সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

গ্রিন কার্ড

বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার বৈধ ৮ পথ, জেনে নিন কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত
বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার বৈধ ৮ পথ, জেনে নিন কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত

বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বসবাস করতে চান অনেকেই। কারও লক্ষ্য স্থায়ীভাবে গ্রিন কার্ড পাওয়া, কেউ চাকরি বা ব্যবসার মাধ্যমে কয়েক বছর বৈধভাবে থাকতে চান, আবার কেউ উচ্চশিক্ষার সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরিবারকে সঙ্গে নিতে চান। তবে পরিবারের সবার জন্য একই ধরনের ভিসা প্রযোজ্য নয়। পরিবারের একজন সদস্যের যোগ্যতা, পেশা, শিক্ষা, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আত্মীয় এবং আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে ইমিগ্রেশনের পথ আলাদা হয়।   বর্তমান মার্কিন ইমিগ্রেশন নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসার কয়েকটি বাস্তব ও বৈধ পথ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু সরাসরি স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরি করে, আবার কিছু পথ পরিবারকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দেয়।   ১. ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশন: প্রথম এবং সবচেয়ে পরিচিত পথ হলো ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশন। পরিবারের কোনো সদস্য যদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী হন, নির্দিষ্ট পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে তিনি বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য পিটিশন করতে পারেন।   যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক তার স্বামী বা স্ত্রী, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সন্তান ও বাবা-মায়ের জন্য আবেদন করতে পারেন। এছাড়া নাগরিকের কিছু প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান এবং ভাই-বোন ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরির আওতায় আসতে পারেন। গ্রিন কার্ডধারী সাধারণত তার স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানদের জন্য পিটিশন করতে পারেন।   তবে ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশনের সব ক্যাটাগরিতে ভিসা সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রে প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ী অপেক্ষা করতে হয় এবং সময়টা মোটামুটি ১২-১৪ বছর।   ২. এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ইমিগ্রেশন: দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ইমিগ্রেশন। কোনো বাংলাদেশি পেশাজীবীর যুক্তরাষ্ট্রে যোগ্য চাকরির সুযোগ, উচ্চতর ডিগ্রি, বিশেষ দক্ষতা বা উল্লেখযোগ্য পেশাগত যোগ্যতা থাকলে তিনি বিভিন্ন এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরিতে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।   এর মধ্যে ইবি-১, ইবি-২ এবং ইবি-৩ অন্যতম। কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এমপ্লয়ার স্পনসরশিপ প্রয়োজন হয়। আবার ইবি-২-এর ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার বা এনআইডব্লিউ-এর মতো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তি নিজে পিটিশন করতে পারেন।   এই ধরনের ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে মূল আবেদনকারী যোগ্য হলে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা ডেরিভেটিভ বেনিফিশিয়ারি হিসেবে একই ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারেন।   ৩. ইবি-২ ও ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার: উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য ইবি-২ একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। উচ্চতর ডিগ্রি, দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা বা বিশেষ দক্ষতা থাকা ব্যক্তিরা এই ক্যাটাগরি বিবেচনা করতে পারেন।   আর যোগ্যতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট-এর বিষয়টি প্রমাণ করা গেলে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভারের মাধ্যমে কিছু ক্ষেত্রে জব অফার বা লেবার সার্টিফিকেশনের প্রয়োজনীয়তা থেকে ওয়েইভার পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।   এই পথের বড় সুবিধা হলো, মূল আবেদনকারী ইমিগ্র্যান্ট ভিসার জন্য যোগ্য হলে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরাও একই কেসের মাধ্যমে যুক্ত হতে পারেন।   ৪. ইবি-৫ ইমিগ্র্যান্ট ইনভেস্টর প্রোগ্রাম: যেসব পরিবারের বড় অঙ্কের বৈধ বিনিয়োগ করার সক্ষমতা রয়েছে, তাদের জন্য ইবি-৫ ইমিগ্র্যান্ট ইনভেস্টর প্রোগ্রাম যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।   ইবি-৫-এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগ করতে হয় এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে যোগ্য কর্মসংস্থান তৈরির শর্ত পূরণ করতে হয়। যোগ্য ইবি-৫ ইনভেস্টরের সঙ্গে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরাও গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন।   ৫. ই-২ ট্রিটি ইনভেস্টর ভিসা: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো ই-২ ট্রিটি ইনভেস্টর ভিসা। বাংলাদেশ ই-২ ট্রিটি কান্ট্রি হওয়ায় যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিক এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।   ই-২-এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে একটি বাস্তব ও পরিচালনাযোগ্য ব্যবসায় সাবস্ট্যানশিয়াল ইনভেস্টমেন্ট করতে হয় এবং ইনভেস্টরকে ব্যবসাটি পরিচালনা ও উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হয়।   মূল ই-২ আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। যোগ্য ই-২ স্পাউস নির্দিষ্ট শর্তে যুক্তরাষ্ট্রে কাজও করতে পারেন। তবে ই-২ গ্রিন কার্ড নয়।   এটি একটি ননইমিগ্র্যান্ট ভিসা। অর্থাৎ ব্যবসা ও ই-২ স্ট্যাটাসের শর্ত বজায় রেখে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হয়।   ৬. এইচ-১বি ও এইচ-৪: কোনো বাংলাদেশি পেশাজীবী যুক্তরাষ্ট্রের যোগ্য এমপ্লয়ার-এর মাধ্যমে এইচ-১বি স্ট্যাটাস পেলে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এইচ-৪ ডিপেন্ডেন্ট স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। এইচ-১বি নিজে গ্রিন কার্ড নয়। তবে যোগ্য কর্মীর ক্ষেত্রে পরবর্তীতে এমপ্লয়মেন্ট-বেসড গ্রিন কার্ডের পথ তৈরি হতে পারে।   বর্তমানে নতুন এইচ-১বি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা নির্দিষ্ট আবেদনকারীদের ওপর অতিরিক্ত অর্থপ্রদানের শর্তসহ কিছু বিশেষ বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই এইচ-১বি-এর মাধ্যমে পরিবার নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে আবেদন করার সময়কার সর্বশেষ সরকারি নিয়ম যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   ৭. এল-১ ও এল-২: বাংলাদেশে কোনো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি বা একই কর্পোরেট গ্রুপের প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার, এক্সিকিউটিভ অথবা স্পেশালাইজড নলেজ এমপ্লয়ি হিসেবে কাজ করা ব্যক্তি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট অফিসে ট্রান্সফার হয়ে এল-১ স্ট্যাটাস পেতে পারেন।   এল-১ কর্মীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এল-২ ডিপেন্ডেন্ট স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। যোগ্য এল-২ স্পাউস নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগও পেতে পারেন।   বিশেষ করে বাংলাদেশে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে দীর্ঘদিন কাজ করা এবং একই প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে অফিস রয়েছে, এমন পেশাজীবীদের জন্য এই পথটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   ৮. এফ-১ ও এফ-২ : পরিবারের কোনো সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন পড়াশোনার জন্য এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসা পেলে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এফ-২ ডিপেন্ডেন্ট স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন।   তবে এফ-১ ও এফ-২ হলো ননইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাস। অর্থাৎ এটি সরাসরি গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ নয়। শিক্ষার্থী পরবর্তীতে যোগ্যতা অনুযায়ী এমপ্লয়মেন্ট-বেসড বা অন্য কোনো বৈধ ইমিগ্রেশন পথ তৈরি করতে পারলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।   পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে কী দেখবেন: বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে প্রথমেই ঠিক করতে হবে পরিবারের লক্ষ্য কী। স্থায়ীভাবে গ্রিন কার্ডের দিকে যেতে চাইলে ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশন, এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ইমিগ্রেশন এবং ইবি-৫-এর মতো ইমিগ্র্যান্ট পথগুলো গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে ই-২, এইচ-১বি, এল-১ এবং এফ-১ মূলত টেম্পোরারি বা ননইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাসের ব্যবস্থা।   পরিবারের একজন সদস্যের ভিসা বা পিটিশন অ্যাপ্রুভ হলেই পরিবারের অন্য সদস্যরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অধিকার পান না। স্পাউস ও চিলড্রেনকে ডিপেন্ডেন্ট বা ডেরিভেটিভ হিসেবে যুক্ত করার ক্ষেত্রে বয়স, বৈবাহিক অবস্থা, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরির শর্ত পূরণ করতে হয়।   তাই বাংলাদেশ থেকে পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করার আগে পরিবারের বয়স, শিক্ষা, পেশা, কাজের অভিজ্ঞতা, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আত্মীয়, ব্যবসা বা বিনিয়োগের সক্ষমতা এবং স্থায়ী নাকি অস্থায়ীভাবে থাকার লক্ষ্য বিবেচনা করে সঠিক ইমিগ্রেশন পথ বেছে নেওয়া জরুরি।   অনেক ক্ষেত্রে আবেদন করার আগে ইউএসসিআইএস ও ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি:সংগৃহীত
গ্রিন কার্ড বিক্রির অভিযোগে সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

ঘুষের বিনিময়ে গ্রিন কার্ডসহ বিভিন্ন অভিবাসন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা ইউএসসিআইএস- এর সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম লুকমান ওলাবি গানিউ। তবে তার আইনজীবী এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।   প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, গানিউ ইউএসসিআইএস-এ তার পদের অপব্যবহার করে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাস (গ্রিন কার্ড) ও নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদন করতেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি প্রয়োজনীয় সরকারি যাচাই-বাছাই এড়িয়ে বিভিন্ন আবেদন দ্রুত অনুমোদন করেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। এসবের মধ্যে গ্রিন কার্ডের জন্য ব্যবহৃত ‘আই-৪৮৫’ ফর্ম ছাড়াও পারিবারিক স্পনসরশিপ ও নাগরিকত্বের আবেদন অন্তর্ভুক্ত ছিল। আদালতের নথি থেকে জানা যায়, এই দুর্নীতি চক্রে আদেনিই আকিম সোমোয়ে নামে আরেকজন সহযোগী যুক্ত ছিলেন। গত ২ সেপ্টেম্বর গানিয়ু ও সোমোয়ে উভয়কেই গ্রেফতার করা হয়। হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের মাধ্যমে তারা আবেদনকারীদের কাছ থেকে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন বলে তদন্তকারীরা জানান। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, গানিয়ুর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৩০ ডলারের অজ্ঞাত নগদ জমা এবং জেলি ও ক্যাশ অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় ৬ লাখ ৭১ হাজার ৪৩৮ ডলার লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। অথচ ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সরকারি চাকরি থেকে তার বৈধ বেতন ছিল প্রায় ৪ লাখ ৭ হাজার ৮৩৮ ডলার। ২০২৫ সালের মে মাসে একটি গোপন অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। উল্লেখ্য, গানিউ ২০১৮ সালের নভেম্বরে ইউএসসিআইএস-এ যোগ দেন এবং ক্যানসাস, টেক্সাস ও নর্থ ক্যারোলাইনায় দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৪ সালের এপ্রিলে তিনি ডালাসে জ্যেষ্ঠ অভিবাসন সেবা কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি পান। অন্যদিকে, গানিয়ুর আইনজীবী আলফনসো কাবানাস নিউজউইককে জানান, তার মক্কেল কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না এবং সরকারের আনা অর্থনৈতিক লেনদেনের বিবরণীকে তারা চ্যালেঞ্জ করছেন।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ঘুষের বিনিময়ে গ্রিন কার্ড-নাগরিকত্ব, সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তার ২
যুক্তরাষ্ট্রে ঘুষের বিনিময়ে গ্রিন কার্ড-নাগরিকত্ব, সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তার ২

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। অর্থের বিনিময়ে বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব এবং গ্রিন কার্ডসহ বিভিন্ন অভিবাসন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লুকমান ওওলাবি গানিউ এবং তার আর্থিক সহযোগী আদেনিয়ি আকিম সোমোয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   তদন্তকারীদের দাবি, এই দুজন মিলে প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার ডলারের (প্রায় ৯ লাখ ৫৯ হাজার ২৬৮ ডলার) বিশাল এক ঘুষ বাণিজ্য চালিয়েছেন। টেক্সাসভিত্তিক এই চক্রটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে আবেদনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত এবং ঘুষের বিনিময়ে তাদের ফাইলগুলো সরাসরি গানিউর কাছে পাঠিয়ে দিত।   প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, গানিউ তার পদের চরম অপব্যবহার করে ইউএসসিআইএস-এর সিস্টেমে কারসাজি করতেন। তিনি মিনিয়াপলিস, শার্লট এবং হিউস্টনের মতো বিভিন্ন ফিল্ড অফিস থেকে আবেদনকারীদের ফাইল নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতেন। এরপর স্থানীয় সুপারভাইজারদের পর্যালোচনা এবং অপরাধের ইতিহাস যাচাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো এড়িয়ে গিয়ে দ্রুত সেসব আবেদন অনুমোদন করে দিতেন।   এমনকি তিনি তার অপরাধের সহযোগী সোমোয়ের নাগরিকত্ব এবং সোমোয়ের স্ত্রী ও সন্তানের রেসিডেন্সি বা স্থায়ী বসবাসের অনুমোদনও দ্রুত ও বেআইনিভাবে পাস করিয়েছিলেন।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গানিউ জেল (Zelle), ক্যাশ অ্যাপ (Cash App) এবং নগদ জমার মাধ্যমে প্রায় ৯ লাখ ৫৯ হাজার ২৬৮ ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন। অন্যদিকে, সোমোয়ে আর্থিক ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন এবং তার অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৭ লাখ ডলারের লেনদেন শনাক্ত হয়েছে। এর একটি অংশ তিনি নিজের পারিশ্রমিক হিসেবে রাখতেন।   গানিউর বার্ষিক সরকারি বেতন ছিল ৬৭ হাজার ৭৩২ ডলার এবং সোমোয়ের বৈধ আয় ছিল বছরে মাত্র ৭ হাজার ৫০৬ ডলার। আয়ের তুলনায় বিপুল অঙ্কের এই অবৈধ লেনদেনই তাদের ধরিয়ে দেয়।   গত ২ সেপ্টেম্বর তাদের আদালতে তোলা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে টেক্সাসের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি রায়ান রেবোল্ড বলেন, "নগদ অর্থের বিনিময়ে অভিবাসন সুবিধা বিক্রি করা জনগণের আস্থার চরম অবমাননা।"

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারি কর্মীদের সন্তানদের গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় পরিবর্তন
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারি কর্মীদের সন্তানদের গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) বিদেশি সরকারি কর্মীদের দেশটিতে জন্ম নেওয়া সন্তানদের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে পরিবর্তন এনেছে। ৪ সেপ্টেম্বর জারি করা এক অন্তর্বর্তীকালীন চূড়ান্ত নিয়মের অধীনে, বাবা-মায়ের অন্তত একজন যদি সন্তান জন্মের সময় বিদেশি সরকারি কর্মী হন এবং দুজনের কেউই মার্কিন নাগরিক না হন, তবে সেই সন্তান এই সুবিধার আওতাভুক্ত হতে পারবে।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৪৪১৮ নম্বর নির্বাহী আদেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই নতুন নিয়ম প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আগের 'বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা' সংজ্ঞাকে আরও বিস্তৃত করে 'বিদেশি সরকারি কর্মী' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।   নতুন এই নিয়মের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিক, নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করা দূতাবাস ও কনস্যুলেটের নির্দিষ্ট কর্মী এবং আন্তর্জাতিক ইমিউনিটি পাওয়া সংস্থার কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত হবেন।   তবে বিদেশি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত পরিচারক, তৃতীয় কোনো দেশের নাগরিক যারা বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট কর্মী বা দাপ্তরিক কাজের বদলে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সরকারি কর্মীরা এই সুবিধার বাইরে থাকবেন।   এই পরিবর্তনের ফলে আগের কঠোর কূটনৈতিক সংজ্ঞার বাইরে থাকা অনেক বিদেশি সরকারি কর্মীর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানরা সরাসরি লাভবান হতে পারবেন। এ ছাড়া ডিএইচএস তাদের ইমিগ্রেশন নথিপত্রেও (যেমন: ফর্ম আই-৪৮৫ এবং ফর্ম জি-৩২৫আর) প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনছে, যাতে নতুন নিয়মের বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।   গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়মটি কেবল ওই দিন বা তার পর জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় আইনি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। মেরিল্যান্ডের মার্কিন জেলা আদালতে চলমান 'কাসা ইনকর্পোরেটেড বনাম ট্রাম্প' মামলার একটি আদেশের কারণে ডিএইচএস এখনই এই নিয়মের পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ করতে পারছে না।   আদালত থেকে আইনি বাধা অপসারিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট শ্রেণিভুক্তদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর করা হবে না বলে জানিয়েছে বিভাগটি। চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে নতুন এই নিয়মটি ভবিষ্যতে কতটা ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
আমেরিকায় গুরুত্বপূর্ণ মেইল হারালে যে ৭টি পদক্ষেপ নিতে হবে দ্রুত
আমেরিকায় গুরুত্বপূর্ণ মেইল হারালে যে ৭টি পদক্ষেপ নিতে হবে দ্রুত, জেনে নিন

আমেরিকায় নতুন আসার পর গ্রিন কার্ড, কর্মসংস্থার অনুমতিপত্র, সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট ডাকযোগে পাওয়ার কথা থাকলেও তা হাতে না এলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা ঠিক নয়। মেইল দেরি, ভুল ঠিকানায় চলে যাওয়া বা হারিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনায় দ্রুত কয়েকটি পদক্ষেপ নিলে ডকুমেন্ট উদ্ধারের সুযোগ বাড়ে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মাধ্যমে নতুন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করা যায়।   মার্কিন ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মেইল না পেলে প্রথমে সেটির অবস্থান বা ট্র্যাকিং তথ্য যাচাই করা উচিত। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী হারানো মেইল খোঁজার আবেদন, স্থানীয় পোস্ট অফিসে যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাকে জানানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া যায়।   ১. ডাক বিভাগের মেইল নোটিফিকেশন চালু করুন মার্কিন ডাক বিভাগের বিনামূল্যের ‘ইনফর্মড ডেলিভারি’ সেবা চালু করলে আপনার ঠিকানায় আসতে থাকা চিঠির ডিজিটাল প্রিভিউ এবং প্যাকেজের আপডেট পাওয়া যায়। চিঠির ক্ষেত্রে সাধারণত খামের ঠিকানা অংশের স্ক্যান করা ছবি দেখা যায়। ফলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ চিঠি আসার কথা জানা থাকলেও সেটি হাতে না এলে দ্রুত বিষয়টি শনাক্ত করা সহজ হয়। তবে অনলাইনে চিঠির প্রিভিউ দেখা মানেই সেটি ইতোমধ্যে মেইলবক্সে পৌঁছে গেছে, এমন নয়। প্রিভিউ দেখানোর পরও কোনো কোনো মেইল পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে।   ২. হারানো মেইল খোঁজার আবেদন করুন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেইল না এলে ডাক বিভাগের ‘মিসিং মেইল সার্চ’ সেবার মাধ্যমে খোঁজার আবেদন করা যায়। সাধারণত মেইল পাঠানোর সাত দিন পর এই আবেদন করা যায়। আবেদনের সময় প্রেরক ও প্রাপকের ঠিকানা, মেইল পাঠানোর তারিখ, ট্র্যাকিং নম্বর থাকলে সেটি এবং মেইলের ধরন ও ভেতরে থাকা সামগ্রীর বিস্তারিত তথ্য দিতে হতে পারে। তবে আবেদন করলেই ডাক বিভাগ মেইলটি খুঁজে পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না।   ৩. স্থানীয় পোস্ট অফিসে যোগাযোগ করুন মেইল হারিয়ে গেছে বা ভুলভাবে ডেলিভারি হয়েছে বলে মনে হলে স্থানীয় পোস্ট অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করা যেতে পারে। পরিচয়পত্রের পাশাপাশি মেইলটির সম্ভাব্য তথ্য সঙ্গে রাখলে কর্মকর্তাদের বিষয়টি খুঁজে দেখতে সুবিধা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় পোস্ট অফিসের মাধ্যমে মেইলের অবস্থান সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তাই শুধু অনলাইনে অভিযোগ করে বসে না থেকে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পোস্ট অফিসেও যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ।   ৪. গ্রিন কার্ড বা কর্মসংস্থার অনুমতিপত্র না এলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে জানান যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ থেকে পাঠানো গ্রিন কার্ড বা কর্মসংস্থার অনুমতিপত্র ঠিকানায় না পৌঁছালে কার্ড না পাওয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অনুসন্ধান করা যায়। তবে নতুন করে অনুমোদিত আবেদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে এই অনুসন্ধান করতে হয়। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদনের নোটিশ পাওয়ার পর অন্তত ৯০ দিন অপেক্ষা করে কার্ড না পাওয়ার বিষয়ে অনুসন্ধান করতে বলা হয়। কার্ড হারিয়ে গেলে, চুরি হলে বা নষ্ট হয়ে গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করার সুযোগও রয়েছে। তাই মেইলের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় না থেকে নিজের আবেদনের অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।   ৫. সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড না এলে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনে যোগাযোগ করুন সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড সাধারণত ডাকযোগে পাঠানো হয়। প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই ও আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর সাধারণত প্রায় ১০ কর্মদিবসের মধ্যে কার্ড পৌঁছানোর কথা। এই সময়ের মধ্যে কার্ড না এলে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। কার্ড হারিয়ে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করার ব্যবস্থাও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অনলাইনে নতুন কার্ডের আবেদন করা যায় এবং এর জন্য কোনো ফি নেওয়া হয় না।   ৬. ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য যাচাই করুন নতুন বাসায় ওঠার পর ডাক বিভাগের কাছে ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন না করলে গুরুত্বপূর্ণ মেইল পুরোনো ঠিকানায় চলে যেতে পারে। তাই বাসা পরিবর্তনের পর মেইল অন্য ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা সক্রিয় আছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। তবে ডাক বিভাগের ঠিকানা পরিবর্তন করলেই সরকারি সংস্থা, ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বা অন্য প্রতিষ্ঠানের নথিতে ঠিকানা পরিবর্তন হয়ে যায় না। এসব প্রতিষ্ঠানকেও আলাদাভাবে নতুন ঠিকানা জানাতে হবে।   ৭. গুরুত্বপূর্ণ মেইল পাঠানোর সময় ট্র্যাকিং ও স্বাক্ষরভিত্তিক সেবা ব্যবহার করুন গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট বা প্যাকেজ পাঠানোর ক্ষেত্রে উপযুক্ত ট্র্যাকিং ও স্বাক্ষরভিত্তিক ডাকসেবা ব্যবহার করা হলে ডেলিভারির তথ্য পাওয়া সহজ হয়। কিছু সেবায় ডেলিভারির সময়, তারিখ এবং স্বাক্ষরের তথ্যও সংরক্ষিত থাকে। নির্দিষ্ট কিছু সেবার মাধ্যমে কেবল অনুমোদিত ব্যক্তির কাছে মেইল পৌঁছানোর ব্যবস্থাও করা যায়।   তবে সরকারি সংস্থার পাঠানো সব ডকুমেন্টে প্রাপক নিজের ইচ্ছামতো স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করার ব্যবস্থা যোগ করতে পারেন না। কোন ধরনের ডাকসেবা ব্যবহার করা হবে, তা সাধারণত প্রেরকের ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে।   গুরুত্বপূর্ণ মেইল হাতে না এলে প্রথমে সেটির ট্র্যাকিং তথ্য যাচাই করুন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী হারানো মেইল খোঁজার আবেদন, স্থানীয় পোস্ট অফিসে যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। বিশেষ করে গ্রিন কার্ড, কর্মসংস্থার অনুমতিপত্র বা সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।   আর মেইল চুরি হয়েছে বলে সন্দেহ হলে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক পরিদর্শন সেবায় অভিযোগ করা যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট হারিয়ে গেলে পরিচয় চুরির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই এমন ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন গ্রিন কার্ডের আশায় ভারতীয়দের দীর্ঘ অপেক্ষা
মার্কিন গ্রিন কার্ডের আশায় ভারতীয়দের দীর্ঘ অপেক্ষা, নতুন আবেদনকারীদের জন্য সময় লাগতে পারে ১৭৯ বছর

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড প্রত্যাশী ভারতীয় নাগরিকদের জন্য চরম অনিশ্চয়তা ও দীর্ঘ অপেক্ষার চিত্র উঠে এসেছে এক গবেষণা প্রতিবেদনে। ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর আমেরিকান পলিসির (এনএফএপি) তথ্যমতে, চলতি বছরে কোনো ভারতীয় পেশাজীবী গ্রিন কার্ডের আবেদন করলে ক্যাটাগরিভেদে তাকে সর্বোচ্চ ১৭৯ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।   ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসের (ইউএসসিআইএস) সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, একই প্রক্রিয়ায় চীনা নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই অপেক্ষার সময় সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে।   মার্কিন ইমিগ্রেশন আইনের কঠোর কোটাব্যবস্থা ও ব্যাকলগের কারণেই এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশটিতে প্রতি বছর চাকরিভিত্তিক ক্যাটাগরিতে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার গ্রিন কার্ড ইস্যু করা হয়, যেখানে কোনো একক দেশকে মোট সংখ্যার ৭ শতাংশের বেশি দেওয়ার সুযোগ নেই।   বিজ্ঞান ও প্রকৌশল খাতে ভারতীয় মেধার বিপুল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও এই সীমাবদ্ধতার কারণে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ ভারতীয় এই দীর্ঘ জটে আটকে রয়েছেন।   গত পাঁচ বছরে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অগ্রাধিকার ক্যাটাগরিতে (ইবি-১, ইবি-২ ও ইবি-৩) আবেদন জট ২০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে মোট ১২ লাখ ৬০ হাজারে পৌঁছেছে। ফলে নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ইবি-২ ক্যাটাগরিতে ১৭৯ বছর, ইবি-৩ ক্যাটাগরিতে ৩৮ বছর এবং ইবি-১ ক্যাটাগরিতে ৪ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।   দীর্ঘ অপেক্ষার এই সংকট সাময়িক এইচ-ওয়ানবি (H-1B) ভিসায় থাকা দক্ষ কর্মী ও তাদের পরিবারের জীবনে মারাত্মক অনিশ্চয়তা তৈরি করছে, পাশাপাশি মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক প্রতিভা ধরে রাখার সুযোগও সংকুচিত করছে। এর ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী নানা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।   যার মধ্যে রাজনৈতিক অবস্থানসহ বিভিন্ন কারণে ভিসা বাতিল এবং নতুন আবেদন ফির মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। দেশটিতে বসবাসরত প্রায় ৩২ লাখ ভারতীয় জনগোষ্ঠীর ওপর এই কঠোর নীতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে বলে মানবাধিকার ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন নাগরিকত্ব
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা যে ৪ ধরনের আত্মীয়কে পারিবারিক ভিসায় নিতে পারেন, জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা নির্দিষ্ট পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে তাদের স্বজনদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য স্পনসর করতে পারেন। পারিবারিক অভিবাসন ব্যবস্থায় মার্কিন নাগরিকদের জন্য প্রধানত চার ধরনের আত্মীয়কে স্পনসর করার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা এবং ভাই-বোন। তবে প্রতিটি সম্পর্কের জন্য আলাদা ভিসা ক্যাটাগরি ও যোগ্যতার শর্ত রয়েছে। মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান সাধারণত ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন। এই ক্যাটাগরিতে প্রতি বছর ভিসার নির্দিষ্ট সংখ্যাগত সীমা নেই।   এ ছাড়া ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিকের বাবা-মা ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরিতে পারিবারিক ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। অন্যদিকে, মার্কিন নাগরিকের ভাই-বোন এবং ২১ বছরের বেশি বয়সী বা বিবাহিত সন্তানরা ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন। এসব ক্ষেত্রে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সংখ্যক ভিসা দেওয়া হয় এবং আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।   তবে শুধু আত্মীয়তা থাকলেই ভিসা নিশ্চিত হয় না। স্পনসরকে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হয় এবং আবেদনকারী স্বজনকেও অভিবাসন আইনের অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। এ ছাড়া গ্রিন কার্ডধারীদের পারিবারিক স্পনসরশিপের সুযোগ মার্কিন নাগরিকদের তুলনায় সীমিত। তারা সাধারণত স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানদের জন্য আবেদন করতে পারেন।   অর্থাৎ, মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে নেওয়ার সুযোগ আগের তুলনায় অনেক বিস্তৃত হয়। তবে কোন আত্মীয় কত দ্রুত ভিসা পাবেন, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরি ও ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতার ওপর।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
৭ মাস আইসিই হেফাজতে বন্দি থাকার পর মিলল গ্রিন কার্ড, তবু আনন্দ নেই মার্কোসের
৭ মাস আইসিই হেফাজতে বন্দি থাকার পর মিলল গ্রিন কার্ড, তবু আনন্দ নেই মার্কোসের

যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের স্বপ্ন নিয়ে গ্রিন কার্ডের আবেদন করেছিলেন মার্কোস গাসপার-দা সিলভা। একজন মার্কিন নাগরিকের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই ব্রাজিলীয় নাগরিক আইনি প্রক্রিয়ার মাঝপথেই যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) হাতে আটক হন।   এরপর তাঁকে প্রায় সাত মাস কাটাতে হয় বন্দিশিবিরে। চলতি মাসের শুরুতে একজন ইমিগ্রেশন বিচারক তাঁকে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা দিলে অবশেষে তিনি মুক্তি পান।   আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে পরিবারের কাছে ফিরলেও এই দীর্ঘ বন্দিজীবন তাঁকে মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত করেছে যে, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মুক্তির পরও তাঁর মধ্যে কোনো উচ্ছ্বাস নেই।   সংবাদমাধ্যম পোর্টল্যান্ড প্রেস হেরাল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমি আবেগের জন্য অপেক্ষা করছিলাম, কিন্তু আমার ভেতরে এখন কোনো আবেগই অবশিষ্ট নেই।"   মার্কোসের দাবি, বন্দিশিবিরের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত নোংরা এবং ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত মানুষ সেখানে গাদাগাদি করে থাকতো। মাসের পর মাস তাঁকে অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি, মানহীন খাবার, পানের অযোগ্য পানি এবং চরম চিকিৎসাসংকটের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। এমনকি দাঁতের তীব্র ব্যথায় ভুগলেও তাঁকে মাসের পর মাস অপেক্ষায় রাখা হয়েছে এবং কোনো অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর স্ত্রী।   তবে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) একজন মুখপাত্র এই অভিযোগগুলোকে 'অতিরঞ্জিত' আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন, আইসিই-এর বন্দিশিবিরগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ কারাগারগুলোর চেয়েও উন্নত মান বজায় রাখা হয় এবং সেখানে পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের গণ-নির্বাসন অভিযানের প্রতিশ্রুতির মাঝেই মার্কোসের মতো বৈধ গ্রিন কার্ড ও ভিসা আবেদনকারীদের এভাবে আটকের ঘটনা মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ২০২১ সালে ব্রাজিলে সিভিল অ্যাটর্নি হিসেবে কাজ করার সময় মৃত্যুর হুমকি পেয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন।   পরবর্তীতে ২০২৩ সালে মার্কিন নাগরিক আলেসিয়াকে বিয়ে করে আইনি পথেই স্পাউসাল গ্রিন কার্ডের আবেদন করেছিলেন তিনি। সেই আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থাতেই গত জানুয়ারিতে কাজে যাওয়ার পথে তাঁকে হঠাৎ আটক করে আইসিই।   এরপর ম্যাসাচুসেটস থেকে অ্যারিজোনা পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যের বন্দিশিবিরে তাঁকে ঘুরতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পান। বর্তমানে তিনি তাঁর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন এবং মানসিক ট্রমা কাটিয়ে উঠতে একজন পর্তুগিজ-ভাষী থেরাপিস্টের সহায়তা নিচ্ছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
বিশ্বজুড়ে মার্কিন অভিবাসী ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত, চরম অনিশ্চয়তায় গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীরা
বিশ্বজুড়ে মার্কিন অভিবাসী ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত, চরম অনিশ্চয়তায় গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীরা

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন 'পাবলিক চার্জ' নিয়মের কারণে বিশ্বজুড়ে হঠাৎ স্থগিত করা হলো গ্রিন কার্ড ও অভিবাসী ভিসা সাক্ষাৎকার। এর ফলে আগে থেকেই দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের ভবিষ্যৎ আবারও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।   নতুন এই নিয়মের আওতায়, কোনো আবেদনকারী যদি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি আর্থিক সহায়তা বা সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হবেন বলে মনে হয়, তবে কনস্যুলার অফিসাররা তাঁর আবেদন বাতিল করে দিতে পারবেন।   মূলত দূতাবাস ও কনস্যুলার কর্মীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্যই বিশ্বজুড়ে সাময়িকভাবে এই অভিবাসী ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট।   এই নতুন স্থগিতাদেশের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে ‘কনস্যুলার প্রসেসিং’-এর মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ বা গ্রিন কার্ড পেতে ইচ্ছুক আবেদনকারীদের ওপর। ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারের মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত সাক্ষাৎকারের জন্য যারা অপেক্ষা করছিলেন, তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে সাক্ষাৎকার বাতিল বা স্থগিত হওয়ার নোটিশ পেতে শুরু করেছেন।   তবে যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অবস্থান করে ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন করেছেন, তাদের ওপর এই স্থগিতাদেশের তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানা গেছে।   এই স্থগিতাদেশের সময়কাল নিয়ে অভিবাসন আইনজীবীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মেমফিসের সিসকাইন্ড সুসারের অংশীদার ও অভিবাসন আইনজীবী এলিসা তউব সংবাদমাধ্যম নিউজউইককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অর্থবছর আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে।   এই সময়ের মধ্যে বরাদ্দকৃত সকল অভিবাসী ভিসা ইস্যু করার বদলে সরকার হঠাৎ করেই গণহারে সাক্ষাৎকার বাতিল করেছে এবং কবে নাগাদ এগুলোর কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেয়নি।   নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকার বরাদ্দকৃত সব ভিসা ব্যবহার করতে ব্যর্থ হলে সেগুলো চিরতরে বাতিল হয়ে যাবে, যা বছরের পর বছর অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের জন্য চরম হতাশাজনক।   এছাড়া তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্টেট ডিপার্টমেন্ট গোপনে নতুন নিয়ম তৈরি করছে, অথচ আবেদনকারীদের এ বিষয়ে প্রস্তুত হওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।   ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে আইনি অভিবাসন ব্যবস্থাকে সংকুচিত বা ধীর করার এটি প্রথম পদক্ষেপ নয়। এর আগে শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়াকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল এবং কিছু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের ওপরও ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।   সব মিলিয়ে ভিসা সাক্ষাৎকার নতুন করে কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্ট এখনও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেনি। যার ফলে পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখা বহু মানুষের অপেক্ষার প্রহর আরও দীর্ঘ হলো।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
গ্রিন কার্ড পেতে পূরণ করতে হবে বিশেষ ৬ শর্ত
মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর গ্রিন কার্ড পেতে পূরণ করতে হবে বিশেষ ৬ শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী মারা গেলে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জীবিত স্বামী বা স্ত্রী নিজস্ব আবেদনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সাধারণত ফর্ম আই-৩৬০ ব্যবহার করে আবেদন করতে হয়। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা—ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীর বৈবাহিক সম্পর্ক, মৃত স্বামীর বা স্ত্রীর নাগরিকত্ব এবং পুনর্বিবাহের বিষয়সহ কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হয়।    প্রথম শর্ত হলো—মৃত স্বামী বা স্ত্রীকে মৃত্যুর সময় মার্কিন নাগরিক হতে হবে। ইউএসসিআইএসের নথি অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী নাগরিক, বিদেশে জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিকের সন্তান হিসেবে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তি অথবা স্বাভাবিকীকরণের মাধ্যমে নাগরিক হওয়া ব্যক্তি—যেকোনো একটি অবস্থানে থাকতে পারেন। এ বিষয়টি প্রমাণ করতে জন্মসনদ, নাগরিকত্বের সনদ বা বৈধ মার্কিন পাসপোর্টের মতো নথি দিতে হতে পারে।    দ্বিতীয় শর্ত—আইনগতভাবে বিবাহিত স্বামী বা স্ত্রী হতে হবে। আবেদনকারীর সঙ্গে মৃত মার্কিন নাগরিকের বৈধ বিবাহের প্রমাণ দিতে হবে। এর জন্য বিবাহের সনদ প্রয়োজন হয়। আগে অন্য কোনো বিবাহ হয়ে থাকলে, সেই বিবাহ আইনগতভাবে শেষ হয়েছে—এমন প্রমাণও প্রয়োজন হতে পারে।    তৃতীয় শর্ত—মৃত্যুর সময় স্বামী-স্ত্রী আইনগতভাবে আলাদা থাকা যাবে না। ইউএসসিআইএসের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মৃত মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে মৃত্যুর সময় আবেদনকারী আইনগতভাবে আলাদা থাকলে এই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় আবেদন করার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। ফর্ম আই-৩৬০-এ এ বিষয়ে সরাসরি তথ্য চাওয়া হয়।    চতুর্থ শর্ত—আবেদনকারীকে পুনরায় বিয়ে করা যাবে না। স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর আবেদনকারী যদি অন্য কাউকে বিয়ে করে থাকেন, তাহলে মৃত মার্কিন নাগরিকের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নষ্ট হতে পারে। ইউএসসিআইএস স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আবেদন করার সময় পুনর্বিবাহ না করা একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।    পঞ্চম শর্ত—স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। ইউএসসিআইএসের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে মৃত মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর দুই বছরের মধ্যে ফর্ম আই-৩৬০ জমা দিতে হয়। অর্থাৎ মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে আবেদন করলে এই বিশেষ ব্যবস্থার সুযোগ নাও থাকতে পারে।    ষষ্ঠ শর্ত—বিয়েটি প্রকৃত বৈবাহিক সম্পর্ক হতে হবে এবং আবেদনকারীকে অভিবাসনের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে হবে। ইউএসসিআইএসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিয়েটি শুধু অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল—এমন হলে আবেদন গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। একই সঙ্গে আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের অন্যান্য প্রযোজ্য যোগ্যতাও পূরণ করতে হবে।    কীভাবে আবেদন করবেন?   মৃত মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রীর পক্ষ থেকে আগে ফর্ম আই-১৩০ জমা দেওয়া হয়ে থাকলে এবং সেটি অনুমোদিত বা বিচারাধীন থাকলে, অনেক ক্ষেত্রে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিধবা বা বিপত্নীক স্বামী-স্ত্রীর ফর্ম আই-৩৬০ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নতুন করে আই-৩৬০ জমা দেওয়ার প্রয়োজন সব ক্ষেত্রে হয় না।    যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত যোগ্য আবেদনকারীরা পরিস্থিতি অনুযায়ী ফর্ম আই-৪৮৫ ব্যবহার করে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, এ ধরনের বিধবা বা বিপত্নীক স্বামী-স্ত্রীর জন্য অভিবাসন ভিসা সাধারণত সরাসরি পাওয়া যায় যখন আই-৩৬০ অনুমোদিত হয়।    তবে শুধু এই ছয়টি শর্ত পূরণ করলেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত অভিবাসন ইতিহাস, অপরাধমূলক রেকর্ড, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ইতিহাস এবং অন্যান্য আইনগত বিষয়ও বিবেচনায় আসতে পারে। তাই বাস্তব কোনো আবেদন করার আগে ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা, মানতে হবে নতুন নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের সবসময় বৈধ গ্রিন কার্ড সঙ্গে রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মার্কিন সরকারের প্রকাশিত নির্দেশনায় স্থায়ী বাসিন্দাদের এই আইনি দায়িত্ব আবারও স্পষ্ট করা হয়েছে।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গ্রিন কার্ড বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট কার্ড যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার প্রমাণ। তাই গ্রিন কার্ড শুধু বাড়িতে রেখে দিলেই হবে না, প্রয়োজনের সময় প্রদর্শনের জন্য তা নিজের সঙ্গে রাখতে হবে।   এ ক্ষেত্রে কার্ডটির মেয়াদ ও বৈধতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, সবসময় সঙ্গে রাখার নিয়মও মেনে চলতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ কার্ড সঙ্গে থাকলে তা বৈধ গ্রিন কার্ড বহনের শর্ত পূরণ নাও করতে পারে।   এই বিধান যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক গ্রিন কার্ডধারীর জন্য প্রযোজ্য। পাশাপাশি অন্যান্য যোগ্য অ-নাগরিকদের ক্ষেত্রেও নিবন্ধনের প্রমাণ সঙ্গে রাখার নিয়ম রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী এর মধ্যে বৈধ অভিবাসন নথি বা কর্মসংস্থান অনুমতিপত্রের মতো নথি থাকতে পারে।   কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধনের আওতায় থাকা কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র সঙ্গে না রাখলে আইনি পরিণতির মুখে পড়তে পারেন। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার জরিমানা অথবা ৩০ দিন পর্যন্ত কারাদণ্ড, কিংবা দুটিই হতে পারে।   তবে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা সাধারণত আগেই নিবন্ধিত হিসেবে বিবেচিত হন। তাই শুধু এই নিয়মের কারণে গ্রিন কার্ডধারীদের আবার নতুন করে নিবন্ধন করতে হবে—এমন নয়।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যেসব অ-নাগরিক আগে নিবন্ধিত হননি এবং যাদের ৩০ দিন বা তার বেশি সময় থাকার কথা, তাদের ক্ষেত্রে আলাদা নিবন্ধন ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।   সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য মূল বিষয় হলো—গ্রিন কার্ডের মেয়াদ ও বৈধতা নিশ্চিত করা এবং কার্ডটি সবসময় নিজের সঙ্গে রাখা।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় বাংলাদেশিদের সুখবর, এগোল আড়াই বছর I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় বাংলাদেশিদের সুখবর, এগোল আড়াই বছর

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্যামিলি বেইজড গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে এসেছে ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন। আগস্ট মাসের তুলনায় এফ ১, এফ ২বি, এফ ৩ এবং এফ ৪ ক্যাটাগরিতে ফাইনাল অ্যাকশন ডেট এক থেকে প্রায় আড়াই বছর পর্যন্ত এগিয়েছে।   ভিসা বুলেটিনে বাংলাদেশের নাম আলাদাভাবে না থাকলেও ‘অল চার্জেবিলিটি এরিয়াস’ কলামের আওতায় এই অভাবনীয় অগ্রগতি দেশের আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। নতুন বুলেটিন অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকদের ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের এফ ১ ক্যাটাগরি প্রায় ১৩ মাস এগিয়ে ২০২০ সালের ২২ জানুয়ারি হয়েছে।   অন্যদিকে, গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানের এফ ২এ ক্যাটাগরি এক মাস এগিয়ে ২০২৬ সালের ২২ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ডেটস ফর ফাইলিং চার্টে আগে থেকেই ‘কারেন্ট’ অবস্থায় রয়েছে।   সবচেয়ে বড় চমক এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিবাহিত ছেলে-মেয়েদের এফ ৩ ক্যাটাগরিতে। এক মাসের ব্যবধানে এই ক্যাটাগরি প্রায় দুই বছর পাঁচ মাস এগিয়ে ২০১৪ সালের ২২ অক্টোবর হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা বহু বাংলাদেশি পরিবারের জন্য এটি একটি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক খবর।   এছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকদের ভাইবোনদের জন্য নির্ধারিত এফ ৪ ক্যাটাগরি দুই বছর এক মাসেরও বেশি এগিয়ে ২০১১ সালের ২২ অক্টোবর হয়েছে এবং গ্রিন কার্ডধারীর ২১ বছরের বেশি বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের এফ ২বি ক্যাটাগরি ১৯ মাসের বেশি এগিয়ে ২০১৯ সালের ২২ আগস্টে পৌঁছেছে।   তবে এত বড় অগ্রগতির পরও এফ ৪ ও এফ ৩ ক্যাটাগরিতে আবেদনকারীদের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য যথাক্রমে প্রায় ১৫ ও ১২ বছরের পুরোনো প্রায়োরিটি ডেট নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।   সার্বিকভাবে এই বুলেটিনে বাংলাদেশ ও চীনের আবেদনকারীরা সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি লাভ করেছেন। ভারতের প্রথম চারটি ক্যাটাগরির অগ্রগতি বাংলাদেশের সমান হলেও ভাইবোনের এফ ৪ ক্যাটাগরিতে তারা বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় পাঁচ বছর পিছিয়ে রয়েছে।   মেক্সিকো ও ফিলিপাইনের ক্ষেত্রেও বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি, তাদের অধিকাংশ ক্যাটাগরি প্রায় স্থির অবস্থায় রয়েছে। উল্লেখ্য, মার্কিন নাগরিকদের স্বামী বা স্ত্রী, ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান এবং প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের বাবা-মায়েরা ‘ইমিডিয়েট রিলেটিভ’ হওয়ায় তারা বার্ষিক ভিসাসীমার বাইরে থাকেন, ফলে তাদের ক্ষেত্রে ভিসা বুলেটিনের এই কাট-অফ ডেটগুলোর কোনো প্রভাব পড়বে না।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর নতুন ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য ভিসা বুলেটিন প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। মার্কিন অর্থবছরের শেষ মাস হওয়ায় কয়েকটি কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন শ্রেণিতে ভিসা নম্বরের চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভারতীয় আবেদনকারীদের জন্য কয়েকটি শ্রেণিতে ভিসা নম্বর শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।   সেপ্টেম্বরের বুলেটিন অনুযায়ী, ভারতীয় আবেদনকারীদের কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রথম শ্রেণিতে চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০২২ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। উচ্চ চাহিদার কারণে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই এই শ্রেণির নির্ধারিত ভিসা নম্বর শেষ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।   কর্মসংস্থানভিত্তিক দ্বিতীয় শ্রেণিতেও ভারতীয়দের জন্য বর্তমানে ভিসা নম্বর পাওয়া যাচ্ছে না। একই অবস্থা রয়েছে সাধারণ কর্মসংস্থানভিত্তিক পঞ্চম শ্রেণিতেও। তবে গ্রামীণ এলাকা, উচ্চ বেকারত্বপূর্ণ এলাকা এবং অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত পঞ্চম শ্রেণির বিশেষ ভিসাগুলো সব দেশের আবেদনকারীদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।   পরিবারভিত্তিক দ্বিতীয়-এ শ্রেণিতে তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতি রয়েছে। সেপ্টেম্বরের বুলেটিনে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের আবেদনকারীদের জন্য এই শ্রেণির চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ ২২ আগস্ট ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদন জমা দেওয়ার তারিখের তালিকায় দ্বিতীয়-এ শ্রেণি বিশ্বব্যাপী চলমান রয়েছে।   কর্মসংস্থানভিত্তিক তৃতীয় শ্রেণিতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের আবেদনকারীদের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪। তবে চীন, ভারত ও ফিলিপাইনের আবেদনকারীদের জন্য আলাদা ও তুলনামূলক পুরোনো কাটঅফ তারিখ রয়েছে।   স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের শেষ সময়ে কোনো শ্রেণিতে চাহিদা বেড়ে গেলে নির্ধারিত তারিখ আরও পিছিয়ে যেতে পারে। এমনকি কোনো শ্রেণির ভিসা নম্বর পুরোপুরি শেষ হয়ে গেলে সেটি সাময়িকভাবে অনুপলব্ধও হতে পারে।   গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের তাই নিজেদের অগ্রাধিকার তারিখের সঙ্গে সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিনের কাটঅফ তারিখ মিলিয়ে দেখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অন্যান্য প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।   এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সেপ্টেম্বরে আবেদন গ্রহণের ক্ষেত্রে কোন তারিখের তালিকা অনুসরণ করছে, সেটিও নজরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভিসা নম্বর শেষ হয়ে গেলে কিছু আবেদনকারীকে নতুন অর্থবছর শুরু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।   নতুন মার্কিন অর্থবছর শুরু হবে আগামী ১ অক্টোবর। ফলে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ভিসা নম্বরের চাপ এবং বিভিন্ন অভিবাসন শ্রেণির কাটঅফ তারিখের পরিবর্তনের দিকে গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের বিশেষ নজর রাখতে হবে।

তাবাস্সুম আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ, গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য বড় আপডেট
যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ, গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য বড় আপডেট

ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থবছরের শেষ মাস হওয়ায়, পরিবারভিত্তিক ও কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ভিসা নম্বর দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   বিশেষ করে ইবি-১ ইন্ডিয়া, ইবি-২ এবং আনরিজার্ভড ইবি-৫ ক্যাটাগরির আবেদনকারীদের চরম সতর্কতার সঙ্গে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত নিয়মিত আপডেট নজরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।   গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে মূলত দুটি চার্টের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে 'ফাইনাল অ্যাকশন ডেটস'-এর ভিত্তিতে ভিসা নম্বর ইস্যু ও গ্রিন কার্ড চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়। অন্যদিকে, ইউএসসিআইএস (USCIS) যদি 'ডেটস ফর ফাইলিং' চার্ট ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবে আবেদনকারীরা আগেভাগেই তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পান।   যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত যারা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের (অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস) আবেদন করতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য ইউএসসিআইএস সেপ্টেম্বরে কোন চার্টটি অনুসরণ করতে বলবে, সেটিই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে। তবে ২২ আগস্ট পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি সংস্থাটি।   পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের ক্ষেত্রে এফ-২এ ক্যাটাগরি বর্তমানে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। গ্রিন কার্ডধারী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানদের জন্য এই ক্যাটাগরিতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের 'ফাইনাল অ্যাকশন ডেট' ২২ আগস্ট ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে।   তবে মেক্সিকোর নাগরিকদের জন্য এই তারিখ ২২ আগস্ট ২০২৫। ডেটস ফর ফাইলিং চার্টে এফ-২এ ক্যাটাগরি বিশ্বব্যাপী 'কারেন্ট' বা উন্মুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ, ইউএসসিআইএস অনুমতি দিলে যোগ্য আবেদনকারীরা খুব দ্রুতই তাদের আবেদন জমা দিতে পারবেন।   কর্মসংস্থানভিত্তিক ক্যাটাগরিতে ইবি-১ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের জন্য 'কারেন্ট' থাকলেও, ভারতের ক্ষেত্রে ফাইনাল অ্যাকশন ডেট ১৫ অক্টোবর ২০২২ পর্যন্ত পিছিয়ে আছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট সতর্ক করেছে যে, উচ্চ চাহিদার কারণে সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার আগেই ইবি-১ ইন্ডিয়া ক্যাটাগরি সাময়িকভাবে 'আনঅ্যাভেইলেবল' বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।   এদিকে, ইবি-২ এবং আনরিজার্ভড ইবি-৫ বিনিয়োগকারী ক্যাটাগরিতে ভারতের জন্য ভিসা নম্বর এরই মধ্যে আনঅ্যাভেইলেবল হয়ে গেছে। তবে গ্রামীণ এলাকা, উচ্চ বেকারত্বের এলাকা ও অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগের ইবি-৫ সেট অ্যাসাইড ক্যাটাগরিগুলো এখনো সব দেশের জন্যই উন্মুক্ত রয়েছে।   এছাড়া, ইবি-৩ ক্যাটাগরিতে অধিকাংশ দেশ ও মেক্সিকোর জন্য তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, চীনের জন্য ১ জানুয়ারি ২০২২, ভারতের জন্য ১ জানুয়ারি ২০১৪ এবং ফিলিপাইনের জন্য ১ আগস্ট ২০২৩ নির্ধারণ করা হয়েছে।   উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আবেদনকারীদের ভিসা বুলেটিনের কাটঅফ ডেটের সঙ্গে নিজেদের প্রাইওরিটি ডেট মিলিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইউএসসিআইএস-এর সেপ্টেম্বর মাসের চার্ট প্রকাশের পরপরই স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন জমা দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।   বিশেষ করে ইবি-১ ইন্ডিয়া, ইবি-২ এবং আনরিজার্ভড ইবি-৫ ক্যাটাগরির আবেদনকারীদের সব ধরনের কাগজপত্র, মেডিকেল রিপোর্ট ও আইনি প্রস্তুতি আগে থেকেই সম্পন্ন রাখতে হবে। মাসের মাঝামাঝি বা শেষভাগে ভিসা নম্বর শেষ হয়ে গেলে তারিখ পিছিয়ে যাওয়ার বা সাময়িকভাবে ক্যাটাগরি বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।   বিশ্লেষকদের মতে, সেপ্টেম্বরের এই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলে আবেদনকারীদের নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার পর অক্টোবরে নতুন ভিসা নম্বর বরাদ্দের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরীর সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেয়েছেন এক বাংলাদেশি তরুণ। ছবি: সংগৃহীত
ইমিগ্রেশন কড়াকড়ির মধ্যেও মেধাবী তরুণের গ্রিন কার্ড, জানালেন অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কঠোর ইমিগ্রেশন পরিবেশের মধ্যেই এক মেধাবী তরুণের গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুখবর জানিয়েছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ওই তরুণের সঙ্গে ছবি প্রকাশ করে তিনি জানান, তার ল’ ফার্মের সহযোগিতায় তরুণটি বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেয়েছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী তরুণটিকে ‘মেধাবী’ ও ‘দরিদ্র’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পোস্টে তিনি জানান, সঠিক উপায়ে এবং বৈধ প্রক্রিয়ায় তার ল’ ফার্মের সহযোগিতায় তরুণটি আমেরিকান গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। একই পোস্টে মঈন চৌধুরী তার ল’ অফিসের দক্ষ ও অভিজ্ঞ স্টাফদের প্রশংসার কথাও উল্লেখ করেন।   তবে ওই পোস্টে গ্রিন কার্ডটি কোন ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরির মাধ্যমে পাওয়া গেছে, তা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এটি পারিবারিক, কর্মসংস্থানভিত্তিক, অ্যাসাইলাম বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।   যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ইমিগ্রেশন আবেদন ও গ্রিন কার্ডের বিভিন্ন প্রক্রিয়া নিয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ইউএসসিআইএসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের ইমিগ্রেশন আবেদন প্রক্রিয়াকরণে কয়েক মাস থেকে এক বছরের বেশি সময়ও লাগতে পারে। ২০২৬ অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক ভিত্তিতে অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাসের ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে মধ্যম প্রক্রিয়াকরণ সময় ছিল প্রায় ১০ দশমিক ৯ মাস। অন্যান্য অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস ক্যাটাগরিতে এই সময় আরও বেশি ছিল।   এর পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন ইমিগ্রেশন নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে আদালতে একাধিক আইনি লড়াইও চলছে। সর্বশেষ ২১ আগস্ট এক ফেডারেল বিচারক ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রসেসিং স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাতিল করেছেন। আদালতের এই সিদ্ধান্ত বর্তমান ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে ঘিরে চলমান আইনি টানাপোড়েনের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে এসেছে।   এমন একটি পরিবর্তনশীল ইমিগ্রেশন পরিবেশে বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একজন তরুণের গ্রিন কার্ড পাওয়ার খবর তার পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের জন্য নিঃসন্দেহে আনন্দের। বিশেষ করে ইমিগ্রেশন আবেদন নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা অনেকের কাছে এ ধরনের সফলতার খবর আশার বার্তাও হয়ে উঠতে পারে।   তবে অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরীর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই নির্দিষ্ট কেসে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পেছনে কোন ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরি বা আইনি প্রক্রিয়া কাজ করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

তাবাস্সুম আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০
ইবি-৩ ভিসায় চাকরি ও গ্রিন কার্ডের প্রতিশ্রুতি
ইবি-৩ ভিসায় চাকরি ও গ্রিন কার্ডের প্রতিশ্রুতি! টাকা দেওয়ার আগে যা যাচাই করবেন

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী চাকরি ও গ্রিন কার্ডের সুযোগের কথা বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইবি-৩ ভিসার নামে নানা ধরনের অফার প্রচার করা হচ্ছে। এসব প্রস্তাবে অর্থ দেওয়ার আগে চাকরির নিয়োগকর্তা, পদের শর্ত, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং পুরো ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া যাচাই করা জরুরি। কারণ ইবি-৩ কোনো দ্রুত বা নিশ্চিত গ্রিন কার্ড পাওয়ার ব্যবস্থা নয়। এটি নির্দিষ্ট যোগ্যতা, নিয়োগকর্তার আবেদন, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শ্রম সনদ, মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং পরবর্তী ভিসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোয়।  ইবি-৩ হলো কর্মসংস্থানভিত্তিক তৃতীয় অগ্রাধিকার শ্রেণির অভিবাসী ভিসা। এর আওতায় তিন ধরনের আবেদনকারী রয়েছেন: দক্ষ কর্মী, পেশাজীবী এবং অন্যান্য কর্মী। দক্ষ কর্মীর ক্ষেত্রে সাধারণত অন্তত দুই বছরের প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। পেশাজীবী শ্রেণিতে সাধারণত স্নাতক ডিগ্রি বা সমমানের বিদেশি ডিগ্রি প্রয়োজন। আর অন্যান্য কর্মী শ্রেণিতে দুই বছরের কম প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা প্রয়োজন এমন স্থায়ী, অস্থায়ী বা মৌসুমি নয় এমন কাজ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।  অনেক ইবি-৩ আবেদনের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাকে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ থেকে শ্রম সনদ নিতে হয়। এরপর নিয়োগকর্তা মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবায় কর্মীর জন্য আই-১৪০ আবেদন জমা দেন। তবে সব চাকরি বা ক্ষেত্রে একই প্রক্রিয়া প্রযোজ্য নয়। তাই কোনো এজেন্সি বা মধ্যস্থতাকারীর দেওয়া কাগজে শুধু ইবি-৩ লেখা আছে বলেই সেটিকে বৈধ চাকরির অফার ধরে নেওয়া উচিত নয়।  বিদেশে থাকা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে পরবর্তী ধাপে জাতীয় ভিসা কেন্দ্রের মাধ্যমে নথিপত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকার হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাক্ষাৎকারে কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীর ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করেন। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত নথি বা তথ্যও চাওয়া হতে পারে।  তাই ইবি-৩ সাক্ষাৎকারের আগে নিজের আবেদনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার। সম্ভাব্য নিয়োগকর্তার নাম, প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের ব্যবসা করে, আপনার পদের নাম, কাজের দায়িত্ব, কর্মস্থল এবং ওই পদের জন্য কী ধরনের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে, এসব তথ্য আবেদনপত্র ও অন্যান্য নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে জানা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।   নিজের শিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতার তথ্যও ভালোভাবে যাচাই করে নিতে হবে। যে পদের জন্য আবেদন করা হয়েছে, সেই পদের শ্রম সনদে কী যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে এবং আপনার নথি সেই শর্ত পূরণ করে কি না, তা আগে থেকেই মিলিয়ে দেখা উচিত। একইভাবে আগের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা, ভ্রমণ, অভিবাসন আবেদন এবং প্রযোজ্য অন্যান্য তথ্য সম্পর্কেও সঠিক উত্তর দিতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়া গুরুতর অভিবাসন জটিলতার কারণ হতে পারে।   ঢাকায় অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকারের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদনকারীদের এক মাসের কম পুরোনো মার্কিন নিয়োগকর্তার চিঠি আনতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি নির্ধারিত অন্যান্য নথিও প্রয়োজন হয়। মার্কিন দূতাবাস, ঢাকার বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীদের মূল নথি ও প্রয়োজনীয় কপি সঙ্গে আনতে হয় এবং সাক্ষাৎকারের আগে নির্ধারিত নথিপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।  ভিসা সাক্ষাৎকার দিলেই ভিসা নিশ্চিত হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সাক্ষাৎকারের পর অতিরিক্ত নথি প্রয়োজন হলে বা প্রশাসনিক যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে আবেদন প্রক্রিয়ায় আরও সময় লাগতে পারে। প্রশাসনিক যাচাইয়ের সময়কাল প্রতিটি মামলার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।    ইবি-৩ নিয়ে প্রতারণা এড়াতে সম্ভাব্য নিয়োগকর্তা বাস্তব ও বৈধ প্রতিষ্ঠান কি না, চাকরির প্রস্তাবটি সত্যি কি না এবং আপনার নামে করা অভিবাসন আবেদনের তথ্য সরকারি নথির সঙ্গে মেলে কি না, তা যাচাই করা উচিত। শ্রম সনদ প্রয়োজন হলে সেটির তথ্যও পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো মধ্যস্থতাকারী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিশ্চিত গ্রিন কার্ড বা নিশ্চিত ভিসার প্রতিশ্রুতি দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।   ইবি-৩ প্রক্রিয়ার সময়ও সবার জন্য এক নয়। ভিসা সংখ্যার সীমা, আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট ভিসা শ্রেণিতে ভিসা কতটা সহজলভ্য, তার ওপর অপেক্ষার সময় নির্ভর করতে পারে। তাই ছয় মাসে নিশ্চিত গ্রিন কার্ডের মতো প্রতিশ্রুতিকে সরকারি তথ্যের সঙ্গে যাচাই না করে বিশ্বাস করা ঠিক নয়।   কোনো ইবি-৩ অফারে টাকা দেওয়ার আগে নিয়োগকর্তা, চাকরির শর্ত, শ্রম সনদ, আই-১৪০ আবেদন এবং পরবর্তী ভিসা প্রক্রিয়ার তথ্য সরকারি নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত। জটিলতা থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।   দাবিত্যাগ: এই প্রতিবেদনটি জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি কোনো আইনি পরামর্শ নয়। প্রতিটি অভিবাসন আবেদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট মার্কিন সরকারি কর্তৃপক্ষ প্রযোজ্য আইন ও আবেদনকারীর নথিপত্র যাচাই করে গ্রহণ করে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
প্রতীকী ছবি:সংগৃহীত
গ্রিন কার্ডে নতুন নিয়ম, ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতীয়দের যা জানা জরুরি

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করা ভারতীয় নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ যাচাই ব্যবস্থা কার্যকর হবে। এর আওতায় আবেদনকারীর সরকারি সুবিধা নেওয়ার ইতিহাসের পাশাপাশি বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, সম্পদ ও আর্থিক সক্ষমতা এবং শিক্ষা ও দক্ষতাও বিবেচনা করবে ইউএসসিআইএস।   নতুন নিয়মটি ট্রাম্প প্রশাসন বাইডেন আমলের ২০২২ সালের ‘পাবলিক চার্জ’ কাঠামো বাতিল করার পর চালু করছে।ইউএসসিআইএসের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের নিজেদের জীবনযাত্রার ব্যয় বহনের সক্ষমতা থাকা উচিত এবং তারা যেন দীর্ঘমেয়াদে করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে পড়েন, সেটিই নতুন নীতির মূল লক্ষ্য।   ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা ভারতীয়দের বড় একটি অংশ কর্মসংস্থানভিত্তিক ও পরিবারভিত্তিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। এসব শ্রেণির অনেক আবেদনকারী নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ পরীক্ষার আওতায় পড়তে পারেন।   ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে আয়ভিত্তিক কিছু সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়ও আবেদনকারীর ‘পাবলিক চার্জ’ মূল্যায়নে বিবেচিত হতে পারে। এর মধ্যে আয় সহায়তার জন্য নগদ অর্থ, আবাসন সহায়তা, খাদ্য সহায়তা, কলেজের আর্থিক সহায়তা এবং একই ধরনের অন্যান্য সুবিধা থাকতে পারে।   তবে কোনো ভারতীয় আবেদনকারী সরকারি সুবিধা নিয়েছেন মানেই তার গ্রিন কার্ড আবেদন বাতিল হবে, এমন নয়। ইউএসসিআইএস স্পষ্ট করেছে, প্রয়োজনীয় আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার হলফনামা যথেষ্ট না থাকার বিষয়টি ছাড়া অন্য কোনো একক কারণ একাই কাউকে ভবিষ্যতে ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য যথেষ্ট হবে না।   বরং কর্মকর্তারা আবেদনকারীর পুরো পরিস্থিতি বিবেচনা করবেন। পাঁচটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাবে: বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, সম্পদ ও আর্থিক পরিস্থিতি এবং শিক্ষা ও দক্ষতা।   অর্থাৎ একজন ভারতীয় আবেদনকারীর আয় ভালো হলেও বয়স বা স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি, পারিবারিক নির্ভরশীলতা কিংবা সম্পদের অবস্থাও সামগ্রিক মূল্যায়নে ভূমিকা রাখতে পারে। একইভাবে সরকারি সুবিধা নেওয়ার কোনো ইতিহাস থাকলেও সেটিকে অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।   তবে সব ভারতীয় গ্রিন কার্ড আবেদনকারী এই নিয়মের আওতায় পড়বেন না। শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী, বিশেষ অভিবাসী অপ্রাপ্তবয়স্ক, সাময়িক সুরক্ষার আবেদনকারী, মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট অপরাধের শিকার ব্যক্তিসহ কয়েকটি অভিবাসন শ্রেণি ‘পাবলিক চার্জ’ পরীক্ষার বাইরে থাকবে।   পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও বাবা-মা এবং নির্দিষ্ট অন্যান্য আত্মীয়ের আবেদন এই পরীক্ষার আওতায় পড়তে পারে। কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসীদের মধ্যেও বিভিন্ন শ্রেণি নতুন নিয়মের আওতাভুক্ত হবে।   ভারতীয়দের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন নিয়মটি জাতীয়তা দেখে আলাদা কোনো পরীক্ষা চালু করছে না। অর্থাৎ ভারতীয়দের জন্য আলাদা শর্ত নয়, একই ‘পাবলিক চার্জ’ কাঠামো প্রযোজ্য হবে সব যোগ্য আবেদনকারীর ক্ষেত্রে।   নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতা, সম্পদ, পরিবার, শিক্ষা ও কর্মদক্ষতার তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে কোন সরকারি সুবিধা নেওয়া হয়েছে এবং সেটি আবেদনকারীর নির্দিষ্ট অভিবাসন শ্রেণির ক্ষেত্রে কীভাবে বিবেচিত হতে পারে, তা বুঝে আবেদন করা জরুরি।   ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা ভারতীয়দের জন্য শুধু আবেদন জমা দেওয়াই নয়, নিজেদের সামগ্রিক আর্থিক ও পারিবারিক পরিস্থিতির সঠিক তথ্য উপস্থাপনও আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

Unknown আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
৭৭ বছর বয়সী মাউঙ্ক বারাজোনের স্ত্রী ৪৬ বছর বয়সী কলম্বিয়ান নাগরিক গ্লোরিয়া বারাজোন
গ্রিন কার্ডের আবেদন চলার মধ্যেই স্ত্রী আইসের হাতে বন্দি, তবু ট্রাম্পের ৮০ শতাংশ কাজের প্রতি সমর্থন স্বামীর

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তার স্ত্রীর গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টরা তাকে আটক করলেও ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার জন্য তার কোনো অনুশোচনা নেই। ৭৭ বছর বয়সী মাউঙ্ক "মঙ্ক" বারাজোনের স্ত্রী ৪৬ বছর বয়সী কলম্বিয়ান নাগরিক গ্লোরিয়া বারাজোনকে গত জুলাই মাসে নিউজার্সি থেকে মিয়ামি যাওয়ার পথে নেওয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) গ্রেপ্তার করে।   সম্প্রতি মার্কিন নাগরিকদের স্বামী বা স্ত্রীদের এ ধরনের আটকের ঘটনা বেশ বেড়েছে। তবে নির্বাচনে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে কোনো আক্ষেপ আছে কি না—নিউজউইকের এমন প্রশ্নের জবাবে বারাজোন স্পষ্ট জানিয়েছেন, "না, একেবারেই না। বাইডেন প্রশাসন ক্ষমতায় থাকলে আমাদের দেশের অবস্থা আরও খারাপ হতো।"   বারাজোন জানান, তার স্ত্রী ট্যুরিস্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং ১৫ বছর আগে তাদের বিয়ের পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করেন। গত তিন বছর ধরে তারা ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। আটকের সময় গ্লোরিয়ার গ্রিন কার্ড, ওয়ার্ক পারমিট ও সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের আবেদন প্রক্রিয়াধীন ছিল। এমনকি তিনি ফ্লোরিডার রিয়েল আইডি ড্রাইভিং লাইসেন্সও পেয়েছিলেন।   গ্লোরিয়াকে প্রথমে নিউজার্সিতে রাখা হলেও পরে লুইজিয়ানা এবং সাউথ টেক্সাস আইস প্রসেসিং সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। বারবার এই স্থানান্তরের ফলে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটছে এবং আইনজীবীদের খরচ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেন বারাজোন।   ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত ৩০ জুলাই একটি সুনির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট অভিযানের সময় গ্লোরিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। সংস্থাটির দাবি, ভিসার অনুমোদিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে তিনি দেশের আইন লঙ্ঘন করেছেন। তবে স্ত্রীর এমন পরিস্থিতির শিকার হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্পের নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বারাজোন বলেন, তিনি ট্রাম্পের ৮০ শতাংশ কাজের সাথে একমত।   তিনি অপরাধী ও গ্যাং সদস্যদের গ্রেপ্তারের শতভাগ পক্ষে, তবে মার্কিন নাগরিকদের স্ত্রীদের এভাবে আটক করা অনুচিত বলে মনে করেন। তিনি এ ঘটনার জন্য ট্রাম্পকে নয়, বরং 'কিছু খারাপ আইস কর্মকর্তার' দায় দেখছেন।   স্ত্রীর মুক্তির জন্য আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে বর্তমানে চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এই প্রবীণ ব্যবসায়ী। আইনি খরচ মেটাতে তাকে নিজের মাসিক সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে এবং আত্মীয়দের কাছ থেকেও হাজার হাজার ডলার ঋণ নিতে হয়েছে। পাশাপাশি তিনি হৃদরোগসহ মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন।   রিপাবলিকান সিনেটর ও প্রতিনিধিদের কাছে সাহায্য চেয়েও বন্দি স্ত্রীর স্বাক্ষরিত সম্মতিপত্রের অভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় তেমন কোনো সহায়তা পাননি তিনি। সবশেষে বারাজোন বলেন, অবৈধ অভিবাসী বিশেষ করে অপরাধীদের জন্য আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেমন কড়াকড়ি থাকা উচিত, তেমনি মার্কিন নাগরিকদের স্বামী-স্ত্রীদের জন্য একটি সম্পূর্ণ আলাদা মানদণ্ড থাকা প্রয়োজন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
১৮ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রিন কার্ডের আবেদনে ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি, সরকারি সুবিধা গ্রহণেও বাড়বে নজর
১৮ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রিন কার্ডের আবেদনে ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি, সরকারি সুবিধা গ্রহণেও বাড়বে নজর

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির আওতায় গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের আর্থিক সক্ষমতা আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হবে।   সম্প্রতি প্রকাশিত চূড়ান্ত নীতিমালায় ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, অভিবাসীরা যেন করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেরা স্বাবলম্বী হন, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর বা এর পরে জমা দেওয়া ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ বা ফর্ম আই-৪৮৫ আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন এই নিয়ম পুরোপুরি প্রযোজ্য হবে।   নতুন নীতি অনুযায়ী, গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদনকারী কোনো ব্যক্তি ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন কি না, তা নির্ধারণ করতে পাঁচটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। এগুলো হলো—আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা, পারিবারিক পরিস্থিতি, সম্পদ ও আর্থিক সক্ষমতা এবং শিক্ষা ও দক্ষতা।   এর পাশাপাশি স্পন্সরের দেওয়া আর্থিক নিশ্চয়তাপত্র বা ফর্ম আই-৮৬৪-ও বিবেচনা করা হবে। নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ১৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ফুড স্ট্যাম্প, আবাসন সহায়তা, নগদ অর্থ কিংবা কলেজে পড়ার জন্য আর্থিক অনুদানের মতো যেকোনো ধরনের সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলেই তা যাচাই-বাছাইয়ে প্রভাব ফেলবে।   তবে এর আগে নেওয়া সুবিধার ক্ষেত্রে পুরোনো নিয়ম অনুযায়ী শুধুমাত্র নগদ অর্থ সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি সরকারি চিকিৎসাসেবা বিবেচনা করা হবে। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেবেন।   অবশ্য এই কঠোর নিয়মের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে বিশেষ কিছু শ্রেণির অভিবাসীদের। এর মধ্যে রয়েছেন শরণার্থী বা অ্যাসাইলাম প্রাপ্তরা, মানবপাচার ও পারিবারিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তি এবং বিশেষ অভিবাসী কিশোর-কিশোরীরা। এছাড়া, কোনো আবেদনকারী যদি শুধুমাত্র ‘পাবলিক চার্জ’ বা সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার আশঙ্কায় বাতিল হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন, তবে তাকে ‘পাবলিক চার্জ বন্ড’ বা আর্থিক গ্যারান্টি জমা দেওয়ার সুযোগ দিতে পারে ইউএসসিআইএস।   এটি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ অর্থ বা গ্যারান্টি, যা প্রমাণ করে যে আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হবেন না। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার দেওয়া চিঠির ভিত্তিতে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে বন্ড জমা দিতে পারলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী গ্রিন কার্ড পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাবেন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
গ্রিন কার্ড থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ নিশ্চিত হয় না বলে ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ থেকে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পরও এই ৩ ভুলে আটকে যেতে পারে নাগরিকত্ব

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর অনেকেই মনে করেন নাগরিকত্বের পথ এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। বাস্তবে গ্রিন কার্ড থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিটিজেনশিপ নিশ্চিত হয় না। দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা, নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ট্যাক্স ফাইল করা কিংবা আইনগত অধিকার না থাকা অবস্থায় ভোট দেওয়ার মতো বিষয় ভবিষ্যতে নাগরিকত্বের আবেদনে গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে।   ২০২৬ সালের কার্যকর সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ন্যাচারালাইজেশনের সময় ইউএসসিআইএস আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে ধারাবাহিক বসবাস, বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস, ট্যাক্স সংক্রান্ত তথ্য এবং ভোট দেওয়া বা ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের মতো বিষয় যাচাই করতে পারে।   প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা। সাধারণ নিয়মে নাগরিকত্বের জন্য একজন গ্রিন কার্ডধারীকে নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাষ্ট্রে ধারাবাহিকভাবে বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হয়। অধিকাংশ আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এই সময় পাঁচ বছর। মার্কিন নাগরিকের যোগ্য স্বামী বা স্ত্রীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে তিন বছরের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।   তবে একটানা ছয় মাসের বেশি কিন্তু এক বছরের কম যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকলেই যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড বাতিল হয়ে যাবে বা নাগরিকত্বের যোগ্যতা শেষ হয়ে যাবে, বিষয়টি এমন নয়। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের অনুপস্থিতি ন্যাচারালাইজেশনের জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক বসবাস ভেঙে গেছে বলে ধরে নেওয়ার ভিত্তি তৈরি করতে পারে। তখন আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হতে পারে যে যুক্তরাষ্ট্রেই তার স্থায়ী বসবাস বজায় ছিল।   আর একটানা এক বছর বা তার বেশি দেশের বাইরে থাকা সাধারণভাবে নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক বসবাসে আরও বড় বাধা তৈরি করে। একই সঙ্গে দীর্ঘ অনুপস্থিতি গ্রিন কার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা স্ট্যাটাস বজায় রাখা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে।   এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল ধারণা রয়েছে। রি-এন্ট্রি পারমিট থাকলেই নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক বসবাস স্বয়ংক্রিয়ভাবে রক্ষা হয় না। রি-এন্ট্রি পারমিট মূলত দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার ক্ষেত্রে স্থায়ী বাসিন্দার উদ্দেশ্য প্রমাণে সহায়ক হতে পারে। নির্দিষ্ট কর্মসংস্থানভিত্তিক পরিস্থিতিতে ধারাবাহিক বসবাস সংরক্ষণের জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে।   দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ট্যাক্স রিটার্ন। আইআরএসের ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণভাবে বৈধ গ্রিন কার্ডধারী ব্যক্তি ফেডারেল ট্যাক্সের ক্ষেত্রে রেসিডেন্ট এলিয়েন হিসেবে বিবেচিত হন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মতোই বিশ্বব্যাপী আয় রিপোর্ট করার নিয়মের আওতায় পড়েন।   তাই কোনো গ্রিন কার্ডধারী ভুলভাবে নিজেকে নন-রেসিডেন্ট হিসেবে দেখিয়ে ট্যাক্স রিটার্ন করলে বিষয়টি পরে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে এমন অবস্থান যদি যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে দাবি করার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হতে পারে।   তবে ট্যাক্সের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ও আন্তর্জাতিক ট্যাক্স ট্রিটির নিয়ম থাকতে পারে। ফলে সব পরিস্থিতিতে একই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য নয়। বিদেশে আয়, দ্বৈত ট্যাক্স রেসিডেন্সি বা ট্যাক্স ট্রিটির সুবিধা নেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ ট্যাক্স পেশাজীবী বা ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   তৃতীয় এবং সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়গুলোর একটি হলো ভোট দেওয়া। গ্রিন কার্ড যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজের অধিকার দিলেও এটি মার্কিন নাগরিকত্ব নয়। ফেডারেল নির্বাচনে নাগরিক নন এমন ব্যক্তির ভোট দেওয়া বেআইনি। ইউএসসিআইএস ২০২৫ সালে ন্যাচারালাইজেশন সংক্রান্ত নীতিমালায় বেআইনি ভোট, বেআইনিভাবে ভোটার রেজিস্ট্রেশন এবং নিজেকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে মিথ্যা দাবি করার বিষয়গুলো নিয়ে নির্দেশনা আরও স্পষ্ট করেছে।   তবে এখানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি ধরনের নির্বাচনের নিয়ম এক নয়। কিছু অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় এলাকায় নির্দিষ্ট স্থানীয় নির্বাচনে নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তাই "গ্রিন কার্ডধারী কোনো নির্বাচনেই ভোট দিতে পারবেন না" এমন সার্বিক বক্তব্য সঠিক নয়। কিন্তু ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া নিষিদ্ধ এবং অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো নির্বাচনে ভোট দিলে গুরুতর ইমিগ্রেশন পরিণতি হতে পারে।   বিশেষ করে ভোটার রেজিস্ট্রেশনের সময় নিজেকে ভুলভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বেআইনি ভোট বা মার্কিন নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি কিছু ক্ষেত্রে শুধু ন্যাচারালাইজেশন আবেদনকেই প্রভাবিত করে না, ডিপোর্টেশনের আইনি ভিত্তিও তৈরি করতে পারে।   তাই গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের প্রস্তুতি শুধু এন-৪০০ ফর্ম জমা দেওয়ার সময় শুরু হয় না। বিদেশে কতদিন থাকা হচ্ছে, ট্যাক্স কীভাবে ফাইল করা হচ্ছে এবং ভোট বা ভোটার রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে নিজের যোগ্যতা কী, এসব বিষয়ে শুরু থেকেই সতর্ক থাকা জরুরি।   কোনো ভুল ইতোমধ্যে হয়ে থাকলে তা গোপন করার পরিবর্তে নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে যোগ্য ইমিগ্রেশন আইনজীবীর সঙ্গে নিজের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা নিরাপদ। কারণ একই ঘটনা একজনের ক্ষেত্রে সামান্য ব্যাখ্যার বিষয় হলেও অন্য কারও ক্ষেত্রে তার ইমিগ্রেশন ইতিহাস ও পরিস্থিতির কারণে গুরুতর আইনি সমস্যা তৈরি করতে পারে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ভার্জিনিয়ায় বাড়ছে বাংলাদেশিদের আগ্রহ, সহজেই চাকরি ও গ্রিন কার্ড
ভার্জিনিয়ায় বাড়ছে বাংলাদেশিদের আগ্রহ, সহজেই চাকরি ও গ্রিন কার্ড

যুক্তরাষ্ট্রে আইটি, সাইবার সিকিউরিটি কিংবা ফেডারেল কন্ট্রাক্টিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে ভার্জিনিয়া, বিশেষ করে নর্দার্ন ভার্জিনিয়া, গুরুত্বপূর্ণ একটি গন্তব্য। ওয়াশিংটন ডিসির পাশেই অবস্থান, বিপুল ফেডারেল কন্ট্রাক্টিং কার্যক্রম, অ্যামাজনের এইচকিউ২ এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ ডেটা সেন্টার শিল্পের কারণে প্রযুক্তিখাতে এখানে বড় চাকরির বাজার তৈরি হয়েছে। তবে চাকরির সুযোগের পাশাপাশি বাড়িভাড়া ও বাড়ির দামও তুলনামূলক বেশি।   বাংলাদেশি অভিবাসীদের কাছেও নর্দার্ন ভার্জিনিয়া পরিচিত একটি এলাকা। ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি, আর্লিংটন, আলেকজান্দ্রিয়া, লাউডন ও প্রিন্স উইলিয়াম কাউন্টিসহ ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশি পরিবার বসবাস করছে। বাংলাদেশি গ্রোসারি, রেস্টুরেন্ট, মসজিদ ও বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের উপস্থিতিও নতুন অভিবাসীদের জন্য সামাজিকভাবে মানিয়ে নেওয়া তুলনামূলক সহজ করতে পারে।   তবে নর্দার্ন ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্স, আর্লিংটন ও আলেকজান্দ্রিয়ায় ‘১৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি’ থাকার যে সংখ্যা বিভিন্ন অনলাইন পোস্টে উল্লেখ করা হয়, সেটিকে নির্ভরযোগ্য সরকারি হিসাব হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক হবে না। ইউএস সেনসাস ব্যুরোর তথ্য থেকে ওই তিন এলাকায় বাংলাদেশিদের এমন নির্দিষ্ট মোট সংখ্যা সরাসরি নিশ্চিত করা যায় না। ফলে কমিউনিটির আকার নিয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।   চাকরির বাজারই ভার্জিনিয়ার সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলোর একটি। ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকসের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে ভার্জিনিয়ায় বেকারত্বের হার ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। রাজ্যটিতে মোট ননফার্ম চাকরির সংখ্যা ছিল প্রায় ৪২ লাখ ৪৪ হাজার।   প্রযুক্তিখাতে ভার্জিনিয়ার অবস্থান আরও শক্তিশালী। বিএলএসের বিস্তারিত পেশাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যটিতে কম্পিউটার ও ম্যাথমেটিক্যাল পেশায় প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ মানুষ কাজ করতেন এবং এসব পেশায় গড় বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার ৬১০ ডলার। ইনফরমেশন সিকিউরিটি অ্যানালিস্টদের গড় বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫০ ডলার।   নর্দার্ন ভার্জিনিয়ায় আইটি চাকরির একটি বড় অংশ ফেডারেল সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদনে অ্যামাজন, লেইডোস ও বুজ অ্যালেন হ্যামিল্টনের মতো প্রতিষ্ঠানকে এই অঞ্চলে কম্পিউটার সার্ভিসেস কর্মীদের বড় নিয়োগদাতাদের মধ্যে রাখা হয়েছে। ক্লাউড কম্পিউটিং, এডব্লিউএস, সাইবার সিকিউরিটি, সফটওয়্যার, এআই এবং সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতার চাহিদাও রয়েছে।   তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স। নর্দার্ন ভার্জিনিয়ার বহু ফেডারেল কন্ট্রাক্টিং ও প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট আইটি চাকরিতে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হয়। অনেক ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকত্বও গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে শুধু আইটি ডিগ্রি বা অভিজ্ঞতা থাকলেই সব ফেডারেল কন্ট্রাক্টিং চাকরিতে আবেদন করা সম্ভব হবে, এমন নয়।   অন্যদিকে বেসরকারি প্রযুক্তি খাতও দ্রুত বাড়ছে। আর্লিংটনের ন্যাশনাল ল্যান্ডিংয়ে অ্যামাজনের এইচকিউ২ রয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে ভার্জিনিয়ার গভর্নরের অফিস জানিয়েছে, আইটি সার্ভিসেস প্রতিষ্ঠান স্পেশাল ফ্রন্ট তাদের সদর দপ্তর আর্লিংটনে স্থানান্তর করে ৪৫০টি নতুন চাকরি তৈরির পরিকল্পনা করেছে।   ডেটা সেন্টারের ক্ষেত্রেও নর্দার্ন ভার্জিনিয়ার অবস্থান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। লাউডন, ফেয়ারফ্যাক্স, প্রিন্স উইলিয়াম ও আশপাশের এলাকায় অ্যামাজন ডেটা সার্ভিসেসসহ বহু প্রতিষ্ঠানের ডেটা সেন্টার রয়েছে এবং নতুন প্রকল্পও যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে ক্লাউড অবকাঠামো, নেটওয়ার্কিং, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, সাইবার সিকিউরিটি ও ডেটা সেন্টার অপারেশনে চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।   তবে এখানে বসবাসের খরচ বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে পুরো ভার্জিনিয়ায় একটি অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া ছিল ১ হাজার ৮০৮ ডলার। নর্দার্ন ভার্জিনিয়ায় গড় ভাড়া ছিল আরও বেশি, প্রায় ২ হাজার ২৪৮ ডলার। আগের বছরের তুলনায় এই অঞ্চলে ভাড়া কিছুটা কমলেও এটি এখনো রাজ্যের ব্যয়বহুল হাউজিং মার্কেটগুলোর একটি।   বাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও একই চিত্র। ভার্জিনিয়া রিয়েলটর্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে পুরো রাজ্যে বিক্রি হওয়া বাড়ির মিডিয়ান মূল্য ছিল ৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। নর্দার্ন ভার্জিনিয়ার অনেক এলাকায় বাড়ির দাম রাজ্যব্যাপী মিডিয়ানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে পারে।   নতুন অভিবাসীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাতায়াত। ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো ব্যবস্থার কারণে আর্লিংটন, আলেকজান্দ্রিয়া এবং ফেয়ারফ্যাক্সের কিছু অংশ থেকে গাড়ি ছাড়াও যাতায়াত করা সম্ভব। তবে শহরতলির অনেক এলাকায় গাড়ি প্রায় অপরিহার্য হয়ে ওঠে। অফিস টাইমে আই ৬৬, আই ৯৫ এবং ক্যাপিটাল বেল্টওয়ের বিভিন্ন অংশে ভারী ট্রাফিকও দৈনন্দিন জীবনের একটি বাস্তবতা।   ভার্জিনিয়ার আবহাওয়ায় চারটি ঋতুই স্পষ্ট। নর্দার্ন ভার্জিনিয়ায় শীতকালে তুষারপাত হতে পারে, আবার গ্রীষ্মে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া থাকে। ফলে বাংলাদেশের তুলনায় শীত অনেক বেশি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের কিছু রাজ্যের মতো দীর্ঘ ও চরম শীত সাধারণত থাকে না।   তবে ভার্জিনিয়াকে ‘গ্রিন কার্ড পাওয়ার রাজ্য’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড, এইচ ওয়ান বি এবং অন্যান্য কর্মভিত্তিক ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা ফেডারেল আইনের অধীনে পরিচালিত হয়। কোনো ব্যক্তি ভার্জিনিয়ায় বসবাস বা চাকরি করলেই গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে আলাদা সুবিধা পান না। চাকরিদাতা স্পনসরশিপ, সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরি, যোগ্যতা এবং ফেডারেল নিয়মের ওপর বৈধভাবে স্থায়ী হওয়ার পথ নির্ভর করে।   সব মিলিয়ে প্রযুক্তি পেশাজীবীদের জন্য ভার্জিনিয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো শক্তিশালী আইটি ও সাইবার সিকিউরিটি মার্কেট, ওয়াশিংটন ডিসির কাছাকাছি অবস্থান এবং বড় ফেডারেল ও বেসরকারি নিয়োগদাতাদের উপস্থিতি। অন্যদিকে উচ্চ হাউজিং খরচ, ট্রাফিক এবং অনেক সরকারি কন্ট্রাক্টিং চাকরিতে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্সের বাধ্যবাধকতা নতুনদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিবেচনায় রাখা জরুরি।   তাই শুধু ‘ভার্জিনিয়ায় গেলেই আইটি চাকরি বা গ্রিন কার্ড পাওয়া সহজ’ এমন ধারণার পরিবর্তে নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, দক্ষতা, চাকরির ধরন, সম্ভাব্য বেতন এবং বসবাসের খরচ মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার, দিনে খরচ মাত্র ৬৬ ডলার

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০