যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে (NYPD) কর্মরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ছয়জন কর্মকর্তা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। বিভাগটির অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সম্প্রতি এ পদোন্নতি কার্যকর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন সার্জেন্ট মো. লতিফ ও সার্জেন্ট মো. এন. হক। তারা দুজনই পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট পদে উন্নীত হয়েছেন, যা নিউইয়র্ক পুলিশের মাঠপর্যায়ের নেতৃত্ব কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান।
অন্যদিকে পুলিশ অফিসার মো. হালিম ও ফেরদৌস নজমুল সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। সার্জেন্ট পদটি সাধারণত মাঠপর্যায়ে টিম নেতৃত্ব, অপারেশন সমন্বয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
এছাড়া ট্রাফিক ইউনিটে কর্মরত মো. মেহেদী ইয়াসিনকে অ্যাসোসিয়েট ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট লেভেল–১ (ট্রাফিক সুপারভাইজার) এবং সায়েদ সিদ্দিকীকে লেভেল–২ (ট্রাফিক কমান্ডার) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে এই ইউনিটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের পদোন্নতি সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি সেবা, অভিজ্ঞতা, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা এবং কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে হয়ে থাকে। ফলে এসব পদোন্নতি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বছরের পর বছর মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হয়।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে পুলিশ, ট্রাফিক এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন ইউনিটে তারা সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। কমিউনিটি প্রতিনিধিরা মনে করেন, এ ধরনের পদোন্নতি প্রবাসে বাংলাদেশিদের পেশাগত অগ্রগতি ও সক্ষমতার একটি ইতিবাচক উদাহরণ।
বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরাও এই অর্জনকে গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন, যা প্রবাসে বাংলাদেশিদের অবস্থান আরও সুসংহত করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হায়দ্রাবাদে একটি সড়কের নাম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে রাখা হয়েছে। এ উদ্যোগের জন্য ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ট্রাম্প নিজেই। শনিবার (২৭ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যার নামে ভারতে কোনো সড়কের নামকরণ করা হলো। তিনি এই সম্মানকে বিশেষ স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করে ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান। এর আগে তেলেঙ্গানা রাজ্য সরকার হায়দ্রাবাদের মার্কিন কনসুলেট সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাভিনিউ’ রাখার ঘোষণা দেয়। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সড়কের নামফলক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তেলেঙ্গানার উপমুখ্যমন্ত্রী মাল্লু ভাট্টি বিক্রমর্ক এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিক সার্জিও গর। ট্রাম্প তার পোস্টে এই অনুষ্ঠানের একটি ছবিও শেয়ার করেন, যেখানে তাদের দুজনকে নামফলক উন্মোচন করতে দেখা যায়। নতুন নামকরণ করা সড়কটির আশপাশে রয়েছে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অফিস, যার মধ্যে মাইক্রোসফট, গুগল ও আমাজনের মতো মার্কিন কোম্পানির উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। ফলে এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই ‘টেক হাব’ হিসেবে পরিচিত। তেলেঙ্গানা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নামকরণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের পাশাপাশি ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার প্রতিফলন। একই সঙ্গে হায়দ্রাবাদ যে দুই দেশের প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে, সেটিরও স্বীকৃতি হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাত, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের মধ্যে অংশীদারিত্ব বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে একটি সড়কের নাম মার্কিন প্রেসিডেন্টের নামে রাখা প্রতীকী হলেও তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
চীনের অটোমোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জিলি হোল্ডিং গ্রুপ আগামী জুলাই থেকে প্রথমবারের মতো তাদের মালিকানাধীন লোটাস ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) কানাডায় রপ্তানি শুরু করবে। কানাডা ও চীনের মধ্যে চলতি বছরের শুরুতে হওয়া এক সমঝোতার আওতায় এই চালান পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কানাডায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ওয়াং দি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই মাসে মন্ট্রিয়লে একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে লোটাসের প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ির চালান গ্রহণ করা হবে। এসব গাড়ি চীনে উৎপাদিত এবং কানাডার বাজারে প্রবেশ করা প্রথম চীনা মালিকানাধীন বৈদ্যুতিক গাড়িগুলোর মধ্যে থাকবে। গত জানুয়ারিতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি নিয়ে নতুন সমঝোতা হয়। ওই চুক্তির আওতায় প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি কম শুল্কে কানাডায় প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাণিজ্যিক নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়েছে কানাডা। চীনের রাষ্ট্রদূত ওয়াং দি জানিয়েছেন, লোটাসের পাশাপাশি চীনের আরও কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান—যেমন বিওয়াইডি ও চেরিও কানাডার বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী বছর থেকেই বিওয়াইডি কানাডায় বাণিজ্যিকভাবে গাড়ি বিক্রি শুরু করতে পারবে। বিশ্লেষকদের মতে, কানাডার বাজারে প্রবেশ চীনা গাড়ি নির্মাতাদের জন্য কেবল নতুন ব্যবসায়িক সুযোগই নয়, ভবিষ্যতে উত্তর আমেরিকার বৃহত্তর বাজারে সম্প্রসারণের কৌশলেরও অংশ। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এখনো চীনে নির্মিত অনেক গাড়ির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে, তবুও কানাডার বাজারকে সম্ভাব্য প্রবেশদ্বার হিসেবে দেখছে চীনা কোম্পানিগুলো। এদিকে কানাডা ও চীনের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক সম্পর্ক কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত মিললেও কৃষিপণ্যসহ কয়েকটি খাতে শুল্কসংক্রান্ত বিরোধ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে উভয় দেশই পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে বাণিজ্য সম্প্রসারণে আগ্রহী বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে আফ্রিকার তিন দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে ওই দেশগুলো থেকে আগত যাত্রীদের জন্য সব ধরনের ভিসা প্রদান ও সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সৌদি আরবের সরকারি সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এবং দেশটির পাবলিক হেলথ অথরিটি (ওয়াকায়া) জানিয়েছে, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি), উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদান থেকে আগত ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। ইবোলার সম্ভাব্য বিস্তার রোধে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু সরাসরি ওই তিন দেশ থেকেই নয়, অন্য কোনো দেশ হয়ে সৌদিতে প্রবেশ করতে চাইলেও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এছাড়া সৌদিতে প্রবেশের আগের ২১ দিনের মধ্যে ডিআরসি, উগান্ডা বা দক্ষিণ সুদানের যেকোনো একটিতে অবস্থান করেছেন, এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। ওয়াকায়া বলেছে, সংক্রামক রোগের আন্তঃসীমান্ত বিস্তার ঠেকাতে দেশটির স্বাস্থ্যঝুঁকি পর্যবেক্ষণ ও মহামারি মোকাবিলা ব্যবস্থা স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বক্ষণিক কাজ করছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিষয়ক সুপারিশ হালনাগাদ করা হবে। শুধু নিষেধাজ্ঞাই নয়, ইবোলা-প্রভাবিত অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রেও বাড়ানো হয়েছে সতর্কতা। রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, তানজানিয়া এবং কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ব্রাজাভিল) থেকে আগত যাত্রীদের জন্য প্রবেশপথে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রোগ পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমানে দেশটির জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশে কোনো নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে যেকোনো সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইবোলার সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব নিয়ে বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ ও অতিরিক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালু করেছে। বিশেষ করে ডিআরসি, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে।