সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

দিল্লির বিক্ষোভে পুলিশের আঘাতে ২০ বছর বয়সী তরুণী আইসিইউতে ভর্তি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ৫:৫৭
দিল্লির বিক্ষোভে পুলিশের আঘাত।ছবি:সংগৃহীত
দিল্লির বিক্ষোভে পুলিশের আঘাত।ছবি:সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে তরুণদের অনলাইনভিত্তিক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সংসদ অভিমুখী কর্মসূচিতে পুলিশের অভিযানের সময় গুরুতর আহত এক তরুণীকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার যন্তর মন্তরে সংঘর্ষের পর তাঁকে রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থার উন্নতি হওয়ায় ভেন্টিলেটর খুলে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি এখন নিজে শ্বাস নিতে পারছেন।

 

এনডিটিভির প্রতিবেদনে তরুণীর বয়স নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনের শিরোনামে তাঁকে ২০ বছর বয়সী বলা হলেও হাসপাতালের হালনাগাদ তথ্যে তাঁর বয়স ২১ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি এখন পুরোপুরি সচেতন এবং চিকিৎসকদের নির্দেশনায় সাড়া দিচ্ছেন। তাঁর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের এমআরআই পরীক্ষায় অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া যায়নি। তবে তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

 

সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে হাজারো শিক্ষার্থী ও সমর্থক যন্তর মন্তর থেকে ভারতের পার্লামেন্ট ভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাঁদের আটকে দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

 

পুলিশি অভিযানের সময় ওই তরুণী একটি ব্যারিকেডের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে গুরুতর আহত হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশের লাঠিচার্জে তাঁর মাথায় আঘাত লাগে। এ অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

 

আন্দোলনকারীরা মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজিসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন। তাঁদের অভিযোগ, একের পর এক পরীক্ষায় অনিয়মের কারণে লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হলেও সরকার কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

 

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবারের সংঘর্ষে অন্তত ৯০ শিক্ষার্থী আহত হন। তাঁদের মধ্যে ৭৯ জনকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের দাবি, সংঘর্ষে তাদের ১১৮ জনের বেশি সদস্য এবং প্রায় ৬০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পুলিশের ২০টির বেশি যানবাহন।

 

আহতদের দেখতে মঙ্গলবার হাসপাতালে যান কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে আহতদের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।

 

আন্দোলনকারীদের দুই প্রতিনিধি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করে তিনটি দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হলো পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের নিঃশর্ত মুক্তি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

 

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনাটি ইতিবাচক পরিবেশে হয়েছে। আন্দোলনকারীদের যন্তর মন্তরের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করার আহ্বানও জানানো হয়। তবে দাবি পূরণের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

 

পুলিশ আগের দিন যন্তর মন্তরের মঞ্চ ও তাঁবু সরিয়ে দিলেও মঙ্গলবার থেকে সেখানে আবারও অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। বুধবারও কর্মসূচি অব্যাহত থাকে এবং রাতভর আরও সমর্থক বিক্ষোভস্থলে জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং কয়েকটি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।

 

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের দিকে মিছিল করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। পুলিশ তাঁদের কর্মসূচিতে বাধা দেয় এবং রাহুল গান্ধীসহ কয়েকজনকে সাময়িকভাবে আটক করে। আটক ও আহত আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে কংগ্রেস।

 

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা করা হয়েছে। সহিংসতা, ভাঙচুর, পুলিশের ওপর হামলা এবং সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে এসব মামলা হয়েছে।

 

ভারত সরকার বলছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া এবং দ্রুত ফল প্রকাশের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
সহকর্মীদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেই আটকা, অন্ধকার সুড়ঙ্গে ৯ দিনের মৃত্যুযুদ্ধ শেষে ফিরলেন সঞ্জয়
সহকর্মীদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেই আটকা, অন্ধকার সুড়ঙ্গে ৯ দিনের মৃত্যুযুদ্ধ শেষে ফিরলেন সঞ্জয়

নেপালে প্রলয়ংকরী বন্যার জেরে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে টানা নয় দিন আটকে থাকার পর অবশেষে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন এক কর্মী। ভয়ংকর সেই অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে মেকানিক্যাল ফোরম্যান সঞ্জয় সাহ জানান, বন্যার পানি যখন সুড়ঙ্গে ঢুকতে শুরু করে, তখন তিনি তার সহকর্মীদের দ্রুত ওই স্থান থেকে পালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে অন্যদের নিরাপদে সরিয়ে দিতে গিয়ে নিজে বের হওয়ার আর পর্যাপ্ত সময় পাননি তিনি।   নিজের কর্তব্যের প্রতি অবিচল সঞ্জয় বলেন, বিপদের মুহূর্তে সহকর্মীদের ফেলে নিজে পালিয়ে যাওয়াটা তার কাছে কোনোভাবেই সঠিক মনে হয়নি; কারণ তার প্রধান দায়িত্বই ছিল অন্যদের জীবন রক্ষা করা।   সুড়ঙ্গের ঘুটঘুটে অন্ধকারে কাটানো সেই দীর্ঘ নয় দিনের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, বেঁচে ফেরার আশা জাগিয়ে রাখতে তিনি অনবরত মন্ত্র জপ করতেন।   সেই চরম প্রতিকূল ও ভয়াবহ পরিস্থিতির মাঝেও সুড়ঙ্গের অন্য প্রান্তে আটকে থাকা আরও তিন-চারজন কর্মীর সঙ্গে কোনোমতে যোগাযোগ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি।   দীর্ঘ ও শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযানের পর অবশেষে সঞ্জয় সাহকে জীবিত অবস্থায় সুড়ঙ্গ থেকে বের করে আনা হয়। তার সঙ্গে উদ্ধার পাওয়া আরেকজন ভাগ্যবান কর্মী হলেন মেকানিক্যাল সুপারভাইজার কবির মহার্জন।   নেপালের এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে তাদের এই ফিরে আসা শুধু বেঁচে ফেরার গল্প নয়, বরং চরম বিপদের মুহূর্তে দায়িত্ববোধ ও অদম্য সাহসের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৫:৩৫
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৬৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

৩ বছরে গাজায় ৭৩ হাজার ৬৫১ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে দখলদার ইসরাইল

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ভবন থেকে ১০ দিন পর এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নেপালে বন্যার ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০ দিন পর জীবিত উদ্ধার ৬৪ বছরের নারী

কেরালা স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনে দীর্ঘ ১৮ বছর দায়িত্ব পালনের পর অবসরে গেলেন চালক পল কুরিয়ান। ছবি: সংগৃহীত

ভালোবাসার বাসে অশ্রুসিক্ত বিদায়! ১৮ বছর পর প্রিয় বাসকে চুমু খেয়ে অবসরে কেএসআরটিসি চালক

মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অন্তত ২৯ জন পুরুষ বিয়ের জন্য পাত্রী না পেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
বিয়ের জন্য পাত্রী মিলছে না, ভারতের এক জেলায় ৬ মাসে ২৯ পুরুষের আত্মহত্যা

ভারতের মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৩৮৩ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছেন। এর মধ্যে ২৯টি ঘটনায় বিয়ের জন্য পাত্রী না পাওয়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ। তবে এসব আত্মহত্যার পেছনে শুধু বিয়ে না হওয়ার বিষয়টিই ছিল না। মাদকাসক্তি, হতাশা, পারিবারিক সমস্যা ও ঋণসহ বিভিন্ন কারণও পুলিশের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।   মহারাষ্ট্র পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত জলগাঁওয়ে পুরুষদের আত্মহত্যার ঘটনাগুলোতে একাধিক কারণ পাওয়া গেছে। ফলে ২৯টি ঘটনায় বিয়ে না হওয়াকে উল্লেখ করা হলেও পুলিশ এটিকে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখছে না। পরিসংখ্যান প্রকাশের পর অবশ্য জলগাঁওয়ে পুরুষদের বিয়ে না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   বিবিসির প্রতিবেদনে স্থানীয় বাসিন্দা, তরুণ, পরিবার ও গবেষকদের সঙ্গে কথা বলে এই পরিস্থিতির পেছনে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন কারণের কথা উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্রের চাকরি, নিয়মিত আয়, নিজস্ব বাড়ি, জমি ও আর্থিক স্থিতিশীলতাকে এখন আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   এ বিষয়ে বি ফার্ম ডিগ্রিধারী কৌস্তুভ পোটদারের ঘটনাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। নিজস্ব বাড়ি ও সরকারি চাকরি না থাকায় একাধিক বিয়ের সম্বন্ধে তিনি প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। পরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি আত্মহত্যা করেন। তবে তার মৃত্যুর পেছনে বিয়ে না হওয়াই একমাত্র কারণ ছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়।   ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য জরিপের তথ্য অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রে ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের প্রায় ১১ শতাংশ অবিবাহিত ছিলেন। একই বয়সসীমায় পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ একই বয়সসীমায় অবিবাহিত পুরুষের হার নারীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।   গ্রামীণ মহারাষ্ট্র নিয়ে গবেষণাকারী ময়ূর কুডুপলে ও জোয়েল কাবালিয়ানের গবেষণাতেও বিয়ের ক্ষেত্রে পরিবর্তিত সামাজিক বাস্তবতার বিষয়টি উঠে এসেছে। তাদের মতে, আগে গ্রামাঞ্চলে জমির মালিকানাকে বড় যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এখন স্থায়ী চাকরি, নিয়মিত আয় ও শহরে বসবাসের সুযোগকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জাতপাতও বিয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বাধা হয়ে রয়েছে।   লিঙ্গ সমতা প্রশিক্ষক দর্শনা পাওয়ারের মতে, কয়েক দশকের কন্যাভ্রূণ হত্যার প্রভাবেও বিবাহযোগ্য নারী ও পুরুষের অনুপাতে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে বেকারত্ব, অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক প্রত্যাশা এবং নারী-পুরুষের বদলে যাওয়া দৃষ্টিভঙ্গিও যুক্ত হয়েছে।   ফলে জলগাঁওয়ের এই পরিসংখ্যানকে শুধু ‘পাত্রী সংকট’ হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। বিয়ে না হওয়ার সঙ্গে সামাজিক চাপ, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং দীর্ঘদিনের জনমিতিক পরিবর্তনের মতো একাধিক বিষয় জড়িয়ে রয়েছে। পুলিশের তথ্যেও আত্মহত্যার পেছনে বিয়ে ছাড়াও বিভিন্ন কারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   সূত্র: বিবিসি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ৯:৫৫
নিজ হাতে অজনার নদী পরিষ্কার করে আলোচনায় বিট্টু তাবাহি

নিজ হাতে নদী পরিষ্কার করে ভাইরাল ভারতীয় তরুণ পেলেন ডাচ পরিবেশ সংস্থার চাকরি!

তুরমুস আয়ায় ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়িতে বসতিস্থাপনকারীর হুমকি

ফিলিস্তিনি পরিবারের ছাদে উঠে হুমকি, ‘আল্লাহ আমাকে ওয়াদা করেছেন, এটা আমার দেশ, আমার জমি’

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেপালের ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এখনো প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন

১০ দিন পর নেপালের ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার চীনা নাগরিক ও নারী

ট্রাভেল কোম্পানির সব ভ্রমণ স্থগিত—সেপ্টেম্বরের যাত্রীদের দেওয়া হয়েছে ‘ভ্রমণ না করার’ নির্দেশ
জনপ্রিয় ব্রিটিশ ট্রাভেল কোম্পানির সব ছুটি স্থগিত, যাত্রীদের ‘ভ্রমণ না করার’ নির্দেশ

যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় বিলাসবহুল ভ্রমণ প্রতিষ্ঠান ওয়েফেয়ারার ট্রাভেল তাদের সব ধরনের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছে। সেপ্টেম্বর মাসে যাদের এই কোম্পানির মাধ্যমে ভ্রমণের কথা ছিল, তাদের আপাতত ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   ব্রিস্টলভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করে। মালদ্বীপ, জাপান, পেরু ও কেনিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বিলাসবহুল ভ্রমণের আয়োজন করত তারা।   এক বিবৃতিতে ওয়েফেয়ারার ট্রাভেল জানায়, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে গ্রাহকদের মধ্যে যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার জন্য তারা দুঃখিত। হিসাব ও আইনি পরামর্শ নেওয়ার পর পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।   ভ্রমণ সংক্রান্ত আর্থিক সুরক্ষা প্রতিষ্ঠান অ্যাসোসিয়েশন অব বন্ডেড ট্রাভেল অর্গানাইজার্স ট্রাস্ট জানিয়েছে, ওয়েফেয়ারার ট্রাভেলের কিছু গ্রাহকের বুক করা ভ্রমণসেবা আর দেওয়া নাও হতে পারে।   সংস্থাটি ২ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের জন্য দাবি প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে। যাদের ভ্রমণের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বা তার আগে, তাদের ভ্রমণ না করতে বলা হয়েছে। আর পরবর্তী সময়ের বুকিং থাকা যাত্রীদের নতুন তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।   এ বছর যুক্তরাজ্যে কোনো ট্রাভেল কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গত আগস্টে স্কি ইয়ডল নামে আরেকটি ব্রিটিশ ট্রাভেল কোম্পানি অবসায়নে যাওয়ার পর তাদের সব ছুটির বুকিং বাতিল করা হয়।   নরউইচভিত্তিক স্কি ইয়ডল ২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করেছিল। প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপের বিভিন্ন স্কি রিসোর্টে ছুটি, শ্যালেট, অ্যাপার্টমেন্ট ও হোটেল বুকিংয়ের সেবা দিত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ৬:১৭
সম্পদ উত্তোলন নিয়ে টাটা কেমিক্যালসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে কেনিয়া

'আমরা তোমাদের গোলাম নই': ভারতের টাটা কেমিক্যালসকে তল্পিতল্পা গুটিয়ে কেনিয়া ছাড়ার নির্দেশ

মার্কিন সহায়তা বন্ধের জেরে আফগানিস্তানে ১৬১ প্রতিরোধযোগ্য মৃ/ত্যু, ৮০ জনই মা

মার্কিন সহায়তা বন্ধের জেরে আফগানিস্তানে ১৬১ প্রতিরোধযোগ্য মৃ/ত্যু, ৮০ জনই মা

নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমুখী করতে সিনেমার তারকার বদলে চীনের বিলবোর্ডে বিজ্ঞানীদের ছবি

নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমুখী করতে সিনেমার তারকার বদলে চীনের বিলবোর্ডে বিজ্ঞানীদের ছবি

0 Comments