সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

অ্যাপার্টমেন্ট

নিউইয়র্কে ৯৯২ ডলারেই অ্যাপার্টমেন্ট! ব্রুকলিনে শুরু ৬৩ ইউনিটের হাউজিং লটারি
নিউইয়র্কে ৯৯২ ডলারেই অ্যাপার্টমেন্ট! ব্রুকলিনে শুরু ৬৩ ইউনিটের হাউজিং লটারি

নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে তুলনামূলক কম ভাড়ায় বাসা পাওয়ার নতুন সুযোগ এসেছে। জনপ্রিয় পার্ক স্লোপ এলাকার ৭৪ সেন্ট মার্কস প্লেসে নির্মিত ‘সোলেস’ নামের নতুন আবাসিক ভবনের ৬৩টি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবাসন লটারি চালু হয়েছে। এক কক্ষের ছোট বাসা, এক শোবার ঘর ও দুই শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে এই প্রকল্পে। মাসিক ভাড়া শুরু ৯৯২ ডলার থেকে। আবেদনের শেষ দিন ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।   নিউইয়র্ক সিটির আবাসন লটারির নিয়ম অনুযায়ী, শুধু কম আয়ের পরিবার নয়, মধ্যম এবং তুলনামূলক বেশি আয়ের পরিবারও এই প্রকল্পের বিভিন্ন শ্রেণিতে আবেদন করতে পারবেন। পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং মোট বার্ষিক আয়ের ওপর নির্ভর করবে কে কোন বাসার জন্য যোগ্য হবেন। এই প্রকল্পে বছরে ৩৮ হাজার ৯৪৯ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ ডলার পর্যন্ত আয়কারীদের জন্য বিভিন্ন বাসা রাখা হয়েছে।   ১২ তলা সোলেস ভবনটির নকশা করেছে আইএনসি আর্কিটেকচার অ্যান্ড ডিজাইন এবং এটি নির্মাণ করেছে অ্যাভডু অ্যান্ড পার্টনার্স। নিউইয়র্ক সিটির আবাসন সংযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে লটারিতে বাসাগুলো বরাদ্দ দেওয়া হবে। আবেদনকারীদের আয় সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের ৪০ শতাংশ থেকে ১৩০ শতাংশের মধ্যে হতে হবে।   ৪০ শতাংশ মধ্যম আয়ের শ্রেণিতে সবচেয়ে কম ভাড়ার বাসাগুলো রাখা হয়েছে। এখানে সাতটি ছোট এক কক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৯৯২ ডলার। এসব বাসার জন্য আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় ৩৮ হাজার ৯৪৯ ডলার থেকে ৫৪ হাজার ২৮০ ডলারের মধ্যে হতে হবে।   একই শ্রেণিতে রয়েছে ১৮টি দুই শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্ট। এসব বাসার মাসিক ভাড়া ১ হাজার ২৩৮ ডলার। আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় ৪৯ হাজার ৯৮৯ ডলার থেকে ৭৩ হাজার ২৮০ ডলারের মধ্যে থাকতে হবে।   ৬০ শতাংশ মধ্যম আয়ের শ্রেণিতে তিনটি ছোট এক কক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এগুলোর মাসিক ভাড়া ১ হাজার ৫৫৯ ডলার। যোগ্য আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় হতে হবে ৫৮ হাজার ৩৮৯ ডলার থেকে ৮১ হাজার ৪২০ ডলারের মধ্যে।   এই শ্রেণিতে সবচেয়ে বেশি বাসা রাখা হয়েছে দুই শোবার ঘরের। মোট ২২টি দুই শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ১ হাজার ৯৬৭ ডলার। এসব বাসার জন্য বার্ষিক আয় ৭৪ হাজার ৯৮৩ ডলার থেকে ১ লাখ ৯ হাজার ৯২০ ডলারের মধ্যে হতে হবে।   তুলনামূলক বেশি আয়ের পরিবারগুলোর জন্যও লটারিতে বাসা রাখা হয়েছে। এলাকার মধ্যম আয়ের ১৩০ শতাংশ শ্রেণিতে পাঁচটি ছোট এক কক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ৫৪৩ ডলার। আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় ১ লাখ ২৬ হাজার ৪১২ ডলার থেকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১০ ডলারের মধ্যে হতে হবে।   একই শ্রেণিতে দুটি এক শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ৭৮৪ ডলার। এসব বাসার জন্য বার্ষিক আয় হতে হবে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৬০ ডলার থেকে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৫১০ ডলারের মধ্যে।   এ ছাড়া ছয়টি দুই শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৪ হাজার ৫১৮ ডলার। এসব বাসার জন্য আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় ১ লাখ ৬২ হাজার ৪৪৬ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ ডলারের মধ্যে হতে হবে।   তবে নির্ধারিত আয়সীমার মধ্যে থাকলেই বাসা পাওয়া নিশ্চিত নয়। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, কোন ধরনের বাসার জন্য আবেদন করা হচ্ছে এবং সেই বাসার নির্ধারিত আয়ের সীমাসহ নিউইয়র্ক সিটির অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হবে। আবেদন গ্রহণের পর লটারির মাধ্যমে সম্ভাব্য আবেদনকারী নির্বাচন করা হয় এবং পরবর্তী ধাপে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আয়ের তথ্য যাচাই করা হয়।   ব্রুকলিনের এই আবাসন প্রকল্পে আবেদন করতে আগ্রহীদের সময়সীমার বিষয়টি বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে। সোলেস ভবনের ৬৩টি অ্যাপার্টমেন্টের আবাসন লটারিতে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
স্থায়ী চাকরি থাকার পরও কেন বাড়ি ভাড়া পাচ্ছেন না বাংলাদেশীরা!
গ্রিন কার্ড, স্থায়ী চাকরি থাকার পরও কেন বাড়ি ভাড়া পাচ্ছেন না বাংলাদেশীরা!

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড, স্থায়ী চাকরি এবং নিয়মিত আয় থাকলেও পছন্দের অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিতে গিয়ে অনেক নতুন অভিবাসী সমস্যায় পড়তে পারেন। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকা বা দুর্বল ক্রেডিট। তবে শুধু গ্রিন কার্ড থাকা বা না থাকার সঙ্গে ক্রেডিট স্কোরের সরাসরি সম্পর্ক নেই। বাড়িওয়ালা বা প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি সাধারণত আবেদনকারীর আয়, ক্রেডিট রিপোর্ট, আগের রেন্টাল হিস্ট্রি এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়।   যুক্তরাষ্ট্রে বহুল ব্যবহৃত ফিকো স্কোর সাধারণত ৩০০ থেকে ৮৫০ পর্যন্ত হয়ে থাকে। ফিকোর শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী ৬৭০ থেকে ৭৩৯ স্কোরকে ‘গুড’, ৭৪০ থেকে ৭৯৯ ‘ভেরি গুড’ এবং ৮০০ বা তার বেশি স্কোরকে ‘এক্সেপশনাল’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   তবে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া পাওয়ার জন্য সারা দেশে বাধ্যতামূলক কোনো নির্দিষ্ট ক্রেডিট স্কোর নেই। বাড়িওয়ালা, প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, এলাকার রেন্টাল মার্কেট এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতির ওপর প্রয়োজনীয় স্কোর নির্ভর করে। অনেক প্রতিষ্ঠান আবেদনকারীর ক্রেডিট স্কোরের পাশাপাশি ক্রেডিট রিপোর্টে বিল পরিশোধের ইতিহাস, ঋণের পরিমাণ, কালেকশন অ্যাকাউন্ট বা অন্যান্য আর্থিক তথ্যও দেখে।   এ কারণে ‘ক্রেডিট স্কোর জিরো’ কথাটিও সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসা বা আগে কোনো ক্রেডিট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার না করা ব্যক্তির পর্যাপ্ত ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকলে অনেক সময় তার স্কোর তৈরি করার মতো তথ্যই থাকে না। অর্থাৎ তার স্কোর শূন্য হওয়ার বদলে কোনো স্কোর নাও থাকতে পারে। একে সাধারণভাবে ‘ক্রেডিট ইনভিজিবল’ বা সীমিত ক্রেডিট হিস্ট্রি বলা হয়।   কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ভালো ক্রেডিট হিস্ট্রি গড়ে উঠলে হাউজিং, ক্রেডিট কার্ড ও বিভিন্ন ধরনের লোন পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা হতে পারে। নিয়মিত ও সময়মতো পেমেন্ট করা একটি শক্তিশালী ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   নতুন অভিবাসীদের একটি সাধারণ ভুল ধারণা হলো, ফোন বিল বা নিয়মিত রেন্ট দিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব পেমেন্ট ক্রেডিট রিপোর্টে যুক্ত হয়। বাস্তবে সব ফোন, ইউটিলিটি বা রেন্ট পেমেন্ট নিয়মিতভাবে তিনটি প্রধান ক্রেডিট ব্যুরোতে রিপোর্ট করা হয় না। তবে নির্দিষ্ট রেন্ট রিপোর্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সময়মতো দেওয়া ভাড়ার তথ্য ক্রেডিট রিপোর্টে যুক্ত হলে তা ক্রেডিট তৈরিতে সহায়তা করতে পারে।   ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকলে একটি সিকিউরড ক্রেডিট কার্ড দিয়ে শুরু করা একটি প্রচলিত উপায়। এ ধরনের কার্ডে সাধারণত আগে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের সিকিউরিটি ডিপোজিট রাখতে হয়। এরপর কার্ডটি ব্যবহার করে প্রতি মাসে সময়মতো বিল পরিশোধ করলে সেই পেমেন্ট হিস্ট্রি ক্রেডিট ব্যুরোতে রিপোর্ট হওয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে ক্রেডিট প্রোফাইল তৈরি হতে পারে।   শুধু ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলেই অবশ্য ভালো স্কোর নিশ্চিত হয় না। সময়মতো পেমেন্ট করা, ক্রেডিট লিমিটের তুলনায় ব্যালেন্স নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অল্প সময়ে অনেক নতুন ক্রেডিট অ্যাকাউন্টের জন্য আবেদন না করাও গুরুত্বপূর্ণ।   ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকলেও অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া অসম্ভব নয়। কোনো কোনো বাড়িওয়ালা স্থায়ী চাকরি ও পর্যাপ্ত আয়ের প্রমাণ, আগের বাড়িওয়ালার রেফারেন্স অথবা গ্যারান্টর বিবেচনা করতে পারেন। আবার অনেক প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির নিজস্ব টেন্যান্ট স্ক্রিনিং নীতি থাকে।   চাকরির ক্ষেত্রেও ক্রেডিট নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। কিছু নিয়োগকর্তা আইনসঙ্গতভাবে এবং আবেদনকারীর লিখিত অনুমতি নিয়ে ক্রেডিট রিপোর্টসহ ব্যাকগ্রাউন্ড রিপোর্ট দেখতে পারেন। তবে তারা সাধারণত চাকরির আবেদনকারীর ক্রেডিট স্কোর দেখতে পান না। রাজ্য ও স্থানীয় আইন অনুযায়ী এ ধরনের যাচাইয়ের ওপর আরও বিধিনিষেধ থাকতে পারে।   সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের প্রমাণ হলেও সেটি ভালো ক্রেডিট হিস্ট্রির বিকল্প নয়। নতুন অভিবাসীদের জন্য শুরু থেকেই নিজের ক্রেডিট রিপোর্ট সম্পর্কে জানা, সময়মতো পেমেন্ট করা এবং দায়িত্বশীলভাবে ক্রেডিট তৈরি করা ভবিষ্যতে অ্যাপার্টমেন্ট, মর্টগেজ, গাড়ির লোনসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে কম খরচে থাকার সুযোগ, আবাসন লটারিতে ভাড়া মাত্র ৫০০ ডলার
নিউইয়র্কে কম খরচে থাকার সুযোগ, আবাসন লটারিতে ভাড়া মাত্র ৫০০ ডলার

নিউইয়র্ক সিটির মতো বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল শহরে মাথা গোঁজার ঠাঁই পাওয়া যেখানে অত্যন্ত ব্যয়বহুল, সেখানে মাত্র ৫০০ ডলারে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া পাওয়ার এক দারুণ সুযোগ নিয়ে এসেছে ‘অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং লটারি’। শহরটির হাউজিং কানেক্ট পোর্টালের মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষেরা এই সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।   আবাসন সংকট নিরসনে এবং কর্মজীবী মানুষদের স্বস্তি দিতে নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে।   এই কর্মসূচির আওতায় নিউইয়র্কের বিভিন্ন আধুনিক ও নবনির্মিত ভবনে নির্দিষ্ট সংখ্যক অ্যাপার্টমেন্ট সাধারণ মানুষের জন্য লটারির মাধ্যমে বরাদ্দ রাখা হয়।   মূলত আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় ও পরিবারের সদস্য সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এসব অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। আয়ের নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণকারী যোগ্য প্রার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে খুব সহজেই এই লটারিতে অংশ নিতে পারেন।   যাদের আয় শহরের গড় আয়ের তুলনায় বেশ কম, তারা এই লটারির মাধ্যমে মাসিক মাত্র ৫০০ ডলার বা তার কাছাকাছি ভাড়ায় উন্নতমানের অ্যাপার্টমেন্টে থাকার সুযোগ পেতে পারেন।   লটারিতে নির্বাচিত হলে আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে নিজেদের আয়ের প্রমাণ দিতে হয়। আবাসন ব্যয় আকাশচুম্বী হওয়ার এই সময়ে এমন সাশ্রয়ী মূল্যের লটারি ব্যবস্থা অনেক স্বল্প আয়ের পরিবারের জন্যই নিউইয়র্কে টিকে থাকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন হয়ে উঠেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসরত তরুণী
বাথরুমে নেই ওয়াশবেসিন, তবু নিউইয়র্কের ৩৮০ বর্গফুটের এই ফ্ল্যাট ছাড়তে চান না তিনি

নিউইয়র্ক শহরের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এলাকাগুলোর একটি ওয়েস্ট ভিলেজে মাত্র ৩৮০ বর্গফুটের একটি ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত (রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড) অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করেন এক তরুণী। ফ্ল্যাটটিতে বাথরুমে ওয়াশবেসিন নেই, আলাদা ক্লোজেটও নেই। জায়গা কম, শীতকালে পর্যাপ্ত সূর্যের আলোও মেলে না। তবু তিনি বলছেন, এই বাসা ছেড়ে যাওয়ার কথা তিনি ভাবতেই পারেন না।   বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত এক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় তিনি জানান, নিউইয়র্কের ওয়েস্ট ভিলেজের মতো এলাকায় যেখানে একই ধরনের এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া প্রায়ই ৪ হাজার ডলার বা তারও বেশি, সেখানে তিনি ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার কারণে প্রায় ২ হাজার ডলারে এই বাসায় থাকতে পারছেন। এই অর্থনৈতিক সুবিধাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় কারণ।    তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ছোটবেলা থেকেই এই অ্যাপার্টমেন্টে বড় হয়েছেন। পরিবারের স্মৃতি, দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী এবং এলাকার সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক তাঁর কাছে বাসাটিকে শুধু একটি থাকার জায়গা নয়, বরং নিজের পরিচয়ের অংশে পরিণত করেছে।   ফ্ল্যাটটিতে পুরোনো ইটের দেয়াল, ঐতিহ্যবাহী নকশা এবং পুরোনো নিউইয়র্কের আবহ থাকলেও বাস্তব সমস্যার শেষ নেই। ছোট জায়গার কারণে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখাও কঠিন। তবে এসব সীমাবদ্ধতার চেয়ে নিরাপদ ও তুলনামূলক কম ভাড়ায় শহরের অন্যতম অভিজাত এলাকায় বসবাসের সুযোগকে তিনি অনেক বেশি মূল্য দেন।   নিউইয়র্কে রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড অ্যাপার্টমেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই আবাসন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা এসব ভবনের ভাড়ার বৃদ্ধির ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকে, ফলে বাজারদরের তুলনায় অনেক কম খরচে বাস করার সুযোগ পান ভাড়াটিয়ারা।    সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটির প্রায় ১০ লাখ রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থির রাখার সিদ্ধান্তও আলোচনায় এসেছে। সমর্থকদের মতে, এটি উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ কমাতে সহায়তা করবে। অন্যদিকে বাড়ির মালিকদের একটি অংশের দাবি, দীর্ঘ সময় ভাড়া না বাড়ালে ভবন রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।    তবে ওই তরুণীর কাছে বিতর্কের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের বাস্তবতা। তাঁর বিশ্বাস, এত কম ভাড়ায় ওয়েস্ট ভিলেজে একই ধরনের আরেকটি বাসা পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তাই ছোট জায়গা, অস্বস্তিকর বিন্যাস কিংবা কিছু দৈনন্দিন অসুবিধা মেনে নিয়েই তিনি এই অ্যাপার্টমেন্টকে নিজের ভবিষ্যতের ঠিকানা হিসেবে ধরে রাখতে চান।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
স্বপ্নের বাড়ি কিনলেও অতিরিক্ত ব্যয় ও নানা সমস্যার কারণে শেষ পর্যন্ত সেটি বিক্রি করে দেন এই দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
স্বপ্নের বাড়ি কেনাই ডেকে আনল বিপত্তি: দুই বছরের মাথায় ফ্ল্যাটে ফিরতে বাধ্য হলেন এডিনবার্গের দম্পতি

নিজস্ব একটি বাড়ি কেনার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে। বড় উঠান, ব্যক্তিগত বাগান, আলাদা কাজের ঘর কিংবা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার আকাঙ্ক্ষা মানুষকে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তে উৎসাহিত করে। কিন্তু বাস্তবে সেই স্বপ্ন অনেক সময় অতিরিক্ত খরচ, নিয়মিত মেরামত এবং জীবনযাপনের বাস্তবতার সঙ্গে মিল খুঁজে পায় না।   স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় বসবাসকারী সাংবাদিক ও লেখক সিওভান বল এবং তার স্ত্রীও এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই গেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত এক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাভিত্তিক লেখায় তিনি জানিয়েছেন, বহু প্রত্যাশা নিয়ে কেনা বাড়িতে দুই বছরের কিছু বেশি সময় থাকার পর তারা সেটি বিক্রি করে আবার একটি আধুনিক অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে গেছেন। তার ভাষায়, সিদ্ধান্তটি ছিল আর্থিক ও ব্যক্তিগত, দুই দিক থেকেই সঠিক।   সিওভান জানান, ১৯৮০-এর দশকে নির্মিত প্রায় ৯৫০ বর্গফুটের দুই তলা বাড়িটি প্রথম দেখাতেই তাদের ভালো লেগে যায়। বাড়িটিতে ছিল ব্যক্তিগত ছোট একটি বাগান, একটি চিলেকোঠা, আলাদা কাজের ঘর এবং গাছপালা রাখার জন্য কাচঘেরা একটি কক্ষ। শহরের কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে হলেও বাজেটের মধ্যে এমন বাড়ি পাওয়ায় তারা সেটিই কেনার সিদ্ধান্ত নেন।   তবে সেখানে বসবাস শুরু করার পরই বাস্তবতা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে থাকে। বাড়িটির বয়স প্রায় ৫০ বছর হওয়ায় নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের মেরামতের প্রয়োজন পড়তে থাকে। এক ঝড়ে ছাদের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে টালি বদলাতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়। এছাড়া বয়লার মেরামত, দেয়ালের ফাটল ঠিক করা এবং ছোটখাটো নানা সংস্কারের কাজ প্রায় নিয়মিতই চলতে থাকে।   শুধু মেরামতের খরচই নয়, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিলও তাদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি আসে। আগে অ্যাপার্টমেন্টে থাকার সময় নিচের তলার বাসিন্দাদের তাপ উপরের ফ্ল্যাটেও পৌঁছাত, ফলে আলাদা করে বেশি গরম করার প্রয়োজন হতো না। কিন্তু আলাদা বাড়িতে সেই সুবিধা ছিল না। বাড়ির নকশার কারণে ওপরের তলা গরম থাকলেও নিচের তলা অনেকটাই ঠান্ডা থেকে যেত। এই সমস্যা সমাধানে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন ছিল, যা ব্যয়বহুল।   এরই মধ্যে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় সিওভানের শারীরিক অবস্থা। তিনি জানান, আগে থেকেই চলাফেরা-সংক্রান্ত একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা ছিল। বাড়িতে ওঠার কয়েক মাসের মধ্যেই তার চলাচলের সক্ষমতা দ্রুত কমতে শুরু করে।   দুই তলা বাড়ির সিঁড়িই তখন তার জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে ওঠে। কারণ রান্নাঘর ও বাথরুম ছিল ভিন্ন ভিন্ন তলায়। প্রতিদিন কয়েকবার সিঁড়ি ব্যবহার করতে গিয়ে তাকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো। ভবিষ্যতে হুইলচেয়ার ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাড়ির নকশার কারণে সেখানে সিঁড়িতে লিফট বসানোও সহজ ছিল না।   শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যক্তিগত বাগানটিও আর পরিচর্যা করা সম্ভব হচ্ছিল না। অন্যদিকে তার স্ত্রীও কর্মব্যস্ত থাকায় নিয়মিত বাগানের দেখাশোনা করা সম্ভব হচ্ছিল না।   এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তারা বাড়িটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন। বাড়ি বিক্রির ছয় সপ্তাহের মধ্যেই এডিনবরার শহরের কেন্দ্রের কাছাকাছি একটি আধুনিক অ্যাপার্টমেন্ট কিনে সেখানে চলে যান।   নতুন অ্যাপার্টমেন্টে সব প্রয়োজনীয় কক্ষ একই তলায় হওয়ায় চলাফেরা অনেক সহজ হয়েছে বলে জানান সিওভান। পাশাপাশি বাড়িটির জ্বালানি দক্ষতা বেশি হওয়ায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিলও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ভবনের বাইরের রক্ষণাবেক্ষণের খরচও অন্য ফ্ল্যাট মালিকদের সঙ্গে ভাগাভাগি হওয়ায় বড় ধরনের ব্যয়ের ঝুঁকি নেই।   এছাড়া গণপরিবহন, রেস্তোরাঁ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বন্ধুদের বাসার কাছাকাছি থাকায় তাদের সামাজিক জীবনও আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়েছে।   সিওভানের মতে, একটি বাড়ি কাগজে-কলমে যতই আকর্ষণীয় মনে হোক না কেন, সেটি সবার জীবনধারা বা শারীরিক অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে যাবে, এমন নয়। তাই বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনার আগে শুধু সৌন্দর্য বা আকার নয়, দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের খরচ, জ্বালানি ব্যয়, অবস্থান এবং নিজের জীবনযাপনের বাস্তব চাহিদাও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
লটারির মাধ্যমে যোগ্য আবেদনকারীরা বিভিন্ন আকারের অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সুযোগ পাবেন। ছবি: সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কে সাশ্রয়ী মূল্যে ফ্ল্যাট কেনার সুবর্ণ সুযোগ, ২ হাজার ডলারের কমেই কেনা যাবে নিজস্ব ফ্ল্যাট

নিউইয়র্ক সিটিতে তুলনামূলক কম দামে নিজের অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সুযোগ এনে দিয়েছে নতুন একটি হাউজিং লটারি। আপার ম্যানহাটনের ইনউড গার্ডেনস (Inwood Gardens) নামে ২৩ তলা মিচেল-লামা (Mitchell-Lama) সমবায় আবাসন প্রকল্পে নির্দিষ্ট আয়ের যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য লটারির আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম PIX11 জানিয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় এক, দুই ও তিন শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সুযোগ থাকছে। এক শয়নকক্ষের ইউনিটের ক্রয়মূল্য শুরু হচ্ছে ১ হাজার ৮২০ ডলার থেকে। তবে অ্যাপার্টমেন্ট কেনার পাশাপাশি প্রতি মাসে নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ (মেইনটেন্যান্স) খরচও পরিশোধ করতে হবে।   প্রকল্পটির অনেক অ্যাপার্টমেন্টে বড় ব্যক্তিগত টেরেস রয়েছে। এছাড়া ভবনে ইনডোর ও আউটডোর পার্কিং, স্থায়ী ব্যবস্থাপনা অফিস, কমিউনিটি রুম এবং লন্ড্রি সুবিধাও রয়েছে।   আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এক শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য ১ হাজার ৮২০ থেকে ২ হাজার ৪৬০ ডলার। মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৭১৭ দশমিক ১৫ থেকে ৯৩৯ দশমিক ৭১ ডলার। এই ইউনিটের জন্য পরিবারের সদস্যসংখ্যা হতে হবে ১ থেকে ২ জন এবং বার্ষিক পারিবারিক আয় হতে হবে ২৮ হাজার ৬৮৬ থেকে ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০০ ডলারের মধ্যে।   দুই শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য ২ হাজার ৩৮০ থেকে ২ হাজার ৯১০ ডলার। মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৯২২ দশমিক ০৪ থেকে ১ হাজার ১২৪ দশমিক ৫২ ডলার। এ ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যসংখ্যা ২ থেকে ৪ জন এবং বার্ষিক আয় ৩৬ হাজার ৮৮১ দশমিক ৬০ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার ডলার হতে হবে।   তিন শয়নকক্ষের ইউনিটের মূল্য ৩ হাজার ৩৮০ থেকে ৩ হাজার ৯০০ ডলার। মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ১ হাজার ১৯২ দশমিক ৫৭ থেকে ১ হাজার ৪৩৫ দশমিক ২৩ ডলার। এসব ইউনিটের জন্য পরিবারের সদস্যসংখ্যা ৪ থেকে ৬ জন এবং বার্ষিক আয় ৪৭ হাজার ৭০২ দশমিক ৮০ থেকে ১ লাখ ৮৮ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।   আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। যারা কাগজের আবেদনপত্র চান, তারা নির্ধারিত ফোন নম্বরে যোগাযোগ করে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্ক সিটির মতো উচ্চমূল্যের আবাসন বাজারে Mitchell-Lama কর্মসূচি মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসনের সুযোগ তৈরি করে আসছে। তবে আবেদনকারীদের নির্ধারিত আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। লটারিতে নির্বাচিত হওয়ার পরও চূড়ান্ত যোগ্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে আবেদন অনুমোদন করা হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

আইসিওতে ডাক্তার ছবি:সংগৃহীত

কোলনোস্কপির সময় ভুল করে ফোন অন, সেই রেকর্ডেই জিতলেন ৫ লাখ ডলার

Unknown আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০