সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

গ্রিন কার্ড

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ২৩ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদনের হার ৭২ শতাংশ কমে যাওয়ায় অভিবাসীদের দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের অপেক্ষায় লাখো অভিবাসী, অনুমোদন কমে যাওয়ায় বাড়ছে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা অভিবাসীদের জন্য নতুন করে উদ্বেগের খবর সামনে এসেছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদনের হার ৭২ শতাংশ কমে যাওয়ায় বহু আবেদনকারী দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে পড়েছেন। এর ফলে নাগরিকত্বের যোগ্যতা পূরণ করেও আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা মানুষের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব অনুমোদনের এই বড় ধরনের পতনের কারণে কয়েক লাখ আবেদনকারী অপেক্ষায় রয়েছেন। নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত যোগ্য আবেদনকারীরাও নাগরিক হিসেবে ভোট দিতে পারেন না। ফলে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নাগরিকত্বের অপেক্ষা রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।    যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার পরিকল্পনা থাকলে যোগ্যতার শর্ত, প্রয়োজনীয় নথি ও আবেদনপ্রক্রিয়া আগেই যাচাই করা উচিত। আবেদন জমা দেওয়া থাকলে ইউএসসিআইএসের সরকারি ওয়েবসাইটে নিজের আবেদন নম্বর দিয়ে সর্বশেষ অবস্থা দেখা যায়। দীর্ঘ বিলম্ব বা আইনি জটিলতা দেখা দিলে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। তবে নাগরিকত্ব অনুমোদন কমে যাওয়ার খবর মানেই সব আবেদনকারীর আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে—এমন নয়। আবেদন অনুমোদন, আবেদন নিষ্পত্তি এবং অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা আলাদা বিষয়। নিজের আবেদনের অবস্থা জানতে সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

তাবাস্সুম অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদন কমেছে, বেড়েছে অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা।  গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব অনুমোদন কমেছে ব্যাপক হারে, জমে আছে ৭ লাখের বেশি আবেদন

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৬ অর্থবছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) ৫৭ হাজার ৬৯৭টি নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদন করেছে। আগের বছরের একই সময়ে অনুমোদনের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৪১ হাজার ৩২৬। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অনুমোদন কমেছে প্রায় ৭৬ শতাংশ। একই সময়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা আবেদনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৪২ হাজার ১৩৮টিতে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।   মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নাগরিকত্ব অনুমোদনের এই পতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নতুন নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ন্যাশনাল পার্টনারশিপ ফর নিউ আমেরিকানস (এনপিএনএ)। সংগঠনটির আশঙ্কা, নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা নতুন নাগরিকদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার সুযোগ সীমিত করতে পারে। তবে অনুমোদনের সংখ্যা কমে যাওয়া বা আবেদনজট বাড়ার পরিসংখ্যান থেকে প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটাধিকার সীমিত করছে, এমন অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   এনপিএনএর নির্বাহী পরিচালক নিকোল মেলাকু নিউজউইককে বলেন, আবেদনগুলো দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকা এবং সেগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য আবেদনকারীদের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে তাঁদের নাগরিক অংশগ্রহণের সুযোগও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সংগঠনটি এ পরিস্থিতির কারণ এবং আবেদন নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।   ইউএসসিআইএসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ২ লাখ ১৮ হাজার ৭২০টি নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদিত হয়েছিল। ওই সময় অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৬২ হাজার ৯৭৪। ২০২৫ সালের একই সময়ে অনুমোদন বেড়ে ২ লাখ ৪১ হাজার ৩২৬টিতে পৌঁছায় এবং অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ২৯ হাজার ১৮। কিন্তু ২০২৬ সালের একই সময়ে অনুমোদন ব্যাপকভাবে কমে যায়, অন্যদিকে অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা বেড়ে আগের দুই বছরের তুলনায় অনেক বেশি হয়।   আঞ্চলিক পর্যায়েও অনুমোদন কমার বড় ধরনের চিত্র উঠে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে কার্যালয়ে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ৯ হাজারের বেশি আবেদন অনুমোদিত হলেও ২০২৬ সালের একই সময়ে অনুমোদন নেমে আসে কয়েক শতে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে সান হোসেতে ৯ হাজার ৪১টি থেকে কমে ৩১৭টি অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে, যা প্রায় ৯৬ দশমিক ৫ শতাংশ পতন। ওয়াশিংটনের সিয়াটলেও এক বছরে অনুমোদন কমেছে ৯০ শতাংশের বেশি। টেক্সাসের হিউস্টনেও অনুমোদন প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে।   ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডা ও টেক্সাসের মতো অভিবাসী জনসংখ্যা বেশি এমন অঙ্গরাজ্যগুলোতেও এই পতন বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া ভোটারদের ৫৫ শতাংশ এই চার অঙ্গরাজ্যে বসবাস করেন। ফলে নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এসব এলাকায় নতুন ভোটারদের অংশগ্রহণের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিবাসী অধিকারকর্মীরা।   তবে নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্বের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নয়। সাবেক স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও গ্লোবালআই ডট এআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যাডাম ক্লেইন নিউজউইককে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও নির্বাচনের আগে নাগরিকত্ব প্রদান ধীর হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাঁর মতে, নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের আবেদন দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে তাঁরা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় নির্বাচনে ভোট দিতে হলে নাগরিক হওয়া আবশ্যক।   অভিযোগের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, বাইডেন প্রশাসনের সময়ে নাগরিকত্বের আবেদন যথাযথ যাচাই ছাড়াই অনুমোদন দেওয়ার যে নীতি ছিল, তা থেকে সরে এসেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিভাগের এক মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২০ সালের নাগরিকত্ব পরীক্ষার পদ্ধতি পুনর্বহাল, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাই জোরদার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের তথ্য পর্যালোচনা এবং আবেদনকারীর নৈতিক চরিত্র যাচাইয়ের বিষয়গুলো রয়েছে।   স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের বক্তব্য, নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেই আবেদন অনুমোদন দেওয়া হবে। অন্যদিকে, অভিবাসী অধিকারকর্মী ও সাবেক কর্মকর্তাদের বক্তব্য, যাচাই-বাছাই জোরদার করার পাশাপাশি যোগ্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ন্যায়সংগত ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করাও জরুরি। নাগরিকত্ব অনুমোদনের সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে প্রশাসনিক নীতি, যাচাই প্রক্রিয়া ও আবেদন নিষ্পত্তির সক্ষমতার কী ভূমিকা রয়েছে, তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।   সূত্র: নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থার পরিসংখ্যান।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারীদের নাগরিকত্ব অনুমোদনে বড় ধস
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারীদের নাগরিকত্ব অনুমোদনে বড় ধস

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারীদের মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ধীরগতি দেখা দিয়েছে। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে মাত্র ৫৭ হাজার ৬৯৭টি নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে অনুমোদিত হয়েছিল ২ লাখ ৪১ হাজার ৩২৬টি আবেদন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নাগরিকত্ব অনুমোদনের সংখ্যা প্রায় ৭৬ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা আবেদনের সংখ্যা বেড়ে ৭ লাখ ৪২ হাজার ছাড়িয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিবাসী অধিকারকর্মীরা।   শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে ইউএসসিআইএসের সরকারি পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত নাগরিকত্বের অনুমোদন পেয়েছিলেন ২ লাখ ১৮ হাজার ৭২০ জন। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৪১ হাজার ৩২৬ জনে। কিন্তু ২০২৬ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ৫৭ হাজার ৬৯৭টিতে। পরিসংখ্যানটি মার্কিন অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের, যা এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়কে বোঝায়। এটি অক্টোবর মাসের অনুমোদনের হিসাব নয়।   শুধু অনুমোদন কমেনি, একই সঙ্গে নাগরিকত্বের আবেদনের জটও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন শেষে ৪ লাখ ৬২ হাজার ৯৭৪টি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ লাখ ২৯ হাজার ১৮টিতে। চলতি বছরের জুন শেষে অপেক্ষমাণ আবেদন বেড়ে হয়েছে ৭ লাখ ৪২ হাজার ১৩৮টি। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার আবেদন বেশি জমে রয়েছে। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করে নাগরিকত্বের আবেদন করা অনেক গ্রিন কার্ডধারীকে দীর্ঘ সময় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে নাগরিকত্ব অনুমোদনের সংখ্যা কমার হার এক নয়। ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে ইউএসসিআইএস ফিল্ড অফিসে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ৯ হাজার ৪১টি আবেদন অনুমোদিত হয়েছিল। চলতি বছরের একই সময়ে অনুমোদন পেয়েছে মাত্র ৩১৭টি আবেদন। অর্থাৎ সেখানে অনুমোদনের সংখ্যা প্রায় ৯৬ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটলে অনুমোদন কমেছে প্রায় ৯০ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে টেক্সাসের হিউস্টনে এই হার প্রায় ৫০ শতাংশ। নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা ও টেক্সাসের মতো বেশি অভিবাসী অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্যগুলোতেও উল্লেখযোগ্য ধীরগতি দেখা গেছে।   নাগরিকত্ব অনুমোদনের এই পতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অভিবাসীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ন্যাশনাল পার্টনারশিপ ফর নিউ আমেরিকানস। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক নিকোল মেলাকু নিউজউইককে বলেছেন, নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ বিলম্বের ফলে যোগ্য অভিবাসীদের নাগরিকত্ব অর্জন এবং নাগরিক জীবনে অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে আবেদনগুলো দীর্ঘদিন আটকে রাখা হচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নির্বাচনের আগে নতুন নাগরিকদের ভোটার হওয়ার সুযোগ সীমিত করাও এই ধীরগতির একটি উদ্দেশ্য হতে পারে। তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে আবেদন আটকে রাখা হচ্ছে, এমন অভিযোগ স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি।   নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলাডেলফিয়ায় প্রায় ১৭ হাজার এবং হিউস্টনে প্রায় ৩১ হাজার নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যেও প্রায় ১৭ হাজার ৩০০টি আবেদন আটকে আছে। নিকোল মেলাকুর মতে, এত বিপুলসংখ্যক আবেদন দীর্ঘদিন অপেক্ষমাণ থাকায় অনেক অভিবাসী জানেন না, কবে তাঁরা নাগরিকত্বের শপথ নিতে পারবেন। তাঁদের অনেকে আবেদন ফি পরিশোধ করেছেন, প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করছেন। তারপরও আবেদনের সিদ্ধান্ত পেতে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।   অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করার অভিযোগের বিরোধিতা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ডিএইচএস নিউজউইককে জানিয়েছে, বাইডেন প্রশাসনের সময় নাগরিকত্বের আবেদন যথাযথ যাচাই ছাড়া অনুমোদন করা হতো বলে তাদের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান প্রশাসন সেই প্রক্রিয়া পরিবর্তন করে আবেদনকারীদের আরও কঠোরভাবে যাচাই করছে। ডিএইচএসের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকত্ব কেবল আইনগতভাবে যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য নিশ্চিত করতেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বর্তমান প্রশাসন নাগরিকত্ব পরীক্ষায় ২০২০ সালের সিভিকস টেস্ট পুনর্বহাল করেছে। একই সঙ্গে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, আবেদনকারীর নৈতিক চরিত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রতি আনুগত্যের বিষয়গুলো আরও গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়ার কার্যক্রমও নির্দিষ্ট নিরাপত্তা যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা। তবে কঠোর যাচাইয়ের কারণে ঠিক কতটি আবেদন বিলম্বিত হয়েছে, তার পৃথক হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।   নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার ধীরগতির বিষয়টি আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারীরা ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। ভোট দেওয়ার জন্য আইনগতভাবে মার্কিন নাগরিক হতে হয়। নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদিত হলেও শপথ গ্রহণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত একজন আবেদনকারী সাধারণভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে গণ্য হন না। ফলে নির্বাচনের আগে শপথ গ্রহণের সুযোগ না পেলে যোগ্য আবেদনকারীরাও ওই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। অবশ্য নাগরিকত্ব পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের ভোটার নিবন্ধনের নিয়ম পূরণ করতে হয়।   সাবেক হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কর্মকর্তা অ্যাডাম ক্লেইন নিউজউইককে জানিয়েছেন, নাগরিকত্বের আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করেও দীর্ঘ বিলম্বের মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রভাবিত হতে পারে। তাঁর মতে, যোগ্য আবেদনকারীর নাগরিকত্বের সিদ্ধান্ত নির্বাচন শেষ হওয়ার পর দেওয়া হলে সেই ব্যক্তি নির্দিষ্ট নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। তবে আবেদন নিষ্পত্তিতে ধীরগতির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য আরও প্রমাণ প্রয়োজন। নাগরিকত্ব অনুমোদনের সংখ্যা কমে যাওয়াই এককভাবে নির্বাচনী হস্তক্ষেপ প্রমাণ করে না।   ব্লুমবার্গ ল-এর ১৫ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনেও নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় ব্যাপক ধীরগতির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ইউএসসিআইএস প্রায় ৭১ হাজার নাগরিকত্বের আবেদনের সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার। অর্থাৎ শুধু অনুমোদন নয়, অনুমোদন ও প্রত্যাখ্যান মিলিয়ে মোট নিষ্পত্তির সংখ্যাও প্রায় ৭৩ শতাংশ কমেছে। এতে বোঝা যায়, নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তির সামগ্রিক গতিই উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।   তবে অনুমোদনের সংখ্যা ৭৬ শতাংশ কমার অর্থ এই নয় যে জমা দেওয়া প্রতি ১০০টি আবেদনের মধ্যে ৭৬টি প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ইউএসসিআইএস মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭২টি নতুন নাগরিকত্বের আবেদন পেয়েছে। একই সময়ে ৫৭ হাজার ৬৯৭টি আবেদন অনুমোদন এবং ১২ হাজার ৮৪২টি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। অর্থাৎ সিদ্ধান্ত দেওয়া আবেদনগুলোর মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশ অনুমোদন পেয়েছে। মূল সমস্যা হলো, আগের তুলনায় অনেক কম আবেদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে এবং অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা বাড়ছে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাস করছেন এবং এন-৪০০ ফরমের মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন, তাঁদের সাক্ষাৎকার, সিদ্ধান্ত কিংবা শপথ অনুষ্ঠানের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে সরকারি পরিসংখ্যানটি সব আবেদনকারীর গড় পরিস্থিতি তুলে ধরে। প্রত্যেকের আবেদন একই সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হবে বা একই ধরনের বিলম্বের মুখে পড়বে, এমন নয়। আবেদনকারীর অবস্থান, ফিল্ড অফিস, যাচাইয়ের প্রয়োজন এবং ব্যক্তিগত মামলার পরিস্থিতি অনুযায়ী সময়ের পার্থক্য হতে পারে।   ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ তথ্য মার্কিন নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার বড় ধরনের পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরছে। এক বছরের ব্যবধানে অনুমোদনের সংখ্যা প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কমে যাওয়ার পাশাপাশি অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা সাত লাখ ছাড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও অভিবাসী অধিকারকর্মীরা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সময়মতো সিদ্ধান্ত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আগামী নির্বাচনের আগে কতজন আবেদনকারী নাগরিকত্ব ও ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   SOURCE - নিউজউইক ব্লুমবার্গ ল

নুরুল্লাহ সাইদ অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
নাগরিকত্বের আবেদন ১৮ মাস ঝুলে থাকায় আদালতে গ্রিন কার্ডধারী
নাগরিকত্বের আবেদন ১৮ মাস ঝুলে থাকায় আদালতে গ্রিন কার্ডধারী

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের আবেদন করার প্রায় ১৮ মাস পরও সাক্ষাৎকারের ডাক পাননি ওহাইওর বাসিন্দা মেং জু লিউ। দীর্ঘ বিলম্বের অভিযোগে ১৫ অক্টোবর ট্রাম্প প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, আদালত হস্তক্ষেপ না করলে আবেদনটি অনির্দিষ্টকাল পড়ে থাকতে পারে।   নিউজউইকের দেখা মামলার নথি অনুযায়ী, মাইকেল লিউ নামেও পরিচিত তাইওয়ানের নাগরিক লিউ ২০০২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি ২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল নাগরিকত্বের জন্য এন-৪০০ ফরম জমা দেন। ইউএসসিআইএস ওই দিনই আবেদনটি গ্রহণ করে।   মামলায় লিউ বলেছেন, সিনসিনাটি অফিসে এন-৪০০ আবেদনের প্রকাশিত প্রক্রিয়াকরণের সময় ছিল ৯ দশমিক ৫ মাস। অথচ প্রায় দ্বিগুণ সময় পার হওয়ার পরও তাঁর সাক্ষাৎকার হয়নি এবং বিলম্বের কারণও জানানো হয়নি। ইউএসসিআইএসের নথি অনুযায়ী, আগের বায়োমেট্রিক তথ্য পুনরায় ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাঁকে নতুন করে আঙুলের ছাপ দিতে ডাকা হয়নি।   লিউ স্বীকার করেছেন, নাগরিকত্বের আবেদন যাচাইয়ে অপরাধসংক্রান্ত তথ্য ও জাতীয় নিরাপত্তার পরীক্ষা প্রয়োজন। তবে তাঁর বক্তব্য, এসব যাচাইয়ের প্রয়োজন থাকলেও ব্যাখ্যা ছাড়া এত দীর্ঘ সময় আবেদন ঝুলিয়ে রাখা যুক্তিসংগত নয়।   আদালতের কাছে তিনি ৩০ দিনের মধ্যে তথ্য ও নিরাপত্তা যাচাই শেষ করার নির্দেশ চেয়েছেন। যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হলে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে নাগরিকত্বের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশও চেয়েছেন তিনি। এগুলো মামলায় লিউয়ের আবেদন, আদালতের দেওয়া আদেশ নয়।   মার্কিন আইনে নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকারের পর ১২০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত না এলে আদালতে যাওয়ার একটি নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। লিউয়ের সাক্ষাৎকারই এখনো হয়নি বলে তাঁর মামলার বিলম্বের অভিযোগকে সেই ১২০ দিনের বিধানের সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না। নিউজউইক জানিয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও লিউয়ের আইনজীবীদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করেছে।    সূত্র: নিউজউইকের প্রকাশিত মামলার বিবরণ; ইউএসসিআইএস; যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও নাগরিকত্ব আইন।

নুরুল্লাহ সাইদ অক্টোবর ২২, ২০২৬ ১৪:০
ম্যাসাচুসেটসে ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে অভিবাসন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে জেনিফার গনজালেজসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
গ্রিন কার্ডের জন্য ভুয়া বিয়ের আয়োজন, ১০ বছরে ৬০ লাখ ডলার আয়ের অভিযোগ মার্কিন নারীর বিরুদ্ধে

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে ভুয়া বিয়ের আয়োজন করে অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেনিফার গনজালেজ নামে এক মার্কিন নারীর বিরুদ্ধে। দেশটির বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই কার্যক্রম চালিয়ে তিনি প্রায় ৬০ লাখ ডলার আয় করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। প্রতিটি বিয়ের ব্যবস্থা করে তিনি ৩৮ হাজার থেকে ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত নিতেন। বছরে প্রায় ১৮ থেকে ২০টি বিয়ের আয়োজন করা হতো বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২১ অক্টোবর এ ঘটনায় গনজালেজসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কথা জানায় ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল আইনজীবীদের দপ্তর।       মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গনজালেজের পরিচালিত ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা পেতে আগ্রহী বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের বিয়ে দেওয়া হতো। এসব বিয়ের উদ্দেশ্য ছিল দাম্পত্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা নয়, বরং বিয়ের কাগজপত্র ব্যবহার করে স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপত্র বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার আবেদন করা। এ কাজে গনজালেজ কয়েকজন মার্কিন নাগরিককে অর্থের বিনিময়ে বিয়েতে রাজি করাতেন। তাঁর কর্মীরা বিয়ের ছবি তুলতেন, একসঙ্গে ঘোরাফেরার ছবি রাখতেন এবং সম্পর্কটি প্রকৃত বলে প্রমাণ করার মতো নথি তৈরিতে সহায়তা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এসব নথি ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার কাছে আবেদন জমা দেওয়া হতো।       মামলায় গনজালেজের পাশাপাশি আরও পাঁচজনের নাম এসেছে। তাঁরা হলেন এরিকা ড্যানিয়েলস, ক্রেইসে আলেহান্দ্রো, আমারা পিউ, জেসিকা টাভারেস ও জেলিন হিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ড্যানিয়েলস, আলেহান্দ্রো, টাভারেস ও হিল অর্থের বিনিময়ে গনজালেজের গ্রাহকদের বিয়ে করতেন। অন্যদিকে, পিউ তাঁর প্রতিষ্ঠানে সচিব হিসেবে কাজ করতেন। তদন্তের অংশ হিসেবে অন্তত দুটি বিয়ের ছবি আদালতের নথিতে যুক্ত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিচ্ছেদের পর অল্প সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অন্য বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করতেন, যাতে একই পদ্ধতিতে আরও আবেদন করা যায়।       তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগের সময় গনজালেজ বিয়েকে প্রকৃত সম্পর্ক হিসেবে দেখানোর বিভিন্ন কৌশল শেখাতেন। এর মধ্যে যৌথ ব্যাংক হিসাব খোলা, জীবনবিমা করা এবং দম্পতি হিসেবে ছবি তোলার মতো বিষয় ছিল। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি এক গ্রাহকের কাছ থেকে বিয়ের ব্যবস্থা করার জন্য অগ্রিম তিন হাজার ডলার নিয়েছিলেন। অর্থ লেনদেন আড়াল করতে সেটিকে ঋণের চুক্তি হিসেবে দেখানোর নির্দেশ দেওয়ার কথাও নথিতে রয়েছে। এ ছাড়া, বিয়ে বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট মার্কিন নাগরিক বা তাঁদের ঘনিষ্ঠ কাউকে মাসে ৫০০ ডলার করে দেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।       মার্কিন অ্যাটর্নি লিয়া ফোলির ভাষ্য অনুযায়ী, গনজালেজ কথিত এই কার্যক্রম থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে ব্যবসা ও জমি কেনার কাজে বিনিয়োগ করেছিলেন। তদন্তের সময় এক সহযোগী সাক্ষীর সঙ্গে তাঁর কথোপকথন রেকর্ড করা হয়। সেখানে তিনি ম্যাসাচুসেটসে অভিবাসীদের জন্য বিভিন্ন সহায়তা পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করেছিলেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে। ফোলির দাবি, ২০২৪ সালের শেষ দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনরায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনার কারণে তিনি ভুয়া বিয়ের আয়োজন কমিয়ে দেন এবং ২০২৫ সালে কার্যক্রম বন্ধ করেন। তবে এসব বক্তব্য ও অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি।       এ ঘটনায় সরকারি খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি থেকেও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত গনজালেজ যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূরক পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি বা এসএনএপি থেকে এক লাখ ২৪ হাজার ডলারের বেশি পেয়েছেন। আবেদনে নিজের কথিত ব্যবসার আয় ও পরিবারের সদস্যদের তথ্য গোপন করার অভিযোগও আনা হয়েছে। ২১ অক্টোবর গনজালেজ, পিউ, টাভারেসসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপর অভিযুক্ত হিল আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত অপরাধে আগে থেকেই অঙ্গরাজ্যের কারাগারে রয়েছেন। মামলাটির তদন্ত চলছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত সবাই আইন অনুযায়ী নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।       সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, ফক্স নিউজ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী
তিন বছরের অপেক্ষা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী

তিন বছরের অপেক্ষার পর যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। শনিবার, ১৭ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে চ্যানেল আইয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি এ খবর জানান। স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ায় স্বস্তিও প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী।    চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন মৌসুমী। সেখানে মেয়ে ফাইজার পড়াশোনার পাশাপাশি অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা ও দেখাশোনায় সময় দিচ্ছেন তিনি।    গ্রিন কার্ড যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার প্রমাণপত্র। প্রযোজ্য আইন ও শর্ত মেনে এই মর্যাদা বহাল রাখতে হয়। পরবর্তী সময়ে যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে স্থায়ী বাসিন্দারা মার্কিন নাগরিকত্বের জন্যও আবেদন করতে পারেন।    বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য দর্শকপ্রিয় সিনেমায় কাজ করেছেন মৌসুমী। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী দর্শকদের কাছে ‘প্রিয়দর্শিনী’ নামেও পরিচিত।   সূত্র: চ্যানেল আই অনলাইন ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তথ্যসেবা ইউএসএগভ।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করার সূত্রে নাগরিকত্বের আবেদন করতে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে নাগরিকত্ব পাওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ও নতুন শর্ত জানাল ইউএসসিআইএস

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করলেই বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী দেশটির নাগরিকত্ব পেয়ে যান না। বিয়ের সূত্রে তুলনামূলক কম সময়ে নাগরিকত্বের আবেদন করার সুযোগ থাকলেও এ জন্য নির্দিষ্ট বয়স, বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস এবং দাম্পত্য সম্পর্কের শর্ত পূরণ করতে হয়। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) জানিয়েছে, এ প্রক্রিয়ায় আবেদন জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। এ নিয়ম যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন করা বিদেশি স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।   ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ৩১৯(এ) ধারায় আবেদন করতে হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রীকে অন্তত তিন বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। সাধারণত গ্রিন কার্ডধারী হিসেবে এই তিন বছরের সময় গণনা করা হয়। শুধু বিয়ে সম্পন্ন হওয়া বা মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে সম্পর্ক থাকাই যথেষ্ট নয়। আবেদনকারীকে নির্ধারিত সময়জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের শর্তও পূরণ করতে হবে।   এ ছাড়া আবেদন জমা দেওয়ার আগের তিন বছর আবেদনকারীকে মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে প্রকৃত দাম্পত্য সম্পর্কে বসবাস করতে হবে। এই সময়ের পুরোটা জুড়ে তাঁর সঙ্গীকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক থাকতে হবে। আবেদন করার পর নাগরিকত্বের শপথ নেওয়া পর্যন্ত বৈধ বিবাহ বহাল রাখার শর্তও রয়েছে। অর্থাৎ, কেবল কাগজে-কলমে বিয়ে থাকলেই হবে না, সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী দাম্পত্য সম্পর্কের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।   আবেদনের আগে অন্তত তিন মাস সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য বা ইউএসসিআইএসের নির্ধারিত জেলায় বসবাস করতে হবে। পাশাপাশি আবেদন করার আগের তিন বছরে অন্তত ১৮ মাস যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকার শর্ত রয়েছে। বিদেশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে স্থায়ী বসবাসের ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কাটানো সময়সহ নিজের বসবাসের রেকর্ড যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।   নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নৈতিক চরিত্রও বিবেচনা করা হয়। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদন জমা দেওয়ার আগের অন্তত তিন বছরের জন্য ভালো নৈতিক চরিত্রের প্রমাণ দিতে হবে এবং নাগরিকত্বের শপথ নেওয়া পর্যন্ত এ যোগ্যতা বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের মূলনীতির প্রতি আনুগত্য এবং দেশটির আইন ও শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বিষয়টিও বিবেচনায় আসে। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত ও অভিবাসন-সংক্রান্ত রেকর্ডের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ এসব শর্ত যাচাই করতে পারে।   আবেদনকারীদের সাধারণত ইংরেজি ভাষা ও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস এবং সরকারব্যবস্থা সম্পর্কে নাগরিকত্ব পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। নির্দিষ্ট বয়স, দীর্ঘদিনের স্থায়ী বসবাস বা প্রতিবন্ধকতার মতো কিছু পরিস্থিতিতে আইন অনুযায়ী ছাড় থাকতে পারে। তবে সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। আবেদন জমা দেওয়ার পর ইউএসসিআইএস প্রয়োজনীয় নথি যাচাই, সাক্ষাৎকার এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে। আবেদন অনুমোদিত হলেও নাগরিকত্বের শপথ নেওয়ার আগে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিক হন না।   মার্কিন নাগরিকদের বিদেশি স্বামী বা স্ত্রীর জন্য এই তিন বছরের পথটি সাধারণত তাঁদের জন্য প্রযোজ্য, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাস করছেন এবং আইনের অন্যান্য শর্ত পূরণ করেন। অন্যদিকে, সাধারণ নিয়মে নাগরিকত্বের আবেদন করতে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর বসবাসের শর্ত থাকে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নির্দিষ্ট কিছু স্বামী বা স্ত্রীর ক্ষেত্রে আলাদা বিধানও রয়েছে। তাই বিয়ের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে আবেদনকারীর নিজস্ব অভিবাসন-অবস্থা অনুযায়ী ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস), যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ইউএসসিআইএসের অনলাইন সেবায় রিসিট নম্বর ব্যবহার করে গ্রিন কার্ডের আবেদনসংক্রান্ত সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করা যায়। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
গ্রিন কার্ডের আবেদন কোন পর্যায়ে আছে, রিসিট নম্বর দিয়ে অনলাইনে যেভাবে জানবেন

গ্রিন কার্ডের আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা জানতে এখন অনলাইনে কেসের অবস্থা যাচাই করতে পারেন আবেদনকারীরা। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের (USCIS) ‘কেস স্ট্যাটাস অনলাইন’ সেবায় আবেদন জমা পড়েছে কি না, পরবর্তী কোনো পদক্ষেপের তথ্য এসেছে কি না এবং সিদ্ধান্ত বা কার্ড পাঠানোর বিষয়ে কী আপডেট রয়েছে, তা দেখা যায়। এ জন্য সাধারণত আবেদন গ্রহণের পর সংস্থার পাঠানো নোটিশে থাকা ১৩ অক্ষর ও সংখ্যার রিসিট নম্বর প্রয়োজন হয়। সরকারি এই সেবা ব্যবহার করতে আলাদা কোনো ফি লাগে না।   ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, রিসিট নম্বরটি তিনটি ইংরেজি অক্ষর দিয়ে শুরু হয় এবং এর সঙ্গে থাকে ১০টি সংখ্যা। IOE, SRC, LIN, EAC, WAC, NBC ও MSC এরকম বিভিন্ন অক্ষর দিয়ে নম্বর শুরু হতে পারে। আবেদন বা পিটিশন গ্রহণের পর সংস্থার পাঠানো নোটিশে নম্বরটি পাওয়া যায়। নম্বর লেখার সময় মাঝখানে হাইফেন থাকলে তা বাদ দিতে হবে। আবেদনকারীর উচিত নম্বরটি সঠিকভাবে লিখে সরকারি ওয়েবসাইটেই কেসের অবস্থা যাচাই করা।   কেসের অবস্থা দেখতে ইউএসসিআইএসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://egov.uscis.gov/casestatus/CaseStatus/Search-এ যেতে হবে। সেখানে নির্ধারিত ঘরে রিসিট নম্বর লিখে ‘Check Status’ বাটনে ক্লিক করলে আবেদনসংক্রান্ত সর্বশেষ প্রকাশিত অবস্থা দেখা যাবে। উদাহরণ হিসেবে, ‘Case Was Received’ দেখালে বোঝায় আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে। ‘Biometrics Appointment Was Scheduled’ দেখালে বায়োমেট্রিকসের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণের তথ্য পাওয়া যায়। আর ‘Case Was Approved’ দেখালে সংশ্লিষ্ট আবেদন অনুমোদিত হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে প্রতিটি আবেদনের ধাপ এক নয়, তাই প্রদর্শিত বার্তাটি মনোযোগ দিয়ে পড়া জরুরি।   আরও বিস্তারিত তথ্য ও অনলাইন যোগাযোগের সুবিধা পেতে আবেদনকারীরা MyUSCIS অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারেন। https://my.uscis.gov/ ঠিকানায় গিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি বা প্রবেশ করে নিজের আবেদনের সঙ্গে অ্যাকাউন্টটি যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কেসের তথ্য দেখা, কিছু নোটিশ বা বার্তা পাওয়া এবং নির্দিষ্ট অনলাইন সেবা ব্যবহার করা যায়। তবে কোন নোটিশ অনলাইনে পাওয়া যাবে, কী ধরনের আপডেট আসবে এবং কোন সুবিধা ব্যবহার করা যাবে, তা আবেদন ও কেসের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই অ্যাকাউন্ট খুললেই সব চিঠি বা প্রতিটি ধাপের তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।   গ্রিন কার্ড তৈরি হয়ে ডাকযোগে পাঠানো হলে কেস স্ট্যাটাসে কার্ড পাঠানোর তথ্য দেখা যেতে পারে। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, স্ট্যাটাসে কার্ড পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ থাকলে ডাক বিভাগের ট্র্যাকিং নম্বর পাওয়ার কথা। সেই নম্বর ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ ইউএসপিএসের (USPS) ওয়েবসাইটে কার্ডের সরবরাহের অগ্রগতি দেখা যায়। কার্ড পাঠানোর তথ্য দেখা গেলেও নির্ধারিত সময়ে হাতে না পৌঁছালে ইউএসসিআইএসের ‘ই-রিকোয়েস্ট’ সেবায় ডাকযোগে কার্ড না পাওয়ার বিষয়ে অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে।   অনলাইনে কেসের অবস্থা যাচাই করতে সমস্যা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে ইউএসসিআইএসের যোগাযোগকেন্দ্রে ১-৮০০-৩৭৫-৫২৮৩ নম্বরে ফোন করা যায়। শ্রবণ বা বাক্‌সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য টিটিওয়াই নম্বর ১-৮০০-৭৬৭-১৮৩৩। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ স্বয়ংক্রিয় ফোনসেবা ২৪ ঘণ্টা পাওয়া যায়। তবে সরাসরি প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার সময়সীমা আলাদা এবং সাধারণত সোমবার থেকে শুক্রবার, পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে যোগাযোগের জন্য ইউএসসিআইএস ২১২-৬২০-৩৪১৮ নম্বরও উল্লেখ করেছে।   কেসের অবস্থা দেখা আর আবেদন কত দিনে শেষ হবে, তা জানা এক বিষয় নয়। কোনো আবেদন দীর্ঘদিন একই অবস্থায় থাকলে সংশ্লিষ্ট ফরম ও আবেদনশ্রেণির ভিত্তিতে ইউএসসিআইএসের ‘প্রসেসিং টাইমস’ সেবায় আনুমানিক প্রক্রিয়াকরণ সময় দেখা যেতে পারে। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দেরি হলে যোগ্য আবেদনকারীরা অনলাইনে কেসসংক্রান্ত অনুসন্ধানও জমা দিতে পারেন। শুধু অনলাইন স্ট্যাটাস দেখে আবেদন অনুমোদিত হবে কি না বা কবে কার্ড হাতে আসবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।   আবেদনকারীদের সতর্ক থাকতে হবে, কারণ রিসিট নম্বর ব্যক্তিগত কেসের তথ্যের সঙ্গে যুক্ত। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নম্বরটি প্রকাশ না করে কেবল সরকারি ওয়েবসাইটে ব্যবহার করাই নিরাপদ। ইউএসসিআইএসের নামে পরিচালিত অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা অর্থের বিনিময়ে স্ট্যাটাস দেখানোর প্রস্তাব এড়িয়ে চলা উচিত। আবেদনসংক্রান্ত জটিলতা, অতিরিক্ত নথির অনুরোধ বা আইনি প্রশ্ন থাকলে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং প্রয়োজন হলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS), Case Status Online ও Contact Center; যুক্তরাষ্ট্র সরকারের USA.gov-এর অভিবাসন কেস স্ট্যাটাস নির্দেশনা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে বাসা বদলানোর পর শুধু ইউএসপিএসে তথ্য দিলেই সব নথি আপডেট হয় না। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় ঠিকানা বদলালে ইউএসসিআইএসে জানানোর সময়সীমা ১০ দিন, জেনে নিন নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে বাসা বদলানোর পর শুধু ইউএস পোস্টাল সার্ভিস বা ইউএসপিএসে নতুন ঠিকানা জানালেই সব সরকারি নথি আপডেট হয় না। ইমিগ্রেশন, ড্রাইভার লাইসেন্স, ট্যাক্স ও সরকারি সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আলাদাভাবে জানাতে হতে পারে। বিশেষ করে অধিকাংশ বিদেশি নাগরিকের জন্য ইউএসসিআইএসে ১০ দিনের মধ্যে ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।    কার কোথায় তথ্য আপডেট করতে হবে, তা নির্ভর করে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, বসবাসের স্টেট, গাড়ির মালিকানা, সরকারি সুবিধা গ্রহণ এবং ভোটার হিসেবে যোগ্যতার ওপর। ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলা থাকলে আবার আলাদা সময়সীমা ও পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়।   ইউএসপিএসের চেঞ্জ অব অ্যাড্রেস সেবা মূলত পুরোনো ঠিকানায় আসা উপযুক্ত চিঠিপত্র নতুন ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা। বাসা বদলানোর সময় অনলাইনে অথবা পোস্ট অফিসের মাধ্যমে এই সেবার আবেদন করা যায়। কিন্তু মেইল ফরওয়ার্ডিং চালু করার অর্থ এই নয় যে ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বা সব সরকারি সংস্থার রেকর্ডে নতুন ঠিকানা পৌঁছে গেছে।   ইউএসসিআইএস এ বিষয়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইউএসপিএসে ঠিকানা পরিবর্তন করলে ইউএসসিআইএসের রেকর্ড বদলায় না। ইউএসপিএস ইউএসসিআইএসের চিঠিও নতুন ঠিকানায় ফরওয়ার্ড করে না। তাই ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত নোটিশ ও গুরুত্বপূর্ণ নথি পাওয়ার জন্য দুই সংস্থার কাছেই ঠিকানা বর্তমান রাখা প্রয়োজন।    ইমিগ্রেশন আইনের নিবন্ধন বিধানের আওতায় থাকা বিদেশি নাগরিকদের বাসা বদলানোর ১০ দিনের মধ্যে ইউএসসিআইএসকে নতুন ঠিকানা জানাতে হয়। গ্রিন কার্ডধারীরাও সাধারণভাবে এই নিয়মের আওতায় পড়েন। ইউএসসিআইএসের অনলাইন অ্যাকাউন্টের ঠিকানা পরিবর্তনের ব্যবস্থা ব্যবহার করা যায়। আবেদন বা পিটিশন বিচারাধীন থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মামলার তথ্যও যথাযথভাবে আপডেট হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ শ্রেণির আবেদনকারীদের জন্য আলাদা নির্দেশনা থাকতে পারে।    ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলা থাকলে শুধু ইউএসসিআইএসে ঠিকানা বদলানো যথেষ্ট নয়। বিচার বিভাগের ইমিগ্রেশন পর্যালোচনা দপ্তর ইওআইআরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঠিকানা বা যোগাযোগের তথ্য পরিবর্তনের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কোর্ট কিংবা বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলসকে জানাতে হবে। কোর্টের জন্য ইওআইআর ৩৩/আইসি এবং আপিল বোর্ডের জন্য ইওআইআর ৩৩/বিআইএ ফর্ম ব্যবহার করতে হয়।    ঠিকানা আপডেট না হলে কোর্ট হিয়ারিং বা আবেদনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ মিস হতে পারে। তবে ঠিকানা পরিবর্তন না জানালেই সব ইমিগ্রেশন মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজ হয়ে যায়, এমনভাবে বিষয়টি বলা সঠিক নয়। মামলার ধরন, নোটিশ এবং পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর ফলাফল নির্ভর করে। তাই বিচারাধীন মামলা থাকলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিয়ম আলাদাভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন।   ড্রাইভার লাইসেন্স ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের ঠিকানা পরিবর্তনের সময়সীমা স্টেটভেদে ভিন্ন। নিউইয়র্কে বাসা বদলানোর ১০ দিনের মধ্যে ডিএমভিতে ড্রাইভার লাইসেন্স, লার্নার পারমিট, নন ড্রাইভার আইডি এবং গাড়ির রেকর্ডের ঠিকানা আপডেট করতে হয়। ইউএসপিএসে পরিবর্তন করলে ডিএমভির রেকর্ড বদলায় না। তবে নতুন ঠিকানা দিয়ে লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশনের নতুন কপি নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।   নিউইয়র্ক ডিএমভির বর্তমান নির্দেশনায় অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তনের সেবা সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ থাকার কথা বলা হয়েছে। এ অবস্থায় ডিএমভি অফিসে গিয়ে অথবা এমভি ২৩২ ফর্ম ডাকযোগে পাঠিয়ে পরিবর্তন জানানো যায়। ট্রাফিক ভায়োলেশনস ব্যুরোর টিকিটের ঠিকানা আবার আলাদাভাবে আপডেট করতে হতে পারে।    ট্যাক্সসংক্রান্ত চিঠিপত্র পাওয়ার জন্য আইআরএসের কাছেও সঠিক ঠিকানা থাকা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত মেইলিং অ্যাড্রেস পরিবর্তনের ফর্মটির নম্বর ৮৮২২, ৮৮২ নয়। এই ফর্ম পাঠানো ছাড়াও নতুন ট্যাক্স রিটার্নে নতুন ঠিকানা ব্যবহার, লিখিত বিবৃতি এবং আইআরএস অনুমোদিত অন্যান্য পদ্ধতিতে পরিবর্তন জানানো যায়। ফলে সবার জন্য শুধু একটি ফর্ম পাঠানোই একমাত্র উপায় নয়।    সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নিয়মও সবার ক্ষেত্রে এক নয়। সংস্থাটির নির্দেশনা অনুযায়ী, যাঁরা সোশ্যাল সিকিউরিটি বেনিফিট, সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই এবং মেডিকেয়ার গ্রহণ করেন না, তাঁদের শুধু বাসা বদলানোর কারণে এসএসএতে ঠিকানা পরিবর্তন জানাতে হয় না। সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রে বেনিফিটের ধরন অনুযায়ী অনলাইন অ্যাকাউন্ট, ফোন বা সংশ্লিষ্ট অফিসের মাধ্যমে তথ্য আপডেট করতে হতে পারে।    ভোটার রেজিস্ট্রেশনের ঠিকানা পরিবর্তন প্রযোজ্য যোগ্য ভোটারদের জন্য। নতুন ঠিকানায় যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট স্টেটের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন আপডেট করতে হবে। অন্য স্টেটে চলে গেলে নতুন স্টেটে রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন হতে পারে। এই বিষয়টি সব অভিবাসীর জন্য প্রযোজ্য সাধারণ ঠিকানা পরিবর্তনের নিয়ম হিসেবে দেখা ঠিক নয়।   পাশাপাশি ব্যাংক, ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি, গাড়ি ও হেলথ ইন্স্যুরেন্স, কর্মস্থল এবং সন্তানের স্কুলে নতুন ঠিকানা জানানো প্রয়োজন অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড আলাদা হওয়ায় একটি জায়গায় পরিবর্তন করলে অন্য সব জায়গায় তা কার্যকর হয় না। বাসা বদলানোর পর কোন প্রতিষ্ঠানে কী তথ্য দেওয়া হয়েছে এবং তার কনফার্মেশন পাওয়া গেছে কি না, তা সংরক্ষণ করলে গুরুত্বপূর্ণ চিঠি ও নোটিশ মিস হওয়ার ঝুঁকি কমানো যায়।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর বাংলাদেশি প্রবাসী কাজী আজিজুল হক খোকনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়। ছবি: সংগৃহীত
৩০ বছরেও মেলেনি গ্রিন কার্ড, নিউইয়র্ক থেকে কফিনবন্দি হয়ে ফিরছেন আজিজুল হক খোকন

উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে প্রায় তিন দশক আগে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন বাংলাদেশি প্রবাসী কাজী আজিজুল হক খোকন। দীর্ঘদিন নিউইয়র্কে বসবাস করেও গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রত্যাশা পূরণ হয়নি তাঁর। শেষ পর্যন্ত জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার আগেই মৃত্যু হলো এই প্রবাসীর। নিউইয়র্কে নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়। এখন তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।   কাজী আজিজুল হক খোকন যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি নিউইয়র্কের কুইন্সের কিউ গার্ডেনস এলাকায় একাই বসবাস করতেন। জ্যাকসন হাইটসের একটি দোকানে কাজ করতেন তিনি। তাঁর দেশের বাড়ি বাংলাদেশের মাগুরা জেলায়। দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুবাদে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন খোকন।   স্থানীয় সময় শনিবার থেকে খোকনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে পরিচিতজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কর্মস্থল ও বাসায়ও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। কয়েক দিন ধরে খোঁজ নেওয়ার পর বুধবার রাতে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায়। এই খবরে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটি ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।   যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান খোকনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন খোকন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর বুধবার রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। নিখোঁজ হওয়ার দিনই খোকনের মৃত্যু হয়েছিল বলে জানান তিনি। পরে নিউইয়র্ক সিটির একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।   মৃত্যুর পরপরই খোকনের পরিচয় ও স্বজনদের তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে তাঁর মরদেহ নিউইয়র্ক সিটির চিফ মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে পাঠানো হয়। পরিচিতজনদের তথ্য অনুযায়ী, ব্রুকলিনের ৯৯ উইনথ্রপ স্ট্রিটে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে মরদেহ রাখা হয়েছিল। দীর্ঘদিন একই শহরে বসবাস করার পরও মৃত্যুর পর তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।   খোকন জ্যাকসন হাইটসের খামারবাড়ি গ্রোসারি ও নবান্ন রেস্টুরেন্টসংলগ্ন অবকাশ স্টোরে কাজ করতেন। দীর্ঘদিন ওই এলাকায় কাজ করার সুবাদে স্থানীয় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক কর্মী ও কমিউনিটির অনেকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল। শ্রমিক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিতেন তিনি।   খোকনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেন পরিচিতজনেরা। কমিউনিটি নেতা মহিউদ্দিন দেওয়ানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ ব্রুকলিনের একটি ফিউনারেল হোমে স্থানান্তরের কথা ছিল। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।   তবে খোকনের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মেডিকেল পরীক্ষা ও তদন্তের ফলাফল প্রকাশের আগে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাঁর মৃত্যুতে কোনো অপরাধমূলক ঘটনার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   প্রায় ৩০ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও খোকনের গ্রিন কার্ড হয়নি বলে পরিচিতজনদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। দীর্ঘ প্রবাসজীবনে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি না পাওয়া তাঁর অন্যতম আক্ষেপ ছিল। তবে কোন ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরিতে আবেদন করেছিলেন কিংবা তাঁর আবেদন কোন পর্যায়ে ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত নথি প্রকাশিত হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন বসবাস করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড পাওয়া যায় না। স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরিতে যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য আইনি শর্ত পূরণ করতে হয়। খোকনের ক্ষেত্রে কেন এত বছরেও গ্রিন কার্ড হয়নি, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। একইভাবে গ্রিন কার্ড না থাকার কারণেই তিনি দেশে ফিরতে পারেননি, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্যও পাওয়া যায়নি।   দীর্ঘ প্রবাসজীবনে নিউইয়র্কেই কাজ করেছেন খোকন। বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকেছেন এবং রাজনৈতিক সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। কিন্তু তিন দশকের প্রবাসজীবন শেষে তাঁর স্থায়ী বসবাসের প্রত্যাশা অপূর্ণ থেকে যায়। পরিচিতজনদের কাছে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর খবর তাই গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   এখন খোকনের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তবে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছানোর নির্দিষ্ট তারিখ কিংবা জানাজার আনুষ্ঠানিক সূচি নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রায় তিন দশক যুক্তরাষ্ট্রে কাটানোর পর যে মানুষটির জীবিত অবস্থায় দেশে ফেরার স্বপ্ন ছিল, শেষ পর্যন্ত তাঁর ফেরার আয়োজন চলছে কফিনবন্দি হয়ে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০
গ্রিন কার্ড পাওয়া কঠিন করায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একজোট বিশ্ববিদ্যালয় ও শ্রমিক সংগঠন
গ্রিন কার্ড পাওয়া কঠিন করায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একজোট বিশ্ববিদ্যালয় ও শ্রমিক সংগঠন

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের সুবিধা বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে অযৌক্তিক কড়াকড়ি আরোপ করায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ও অভিবাসী অধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো।   গত ৫ অক্টোবর ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট আদালতে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর জারিকৃত দুটি বিতর্কিত নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে এই মামলাটি করা হয়। বাদীদের দাবি, মে ও আগস্ট মাসে ঘোষিত এই নীতিগুলোর কারণে বহু যোগ্য অভিবাসী দেশ না ছেড়ে বৈধ উপায়ে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।   মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ইউএসসিআইএস-এর নতুন নিয়মে ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ বা দেশে অবস্থান করে গ্রিন কার্ড পাওয়ার দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে সীমিত করা হয়েছে। মে মাসের নির্দেশনায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে, কোনো আবেদনকারী নিজ দেশে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে না গিয়ে কেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আবেদন করেছেন, সেটিকে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করতে।   অন্যদিকে, আগস্ট মাসের নীতিমালায় কর্মকর্তাদের এমন এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে যাতে তারা কোনো অতিরিক্ত তথ্য-প্রমাণ চাওয়ার সুযোগ না দিয়েই সরাসরি আবেদন খারিজ করে দিতে পারেন। এমনকি অতীতে যারা আবেদন জমা দিয়ে ফলাফলের অপেক্ষায় আছেন, তাদের ক্ষেত্রেও এই কঠোর শর্তগুলো ভূতাপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।   মামলা দায়েরকারী আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি প্রফেসরস (এএইউপি), হার্ভার্ড ও বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখা এবং সার্ভিস এমপ্লয়িজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন (এসইআইইউ)-এর মতো সংগঠনগুলো আদালতকে জানিয়েছে, নতুন এই নিয়মের ফলে পরিবার বিচ্ছিন্নতা, কর্মসংস্থানে বাধা এবং আন্তর্জাতিক মেধার অপচয়ের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।   ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে গ্রিন কার্ড পাওয়া মোট ১৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষের মধ্যে প্রায় ৫৭ শতাংশই এই অ্যাডজাস্টমেন্ট প্রক্রিয়ায় আবেদন করেছিলেন। ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ডের প্রধান নির্বাহী স্কাই পেরিমান জানান, আইনসম্মতভাবে বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করা মানুষদের জন্য এটি চরম অবিচার।   অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলাটিকে ভিত্তিহীন হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ইউএসসিআইএস-এর মুখপাত্র জ্যাক কেলার এক বিবৃতিতে বলেন, কংগ্রেসের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এবং দেশের অভিবাসন আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। বাদীরা আদালতকে এই নতুন বিধিনিষেধগুলো অবিলম্বে সাময়িকভাবে স্থগিত এবং পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে বাতিল করার আবেদন জানিয়েছেন। আদালত অবশ্য এখনো এই মামলার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো রুল জারি করেনি।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:০
নতুন অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য নতুন সুযোগ ও কাট-অফ ডেট ঘোষণা করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য নতুন সুযোগ, অক্টোবরেই কার্যকর হচ্ছে যেসব নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ অর্থবছর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। নতুন অর্থবছরে অভিবাসী ভিসার সংখ্যা পুনর্বণ্টন হওয়ায় পারিবারিক ও কর্মভিত্তিক বিভিন্ন শ্রেণিতে আবেদন করার সুযোগ এবং কাট-অফ তারিখে পরিবর্তন দেখা গেছে। একই সময়ে গ্রিন কার্ড আবেদনের ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধা গ্রহণের প্রভাব এবং বিনিয়োগভিত্তিক ইবি-৫ কর্মসূচির ফি নিয়েও পরিবর্তন সামনে এসেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অক্টোবর ২০২৬ ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে নতুন অর্থবছর ২০২৭ শুরু হয়েছে। প্রতি অর্থবছরের শুরুতে নির্দিষ্ট অভিবাসী ভিসা শ্রেণির জন্য নতুন ভিসা সংখ্যা পাওয়া যায়। এর ফলে কয়েকটি ক্যাটাগরিতে কাট-অফ তারিখ এগিয়েছে, আবার কিছু কর্মভিত্তিক শ্রেণিতে চাহিদা ও বার্ষিক সীমার কারণে তারিখ পিছিয়েও দেওয়া হয়েছে।   সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলোর একটি দেখা গেছে ভারতীয় আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে। সেপ্টেম্বরে বার্ষিক সীমা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় ভারতের ইবি-২ শ্রেণি সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ ছিল। অক্টোবরের নতুন বুলেটিনে এই শ্রেণি আবার চালু হয়েছে এবং এর চূড়ান্ত অনুমোদনের কাট-অফ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ নভেম্বর ২০১৩। ভারতের অনির্ধারিত ইবি-৫ শ্রেণিও আবার চালু হয়েছে, যার চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২৩। ভারতের ইবি-১ শ্রেণির তারিখও ১৫ অক্টোবর ২০২২ থেকে এগিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ হয়েছে।   তবে সব শ্রেণিতে অগ্রগতি হয়নি। বেশিরভাগ দেশ, মেক্সিকো ও ফিলিপাইনের জন্য ইবি-২ শ্রেণির চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ ‘কারেন্ট’ অবস্থা থেকে ১ জানুয়ারি ২০২৫ করা হয়েছে। একইভাবে বেশিরভাগ দেশ ও মেক্সিকোর ইবি-৩ শ্রেণির তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে পিছিয়ে ১৫ মে ২০২৪ করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অর্থবছরের ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক ভিসা সীমার মধ্যে সংখ্যা রাখতে কিছু শ্রেণিতে এই ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়েছে।   চীনা আবেদনকারীদের জন্যও কর্মভিত্তিক কিছু শ্রেণিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ইবি-৩-এর আবেদন করার তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০২২ থেকে এগিয়ে ১ এপ্রিল ২০২৪ হয়েছে। অনির্ধারিত ইবি-৫ শ্রেণির তারিখও ১ মার্চ ২০১৭ থেকে এগিয়ে ১ মার্চ ২০২১ হয়েছে। পারিবারিক অভিবাসনের ক্ষেত্রে স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের জন্য এফ-২এ শ্রেণির চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ বেশিরভাগ দেশের ক্ষেত্রে ২২ আগস্ট ২০২৬ থেকে এগিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ হয়েছে।   গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘ডেটস ফর ফাইলিং’ এবং ‘ফাইনাল অ্যাকশন ডেট’-এর পার্থক্য। ডেটস ফর ফাইলিং নির্ধারণ করে কখন যোগ্য আবেদনকারী প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবেন। অন্যদিকে ফাইনাল অ্যাকশন ডেট নির্ধারণ করে কখন অভিবাসী ভিসা নম্বর পাওয়া গেলে গ্রিন কার্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া সম্ভব। তাই আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন কার্ড অনুমোদিত হওয়া নয়।   অক্টোবর ২০২৬-এর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস কোন চার্ট ব্যবহার করে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন গ্রহণ করবে, সেটি আবেদনকারীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ভিসা বুলেটিনের চার্ট এবং ইউএসসিআইএসের সংশ্লিষ্ট মাসের নির্দেশনা মিলিয়ে দেখে আবেদন করার যোগ্যতা নির্ধারণ করতে হয়।   এদিকে গ্রিন কার্ড আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘পাবলিক চার্জ’ নীতিতেও পরিবর্তন এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে তারা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর প্রধানত নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা মূল্যায়নের সময় বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক পরিস্থিতি, আর্থিক অবস্থা, সম্পদ ও দায়, শিক্ষা এবং দক্ষতার মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। তবে সরকারি সুবিধা ব্যবহার করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো ব্যক্তি গ্রিন কার্ডের জন্য অযোগ্য হয়ে যান না। কোন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা তার অভিবাসন শ্রেণি ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।   অন্যদিকে ইবি-৫ বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচিতে আবেদন ফিও বাড়ানোর কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ নভেম্বর থেকে মূল বিনিয়োগকারীর আবেদনের ফি ৩ হাজার ৬৭৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৬১৫ ডলার হবে। আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদনকারী বিনিয়োগকারীদের জন্য ফি বেড়ে ৭ হাজার ৮৫০ ডলার হবে। ইউএসসিআইএসের ভাষ্য অনুযায়ী, আবেদন প্রক্রিয়াকরণ, পটভূমি যাচাই এবং কর্মসূচির তদারকির ব্যয় মেটাতেই এই ফি পরিবর্তন করা হচ্ছে।   ইবি-৫ কর্মসূচির কিছু পুরোনো বিনিয়োগকারীর জন্য নতুন ধরনের আবেদনে ১০ হাজার ৩৩০ ডলারের ফি নির্ধারণের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের হিসাব অনুযায়ী, ফি পরিবর্তনের প্রভাব বছরে প্রায় ১৬ হাজার ৬০০ আবেদনকারীর ওপর পড়তে পারে। অভিবাসন আইনজীবী জ্ঞানামুকান সেন্টুরজোথি নিউজউইককে বলেন, অক্টোবরের ভিসা বুলেটিন বিশেষ করে ভারতীয় গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য কিছু নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তবে তার মতে, নতুন অর্থবছরে ভিসা সংখ্যা আবার পাওয়া এবং দীর্ঘদিনের গ্রিন কার্ড জট কমে যাওয়া এক বিষয় নয়। অন্যদিকে সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা রিকি মারে অক্টোবরের পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন বুলেটিন প্রকাশের সময় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।   ফলে গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য অক্টোবর মাসটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি আলাদা। পারিবারিক বা কর্মভিত্তিক কোন শ্রেণিতে আবেদন করা হয়েছে, অগ্রাধিকারের তারিখ কী এবং কোন দেশের জন্য চার্জযোগ্য হিসেবে আবেদনটি বিবেচিত হচ্ছে, এসব তথ্যের ওপর আবেদন করার সময় নির্ভর করে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট মাসের ভিসা বুলেটিন ও ইউএসসিআইএসের ফাইলিং নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।   সূত্র: নিউজউইক

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
২০২৭ সালের আগেই গ্রীন কার্ডে আসছে এই ৪ পরিবর্তন
২০২৭ সালের আগেই গ্রীন কার্ডে আসছে এই ৪ পরিবর্তন, জানুন বিস্তারিত

যুক্তরাষ্ট্রে ১ অক্টোবর নতুন অর্থবছর শুরুর সঙ্গে গ্রিন কার্ডের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভিসার প্রাপ্যতা ও কাটঅফ তারিখ বদলেছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের অক্টোবর ২০২৬ ভিসা বুলেটিনে কিছু ক্যাটাগরিতে অগ্রগতি থাকলেও কয়েকটি কর্মসংস্থানভিত্তিক ক্যাটাগরিতে তারিখ পিছিয়েছে। ফলে পরিবর্তনের সুফল সব আবেদনকারী সমানভাবে পাবেন না।    বাংলাদেশের জন্য সাধারণত প্রযোজ্য দেশের কলামে ইবি২ ক্যাটাগরির ফাইনাল অ্যাকশন ডেট নির্ধারিত হয়েছে ১ জানুয়ারি ২০২৫। ইবি৩ ক্যাটাগরিতে তা ১৫ মে ২০২৪। সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরিতে ভিসা নম্বর বরাদ্দের জন্য আবেদনকারীর প্রায়োরিটি ডেট এই তারিখের আগের হতে হবে।    তবে আবেদন জমার সুযোগ এবং চূড়ান্ত অনুমোদন এক বিষয় নয়। বুলেটিনের ডেটস ফর ফাইলিং চার্টে একই দেশের কলামে ইবি২-এর তারিখ ১৫ মার্চ ২০২৬ এবং ইবি৩-এর তারিখ ১ আগস্ট ২০২৪। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাসের আবেদন করতে কোন চার্ট ব্যবহার করা যাবে, তা ইউএসসিআইএস আলাদাভাবে নির্ধারণ করে।    পারিবারিক আবেদনেও এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। গ্রিন কার্ডধারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানের এফ২এ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের জন্য ফাইনাল অ্যাকশন ডেট ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬। কিন্তু আবেদন জমার চার্টে ক্যাটাগরিটি ‘কারেন্ট’, অর্থাৎ ওই চার্টে প্রায়োরিটি ডেটের কাটঅফ নেই।    অক্টোবরে পারিবারিক প্রেফারেন্স ক্যাটাগরির অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস আবেদনের জন্য ডেটস ফর ফাইলিং চার্ট ব্যবহার করতে বলেছে ইউএসসিআইএস। তবে তারিখের শর্ত পূরণ করলেই গ্রিন কার্ড অনুমোদন নিশ্চিত হয় না। আবেদনের অন্যান্য যোগ্যতা ও চূড়ান্ত অনুমোদনের সময় ভিসার প্রাপ্যতাও বিবেচিত হয়।    নতুন অর্থবছরে ভিসা নম্বর পাওয়া গেলেও দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকা একসঙ্গে শেষ হয়ে যায় না। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, বার্ষিক ও ত্রৈমাসিক সীমার মধ্যে ভিসা দেওয়ার জন্য কয়েকটি কর্মসংস্থানভিত্তিক ক্যাটাগরির তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের তাই নিজের ক্যাটাগরি, প্রযোজ্য দেশের কলাম এবং প্রায়োরিটি ডেট মিলিয়ে চলতি মাসের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের অক্টোবর ২০২৬ ভিসা বুলেটিনে ভারতের কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ডের দুটি ক্যাটাগরি আবার উন্মুক্ত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
অক্টোবরের ভিসা বুলেটিনে ভারতের কিছু আবেদনকারীর অগ্রগতি, বাংলাদেশিদের চিত্র ভিন্ন

যুক্তরাষ্ট্রের অক্টোবর ২০২৬ ভিসা বুলেটিনে ভারতের কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ডের দুটি ক্যাটাগরি আবার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। সেপ্টেম্বরে ভারতের ইবি-২ এবং সাধারণ ইবি-৫ ক্যাটাগরি ‘অনুপলব্ধ’ ছিল। নতুন বুলেটিনে সেগুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাটঅফ তারিখ যথাক্রমে ১ নভেম্বর ২০১৩ ও ১ ডিসেম্বর ২০২৩। ভারতের ইবি-১ ক্যাটাগরির তারিখও এগিয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নিউজউইকের প্রতিবেদনে মূলত এই অগ্রগতির দিকটি তুলে ধরা হয়েছে।    তবে অক্টোবরের পরিবর্তন সব আবেদনকারীর জন্য সুখবর নয়। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া আবেদনকারীরা সাধারণত বুলেটিনের ‘অন্যান্য দেশ’ কলামের অধীনে পড়েন। সেই কলামে ইবি-১ এবং সাধারণ ইবি-৫ ক্যাটাগরি আগের মতোই সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও ইবি-২-এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ ‘সবার জন্য উন্মুক্ত’ অবস্থা থেকে পিছিয়ে ১ জানুয়ারি ২০২৫ হয়েছে। ইবি-৩ দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবী ক্যাটাগরির তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে পিছিয়ে ১৫ মে ২০২৪ হয়েছে। ইবি-৩ ‘অন্যান্য কর্মী’ ক্যাটাগরিতে তারিখ ১ এপ্রিল ২০২২ থেকে পিছিয়ে ১ জানুয়ারি ২০২২ হয়েছে।    এসব তারিখ দিয়ে গ্রিন কার্ড হাতে পাওয়ার সম্ভাব্য দিন বোঝানো হয় না। আবেদনকারীর প্রাইয়োরিটি ডেট বা অগ্রাধিকার তারিখ সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাটঅফের আগে থাকলে ভিসা নম্বর দেওয়া বা গ্রিন কার্ড আবেদন চূড়ান্ত অনুমোদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কাটঅফ এগোলে অপেক্ষার সারিতে নতুন কিছু আবেদনকারী সামনে আসেন; পিছিয়ে গেলে কিছু আবেদনকারীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আরও অপেক্ষায় পড়ে।    এখানে আবেদন জমা দেওয়া এবং আবেদন অনুমোদন পাওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে কর্মভিত্তিক আই-৪৮৫ আবেদন জমার যোগ্যতা নির্ধারণে ইউএসসিআইএস ‘আবেদনের তারিখ’ সারণি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশিদের জন্য প্রযোজ্য ‘অন্যান্য দেশ’ কলামে ওই সারণিতে ইবি-২-এর তারিখ ১৫ মার্চ ২০২৬, ইবি-৩ দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবীদের ১ আগস্ট ২০২৪ এবং ইবি-৩ অন্যান্য কর্মীদের ১ জুন ২০২২। অন্য সব শর্ত পূরণ হলে এই কাটঅফের আগের প্রাইয়োরিটি ডেটধারী কেউ আবেদন জমা দিতে পারেন; চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তবু আলাদা ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ’ দেখতে হবে।    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে নতুন অর্থবছরের ভিসা সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে। এতে কয়েকটি ক্যাটাগরি এগোলেও ‘অন্যান্য দেশ’ শ্রেণির কিছু কর্মভিত্তিক তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে ভিসা ইস্যু বছরের নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন নাগরিকত্বের ৭ লাখ ৪২ হাজার আবেদন অপেক্ষমাণ
মার্কিন নাগরিকত্বের ৭ লাখ ৪২ হাজার আবেদন অপেক্ষমাণ, নিউইয়র্কেও চাপ

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের জন্য করা ৭ লাখ ৪২ হাজার ১৩৮টি এন-৪০০ আবেদন গত ৩০ জুন পর্যন্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। এপ্রিল থেকে জুন - এই তিন মাসে ইউএসসিআইএস নতুন আবেদন পেয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭২টি, আর অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত দিয়েছে ৭০ হাজার ৫৩৯টির। সংস্থাটির ২০২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের তথ্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ হিসাব উঠে এসেছে।   অপেক্ষমাণ ৭ লাখ ৪২ হাজার আবেদন শুধু ওই তিন মাসে জমা পড়েনি। এটি জুনের শেষ দিনে আগের আবেদনসহ মোট অনিষ্পন্ন আবেদনের সংখ্যা। প্রান্তিকটিতে নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনগুলোর মধ্যে ৫৭ হাজার ৬৯৭টি অনুমোদিত এবং ১২ হাজার ৮৪২টি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।   অফিসভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন অপেক্ষমাণ ছিল টেক্সাসের হিউস্টনে - ৩১ হাজার ৫৭টি। এরপর ডালাসে ২৮ হাজার ৬৬২টি, শিকাগোতে ২৩ হাজার ৬২৩টি, স্যান হোসেতে ২০ হাজার ৮৯৯টি এবং স্যান অ্যান্টোনিওতে ১৮ হাজার ৯৯৯টি। এসব সংখ্যায় সাধারণ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নাগরিকত্বের আবেদনও একসঙ্গে ধরা হয়েছে।    নিউইয়র্ক অঞ্চলেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আবেদন অপেক্ষমাণ। শুধু সাধারণ নাগরিকত্বের আবেদন ধরলে নিউইয়র্ক অফিসে ১৭ হাজার ২৮টি, ব্রুকলিনে ১৫ হাজার ৬২৭টি, কুইন্সে ১১ হাজার ৯০৮টি এবং লং আইল্যান্ডে ৯ হাজার ৮০৩টি আবেদন জুনের শেষে অনিষ্পন্ন ছিল। নিউ জার্সির নিউয়ার্ক অফিসে এই সংখ্যা ১৭ হাজার ৬৭০।   সাধারণ নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তিতে দেশজুড়ে মধ্যম সময় ছিল ৯ দশমিক ৫ মাস। এটি জাতীয় হিসাব, কোনো নির্দিষ্ট অফিস বা আবেদনকারীর জন্য প্রতিশ্রুত সময়সীমা নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত যোগ্য বাংলাদেশি গ্রিন কার্ডধারীদের ক্ষেত্রেও একই এন-৪০০ আবেদনপ্রক্রিয়া প্রযোজ্য; প্রকাশিত পরিসংখ্যানে বাংলাদেশিদের আবেদন আলাদা করে দেখানো হয়নি। 

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
চাকরির প্রস্তাব ছাড়াই নির্দিষ্ট শর্তে EB-1A শ্রেণিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন করা যায়। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের EB-1A ভিসায় গ্রিন কার্ড, যে ৫ ক্ষেত্রে যোগ্যতা থাকলে আবেদন করা যায়

ক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ডের প্রথম অগ্রাধিকার শ্রেণি EB-1-এর আওতায় অসাধারণ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে বিশেষ একটি পথ। EB-1A নামে পরিচিত এই শ্রেণিতে আবেদনকারীর কোনো নির্দিষ্ট চাকরির প্রস্তাব বা নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে আবেদনকারীকে নিজের পেশাগত ক্ষেত্রে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক স্বীকৃতি ও অসাধারণ সাফল্যের প্রমাণ দিতে হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা, ইউএসসিআইএসের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, EB-1A শ্রেণিতে যোগ্যতার ক্ষেত্র পাঁচটি। এগুলো হলো বিজ্ঞান, শিল্প, শিক্ষা, ব্যবসা এবং ক্রীড়া। অর্থাৎ এসব ক্ষেত্রের কোনো একটিতে অসাধারণ দক্ষতা ও স্বীকৃতির প্রমাণ থাকলে একজন বিদেশি নাগরিক EB-1A শ্রেণিতে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন।   তবে শুধু এই পাঁচ ক্ষেত্রের কোনো একটিতে কাজ করলেই EB-1A-এর জন্য যোগ্য হওয়া যায় না। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীকে নিজের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন এবং তার সাফল্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত হয়েছে, এমন প্রমাণ দিতে হয়। অর্থাৎ পেশার ক্ষেত্রের পাশাপাশি ব্যক্তির অর্জন, পরিচিতি এবং সেই অর্জনের স্বীকৃতিও গুরুত্বপূর্ণ।   EB-1A আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের প্রমাণ বিবেচনা করা হয়। ইউএসসিআইএসের Form I-140 নির্দেশনায় পুরস্কার বা সম্মাননা, পেশাগত সংগঠনের সদস্যপদ, আবেদনকারীকে নিয়ে প্রকাশিত উপাদান, অন্যদের কাজ মূল্যায়নের দায়িত্ব, মৌলিক গুরুত্বপূর্ণ অবদান, বৈজ্ঞানিক বা একাডেমিক লেখা, প্রদর্শনী বা শিল্পকর্ম, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বমূলক ভূমিকা, তুলনামূলকভাবে উচ্চ পারিশ্রমিক এবং পারফর্মিং আর্টসে বাণিজ্যিক সাফল্যের মতো বিষয়গুলোর প্রমাণের কথা উল্লেখ রয়েছে।   নির্ধারিত প্রমাণের কাঠামোর ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে সাধারণত ১০টি নির্ধারিত মানদণ্ডের মধ্যে অন্তত তিনটি পূরণ করার প্রমাণ দিতে হয়, অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তুলনীয় প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন। তবে অন্তত তিনটি মানদণ্ড পূরণ করলেই আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হয় না। ইউএসসিআইএস পরে পুরো প্রমাণপত্র বিবেচনা করে আবেদনকারী সত্যিই সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতার পর্যায়ে রয়েছেন কি না, সেটিও মূল্যায়ন করে।   EB-1A-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, আবেদনকারী নিজেই নিজের হয়ে Form I-140, Petition for Alien Worker জমা দিতে পারেন। অর্থাৎ এই নির্দিষ্ট শ্রেণিতে কোনো মার্কিন নিয়োগকর্তাকে আবেদনকারীর পক্ষে পিটিশন দাখিল করতে হয় না। একই কারণে EB-1A-এর জন্য সাধারণ কর্মভিত্তিক শ্রম সনদ বা শ্রমবাজার পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। ইউএসসিআইএসের নীতিমালাতেও বিজ্ঞান, শিল্প, শিক্ষা, ব্যবসা ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের স্ব-আবেদনের এই সুযোগের কথা বলা হয়েছে।   তবে EB-1-এর সব শ্রেণির নিয়ম এক নয়। প্রথম অগ্রাধিকার কর্মভিত্তিক অভিবাসন শ্রেণির মধ্যে EB-1A ছাড়াও অসাধারণ অধ্যাপক বা গবেষক এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপক বা নির্বাহী কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা দুটি শ্রেণি রয়েছে। অসাধারণ অধ্যাপক বা গবেষক শ্রেণিতে আবেদনকারীর সংশ্লিষ্ট একাডেমিক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত তিন বছরের শিক্ষকতা বা গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকতে হয় এবং সাধারণত একজন মার্কিন নিয়োগকর্তাকে আবেদন করতে হয়।   অন্যদিকে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক বা নির্বাহী কর্মকর্তাদের শ্রেণিতেও মার্কিন নিয়োগকর্তার পিটিশন প্রয়োজন হয়। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে একই প্রতিষ্ঠান, তার মূল প্রতিষ্ঠান, শাখা, সহযোগী বা অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানে গত তিন বছরের মধ্যে অন্তত এক বছর ব্যবস্থাপক বা নির্বাহী হিসেবে কাজ করার প্রমাণ দিতে হয়।   EB-1-এর আওতায় আবেদন অনুমোদিত হলে পরিবারের নির্দিষ্ট সদস্যরাও অভিবাসনের সুযোগ পেতে পারেন। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, প্রধান আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত ২১ বছরের কম বয়সী সন্তানরা সংশ্লিষ্ট অভিবাসী মর্যাদায় যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন।   তবে EB-1A কোনো স্বয়ংক্রিয় গ্রিন কার্ড ব্যবস্থা নয়। আবেদনকারীকে নিজের যোগ্যতা, অর্জন এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে স্বীকৃতির বিষয়ে যথেষ্ট নথি দিতে হয়। ইউএসসিআইএসের মূল্যায়নে শুধু প্রমাণের সংখ্যা নয়, সেগুলোর মান এবং পুরো আবেদনের সামগ্রিক চিত্রও গুরুত্বপূর্ণ।   যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের জন্য EB-1A বিবেচনা করছেন এমন ব্যক্তিদের তাই শুধু নিজের পেশার ক্ষেত্রটি পাঁচটি নির্ধারিত বিভাগের মধ্যে পড়ে কি না, সেটি দেখলেই হবে না। সেই ক্ষেত্রের মধ্যে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্জিত স্বীকৃতি, পেশাগত অবদান এবং তা প্রমাণ করার মতো নথিপত্রও প্রস্তুত করতে হয়। অভিবাসন আইনের জটিলতা বিবেচনায় ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য অনুমোদিত অভিবাসন আইনজীবী বা স্বীকৃত আইনগত সহায়তাকারীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।   সূত্র: ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS)

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
নভেম্বর ৩০ থেকেই ভিসার ফিতে বড় পরিবর্তন, দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ছে আবেদন খরচ
নভেম্বর ৩০ থেকেই ভিসার ফিতে বড় পরিবর্তন, দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ছে আবেদন খরচ

যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ হিসেবে পরিচিত ইবি-৫ কর্মসূচির বিভিন্ন আবেদন ফি আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএস নতুন ফি কাঠামো নির্ধারণ করেছে। এতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আবেদনের ফি বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বর বা তার পর পোস্টমার্ক করা আবেদনগুলোতে নতুন ফি প্রযোজ্য হবে।   সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের আবেদন ফি। বর্তমানে একক বিনিয়োগকারীর আবেদন জমা দিতে ৩ হাজার ৬৭৫ ডলার লাগে। নতুন নিয়মে এই ফি বেড়ে হবে ৭ হাজার ৬১৫ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১০৭ শতাংশ বৃদ্ধি। রিজিওনাল সেন্টারের মাধ্যমে করা প্রাথমিক বিনিয়োগকারীর আবেদনের ফিও ৩ হাজার ৬৭৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৮৫০ ডলার হবে, যা বর্তমান ফি থেকে ১১৪ শতাংশ বেশি। নতুন এই দুই ফি’র মধ্যেই ৭৫ ডলারের ইবি-৫ প্রযুক্তি ফি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।   শর্তযুক্ত গ্রিন কার্ডের শর্ত তুলে নেওয়ার আবেদনের ফি ৩ হাজার ৭৫০ ডলার থেকে বেড়ে ৫ হাজার ডলার হবে। অন্যদিকে রিজিওনাল সেন্টারের প্রাথমিক অনুমোদনের আবেদনের ফি ১৭ হাজার ৭৯৫ ডলার থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার ১১৫ ডলার হবে। অর্থাৎ এই ফি প্রায় ১৪৮ শতাংশ বাড়ছে। একইভাবে নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ প্রকল্পের অনুমোদনের ফি ১৭ হাজার ৭৯৫ ডলার থেকে বেড়ে ৪২ হাজার ৬৭৫ ডলার হবে, যা প্রায় ১৪০ শতাংশ বেশি।   রিজিওনাল সেন্টারের ক্ষেত্রেও আলাদা খরচ বাড়ছে। রিজিওনাল সেন্টারের মাধ্যমে আবেদন করা বিনিয়োগকারীদের জন্য ইবি-৫ অখণ্ডতা তহবিলের ফি ১ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ১০০ ডলার হবে। ২০ বা তার কম বিনিয়োগকারী থাকা রিজিওনাল সেন্টারের বার্ষিক অখণ্ডতা তহবিলের ফি ১০ হাজার থেকে বেড়ে ১১ হাজার ডলার এবং বেশি বিনিয়োগকারী থাকা নির্দিষ্ট রিজিওনাল সেন্টারের ফি ২০ হাজার থেকে বেড়ে ২২ হাজার ডলার হবে। এই তহবিলের অর্থ কর্মসূচির নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করা, জালিয়াতি তদন্ত, নিরীক্ষা এবং সরেজমিন পরিদর্শনসহ বিভিন্ন তদারকি কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত।   ইউএসসিআইএস বলছে, ২০২২ সালের ইবি-৫ সংস্কার ও অখণ্ডতা আইনের অধীনে কর্মসূচির প্রশাসনিক ব্যয় পুরোপুরি আদায় এবং নির্ধারিত আবেদন প্রক্রিয়াকরণের সময়সীমা পূরণের জন্য নতুন ফি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান ফি দিয়ে ইবি-৫ কর্মসূচির প্রত্যাশিত ব্যয় পুরোপুরি মেটানো যাচ্ছে না। নতুন ফি কাঠামোর মাধ্যমে সেই ব্যয়ের ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি কর্মসূচির অখণ্ডতা রক্ষার বিভিন্ন কার্যক্রমে অর্থায়ন করা হবে।   তবে নতুন নিয়মে ইবি-৫-এর মূল বিনিয়োগের পরিমাণ পরিবর্তন হচ্ছে না। বর্তমানে নির্ধারিত কর্মসংস্থান এলাকা বা টিইএ এবং নির্দিষ্ট অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য ন্যূনতম বিনিয়োগ ৮ লাখ ডলার এবং অন্যান্য যোগ্য প্রকল্পের জন্য ১০ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এসব বিনিয়োগের সীমা নতুন ফি নিয়মের আওতায় পরিবর্তন করা হয়নি।   নতুন ফি কাঠামো কার্যকর হলে ইবি-৫ কর্মসূচির বিভিন্ন আবেদন ও সংশ্লিষ্ট ফি মিলিয়ে সামগ্রিকভাবে উল্লেখযোগ্য ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে নতুন আবেদন করার প্রস্তুতি নেওয়া বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে বর্তমান ফি এবং ৩০ নভেম্বরের পরের ফি’র পার্থক্য আগে থেকে হিসাব করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। নতুন নিয়মটি ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করা হয়েছে এবং ৬০ দিন পর কার্যকর হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
মা-বাবাকে স্থায়ীভাবে আমেরিকায় আনতে আবেদন করতে পারেন ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিকেরা। ছবি: সংগৃহীত
মা-বাবাকে আমেরিকায় আনতে চান? জানুন আইআর-৫ ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া

মা-বাবাকে স্থায়ীভাবে আমেরিকায় আনতে আবেদন করতে পারেন ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিকেরা। বাবা-মায়ের জন্য নির্ধারিত আইআর-৫ ভিসা ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত। এতে বছরে ভিসা দেওয়ার সংখ্যাগত সীমা নেই। তবে আবেদন যাচাই, কাগজপত্র পর্যালোচনা ও ইন্টারভিউয়ের সময় পেতে অপেক্ষা করতে হয়। কোটা না থাকা দ্রুত ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়।    ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, শুধু গ্রিন কার্ড থাকলে মা-বাবাকে এই ক্যাটাগরিতে স্পন্সর করা যায় না। আবেদনকারীকে মার্কিন নাগরিক হতে হবে। মা ও বাবার জন্য আলাদা আই-১৩০ পিটিশন জমা দিতে হয়।   আবেদনের সঙ্গে নাগরিকত্ব এবং পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণ প্রয়োজন। সাধারণত মার্কিন পাসপোর্ট বা ন্যাচারালাইজেশন সার্টিফিকেট এবং জন্মসনদ দিতে হয়। বাবার জন্য আবেদনে বাবা-মায়ের বিয়ের সনদসহ পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত নথিও প্রয়োজন হতে পারে।    আই-১৩০ ফরমের ফি এখন অনলাইনে ৬২৫ ডলার এবং কাগজে জমা দিলে ৬৭৫ ডলার। মা-বাবা দুজনের জন্য আবেদন করলে প্রত্যেকের পিটিশনের ফি আলাদাভাবে দিতে হবে। এটি পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়ার মোট খরচ নয়।    মা-বাবা বাংলাদেশে থাকলে আই-১৩০ অনুমোদনের পর সাধারণত ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার বা এনভিসির মাধ্যমে পরবর্তী ধাপ শুরু হয়। সেখানে ডিএস-২৬০ ভিসা আবেদন, আই-৮৬৪ আর্থিক সহায়তার অঙ্গীকারনামা এবং প্রয়োজনীয় সিভিল ডকুমেন্ট জমা দিতে হয়। এরপর নির্ধারিত দূতাবাসে ইন্টারভিউয়ের ব্যবস্থা করা হয়।    পারিবারিক অভিবাসন ভিসার আবেদন ফি জনপ্রতি ৩২৫ ডলার। এনভিসিতে অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট পর্যালোচনার ফি ১২০ ডলার। এর বাইরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় টিকা, নথি সংগ্রহ এবং প্রযোজ্য অন্যান্য খরচ থাকে। তাই শুধু ভিসা আবেদন ফি ধরে বাজেট করলে পুরো খরচের হিসাব মিলবে না।    বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক ভিসা নির্দেশনাও গুরুত্বপূর্ণ। স্টেট ডিপার্টমেন্টের ২৮ আগস্টের হালনাগাদে বলা হয়েছে, আদালতের আদেশ অনুযায়ী বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেওয়ার ওপর জানুয়ারিতে আরোপিত বিরতি ২১ আগস্ট থেকে আর কার্যকর নেই। তবে ৮ সেপ্টেম্বর রয়টার্স জানিয়েছিল, নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কারণে বহু দূতাবাসে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইন্টারভিউয়ের সাময়িক বিরতি তখনো চলছিল। আবেদনকারীর নিজস্ব ইন্টারভিউয়ের অবস্থা জানতে এনভিসি ও দূতাবাসের সর্বশেষ বার্তা অনুসরণ করতে হবে।    আর্থিক স্পন্সরশিপের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রযোজ্য ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ আয় দেখাতে হয়। ২০২৬ সালের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের ৪৮ স্টেট ও ওয়াশিংটন ডিসিতে তিন সদস্যের পরিবারের জন্য এই অঙ্ক বছরে ৩৪ হাজার ১৫০ ডলার। স্পন্সরের পরিবারের সদস্যসংখ্যা সঠিকভাবে গণনা করা জরুরি।    আয় যথেষ্ট না হলে যোগ্য জয়েন্ট স্পন্সর বা নিয়ম অনুযায়ী পরিবারের অন্য সদস্যের আয় ব্যবহার করা যেতে পারে। জয়েন্ট স্পন্সর থাকলেও মূল আবেদনকারীকে নিজের আই-৮৬৪ জমা দিতে হয়। এই অঙ্গীকারনামা সরকারের সঙ্গে আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক আর্থিক সহায়তার চুক্তি।    মা-বাবা ইতিমধ্যে আমেরিকায় থাকলে তাঁদের প্রবেশের ইতিহাস ও অন্যান্য যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে দেশের ভেতরে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। শুধু আমেরিকায় অবস্থান করলেই এই সুযোগ নিশ্চিত হয় না। আই-৪৮৫ জমা দেওয়ার মাধ্যমে কাজ বা বিদেশভ্রমণের অনুমতিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট অনুমতির জন্য আলাদা আবেদন ও অনুমোদন প্রয়োজন। আই-৪৮৫-এর সাধারণ কাগজে আবেদন ফি ১ হাজার ৪৪০ ডলার; এর সঙ্গে পুরোনো নিয়মের মতো আলাদা ৮৫ ডলার বায়োমেট্রিক ফি যোগ করা ঠিক নয়।    অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান বা অনুমতি ছাড়া প্রবেশের ইতিহাস থাকলে পরিস্থিতি বিশেষভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। নির্দিষ্ট সময় বেআইনিভাবে অবস্থানের পর আমেরিকা ছাড়লে তিন বা দশ বছরের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে। তাই দেশে ফিরে ভিসা নিলেই সমস্যার সমাধান হবে, এমন ধারণা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।    ভিসা অনুমোদন হলে তাতে উল্লেখ করা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আমেরিকায় প্রবেশ করতে হবে। ঢাকার আবেদনকারীদের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করে ভিসার মেয়াদ সীমিত হতে পারে। ফলে ভিসা হাতে পাওয়ার দিন থেকে সবার জন্য নতুন করে ছয় মাস সময় থাকে না।    মা-বাবার চিকিৎসা খরচও আগেই পরিকল্পনা করা দরকার। নতুন অভিবাসীরা প্রথম দশ বছর কোনোভাবেই মেডিকেয়ার পাবেন না, এমন সাধারণ নিয়ম নেই। মেডিকেয়ারের যোগ্যতা বয়স, কাজের ইতিহাস এবং বসবাসের শর্তের ওপর নির্ভর করে। পর্যাপ্ত কাজের ইতিহাস না থাকা স্থায়ী বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে সাধারণত ৬৫ বছর বয়স এবং আমেরিকায় টানা পাঁচ বছর বসবাসসহ শর্ত পূরণ করে প্রিমিয়াম দিয়ে কভারেজ নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।    গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর সাধারণ পাঁচ বছরের নিয়মে নাগরিকত্বের আবেদন করা সম্ভব হলেও সময় পার হওয়াই একমাত্র শর্ত নয়। ধারাবাহিক বসবাস, প্রয়োজনীয় সময় আমেরিকায় উপস্থিত থাকা এবং অন্যান্য যোগ্যতাও পূরণ করতে হয়। মা-বাবাকে আনার পরিকল্পনায় তাই আবেদন ফি, ইন্টারভিউয়ের অপেক্ষা, আর্থিক দায়িত্ব ও হেলথ ইন্স্যুরেন্সের খরচ একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়ে সিনেটে বিল এনেছেন রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন কার্ডের পারিবারিক আবেদন সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে বিল, জানুন বিস্তারিত

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়ে সিনেটে বিল এনেছেন রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল। ২৪ সেপ্টেম্বর উত্থাপিত ‘আমেরিকানস ফার্স্ট ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট’ পাস হলে নাগরিকদের বাবা-মা ও ভাইবোনের জন্য প্রচলিত পারিবারিক গ্রিন কার্ডের পথ বন্ধ হবে। তবে বিলটি এখনো আইন হয়নি; আবেদনকারীদের জন্য বর্তমান নিয়মই বহাল রয়েছে।   প্রস্তাবিত বিলে পারিবারিক ইমিগ্রেশন মূলত স্বামী বা স্ত্রী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের মধ্যে সীমিত রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাইভারসিটি ভিসা লটারি বাতিল এবং চাকরিভিত্তিক গ্রিন কার্ডের প্রচলিত ক্যাটাগরির জায়গায় পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রয়েছে।   সিনেটর টিউবারভিলের দপ্তর প্রকাশিত বিলের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষা, দক্ষতা, ইংরেজিতে পারদর্শিতা, বেশি বেতনের চাকরির প্রস্তাবসহ কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের নিয়োগের চেষ্টা করার শর্তও প্রস্তাবে রাখা হয়েছে।   বাংলাদেশিসহ যাঁরা বাবা-মা বা ভাইবোনের জন্য পারিবারিক গ্রিন কার্ডের আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের কাছে বিলটির পরবর্তী অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রস্তাব উত্থাপন আর আইন কার্যকর হওয়া এক বিষয় নয়। কংগ্রেসের দুই কক্ষে অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ছাড়া গ্রিন কার্ডের নিয়মে এই পরিবর্তন আসবে না।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে টাকার বিনিময়ে ইমিগ্রেশন আবেদন অনুমোদন ও জালিয়াতির অভিযোগে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
টাকার বিনিময়ে অনুমোদন করতেন গ্রিন কার্ডের আবেদন, সাবেক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা আটক

যুক্তরাষ্ট্রে টাকার বিনিময়ে ইমিগ্রেশন আবেদন অনুমোদন এবং বাধ্যতামূলক ব্যাকগ্রাউন্ড চেক এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগে সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা লুকমান ওওলাবি গানিয়ু ও তাঁর সহযোগী আদেনিই আকিম সোমোয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে টেক্সাসের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ২৩ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্রটি দেওয়া হয়। দুজনকে এর আগে ২ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।    মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গানিয়ু সরকারি পদ ব্যবহার করে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ইমিগ্রেশন আবেদন দ্রুত অনুমোদন করেন। এসবের মধ্যে আত্মীয়ের জন্য আবেদন, গ্রিন কার্ডের আবেদন, শর্তযুক্ত স্থায়ী বসবাসের শর্ত প্রত্যাহার এবং নাগরিকত্বের আবেদন ছিল।    তদন্তকারীদের দাবি, আবেদন অনুমোদনের সময় প্রয়োজনীয় ইন্টারভিউ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পর্যালোচনা, ব্যাকগ্রাউন্ড চেক এবং ইউএসসিআইএসের নির্ধারিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, গানিয়ু ও সোমোয়ে আবেদনকারীদের কাছ থেকে কয়েক লাখ ডলার নিয়েছেন। তবে ঠিক কতটি আবেদন নিয়মবহির্ভূতভাবে অনুমোদিত হয়েছে, তা বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়নি।    এই অভিযোগের তদন্ত করেছে ইউএসসিআইএসের তদন্ত বিভাগ, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের দপ্তর এবং এফবিআইয়ের ডালাস কার্যালয়। গানিয়ুর আইনজীবী তাঁর মক্কেলের অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে ডালাস এক্সপ্রেস জানিয়েছে।    অভিযোগপত্র দেওয়া মানে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত দুজনই নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড ও বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব, সিনেটে নতুন বিল উত্থাপন

যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল। ‘আমেরিকানস ফার্স্ট ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট’ নামে প্রস্তাবিত বিলটিতে ডাইভারসিটি ভিসা লটারি বাতিল, নাগরিকদের বাবা-মায়ের জন্য গ্রিন কার্ডের পথ সীমিত করা এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের বর্তমান কাঠামো বদলে পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে।   আলাবামার সিনেটর টিউবারভিল ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিলটি সিনেটে উত্থাপন করেন। বিলটির নম্বর S. 5485। সিনেটে উত্থাপনের পর এটি দুইবার পাঠ করা হয়েছে এবং বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ, এটি এখনো প্রস্তাবিত আইন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভিবাসন আইনে কোনো পরিবর্তন আনেনি।   প্রস্তাবটি এর আগে প্রতিনিধি ব্যারি মুরের নেতৃত্বে ২৯ এপ্রিল প্রতিনিধি পরিষদে H.R. 8586 হিসেবে উত্থাপন করা হয়েছিল। ওই বিলের সহ-উদ্যোক্তা ছিলেন রিপাবলিকান প্রতিনিধি গ্লেন গ্রথম্যান, ওয়েসলি হান্ট ও ট্রয় নেহলস।   টিউবারভিলের প্রস্তাবিত আইনে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রে পরিবারের সম্পর্কের পাশাপাশি শিক্ষা, দক্ষতা, ইংরেজি ভাষাজ্ঞান, বেতন, বয়স, সামরিক সেবা এবং বিশেষ অর্জনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। বিলটির পক্ষে টিউবারভিল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ক্ষেত্রে এমন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত যারা দেশটির আইন মেনে চলবেন এবং সমাজ ও অর্থনীতিতে অবদান রাখবেন।   প্রস্তাবটির অন্যতম বড় পরিবর্তন হবে ডাইভারসিটি ভিসা লটারি বাতিল। বর্তমানে এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতার দেশগুলোর নাগরিকদের মধ্যে লটারির ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। টিউবারভিলের বিলটি এ ব্যবস্থা বন্ধ করে দক্ষতা ও যোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে অভিবাসন ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় কর্মীদের জন্য বছরে ৩ হাজার অভিবাসী ভিসার একটি সীমিত ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।   পরিবারভিত্তিক অভিবাসনেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমান আইনে ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিকরা তাদের বাবা-মায়ের জন্য তাৎক্ষণিক আত্মীয় হিসেবে অভিবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। প্রস্তাবিত আইনে বাবা-মাকে এই শ্রেণি থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের সুযোগ মূলত স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের মধ্যে সীমিত করার কাঠামো তৈরি হবে।   শুধু নতুন আবেদনকারী নয়, বর্তমানে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যক্তিদের ওপরও প্রস্তাবিত পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে। যেসব পরিবারভিত্তিক আবেদনের শ্রেণি বিলটির আওতায় বাদ যাবে, সেগুলোর অপেক্ষমাণ আবেদন অনুমোদনের সুযোগ থাকবে না। আগে অনুমোদিত কিছু আবেদনের ক্ষেত্রেও নতুন পরিবর্তন অনুযায়ী ভিসা দেওয়ার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের কথা বলা হয়েছে।   কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড ব্যবস্থায়ও প্রস্তাবটি বড় পরিবর্তন আনতে চায়। বর্তমানে কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসী ভিসা বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় এসব শ্রেণির পরিবর্তে একটি প্রতিযোগিতামূলক পয়েন্টভিত্তিক পদ্ধতি চালুর কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বছরে বিশ্বব্যাপী ১ লাখ ৯২ হাজার ভিসা দিয়ে শুরু করার কথা বলা হয়েছে, যদিও বিলের নির্দিষ্ট সূত্র অনুযায়ী এই সংখ্যা কমতে পারে।   এই পদ্ধতিতে আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির প্রস্তাব থাকতে হবে। আবেদনকারীকে কমপক্ষে ১৬ পয়েন্ট অর্জন করতে হবে এবং ইংরেজি ভাষার দক্ষতার একটি নির্দিষ্ট ন্যূনতম মান পূরণ করতে হবে। পাশাপাশি আবেদন করার সময় বয়স ১৮ থেকে ৫১ বছরের মধ্যে হওয়ার শর্ত রাখা হয়েছে।   বেতনের বিষয়টিও নতুন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সাধারণভাবে আবেদনকারীর প্রস্তাবিত বেতন সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের মধ্যম বেতনের অন্তত ২০০ শতাংশ হতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নির্দিষ্ট ধরনের ডিগ্রি পাওয়া বা পাওয়ার কাছাকাছি থাকা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই সীমা ১৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।   পয়েন্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে উচ্চ বেতন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি, চিকিৎসাবিষয়ক ডিগ্রি, ইংরেজি ভাষাজ্ঞান, বয়স, যোগ্য সামরিক সেবা এবং অসাধারণ অর্জন বিবেচনা করা হবে। উচ্চ বেতন বা নির্দিষ্ট ধরনের উচ্চতর ডিগ্রির মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩৫ পয়েন্ট পর্যন্ত পাওয়ার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।   প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নিয়োগদাতাদের ওপরও নতুন দায়িত্ব আরোপ করা হবে। কোনো বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের নিয়োগের চেষ্টা করতে হবে। একই পদে সমান বা বেশি যোগ্য মার্কিন কর্মী থাকলে তাকে চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।   কোনো প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে আইন ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ডলার জরিমানার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর এমন লঙ্ঘনের কারণে কোনো মার্কিন কর্মী চাকরি হারালে জরিমানা ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। নিয়ম না মানার ধারাবাহিক বা নিয়মিত চর্চা প্রমাণিত হলে অন্তত ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা এবং সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধানও প্রস্তাবটিতে রয়েছে।   পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থায় নির্বাচিত অভিবাসী এবং যোগ্য স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের প্রথমে শর্তসাপেক্ষ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই শর্তসাপেক্ষ সময় হবে দুই বছর। এ সময়ে নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা গ্রহণ, কিছু ধরনের অপরাধে দণ্ডিত হওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থানের মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে প্রধান আবেদনকারীর স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা হারানোর ঝুঁকি থাকবে। এর প্রভাব নির্ভরশীল স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের ওপরও পড়তে পারে।   বিলটিতে অভিবাসীদের কাছ থেকে একটি বিশেষ ঘোষণাপত্র নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ‘প্রটেকশন অব আমেরিকান ভ্যালুজ’ নামে ওই ঘোষণায় সংবিধানসম্মত নীতির প্রতি আনুগত্যের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গণহত্যা, নিপীড়ন, তথাকথিত সম্মান রক্ষার নামে হত্যা, যৌন সহিংসতা, পারিবারিক সহিংসতা এবং নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণের মতো নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার বিষয়েও ঘোষণা দিতে হবে।   সিনেটের প্রস্তাবটি প্রতিনিধি পরিষদের আগের বিলের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে মিল থাকলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। যেমন, নিয়োগদাতার ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘনের সর্বোচ্চ জরিমানা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়ম লঙ্ঘনের ধারাবাহিক চর্চার ক্ষেত্রে ফৌজদারি শাস্তির ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে। অসাধারণ সক্ষমতার জন্য পয়েন্ট দেওয়ার ক্ষেত্রেও দুই বিলের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।   এ ছাড়া শর্তসাপেক্ষ স্থায়ী বসবাসের বিধান তুলে নেওয়ার সময় কিছু সাক্ষাৎকার মওকুফের সুযোগ প্রতিনিধি পরিষদের প্রস্তাবে ছিল, যা সিনেটের সংস্করণে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিদ্যমান কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড ব্যবস্থা বাতিল করে নতুন পদ্ধতি চালুর সময়সীমাতেও দুই প্রস্তাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।   উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা নন এমন শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক অঙ্গরাজ্যের বাইরের শিক্ষার্থীদের সমপরিমাণ টিউশন, ফি ও অন্যান্য খরচ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান এ বিধান লঙ্ঘন করলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পাঁচ বছর পর্যন্ত বিদেশি শিক্ষার্থীদের পূর্ণকালীন পড়াশোনার জন্য অনুমোদন হারানোর ঝুঁকি থাকতে পারে।   বিলটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বিভিন্ন পরিবর্তন আনছে। তবে টিউবারভিলের প্রস্তাবিত আইন এবং প্রশাসনের নেওয়া নির্বাহী বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ এক বিষয় নয়। S. 5485 এখনো কংগ্রেসের বিচারবিষয়ক কমিটিতে রয়েছে এবং আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি।   প্রস্তাবটির ভবিষ্যৎ নিয়েও এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত নেই। সিনেটে বিলটি কমিটির পরবর্তী পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের সংশ্লিষ্ট বিল H.R. 8586-ও এপ্রিল মাসে কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল এবং এখনো আইনে পরিণত হয়নি। ফলে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন বা কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের নিয়ম এই প্রস্তাবের কারণে পরিবর্তিত হয়নি।   সূত্র: নিউজউইক

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০