কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর এই আধুনিক যুগে যেকোনো অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের চাকরির ইন্টারভিউতে সফল হওয়ার বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন এক অভিজ্ঞ টেক বিশেষজ্ঞ। গুগল এবং আমাজনের মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে তিনি এই কৌশলগুলো তুলে ধরেছেন। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি খাতে নিয়োগের ক্ষেত্রে দক্ষতার পাশাপাশি এআই ব্যবহারের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শগুলো দিয়েছেন ২৯ বছর বয়সী জ্যেষ্ঠ সফটওয়্যার প্রকৌশলী আকাশ বিশাল হাজারিকা। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে কর্মরত এই প্রকৌশলী বিগত আট বছর ধরে বিশ্বখ্যাত টেক জায়ান্ট গুগল, আমাজন এবং স্প্ল্যাঙ্ক-এ অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করছেন। দীর্ঘদিন এই বিগ টেক প্রতিষ্ঠানগুলোতে যুক্ত থাকার কারণে প্রযুক্তি বিশ্বের ভেতরের নানা পরিবর্তন ও বিবর্তন খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে তার। আকাশ বিশাল হাজারিকা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখিয়েছেন যে, এআই যুগে একটি কাঙ্ক্ষিত চাকরির অফার পেতে হলে সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের ঠিক কোন ধরনের দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো একমত হয়েছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি একজন প্রকৌশলীর কাজের উৎপাদনশীলতা ও কর্মক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকেও এখন ভিন্ন ধরনের পারদর্শিতা আশা করা হচ্ছে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এখন এমন প্রকৌশলীদের সন্ধান করা হচ্ছে যারা এআই টুল বা প্রযুক্তি ব্যবহার করতে দক্ষ। নতুন এই যুগে প্রকৌশলীদের কাছ থেকে প্রধান প্রত্যাশা হলো, তারা যেন এআই-এর সাহায্য নিয়ে যেকোনো সফটওয়্যার বা প্রযুক্তিগত সমাধান অনেক বেশি দ্রুততার সাথে তৈরি করতে পারেন। একই সাথে সেই তৈরি করা কাজটি যেন সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য ও ত্রুটিমুক্ত হয়, তাও নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তি খাতের এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতিতেও পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মনে করেন এই অভিজ্ঞ প্রকৌশলী। শুধু প্রথাগত কোডিং জানা এখন আর যথেষ্ট নয়, বরং এআই-কে সঙ্গী করে কীভাবে নিজের কাজের গতি ও মান উন্নত করা যায়, সেই আত্মবিশ্বাস ইন্টারভিউ বোর্ডে ফুটিয়ে তোলাই এখন চাকরি পাওয়ার মূল চাবিকাঠি।
যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা। উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল। চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।
প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি। চাকরির বাজার থেকে শুরু করে শিক্ষা, ব্যবসা ও দৈনন্দিন জীবন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা। এমন এক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত হয়ে অনেককে অবাক করেছেন গুগল ও অ্যালফাবেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাই। প্রযুক্তি খাতের অন্যতম প্রভাবশালী এই ব্যক্তি তার পুরো বক্তৃতাজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসঙ্গই তোলেননি। রোববার ক্যালিফোর্নিয়ার পালো অল্টোতে অনুষ্ঠিত স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বক্তব্য দেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই প্রযুক্তি নির্বাহী। বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থী হওয়ায় তার উপস্থিতি অনেকের কাছেই বিশেষ গুরুত্ব বহন করছিল। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছেন একাধিক বক্তা। সেই প্রেক্ষাপটে পিচাইয়ের বক্তৃতা ছিল ভিন্নধর্মী। বক্তৃতায় তিনি প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা নিয়ে কথা না বলে নিজের জীবনসংগ্রাম, ব্যর্থতা এবং সাফল্যের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করেন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে তার প্রথম দিনগুলোর কথা, উচ্চশিক্ষা নিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং গুগলে কর্মজীবনের শুরুর নানা চ্যালেঞ্জ। তবে মঞ্চে ওঠার পর পুরো অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন ছিল না। পিচাই বক্তব্য শুরু করার সময় প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী প্রতিবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। আরও কয়েকটি ছোট দল ফিলিস্তিনি পতাকা প্রদর্শন, ব্যানার উঁচিয়ে ধরা এবং বাঁশি বাজানোর মাধ্যমে তাদের অবস্থান তুলে ধরে। পরে তারাও অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরিয়ে যান। প্রতিবাদকারীরা মূলত ইসরায়েল সরকারের সঙ্গে গুগলের ব্যবসায়িক সম্পর্কের বিরোধিতা করেন। বিশেষ করে ২০২১ সালে ইসরায়েল সরকারের সঙ্গে গুগল ও অ্যামাজনের যৌথ ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং প্রকল্প ‘প্রজেক্ট নিম্বাস’ নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে গাজা যুদ্ধ এবং ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকে ঘিরে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়েও একাধিক বিক্ষোভ হয়েছে। এবারের সমাবর্তনও সেই বিতর্কের বাইরে থাকেনি। গত বছরের মতো এবারও প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীরা বিকল্পভাবে ‘পিপলস কমেন্সমেন্ট’ নামে একটি আলাদা অনুষ্ঠান আয়োজন করেন। সেখানে প্রধান বক্তা ছিলেন ফিলিস্তিনপন্থী কর্মী মাহমুদ খলিল। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনে যুক্ত থাকার কারণে গত বছর তাকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আটক করেছিল, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। প্রতিবাদ পর্ব শেষ হওয়ার পর পিচাইয়ের বক্তব্যে ইতিবাচক সাড়া দিতে দেখা যায় অধিকাংশ উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে। নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সময় শ্রোতাদের মধ্যে হাসি, করতালি এবং উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। তিনি বলেন, প্রযুক্তি কীভাবে মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে, সেই অভিজ্ঞতা তিনি নিজেই খুব কাছ থেকে দেখেছেন। বক্তৃতায় ভারতের গ্রামীণ নারীদের স্মার্টফোন ব্যবহার করে নতুন দক্ষতা শেখা এবং জীবিকার নতুন সুযোগ তৈরি করার একটি উদাহরণও তুলে ধরেন। পিচাই বলেন, “কম্পিউটিং প্রযুক্তি যেভাবে আমার জীবন বদলে দিয়েছে, অন্য মানুষের জীবনেও সেই পরিবর্তন দেখতে পাওয়া ছিল আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে রোমাঞ্চকর বিষয়।” উল্লেখ্য, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরিক শ্মিট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েন। তিনি বলেছিলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে, এমনকি যারা বিজ্ঞান নিয়ে আগ্রহী নন, তাদের জীবনেও। তার ওই মন্তব্যের পর অনেক শিক্ষার্থী অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চললেও সমাবর্তনের মতো অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ক্রমশ মানবিক অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত সংগ্রাম এবং অনুপ্রেরণার গল্প শুনতে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। সুন্দর পিচাইয়ের এবারের বক্তৃতা সেই পরিবর্তিত প্রবণতারই একটি উদাহরণ হয়ে থাকতে পারে।
ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তির লড়াইয়ে টিকে থাকতে নিজেদের মূল সার্চ ইঞ্জিনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে গুগল। এবার সার্চ ইঞ্জিনের সঙ্গেই যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালিত স্বয়ংক্রিয় ‘এজেন্ট’ এবং কোডিং টুল। এর পাশাপাশি এক দশকেরও বেশি সময় পর বাজারে নতুন প্রযুক্তির স্মার্ট চশমা বা গ্লাস আনার ঘোষণাও দিয়েছে এই প্রযুক্তি জায়ান্ট। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউতে অনুষ্ঠিত গুগলের বার্ষিক ‘আই/ও’ কনফারেন্সে মঙ্গলবার এই নতুন উদ্ভাবনগুলো উন্মোচন করা হয়। গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাই জানান, তাদের নতুন ‘জেমিমনাই ৩.৫ ফ্ল্যাশ’ মডেলের ওপর ভিত্তি করে এই নতুন সার্চ ইঞ্জিন পরিচালিত হবে। আরও বেশি দক্ষ ও বুদ্ধিমান এআই এজেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে এটি একটি বড় অগ্রগতি। সুন্দর পিচাই বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে ডেভেলপার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য এআই এজেন্ট নিয়ে কাজ করছি। তবে এখন আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এই এজেন্টের ক্ষমতা সাধারণ গ্রাহকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, যাতে এটি সবার দৈনন্দিন জীবনে কাজে আসে। গুগল সার্চের এই পরিবর্তনের মূল আকর্ষণ হলো ‘স্পার্ক’ নামের একটি নতুন এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট। এই এজেন্টটি ব্যবহারকারীর অনুমতি সাপেক্ষে জিমেইল বা ম্যাপসের মতো সেবাগুলো থেকে তথ্য নিয়ে তাদের ব্যক্তিগত কাজ গুছিয়ে দেবে এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমাবে। এমনকি ব্যবহারকারীর সরাসরি তদারকি ছাড়াই এটি ইন্টারনেট ঘুরে কেনাকাটা করা, খবরের আপডেট রাখা, নির্দিষ্ট পণ্য খুঁজে দেওয়া বা কোনো অনুষ্ঠানের টিকিট বুকিংয়ের মতো কাজগুলো একাই করতে পারবে।. গুগলের সার্চ বিভাগের প্রধান লিজ রিড এই প্রযুক্তি সম্পর্কে বলেন, সার্চ ইঞ্জিনের সেরা কার্যকারিতার সঙ্গে এআই প্রযুক্তির সেরা সুবিধাগুলোকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলার যাত্রায় এটি আমাদের পরবর্তী ধাপ। সার্চ ইঞ্জিনের পাশাপাশি মেটা এবং অন্যান্য প্রতিযোগী সংস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে স্মার্ট চশমার বাজারেও ফিরছে গুগল। ২০১৫ সালে প্রথম সংস্করণের 'গুগল গ্লাস' প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়ার এক দশকেরও বেশি সময় পর এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হলো। ক্যামেরা ও স্পিকারযুক্ত এই চশমা তৈরিতে গুগল এবার হাত মিলিয়েছে স্যামসাং, ওয়ার্বি পার্কার এবং জেন্টল মনস্টারের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে। বর্তমানে কোটি কোটি ব্যবহারকারীর ডেটা এবং নিজেদের বিস্তৃত সেবার সুবিধা নিয়ে এআই বাজারের শীর্ষস্থান দখল করতে চায় গুগল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাণিজ্যিক ব্যবহারে বিশেষ করে প্রফেশনাল কোডিং ও বিজনেস অটোমেশনের ক্ষেত্রে বর্তমানে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিক প্রত্যেকে প্রায় ৪০ শতাংশ বাজার দখল করে আছে, যেখানে গুগলের অংশ মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। গুগল ডিপমাইন্ডের প্রধান নির্বাহী ডেমিস হাসাবিস জানান, তাদের নতুন জেমিমনাই ৩.৫ মডেলটি প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রোপিকের ‘ক্লড কোড’ বা ওপেনএআইয়ের ‘কোডেক্স’-এর সমকক্ষ হলেও এটি অনেক দ্রুত কাজ করে এবং এর পরিচালনা খরচও প্রায় অর্ধেক। আগামী মাসে জেমিমনাই ৩.৫-এর আরও শক্তিশালী ‘প্রো’ সংস্করণ বাজারে আসবে বলেও তিনি জানান। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, মানুষের চেয়েও বুদ্ধিমান প্রযুক্তি বা ‘আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স’ (এজিআই) এখন আর বেশি দূরে নয়। বিনিয়োগকারীরাও গুগলের এই নতুন প্রযুক্তির ওপর আস্থা রাখছেন। গত ১২ মাসে গুগলের শেয়ারের দাম প্রায় ১৩০ শতাংশ বেড়েছে, যার ফলে এর বাজারমূল্য এখন প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
ড্রাইভিং সিটে বসে এবার রক্ত-মাংসের মানুষের মতোই কথা বলা যাবে আপনার প্রিয় গাড়ির সঙ্গে। কারণ, গুগল তাদের জনপ্রিয় এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘জেমিনি’ (Gemini)-কে নিয়ে আসছে গাড়ির অন্দরে। সম্প্রতি গুগলের ‘গুগল বিল্ট-ইন’ (Google built-in) প্রযুক্তিতে এই বড়সড় পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। টেক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আপডেটের ফলে ব্যবহারকারীরা এখন থেকে গাড়িতে থাকা গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে জেমিনি এআই-এর সুবিধা পাবেন। এর ফলে ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা পুরোপুরি বদলে যাবে। আগে নির্দিষ্ট কিছু কমান্ডের মাধ্যমে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট কাজ করলেও, জেমিনি যুক্ত হওয়ার ফলে এখন সাধারণ মানুষের মতো স্বাভাবিক ভাষায় কথা বলেই গাড়িকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া যাবে। কী কী সুবিধা থাকছে এই আপডেটে? ১. স্বাভাবিক কথোপকথন: কোনো নির্দিষ্ট কমান্ড মুখস্থ রাখার প্রয়োজন নেই। আপনি যদি বলেন, “দুপুরের খাবারের জন্য ভালো কোনো রেস্তোরাঁ খুঁজে দাও,” জেমিনি তাৎক্ষণিকভাবে গুগল ম্যাপস থেকে রিয়েল-টাইম তথ্য নিয়ে আপনাকে সেরা জায়গাটির খোঁজ দেবে। ২. স্মার্ট নেভিগেশন: রাস্তায় যানজট থাকলে জেমিনি আপনাকে আগেভাগেই সতর্ক করবে এবং বিকল্প পথের পরামর্শ দেবে। ৩. এআই মেসেজিং ও বিনোদন: গাড়ি চালানোর সময় হাত ব্যবহার না করেই মেসেজ পাঠানো, রিপ্লাই দেওয়া কিংবা ইউটিউব মিউজিক নিয়ন্ত্রণ করা যাবে আরও সহজভাবে। ৪. জেমিনি লাইভ (Gemini Live): এই ফিচারের মাধ্যমে ড্রাইভার বা যাত্রীরা দীর্ঘ ভ্রমণের সময় জেমিনির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা বা ট্রাভেল প্ল্যান করতে পারবেন। গুগল জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে এই সুবিধা চালু হলেও পর্যায়ক্রমে বিশ্বজুড়ে এটি উন্মুক্ত করা হবে। শুধু নতুন মডেলের গাড়ি নয়, পুরোনো গাড়িগুলোতেও ‘ওভার-দ্য-এয়ার’ (OTA) আপডেটের মাধ্যমে জেমিনি এআই যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। ভবিষ্যতে জিমেইল, গুগল ক্যালেন্ডার এবং স্মার্ট হোম ডিভাইসের সঙ্গেও এটিকে আরও উন্নতভাবে সংযুক্ত করা হবে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে লেগো-থিমযুক্ত অ্যানিমেশন ভিডিও প্রচারের দায়ে ইরানপন্থী একটি ইউটিউব চ্যানেল সরিয়ে দিয়েছে গুগল। ‘এক্সপ্লোসিভ মিডিয়া’ নামের ওই চ্যানেলটি তাদের প্ল্যাটফর্মে স্প্যাম এবং প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে বলে জানিয়েছে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। ইউটিউবের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নিয়মিত পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা স্প্যাম, স্ক্যাম বা প্রতারণামূলক কাজ সমর্থন করি না যা ইউটিউব কমিউনিটির সুযোগ গ্রহণ করে।’ ভিডিওতে যা ছিল চ্যানেলটি মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে ব্যাঙ্গাত্মক ভিডিও তৈরি করত। কোনো একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাম্প মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের দিকে চেয়ার ছুড়ে মারছেন। অন্য একটি ভিডিওতে তাঁকে একটি প্ল্যাকার্ড হাতে দেখা যায় যেখানে নিজেকে ‘পরাজিত ব্যক্তি’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অনেক ভিডিওতে শিয়া ইসলামি ঐতিহ্যের প্রতীকগুলো ব্যবহার করে মার্কিন নীতির সমালোচনা করা হতো। নেপথ্যের কারণ ইউটিউব সুনির্দিষ্টভাবে চ্যানেলটির কোনো ভিডিওর কথা উল্লেখ না করলেও জানিয়েছে, নীতিমালা লঙ্ঘনের কারণেই এটি বন্ধ করা হয়েছে। তবে এর আগে বিভিন্ন গোয়েন্দা ও পর্যবেক্ষণ সংস্থা চ্যানেলটিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অনুসারী বলে তকমা দিয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নিজেকে ‘মিস্টার এক্সপ্লোসিভ’ পরিচয় দিয়ে বিবিসিকে জানান, তাদের দলে ১০ জনের কম সদস্য কাজ করেন এবং ইরান সরকার তাদের অন্যতম ‘গ্রাহক’। এক্সপ্লোসিভ মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া চ্যানেলটি বন্ধের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে এক্সপ্লোসিভ মিডিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তারা লেখে, ‘আমাদের লেগো-স্টাইল অ্যানিমেশনগুলো কি আসলেই হিংসাত্মক?’ তারা দাবি করে, এটি মূলত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি বড় যুদ্ধের ময়দান হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে যেমন ইরানপন্থী চ্যানেলগুলো ব্যঙ্গচিত্র ব্যবহার করছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের পক্ষ থেকেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মার্কিন শক্তি প্রদর্শনের নানা ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লড়াইয়ে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল। বিশ্বজুড়ে ডেভেলপার এবং প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য গুগল উন্মোচন করেছে তাদের এযাবতকালের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং বুদ্ধিমান ‘ওপেন-ওয়েট’ এআই মডেল ‘জেম্মা ৪’ (Gemma 4)। গুগল ডিপমাইন্ডের অত্যাধুনিক গবেষণালব্ধ এই মডেলটি মূলত গুগলের প্রিমিয়াম এআই ‘জেমিনি ৩’-এর প্রযুক্তিতে তৈরি, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের সংজ্ঞাই বদলে দিতে পারে। ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী চারটি ভিন্ন সংস্করণ গুগল জেম্মা ৪-কে মূলত চারটি ভিন্ন আকারে বাজারে এনেছে। এর মধ্যে সাধারণ স্মার্টফোনের জন্য রয়েছে ‘ইফেক্টিভ ২বি’ ও ‘ইফেক্টিভ ৪বি’ সংস্করণ। অন্যদিকে, বড় ও জটিল কাজের জন্য রাখা হয়েছে ‘২৬বি এমওই’ এবং ‘৩১বি ডেন্স’ মডেল। জেম্মা ৪-এর সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো এর অফলাইন কার্যক্ষমতা। ছোট ডিভাইস যেমন স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা রাসবেরি পাই-তেও এটি অনায়াসেই কাজ করতে পারে। ফলে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ইন্টারনেট ছাড়াই এআই ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটি কেবল টেক্সট বা লেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভিডিও, ছবি এবং অডিও সরাসরি প্রসেস করতে সক্ষম এই মডেলটি। পাশাপাশি বাংলাসহ বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি ভাষায় পারদর্শী জেম্মা ৪, যা এর গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। জটিল গাণিতিক যুক্তি বা কোডিং তৈরির ক্ষেত্রে জেম্মা ৪ পূর্ববর্তী মডেলগুলোর তুলনায় কয়েকগুণ বেশি কার্যকর। বড় ডাটাবেজ বিশ্লেষণ বা বড় ডকুমেন্ট মুহূর্তেই স্ক্যান করে ফলাফল দিতে এটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ‘অ্যাপাচি ২.০’ লাইসেন্সের আওতায় গুগল এই মডেলটি উন্মুক্ত করায় বিশ্বের যেকোনো ডেভেলপার বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কোনো জটিল শর্ত ছাড়াই এটি ব্যবহার বা পরিবর্তন করতে পারবেন। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ওপেন সোর্স এআই-এর বাজারে মেটার ‘লামা’ (Llama)-কে টেক্কা দিতে জেম্মা ৪ গুগলের জন্য একটি ট্রাম্পকার্ড হতে যাচ্ছে। বর্তমানে গুগল এআই স্টুডিও এবং হাগিং ফেস-এর মতো প্ল্যাটফর্মে এটি বিনামূল্যে পাওয়া যাচ্ছে।
প্রযুক্তি বিশ্বের দুই শীর্ষ প্রতিষ্ঠান অ্যাপল এবং গুগল ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সর্বোচ্চ আদালতে বড় ধরনের আইনি পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে। কয়েক বছর ধরে চলা ট্যাক্স ফাঁকি এবং একচেটিয়া বাজার দখলের অভিযোগে ইউরোপীয় আদালত অ্যাপলকে ১৩ বিলিয়ন ইউরো এবং গুগলকে ২.৪ বিলিয়ন ইউরো জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। এই রায়টি সিলিকন ভ্যালির টেক জায়ান্টদের ওপর ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রকদের কঠোর অবস্থানের একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, অ্যাপল আয়ারল্যান্ডে ব্যবসা করার সময় অবৈধভাবে কর সুবিধা গ্রহণ করেছে, যা ইইউ-এর প্রতিযোগিতামূলক বাজারের নীতিমালার পরিপন্থী। অন্যদিকে, গুগলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে তারা তাদের নিজস্ব শপিং সার্ভিসকে সার্চ ইঞ্জিনে অন্যায্যভাবে প্রাধান্য দিয়ে অন্যান্য ছোট প্রতিযোগীদের ব্যবসায়িক ক্ষতি করেছে। যদিও উভয় কোম্পানিই এই রায়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে আইনি লড়াই চালিয়েছিল, তবে ইউরোপীয় আদালতের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাদের জন্য বড় ধরণের আর্থিক ও ভাবমূর্তি সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় বিশ্বজুড়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একটি নজির হয়ে থাকবে। আয়ারল্যান্ড সরকার ইতিমধ্যে অ্যাপলের কাছ থেকে এই বিশাল অংকের কর আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, গুগল এই রায় নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেও ইইউ-এর আইন মেনে চলার অঙ্গীকার করেছে। এই ঘটনার পর ধারণা করা হচ্ছে যে, ভবিষ্যতে ইউরোপ এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশেও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কর ফাঁকি ও প্রতিযোগিবিরোধী আচরণের জন্য নজরদারি এবং শাস্তির মাত্রা আরও বাড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।