গাজা ও লেবানন সীমান্তে সংঘাতের এক মাস অতিবাহিত হলেও ইসরায়েলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। একদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করছেন যে তার দেশ যুদ্ধে জয়ী হচ্ছে এবং ইরানকে কোণঠাসা করে ফেলেছে, অন্যদিকে খোদ ইসরায়েলের অভ্যন্তরেই বাড়ছে তীব্র সমালোচনা।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা নূর ওদেহের পাঠানো তথ্যে জানা গেছে, ইসরায়েলি নেতাদের বক্তব্যে যুদ্ধ জয়ের এক ধরণের ‘আভাস’ দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ইসরায়েলি বিরোধী দলীয় নেতারা এখন সরাসরি নেতানিয়াহুর সমালোচনা করছেন। তাদের অভিযোগ, এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা (Exit Strategy) সরকারের কাছে নেই। এছাড়া ইসরায়েল যা অর্জন করতে পারবে বলে প্রচার করা হচ্ছে, বাস্তবে তার সক্ষমতাকে অতিরঞ্জিত করে দেখানো হচ্ছে।
ত্রিমুখী আক্রমণ ও আকাশ প্রতিরক্ষা সংকট
সংবাদ বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ইসরায়েল বর্তমানে তিনটি প্রধান দিক থেকে সরাসরি হুমকির সম্মুখীন:
১. ইরান: এক মাস পার হওয়ার পরও ইসরায়েল এখনও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।
২. হিজবুল্লাহ: লেবানন সীমান্ত থেকে হিজবুল্লাহর রকেট ও মিসাইল হামলা অব্যাহত রয়েছে।
৩. হুথি বিদ্রোহী: ইয়েমেনের হুথিরা এখন ইসরায়েলের জন্য তৃতীয় ফ্রন্ট বা তৃতীয় রণাঙ্গন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
এই ত্রিমুখী আক্রমণের কারণে ইসরায়েলের বিশ্বখ্যাত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defence System) এখন চরম চাপের মুখে। সব দিক থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলা করতে গিয়ে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ফলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে এখন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত হিসেব করে বা ‘রেশনিং’ করে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহু প্রশাসন জয়ের দাবি করলেও সামরিক ও কৌশলগতভাবে ইসরায়েল বর্তমানে এক নজিরবিহীন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।
মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন ও মিসাইল হামলার হুমকির মধ্যে কাতার ও ইউক্রেন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ একে অপরের সঙ্গে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং যুদ্ধ অভিজ্ঞতা বিনিময় করবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি চলতি সপ্তাহে উপসাগরীয় দেশগুলোতে এক ঝটিকা সফরে বের হন। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর কাতারের সঙ্গে এই চুক্তি তার সফরের বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই পক্ষ বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। ইউক্রেনের পক্ষে চুক্তিতে সই করেছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আন্দ্রি নাটোভ এবং কাতারের পক্ষে সই করেছেন কাতার সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জসিম বিন মোহাম্মদ আল-মান্নাই। চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ কেবল প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নয়, বরং প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক বিনিয়োগের পথও প্রসারিত করবে। বিশেষ করে, গত এক মাসে ইরানের সঙ্গে সংঘটিত যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে তাদের নিজস্ব ড্রোন ও মিসাইল প্রতিরক্ষা অভিজ্ঞতা দিয়ে সাহায্য করতে আগ্রহী ইউক্রেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে ইউক্রেনের জন্য এমন মিত্র প্রয়োজন, যাদের আর্থিক সক্ষমতা এবং সামরিক রসদ সরবরাহের সামর্থ্য বেশি। বর্তমান সময়ে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্যে বেশি, তখন কাতার ও সৌদি আরবের সমর্থন কিয়েভের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান Emirates Global Aluminium-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে স্থাপনাটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে আবুধাবির Khalifa Economic Zone-এ অবস্থিত আল তাওইলাহ উৎপাদন কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের ছোড়া মিসাইল ও ড্রোনের আঘাতে কারখানার বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বহু কর্মী আহত হলেও কারও অবস্থা গুরুতর নয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা হচ্ছে। এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera জানিয়েছিল, খলিফা অর্থনৈতিক জোন এলাকায় মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এবং এতে একাধিক স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার একদিনেই ইরান তাদের লক্ষ্য করে ২০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ৩৭টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। তবে এর মধ্যে কতগুলো ভূপাতিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৯৮টি মিসাইল এবং ১,৮৭২টি ড্রোন প্রতিহত করেছে আমিরাত। এদিকে, ইরানের হামলায় এখন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন সামরিক বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর আল-মানার টেলিভিশনের প্রখ্যাত সাংবাদিক আলী শুয়াইবসহ তিন গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। নিহত অন্য দুই সাংবাদিক হলেন ফাতেমা ও মোহাম্মদ ফাতুনি, যারা ইরানপন্থী আল-মায়াদিন চ্যানেলে কর্মরত ছিলেন। লেবানন সরকার এই আক্রমণকে একটি ‘নির্লজ্জ অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আলী শুয়াইবকে ‘সাংবাদিকের ছদ্মবেশে থাকা একজন সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিযুক্ত করেছে এবং তাদের দাবি অনুযায়ী তিনি দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান ফাঁস করে দিচ্ছিলেন। তবে হিজবুল্লাহ এবং আল-মানার টেলিভিশন এই অভিযোগ অস্বীকার করে শুয়াইবকে ‘প্রতিরোধ মিডিয়ার আইকন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, নিহত অন্য দুই সাংবাদিকের বিষয়ে ইসরায়েল কোনো মন্তব্য করেনি। লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং যুদ্ধকালীন আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা মনে করে, সাংবাদিকরা যুদ্ধের ময়দানে বেসামরিক নাগরিক হিসেবে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন এবং তাদের লক্ষ্যবস্তু করা একটি যুদ্ধাপরাধ। গাজায় ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের হত্যার পর লেবাননে এই ঘটনা গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তার ওপর বড় ধরণের আঘাত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।