মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন বাংলাদেশি হাফেজ ইব্রাহীম শেখ। বাংলাদেশি ইয়ুথ কমিউনিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় মোট ২৮টি দেশের প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের হাফেজরা। প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন মালয়েশিয়ার হাফেজ নূরুল আবছার এবং তৃতীয় স্থান পেয়েছেন থাইল্যান্ডের হাফেজ সায়েদুর রহমান। হাফেজ ইব্রাহীম বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা পরিচালিত মাদরাসা উম্মুল কুরার ছাত্র। সংস্থার মহাসচিব শায়েখ সাদ সাইফুল্লাহ মাদানী এই মাদরাসার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় কুয়ালালামপুরে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার দাতো ডা. হাসনিজাল হাসান। ইয়ুথ কমিউনিটির সভাপতি মোহাম্মদ রাজু মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের লেবার মিনিস্টার সিদ্দিকুর রহমান। এছাড়া সম্মাননা প্রদান করা হয় যমুনা টেলিভিশনের মালয়েশিয়া প্রতিনিধি মো. মনিরুজ্জামানকেও।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ–৪’-এর ৫৬তম দফায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, এ দফায় ইসরায়েলের কৌশলগত সামরিক অবকাঠামো, রাফায়েল ক্ষেপণাস্ত্র মজুত কেন্দ্র এবং কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অভিযান উৎসর্গ করা হয়েছে নিহত ইরানি সামরিক নেতা শহীদ কাসেম সোলেইমানি এবং দেশের সুরক্ষায় আত্মোৎসর্গকারী যোদ্ধাদের স্মরণে। খোররামশাহর–৪, এমাদ এবং গদরসহ আধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলের সাউদার্ন রিজিয়ন সাপোর্ট কমান্ড এবং উত্তর দখলকৃত অঞ্চলে রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে আঘাত হানা হয়েছে। আইআরজিসির দাবি, প্রতিটি লক্ষ্যবস্তু অত্যন্ত নির্ভুলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া ড্রোন ইউনিট ব্যবহার করে ইরবিলে অবস্থানরত কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের অভিযোগ, এই গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে মার্কিন ও ইসরায়েলি পক্ষ ইরানে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে, এবং এর প্রতিক্রিয়ায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে ট্রু প্রমিজ–৪-এর ৫৫তম দফায় ইরান ইসরায়েলি অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (আইএআই), সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমান ঘাঁতিতেও হামলা চালিয়েছিল। খাতাম আল-আমবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর জানায়, সাম্প্রতিক হামলার ফলে মার্কিন বিমান ঘাঁটিগুলোর ৮০ শতাংশেরও বেশি রাডার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অকেজো হয়ে গেছে। বিশেষ করে আল-ধাফরা ঘাঁটিতে বিস্ফোরণের কারণে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে। সূত্র: আল-মায়াদিন
সান্তোসের হয়ে রোববার (১৫ মার্চ) করিন্থিয়াসের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র ম্যাচে মাঠে নামলেও নেইমার জুনিয়র তার চেনা রূপে খেলতে পারেননি। পুরো ম্যাচে উপস্থিত থাকলেও ব্রাজিলিয়ান তারকা তার পরিচিত ছন্দে চোখে পড়েননি। চলতি মাসে ব্রাজিল জাতীয় দল দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি আজ সেই দলের ঘোষণার কথা ঘোষণা করবেন। তবে নিজে পারফরম্যান্স ও ফিটনেস নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন নেইমার। ম্যাচ শেষে তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় দলে ফিরতে ও বিশ্বকাপে খেলতে তাঁর প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি এখন তার নিয়ন্ত্রণে নেই। নেইমার বলেছেন, “আমি আবারও জাতীয় দলে ফিরতে চাই এবং বিশ্বকাপে খেলতে চাই। কিন্তু সত্যি বলতে, এটি এখন আর আমার হাতে নেই। আমি দলে থাকি বা না থাকি, ব্রাজিলের জন্য আমার সমর্থন সবসময় থাকবে।” কার্লো আনচেলত্তি আগে থেকেই জানিয়ে দিয়েছেন, শতভাগ ফিটনেস ছাড়া কাউকেই বিশ্বকাপের জন্য দলভুক্ত করা হবে না। ইনজুরির কারণে নেইমার গত ম্যাচে খেলতে পারেননি এবং সেই সময় গ্যালারিতে বসেই কোচের কাছ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। করিন্থিয়াসের বিপক্ষে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নেইমার ছিলেন নিষ্প্রভ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে চোটের পর থেকে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানো হয়নি নেইমারের। ক্লাবের হয়ে মাঠে ফিরে আসলেও মাঝেমধ্যে ছোটখাটো চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাঁকে। ডিসেম্বরে হাঁটুর অস্ত্রোপচার হওয়ায় তার খেলার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে। ভাস্কো দা গামার বিপক্ষে জোড়া গোল করলেও ধারাবাহিকতার অভাবে নেইমারের বিশ্বকাপের ভাগ্য এখন অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানোর অভিযোগে ৩৫ জনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। এতে ১৯ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এমিরেটস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং গুজব প্রতিরোধের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল-সামসি জানান, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনলাইনে কোনো ধরনের ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা রোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের কার্যক্রম তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম দলটি বাস্তব ঘটনার ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়েছে যা দেশের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। দ্বিতীয় দলটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পূর্ণ ভুয়া ভিডিও তৈরি ও প্রচার করেছে। তৃতীয় দলটি অনলাইনে শত্রুপক্ষের প্রশংসা করে বিভিন্ন তথ্য প্রচার করেছে। আমিরাত প্রশাসন জানিয়েছে, এই কার্যক্রম দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অভিযুক্তরা দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে, এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের এক বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ইরান থেকে ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যক্রম শুরু করেছে। পরিস্থিতির উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রে শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক ও সামরিক টানাপোড়েন। কয়েক দিনের সেই অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই শেষ পর্যন্ত নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে উঠে আসেন তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম The New York Times–এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাইরে থেকে বিষয়টি সহজ বা পূর্বনির্ধারিত মনে হলেও বাস্তবে ইরানের ক্ষমতার অন্দরমহলে চলেছে তীব্র প্রতিযোগিতা। নতুন নেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় আলেমদের পরিষদ, সামরিক নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়। উত্তরসূরি নির্বাচনে গোপন বৈঠক ইরানে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে ৮৮ সদস্যের আলেমদের পরিষদ Assembly of Experts–এর ওপর। পরিষদটি ৩ মার্চ একটি গোপন ভার্চুয়াল বৈঠকে বসে। নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রার্থী দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না পাওয়া পর্যন্ত ভোট চলার কথা। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলের হামলায় কুম শহরে পরিষদের সদর দপ্তরের আশপাশে ক্ষয়ক্ষতি হয়। ক্ষমতার লড়াই: কট্টরপন্থী বনাম মধ্যপন্থী নতুন নেতা নির্বাচনকে ঘিরে ইরানের ক্ষমতার ভেতরে দুটি বড় শিবির তৈরি হয়। কট্টরপন্থী শিবিরে ছিল ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের প্রভাবশালী জেনারেলরা। তারা আলি খামেনির নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষে ছিলেন এবং মোজতবা খামেনির পক্ষে অবস্থান নেন। অন্যদিকে মধ্যপন্থী শিবিরের নেতারা নতুন নেতৃত্ব এবং তুলনামূলক নমনীয় নীতির পক্ষে যুক্তি দেন। তারা সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এবং আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি হাসান খোমেনি–কে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে আনেন। তবে সামরিক নেতৃত্বের শক্ত অবস্থান এবং প্রতিশোধের রাজনীতির কারণে শেষ পর্যন্ত পরিষদের অধিকাংশ সদস্য এমন একজন নেতার পক্ষে মত দেন, যিনি কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে পারবেন। শেষ পর্যন্ত জয় মোজতবার প্রথম দফা ভোটেই মোজতবা খামেনি প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পান। পরে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কারণে তাঁর নাম ঘোষণা বিলম্বিত করা হয়। এ সময় মধ্যপন্থীরা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি। ৮ মার্চ অনুষ্ঠিত আরেকটি বৈঠকে চূড়ান্ত ভোট গ্রহণ করা হয়। সেখানে ৮৮ সদস্যের মধ্যে ৫৯ জন মোজতবা খামেনির পক্ষে ভোট দেন। ফলে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিয়ে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয় এবং দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব নতুন নেতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানোর অভিযোগে ৩৫ জনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। এতে ১৯ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এমিরেটস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং গুজব প্রতিরোধের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল-সামসি জানান, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনলাইনে কোনো ধরনের ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা রোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের কার্যক্রম তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম দলটি বাস্তব ঘটনার ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়েছে যা দেশের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। দ্বিতীয় দলটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পূর্ণ ভুয়া ভিডিও তৈরি ও প্রচার করেছে। তৃতীয় দলটি অনলাইনে শত্রুপক্ষের প্রশংসা করে বিভিন্ন তথ্য প্রচার করেছে। আমিরাত প্রশাসন জানিয়েছে, এই কার্যক্রম দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অভিযুক্তরা দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে, এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের এক বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ইরান থেকে ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যক্রম শুরু করেছে। পরিস্থিতির উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ–৪’-এর ৫৬তম দফায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, এ দফায় ইসরায়েলের কৌশলগত সামরিক অবকাঠামো, রাফায়েল ক্ষেপণাস্ত্র মজুত কেন্দ্র এবং কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অভিযান উৎসর্গ করা হয়েছে নিহত ইরানি সামরিক নেতা শহীদ কাসেম সোলেইমানি এবং দেশের সুরক্ষায় আত্মোৎসর্গকারী যোদ্ধাদের স্মরণে। খোররামশাহর–৪, এমাদ এবং গদরসহ আধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলের সাউদার্ন রিজিয়ন সাপোর্ট কমান্ড এবং উত্তর দখলকৃত অঞ্চলে রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে আঘাত হানা হয়েছে। আইআরজিসির দাবি, প্রতিটি লক্ষ্যবস্তু অত্যন্ত নির্ভুলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া ড্রোন ইউনিট ব্যবহার করে ইরবিলে অবস্থানরত কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের অভিযোগ, এই গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে মার্কিন ও ইসরায়েলি পক্ষ ইরানে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে, এবং এর প্রতিক্রিয়ায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে ট্রু প্রমিজ–৪-এর ৫৫তম দফায় ইরান ইসরায়েলি অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (আইএআই), সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমান ঘাঁতিতেও হামলা চালিয়েছিল। খাতাম আল-আমবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর জানায়, সাম্প্রতিক হামলার ফলে মার্কিন বিমান ঘাঁটিগুলোর ৮০ শতাংশেরও বেশি রাডার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অকেজো হয়ে গেছে। বিশেষ করে আল-ধাফরা ঘাঁটিতে বিস্ফোরণের কারণে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে। সূত্র: আল-মায়াদিন
মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন বাংলাদেশি হাফেজ ইব্রাহীম শেখ। বাংলাদেশি ইয়ুথ কমিউনিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় মোট ২৮টি দেশের প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের হাফেজরা। প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন মালয়েশিয়ার হাফেজ নূরুল আবছার এবং তৃতীয় স্থান পেয়েছেন থাইল্যান্ডের হাফেজ সায়েদুর রহমান। হাফেজ ইব্রাহীম বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা পরিচালিত মাদরাসা উম্মুল কুরার ছাত্র। সংস্থার মহাসচিব শায়েখ সাদ সাইফুল্লাহ মাদানী এই মাদরাসার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় কুয়ালালামপুরে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার দাতো ডা. হাসনিজাল হাসান। ইয়ুথ কমিউনিটির সভাপতি মোহাম্মদ রাজু মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের লেবার মিনিস্টার সিদ্দিকুর রহমান। এছাড়া সম্মাননা প্রদান করা হয় যমুনা টেলিভিশনের মালয়েশিয়া প্রতিনিধি মো. মনিরুজ্জামানকেও।
সরকারি দল ভুল পথে হাঁটলে তাদের সঠিক পথ দেখাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—এমন মন্তব্য করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সোমবার (১৫ মার্চ) রাজধানীতে এনসিপি মহানগর উত্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে এনসিপির লড়াই অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতি মানুষের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ইফতার মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের প্রক্রিয়া থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তার দাবি, বিএনপি গণভোটের পক্ষে কথা বললেও প্রধান সংস্কারগুলোর বিষয়ে স্পষ্ট সমর্থন দিচ্ছে না এবং নিজেদের মতো করে সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায়। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত এনসিপিকে ক্রমেই আরও শক্তভাবে বিরোধিতার অবস্থানে ঠেলে দিচ্ছে।
সান্তোসের হয়ে রোববার (১৫ মার্চ) করিন্থিয়াসের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র ম্যাচে মাঠে নামলেও নেইমার জুনিয়র তার চেনা রূপে খেলতে পারেননি। পুরো ম্যাচে উপস্থিত থাকলেও ব্রাজিলিয়ান তারকা তার পরিচিত ছন্দে চোখে পড়েননি। চলতি মাসে ব্রাজিল জাতীয় দল দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি আজ সেই দলের ঘোষণার কথা ঘোষণা করবেন। তবে নিজে পারফরম্যান্স ও ফিটনেস নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন নেইমার। ম্যাচ শেষে তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় দলে ফিরতে ও বিশ্বকাপে খেলতে তাঁর প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি এখন তার নিয়ন্ত্রণে নেই। নেইমার বলেছেন, “আমি আবারও জাতীয় দলে ফিরতে চাই এবং বিশ্বকাপে খেলতে চাই। কিন্তু সত্যি বলতে, এটি এখন আর আমার হাতে নেই। আমি দলে থাকি বা না থাকি, ব্রাজিলের জন্য আমার সমর্থন সবসময় থাকবে।” কার্লো আনচেলত্তি আগে থেকেই জানিয়ে দিয়েছেন, শতভাগ ফিটনেস ছাড়া কাউকেই বিশ্বকাপের জন্য দলভুক্ত করা হবে না। ইনজুরির কারণে নেইমার গত ম্যাচে খেলতে পারেননি এবং সেই সময় গ্যালারিতে বসেই কোচের কাছ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। করিন্থিয়াসের বিপক্ষে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নেইমার ছিলেন নিষ্প্রভ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে চোটের পর থেকে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানো হয়নি নেইমারের। ক্লাবের হয়ে মাঠে ফিরে আসলেও মাঝেমধ্যে ছোটখাটো চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাঁকে। ডিসেম্বরে হাঁটুর অস্ত্রোপচার হওয়ায় তার খেলার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে। ভাস্কো দা গামার বিপক্ষে জোড়া গোল করলেও ধারাবাহিকতার অভাবে নেইমারের বিশ্বকাপের ভাগ্য এখন অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ–৪’-এর ৫৬তম দফায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, এ দফায় ইসরায়েলের কৌশলগত সামরিক অবকাঠামো, রাফায়েল ক্ষেপণাস্ত্র মজুত কেন্দ্র এবং কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অভিযান উৎসর্গ করা হয়েছে নিহত ইরানি সামরিক নেতা শহীদ কাসেম সোলেইমানি এবং দেশের সুরক্ষায় আত্মোৎসর্গকারী যোদ্ধাদের স্মরণে। খোররামশাহর–৪, এমাদ এবং গদরসহ আধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলের সাউদার্ন রিজিয়ন সাপোর্ট কমান্ড এবং উত্তর দখলকৃত অঞ্চলে রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে আঘাত হানা হয়েছে। আইআরজিসির দাবি, প্রতিটি লক্ষ্যবস্তু অত্যন্ত নির্ভুলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া ড্রোন ইউনিট ব্যবহার করে ইরবিলে অবস্থানরত কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের অভিযোগ, এই গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে মার্কিন ও ইসরায়েলি পক্ষ ইরানে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে, এবং এর প্রতিক্রিয়ায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে ট্রু প্রমিজ–৪-এর ৫৫তম দফায় ইরান ইসরায়েলি অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (আইএআই), সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমান ঘাঁতিতেও হামলা চালিয়েছিল। খাতাম আল-আমবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর জানায়, সাম্প্রতিক হামলার ফলে মার্কিন বিমান ঘাঁটিগুলোর ৮০ শতাংশেরও বেশি রাডার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অকেজো হয়ে গেছে। বিশেষ করে আল-ধাফরা ঘাঁটিতে বিস্ফোরণের কারণে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে। সূত্র: আল-মায়াদিন
সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানোর অভিযোগে ৩৫ জনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। এতে ১৯ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এমিরেটস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং গুজব প্রতিরোধের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল-সামসি জানান, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনলাইনে কোনো ধরনের ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা রোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের কার্যক্রম তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম দলটি বাস্তব ঘটনার ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়েছে যা দেশের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। দ্বিতীয় দলটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পূর্ণ ভুয়া ভিডিও তৈরি ও প্রচার করেছে। তৃতীয় দলটি অনলাইনে শত্রুপক্ষের প্রশংসা করে বিভিন্ন তথ্য প্রচার করেছে। আমিরাত প্রশাসন জানিয়েছে, এই কার্যক্রম দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অভিযুক্তরা দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে, এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের এক বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ইরান থেকে ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যক্রম শুরু করেছে। পরিস্থিতির উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রে শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক ও সামরিক টানাপোড়েন। কয়েক দিনের সেই অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই শেষ পর্যন্ত নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে উঠে আসেন তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম The New York Times–এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাইরে থেকে বিষয়টি সহজ বা পূর্বনির্ধারিত মনে হলেও বাস্তবে ইরানের ক্ষমতার অন্দরমহলে চলেছে তীব্র প্রতিযোগিতা। নতুন নেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় আলেমদের পরিষদ, সামরিক নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়। উত্তরসূরি নির্বাচনে গোপন বৈঠক ইরানে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে ৮৮ সদস্যের আলেমদের পরিষদ Assembly of Experts–এর ওপর। পরিষদটি ৩ মার্চ একটি গোপন ভার্চুয়াল বৈঠকে বসে। নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রার্থী দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না পাওয়া পর্যন্ত ভোট চলার কথা। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলের হামলায় কুম শহরে পরিষদের সদর দপ্তরের আশপাশে ক্ষয়ক্ষতি হয়। ক্ষমতার লড়াই: কট্টরপন্থী বনাম মধ্যপন্থী নতুন নেতা নির্বাচনকে ঘিরে ইরানের ক্ষমতার ভেতরে দুটি বড় শিবির তৈরি হয়। কট্টরপন্থী শিবিরে ছিল ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের প্রভাবশালী জেনারেলরা। তারা আলি খামেনির নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষে ছিলেন এবং মোজতবা খামেনির পক্ষে অবস্থান নেন। অন্যদিকে মধ্যপন্থী শিবিরের নেতারা নতুন নেতৃত্ব এবং তুলনামূলক নমনীয় নীতির পক্ষে যুক্তি দেন। তারা সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এবং আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি হাসান খোমেনি–কে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে আনেন। তবে সামরিক নেতৃত্বের শক্ত অবস্থান এবং প্রতিশোধের রাজনীতির কারণে শেষ পর্যন্ত পরিষদের অধিকাংশ সদস্য এমন একজন নেতার পক্ষে মত দেন, যিনি কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে পারবেন। শেষ পর্যন্ত জয় মোজতবার প্রথম দফা ভোটেই মোজতবা খামেনি প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পান। পরে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কারণে তাঁর নাম ঘোষণা বিলম্বিত করা হয়। এ সময় মধ্যপন্থীরা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি। ৮ মার্চ অনুষ্ঠিত আরেকটি বৈঠকে চূড়ান্ত ভোট গ্রহণ করা হয়। সেখানে ৮৮ সদস্যের মধ্যে ৫৯ জন মোজতবা খামেনির পক্ষে ভোট দেন। ফলে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিয়ে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয় এবং দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব নতুন নেতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাঁর এই আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না ইউরোপের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও গ্রিস স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা এ ধরনের কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, যুক্তরাজ্য মধ্যপ্রাচ্যে বড় পরিসরের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চায় না। বর্তমানে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিজেদের ও মিত্রদের সুরক্ষা দেওয়াই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে পরিস্থিতির দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। স্টারমারের এই বক্তব্য আসে ট্রাম্পের এক সতর্কবার্তার পর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা মিত্ররা যদি চলমান সংঘাতে সামরিক সহায়তা না দেয়, তাহলে পশ্চিমা সামরিক জোট NATO-এর ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তবে ট্রাম্পের এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নয় জার্মানি। বার্লিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানকে ঘিরে যে সংঘাত তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে ন্যাটোর কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। জার্মান সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, জার্মানি এই যুদ্ধে অংশ নেবে না এবং সামরিক শক্তি ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি সচল রাখার কোনো অভিযানে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও তাদের নেই। একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে গ্রিসও। দেশটির সরকারের মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিস জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে কোনো সামরিক অভিযানে গ্রিস অংশ নেবে না। এভাবে ইউরোপের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের অনীহার কারণে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক উদ্যোগে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।