আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের ‘বৃহত্তর পরিকল্পনা’ ধূলিসাৎ করে দিয়েছে পাকিস্তান

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ১৯:৫১
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের আড়ালে নীরবে এক বড় ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে গেছে, যেখানে প্রধান খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পাকিস্তান। কেবল একটি মুসলিম রাষ্ট্র নয়, বরং দক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের অস্বাভাবিক সক্রিয়তা ইসরায়েলের ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ বা বৃহত্তর পরিকল্পনাকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। পর্দার আড়ালের এই কূটনীতি একদিকে যেমন মধ্যপ্রাচ্যকে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করেছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সম্পর্কে তৈরি করেছে নজিরবিহীন টানাপোড়েন।

 

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের লক্ষ্য ছিল ইরানকে কোণঠাসা করে তাদের পারমাণবিক ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা। এর মাধ্যমে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতিসহ মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাববলয় গুঁড়িয়ে দিয়ে নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিল তেল আবিব। এই লক্ষ্য পূরণে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর প্রবল চেষ্টা করেন নেতানিয়াহু। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার কথা বিবেচনা করে আঞ্চলিক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নেন। ফলে হোয়াইট হাউস এবং তেল আবিব কৌশলগতভাবে দুই মেরুতে অবস্থান নেয়, যা ইসরায়েলের মূল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

 

সংঘাত যখন চরম পর্যায়ে, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আসে পাকিস্তান। কাতার ও ওমানকে সঙ্গে নিয়ে ইসলামাবাদ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংঘাত এড়াতে এবং যুদ্ধবিরতি নিশ্চিতে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে অস্বাভাবিক মাত্রায় যোগাযোগ বজায় রাখেন, যা খোদ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও স্বীকার করেছেন। ওয়াশিংটন, রিয়াদ, দোহা এবং তেহরানের মধ্যে সফল যোগাযোগের এই সেতুবন্ধন ইসরায়েলের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কেননা, ইরান যদি আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন না থাকে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের উন্নতি ঘটে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত জিইয়ে রাখার ইসরায়েলি কৌশল কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়বে।

 

ইসরায়েলের উদ্বেগের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে গত ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত রিয়াদ-ইসলামাবাদ ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি। এই চুক্তির ফলে বিশ্বের একমাত্র মুসলিম পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তানের নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় চলে এসেছে সৌদি আরব। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, সৌদি আরবের সুরক্ষায় পাকিস্তান তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা ব্যবহারেও পিছপা হবে না। ইরান-সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর পাকিস্তানের এই শক্তিশালী অন্তর্ভুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে এমন এক নতুন নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করেছে, যা ইসরায়েলের চিরস্থায়ী সংঘাতের রাজনীতির সম্পূর্ণ বিপরীত।

 

পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা ও সামরিক প্রভাব নিয়ে ইসরায়েলের গোয়েন্দা মহলে আগে থেকেই গভীর উদ্বেগ রয়েছে। এর মধ্যেই সুইজারল্যান্ডের লুসার্নে অনুষ্ঠিত এক কূটনৈতিক বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের একটি গোপন হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনার চাঞ্চল্যকর খবর সামনে আসে। যদিও ইসলামাবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে পাকিস্তানের বর্তমান শক্তিশালী কূটনৈতিক ভূমিকার কারণে এই ঘটনা ব্যাপক জল্পনার জন্ম দিয়েছে। সব মিলিয়ে, সংঘাতের বদলে কূটনৈতিক টেবিলে শান্তির পথ সুগম করে পাকিস্তান প্রমাণ করেছে যে, ভূরাজনীতির ময়দানে তারা এখন ইসরায়েলের অন্যতম বড় এক কৌশলগত বাধা।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের ‘বৃহত্তর পরিকল্পনা’ ধূলিসাৎ করে দিয়েছে পাকিস্তান

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের আড়ালে নীরবে এক বড় ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে গেছে, যেখানে প্রধান খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পাকিস্তান। কেবল একটি মুসলিম রাষ্ট্র নয়, বরং দক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের অস্বাভাবিক সক্রিয়তা ইসরায়েলের ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ বা বৃহত্তর পরিকল্পনাকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। পর্দার আড়ালের এই কূটনীতি একদিকে যেমন মধ্যপ্রাচ্যকে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করেছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সম্পর্কে তৈরি করেছে নজিরবিহীন টানাপোড়েন।   ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের লক্ষ্য ছিল ইরানকে কোণঠাসা করে তাদের পারমাণবিক ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা। এর মাধ্যমে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতিসহ মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাববলয় গুঁড়িয়ে দিয়ে নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিল তেল আবিব। এই লক্ষ্য পূরণে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর প্রবল চেষ্টা করেন নেতানিয়াহু। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার কথা বিবেচনা করে আঞ্চলিক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নেন। ফলে হোয়াইট হাউস এবং তেল আবিব কৌশলগতভাবে দুই মেরুতে অবস্থান নেয়, যা ইসরায়েলের মূল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।   সংঘাত যখন চরম পর্যায়ে, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আসে পাকিস্তান। কাতার ও ওমানকে সঙ্গে নিয়ে ইসলামাবাদ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংঘাত এড়াতে এবং যুদ্ধবিরতি নিশ্চিতে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে অস্বাভাবিক মাত্রায় যোগাযোগ বজায় রাখেন, যা খোদ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও স্বীকার করেছেন। ওয়াশিংটন, রিয়াদ, দোহা এবং তেহরানের মধ্যে সফল যোগাযোগের এই সেতুবন্ধন ইসরায়েলের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কেননা, ইরান যদি আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন না থাকে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের উন্নতি ঘটে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত জিইয়ে রাখার ইসরায়েলি কৌশল কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়বে।   ইসরায়েলের উদ্বেগের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে গত ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত রিয়াদ-ইসলামাবাদ ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি। এই চুক্তির ফলে বিশ্বের একমাত্র মুসলিম পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তানের নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় চলে এসেছে সৌদি আরব। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, সৌদি আরবের সুরক্ষায় পাকিস্তান তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা ব্যবহারেও পিছপা হবে না। ইরান-সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর পাকিস্তানের এই শক্তিশালী অন্তর্ভুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে এমন এক নতুন নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করেছে, যা ইসরায়েলের চিরস্থায়ী সংঘাতের রাজনীতির সম্পূর্ণ বিপরীত।   পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা ও সামরিক প্রভাব নিয়ে ইসরায়েলের গোয়েন্দা মহলে আগে থেকেই গভীর উদ্বেগ রয়েছে। এর মধ্যেই সুইজারল্যান্ডের লুসার্নে অনুষ্ঠিত এক কূটনৈতিক বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের একটি গোপন হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনার চাঞ্চল্যকর খবর সামনে আসে। যদিও ইসলামাবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে পাকিস্তানের বর্তমান শক্তিশালী কূটনৈতিক ভূমিকার কারণে এই ঘটনা ব্যাপক জল্পনার জন্ম দিয়েছে। সব মিলিয়ে, সংঘাতের বদলে কূটনৈতিক টেবিলে শান্তির পথ সুগম করে পাকিস্তান প্রমাণ করেছে যে, ভূরাজনীতির ময়দানে তারা এখন ইসরায়েলের অন্যতম বড় এক কৌশলগত বাধা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ১৯:৫১
ছবিঃ কেসিএনএ

কিমের উপস্থিতিতে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট সিস্টেমের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

ভেনিজুয়েলার ভূমিকম্পে জীবিতদের খুঁজতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের এলিট উদ্ধারকারী দল

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ফিলিস্তিনিদের অধিকারের সংগ্রামে ইরানের অবিচল সমর্থনের ভূয়সী প্রশংসা করল হামাস

ইসরাইলকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে অসন্তুষ্ট প্রায় অর্ধেক মার্কিনি l ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত সমর্থনে অসন্তুষ্ট ৪৮% মার্কিন ভোটার

যুক্তরাষ্ট্রের ইসরাইল নীতির বিষয়ে মার্কিন ভোটারদের মনোভাবে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় অর্ধেক মার্কিন ভোটার এখন মনে করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে অতিরিক্ত মাত্রায় সমর্থন দিচ্ছে। মার্কিন রাজনীতি ও বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে এই তথ্যটি নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।   জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ৪৮ শতাংশ ভোটার ইসরাইলের প্রতি মার্কিন সরকারের বর্তমান সমর্থনের মাত্রাকে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি বলে মনে করেন। ২০১৭ সালে কুইনিপিয়াক যখন প্রথম এই বিষয়ে ভোটারদের মতামত নেওয়া শুরু করে, তারপর থেকে এখন পর্যন্ত এটিই সর্বোচ্চ অসন্তোষের রেকর্ড। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট এবং স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে এই বিষয়ে তীব্র আপত্তি লক্ষ করা গেছে।   জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ৬৬ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৫৫ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার ইসরাইলকে দেওয়া মার্কিন সমর্থনকে ‘অতিরিক্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, রিপাবলিকান ভোটারদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের মধ্যে ৬৯ শতাংশই মনে করেন যে ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সমর্থন একেবারে সঠিক পর্যায়ে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দলগত এই বিভাজন থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, মার্কিন রাজনীতিতে ইসরাইলকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি এখন আর আগের মতো সর্বজনীন নয় এবং এ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ১৩:৪২
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প l ছবি: সংগৃহীত

যে নেতানিয়াহু একসময় ওয়াশিংটনকে প্রভাবিত করতেন, আজ তাকেই মানতে হচ্ছে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সামনে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন জরুরি সেবা কর্মীরা | ছবি: রয়টার্স

ভেনেজুয়েলায় পরপর দুই শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৬৪, আহত কয়েক হাজার

পারাস্তু আহমদি। ছবি: সংগৃহীত

হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ইরানি গায়িকাকে ৭৪ দোররা মারার নির্দেশ

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় মস্কোর তেল শোধনাগার অচল l ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় মস্কোর তেল শোধনাগার অচল, উৎপাদন বন্ধ অন্তত ছয় মাস

রয়টার্সের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলার পর মস্কোর ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত একটি বড় তেল শোধনাগারের উৎপাদন অন্তত ছয় মাসের জন্য বন্ধ থাকতে পারে। শিল্প খাতের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে গত বুধবার এই তথ্য জানানো হয়। গ্যাজপ্রম নেফট-পরিচালিত এই স্থাপনাটিতে গত ১৬ জুন প্রথম হামলা চালানো হয়। এতে শোধনাগারটির ৫৩ শতাংশ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ডিস্টিলেশন (পাতন) ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা গেছে। এরপর ১৮ জুন দ্বিতীয় হামলায় অপেক্ষাকৃত আধুনিক 'ইউরো+' ইউনিটটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা বাকি ৪৭ শতাংশ উৎপাদনের জন্য দায়ী ছিল।   সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতের একজন সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মস্কোর এই শোধনাগারটির ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগবে। রয়টার্সের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৪ সালে এই শোধনাগারটিতে ১১.৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন তেল পরিশোধন করা হয়েছিল, যা থেকে ২.৯ মিলিয়ন টন পেট্রোল এবং ৩.২ মিলিয়ন টন ডিজেল উৎপাদিত হয়। তবে গ্যাজপ্রম নেফট-পরিচালিত এই স্থাপনার সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে রুশ কর্মকর্তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।   চলতি বসন্তকাল থেকে রাশিয়ার তেল শোধনাগার এবং সরবরাহ লাইনগুলোকে লক্ষ্য করে ইউক্রেন তাদের হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিয়েছে। এসব ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার পেট্রোল উৎপাদনের একটি বড় অংশের যোগানদাতা স্থাপনাগুলোতে উৎপাদন হয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, নতুবা ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে। ফলশ্রুতিতে রাশিয়ার বেশ কিছু অঞ্চলে বাধ্য হয়ে জ্বালানি রেশনিং বা সীমিতকরণ ব্যবস্থা চালু করতে হয়েছে।   এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাশিয়ার অর্থনীতিতে। চলতি বছরের শুরু থেকে দেশটিতে পেট্রোলের গড় দাম ৬.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৫ জুনের হিসাব অনুযায়ী, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৬৯.১১ রুবেলে (প্রতি গ্যালন ৩.৫৬ মার্কিন ডলার) গিয়ে দাঁড়িয়েছে। গত মঙ্গলবার রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারের বর্তমান অবস্থা 'চ্যালেঞ্জিং হলেও তা এখনো কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে'। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, পেট্রোল এবং জেট ফুয়েল রপ্তানির ওপর বর্তমানে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তার পাশাপাশি এখন ডিজেল রপ্তানির ওপরও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ১৬:১৪
জার্মানিতে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ইসলামবিদ্বেষ l ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম হওয়াই যেন অপরাধ! জার্মানিতে ইসলামবিদ্বেষী হামলা ৪ হাজার ছাড়াল

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

কংগ্রেসের আপত্তি উড়িয়ে তুরস্ককে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের জেট ইঞ্জিন দিচ্ছেন ট্রাম্প

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ২৭০ অভিবাসী আটক | ছবি: এনএসটিপি

মালয়েশিয়ায় পুলিশের তাড়া খেয়ে ময়লার ড্রামে লুকালেন বাংলাদেশি শ্রমিক, আটক বাংলাদেশিসহ ২৭০

0 Comments