আফগানিস্তান

আফগানিস্তানে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প, পাকিস্তানেও কম্পন অনুভূত
আফগানিস্তানে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প, পাকিস্তানেও কম্পন অনুভূত

আফগানিস্তানে মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বুধবার (১ জুন) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ২৭ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে ভারতের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)।   মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বাদাখশান প্রদেশের জুর্ম জেলা। ভূপৃষ্ঠের নিচে মাঝারি গভীরতায় সংঘটিত এই কম্পন আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে অনুভূত হয়।   শুধু আফগানিস্তানেই নয়, প্রতিবেশী পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকাতেও ভূমিকম্পের কম্পন টের পাওয়া গেছে। দেশটির ন্যাশনাল সিসমিক মনিটরিং সেন্টার (এনএসএমসি) জানায়, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারসহ সোয়াত, শাংলা, বুনের, লোয়ার দির এবং আশপাশের এলাকায় মানুষ কম্পন অনুভব করেন। অনেক জায়গায় বাসিন্দারা আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।   তবে এখন পর্যন্ত এই ভূমিকম্পে আফগানিস্তান বা পাকিস্তানে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।   ভূগোলগত অবস্থানের কারণে আফগানিস্তান পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই ছোট-বড় ভূমিকম্প ঘটে থাকে।   এর আগে গত ২৭ জুন দেশটিতে ৬ দশমিক ২ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই ঘটনাতেও উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।   সবশেষ প্রাণঘাতী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর। ৬ দশমিক ৩ মাত্রার সেই ভূমিকম্পে ঘরবাড়ির ছাদ ও দেয়াল ধসে অন্তত সাতজন নিহত হন এবং আহত হন প্রায় ১৫০ জন।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্বল অবকাঠামো ও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে আফগানিস্তানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। ফলে মাঝারি মাত্রার কম্পনও অনেক সময় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।   এই প্রতিবেদনটি এনডিটিভি ও আনাদোলু এজেন্সির তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
বেলুচিস্তান সীমান্তে ৪ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি পাকিস্তানের
বেলুচিস্তান সীমান্তে ৪ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি পাকিস্তানের

আফগানিস্তান সীমান্ত ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আফগান ভূখণ্ড থেকে পাঠানো চারটি ড্রোন বেলুচিস্তান সীমান্ত এলাকায় ভূপাতিত করার দাবি করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা Inter-Services Public Relations (আইএসপিআর) এ ঘটনাকে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ‘ব্যর্থ উসকানি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।   মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, আফগান তালেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে চারটি সাধারণ ড্রোন পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। তাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের ভেতরে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহায়তায় এসব ড্রোন পাঠানো হয়েছিল।   বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত ড্রোনগুলো শনাক্ত করে এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরাপত্তা বাহিনী সেগুলো ধ্বংস করে। এতে সম্ভাব্য হামলার চেষ্টা নস্যাৎ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।   এ ঘটনায় আফগান তালেবান সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে ইসলামাবাদ। আইএসপিআর বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা নিজেদের জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান আফগান কর্তৃপক্ষকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সহায়তা বন্ধ করা এবং এমন ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি মেনে চলারও কথা বলা হয়েছে।   পাকিস্তান সেনাবাহিনী সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো উসকানির জবাব ‘অপারেশন গাজাব লিল হক’-এর আওতায় দ্রুত ও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য যেকোনো হুমকি প্রতিহত করতে তারা প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে Russia। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে সংযম প্রদর্শন এবং দ্বিপাক্ষিক বিরোধ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উপায়ে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।   রাশিয়ার পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক পাকিস্তানি বিমান হামলাকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। যদিও পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আফগান তালেবান—উভয় পক্ষই নিহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করেছে।   মস্কো বলছে, ইসলামাবাদ ও কাবুলের উচিত সশস্ত্র সংঘাত থেকে সরে এসে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা। পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনা দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। সংবাদমাধ্যম সামা টিভি অনলাইনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই তথ্য জানা গেছে।

নীলুফা নিশাত জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
পাকিস্তানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আফগানিস্তান
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলার নিন্দা ভারতের, বলল ‘সার্বভৌমত্বের ওপর আগ্রাসন’

আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। নয়া দিল্লি এ সামরিক পদক্ষেপকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আগ্রাসন আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, রোববার ও সোমবারের মধ্যবর্তী রাতে আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তানের চালানো বিমান হামলা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। ভারতের দাবি, নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে পাকিস্তান প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।   বিবৃতিতে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আফগান বেসামরিক নাগরিকদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়।   অন্যদিকে আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন তালেবান সরকার জানিয়েছে, পাকিস্তানের বিমান হামলায় দেশটির পূর্বাঞ্চলের তিনটি সীমান্তবর্তী প্রদেশে অন্তত ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৬৩ জন আহত হয়েছেন।   পাক্তিয়া প্রদেশের বাসিন্দা ৬৩ বছর বয়সী আদম খান বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, হাসপাতালে আহত শিশুদের অবস্থা এবং স্বজনদের আহাজারি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।   পাক্তিকা প্রদেশের স্থানীয় সমাজকর্মী আমিন মঙ্গালের দাবি, একটি পরিবারের বাড়িতে বোমা হামলায় একই পরিবারের ছয় সদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন।   আফগানিস্তানের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত অভিযোগ করেন, প্রথম দফার হামলার পর উদ্ধারকাজে মানুষ জড়ো হলে একই স্থানে দ্বিতীয়বার হামলা চালানো হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।   পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন, অভিযানে পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি)-এর সহযোগী সংগঠন জামাত-উল-আহরারের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ২৯ জন সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।   জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানের হামলার পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘাত। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ইসলামাবাদ ও কাবুলের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারি থেকে সীমান্ত পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।   আফগান কর্তৃপক্ষ বরাবরই তাদের ভূখণ্ডে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

Unknown জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের ‘ডাবল-ট্যাপ’ বিমান হামলা
আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের ‘ডাবল-ট্যাপ’ বিমান হামলা: নিহত অন্তত ৩৫, তীব্র নিন্দা তালেবানের

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তান বিমান বাহিনীর চালানো ধারাবাহিক বিমান হামলায় শিশু ও বৃদ্ধসহ অন্তত ৩৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ। ঘটনাটি ঘিরে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, রোববার (২৮ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানগুলো আফগানিস্তানের পাক্তিকা, পাক্তিয়া ও কুনার প্রদেশের সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় বোমাবর্ষণ শুরু করে। গায়ান, চামকানি ও মারাওয়ারা জেলার বিভিন্ন আবাসিক বাড়ি ও মসজিদ লক্ষ্য করে প্রথম দফার হামলা চালানো হয়।   সামরিক পরিভাষায় ‘ডাবল-ট্যাপ’ হিসেবে পরিচিত কৌশলে প্রথম হামলার কিছুক্ষণ পর একই স্থানে আবার আঘাত হানা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রথম বিস্ফোরণের পর গ্রামবাসীরা যখন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষদের উদ্ধারে ছুটে আসেন, তখন প্রায় ২৫ মিনিটের ব্যবধানে পাকিস্তানি বিমানগুলো ফিরে এসে দ্বিতীয় দফায় বোমাবর্ষণ করে। এই দ্বিতীয় হামলায় উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া নিরস্ত্র সাধারণ মানুষও হতাহত হন, ফলে নিহতের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়।   আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি একে ‘কাপুরুষোচিত আগ্রাসন’ ও ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, “আমরা এই হামলাকে কঠোরভাবে নিন্দা জানাই। এটি মানবতার বিরুদ্ধে একটি অপরাধ এবং চরম বর্বরতার প্রকাশ।”   তালেবান প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৪ থেকে ৯ বছর বয়সী শিশু এবং বেশ কয়েকজন বয়োবৃদ্ধ রয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতালগুলোর ভিডিওচিত্রে রক্তাক্ত শিশুদের চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। চামকানি এলাকার এক বাসিন্দা দাবি করেছেন, সেখানে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি ছিল না; সাধারণ গ্রামবাসীরাই হামলার শিকার হয়েছেন।   তবে পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় দাবি করেন, সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার জবাব হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, খাইবার পাখতুনখোয়া, বেলুচিস্তান ও করাচিতে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়।   পাকিস্তানের দাবি, এই অভিযানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-আহরার এবং ‘ফিতনা আল খওয়ারিজ’-এর ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ২৯ জন উগ্রবাদীকে হত্যা করা হয়েছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। যদিও কাবুল এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে।   এদিকে এই সামরিক অভিযানের পাশাপাশি পাকিস্তানের অভ্যন্তরেও একাধিক ইস্যুতে উত্তেজনা বাড়ছে। করাচিতে রেঞ্জার্স দপ্তরে হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ‘বিদেশি সংশ্লিষ্টতা’র অভিযোগ তুললেও ভারত তা ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।   অন্যদিকে বেলুচিস্তানে মানবাধিকারকর্মী মাহরাং বালোচকে একটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে দেশের অন্যতম বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্ক জিও নিউজের সম্প্রচার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে এই হামলা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা—দুটিই পাকিস্তানের জন্য নতুন করে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান, ২৯ সন্ত্রাসী নিহতের দাবি

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিচালিত এক সামরিক অভিযানে ২৯ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। দেশটির সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ধারাবাহিক হামলার জবাবে সীমান্তবর্তী এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। খবর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের।   রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, দেশজুড়ে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা বাহিনী পরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আস্তানাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে ২৯ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।   এ বিষয়ে আফগান সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্বাধীনভাবে পাকিস্তানের দেওয়া হতাহতের তথ্যও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশকে লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাকিস্তান সরকারের দাবি, এসব হামলার বেশিরভাগের জন্য দায়ী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। দীর্ঘদিন ধরেই ইসলামাবাদ অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চল ব্যবহার করে টিটিপির সদস্যরা পাকিস্তানে হামলা চালায়। তবে কাবুল এ অভিযোগ অস্বীকার করে।   সীমান্ত অভিযানের এক দিন আগে পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী করাচিতে আধাসামরিক বাহিনী পাকিস্তান রেঞ্জার্সের সদর দপ্তরে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। বন্দুক ও বিস্ফোরক নিয়ে হামলা চালানো ওই ঘটনায় তিন রেঞ্জার্স সদস্য নিহত হন। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে তিন হামলাকারী নিহত হয় এবং আহত অবস্থায় আরও একজনকে আটক করা হয়।   পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর দাবি, আটক ব্যক্তি একজন আফগান নাগরিক। শনিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে করাচির হামলার দায় স্বীকার করে পাকিস্তানি তালেবান থেকে বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী জামাত-উল-আহরার।   তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, সর্বশেষ সীমান্ত অভিযানে পাকিস্তানি তালেবানের ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। যদিও আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান ও তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) পৃথক সংগঠন, পাকিস্তানের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, দুই পক্ষের মধ্যে আদর্শিক ও সাংগঠনিক সম্পর্ক রয়েছে। আফগান তালেবান অবশ্য বারবার এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।   নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান দুই দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় সীমান্ত পরিস্থিতি এবং সন্ত্রাসবিরোধী তৎপরতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের নজরও বাড়ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
আফগানিস্তানে ৬.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প l ছবি: সংগৃহীত
আফগানিস্তানে ৬.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, কাঁপল দিল্লি ও উত্তর ভারত

শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলে ৬.২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভারতের জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (এনসিএস) জানিয়েছে, ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোও এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২১৫ কিলোমিটার গভীরে। উৎপত্তিস্থল এত গভীরে হওয়ার কারণে কম্পনের মাত্রা বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে এবং আফগানিস্তানের সীমানা পেরিয়ে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি, দিল্লি-এনসিআর, জম্মু-কাশ্মীর ও উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা তীব্রভাবে কেঁপে ওঠে।   হঠাৎ করে অনুভূত হওয়া এই ভূকম্পনে দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিজেদের সুরক্ষায় বহু মানুষ তড়িঘড়ি করে ঘরবাড়ি ও বহুতল ভবন ছেড়ে খোলা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা জানাতে শুরু করেন নেটিজেনরা। ফেসবুক ও এক্স-এর (সাবেক টুইটার) মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে অনেকেই ঘরের আসবাবপত্র দুলতে থাকা এবং নিজেদের ভীতিকর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে পরিস্থিতি তুলে ধরেন।   প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, আফগানিস্তান বা ভারত—কোথাও এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভারত ও আফগানিস্তানের পাশাপাশি পাকিস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান এবং চীনের কিছু অংশেও এই কম্পন অনুভূত হওয়ার তথ্য জানা গেছে। ভূতাত্ত্বিকদের মতে, হিন্দুকুশ অঞ্চলটি অত্যন্ত সক্রিয় একটি ভূকম্পনপ্রবণ এলাকা এবং ইন্ডিয়ান ও ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এই অঞ্চলে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনে থাকে। গভীরতা বেশি হওয়ায় ভূপৃষ্ঠে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ইউরোপের মাটিতে পা রাখল তালেবান প্রতিনিধিদল l ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ইউরোপের মাটিতে পা রাখল তালেবান প্রতিনিধিদল, ব্রাসেলসে নির্বাসন ইস্যুতে বৈঠক

আফগানিস্তানে ক্ষমতায় ফেরার প্রায় পাঁচ বছর পর প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আমন্ত্রণে ব্রাসেলসে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে তালেবান প্রতিনিধিদল। ইউরোপে থাকার অধিকার না থাকা এবং আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হওয়া আফগান নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।   বেলজিয়ামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর গত সোমবার তালেবানের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলকে বেলজিয়ামে প্রবেশের জন্য মাত্র এক দিনের ভিসা দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশন নিশ্চিত করেছে যে, ২৭ জাতির এই জোটে অবৈধভাবে প্রবেশ করা আফগানদের নির্বাসনের বিষয়ে আলোচনা করতে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, এই বৈঠকের অর্থ কোনোভাবেই ব্রাসেলস কর্তৃক তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া নয়। বরং এটি কেবল অবৈধ অভিবাসন ঠেকানোর একটি প্রায়োগিক পদক্ষেপ।   ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র মার্কাস ল্যামার্ট সংবাদ সম্মেলনে জানান, যেসব আফগান নাগরিক গুরুতর অপরাধে জড়িত কিংবা যারা ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য হুমকি, তাদের ফেরত পাঠানোর উপায় খুঁজছে ইইউর সদস্য দেশগুলো। মূলত ইউরোপ জুড়ে কট্টর ডানপন্থি রাজনীতির উত্থান এবং অভিবাসন নীতির প্রতি জনসাধারণের কঠোর মনোভাবের কারণেই ইইউ দেশগুলো অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করছে। এর আগে গত বছর প্রায় ২০টি ইইউ সদস্য রাষ্ট্র গুরুতর অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত অভিবাসীদের আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু কূটনৈতিক সম্পর্কের অভাবে এতদিন তা সীমিত ছিল।   তবে ইইউর এমন উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংস্থাগুলো এই বৈঠক বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনগুলোর দাবি, তালেবান শাসনভার নেওয়ার পর থেকে আফগানিস্তানে নারী অধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং দেশটিতে বর্তমানে ভয়াবহ মানবিক ও খাদ্য সংকট চলছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ইউরোপীয় কার্যালয়ের পরিচালক ইভ গেডি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, মাত্র কয়েক বছর আগেই আফগানিস্তান থেকে ইউরোপীয় কর্মীসহ সাধারণ মানুষের মরিয়া হয়ে পালানোর দৃশ্য বিশ্ববাসী দেখেছে। এমন একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে আফগানদের জোরপূর্বক সেখানে ফেরত পাঠানো হবে চরম অমানবিক ও অগ্রহণযোগ্য।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের ভেতরে আফগানিস্তানের আকস্মিক হামলা, চরমে দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা

প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং ‘বৈরী গোয়েন্দা চক্রের’ আস্তানায় আকস্মিক বিমান হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান। শুক্রবার আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এই নজিরবিহীন হামলা চালানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির জন্য এই ঘটনাকে নতুন ও বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কয়েক মাসের মধ্যে কাবুলের পক্ষ থেকে এটিই প্রথম কোনো বড় ধরনের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের আনুষ্ঠানিক দাবি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, আইএসআইএল-খোরাসান (আইএসআইএস-কে) এর এসব ঘাঁটি ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট ‘বৈরী গোয়েন্দা চক্রের’ (সম্ভবত পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা) সহযোগিতায় আফগানিস্তানে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। হামলায় আইএস-কে নেতাদের ব্যবহার করা একটি স্থাপনা ধ্বংসসহ ‘গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু’তে আঘাত হানার দাবি করেছে কাবুল। আন্তর্জাতিক সামরিক তথ্যমতে, আফগানিস্তানের কোনো যুদ্ধবিমান না থাকলেও তাদের ড্রোন, হেলিকপ্টার ও বেশ কয়েকটি এয়ারক্রাফট রয়েছে, যা এই হামলায় সফলভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।   তবে আফগানিস্তানের এই হামলার দাবি তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। শুক্রবার পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আফগান দাবিকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যায়িত করেছে। উল্টো তারা দাবি করেছে যে, আইএস বা দায়েশসহ দুই ডজনেরও বেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আস্তানা মূলত আফগান তালেবানদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাতেই অবস্থিত এবং সেখান থেকেই তাদের মদদ দেওয়া হচ্ছে।   ২০২১ সালে তালেবানরা পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে চরম বৈরিতা বিরাজ করছে। পাকিস্তান নিয়মিত অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তান তাদের ভূখণ্ডে টিটিপি-সহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানে হামলা চালায়। অন্যদিকে আফগানিস্তান একে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা বলে দাবি করেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাবে আফগানিস্তান পাল্টা হামলা চালালে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়।   জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই সীমান্ত সংঘাতে অন্তত ৩৭২ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ৩৯৭ জন আহত হয়েছেন। এমনকি গত সপ্তাহেও আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ১১ শিশুসহ ১৩ জন নিহত হওয়ার দাবি করেছিল তালেবান প্রশাসন, যদিও পাকিস্তানের দাবি ছিল তারা ২৬ জন যোদ্ধাকে হত্যা করেছে।   এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে চীনের মধ্যস্থতায় শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চললেও তা এখনো মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। শুক্রবার আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অত্যন্ত কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, আফগানিস্তান তার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর আর কোনো হুমকি কখনোই সহ্য করবে না এবং যেকোনো হুমকিকে উৎসেই নির্মূল করতে তারা তাদের সম্ভাব্য সব ধরনের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি চাকরিজীবীদের স্মার্টফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিল আফগানিস্তান

আফগানিস্তানের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার নির্দেশনার পর এ বিষয়ে একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, আগামী ১৭ জুন থেকে সরকারি কর্মচারীদের স্মার্টফোন ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।   পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়ে একটি চিঠি গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। চিঠিটিতে আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ আদালতের প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে।   চিঠিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন প্রদেশের সকল বিভাগীয় প্রধানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন তাদের অধীনস্থ উচ্চপদস্থ ও নিম্নপদস্থ সব কর্মচারীকে স্মার্টফোন ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি অবহিত করেন।   চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১৭ জুন থেকে স্মার্টফোন ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। এই নির্দেশনা সামরিক ও বেসামরিক উভয় বিভাগের সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। এতে বলা হয়, এই নিষেধাজ্ঞা থেকে কাউকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা কেবল সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার হাতে থাকবে।   বিষয়টি সম্পর্কে জানতে আফগান সরকারের দুই মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ডন। তবে তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। একইভাবে, আদেশসংক্রান্ত চিঠির বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলেও আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।   সূত্র: ডন

Unknown জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ এ বি সি
কাতারের মার্কিন ঘাঁটিতে বন্দি আফগান কিশোরী, পেছনে ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি

কাতারের দোহায় অবস্থিত একটি অব্যবহৃত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে (ক্যাম্প আস-সাইলিয়াহ) আটকা পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে ১৫ বছর বয়সী আফগান কিশোরী জাহরা মুহিব।   চারদিকে ধূসর উঁচু দেয়ালে ঘেরা ছোট একটি রুমে একটি কার্পেট, রঙিন কমফোর্টার এবং কয়েকটি ছবি দিয়ে সে নিজের মতো করে একটি ঘর বানানোর চেষ্টা করেছে। এই বন্দিদশাতেই জীবনের দুটি জন্মদিন পার করেছে সে।   যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মাধ্যমে আরও প্রায় ১ হাজার ১০০ জন আফগান শরণার্থীর সাথে এই ঘাঁটিতে আশ্রয় পেয়েছিল জাহরা, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।   তবে, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শরণার্থী পুনর্বাসন কার্যক্রম স্থগিত করে যে নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন, তার ফলেই মাঝপথে থমকে গেছে এই অসহায় মানুষদের ভবিষ্যৎ।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাহরা জানায়, ট্রাম্পের ওই আদেশের পর থেকে তার ভবিষ্যতের সমস্ত স্বপ্ন আমূল বদলে গেছে এবং পুরো ক্যাম্প জুড়েই এর নেতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে।   এখানকার জীবনকে জেলের চেয়েও ভয়াবহ উল্লেখ করে সে আক্ষেপ নিয়ে বলে, "ক্যাম্পের বাইরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হলে তারা আমাদের শরীরে জিপিএস ট্র্যাকার পরিয়ে দেয়, যাতে আমরা পালাতে না পারি।   আমার মনে হয়, এখানকার চেয়ে হয়তো জেলখানাও অনেক ভালো।" এই অমানবিক পরিস্থিতি থেকে কবে মুক্তি মিলবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে জাহরা ও তার মতো আরও অসংখ্য শরণার্থী পরিবার।   সংবাদমাধ্যমের কাছে ক্যাম্পের এই দুরবস্থা নিয়ে কথা বলার পর ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তুলেছে এই কিশোরী।   জাহরা জানায়, কর্মকর্তারা তাকে ও তার বাবা-মাকে শাসিয়ে বলেছে যে, সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলে তারা নিজেদের আবার আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।   যদিও জাহরার এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, এই কথিত ঘটনার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই এবং বাসিন্দাদের সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে খতিয়ে দেখা হয়।   তবে, যেকোনো সময় জোরপূর্বক আবারও তালেবান শাসিত আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর আতঙ্ক এই মার্কিন ঘাঁটিতে থাকা অসংখ্য আফগান শরণার্থীর মনে তীব্র রূপ ধারণ করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
হেরাতে হিজাব বিতর্কে বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতের অভিযোগ
হেরাতে হিজাব বিতর্কে বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতের অভিযোগ

আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশে ‘শালীনভাবে’ হিজাব না পরার অভিযোগে নারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। বিরল এই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর বলপ্রয়োগে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তারা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে আফগান নিরাপত্তা বাহিনী লাঠি, চাবুক এবং গুলি ব্যবহার করে। কিছু ক্ষেত্রে তাজা গুলি ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। বিক্ষোভে শুধু নারীরাই নয়, অনেক পুরুষও অংশ নেন।   আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে এক বিক্ষোভকারী জানান, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠি, চাবুক ও অস্ত্র ব্যবহার করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আকাশের দিকে গুলিও ছোড়ে।   এএফপির এক ফটোগ্রাফার জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের মারধর করতে এবং গুলি ছুড়তে দেখা গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বহু মানুষ আহত হয়েছেন।   এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, কিছু নারী মারধর বন্ধের জন্য চিৎকার করছেন। একই সময় আশপাশ থেকে গুলির শব্দও শোনা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।   তবে হেরাত পুলিশের পক্ষ থেকে বিক্ষোভে কেউ নিহত হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। হেরাত পুলিশ কমান্ডের মুখপাত্র সৈয়দ মাসুদ হোসেনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের কারণে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেয়।   উল্লেখ্য, ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে নারীদের পোশাক, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপর একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব নীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছে।   বিবিসি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই ঘটনা দেশটিতে নারীর অধিকার ও জনসমাবেশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

নীলুফা নিশাত জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০
আফগানিস্তানে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভ!
আফগানিস্তানে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভ, তালেবানের গুলিবর্ষণ

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে নারীদের কঠোর পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সাম্প্রতিক ধরপাকড়ের প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিরল বিক্ষোভে সরাসরি গুলি চালিয়েছে তালেবান বাহিনী। গত মঙ্গলবার সংঘটিত এই বর্বরোচিত হামলায় অন্তত এক নারী ও এক শিশু নিহত হয়েছেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির বরাত দিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রায় পাঁচ বছর আগে ক্ষমতা দখলের পর থেকে তালেবান যেকোনো ধরনের ভিন্নমতের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালিয়ে আসছে, তবে এদিন মৃত্যুভয় উপেক্ষা করেই অধিকার আদায়ের দাবিতে রাজপথে নেমেছিলেন সাধারণ নারী-পুরুষ।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, তালেবান নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করছে এবং সরাসরি গুলি ছুড়ছে। এর জবাবে বিক্ষোভকারীরাও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন এবং কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান দেন। হেরাতের একটি স্থানীয় হাসপাতালের এক চিকিৎসক তালেবানের রোষানলে পড়ার ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অন্তত তিনজনকে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং চিকিৎসকদের তথ্যমতে, এই ভয়াবহ সংঘর্ষে এক ডজনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।   এই বিক্ষোভের মূল কারণ ছিল মূলত তালেবানের 'নীতি পুলিশ' বা মোরালিটি পুলিশ কর্তৃক সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হেরাতের প্রায় ৩০ জন নারী ও বালিকাকে আটক করা। নারীদের চুল ও মুখ ঢেকে রাখার কঠোর নিয়ম অমান্য করার অভিযোগে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। আফগানিস্তানে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত রিচার্ড বেনেট এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর এই মাত্রার বলপ্রয়োগ অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং এই সহিংসতার জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এছাড়া, জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত মিশন প্রধান জর্জেট গ্যাগনন অভিযোগ করেছেন যে, তালেবান প্রশাসন নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জনসমক্ষে চলাচলের মতো মৌলিক অধিকারগুলো কেড়ে নিয়েছে; এমনকি নারীদের কণ্ঠস্বর ও মুখমণ্ডল দেখানোকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।   তবে তালেবান প্রশাসন সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানোর বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। হেরাত প্রদেশের পুলিশের মুখপাত্র সৈয়দ মাসুদ হুসাইনি দাবি করেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী কেবল জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের আইনি দায়িত্ব পালন করেছে এবং পুলিশের গুলিতে কোনো বেসামরিক নাগরিক আহত হননি। তার মতে, হিজাব পালনের মতো ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার বিরোধিতা করে কিছু মানুষ উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করছিল। অন্যদিকে, হেরাতের নীতি পুলিশের প্রধান শেখ আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক অডিও বার্তায় নারীদের আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেন, ওই প্রদেশের সব নারীই তালেবানের পোশাকবিধি সঠিকভাবে মেনে চলছেন।

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
তালেবান সরকারের অধীনে আফগানিস্তান স্থিতিশীল রয়েছে, জানাল জাতিসংঘের সহায়তা মিশন

আফগানিস্তানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ইমারাতে ইসলামিয়ার অধীনে দেশটি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে আফগানিস্তানে জাতিসংঘ সহায়তা মিশন বা ইউনামা। সোমবার (৮ জুন) আফগানিস্তানের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই মন্তব্য করেন ইউনামার রাজনৈতিক বিষয়ক উপ-বিশেষ প্রতিনিধি জর্জেট গ্যাগনন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমান কর্তৃপক্ষের শাসনের বিরুদ্ধে দেশটিতে উল্লেখযোগ্য কোনো সশস্ত্র বা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ আপাতত নেই।   নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে জর্জেট গ্যাগনন উল্লেখ করেন, ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাকে নিজেদের অন্যতম প্রধান অর্জন হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। তবে দেশটির দীর্ঘমেয়াদি পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ মূলত বাস্তবে ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষের শাসন কাঠামোর অভ্যন্তরীণ গতিশীলতার ওপরই নির্ভর করছে বলে মনে করেন তিনি। গ্যাগনন আরও জানান, এখন পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের চিত্র থেকে যা দেখা যাচ্ছে, তাতে ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যদিও এর কোনো স্পষ্ট চূড়ান্ত রূপ এখনো নির্ধারিত হয়নি।   একই বৈঠকে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু কং। তিনিও আফগানিস্তানের বর্তমান স্থিতিশীলতার বিষয়টি স্বীকার করে নেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন যে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলেও দেশটিতে মানবিক সহায়তা প্রদান এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার মতো চ্যালেঞ্জগুলো এখনো অত্যন্ত জটিল ও গুরুতর পর্যায়ে রয়ে গেছে।   আফগান জনগণের কল্যাণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দেশটিতে স্থায়ী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন চীনা প্রতিনিধি। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং আফগানিস্তানের বর্তমান কর্তৃপক্ষকে পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে একটি অভিন্ন পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।   উল্লেখ্য, আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এই বৈঠকটি ছিল ইউনামার পূর্বঘোষিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের প্রথমটি। আগামী ১৬ জুন দ্বিতীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে ইউনামার ম্যান্ডেট বা কার্যপরিধির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সেনাসদস্য বেন রবার্টস-স্মিথ
যুদ্ধনায়ক থেকে যুদ্ধাপরাধী: অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার

আফগানিস্তানে মোতায়েন থাকাকালীন নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার দায়ে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে আলোচিত ও সম্মানজনক পদকপ্রাপ্ত সাবেক সেনাসদস্য বেন রবার্টস-স্মিথকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৪৭ বছর বয়সী এই সাবেক স্পেশাল ফোর্স সদস্যের বিরুদ্ধে পাঁচটি খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে।  মঙ্গলবার সিডনি বিমানবন্দর থেকে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশে দায়িত্ব পালনের সময় রবার্টস-স্মিথ এই নৃশংস অপরাধগুলো সংঘটিত করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিরস্ত্র বন্দিদের সরাসরি গুলি করে অথবা তার অধীনস্থদের দিয়ে গুলি করিয়ে হত্যা করেছেন।  এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি এক আফগান বেসামরিক ব্যক্তিকে পাহাড়ের খাদ থেকে লাথি মেরে ফেলে দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে তাকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান 'ভিক্টোরিয়া ক্রস' জয়ী এই সেনাসদস্য এতদিন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসলেও, দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশ তার বিরুদ্ধে শক্ত প্রমাণ পায়।  যদি এই অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়, তবে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই গ্রেপ্তারকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
অবশেষে চীনের মধ্যস্থতায় আলোচনায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তান

সীমান্তে কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর উত্তেজনা কমাতে চীনের উরুমকিতে আলোচনায় বসেছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বেইজিংয়ের বিশেষ কূটনৈতিক উদ্যোগে এই শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে বলে উভয় দেশ নিশ্চিত করেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আনদাব্রাবি জানান, সীমান্তে চলমান অস্থিরতা নিরসন ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ থেকে পাঠানো হয়েছে।   গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ সীমান্ত সংঘর্ষে দুই দেশের বিপুল সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক ও সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। পাকিস্তানে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন ‘টিটিপি’কে (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) আফগানিস্তান আশ্রয় দিচ্ছে—ইসলামাবাদের এমন অভিযোগের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে আফগান সরকার বরাবরই তাদের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এই আস্থার সংকট কাটাতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চীন গঠনমূলক ভূমিকা পালন করছে।   এর আগে তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতারের অনুরোধে গত ১৮ মার্চ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল দুই দেশ। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে চীনের এই মধ্যস্থতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখন দেখার বিষয়, উরুমকির এই আলোচনা দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ ও আস্থার সংকট নিরসনে কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

তাবাস্সুম এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
মোজতবা খামেনি/ফাইল ছবি
শত্রু দমনে ঐক্যের ডাক মোজতবা খামেনির

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, ইরানি জনগণের ইস্পাতকঠিন ঐক্যই শত্রু পক্ষকে পিছু হটতে বাধ্য করবে। খামেনির দাবি, একই সঙ্গে রোজা রাখা ও ‘সংগ্রাম’ চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ইরানিরা যে অদম্য মনোবল দেখিয়েছে, তার ফলে প্রতিপক্ষরা এরই মধ্যে দুর্বল হতে শুরু করেছে।   আঞ্চলিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে খামেনি অভিযোগ করেন, বহিরাগত শত্রুরা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি। এছাড়া, প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান সংকট নিরসনে ইরান মধ্যস্থতা করতে এবং সংলাপ সহজতর করতে প্রস্তুত বলেও ঘোষণা দেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সরাসরি শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে খামেনি বলেন, সমষ্টিগত শক্তি ও জনগণের সংহতিই এই শক্তিগুলোর উচ্চাকাঙ্ক্ষা ব্যর্থ করে দেবে। তার মতে, ইরানি সমাজের অভ্যন্তরীণ সংহতিই আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ ও বাহ্যিক চাপ মোকাবেলায় সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এবং এটিই শেষ পর্যন্ত শত্রুর পরাজয় নিশ্চিত করবে।

তাবাস্সুম মার্চ ১৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
আমেরিকা

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০