ইসরাইলের সামরিক নেতৃত্ব ও বিরোধী রাজনীতিকদের একাংশ সতর্ক করে বলছেন, একাধিক ফ্রন্টে চলমান সংঘাতের চাপে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী—আইডিএফ—গুরুতর সংকটে পড়েছে। তাদের মতে, জনবল ঘাটতি ও সুস্পষ্ট কৌশলের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেন, সেনাবাহিনীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তার ভাষায়, আহত সেনাদের যথাযথ সহায়তা ছাড়াই যুদ্ধক্ষেত্রে ফেলে রাখা হচ্ছে। এর আগের দিন, সেনাপ্রধান এয়াল জামির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভায় একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলেও স্থানীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়।
লাপিদের দাবি, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি, সরঞ্জাম ও জনবল ছাড়াই সরকার বাহিনীকে বহুমুখী সংঘাতে নিয়োজিত করছে। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, জামির মন্ত্রিসভাকে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী মারাত্মক চাপের মুখে রয়েছে।
অন্যদিকে, সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি দেফ্রিন জানান, বিভিন্ন সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে লেবানন সীমান্তে নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বাড়তি বাহিনী দরকার। একই সঙ্গে পশ্চিম তীর, গাজা ও সিরিয়া সীমান্তেও সেনা চাহিদা বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
লাপিদের মতে, রিজার্ভ বা সংরক্ষিত বাহিনীর সদস্যরা বারবার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ক্লান্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। এতে করে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে এবং বাহিনীর সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে তিনি আল্ট্রা-অর্থোডক্স হারেদি সম্প্রদায়কে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার আওতায় আনার আহ্বান জানান। দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষায় নিয়োজিত থাকার কারণে তারা সামরিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসছেন।
লাপিদ বলেন, যারা খসড়া (ড্রাফট) এড়াচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত—যার মধ্যে অর্থনৈতিক সুবিধা বন্ধ করা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে তাদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, ইসরাইলে সাধারণ নাগরিকদের জন্য সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক হলেও, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় থেকে ধর্মীয় শিক্ষায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য একটি বিশেষ ছাড় চালু রয়েছে, যা এখন নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংকটের মধ্যে হুথি আন্দোলন নতুন করে লোহিত সাগরে হামলার হুমকি দিয়েছে। এক হুথি নেতা জানান, তারা সম্পূর্ণ সামরিকভাবে প্রস্তুত এবং ‘উপযুক্ত সময়ে’ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে আক্রমণ চালাতে পারে। ২০২৩-২৪ সালে গাজা যুদ্ধের সময় হুথিদের হামলার কারণে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ও বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। বর্তমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তারা আবারও একই পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিচ্ছে। হুথিদের সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে ইয়েমেন উপকূলের বাব-আল-মান্দাব প্রণালী। এটি লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত একটি সংকীর্ণ জলপথ, যা আরব উপদ্বীপকে আফ্রিকা থেকে পৃথক করেছে। প্রণালীর গুরুত্ব অপরিসীম। পারস্য উপসাগর থেকে সুয়েজ খাল বা সুমেড পাইপলাইনের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরে অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের জন্য এটি মূল পথ। বিশ্ববাণিজ্যের বড় অংশ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল। সংকীর্ণতম অংশে মাত্র ২৯ কিলোমিটার চওড়া হওয়ায় এটি সামরিক হামলার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। হুথি নেতা বলেছেন, “আমরা সব বিকল্প নিয়ে পুরোপুরি সামরিকভাবে প্রস্তুত আছি।” তবে চূড়ান্ত সময় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেতৃত্বের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কূটনীতিক ও বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, হুথিরা ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের জন্য সঠিক মুহূর্তের অপেক্ষায় রয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, ইরানের ভূখণ্ডে হামলা হলে তেহরান বাব-আল-মান্দাবে নতুন ফ্রন্ট খুলতে পারে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল হামলার পর গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় হুথিরা লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা চালিয়েছিল। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর তারা হামলা বন্ধ করে। ইয়েমেনের সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল-এর শীর্ষ নেতা বলেছেন, “যখন তারা দেখবে ইরানের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখনই তারা নড়েচড়ে বসবে।” বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, হরমুজ প্রণালী কার্যকরভাবে বন্ধ থাকা অবস্থায় লোহিত সাগরের এই প্রণালীতে হামলা বিশ্ব অর্থনীতি ও তেল বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা। নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের ধারাবাহিক হামলায় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৩টি সামরিক ঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কুয়েতে থাকা পোর্ট শুয়াইবা, আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বুয়েরিং সামরিক ঘাঁটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ রাডার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতেও হামলার দাবি করা হয়েছে। তবে এসব দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। সরকারিভাবে এখনো বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলাগুলো দেখিয়ে দিয়েছে—ইরানের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার সামনে অনেক মার্কিন ঘাঁটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হতে পারে। এদিকে সংঘাতের মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর পর থেকে হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে এবং অঞ্চলে নতুন করে সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরীসহ একাধিক স্ট্রাইক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে এবং অতিরিক্ত হাজারো মেরিন ও প্যারাট্রুপার মোতায়েন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে—সংঘাত শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং সামরিক ভারসাম্য ও নিরাপত্তা কাঠামোকেও নতুনভাবে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এক ইরানি তরুণী সামাজিক মাধ্যমে “ট্রাম্প ড্যান্স” করে ভাইরাল হওয়ার পর এবার ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধরনের ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, ওই তরুণী জানিয়েছেন যে ইরানে চলমান সংঘাতের মধ্যে তিনি তার পরিবারের এক সদস্যকে হারিয়েছেন। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, তরুণী সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্টাইল অনুকরণ করে নাচছেন, যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি প্রকাশের পর অনেকেই এটিকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখেছেন এবং তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ওই ইরানি ইনফ্লুয়েন্সার জানান, তার এক কাজিন ইরানে সহিংসতার মধ্যে নিহত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, এই মৃত্যুর জন্য তিনি ইরানের ইসলামিক শাসনব্যবস্থাকে দায়ী মনে করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতি না থাকলে তার পরিবারের সদস্য হয়তো বেঁচে থাকতেন। এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন, আবার কেউ তার আগের ভাইরাল ভিডিওকে ঘিরে সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে যুদ্ধ ও রাজনীতি নিয়ে তার মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, প্রবাসীদের ব্যক্তিগত জীবনেও পড়ছে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ঘটনাগুলো অনেক সময় বাস্তব জীবনের কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে মিশে গিয়ে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।