ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের কাছে কঠোর জবাবদিহি দাবি করেছেন সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের একটি নৌঘাঁটি ও সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই হামলায় ১৭৫ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মিনাব এলাকায় উদ্ধার হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষগুলো আমেরিকান প্রযুক্তিতে তৈরি 'টমাহক ক্রুজ মিসাইল'-এর বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছেন যে, ইরান নিজেই এই হামলা চালিয়েছে। বুধবার হেগসেথকে লেখা এক চিঠিতে সিনেটররা এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেছেন যে, যুদ্ধের ময়দানে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার যে নৈতিক দায়িত্ব, বর্তমান প্রশাসন তা অবজ্ঞা করছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা সচিবের সাম্প্রতিক মন্তব্য—যেখানে তিনি যুদ্ধের জন্য কোনো 'শর্ত' বা 'নিয়ম' না থাকার কথা বলেছিলেন—বেসামরিক মৃত্যুর ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পেন্টাগন এই ঘটনার তদন্ত শুরু করার কথা বললেও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি। এদিকে জাতিসংঘ এই হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা আগামী সপ্তাহের মধ্যে এই হামলার সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা স্পষ্ট করতে বলেছেন। রিপাবলিকানদের মধ্যে কেবল লুসিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সিনেটর জন কেনেডি এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একে একটি 'ভয়াবহ ভুল' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে পরপর তিনটি কার্গো জাহাজে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার পারস্য উপসাগরের এই কৌশলগত জলসীমায় অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে জাহাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে একটি জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে অধিকাংশ নাবিককে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি ও যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা (ইউকেএমটিও)-র তথ্যমতে, হামলার শিকার জাহাজগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘মায়ুরি নারি’ ওমানের ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অগ্নিকাণ্ডের শিকার এই জাহাজটির আগুন পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও পরিবেশগত বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে জাহাজটিতে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সংখ্যক নাবিক অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহ থেকে ২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে জাপানি কন্টেইনার জাহাজ ‘ওয়ান ম্যাজেস্টি’ এবং দুবাইয়ের উত্তর-পশ্চিমে মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী ‘স্টার গুইনেথ’ নামের আরও একটি জাহাজ অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই দুটি জাহাজের নাবিকরা সুরক্ষিত আছেন বলে নিশ্চিত করেছে মেরিটাইম ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ভ্যানগার্ড। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আঞ্চলিক উত্তেজনার পর এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক এই তিনটি হামলাসহ সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪টি জাহাজে হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হলো।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সংঘাতের জেরে ইরানে ভয়াবহ মানবিক সংকটের চিত্র ফুটে উঠেছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় ২০ হাজার বেসামরিক স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্যায়ন রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত মোট ১৯,৭৩৪টি বেসামরিক কাঠামো হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ির পাশাপাশি রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতের ওপর এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে সবথেকে বেশি। রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, ধ্বংসপ্রাপ্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার তালিকায় রয়েছে ৭৭টি মেডিকেল সেন্টার এবং ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এমনকি মানবিক সহায়তায় নিয়োজিত খোদ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নিজস্ব ১৬টি স্থাপনাও এই হামলার হাত থেকে রেহাই পায়নি। হাসপাতাল ও স্কুলগুলোর ওপর এমন আঘাত সাধারণ নাগরিকদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যুদ্ধের রূপরেখা নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে। চলমান সংঘাতের ১২তম দিনে এসে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে প্রথমবারের মতো গুরুত্ব পেয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বড় বড় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক এই যুদ্ধ এখন 'অবকাঠামোগত যুদ্ধে' রূপ নিচ্ছে। তালিকায় গুগল, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া, আইবিএম, ওরাকল এবং পালান্তির টেকনোলজিসের মতো প্রথম সারির টেক জায়ান্টদের নাম রয়েছে। বিশেষ করে দুবাই, আবু ধাবি এবং ইসরায়েলে অবস্থিত এসব প্রতিষ্ঠানের আঞ্চলিক অফিস, ক্লাউড সার্ভিস সেন্টার এবং ডাটা সেন্টারগুলোকে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইরান। ইতিমধ্যেই উত্তাপ ছড়িয়েছে রণক্ষেত্রে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, গত সপ্তাহে বাহরাইনে অবস্থিত অ্যামাজনের একটি ডাটা সেন্টারে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতেও অ্যামাজনের দুটি স্থাপনা ইরানি ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির ভয়াবহতা বাড়ছে প্রতিনিয়ত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানজুড়ে তীব্র বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, গত ১১ দিনে ১০ হাজারেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কুয়েত, কাতার এবং সৌদি আরবের আকাশসীমায় একাধিক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, মার্কিন বাহিনী ইরানের ১৬টি মাইন বসানোর জাহাজ ধ্বংস করেছে এবং প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত করার বিষয়ে ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটলেও আগামী জুনে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় কাটতে শুরু করেছে। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ব্যক্তিগতভাবে আশ্বস্ত করেছেন যে ইরানি জাতীয় ফুটবল দল যুক্তরাষ্ট্রে খেলার জন্য পূর্ণ স্বাগত। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে এক বিশেষ বৈঠকে ট্রাম্প ও ইনফান্তিনো বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এবং ইরানের কোয়ালিফিকেশন নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকের পর এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ফিফা প্রধান বলেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে ইরানি দল অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রে টুর্নামেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে।" তবে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট মেহেদি তাজ সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হতে পারে। তিনি বলেন, "হামলার এই ভয়াবহতার পর আমরা স্বাভাবিকভাবে বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে থাকব, এমনটা আশা করা কঠিন।" খেলোয়াড়দের আশ্বস্ত করা হলেও সমর্থকদের ভিসা পাওয়া নিয়ে জটিলতা এখনো কাটেনি। এর আগে ইরানি ভক্তদের ভিসা দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছিল, যা বড় ধরণের বিতর্কের জন্ম দেয়। এমনকি গত বছর ওয়াশিংটনে ড্র অনুষ্ঠানের সময়ও অর্ধেক প্রতিনিধি ভিসা না পাওয়ায় ইরান বয়কটের হুমকি দিয়েছিল। এত সব উত্তেজনার মাঝেও ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনো আশাবাদী। তিনি এই টুর্নামেন্টকে বিশ্ব ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, "বিশ্বকে একত্রিত করতে ফুটবলের চেয়ে বড় শক্তি আর নেই। এখন আগের চেয়েও বেশি আমাদের এমন একটি মিলনমেলা প্রয়োজন।"
ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের কাছে কঠোর জবাবদিহি দাবি করেছেন সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের একটি নৌঘাঁটি ও সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই হামলায় ১৭৫ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মিনাব এলাকায় উদ্ধার হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষগুলো আমেরিকান প্রযুক্তিতে তৈরি 'টমাহক ক্রুজ মিসাইল'-এর বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছেন যে, ইরান নিজেই এই হামলা চালিয়েছে। বুধবার হেগসেথকে লেখা এক চিঠিতে সিনেটররা এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেছেন যে, যুদ্ধের ময়দানে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার যে নৈতিক দায়িত্ব, বর্তমান প্রশাসন তা অবজ্ঞা করছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা সচিবের সাম্প্রতিক মন্তব্য—যেখানে তিনি যুদ্ধের জন্য কোনো 'শর্ত' বা 'নিয়ম' না থাকার কথা বলেছিলেন—বেসামরিক মৃত্যুর ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পেন্টাগন এই ঘটনার তদন্ত শুরু করার কথা বললেও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি। এদিকে জাতিসংঘ এই হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা আগামী সপ্তাহের মধ্যে এই হামলার সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা স্পষ্ট করতে বলেছেন। রিপাবলিকানদের মধ্যে কেবল লুসিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সিনেটর জন কেনেডি এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একে একটি 'ভয়াবহ ভুল' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সংঘাতের জেরে ইরানে ভয়াবহ মানবিক সংকটের চিত্র ফুটে উঠেছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় ২০ হাজার বেসামরিক স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্যায়ন রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত মোট ১৯,৭৩৪টি বেসামরিক কাঠামো হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ির পাশাপাশি রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতের ওপর এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে সবথেকে বেশি। রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, ধ্বংসপ্রাপ্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার তালিকায় রয়েছে ৭৭টি মেডিকেল সেন্টার এবং ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এমনকি মানবিক সহায়তায় নিয়োজিত খোদ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নিজস্ব ১৬টি স্থাপনাও এই হামলার হাত থেকে রেহাই পায়নি। হাসপাতাল ও স্কুলগুলোর ওপর এমন আঘাত সাধারণ নাগরিকদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত মার্কিন কনসুলেটে গভীর রাতে ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এই ঘটনাকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করে তদন্ত শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার ভোররাত ৪:৩০ মিনিটের দিকে টরন্টোর ডাউনটাউনে একটি সাদা এসইউভি (SUV) গাড়ি থেকে দুই ব্যক্তি নেমে মার্কিন কনসুলেট লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। টরন্টো পুলিশের ডেপুটি চিফ ফ্র্যাঙ্ক ব্যারেডো জানান, হামলার সময় ভবনের ভেতরে মানুষ উপস্থিত থাকলেও ভবনটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও শক্তিশালী হওয়ায় কেউ হতাহত হননি। হামলাকারীরা একাধিক রাউন্ড গুলি ছুড়েই ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। কানাডার ফেডারেল পুলিশের চিফ সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস লেদার জানিয়েছেন, এটি কোনো সন্ত্রাসী হামলা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহান্তে ইরান ও ইসরায়েল ইস্যুতে মার্কিন ভূমিকার প্রতিবাদে এই কনসুলেটের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছিল। এছাড়া সাম্প্রতিক দিনগুলোতে টরন্টোর তিনটি সিনাগগেও (ইহুদি উপাসনালয়) গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের দামামা এখন চরম সীমায়। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ১৬টি মাইন পাতা যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করার দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে হামলার ভিডিও প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, সমুদ্রপথে মাইন বসিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা রুখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, অকার্যকর মাইন বহনকারী ইরানি নৌযানগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, এটি তারই প্রতিফলন। তবে সংঘাত কেবল সমুদ্রেই সীমাবদ্ধ নেই; ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলছে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্রের লড়াই। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী তেহরানে নতুন করে বিমান হামলার ঘোষণা দিয়েছে। একইসাথে লেবাননের বৈরুতে হিজবুল্লাহর স্থাপনা লক্ষ্য করে চলছে ভয়াবহ গোলাবর্ষণ। অন্যদিকে, ইরান থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে বেজে উঠছে সাইরেন। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির দিকে ধেয়ে আসা ৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বেশ কিছু ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এই চরম উত্তেজনার মাঝে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ছেন হাজার হাজার বিদেশি নাগরিক। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিশ্চিত করেছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৩ হাজারেরও বেশি আমেরিকান ওই অঞ্চল ত্যাগ করেছেন। যুক্তরাজ্যও বিশেষ বিমানে তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে। যুদ্ধের এই ভয়াবহতা এখন তেহরান থেকে বৈরুত, আর রিয়াদ থেকে দুবাই—পুরো অঞ্চলকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে কাজের হিসাব তুলে ধরতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন কুমিল্লা–৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। ‘পুঁজি হলো সততা, ন্যায়-ইনসাফ-জনতা’ স্লোগান সামনে রেখে মঙ্গলবার মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে তিনি সংসদীয় এলাকায় বরাদ্দকৃত সরকারি সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজের বিস্তারিত তুলে ধরেন। ডিজিটাল বোর্ডে স্লাইড দেখিয়ে ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপিত এই লাইভটি অনেকটা শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের মতো হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তা ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। লাইভে তিনি দেবিদ্বার উপজেলায় চলমান সরকারি সেবা, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণের ওয়ার্ডভিত্তিক তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় ঠিকাদারদের উদ্দেশ্যে তিনি ‘কমিশনমুক্ত ব্যবসার নিশ্চয়তা’ দিয়ে দক্ষতা বাড়িয়ে দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করার আহ্বান জানান। লাইভের শেষ দিকে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের গুরুত্বও তুলে ধরেন। এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ‘জবাবদিহিতা’ নামে একটি বিশেষ ফেসবুক পেজ খোলার ঘোষণা দেন তিনি। সেখানে তার নির্বাচনী এলাকার সব উন্নয়ন কাজের নিয়মিত আপডেট এবং প্রতিটি প্রকল্পের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করা হবে বলে জানান। রাজনীতিতে আসার আগে হাসনাত আব্দুল্লাহ শিক্ষকতা ও কোচিং পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ শিক্ষার্থী থাকাকালে তিনি ‘স্কুল অব এক্সিলেন্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে পরিচিতি পান। সংসদ সদস্য হওয়ার পরও শিক্ষকসুলভ ভঙ্গিতে লাইভে এসে কাজের অগ্রগতি ব্যাখ্যা করাকে তিনি জনগণের সামনে স্বচ্ছতা বজায় রাখার কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে দেখছেন। লাইভে তিনি রাস্তাঘাট নির্মাণসহ মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে ধারণা দেন। পাশাপাশি এলাকার মানুষের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় নিয়েও দিকনির্দেশনা দেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একজন সংসদ সদস্যের সরাসরি জনগণের সামনে এসে এভাবে কাজের হিসাব দেওয়া এবং শিক্ষকতার দক্ষতা কাজে লাগিয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হাসনাত আব্দুল্লাহর এই ‘লাইভ ক্লাস’ উদ্যোগ ব্যাপকভাবে আলোচিত ও প্রশংসিত হচ্ছে।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের কাছে কঠোর জবাবদিহি দাবি করেছেন সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের একটি নৌঘাঁটি ও সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই হামলায় ১৭৫ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মিনাব এলাকায় উদ্ধার হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষগুলো আমেরিকান প্রযুক্তিতে তৈরি 'টমাহক ক্রুজ মিসাইল'-এর বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছেন যে, ইরান নিজেই এই হামলা চালিয়েছে। বুধবার হেগসেথকে লেখা এক চিঠিতে সিনেটররা এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেছেন যে, যুদ্ধের ময়দানে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার যে নৈতিক দায়িত্ব, বর্তমান প্রশাসন তা অবজ্ঞা করছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা সচিবের সাম্প্রতিক মন্তব্য—যেখানে তিনি যুদ্ধের জন্য কোনো 'শর্ত' বা 'নিয়ম' না থাকার কথা বলেছিলেন—বেসামরিক মৃত্যুর ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পেন্টাগন এই ঘটনার তদন্ত শুরু করার কথা বললেও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি। এদিকে জাতিসংঘ এই হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা আগামী সপ্তাহের মধ্যে এই হামলার সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা স্পষ্ট করতে বলেছেন। রিপাবলিকানদের মধ্যে কেবল লুসিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সিনেটর জন কেনেডি এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একে একটি 'ভয়াবহ ভুল' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে পরপর তিনটি কার্গো জাহাজে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার পারস্য উপসাগরের এই কৌশলগত জলসীমায় অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে জাহাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে একটি জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে অধিকাংশ নাবিককে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি ও যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা (ইউকেএমটিও)-র তথ্যমতে, হামলার শিকার জাহাজগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘মায়ুরি নারি’ ওমানের ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অগ্নিকাণ্ডের শিকার এই জাহাজটির আগুন পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও পরিবেশগত বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে জাহাজটিতে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সংখ্যক নাবিক অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহ থেকে ২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে জাপানি কন্টেইনার জাহাজ ‘ওয়ান ম্যাজেস্টি’ এবং দুবাইয়ের উত্তর-পশ্চিমে মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী ‘স্টার গুইনেথ’ নামের আরও একটি জাহাজ অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই দুটি জাহাজের নাবিকরা সুরক্ষিত আছেন বলে নিশ্চিত করেছে মেরিটাইম ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ভ্যানগার্ড। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আঞ্চলিক উত্তেজনার পর এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক এই তিনটি হামলাসহ সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪টি জাহাজে হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হলো।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সংঘাতের জেরে ইরানে ভয়াবহ মানবিক সংকটের চিত্র ফুটে উঠেছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় ২০ হাজার বেসামরিক স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্যায়ন রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত মোট ১৯,৭৩৪টি বেসামরিক কাঠামো হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ির পাশাপাশি রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতের ওপর এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে সবথেকে বেশি। রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, ধ্বংসপ্রাপ্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার তালিকায় রয়েছে ৭৭টি মেডিকেল সেন্টার এবং ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এমনকি মানবিক সহায়তায় নিয়োজিত খোদ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নিজস্ব ১৬টি স্থাপনাও এই হামলার হাত থেকে রেহাই পায়নি। হাসপাতাল ও স্কুলগুলোর ওপর এমন আঘাত সাধারণ নাগরিকদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যুদ্ধের রূপরেখা নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে। চলমান সংঘাতের ১২তম দিনে এসে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে প্রথমবারের মতো গুরুত্ব পেয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বড় বড় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক এই যুদ্ধ এখন 'অবকাঠামোগত যুদ্ধে' রূপ নিচ্ছে। তালিকায় গুগল, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া, আইবিএম, ওরাকল এবং পালান্তির টেকনোলজিসের মতো প্রথম সারির টেক জায়ান্টদের নাম রয়েছে। বিশেষ করে দুবাই, আবু ধাবি এবং ইসরায়েলে অবস্থিত এসব প্রতিষ্ঠানের আঞ্চলিক অফিস, ক্লাউড সার্ভিস সেন্টার এবং ডাটা সেন্টারগুলোকে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইরান। ইতিমধ্যেই উত্তাপ ছড়িয়েছে রণক্ষেত্রে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, গত সপ্তাহে বাহরাইনে অবস্থিত অ্যামাজনের একটি ডাটা সেন্টারে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতেও অ্যামাজনের দুটি স্থাপনা ইরানি ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির ভয়াবহতা বাড়ছে প্রতিনিয়ত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানজুড়ে তীব্র বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, গত ১১ দিনে ১০ হাজারেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কুয়েত, কাতার এবং সৌদি আরবের আকাশসীমায় একাধিক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, মার্কিন বাহিনী ইরানের ১৬টি মাইন বসানোর জাহাজ ধ্বংস করেছে এবং প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত করার বিষয়ে ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।