন অংশগ্রহণকারী। ভারতের মধ্যপ্রদেশ থেকে বড় ভাইয়ের সঙ্গে এক কাপড়ে ট্রেনে চড়ে তিনি রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। শনিবার ভোরে দুই ভাই দিল্লিতে এসে ফুটপাতে বসে অপেক্ষা করছিলেন, কখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসবেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
ভারতের প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের মধ্যে অর্ধেকের বয়স ২৫ বছরের নিচে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভর্তি পরীক্ষা বাতিল এবং শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল নিয়ে বিতর্ক তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়িয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই ব্যঙ্গ ও ঠাট্টার মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর দলটি তরুণদের সংগঠিত করার উদ্যোগ নেয়। রাজধানী নয়াদিল্লির নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরে ‘সব তেলাপোকাকে’ একত্র হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তাদের প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
গত মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্য ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তিনি একদল বেকার তরুণকে ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। অনেকের কাছে মন্তব্যটি অপমানজনক বলে মনে হয়।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ভারতীয় শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছিলেন, ‘যদি সব তেলাপোকা একসঙ্গে জড়ো হয়, তাহলে কী হবে?’
এই মন্তব্য দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। সেখান থেকেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র জন্ম। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামকে ব্যঙ্গ করেই দলটির নামকরণ করা হয়।
অভিজিৎ দীপকের এই উদ্যোগ অল্প সময়েই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে যায়, যা বিজেপির অনুসারীর সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ব্যঙ্গাত্মক এই উদ্যোগ এখন আর কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই। শনিবার নয়াদিল্লিতে শত শত তরুণ-তরুণী সমবেত হয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।
বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে অভিজিৎ দীপকে বলেন, “মোদি সরকারের প্রতি আমাদের বার্তা খুবই পরিষ্কার। শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করাতে হবে। তা না হলে আমরা এখান থেকে যাব না।”
মধ্যপ্রদেশের শিক্ষার্থী সৌরভ কুশওয়াহা বলেন, তিনি প্রথমে মজা করেই এই আন্দোলনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজ অনুসরণ করেছিলেন। কিন্তু এখন তাঁর বিশ্বাস, আন্দোলনের মাধ্যমে সত্যিই পরিবর্তন আনা সম্ভব।
সম্প্রতি ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই) পরিচালিত দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন কুশওয়াহা। তবে ফলাফল প্রকাশ এবং ডিজিটাল মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
কুশওয়াহা বলেন, “আমি জানি না উচ্চশিক্ষার খরচ বহন করতে পারব কি না। কিন্তু আরও বড় কষ্ট হলো, যারা জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসেছে, তারা জনগণের সমস্যার প্রতি উদাসীন।”
শিক্ষা ব্যবস্থার এই বিতর্কের মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করা হয়। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনা প্রায় প্রতিবছর ঘটলেও এর জন্য রাজনৈতিকভাবে কাউকে জবাবদিহি করতে হয় না।
এদিকে গত কয়েক বছরে মোদি সরকারের আমলে কয়েকজন মানবাধিকারকর্মী ও ছাত্রনেতাকে গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি করা হয়েছে। বিরোধী দল ও সমালোচকদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ দেশকে কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তবে বিজেপি ও সরকার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তারা আইন ও সংবিধান মেনেই কাজ করছে।
মাত্র দুই বছর আগে জনসংযোগ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকে। এখন তিনি নিজেকে একটি বৃহৎ তরুণ আন্দোলনের নেতৃত্বে দেখতে পাচ্ছেন।
সম্প্রতি আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তাঁর উদ্যোগ যে বিপুল সাড়া পেয়েছে, তা তাঁকে দায়িত্বশীল করে তুলেছে।
শনিবারের সমাবেশে অনেক অংশগ্রহণকারী তেলাপোকার মুখোশ পরে উপস্থিত হন। কারও হাতে ছিল গোলাপ, কারও হাতে ফুলের তোড়া। অনেকেই বই নিয়ে এসেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনের পক্ষ থেকে এমন আহ্বান জানানো হয়েছিল।
পরে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের নীল জার্সি পরে আবার বক্তব্য দেন অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলেন, “যাঁরা মনে করেন ভারতের তরুণেরা শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেয়, তাঁরা এখানে এসে এই দৃশ্য দেখে যান।”
এরপর তিনি আরও বলেন, “যাঁরা ভাবছেন আমরা শুধু স্লোগান দিয়ে চলে যাব, আমি তাঁদের বলছি, আমরা তেলাপোকা। আর শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা এখানেই থাকব।”
অভিজিৎ দীপকেকে কাছ থেকে দেখার জন্য একটি গাছে উঠে বসেছিলেন ২৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ আফতাব। দিল্লির উপকণ্ঠের একটি স্যাটেলাইট শহরে বসবাসকারী আফতাব আর্থিক সংকটের কারণে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করতে পারেননি। বর্তমানে তিনি মুদি পণ্য সরবরাহের কাজ করেন।
তেলাপোকার মুখোশ পরে আন্দোলনে অংশ নেওয়া আফতাব বলেন, “একদিন কাজ না করলে হয়তো রাতের খাবারের অর্থও জুটবে না। তারপরও আমি এখানে এসেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি স্কুল শেষ করতে পারিনি। কিন্তু লাখো শিক্ষার্থী আছে, যারা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য রাত জেগে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে। তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং ওই মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করাটা আমাদের দায়িত্ব।”
এদিকে মোদি সরকার এখন পর্যন্ত এই বিক্ষোভ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
বিক্ষোভস্থলের কাছাকাছি দায়িত্ব পালন করছিলেন শিবানি নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁর বড় মেয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। তবে এতে তিনি আপত্তি দেখাননি।
নিজের পূর্ণ পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে শিবানি বলেন, “এই ছেলেমেয়েরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। একজন অভিভাবক হিসেবে আমিও উদ্বিগ্ন।”
তিনি আরও বলেন, “একটা সময় তো আসে, যখন মানুষের রাস্তায় নামা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না, তাই না?”
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreনেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ১০ দিন পরও উদ্ধার অভিযানে মিলছে জীবনের সন্ধান। শনিবার ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে এক চীনা নাগরিক এবং কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষে চাপা পড়া একটি বাড়ি থেকে ৬৪ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। এর আগের দিন আরও দুই নেপালি শ্রমিককে সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। ফলে শুক্রবার ও শনিবার মিলিয়ে মোট চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলো। শনিবার উদ্ধার হওয়া চীনা নাগরিকের নাম লু হাইতাও। নেপালি সেনাবাহিনী ও বিদেশি উদ্ধার বিশেষজ্ঞদের যৌথ দল রাশুয়া জেলার আপার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গের প্রায় ২২৫ মিটার ভেতর থেকে তাঁকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। নেপালি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হচ্ছে। সুড়ঙ্গ থেকে লু হাইতাওকে উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা পর নুওয়াকোট জেলার বেত্রাবতীতে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া চারতলা একটি বাড়ির ওপরের তলা থেকে ৬৪ বছর বয়সী চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠকে উদ্ধার করে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর একটি দল। তিনি প্রায় ১০ দিন ওই বাড়ির ভেতরে আটকে ছিলেন। উদ্ধার করার সময় তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। পরে তাঁকে হেলিকপ্টারে করে ত্রিশুলি এলাকায় নেপালি সেনাবাহিনীর একটি ব্যারাকে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর এক দিন আগে, শুক্রবার আপার ত্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় সঞ্জয় সাহ ও কবির মহারজনকে। তাঁরা প্রায় নয় দিন ধরে সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে ছিলেন। উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের প্রায় ৪০ মিটার ভেতরে গিয়ে তাঁদের সন্ধান পান। দীর্ঘ সময় ধরে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে তাঁদের কাছে পৌঁছাতে হয়। ২৬ আগস্ট নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে একটি হিমবাহ ও পাথরের বিশাল ধসের পর ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বরফ, পানি, কাদা ও পাথরের প্রবল স্রোত ভুটেকোশি নদী দিয়ে নেমে এসে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করে। এতে বসতি, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সুড়ঙ্গে থাকা বহু শ্রমিকের খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি। নেপাল পুলিশের শনিবারের হিসাব অনুযায়ী, দুর্যোগে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ৪ হাজার ৮৯৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার করা মরদেহগুলোর মধ্যে ৫০১টি এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজ ও নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে মৃত ১ হাজার ২৬০ জন এবং তাঁদের ৯৭২ স্বজনের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৬৩১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৩ হাজার ৬৫৫ জন বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। বন্যায় দেশটির ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্থাপনায় কর্মরতসহ মোট ৯৪২ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে। রাশুওয়াগাধি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেই নিখোঁজ রয়েছেন ৯৩ জন। তাঁদের মধ্যে নিয়মিত কর্মী, দৈনিক মজুরির শ্রমিক এবং বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও রয়েছেন। উদ্ধার অভিযানে নেপালি সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। ৫০০-র বেশি প্রকৌশলী একটি সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে উদ্ধারকারীদের সুড়ঙ্গের নকশা, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিন্যাস এবং নিখোঁজ শ্রমিকদের তথ্য দিচ্ছেন। দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে উচ্চক্ষমতার ড্রোন, ভূগর্ভস্থ অনুসন্ধান রাডার, পানি নিষ্কাশন পাম্প এবং অন্যান্য বিশেষ সরঞ্জামেরও প্রয়োজন হচ্ছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বা ইউএনডিপির হিসাবে, ছয় জেলার ১৭টি পৌরসভার প্রায় ৮৪ হাজার ২৭০ মানুষ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো ও ঘরবাড়ির বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সরানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগের প্রভাব শিশুদের ওপরও গুরুতর। ইউনিসেফ জানিয়েছে, অন্তত ২২ হাজার শিশুর জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ পানীয় জল, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি সহায়তা প্রয়োজন। বন্যায় পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বেড়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ২ হাজার ৬০০ শিশুর তীব্র অপুষ্টির চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। এছাড়া অন্তত ১০৭ শিশু বাবা-মা বা অভিভাবকের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। দুর্যোগের ভয়াবহতার কারণে নেপাল সরকার ৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় শোক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই দিন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিদেশে নেপালের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। একই সঙ্গে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মী ও সরকারি কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। দশ দিন পর ধ্বংসস্তূপ ও অন্ধকার সুড়ঙ্গ থেকে একের পর এক মানুষকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা নিখোঁজদের পরিবারগুলোর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে দুর্গম ভূখণ্ড, কাদা ও পাথরে বন্ধ হয়ে যাওয়া সুড়ঙ্গ এবং ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে উদ্ধার অভিযান এখনো অত্যন্ত কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সংবাদসূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
ভয়াবহ বন্যায় ছয় দিনে ১০০ উদ্ধার অভিযান নেপালের প্রথম নারী হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেনের
২১ বছরের দাম্পত্যে স্বামী সমকামী জানার পর বদলে গেল সম্পর্ক, সামনে এলো পুরোনো লক্ষণগুলো
লিন্ডসে ক্ল্যান্সির মামলা নিয়ে মায়ের আগ্রহ, পরে ২ বছরের ছেলে হত্যার অভিযোগ
কোপেনহেগেন, ৫ সেপ্টেম্বর: বৈধ বসবাসের অনুমতি নেই এমন অভিবাসীদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে ‘রিটার্ন হাব’-এ পাঠানোর পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে ডেনমার্ক। দেশটির অভিবাসন ও ইন্টিগ্রেশনমন্ত্রী মর্টেন বোডস্কভ জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ প্রথম অভিবাসীদের কোনো অংশীদার দেশে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত হতে চায় ডেনমার্ক। ডেনমার্কের সঙ্গে এই উদ্যোগে রয়েছে জার্মানি, অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ডস ও গ্রিস। পাঁচ দেশ মিলে ‘গ্রুপ অব ফাইভ’ হিসেবে ইইউর বাইরে কোনো দেশের সঙ্গে রিটার্ন হাব স্থাপনের জন্য অংশীদারত্ব চুক্তি করতে কাজ করছে। তবে এখনো কোন দেশ এসব কেন্দ্র স্থাপনে অংশ নেবে, তা প্রকাশ করা হয়নি। ৪ সেপ্টেম্বর কোপেনহেগেনে বৈঠকে পাঁচ দেশের প্রতিনিধিরা পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে আরও নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন। জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট বলেছেন, তারা চলতি বছরের মধ্যেই তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে এমন চুক্তিতে পৌঁছাতে চান। ডেনমার্কের মন্ত্রী বোডস্কভ বলেন, ইইউর বাইরে রিটার্ন হাব প্রতিষ্ঠার কাজ অনেক দূর এগিয়েছে এবং এখন তারা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে লক্ষ্যের কাছাকাছি। তবে প্রস্তাবিত অংশীদার দেশের নাম তিনি জানাননি। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট গত জুনে অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তনের অনুমোদন দেয়। এর লক্ষ্য দ্রুততরভাবে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং সদস্য দেশগুলোকে ইইউর বাইরে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ দেওয়া। সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে অ্যাসাইলামপ্রার্থীদের আইনি সুরক্ষা দুর্বল হতে পারে। এ পরিকল্পনা নিয়ে মানবাধিকার উদ্বেগও রয়েছে। কাউন্সিল অব ইউরোপ জুলাইয়ে সতর্ক করে বলেছিল, তৃতীয় দেশে বিদেশিদের স্থানান্তরের এমন ব্যবস্থায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি থাকতে পারে, যার মধ্যে দুর্ব্যবহার ও নির্বিচারে আটক রাখার আশঙ্কাও রয়েছে। ডেনিশ রিফিউজি কাউন্সিলও পরিকল্পনাটির সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির মতে, রিটার্ন হাব অল্পসংখ্যক মানুষকে প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু এটি অভিবাসীদের আরও ঝুঁকিপূর্ণ পথে ইউরোপে আসা বন্ধ করবে না এবং মৌলিক মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা UNHCR জানিয়েছে, প্রস্তাবটির বিস্তারিত নিয়ে তাদের সঙ্গে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হয়নি। পাঁচ দেশের গ্রুপটি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জার্মানির মিউনিখে আবার বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করেছে।
“লিবিয়া ভ্রমণ মানেই নিশ্চিত বিপদ”- যাওয়ার আগেই উইল ও ডিএনএ নমুনা রাখতে বলল যুক্তরাষ্ট্র
১৬ বছর বয়সে নারীদের নিরাপত্তায় স্মার্ট কানের দুল, হামলাকারীর ছবি তুলে সতর্ক করবে পুলিশকে
এক মাসে ব্যয় ১ লাখ ৮০ হাজার রুপি! বিতর্কে নারী বললে এটা খুব নরমাল বিষয়
সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে সন্দেহভাজন গ্যাং হামলায় নিহত ৪০ বছর বয়সী জোশুয়া ম্যাকডোনাল্ডকে পরিবারের পক্ষ থেকে এমন একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে, যিনি গুলির মুখে নিজের জীবনের কথা না ভেবে বন্ধুর দুই শিশুকন্যাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ বলছে, ম্যাকডোনাল্ডের সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে কোনো যোগসূত্র ছিল না এবং ঘটনাটি ভুল পরিচয়ের কারণে ঘটে থাকতে পারে। বুধবার বিকেলে সিডনির পশ্চিমাঞ্চলের মেরিল্যান্ডস ওয়েস্টের ব্রুস স্ট্রিটের একটি বাড়ির সামনে গুলিতে নিহত হন ম্যাকডোনাল্ড। তিনি পেশায় বৈদ্যুতিক কাজের ঠিকাদার ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, একটি চুরি যাওয়া ধূসর অডি গাড়িতে থাকা বন্দুকধারীরা ওই বাড়ির সামনে এসে গুলি চালায়। ম্যাকডোনাল্ড মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় ম্যাকডোনাল্ড তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু নিক ব্রাউন এবং ব্রাউনের দুই ছোট মেয়ের সঙ্গে বাড়িটির সামনে ছিলেন। গুলি শুরু হলে তিনি শিশুদের সামনে নিজেকে আড়াল হিসেবে দাঁড় করান। পরিবারের সদস্য ডার্লিন নর্টন জানিয়েছেন, তাঁর ভাগনে এমনই ছিলেন। বিপদে কাউকে দেখলে নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে সামনে দাঁড়াতেন তিনি। ব্রাউন নর্টন পরিবারকে পাঠানো এক বার্তায় ম্যাকডোনাল্ডকে তাঁর নিজের ও সন্তানদের ‘অভিভাবক দেবদূত’ হিসেবে স্মরণ করেছেন বলে পরিবার জানিয়েছে। ম্যাকডোনাল্ডের স্বজনেরা বলেন, তাঁর শেষ কাজটিও ছিল অন্যদের নিরাপদ রাখার চেষ্টা। ঘটনার তদন্তে পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করেছে। এতে একটি ধূসর অডি গাড়িকে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে দেখা গেছে। পুলিশের ধারণা, হামলাকারীরা যে ব্যক্তিকে লক্ষ্য করেছিল, ম্যাকডোনাল্ড সম্ভবত সেই ব্যক্তি ছিলেন না। যে বাড়িতে তিনি গিয়েছিলেন, সেটির সঙ্গে অপরাধজগতের সংশ্লিষ্টতার তথ্য থাকলেও পুলিশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ম্যাকডোনাল্ড নিজে সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ম্যাকডোনাল্ড হত্যার মাত্র এক দিন আগে সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গ্লেন অ্যালপাইনে একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে। ৩১ আগস্ট ভোরে মুখোশধারী কয়েকজন একটি বাড়িতে ঢুকে ২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মার্কো তাপিয়াকে গুলি করে হত্যা করে। তাপিয়াও অপরাধজগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সেই ঘটনাও ভুল পরিচয়ের কারণে ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই ঘটনার মধ্যে মাত্র প্রায় ৩৬ ঘণ্টার ব্যবধান থাকায় সিডনিতে সংগঠিত অপরাধীদের সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পুলিশের তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এসব হামলার পেছনে একই অপরাধী চক্র বা বিরোধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা। ম্যাকডোনাল্ডের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁর খালা ডার্লিন নর্টন অভিযোগ করেন, হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটি দীর্ঘ সময় ওই এলাকায় অবস্থান করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে আগে থেকে পুলিশি টহল বাড়ানো হলে হয়তো ঘটনাটি ঠেকানো সম্ভব হতো বলে তাঁর ধারণা। তবে নিউ সাউথ ওয়েলসের সরকার ও পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা কাজ করছে। পুলিশ কমিশনার ম্যাল ল্যানিয়ন জানিয়েছেন, সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হবে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আদালতের মুখোমুখি করার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, বিদেশে অবস্থানরত অপরাধীদের নির্দেশে স্থানীয় তরুণদের ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে কি না। এদিকে ম্যাকডোনাল্ডের স্বজনেরা তাঁকে পরিশ্রমী, সদয় ও পরিবারপ্রিয় মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন। তাঁর খালা জানিয়েছেন, মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। জবাবে ম্যাকডোনাল্ড লিখেছিলেন, দেখা হওয়ার অপেক্ষায় আছেন তিনি। সেই সাক্ষাৎ আর হয়নি। পুলিশ এখনো দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তদন্তকারীরা হামলাকারীদের শনাক্ত করতে নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করছেন। সূত্র: ডেইলি মেইল, এবিসি নিউজ ও ৭নিউজ।
রোগীর কষ্টকে 'অজুহাত' ভেবে অক্সিজেন ছাড়াই মাস্ক পরিয়ে দিলেন নার্স, মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তরুণ
আর্জেন্টিনার ফকল্যান্ড দাবিতে ট্রাম্পের সমর্থনের ইঙ্গিত, বিপাকে যুক্তরাজ্য