বিশ্ব

ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্তিয়ানতিনিভকা দখল করলো রাশিয়া, নিরাপত্তা বলয় বাড়ানোর ইঙ্গিত পুতিনের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ২৩:৪৭
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত

পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্তিয়ানতিনিভকা দখলের দাবি করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অবহিত করা হয়েছে।

 

তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার এই দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ বা স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।

শুক্রবার প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একটি যৌথ বাহিনীর কমান্ড পোস্ট পরিদর্শন করে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যুদ্ধ পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য নেন। সেখানে তিনি কোস্তিয়ানতিনিভকা দখলকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

 

পুতিন বলেন, ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার তেল স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোতে ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। এর জবাবে সীমান্তবর্তী এলাকায় রাশিয়ার নিরাপত্তা বলয় আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কোস্তিয়ানতিনিভকা দোনবাস অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ও শিল্পকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। পূর্ব ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়ও শহরটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। এর আগে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী শহরের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করলেও এবার পুরো শহর দখলের দাবি করেছে।

 

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিগুলো কোস্তিয়ানতিনিভকা থেকে ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। সেখানে বিধ্বস্ত ভবনের পাশে রুশ সেনাদের জাতীয় পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে এসব ছবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

রাশিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কোস্তিয়ানতিনিভকার পর প্রায় ৭০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত লিমান শহরের দিকেও তারা অগ্রসর হচ্ছে। তাদের দাবি, পরবর্তী সামরিক অভিযানের জন্য শহরটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক ও কৌশলগত কেন্দ্র।

 

একই সফরে পুতিন আরও দাবি করেন, লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকের পুরো ভূখণ্ড এখন রুশ-সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। যৌথ বাহিনীর একটি অস্থায়ী কমান্ড পোস্টে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী জেনারেল স্টাফের পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব পালন করছে এবং লুহানস্ক অঞ্চলের "সম্পূর্ণ মুক্তি" সম্পন্ন হয়েছে।

রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় বাহিনীর প্রধান ইয়েভজেনি নিকিফোরভ পুতিনকে জানান, ইউক্রেনের ড্রোন হামলা পুরোপুরি প্রতিহত করা এখনো সম্ভব হয়নি। এসব হামলায় রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু এলাকায় জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়েছে।

 

এর জবাবে পুতিন বলেন, "শত্রুপক্ষ আমাদের বেসামরিক স্থাপনায় যত বেশি হামলার চেষ্টা করবে, প্রতিবেশী ভূখণ্ডে আমাদের নিরাপত্তা বলয়ও তত বড় করতে হবে।"

নিকিফোরভ আরও জানান, খারকিভ ও সুমি সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে রুশ বাহিনী উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

 

অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, চলতি বছরের শুরু থেকে পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার অগ্রগতি আগের তুলনায় ধীর হয়ে গেছে। তাদের ভাষ্য, ইউক্রেনীয় বাহিনী কয়েকটি এলাকায় পাল্টা অভিযান চালিয়ে কিছু অবস্থান পুনরুদ্ধারও করেছে।

পুতিন অবশ্য ইউক্রেনের এসব দাবিকে "তথ্যযুদ্ধের অংশ" বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

 

যুদ্ধের পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগও এখন কার্যত স্থবির। গত মাসে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়ে পুতিনের কাছে একটি উন্মুক্ত চিঠি পাঠালেও ক্রেমলিন সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।

 

এদিকে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টাও আপাতত স্থগিত রয়েছে। তবে মস্কো ও কিয়েভ উভয় পক্ষই জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিদের সম্ভাব্য সফরের মাধ্যমে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার আশা এখনও রয়েছে।

 

সূত্র: রয়টার্স

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ইরানি শোকানুষ্ঠানে আবেগঘন মুহূর্ত, কাঁদলেন স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানি শোকানুষ্ঠানে আবেগঘন মুহূর্ত, কাঁদলেন স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানী তেহরানে গভীর শোকের আবহ বিরাজ করছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত শোকানুষ্ঠানে দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের আবেগঘন উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।   অনুষ্ঠানে ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে প্রকাশ্যে আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতে দেখা যায়। রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়োজিত এই শোকানুষ্ঠান ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ জনসমাগমে রূপ নিতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।   ইরান প্রশাসনের ধারণা, কয়েক দিনব্যাপী এই বিদায় অনুষ্ঠানে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে। ইতোমধ্যে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেক মোতামাদিয়ান জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে গ্র্যান্ড মোসাল্লার ফটক সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হবে। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনে এর আগেই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।   খামেনির মৃত্যুর পর আয়োজিত এই শোকানুষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক পরিসরেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারি প্রতিনিধি এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে এটি একটি বড় আন্তর্জাতিক সমাবেশে পরিণত হয়েছে।   অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেন মোহসেনি এজেই এবং এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আয়াতুল্লাহ সাদেক আমোলি লারিজানি। এছাড়া রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান এবং তাজিকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ইমোমালি রাহমনসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশ থেকে সরকারি প্রতিনিধি দল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই শোকানুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে সমর্থন জানিয়েছে—এমন ইউরোপের কয়েকটি দেশকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।   বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির বিদায় শুধু ইরানের জন্য নয়, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও কৌশলগত বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি নির্দেশ করছে। তার শেষ বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে যে বিপুল জনসমাগম ও আন্তর্জাতিক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তা ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রভাবের প্রতিফলন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ০:২৭
আজ থেকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত গ্র্যান্ড মোসাল্লা

আজ থেকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত গ্র্যান্ড মোসাল্লা, খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্তিয়ানতিনিভকা দখল করলো রাশিয়া, নিরাপত্তা বলয় বাড়ানোর ইঙ্গিত পুতিনের

ছবি: নৃত্যশিক্ষক লরা পিনহো এবং সালেম আবু আমরা (সংগৃহীত)

ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানাতে গাজার ব্যক্তিকে বিয়ে করে যুক্তরাষ্ট্রে আনার পরিকল্পনার কথা জানালেন মার্কিনশিক্ষিকা

দুর্ঘটনায় আহত একজনকে বাঁচাতে ছুটে গিয়েছিলেন। ছবি: সংগৃহীত
তুরস্কে দুর্ঘটনায় আহতকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত নববিবাহিত যুবক

তুরস্কে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২৭ বছর বয়সী এক নববিবাহিত যুবক। বিয়ের মাত্র এক সপ্তাহ পর এবং হানিমুন থেকে ফেরার একদিনের মধ্যেই ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইউএস সান জানিয়েছে, নিহত যুবকের নাম ফুরকান আলান। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি বিপদে কাউকে দেখলে কখনো পাশ কাটিয়ে চলে যেতে পারতেন না। সেই মানবিকতাই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের মূল্য হয়ে দাঁড়ায়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বুরসা প্রদেশের মুদানিয়া এলাকায় ঘটে। ২৯ বছর বয়সী ওনুর উসলো নামের এক চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা দেন। এতে খুঁটিটি ভেঙে পড়ে এবং উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইন ছিঁড়ে সড়কের ওপর পড়ে যায়। এ সময় নিজের গাড়িতে ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন ফুরকান আলান। দুর্ঘটনা দেখে তিনি গাড়ি থামিয়ে আহত চালককে সহায়তা করতে এগিয়ে যান। তিনি জরুরি সেবা বিভাগে ফোন করেন এবং আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে সাহায্য করার চেষ্টা করছিলেন।   পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ফোনে কথা বলতে বলতে আহত ব্যক্তির কাছে যাওয়ার সময় ফুরকান অসাবধানতাবশত সড়কে পড়ে থাকা উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক তারের ওপর পা দেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। খবর পেয়ে জরুরি উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা আহত চালক এবং ফুরকান দুজনকেই উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে চিকিৎসকেরা ঘটনাস্থলেই ফুরকানকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে আহত চালককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে।   ঘটনার পর পুলিশ ও প্রসিকিউটর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তদন্ত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ফুরকানের মরদেহ মুদানিয়া স্টেট হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ফুরকান মাত্র এক সপ্তাহ আগে বিয়ে করেছিলেন। স্ত্রীকে নিয়ে হানিমুন শেষে ঘটনার মাত্র একদিন আগে বুরসায় ফিরেছিলেন। দুর্ঘটনার দিন তিনি কর্মস্থল থেকে নিজের ভাইকে আনতে যাচ্ছিলেন।   ফুরকানের পরিবার জানিয়েছে, তিনি সব সময় অন্যের পাশে দাঁড়াতে চেষ্টা করতেন। তাদের ভাষায়, "তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি বিপদে কাউকে ফেলে রেখে চলে যেতে পারতেন না। অন্যরা যেখানে হয়তো চলে যেত, সেখানে তিনি থেমে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিলেন।" এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর বুরসায় তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই তার মানবিকতা ও আত্মত্যাগের প্রশংসা করেছেন।   বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, সড়ক দুর্ঘটনার পর যদি বিদ্যুতের খুঁটি বা বৈদ্যুতিক তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে উদ্ধারকাজে এগিয়ে যাওয়ার আগে অবশ্যই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ছিঁড়ে পড়া তারের কাছাকাছি যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইন অত্যন্ত প্রাণঘাতী হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ২৩:১৪
দীর্ঘদিনের সংঘাতে আবারও রক্তপাত। ছবি: সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ায় মার্কিন পাইলটকে হত্যা করে জ্বালিয়ে দেয়া হলো বিমান

হলিউড তারকা হুইটনি কামিংস আবারও বিক্রির তালিকায় তুলেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার বিলাসবহুল বাড়িটি। ছবি: সংগৃহীত

১০ মিলিয়ন ডলারে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাসাদ বিক্রি করছেন কৌতুকশিল্পী হুইটনি কামিংস

ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইলে আজান নিষিদ্ধ করে বিল পাস, নিন্দা ওআইসির

ভূমিকম্পের আট দিন পরও হার মানেননি হার্নান গিল। ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের আট দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার নিরাপত্তারক্ষী

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আট দিন আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হয়েছেন এক নিরাপত্তারক্ষী। দীর্ঘ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযানের পর হার্নান গিলকে নিরাপদে বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা।   গত ২৪ জুন দেশটির উত্তর উপকূলে আঘাত হানা যমজ ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসের কাছে কাতিয়া লা মার এলাকার গালেরিয়াস প্লায়া গ্রান্দে শপিংমলের একটি অংশ ধসে পড়ে। ওই সময় পার্কিং এলাকার বেজমেন্টে অবস্থিত একটি ছোট কংক্রিটের নিরাপত্তা বুথে দায়িত্ব পালন করছিলেন হার্নান গিল। ভবন ধসে পড়ার পর প্রায় ১৪০ টন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন তিনি।   উদ্ধারকারীরা জানান, দুর্ঘটনার কয়েক দিন পর গিলের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হলেও তার কাছে পৌঁছানো ছিল অত্যন্ত কঠিন। ধ্বংসস্তূপের বিশাল চাপ, অস্থিতিশীল কাঠামো এবং উদ্ধারপথ বারবার ধসে পড়ায় অভিযান আরও জটিল হয়ে ওঠে। নিরাপদ করিডোর তৈরি করে ধীরে ধীরে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তার কাছে পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লেগে যায়।   উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া চিলির এক দমকল কর্মকর্তা বলেন, এটি তার কর্মজীবনের সবচেয়ে কঠিন ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ধার অভিযানগুলোর একটি। ছোট ক্যামেরা, বিশেষ অনুসন্ধান যন্ত্র এবং সংকীর্ণ পথ ব্যবহার করে ধাপে ধাপে গিলের অবস্থানে পৌঁছান উদ্ধারকর্মীরা।   কোস্টারিকার রেড ক্রসের প্যারামেডিক অ্যালান মাদ্রিগাল জানান, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে প্রথমে ক্ষীণ কণ্ঠে সাহায্যের আবেদন শুনতে পান তিনি। পরে সহকর্মীরাও একই শব্দ শুনলে নিশ্চিত হওয়া যায় যে নিচে একজন জীবিত রয়েছেন। এরপরই উদ্ধার অভিযান নতুন গতি পায়।   উদ্ধারকারীরা জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা অবস্থায় গিলকে সরু একটি নলের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয়। চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে শিরায় স্যালাইনও দেন। দীর্ঘ সময় আটকে থাকলেও তার শরীরে গুরুতর কোনো আঘাত লাগেনি বলে তিনি উদ্ধারকারীদের জানিয়েছেন।   প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় যে কংক্রিটের নিরাপত্তা বুথে তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন, সেটি ধসে পড়া ভবনের ভেতরে তার চারপাশে একটি সুরক্ষিত ফাঁকা জায়গা তৈরি করে। এ কারণেই তিনি প্রাণে বেঁচে যান বলে ধারণা করছেন উদ্ধারকর্মীরা।   এই উদ্ধার অভিযানে ভেনেজুয়েলার পাশাপাশি চিলি, কোস্টারিকা, এল সালভাদর, মেক্সিকো, পর্তুগাল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল অংশ নেয়। কয়েকবার উদ্ধারপথ ধসে পড়লেও তারা অভিযান চালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত সফল হন।   ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৪ জুনের ওই যমজ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ২১:২৭
হিন্দ আল-আব্বাসি। ছবি: সংগৃহীত

ইরাকে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে এমপির বাড়িতে ৫৭ মিলিয়ন ডলার ও ২৭ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রকে পাশ কাটিয়ে ইরানের সঙ্গে নতুন সমঝোতার পথে উপসাগরীয় দেশগুলো! বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতি

বারবার একই রোগ ধরা পড়লেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় ধরা পড়ে বিরল ক্যানসার। ছবি: সংগৃহীত

মূত্রনালির সংক্রমণ ভেবে সাত মাস চিকিৎসা, পরে ধরা পড়ে বিরল হাড়ের ক্যানসার, ১৭ বছরেই মৃত্যু ব্রিটিশ কিশোরীর

0 Comments