যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলমান যুদ্ধ ‘শিগগিরই’ শেষ হবে এবং ইরানে আঘাত করার মতো মূল লক্ষ্যগুলো ইতিমধ্যেই ধ্বংস হয়ে গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমি যখনই চাইব, এটি শেষ হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। ট্রাম্পের এ বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতা মেলানো নিয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। তিনি গত বুধবার বলেন, এই যুদ্ধ কোনো সময়সীমা ছাড়াই চলতে পারে। রয়টার্স এবং দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাৎজ জানিয়েছেন, যতদিন প্রয়োজন এবং ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ অভিযানের সমস্ত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলতে থাকবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যে এই বিবৃতি মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে। সূত্র: বিবিসি
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি। তিনি একই সঙ্গে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলার জন্য ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করার অনুমতি কোনো পক্ষকেই দেওয়া হবে না। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১১ মার্চ) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক ফোনালাপে এই অবস্থান ব্যক্ত করেন আল-সুদানি। ফোনালাপের সময় ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী আরও সতর্ক করে বলেন, ইরাককে লক্ষ্য করে যেকোনো ধরনের হামলা দেশের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের পর থেকেই ইরাক তার আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) ঢাকা-১১ আসনের বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম এই নির্বাচনি আবেদন (ইলেকশন পিটিশন) দাখিল করেছেন। আদালত সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিচারপতি জাকির হোসেনের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চে মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে এদিন হাইকোর্টে বিএনপি ও জামায়াতের আরও ছয়জন প্রার্থী পৃথক মামলা দায়ের করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন খুলনা-৫ আসনের মিয়া গোলাম পরওয়ার, বরগুনা-২ আসনের ডা. সুলতান আহমেদ, পিরোজপুর-২ আসনের শামীম সাঈদী, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের শরিফুজ্জামান শরীফ, মাদারীপুর-১ আসনের নাদিরা আক্তার ও নীলফামারী-২ আসনের শাহরিন ইসলাম। এর আগে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ বিএনপির আরও চারজন প্রার্থী একই ধরনের অভিযোগে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন গাইবান্ধা-৫ আসনের ফারুক আলম সরকার, ঢাকা-৫ আসনের নবী উল্লাহ নবী, পাবনা-৩ আসনের হাসান জাফির তুহিন এবং কুষ্টিয়া-৪ আসনের সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের (আরপিও) ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কারচুপি হলে প্রার্থী হাইকোর্টে আবেদন করতে পারেন। বিচারপতি জাকির হোসেনের একক বেঞ্চ নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট আসনের ফলাফলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন।
দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ কতদিন চলবে তা তিনি এখনও নির্ধারণ করতে পারছেন না। বুধবার তিনি রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং বৈঠকে এই তথ্য জানিয়েছেন। নেতানিয়াহু বৈঠকে বলেন, এখনো অনেক লক্ষ্যবস্তু রয়েছে। আমাদের গতিশীলতা অসাধারণ এবং আমরা সময়ের চেয়ে এগিয়ে আছি। তবে যুদ্ধ কতদিন চলবে সেটি আমি আপনাদের বলতে পারব না। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করেছেন, আজ রাতের মধ্যে ইসরায়েলজুড়ে বিস্তৃত ও বড় হামলার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে হিজবুল্লাহ বিপুল রকেট নিক্ষেপ করতে পারে। ইতিমধ্যেই ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে একসঙ্গে প্রায় ১০০টি রকেট নিক্ষেপ করেছে হিজবুল্লাহ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সামরিক মোকাবিলা দীর্ঘায়িত হতে পারে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) ঢাকা-১১ আসনের বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম এই নির্বাচনি আবেদন (ইলেকশন পিটিশন) দাখিল করেছেন। আদালত সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিচারপতি জাকির হোসেনের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চে মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে এদিন হাইকোর্টে বিএনপি ও জামায়াতের আরও ছয়জন প্রার্থী পৃথক মামলা দায়ের করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন খুলনা-৫ আসনের মিয়া গোলাম পরওয়ার, বরগুনা-২ আসনের ডা. সুলতান আহমেদ, পিরোজপুর-২ আসনের শামীম সাঈদী, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের শরিফুজ্জামান শরীফ, মাদারীপুর-১ আসনের নাদিরা আক্তার ও নীলফামারী-২ আসনের শাহরিন ইসলাম। এর আগে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ বিএনপির আরও চারজন প্রার্থী একই ধরনের অভিযোগে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন গাইবান্ধা-৫ আসনের ফারুক আলম সরকার, ঢাকা-৫ আসনের নবী উল্লাহ নবী, পাবনা-৩ আসনের হাসান জাফির তুহিন এবং কুষ্টিয়া-৪ আসনের সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের (আরপিও) ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কারচুপি হলে প্রার্থী হাইকোর্টে আবেদন করতে পারেন। বিচারপতি জাকির হোসেনের একক বেঞ্চ নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট আসনের ফলাফলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি। তিনি একই সঙ্গে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলার জন্য ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করার অনুমতি কোনো পক্ষকেই দেওয়া হবে না। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১১ মার্চ) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক ফোনালাপে এই অবস্থান ব্যক্ত করেন আল-সুদানি। ফোনালাপের সময় ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী আরও সতর্ক করে বলেন, ইরাককে লক্ষ্য করে যেকোনো ধরনের হামলা দেশের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের পর থেকেই ইরাক তার আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলমান যুদ্ধ ‘শিগগিরই’ শেষ হবে এবং ইরানে আঘাত করার মতো মূল লক্ষ্যগুলো ইতিমধ্যেই ধ্বংস হয়ে গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমি যখনই চাইব, এটি শেষ হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। ট্রাম্পের এ বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতা মেলানো নিয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। তিনি গত বুধবার বলেন, এই যুদ্ধ কোনো সময়সীমা ছাড়াই চলতে পারে। রয়টার্স এবং দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাৎজ জানিয়েছেন, যতদিন প্রয়োজন এবং ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ অভিযানের সমস্ত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলতে থাকবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যে এই বিবৃতি মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে। সূত্র: বিবিসি
যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রণক্ষেত্রে কে বাঁচবে আর কে মরবে—এমন চূড়ান্ত ও সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কোনোভাবেই এআই-এর হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে চীনের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সামরিক ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের সময় অবশ্যই ‘হিউম্যান প্রাইমাসি’ বা মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে হবে। অর্থাৎ, প্রাণঘাতী কোনো হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিয়ন্ত্রণ সর্বদাই মানুষের হাতে থাকা জরুরি। চীন মনে করে, যুদ্ধের ময়দানে এআই-এর ওপর অতি-নির্ভরশীলতা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এআই যদি নিজে থেকেই জীবন ও মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করে, তবে তা যুদ্ধকে আরও ভয়াবহ এবং অনিয়ন্ত্রিত করে তুলবে। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা এআই-এর ভুল বিশ্লেষণের ফলে নিরপরাধ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। বিবৃতিতে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলা হয়, এআই-চালিত অস্ত্র ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন এবং নৈতিকতার বিষয়টি মাথায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সামরিক ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার মধ্যে এআই-এর দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতের সমরাস্ত্র প্রতিযোগিতায় আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয় দেশই এআই প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। তবে চীন এই প্রথমবারের মতো রণক্ষেত্রে এআই-এর ‘স্বায়ত্তশাসিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ’ ক্ষমতার বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিল। উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে ‘কিলার রোবট’ বা মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়া লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ড্রোনের ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক চলছে। চীনের এই সাম্প্রতিক সতর্কবার্তা সেই বৈশ্বিক উদ্বেগেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। দেশটির শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে এই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে একসঙ্গে প্রায় ১০০টি রকেট নিক্ষেপ করেছে। এই হামলার পরপরই পাল্টা জবাবে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। বিশেষ করে বৈরুতের দাহিয়েহ উপশহরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এই এলাকাটি হিজবুল্লাহর অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, দাহিয়েহ এলাকায় হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ও ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। তবে হামলায় হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নতুন করে বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। এতে করে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে এবং বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, বুধবার সকালে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে অথবা সেগুলো জনবসতিহীন এলাকায় পড়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো বলছে, ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিকেও লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে। কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশে মার্কিন ঘাঁটি থাকায় এসব স্থানে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সংঘাত এখন সীমিত পর্যায়ে নেই এবং তা ধীরে ধীরে আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সংখ্যা বাড়তে থাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে এবং বেসামরিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এদিকে সামরিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি। তিনি একই সঙ্গে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলার জন্য ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করার অনুমতি কোনো পক্ষকেই দেওয়া হবে না। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১১ মার্চ) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক ফোনালাপে এই অবস্থান ব্যক্ত করেন আল-সুদানি। ফোনালাপের সময় ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী আরও সতর্ক করে বলেন, ইরাককে লক্ষ্য করে যেকোনো ধরনের হামলা দেশের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের পর থেকেই ইরাক তার আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ কতদিন চলবে তা তিনি এখনও নির্ধারণ করতে পারছেন না। বুধবার তিনি রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং বৈঠকে এই তথ্য জানিয়েছেন। নেতানিয়াহু বৈঠকে বলেন, এখনো অনেক লক্ষ্যবস্তু রয়েছে। আমাদের গতিশীলতা অসাধারণ এবং আমরা সময়ের চেয়ে এগিয়ে আছি। তবে যুদ্ধ কতদিন চলবে সেটি আমি আপনাদের বলতে পারব না। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করেছেন, আজ রাতের মধ্যে ইসরায়েলজুড়ে বিস্তৃত ও বড় হামলার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে হিজবুল্লাহ বিপুল রকেট নিক্ষেপ করতে পারে। ইতিমধ্যেই ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে একসঙ্গে প্রায় ১০০টি রকেট নিক্ষেপ করেছে হিজবুল্লাহ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সামরিক মোকাবিলা দীর্ঘায়িত হতে পারে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। দেশটির শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে এই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে একসঙ্গে প্রায় ১০০টি রকেট নিক্ষেপ করেছে। এই হামলার পরপরই পাল্টা জবাবে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। বিশেষ করে বৈরুতের দাহিয়েহ উপশহরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এই এলাকাটি হিজবুল্লাহর অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, দাহিয়েহ এলাকায় হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ও ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। তবে হামলায় হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
ওমান উপকূলে হরমুজ প্রণালীতে একটি থাই বাণিজ্যিক জাহাজে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওমান উপকূল থেকে প্রায় ১৩ নটিক্যাল মাইল দূরে সংঘটিত এই হামলায় জাহাজটি মারাত্মক সংকটে পড়লে ওমানের রাজকীয় নৌবাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে ২০ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা (ওএনএ) জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত সকল নাবিকই থাইল্যান্ডের নাগরিক। হামলার ফলে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা ওমান নৌবাহিনীর নিরাপত্তায় রয়েছে। ঠিক কী কারণে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রসীমায় এমন হামলার ঘটনায় ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।