টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষী ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমানকে জেরা করা হবে। এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চে এ জেরা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, শুনানির শুরুতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেমসহ সাত আসামির পক্ষে আইনজীবী তাবারক হোসেন ও অন্য আইনজীবীরা সাক্ষীকে জেরা করবেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের নিয়োগ করা ডিফেন্স আইনজীবীরা তাদের জেরা সম্পন্ন করবেন। গত ৮ মার্চ এই মামলায় প্রথম দফায় জেরা অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন কর্নেল কেএম আজাদের পক্ষে আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো দাবি করেন, ব্যারিস্টার আরমানকে কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুম করেনি; বরং তিনি প্রায় আট বছর আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি আরমানের লেখা ‘আয়নাঘরের সাক্ষী, গুমজীবনের আট বছর’ বইয়ের তথ্যকেও অসত্য বলে উল্লেখ করেন। তবে সাক্ষী এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানান, সেগুলো সঠিক নয়। এর আগে ২১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন ব্যারিস্টার আরমান। জবানবন্দিতে তিনি ২০১৬ সালে গুম হওয়ার পর দীর্ঘ আট বছর গোপন বন্দিত্বে থাকার অভিজ্ঞতা এবং সেখানে নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা তুলে ধরেন। এ মামলায় গ্রেফতার ১০ আসামিকে ঢাকার সেনানিবাসে স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হবে। তাদের মধ্যে রয়েছেন র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), র্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম। অন্যদিকে শেখ হাসিনাসহ আরও কয়েকজন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এম খুরশিদ হোসেন, সাবেক ডিজি ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ এবং র্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খায়রুল ইসলাম।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশসীমা অতিক্রম করার অভিযোগে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে সতর্ক করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আবার ঘটলে তুরস্ক তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর থেকে এখন পর্যন্ত দু’বার তুরস্কের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র। প্রথম ঘটনাটি ঘটে ৪ মার্চ এবং দ্বিতীয়টি ৯ মার্চ। উভয় ক্ষেত্রেই ন্যাটোর এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করে তুরস্কের প্রতিরক্ষা বাহিনী। সোমবার আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূপাতিত করার পর প্রেসিডেন্ট এরদোগান টেলিফোনে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, ইরানের এমন বেপরোয়া ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কারণে তুরস্ক এই সংঘাতে সরাসরি জড়িত না থাকলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। ফোনালাপে এরদোগান প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে হামলা চালানোকে ‘অবৈধ হস্তক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বন্ধু ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর ওপর হামলা কোনো পক্ষেরই উপকারে আসে না এবং আঙ্কারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড কখনো সমর্থন করবে না। ভবিষ্যতে যদি আবার এমন ঘটনা ঘটে, তবে তুরস্ক নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং শতাধিক স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে তুরস্কের অভিযোগের জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন, তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরান থেকে নিক্ষেপ করা হয়নি। তবে ঘটনাটি খতিয়ে দেখে তদন্ত করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সোমবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান-এর সঙ্গে ফোনালাপে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। কথোপকথনে তুরস্কের আকাশসীমায় আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশের ঘটনায় আঙ্কারা কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায় বলে জানিয়েছে আনাদোলু। তুরস্কের যোগাযোগ দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, এরদোয়ান স্পষ্টভাবে জানান— তুরস্কের আকাশসীমা লঙ্ঘন “কোনো কারণেই গ্রহণযোগ্য নয়” এবং এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে আঙ্কারা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে। এই ফোনালাপটি ইরানের অনুরোধে অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন ন্যাটোর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটি ভূপাতিত করে। গত সপ্তাহেও সিরিয়া ও ইরাকের ওপর দিয়ে আসা আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটো প্রতিরক্ষা ইউনিট ধ্বংস করে বলে তুরস্ক দাবি করে। এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক কোনো সংঘাতের পক্ষ না হয়েও এই উত্তেজনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে “অবৈধ হস্তক্ষেপ” সমর্থন করেন না, তবে একই সঙ্গে ইরানের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোরও সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, “ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোকে লক্ষ্য করা কারও স্বার্থে নয়—এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত।” তিনি কূটনৈতিক সমাধানের পথ আবার খুলে দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে বলেন, তুরস্ক অঞ্চলে সংলাপ চালু করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ফোনালাপে এরদোয়ান গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মিনাব শহরের একটি মেয়েদের স্কুলে হামলায় নিহতদের জন্য গভীর শোকও প্রকাশ করেন। ওই হামলার ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, যদিও ইসরায়েল এতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফেব্রুয়ারি ২৮-এ শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় এরদোয়ান আশা প্রকাশ করেন, এতে অঞ্চলজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৪৭টি মানুষের মাথার খুলি এবং বিপুল পরিমাণ হাড়সহ কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় চোর চক্রের চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান সোমবার (৯ মার্চ) রাতের ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে মানবদেহের হাড় ও কঙ্কাল চুরির সঙ্গে জড়িত। উদ্ধারকৃত খুলি ও হাড়ের উৎস, পাশাপাশি চক্রের সঙ্গে অন্য কারা জড়িত তা শনাক্ত করার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য জানাতে বুধবার (১০ মার্চ) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষী ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমানকে জেরা করা হবে। এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চে এ জেরা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, শুনানির শুরুতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেমসহ সাত আসামির পক্ষে আইনজীবী তাবারক হোসেন ও অন্য আইনজীবীরা সাক্ষীকে জেরা করবেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের নিয়োগ করা ডিফেন্স আইনজীবীরা তাদের জেরা সম্পন্ন করবেন। গত ৮ মার্চ এই মামলায় প্রথম দফায় জেরা অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন কর্নেল কেএম আজাদের পক্ষে আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো দাবি করেন, ব্যারিস্টার আরমানকে কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুম করেনি; বরং তিনি প্রায় আট বছর আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি আরমানের লেখা ‘আয়নাঘরের সাক্ষী, গুমজীবনের আট বছর’ বইয়ের তথ্যকেও অসত্য বলে উল্লেখ করেন। তবে সাক্ষী এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানান, সেগুলো সঠিক নয়। এর আগে ২১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন ব্যারিস্টার আরমান। জবানবন্দিতে তিনি ২০১৬ সালে গুম হওয়ার পর দীর্ঘ আট বছর গোপন বন্দিত্বে থাকার অভিজ্ঞতা এবং সেখানে নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা তুলে ধরেন। এ মামলায় গ্রেফতার ১০ আসামিকে ঢাকার সেনানিবাসে স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হবে। তাদের মধ্যে রয়েছেন র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), র্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম। অন্যদিকে শেখ হাসিনাসহ আরও কয়েকজন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এম খুরশিদ হোসেন, সাবেক ডিজি ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ এবং র্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খায়রুল ইসলাম।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সোমবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান-এর সঙ্গে ফোনালাপে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। কথোপকথনে তুরস্কের আকাশসীমায় আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশের ঘটনায় আঙ্কারা কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায় বলে জানিয়েছে আনাদোলু। তুরস্কের যোগাযোগ দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, এরদোয়ান স্পষ্টভাবে জানান— তুরস্কের আকাশসীমা লঙ্ঘন “কোনো কারণেই গ্রহণযোগ্য নয়” এবং এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে আঙ্কারা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে। এই ফোনালাপটি ইরানের অনুরোধে অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন ন্যাটোর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটি ভূপাতিত করে। গত সপ্তাহেও সিরিয়া ও ইরাকের ওপর দিয়ে আসা আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটো প্রতিরক্ষা ইউনিট ধ্বংস করে বলে তুরস্ক দাবি করে। এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক কোনো সংঘাতের পক্ষ না হয়েও এই উত্তেজনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে “অবৈধ হস্তক্ষেপ” সমর্থন করেন না, তবে একই সঙ্গে ইরানের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোরও সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, “ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোকে লক্ষ্য করা কারও স্বার্থে নয়—এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত।” তিনি কূটনৈতিক সমাধানের পথ আবার খুলে দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে বলেন, তুরস্ক অঞ্চলে সংলাপ চালু করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ফোনালাপে এরদোয়ান গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মিনাব শহরের একটি মেয়েদের স্কুলে হামলায় নিহতদের জন্য গভীর শোকও প্রকাশ করেন। ওই হামলার ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, যদিও ইসরায়েল এতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফেব্রুয়ারি ২৮-এ শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় এরদোয়ান আশা প্রকাশ করেন, এতে অঞ্চলজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরবে।
ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাব শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, ইউরোপেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। সোমবার সকালে ইইউ রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, আমরা এখন একটি আঞ্চলিক সংঘাতের মুখোমুখি, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফল তৈরি করছে। ইউরোপের নাগরিকেরা দুই পক্ষের লড়াইয়ের মধ্যে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ভন ডার লিয়েন আরও বলেন, ইরানের জনগণের স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদের হাতে রাখার অধিকার রয়েছে। তিনি সতর্ক করেছেন, এই যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এর আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও সতর্ক করেছিলেন, এই যুদ্ধ যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, এর অর্থনৈতিক প্রভাব তত গভীর হবে। ইউরোপীয় নেতারা বর্তমানে যুদ্ধের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলার উপায় নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলে দাবি করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতার পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা কামাল খারাজি। সোমবার তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কূটনীতির কোনো সুযোগ নেই। এই যুদ্ধ কেবল অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে শেষ হতে পারে। খারাজি জানান, ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সংঘাত থেকে সরে আসতে বাধ্য করতে চাইছে। তিনি সতর্ক করেছেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে অন্যান্য দেশকে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হতে হবে। ইরানের সামরিক অভিযানের ফলে হরমুজ প্রণালির নৌ-চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে বৈপ্লবিক প্রভাব পড়েছে; সোমবার অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। তেহরানের দাবি, তারা উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন আবাসিক ভবন এবং বিমানবন্দরকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি নির্বাচিত হয়েছেন, যা সংঘাত আরও জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। খারাজি বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নতুন নেতার ওপরও থাকবে, এবং আগের মতোই তারা এটি পালন করবেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৪৭টি মানুষের মাথার খুলি এবং বিপুল পরিমাণ হাড়সহ কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় চোর চক্রের চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান সোমবার (৯ মার্চ) রাতের ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে মানবদেহের হাড় ও কঙ্কাল চুরির সঙ্গে জড়িত। উদ্ধারকৃত খুলি ও হাড়ের উৎস, পাশাপাশি চক্রের সঙ্গে অন্য কারা জড়িত তা শনাক্ত করার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য জানাতে বুধবার (১০ মার্চ) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
নেপালে শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় দেশটির সরকার এবং জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে নেপালের গণতান্ত্রিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তার শুভেচ্ছাবার্তায় বলেন, “সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সংসদীয় নির্বাচন আয়োজন করায় আমি নেপাল সরকার এবং জনগণকে অভিনন্দন জানাই। এই গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক অনুশীলন নেপালের জনগণের দৃঢ়তা ও দেশটির গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তির প্রতিফলন।” এবারের নির্বাচনে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ লক্ষ্যণীয়, যেখানে প্রায় ৩৮ শতাংশ এমপির বয়স ৪০ বছরের নিচে। বাংলাদেশ ও নেপালের দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ নেপালের নতুন সরকার ও জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে।”
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশসীমা অতিক্রম করার অভিযোগে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে সতর্ক করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আবার ঘটলে তুরস্ক তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর থেকে এখন পর্যন্ত দু’বার তুরস্কের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র। প্রথম ঘটনাটি ঘটে ৪ মার্চ এবং দ্বিতীয়টি ৯ মার্চ। উভয় ক্ষেত্রেই ন্যাটোর এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করে তুরস্কের প্রতিরক্ষা বাহিনী। সোমবার আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূপাতিত করার পর প্রেসিডেন্ট এরদোগান টেলিফোনে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, ইরানের এমন বেপরোয়া ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কারণে তুরস্ক এই সংঘাতে সরাসরি জড়িত না থাকলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। ফোনালাপে এরদোগান প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে হামলা চালানোকে ‘অবৈধ হস্তক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বন্ধু ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর ওপর হামলা কোনো পক্ষেরই উপকারে আসে না এবং আঙ্কারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড কখনো সমর্থন করবে না। ভবিষ্যতে যদি আবার এমন ঘটনা ঘটে, তবে তুরস্ক নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং শতাধিক স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে তুরস্কের অভিযোগের জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন, তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরান থেকে নিক্ষেপ করা হয়নি। তবে ঘটনাটি খতিয়ে দেখে তদন্ত করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সোমবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান-এর সঙ্গে ফোনালাপে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। কথোপকথনে তুরস্কের আকাশসীমায় আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশের ঘটনায় আঙ্কারা কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায় বলে জানিয়েছে আনাদোলু। তুরস্কের যোগাযোগ দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, এরদোয়ান স্পষ্টভাবে জানান— তুরস্কের আকাশসীমা লঙ্ঘন “কোনো কারণেই গ্রহণযোগ্য নয়” এবং এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে আঙ্কারা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে। এই ফোনালাপটি ইরানের অনুরোধে অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন ন্যাটোর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটি ভূপাতিত করে। গত সপ্তাহেও সিরিয়া ও ইরাকের ওপর দিয়ে আসা আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটো প্রতিরক্ষা ইউনিট ধ্বংস করে বলে তুরস্ক দাবি করে। এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক কোনো সংঘাতের পক্ষ না হয়েও এই উত্তেজনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে “অবৈধ হস্তক্ষেপ” সমর্থন করেন না, তবে একই সঙ্গে ইরানের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোরও সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, “ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোকে লক্ষ্য করা কারও স্বার্থে নয়—এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত।” তিনি কূটনৈতিক সমাধানের পথ আবার খুলে দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে বলেন, তুরস্ক অঞ্চলে সংলাপ চালু করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ফোনালাপে এরদোয়ান গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মিনাব শহরের একটি মেয়েদের স্কুলে হামলায় নিহতদের জন্য গভীর শোকও প্রকাশ করেন। ওই হামলার ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, যদিও ইসরায়েল এতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফেব্রুয়ারি ২৮-এ শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় এরদোয়ান আশা প্রকাশ করেন, এতে অঞ্চলজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরবে।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলে দাবি করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতার পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা কামাল খারাজি। সোমবার তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কূটনীতির কোনো সুযোগ নেই। এই যুদ্ধ কেবল অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে শেষ হতে পারে। খারাজি জানান, ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সংঘাত থেকে সরে আসতে বাধ্য করতে চাইছে। তিনি সতর্ক করেছেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে অন্যান্য দেশকে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হতে হবে। ইরানের সামরিক অভিযানের ফলে হরমুজ প্রণালির নৌ-চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে বৈপ্লবিক প্রভাব পড়েছে; সোমবার অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। তেহরানের দাবি, তারা উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন আবাসিক ভবন এবং বিমানবন্দরকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি নির্বাচিত হয়েছেন, যা সংঘাত আরও জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। খারাজি বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নতুন নেতার ওপরও থাকবে, এবং আগের মতোই তারা এটি পালন করবেন।
ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাব শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, ইউরোপেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। সোমবার সকালে ইইউ রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, আমরা এখন একটি আঞ্চলিক সংঘাতের মুখোমুখি, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফল তৈরি করছে। ইউরোপের নাগরিকেরা দুই পক্ষের লড়াইয়ের মধ্যে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ভন ডার লিয়েন আরও বলেন, ইরানের জনগণের স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদের হাতে রাখার অধিকার রয়েছে। তিনি সতর্ক করেছেন, এই যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এর আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও সতর্ক করেছিলেন, এই যুদ্ধ যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, এর অর্থনৈতিক প্রভাব তত গভীর হবে। ইউরোপীয় নেতারা বর্তমানে যুদ্ধের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলার উপায় নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।