যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসীদের নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়া আরও ব্যয়বহুল হতে পারে। দেশটির প্রশাসন নাগরিকত্ব আবেদন ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে, যা কার্যকর হলে আবেদনকারীদের অতিরিক্ত কয়েকশ ডলার ব্যয় করতে হবে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS) প্রস্তাবিত বিধিমালায় জানিয়েছে, নাগরিকত্বের জন্য ব্যবহৃত এন-৪০০ (N-400) ফরম কাগজে জমা দিলে আবেদন ফি বর্তমান ৭৬০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলার হবে। অনলাইনে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ফি ৭১০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ২৮০ ডলার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে নাগরিকত্ব আবেদনকারীদের ব্যয় গড়ে প্রায় ৫৭০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। প্রস্তাবে নিম্ন আয়ের আবেদনকারীদের জন্য বিদ্যমান ফি মওকুফ এবং ফি কমানোর সুবিধা বাতিলের কথাও বলা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের জন্য এ সুবিধা বহাল থাকবে। তবে এ পরিবর্তন এখনই কার্যকর হচ্ছে না। এটি একটি প্রস্তাবিত বিধিমালা, যা বাস্তবায়নের আগে জনমত গ্রহণ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। প্রশাসনের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব আবেদন যাচাই, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ব্যয়ের পূর্ণ অর্থ জোগান দিতেই ফি বাড়ানোর প্রয়োজন হয়েছে। অন্যদিকে অভিবাসন অধিকারকর্মী ও সমালোচকদের দাবি, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বৈধ অভিবাসীদের জন্য নাগরিকত্ব অর্জন আরও কঠিন হয়ে উঠবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের আবেদনকারীরা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব আবেদন ফি তুলনামূলকভাবে এমন পর্যায়ে রাখা হয়েছিল যাতে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দারা নাগরিকত্ব গ্রহণে উৎসাহিত হন। নতুন প্রস্তাব সেই নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তারা মনে করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরোপের সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতার মধ্যেই এই উদ্যোগ এসেছে। ফলে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠোর করেছে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)। নতুন নীতিমালার আওতায় এখন থেকে গ্রিন কার্ডের জন্য ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ (এওএস) আবেদনকারীদের সম্পূর্ণ অভিবাসন ইতিহাস পর্যালোচনা করা হবে এবং শুধু যোগ্যতা অর্জন করলেই আবেদন অনুমোদিত হবে না। গত ২২ মে ২০২৬ প্রকাশিত নতুন নির্দেশনায় ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস আর স্বাভাবিক বা স্বয়ংক্রিয় সুবিধা নয়; বরং এটি প্রশাসনিক বিবেচনার ভিত্তিতে দেওয়া একটি বিশেষ সুযোগ। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অনেক অভিবাসীর জন্য গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ আগের তুলনায় আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানরত যোগ্য ব্যক্তিরা দেশ ছাড়াই স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে নতুন নীতির ফলে এই সুবিধা এখন কঠোর পর্যালোচনার আওতায় এসেছে। অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, নতুন নীতির প্রভাব ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে। ড্রিমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দিমিত্রি লিটভিনভের মতে, ইউএসসিআইএস কর্মকর্তারা এখন আবেদনকারীদের জিজ্ঞাসা করছেন কেন তারা নিজ দেশে কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন না করে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকেই স্ট্যাটাস পরিবর্তনের পথ বেছে নিয়েছেন। পাশাপাশি আবেদনকারীর অতীতের সব ধরনের ভিসা ও অভিবাসন সংক্রান্ত রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, আগে অনেক ক্ষেত্রে যোগ্যতা পূরণ করাই যথেষ্ট ছিল। এখন আবেদনকারীকে আলাদাভাবে প্রমাণ করতে হচ্ছে কেন তার আবেদন অনুমোদন করা উচিত। তবে কিছু আইনজীবীর মতে, নতুন নির্দেশনার বাস্তব প্রয়োগ এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয় এবং বিভিন্ন অফিসে এর প্রয়োগের ধরন ভিন্ন হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নির্দেশনার প্রধান প্রভাব পড়বে নন-ডুয়াল ইনটেন্ট ভিসাধারীদের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে বি-১/বি-২ পর্যটক ভিসা, এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা, জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসা এবং টিএন ভিসাধারীরা। অন্যদিকে এইচ-১বি ও এল-১ ভিসাধারীরা আপাতত নতুন নীতির মূল লক্ষ্যবস্তু নন। যারা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন, যেমন ইবি-৫ বিনিয়োগকারী বা কর্মসংস্থানভিত্তিক কিছু গ্রিন কার্ড আবেদনকারী, তারা তুলনামূলক কম বাধার মুখে পড়তে পারেন। এলসিআর ক্যাপিটাল পার্টনার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিলপা মেনন বলেন, এখন পর্যন্ত অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি এবং নতুন নির্দেশনার কারণে কোনো চলমান আবেদন প্রত্যাখ্যানের তথ্যও পাওয়া যায়নি। তবে এর প্রকৃত প্রভাব বুঝতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। ইউএসসিআইএসের নতুন অবস্থান অনুযায়ী, স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার স্বাভাবিক পথ হিসেবে এখন বিদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৩ অর্থবছরে ৬ লাখ ৮ হাজারের বেশি ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পেয়েছিলেন। একই সময়ে বিদেশ থেকে অভিবাসী ভিসার মাধ্যমে স্থায়ী বাসিন্দা হয়েছেন প্রায় ৫ লাখ ৬৫ হাজার মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকেই এওএস প্রক্রিয়া ব্যবহার করতেন। নতুন নীতির পর সেই ধারণা আর নিশ্চিত নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন থেকে কোনো আবেদনকারীকে ধরে নেওয়া উচিত নয় যে অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস তার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে উন্মুক্ত থাকবে। গোল্ডেন গেট গ্লোবালের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা অভিনব লোহিয়া বলেন, আবেদনকারীর অভিবাসন ইতিহাস, ভিসার ধরন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময়কার উদ্দেশ্য, বর্তমান অভিবাসন অবস্থা এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করেই কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। তার মতে, প্রতিটি আবেদন এখন পৃথকভাবে মূল্যায়িত হবে এবং আবেদনকারীদের অতীত রেকর্ড আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বাক্ষর সংক্রান্ত নতুন কঠোর নীতি চালু করতে যাচ্ছে ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনপত্রে স্বাক্ষরের সামান্য ত্রুটিও আবেদন বাতিলের কারণ হতে পারে, যা আবেদনকারীদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১০ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নীতির আওতায় কোনো আবেদন ফর্মে বৈধ স্বাক্ষর না থাকলে তা গ্রহণ পর্যায়েই বাতিল করা হবে অথবা পরবর্তী যাচাই পর্যায়ে নাকচ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে আবেদন ফি ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও থাকবে না। সংস্থাটি বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভুয়া বা অননুমোদিত স্বাক্ষরের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফটওয়্যার-নির্ভর স্বাক্ষর, কপি-পেস্ট করা ছবি বা অনুমোদনহীন ব্যক্তির স্বাক্ষর ব্যবহারের কারণে যাচাই প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছিল। নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, হাতে লেখা স্বাক্ষর অথবা মূল স্বাক্ষরের পরিষ্কার স্ক্যান কপি গ্রহণযোগ্য হবে। তবে টাইপ করা নাম, ডিজিটালভাবে তৈরি স্বাক্ষর, সিগনেচার স্ট্যাম্প কিংবা অনুমোদনহীন ব্যক্তির দেওয়া স্বাক্ষর গ্রহণযোগ্য হবে না। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে এইচ-১বি ভিসা ও কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদন প্রক্রিয়ায়। এসব আবেদন সাধারণত প্রতিষ্ঠান বা আইনজীবীদের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়, যেখানে স্বাক্ষর সংক্রান্ত ছোট ত্রুটিও বড় জটিলতা তৈরি করতে পারে। ইউএসসিআইএস আরও জানিয়েছে, আবেদন জমা দেওয়ার পরেও যদি কোনো পর্যায়ে স্বাক্ষর নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়, তাহলে পুরো আবেদন বাতিল করা হতে পারে। এমন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে, ফলে আবেদনকারীদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কাজের অনুমতি বা অভিবাসন স্ট্যাটাস ঝুঁকিতে পড়তে পারে। অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আবেদনকারী ও নিয়োগদাতা উভয় পক্ষকে আরও সতর্ক হতে হবে। প্রতিটি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে যথাযথ অনুমোদন নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করা জরুরি হয়ে উঠবে। নতুন নীতির বিষয়ে জনমত গ্রহণ চলবে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত। তবে একই দিন থেকেই এটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, ফলে প্রস্তুতির সময় সীমিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।