মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানি নিরাপত্তার শঙ্কা বাড়ছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এলো প্রতিবেশী দেশ ভারত। বাংলাদেশে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের জন্য ঢাকা যে অনুরোধ জানিয়েছিল, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপও একই ধরনের অনুরোধ করেছে। বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং শোধনাগারগুলোর সক্ষমতা যাচাই করে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভারত ও বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সহযোগিতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জয়সওয়াল বলেন, ২০০৭ সাল থেকে ভারতের নুমালিগড় শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে দুই দেশের মধ্যে হওয়া আনুষ্ঠানিক চুক্তির অধীনে বর্তমানে সড়ক, রেল ও পাইপলাইনের মাধ্যমে এই সরবরাহ প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই বৈঠকেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জ্বালানির চাহিদা তুলে ধরা হয়। ভারতের এই ইতিবাচক সাড়া এ অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির–এর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেছেন, শহীদদের রক্তের সিঁড়ি বেয়েই সংগঠনটি তার লক্ষ্যপূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বুধবার (১১ মার্চ) বিকেল তিনটায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়–এর বুদ্ধিজীবী চত্বরে ছাত্রশিবিরের শহীদ দিবস উপলক্ষে রাবি শাখা আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, ১১ মার্চ ইসলামী ছাত্রশিবির ঘোষিত শহীদ দিবস হিসেবে প্রতিবছর পালন করা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৮২ সালের এই দিনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার চত্বরে সংগঠনের নবাগত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় ছাত্রশিবিরের কয়েকজন কর্মী নিহত হন। তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনায় সংগঠনের কর্মী সাব্বির, হামিদ, আইয়ুব ও জাব্বার শাহাদাত বরণ করেন। প্রতিষ্ঠার পর সাব্বিরকে ছাত্রশিবিরের প্রথম শহীদ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। সিবগাতুল্লাহ বলেন, ওই ঘটনার পর বিভিন্ন সময়ে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দাবি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত সংগঠনের ১৭ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ১৯৮২ সালের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার হওয়া প্রয়োজন। এ সময় তিনি হামলার নেতৃত্বে ছিলেন বলে অভিযোগ করা ফজলে হাসান বাদশাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান। রাবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হাফেজ মেহেদী হাসান–এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের রাবি শাখার সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবুল হাসেম, রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. মো. জাহাঙ্গীর, শহীদ সাব্বির হোসেনের ভাই মো. আকরাম, রাবি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি হাফেজ মো. নুরুজ্জামান এবং রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ডা. সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের অন্যান্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় নৌবাহিনীর একটি বাস ও একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই শিশুসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে আটজনের মরদেহ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অন্য চারজনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে চারজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মেহনাজ মোশাররফ জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই শিশুসহ আটজনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ জানান, নৌবাহিনীর বাসটি মোংলা থেকে ছেড়ে আসছিল। বেলাই ব্রিজ এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন নারীসহ চারজনের মৃত্যু হয়। তিনি আরও জানান, স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। নিহতরা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিলেন। মাইক্রোবাসটি খুলনা থেকে মোংলার দিকে যাচ্ছিল। পুলিশ জানায়, নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। মরদেহগুলো রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রণতরীটির প্রধান লন্ড্রি স্পেস থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, আগুনের কারণ যুদ্ধ-সম্পর্কিত ছিল না এবং দ্রুতই তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজন নৌসেনা আহত হয়েছেন, তবে তাদের আঘাত প্রাণঘাতী নয় এবং বর্তমানে তারা স্থিতিশীল অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে জাহাজের প্রপালশন প্ল্যান্ট বা ইঞ্জিন রুমের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং রণতরীটি বর্তমানে সম্পূর্ণ সচল রয়েছে। প্রাথমিক আগুন নেভানো হলেও ক্রু সদস্যরা এখনও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও নিয়ন্ত্রণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া নেভাল সি সিস্টেমস কমান্ডের রিজিওনাল মেইনটেন্যান্স সেন্টার বহরটিকে প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জাহাজ পর্যবেক্ষকদের তথ্য মতে, অগ্নিকাণ্ডের সময় রণতরীটি সৌদি আরবের আল ওয়াজ উপকূলে লোহিত সাগরের উত্তরাঞ্চলে অবস্থান করছিল। ফোর্ড এবং এর তিনটি সহায়ক যুদ্ধজাহাজ—ইউএসএস মাহান, ইউএসএস বেইনব্রিজ ও ইউএসএস উইনস্টন এস. চার্চিল—গত সপ্তাহে সুয়েজ খাল অতিক্রম করেছিল। ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
লোহিত সাগরে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর সর্বাধুনিক এবং বিশ্বের বৃহত্তম পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ (USS Gerald R. Ford)-এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে দুই জন নৌ-সেনা আহত হয়েছেন। ইউএস নেভাল ফোর্সেস সেন্ট্রাল কমান্ড (৫ম ফ্লিট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতিতে জানায়, ১২ মার্চ রণতরীটির প্রধান লন্ড্রি রুমে (কাপড় ধোয়ার স্থান) আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন জাহাজের কর্মীরা। নৌবাহিনী স্পষ্ট করেছে যে, এই অগ্নিকাণ্ড কোনো যুদ্ধকালীন হামলা বা শত্রুদেশের আক্রমণের কারণে ঘটেনি। এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, "আগুনের কারণ যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট নয় এবং এটি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জাহাজের প্রপালশন প্ল্যান্ট (ইঞ্জিন কক্ষ) বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো যন্ত্রাংশের ক্ষতি হয়নি।" আহত দুই নৌ-সেনার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তারা জাহাজে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের আঘাত গুরুতর নয় বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র সমর্থনে লোহিত সাগরে মোতায়েন রয়েছে ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও রণতরীটি বর্তমানে সম্পূর্ণ সচল (Fully Operational) রয়েছে এবং এর সামরিক কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি বলে পেন্টাগন জানিয়েছে। ২০১৭ সালে কমিশন লাভ করা এই রণতরীটি মার্কিন নৌবাহিনীর প্রযুক্তির এক অনন্য নিদর্শন। প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই জাহাজটি বর্তমানে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। ঘটনার বিস্তারিত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন নৌ কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে দেশটি "প্রচুর অর্থ উপার্জন" করে। তবে এই আর্থিক লাভের চেয়েও বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাকেই নিজের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন তিনি। মেরিল্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প সরাসরি ইরানকে "শয়তান সাম্রাজ্য" হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য তথা সমগ্র বিশ্বের স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক শক্তিতে সমৃদ্ধ হতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই তার প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। আর্থিক মুনাফার চেয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সাম্প্রতিক কঠোর বক্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই ট্রাম্পের এমন কড়া বার্তা ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। ট্রাম্পের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য বজায় রাখা এবং ইরানের ওপর চাপ বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। জ্বালানি বাজারের অস্থিরতাকে পাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন সরাসরি সামরিক ও কৌশলগত নিরাপত্তার দিকেই বেশি নজর দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানি নিরাপত্তার শঙ্কা বাড়ছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এলো প্রতিবেশী দেশ ভারত। বাংলাদেশে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের জন্য ঢাকা যে অনুরোধ জানিয়েছিল, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপও একই ধরনের অনুরোধ করেছে। বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং শোধনাগারগুলোর সক্ষমতা যাচাই করে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভারত ও বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সহযোগিতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জয়সওয়াল বলেন, ২০০৭ সাল থেকে ভারতের নুমালিগড় শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে দুই দেশের মধ্যে হওয়া আনুষ্ঠানিক চুক্তির অধীনে বর্তমানে সড়ক, রেল ও পাইপলাইনের মাধ্যমে এই সরবরাহ প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই বৈঠকেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জ্বালানির চাহিদা তুলে ধরা হয়। ভারতের এই ইতিবাচক সাড়া এ অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদের প্রথম অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে অভিষিক্ত হন। সংবিধানের ৭৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক। প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে একক প্রার্থী হিসেবে তারা নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য যে, সংসদ ভেঙে গেলেও নতুন স্পিকার কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বিদায়ী স্পিকার পদে বহাল থাকেন, যা এই পদের অনন্য সাংবিধানিক বৈশিষ্ট্য। স্পিকার কি এমপি বা মন্ত্রী থাকতে পারেন? এই প্রশ্নটি জনমনে প্রায়ই দেখা দেয়। সংবিধান অনুযায়ী এর ব্যাখ্যা অত্যন্ত স্পষ্ট: সাংসদ পদ: স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার হতে হলে তাকে অবশ্যই আগে একজন সংসদ সদস্য হতে হবে। অর্থাৎ, তারা একই সাথে স্পিকার এবং এমপি। মন্ত্রী পদ: সংবিধানের ১৪৭(৩) ও ৭৪(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার কোনো 'লাভজনক পদ' বা নির্বাহী বিভাগের (মন্ত্রিত্ব) দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। তাৎক্ষণিক প্রভাব: মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ এতদিন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে শপথ নেওয়ার সাথে সাথেই তাদের মন্ত্রী পদটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়ে গেছে। সংসদের অভিভাবক হিসেবে স্পিকারের হাতে রয়েছে অপরিসীম ক্ষমতা। তিনি সভার শৃঙ্খলা রক্ষা করেন এবং বিতর্ক পরিচালনা করেন। সাধারণ অবস্থায় তিনি ভোট দেন না, তবে কোনো বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের ভোট সমান হয়ে গেলে তিনি জয়-পরাজয় নির্ধারণী ‘কাস্টিং ভোট’ প্রদান করেন। যদিও তারা দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত হন, তবে চেয়ারে বসার পর তারা দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে দায়বদ্ধ। মেজর হাফিজের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ‘বীর বিক্রম’ খেতাবধারী। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি পাকিস্তান ফুটবল দলের অধিনায়ক এবং টানা তিনবার পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানব ছিলেন। তার দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা সংসদ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় নৌবাহিনীর একটি বাস ও একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই শিশুসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে আটজনের মরদেহ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অন্য চারজনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে চারজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মেহনাজ মোশাররফ জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই শিশুসহ আটজনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ জানান, নৌবাহিনীর বাসটি মোংলা থেকে ছেড়ে আসছিল। বেলাই ব্রিজ এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন নারীসহ চারজনের মৃত্যু হয়। তিনি আরও জানান, স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। নিহতরা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিলেন। মাইক্রোবাসটি খুলনা থেকে মোংলার দিকে যাচ্ছিল। পুলিশ জানায়, নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। মরদেহগুলো রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রাঙামাটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। জেলা কমিটির যুগ্ম-সদস্য সচিবসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর দলত্যাগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খোদ জেলা কমিটির আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার বিকেলে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে এক দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান। এর আগে গত ৫ মার্চ জেলা কমিটির যুগ্ম-সদস্য সচিব উজ্জ্বল চাকমাসহ সাতজন এবং ৯ মার্চ জুরাছড়ি উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির ৮৪ জন নেতাকর্মী একযোগে পদত্যাগ করেছিলেন। নেতাকর্মীদের এই ধারাবাহিক প্রস্থানের ধারায় এবার শীর্ষ নেতার সরে দাঁড়ানো দলটির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে বিপিন জ্যোতি চাকমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে আসছিলেন। তবে সাংগঠনিক পর্যায়ে ধারাবাহিক অসহযোগিতা, কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে সমন্বয়ের অভাব এবং দলের ভেতরে উপদলীয় কোন্দল তৈরি হওয়ায় তার পক্ষে দায়িত্ব পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, ১১ মার্চ থেকেই তিনি সকল দলীয় কার্যক্রম থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে বিপিন জ্যোতি চাকমা জানান, তিনি এখনো দাপ্তরিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেননি, তবে আজকের মধ্যেই তা কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেবেন। এদিকে জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব এম শোয়াইব বিষয়টিকে 'ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত' হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, এনসিপির পার্বত্য অঞ্চলের সংগঠক মনজিলা সুলতানা ঝুমা জানান, বিপিন জ্যোতি চাকমা এর আগেও একবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ফিরে এসেছিলেন। তিনি কোনো আঞ্চলিক বা রাজনৈতিক চাপে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কি না, তা খতিয়ে দেখে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানি নিরাপত্তার শঙ্কা বাড়ছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এলো প্রতিবেশী দেশ ভারত। বাংলাদেশে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের জন্য ঢাকা যে অনুরোধ জানিয়েছিল, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপও একই ধরনের অনুরোধ করেছে। বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং শোধনাগারগুলোর সক্ষমতা যাচাই করে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভারত ও বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সহযোগিতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জয়সওয়াল বলেন, ২০০৭ সাল থেকে ভারতের নুমালিগড় শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে দুই দেশের মধ্যে হওয়া আনুষ্ঠানিক চুক্তির অধীনে বর্তমানে সড়ক, রেল ও পাইপলাইনের মাধ্যমে এই সরবরাহ প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই বৈঠকেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জ্বালানির চাহিদা তুলে ধরা হয়। ভারতের এই ইতিবাচক সাড়া এ অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রণতরীটির প্রধান লন্ড্রি স্পেস থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, আগুনের কারণ যুদ্ধ-সম্পর্কিত ছিল না এবং দ্রুতই তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজন নৌসেনা আহত হয়েছেন, তবে তাদের আঘাত প্রাণঘাতী নয় এবং বর্তমানে তারা স্থিতিশীল অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে জাহাজের প্রপালশন প্ল্যান্ট বা ইঞ্জিন রুমের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং রণতরীটি বর্তমানে সম্পূর্ণ সচল রয়েছে। প্রাথমিক আগুন নেভানো হলেও ক্রু সদস্যরা এখনও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও নিয়ন্ত্রণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া নেভাল সি সিস্টেমস কমান্ডের রিজিওনাল মেইনটেন্যান্স সেন্টার বহরটিকে প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জাহাজ পর্যবেক্ষকদের তথ্য মতে, অগ্নিকাণ্ডের সময় রণতরীটি সৌদি আরবের আল ওয়াজ উপকূলে লোহিত সাগরের উত্তরাঞ্চলে অবস্থান করছিল। ফোর্ড এবং এর তিনটি সহায়ক যুদ্ধজাহাজ—ইউএসএস মাহান, ইউএসএস বেইনব্রিজ ও ইউএসএস উইনস্টন এস. চার্চিল—গত সপ্তাহে সুয়েজ খাল অতিক্রম করেছিল। ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
লোহিত সাগরে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর সর্বাধুনিক এবং বিশ্বের বৃহত্তম পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ (USS Gerald R. Ford)-এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে দুই জন নৌ-সেনা আহত হয়েছেন। ইউএস নেভাল ফোর্সেস সেন্ট্রাল কমান্ড (৫ম ফ্লিট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতিতে জানায়, ১২ মার্চ রণতরীটির প্রধান লন্ড্রি রুমে (কাপড় ধোয়ার স্থান) আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন জাহাজের কর্মীরা। নৌবাহিনী স্পষ্ট করেছে যে, এই অগ্নিকাণ্ড কোনো যুদ্ধকালীন হামলা বা শত্রুদেশের আক্রমণের কারণে ঘটেনি। এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, "আগুনের কারণ যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট নয় এবং এটি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জাহাজের প্রপালশন প্ল্যান্ট (ইঞ্জিন কক্ষ) বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো যন্ত্রাংশের ক্ষতি হয়নি।" আহত দুই নৌ-সেনার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তারা জাহাজে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের আঘাত গুরুতর নয় বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র সমর্থনে লোহিত সাগরে মোতায়েন রয়েছে ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও রণতরীটি বর্তমানে সম্পূর্ণ সচল (Fully Operational) রয়েছে এবং এর সামরিক কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি বলে পেন্টাগন জানিয়েছে। ২০১৭ সালে কমিশন লাভ করা এই রণতরীটি মার্কিন নৌবাহিনীর প্রযুক্তির এক অনন্য নিদর্শন। প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই জাহাজটি বর্তমানে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। ঘটনার বিস্তারিত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন নৌ কর্তৃপক্ষ।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ক্ষমতার রাজনীতি এবং ধর্মীয় আভিজাত্যের কেন্দ্রে থাকা একটি শব্দ হলো ‘আয়াতুল্লাহ’। আরবি এই শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো ‘আল্লাহর নিদর্শন’। শিয়া ইসলামে এটি এমন এক উচ্চতর ধর্মীয় পদবি, যা দশকের পর দশক ধরে ধর্মতত্ত্ব এবং ইসলামি আইনশাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জনকারী আলেমদের প্রদান করা হয়। তবে বর্তমান ইরানের প্রেক্ষাপটে এই পদবি কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের মাঝে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন হয়ে উঠেছে দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার প্রধান শর্ত। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, দেশের সর্বোচ্চ নেতা বা ‘সুপ্রিম লিডার’ হতে হলে প্রার্থীকে অবশ্যই একজন জ্যেষ্ঠ ইসলামি আইনবিদ বা মুজতাহিদ হতে হয়। সম্প্রতি মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের সূচনালগ্নে বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তার পুত্র মোজতাবা খামেনির নাম আলোচনায় আসে। এর আগে তাকে ‘হোজাতোলেসলাম’ (আয়াতুল্লাহর নিচের পদমর্যাদা) হিসেবে গণ্য করা হতো। তবে বর্তমানে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাকে ‘আয়াতুল্লাহ’ হিসেবে সম্বোধন করতে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মোজতাবার এই পদোন্নতি মূলত তাকে ধর্মীয় ও রাজনৈতিকভাবে উত্তরসূরি হিসেবে বৈধতা দেওয়ার একটি কৌশল। ১৯৮৯ সালেও যখন আলী খামেনেই দায়িত্ব নেন, তখনও অনেকটা একইভাবে তার ধর্মীয় পদমর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। মোজতাবা খামেনির কোনো নির্বাচিত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা এবং রেভল্যুশনারি গার্ডসের (IRGC) সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাকে ক্ষমতার দৌড়ে সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিতর্কিত প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।