জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে। তবে এই অধ্যাদেশ পর্যালোচনার সময় ১৪ থেকে ১৫টি বিষয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী সরকারি দলের সঙ্গে একমত হয়নি এবং তারা নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) জমা দিয়েছে।
রোববার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে তৃতীয় দিনের মতো বৈঠক করে বিশেষ কমিটি। কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এতে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুব উদ্দিন, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, মো. মুজিবুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম খান ও জি এম নজরুল ইসলাম।
এছাড়া কমিটির আমন্ত্রণে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমানও বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য দেন বিশেষ কমিটির সদস্য ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, অধ্যাদেশ যাচাইয়ের সময় সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কিছু বিষয়ে পাস করানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু বিরোধী সদস্যরা ১৪-১৫টি বিষয়ে একমত হয়নি।
রফিকুল ইসলাম খান জানান, বিশেষ কমিটি বৈঠকে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার মতো সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সরকারি দল এগুলোকে দলীয়করণের চেষ্টা করছে। দুর্নীতি দমন কমিশন সম্পর্কেও একই পরিস্থিতি, যেখানে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে স্বাধীনতা সীমিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হয়েছে। সংবিধানে না থাকলে গণভোটের বৈধতা কীভাবে কার্যকর হবে?
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশের প্রতিটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অনেকগুলো অধ্যাদেশ সেভাবেই পাস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সংশোধিত আকারে বিল আনা হবে। কিছু অধ্যাদেশের জন্য পরবর্তী অধিবেশনে বিল আকারে প্রণয়ন করা হবে। তিনি আরও জানান, নোট অব ডিসেন্ট যথাযথভাবে প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হবে এবং বিল আকারে উত্থাপনের সময় সংসদ সদস্যরা মতামত দিতে পারবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোট অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে আর কোনো গণভোট হবে না। তাই এটাকে বিল আকারে আনা প্রয়োজন নেই। কমিটি আগামী ২ এপ্রিল সংসদে এই অধ্যাদেশ যাচাই সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের তিস্তা মহাপরিকল্পনায় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করল বেইজিং, সম্ভাব্যতা যাচাই দ্রুত শেষ করার আশ্বাস বাংলাদেশের তিস্তা নদী প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এতে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপেরও সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে বেইজিং। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার পর এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের ‘তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ (টিআরসিএমআরপি) দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ নদীভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প। সম্প্রতি এই প্রকল্পে সমর্থন জানিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ দ্রুত শেষ করার আশ্বাস দিয়েছে চীন। গত শুক্রবার বেইজিংয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। পরে প্রশ্নোত্তরটি চীনের ইরান দূতাবাসের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়। গুয়ো জিয়াকুন বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদারে চীন প্রস্তুত। তিস্তা নদী প্রকল্প আমাদের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, এই সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এতে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপেরও সুযোগ নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন প্রকল্প মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। বাংলাদেশ সরকার এ প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। চীনও তার সামর্থ্য অনুযায়ী এই প্রকল্পে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরকালে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। সফরে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গেও তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও করদাতাবান্ধব করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটের কয়েকটি বিষয়ে ভ্যাট কমানোর পাশাপাশি আয়কর অব্যাহতির সীমা আরও বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ভ্যাট কমানোর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নরমালি দাবিটা বিরোধী দল থেকে হয়ে থাকে। আমি আপাতত ফিজিক্যালি না হলেও মানসিকভাবে ওনাদের পাশে গিয়ে কথা বলতে চাই।’ তিনি জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তিগত আয়কর অব্যাহতির সীমা ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ কর বছরের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। তবে ব্যক্তিগত করদাতাদের আরও স্বস্তি দিতে তিনি অর্থমন্ত্রীর কাছে এই সীমা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ কর বছরের জন্য আয়কর অব্যাহতির সীমা ৪ লাখ টাকা, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ কর বছরের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ কর বছরের জন্য ৫ লাখ টাকা করা যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তিগত করদাতাদের করের চাপ কিছুটা কমিয়ে স্বস্তি দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। প্রস্তাবিত বাজেটে স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শন-সংক্রান্ত বিধান নিয়েও জনমনে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, দেশে অনেকেই জমি নিবন্ধনের সময় প্রকৃত মূল্যের পরিবর্তে মৌজা মূল্য দেখান। ফলে পরবর্তী সময়ে প্রকৃত ক্রয়মূল্য প্রমাণ করতে গিয়ে করদাতাদের নানা জটিলতায় পড়তে হয়। তিনি বলেন, করদাতাদের এই হয়রানি কমানোর উদ্দেশ্যেই বিধানটি প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে কেউ কেউ এটিকে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত ওই বিধান প্রত্যাহারের জন্য অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।
নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে রাজধানীর কড়াইল বস্তিসহ দেশের ৫৮টি এলাকায় এক লাখ সাশ্রয়ী মূল্যের ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। রোববার জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রণীত ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ২০২২-২০৩৫-এর আওতায় এসব এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি জানান, গাজীপুরের টঙ্গীর দত্তপাড়ায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন ৯৮ একর জমিতে সীমিত আয়ের পরিবারের জন্য পর্যায়ক্রমে আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের একটি প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া উন্নয়ন সহযোগীদের আর্থিক সহায়তায় রাজশাহী, দিনাজপুর, বরিশাল, খুলনা, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার ৩৭টি বস্তি এবং কয়েকটি পৌরসভার নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন পরিস্থিতির উন্নয়নে আরেকটি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। জাকারিয়া তাহের বলেন, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পদ্মা আবাসিক এলাকার ৫৭৮ নম্বর প্লটে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ১৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও খুলনার হারিণটানা মৌজায় প্রায় আট একর জমিতে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সল্টগোলা এলাকায় প্রায় ৮৩ কাঠা জমিতে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ভাড়াভিত্তিক আবাসন নির্মাণের একটি প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। প্রকল্পটি স্ব-অর্থায়ন অথবা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাজমুন নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানান, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩’ সংশোধন করা হবে। সংশোধনীতে কারাদণ্ড, জরিমানা এবং অন্যান্য শাস্তি সংক্রান্ত বিধান পর্যালোচনা করা হবে। নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রকৃত উপকারভোগীদের চিহ্নিত এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দিতে দেশব্যাপী যাচাই কার্যক্রম চলছে। এ লক্ষ্যে গত ১৯ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধীনে পুনঃযাচাই কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা মাসিক ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপকারভোগীর সংখ্যা ৬১ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৬২ লাখ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরে ছিল ৪ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা। তিনি আরও জানান, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীদের মাসিক ভাতা ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ৩০ লাখ উপকারভোগীর জন্য ২ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ভাতাও মাসিক ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ৩৮ লাখ উপকারভোগীর জন্য এ খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ ৪ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমরের এক প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ভাতা কর্মসূচির আওতায় ৪৪ জেলার ৫৫টি উপজেলার ৫৬টি পাইলট ইউনিটের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজার ৩৮৭ জন নারী পরিবারপ্রধান সুবিধা পেয়েছেন। মাঠপর্যায়ের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ হওয়ায় উপকারভোগীর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এদিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সংসদকে জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে কমিশনিং ও স্টার্টআপ পর্যায়ে রয়েছে, যা প্রকল্পটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল ধাপ। জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী আগস্টের শেষ নাগাদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, এটি বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।