বিশ্ব

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েল বলছে, কারখানায় কোনো বিপজ্জনক পদার্থ ছড়ায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের বিরসেবায় শিল্পাঞ্চলে আগুন। ইসরায়েল, ২৯ মার্চ। ছবি: টাইমস অব ইসরায়েল
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের বিরসেবায় শিল্পাঞ্চলে আগুন। ইসরায়েল, ২৯ মার্চ। ছবি: টাইমস অব ইসরায়েল

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কারখানা থেকে কোনো বিপজ্জনক পদার্থ ছড়িয়ে পড়েনি বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। রোববার তেহরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকে ইসরায়েলের বিরশেবা এলাকায় নিওত হোভাব শিল্পাঞ্চল।

 

ইসরায়েলের পরিবেশ সুরক্ষামন্ত্রী ইদিত সিলমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ভালোভাবে পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে কোনো রাসায়নিক বিপদ বা মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কোনো পদার্থ পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, সড়কগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে এবং শিল্পাঞ্চলে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।

 

হামলার আগে আশঙ্কা করা হয়েছিল, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের কারণে বিপজ্জনক রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় ১১ জন আহত হয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব কি বন্ধ? ইউএস ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে কী বলা আছে

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস  এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত
ডিপ স্টেট: পর্দার আড়ালে কে নিয়ন্ত্রণ করে রাষ্ট্র?

সাধারণ মানুষের নজর যাতে না পড়ে, সেই জায়গা থেকেই দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করে ‘ডিপ স্টেট’ নামে পরিচিত অদৃশ্য শক্তি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত সরকারের সমান্তরালে থাকা একটি শক্তিশালী চক্র, যা প্রশাসনিক ও সামরিক স্তরে কার্যকর হয়ে থাকে।   ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক রবার্ট কাপলান বলেন, প্রতিটি আধুনিক রাষ্ট্রেই এমন একটি ‘স্থায়ী কাঠামো’ থাকে যা সরকার পরিবর্তন হলেও অপরিবর্তিত থাকে এবং জাতীয় স্বার্থের আড়ালে নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে। নিউইয়র্ক টাইমসের হোয়াইট হাউস প্রতিবেদক মাইকেল ক্রাউলি এটিকে ‘অদৃশ্য রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার মতে, এই শক্তি বেসামরিক রাজনৈতিক নেতৃত্বের সীমার বাইরে থেকে কার্যকর হয়। বিশেষজ্ঞরা মূলত উন্নয়নশীল দেশে ‘ডিপ স্টেট’ ধারণাটি ব্যবহার করেন, যেখানে নির্বাচিত সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তে সামরিক ও গোয়েন্দা প্রধানদের প্রভাব দেখা যায়।   বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘ডিপ স্টেট’-এর প্রসঙ্গ প্রথম আলোচনায় এসেছে আন্তর্জাতিক পরিসরে, বিশেষ করে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের পর। এক সাংবাদিক ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে মার্কিন ‘ডিপ স্টেট’-এর কোনো ভূমিকা ছিল কি না। ট্রাম্প সাফ জবাব দেন, কোনো ভূমিকা ছিল না।   সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপি নেতা ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দাবি, ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’ তাদের ২০২৯ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, এই শক্তির মধ্যে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পক্ষ জড়িত ছিল, তবে সুনির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করেননি।   অক্সফোর্ড অভিধান অনুযায়ী, ‘ডিপ স্টেট’ মূলত সরকারি সংস্থা বা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের একটি চক্র, যারা সরকারি নীতির ওপর গোপন নিয়ন্ত্রণ রাখে। ধীরে ধীরে এই চক্র দেশের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, গোয়েন্দা সংস্থা, সামরিক বাহিনীর অংশ, প্রভাবশালী আমলাতন্ত্র, বিদেশি শক্তির প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বা সিভিল সোসাইটির অংশ এই চক্রে থাকতে পারে।   তিনি আরও জানান, ডিপ স্টেট মূলত আড়ালে সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করে। কোনো মন্ত্রী বা নীতিনির্ধারকের কর্মকাণ্ডে তৃতীয় পক্ষের স্বার্থ প্রাধান্য পেলে এটি স্পষ্ট হয়ে যায়। এটি অনেকটা ‘অদৃশ্য সিন্ডিকেটের’ মতো কাজ করে, যেখানে সরকার কেবল অনুমোদন দেয়, কিন্তু মূল সিদ্ধান্ত হয় আড়ালে।   অধ্যাপক সাব্বির মনে করেন, কোনো দেশে ‘ডিপ স্টেট’ শক্তিশালী হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রভাবিত হয়। রাজনৈতিক সরকারের ওপর কর্তৃত্ব স্থাপনের মাধ্যমে জনস্বার্থের চেয়ে বিশেষ মহলের স্বার্থই প্রাধান্য পায়। তাই নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা অত্যন্ত জরুরি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
পেন্টাগনের সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ (বাঁয়ে) ও জেনারেল ড্যান কেইনি। ১৯ মার্চ ২০২৬। ছবি: এএফপি

ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের খবরে মার্কিন কংগ্রেসে তীব্র প্রতিক্রিয়া

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত সাংবাদিকের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় স্বজন ও সহকর্মীরা। ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে নিহতের সংখ্যা ছাড়ালো ১ হাজার ২০০

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের বিরসেবায় শিল্পাঞ্চলে আগুন। ইসরায়েল, ২৯ মার্চ। ছবি: টাইমস অব ইসরায়েল

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েল বলছে, কারখানায় কোনো বিপজ্জনক পদার্থ ছড়ায়নি

ছবি: সংগৃহীত
ইরান দাবি করছে হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ

ইরানের নৌবাহিনীর এক সিনিয়র কমান্ডার দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর বর্তমানে ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ওই অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় এলে “কঠোর প্রতিক্রিয়া” হতে পারে।   ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, কমান্ডার বলেন, ইরানের সামরিক মহড়ার কারণে মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ইরানি জলসীমা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চল ও ওমান উপসাগর নৌবাহিনীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।   হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ, যা আন্তর্জাতিক তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়। এর এক পাশে ইরান এবং অন্য পাশে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অবস্থিত। প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ মাত্র ২১ মাইল, যা সামরিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ।   বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যদি এই নৌপথ দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ রাখে, তা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। এই হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ানোর সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

ইরানে ঢুকলে হাঙরের পেটে যাবে মার্কিন সেনারা (সংগৃহীত ছবি)

ইরানে অভিযান হলে মার্কিন সেনাদের হুমকি: হাঙরের খাবার হতে হবে—ইরান

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার উন্নত ড্রোন যাচ্ছে ইরানে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত।
কাতারে মার্কিন নাগরিকদের 'মাথা নিচু করে আত্মরক্ষার' পরামর্শ দূতাবাসের

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে কাতারের দোহায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের কনস্যুলার সেবা সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে। সেই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সম্ভাব্য যেকোনো হামলার বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  দূতাবাসের এক জরুরি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে সীমিত সংখ্যক জরুরি কর্মীদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মার্কিন নাগরিকদের সর্বদা সতর্ক থাকতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো সতর্কবার্তা পাওয়া মাত্রই নিরাপদ স্থানে গিয়ে 'মাথা নিচু করে আত্মরক্ষা' বা 'ডাক অ্যান্ড কাভার' পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।  মূলত নিরাপত্তার স্বার্থেই এই আগাম পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।

অংক পরীক্ষায় ফেল থেকে প্রভাবশালী ‘ধর্মগুরু’: যেভাবে পতন হলো শতাধিক নারীকে ধর্ষন করা ‘ক্যাপ্টেন বাবা’র

ছবি: সংগৃহীত।

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শিশু ও পুলিশসহ নিহত ৭

ছবি: সংগৃহীত।

লেবাননের আরও এলাকা দখলের নির্দেশ নেতানিয়াহুর

0 Comments