ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুখ খুলেছেন মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। বৃহস্পতিবারের এই ব্রিফিংয়ে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার আসামিদের হস্তান্তর, ডিজিএফআই প্রধানের ভারত সফর এবং বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের বর্তমান অবস্থান উঠে আসে। হাদি হত্যা মামলার আসামিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো কিংবা বাংলাদেশি তদন্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া সংক্রান্ত প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান জয়সওয়াল। তিনি জানান, এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইতোমধ্যে যে বিবৃতি দিয়েছে, তার বাইরে নতুন করে বলার কিছু নেই। অর্থাৎ, বিষয়টি বর্তমানে আইনি বা রাজ্য সরকারের প্রক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। এদিকে, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) প্রধানের ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেন যে, তিনি ভারতে এসেছিলেন। রাইসিনা ডায়ালগের ফাঁকে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ বা আলোচনা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক তথ্য উঠে এসেছে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ভারত থেকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের যে অনুরোধ জানিয়েছে, তা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে মোদী সরকার। জয়সওয়াল জানান, বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ একই ধরণের অনুরোধ করেছে। ভারতের নিজস্ব চাহিদা এবং শোধনাগারের সক্ষমতা যাচাই করে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০০৭ সাল থেকে নুমালিগড় শোধনাগার হয়ে সড়ক, রেল ও পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। ২০১৭ সালের দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ধারাবাহিকতায় এই সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ভারত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। গত বুধবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এবং বাংলাদেশের জ্বালানি মন্ত্রীর বৈঠকেও এই সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম বক্তৃতায় তিনি এ ঘোষণা দেন। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ইতিমধ্যে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বক্তৃতায় মোজতবা খামেনি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শত্রুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি বন্ধ রাখা অব্যাহত থাকবে। ইরানের পাশে ইয়েমেন ও ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী খামেনি বলেন, হুতি বিদ্রোহী–সহ ইয়েমেনের মিত্র গোষ্ঠীগুলোও তাদের ‘দায়িত্ব পালন করবে’। পাশাপাশি ইরাক–এর বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীও ইরানকে সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে উল্লেখ করেন তিনি। বক্তৃতায় ইরানের সামরিক বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, হামলার মুখেও সেনাবাহিনী দেশকে পরাধীনতা ও বিভক্তির হাত থেকে রক্ষা করেছে। তিনি বলেন, “দেশ যখন চাপের মুখে এবং আক্রান্ত, তখন যারা সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, সেই যোদ্ধাদের আমি ধন্যবাদ জানাই।” নতুন সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, “আমরা আমাদের শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেব।” মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা অব্যাহত থাকবে মোজতবা খামেনি বলেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে কেবল মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হচ্ছে এবং এই হামলা চলতে থাকবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করে। প্রথম দিনের হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপর ৮ মার্চ তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। সূত্র: Al Jazeera
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়। বৃহস্পতিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social–এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে দেশটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারে। তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরান–কে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। তাঁর মতে, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং জ্বালানি বাজার নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্র: Al Jazeera
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় এক পুলিশ সদস্য নিহতের ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত জানান। আদালত সূত্রে জানা গেছে, জালাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলাটি গ্রহণের আবেদন জানিয়েছিলেন। অভিযোগপত্রে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদকে প্রধান আসামি এবং আব্দুল কাদেরকে ২ নম্বর আসামিসহ মোট ৪২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট নথিপত্র পর্যালোচনা ও শুনানি শেষে অভিযোগটি আমলে নেওয়ার মতো কোনো উপাদান না পেয়ে তা খারিজ করে দেন। মামলায় উল্লেখযোগ্য অন্যান্য আসামিদের মধ্যে ছিলেন আবু বকর মজুমদার, আব্দুল হান্নান মাসুদ, আদনান আবির, জামান মৃধা, রিফাত রশিদ ও হাসিব আল ইসলাম। এদিকে মামলার আবেদনের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে ২ নম্বর আসামি আব্দুল কাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, বিগত সরকারের আমলেও তিনি একইরকম মামলার আসামি হয়ে জেল খেটেছেন। তবে বর্তমান সময়ে এমন অভিযোগে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে নির্বাচনের প্রস্তুতির লক্ষ্যে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সরকারি হিসেবে ৮৪৪ জন এবং জাতিসংঘের হিসেবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল, যার মধ্যে পুলিশ সদস্য নিহতের ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়। বৃহস্পতিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social–এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে দেশটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারে। তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরান–কে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। তাঁর মতে, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং জ্বালানি বাজার নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্র: Al Jazeera
হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম বক্তৃতায় তিনি এ ঘোষণা দেন। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ইতিমধ্যে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বক্তৃতায় মোজতবা খামেনি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শত্রুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি বন্ধ রাখা অব্যাহত থাকবে। ইরানের পাশে ইয়েমেন ও ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী খামেনি বলেন, হুতি বিদ্রোহী–সহ ইয়েমেনের মিত্র গোষ্ঠীগুলোও তাদের ‘দায়িত্ব পালন করবে’। পাশাপাশি ইরাক–এর বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীও ইরানকে সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে উল্লেখ করেন তিনি। বক্তৃতায় ইরানের সামরিক বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, হামলার মুখেও সেনাবাহিনী দেশকে পরাধীনতা ও বিভক্তির হাত থেকে রক্ষা করেছে। তিনি বলেন, “দেশ যখন চাপের মুখে এবং আক্রান্ত, তখন যারা সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, সেই যোদ্ধাদের আমি ধন্যবাদ জানাই।” নতুন সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, “আমরা আমাদের শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেব।” মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা অব্যাহত থাকবে মোজতবা খামেনি বলেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে কেবল মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হচ্ছে এবং এই হামলা চলতে থাকবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করে। প্রথম দিনের হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপর ৮ মার্চ তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। সূত্র: Al Jazeera
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানি নিরাপত্তার শঙ্কা বাড়ছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এলো প্রতিবেশী দেশ ভারত। বাংলাদেশে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের জন্য ঢাকা যে অনুরোধ জানিয়েছিল, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপও একই ধরনের অনুরোধ করেছে। বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং শোধনাগারগুলোর সক্ষমতা যাচাই করে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভারত ও বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সহযোগিতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জয়সওয়াল বলেন, ২০০৭ সাল থেকে ভারতের নুমালিগড় শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে দুই দেশের মধ্যে হওয়া আনুষ্ঠানিক চুক্তির অধীনে বর্তমানে সড়ক, রেল ও পাইপলাইনের মাধ্যমে এই সরবরাহ প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই বৈঠকেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জ্বালানির চাহিদা তুলে ধরা হয়। ভারতের এই ইতিবাচক সাড়া এ অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুখ খুলেছেন মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। বৃহস্পতিবারের এই ব্রিফিংয়ে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার আসামিদের হস্তান্তর, ডিজিএফআই প্রধানের ভারত সফর এবং বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের বর্তমান অবস্থান উঠে আসে। হাদি হত্যা মামলার আসামিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো কিংবা বাংলাদেশি তদন্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া সংক্রান্ত প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান জয়সওয়াল। তিনি জানান, এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইতোমধ্যে যে বিবৃতি দিয়েছে, তার বাইরে নতুন করে বলার কিছু নেই। অর্থাৎ, বিষয়টি বর্তমানে আইনি বা রাজ্য সরকারের প্রক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। এদিকে, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) প্রধানের ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেন যে, তিনি ভারতে এসেছিলেন। রাইসিনা ডায়ালগের ফাঁকে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ বা আলোচনা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক তথ্য উঠে এসেছে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ভারত থেকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের যে অনুরোধ জানিয়েছে, তা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে মোদী সরকার। জয়সওয়াল জানান, বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ একই ধরণের অনুরোধ করেছে। ভারতের নিজস্ব চাহিদা এবং শোধনাগারের সক্ষমতা যাচাই করে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০০৭ সাল থেকে নুমালিগড় শোধনাগার হয়ে সড়ক, রেল ও পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। ২০১৭ সালের দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ধারাবাহিকতায় এই সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ভারত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। গত বুধবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এবং বাংলাদেশের জ্বালানি মন্ত্রীর বৈঠকেও এই সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় এক পুলিশ সদস্য নিহতের ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত জানান। আদালত সূত্রে জানা গেছে, জালাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলাটি গ্রহণের আবেদন জানিয়েছিলেন। অভিযোগপত্রে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদকে প্রধান আসামি এবং আব্দুল কাদেরকে ২ নম্বর আসামিসহ মোট ৪২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট নথিপত্র পর্যালোচনা ও শুনানি শেষে অভিযোগটি আমলে নেওয়ার মতো কোনো উপাদান না পেয়ে তা খারিজ করে দেন। মামলায় উল্লেখযোগ্য অন্যান্য আসামিদের মধ্যে ছিলেন আবু বকর মজুমদার, আব্দুল হান্নান মাসুদ, আদনান আবির, জামান মৃধা, রিফাত রশিদ ও হাসিব আল ইসলাম। এদিকে মামলার আবেদনের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে ২ নম্বর আসামি আব্দুল কাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, বিগত সরকারের আমলেও তিনি একইরকম মামলার আসামি হয়ে জেল খেটেছেন। তবে বর্তমান সময়ে এমন অভিযোগে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে নির্বাচনের প্রস্তুতির লক্ষ্যে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সরকারি হিসেবে ৮৪৪ জন এবং জাতিসংঘের হিসেবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল, যার মধ্যে পুলিশ সদস্য নিহতের ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
রাঙামাটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। জেলা কমিটির যুগ্ম-সদস্য সচিবসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর দলত্যাগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খোদ জেলা কমিটির আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার বিকেলে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে এক দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান। এর আগে গত ৫ মার্চ জেলা কমিটির যুগ্ম-সদস্য সচিব উজ্জ্বল চাকমাসহ সাতজন এবং ৯ মার্চ জুরাছড়ি উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির ৮৪ জন নেতাকর্মী একযোগে পদত্যাগ করেছিলেন। নেতাকর্মীদের এই ধারাবাহিক প্রস্থানের ধারায় এবার শীর্ষ নেতার সরে দাঁড়ানো দলটির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে বিপিন জ্যোতি চাকমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে আসছিলেন। তবে সাংগঠনিক পর্যায়ে ধারাবাহিক অসহযোগিতা, কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে সমন্বয়ের অভাব এবং দলের ভেতরে উপদলীয় কোন্দল তৈরি হওয়ায় তার পক্ষে দায়িত্ব পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, ১১ মার্চ থেকেই তিনি সকল দলীয় কার্যক্রম থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে বিপিন জ্যোতি চাকমা জানান, তিনি এখনো দাপ্তরিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেননি, তবে আজকের মধ্যেই তা কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেবেন। এদিকে জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব এম শোয়াইব বিষয়টিকে 'ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত' হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, এনসিপির পার্বত্য অঞ্চলের সংগঠক মনজিলা সুলতানা ঝুমা জানান, বিপিন জ্যোতি চাকমা এর আগেও একবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ফিরে এসেছিলেন। তিনি কোনো আঞ্চলিক বা রাজনৈতিক চাপে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কি না, তা খতিয়ে দেখে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুখ খুলেছেন মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। বৃহস্পতিবারের এই ব্রিফিংয়ে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার আসামিদের হস্তান্তর, ডিজিএফআই প্রধানের ভারত সফর এবং বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের বর্তমান অবস্থান উঠে আসে। হাদি হত্যা মামলার আসামিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো কিংবা বাংলাদেশি তদন্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া সংক্রান্ত প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান জয়সওয়াল। তিনি জানান, এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইতোমধ্যে যে বিবৃতি দিয়েছে, তার বাইরে নতুন করে বলার কিছু নেই। অর্থাৎ, বিষয়টি বর্তমানে আইনি বা রাজ্য সরকারের প্রক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। এদিকে, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) প্রধানের ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেন যে, তিনি ভারতে এসেছিলেন। রাইসিনা ডায়ালগের ফাঁকে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ বা আলোচনা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক তথ্য উঠে এসেছে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ভারত থেকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের যে অনুরোধ জানিয়েছে, তা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে মোদী সরকার। জয়সওয়াল জানান, বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ একই ধরণের অনুরোধ করেছে। ভারতের নিজস্ব চাহিদা এবং শোধনাগারের সক্ষমতা যাচাই করে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০০৭ সাল থেকে নুমালিগড় শোধনাগার হয়ে সড়ক, রেল ও পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। ২০১৭ সালের দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ধারাবাহিকতায় এই সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ভারত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। গত বুধবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এবং বাংলাদেশের জ্বালানি মন্ত্রীর বৈঠকেও এই সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম বক্তৃতায় তিনি এ ঘোষণা দেন। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ইতিমধ্যে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বক্তৃতায় মোজতবা খামেনি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শত্রুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি বন্ধ রাখা অব্যাহত থাকবে। ইরানের পাশে ইয়েমেন ও ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী খামেনি বলেন, হুতি বিদ্রোহী–সহ ইয়েমেনের মিত্র গোষ্ঠীগুলোও তাদের ‘দায়িত্ব পালন করবে’। পাশাপাশি ইরাক–এর বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীও ইরানকে সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে উল্লেখ করেন তিনি। বক্তৃতায় ইরানের সামরিক বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, হামলার মুখেও সেনাবাহিনী দেশকে পরাধীনতা ও বিভক্তির হাত থেকে রক্ষা করেছে। তিনি বলেন, “দেশ যখন চাপের মুখে এবং আক্রান্ত, তখন যারা সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, সেই যোদ্ধাদের আমি ধন্যবাদ জানাই।” নতুন সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, “আমরা আমাদের শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেব।” মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা অব্যাহত থাকবে মোজতবা খামেনি বলেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে কেবল মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হচ্ছে এবং এই হামলা চলতে থাকবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করে। প্রথম দিনের হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপর ৮ মার্চ তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। সূত্র: Al Jazeera
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানি নিরাপত্তার শঙ্কা বাড়ছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এলো প্রতিবেশী দেশ ভারত। বাংলাদেশে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের জন্য ঢাকা যে অনুরোধ জানিয়েছিল, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপও একই ধরনের অনুরোধ করেছে। বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং শোধনাগারগুলোর সক্ষমতা যাচাই করে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভারত ও বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সহযোগিতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জয়সওয়াল বলেন, ২০০৭ সাল থেকে ভারতের নুমালিগড় শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে দুই দেশের মধ্যে হওয়া আনুষ্ঠানিক চুক্তির অধীনে বর্তমানে সড়ক, রেল ও পাইপলাইনের মাধ্যমে এই সরবরাহ প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই বৈঠকেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জ্বালানির চাহিদা তুলে ধরা হয়। ভারতের এই ইতিবাচক সাড়া এ অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রণতরীটির প্রধান লন্ড্রি স্পেস থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, আগুনের কারণ যুদ্ধ-সম্পর্কিত ছিল না এবং দ্রুতই তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজন নৌসেনা আহত হয়েছেন, তবে তাদের আঘাত প্রাণঘাতী নয় এবং বর্তমানে তারা স্থিতিশীল অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে জাহাজের প্রপালশন প্ল্যান্ট বা ইঞ্জিন রুমের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং রণতরীটি বর্তমানে সম্পূর্ণ সচল রয়েছে। প্রাথমিক আগুন নেভানো হলেও ক্রু সদস্যরা এখনও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও নিয়ন্ত্রণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া নেভাল সি সিস্টেমস কমান্ডের রিজিওনাল মেইনটেন্যান্স সেন্টার বহরটিকে প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জাহাজ পর্যবেক্ষকদের তথ্য মতে, অগ্নিকাণ্ডের সময় রণতরীটি সৌদি আরবের আল ওয়াজ উপকূলে লোহিত সাগরের উত্তরাঞ্চলে অবস্থান করছিল। ফোর্ড এবং এর তিনটি সহায়ক যুদ্ধজাহাজ—ইউএসএস মাহান, ইউএসএস বেইনব্রিজ ও ইউএসএস উইনস্টন এস. চার্চিল—গত সপ্তাহে সুয়েজ খাল অতিক্রম করেছিল। ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।