- প্রচ্ছদ
- Topic
গ্রিস
গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে উচ্চ অগ্নিঝুঁকির মধ্যে বাইরে বারবিকিউ জ্বালিয়ে দাবানল সৃষ্টির অভিযোগে ৩৫ বছর বয়সী এক ইসরাইলি পর্যটককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ রেথিমনোর সেলিয়া গ্রামের কাছে আগুনের সূত্রপাতের পর ওই পর্যটকের বিরুদ্ধে সন্দেহ তৈরি হয়। শনিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার রেথিমনোর আদালতে তাকে হাজির করার কথা রয়েছে, যেখানে তার আটকের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে পারে রাষ্ট্রপক্ষ। অভিযোগ অনুযায়ী, পর্যটকটি যে ভাড়া করা ভিলায় অবস্থান করছিলেন, সেখানে বাইরে বারবিকিউ করা নিষিদ্ধ ছিল। আগুনের ঝুঁকি সম্পর্কে তাকে সতর্কও করা হয়েছিল। এরপরও তিনি বারবিকিউ জ্বালান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সেখানকার আশপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ১০ মিনিটে সেলিয়া গ্রামের কাছে আগুনের সূত্রপাত হয়। এলাকাটি দক্ষিণ রেথিমনোর জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র প্লাকিয়াসের কাছাকাছি। প্রাথমিক প্রতিবেদনে আগুনের বিস্তার বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ জানানো হয়নি। ক্রিটে গ্রীষ্মকালজুড়ে দাবানলের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি থাকে। উচ্চ তাপমাত্রা, শুষ্ক আবহাওয়া ও বাতাসের কারণে ছোট একটি আগুনও দ্রুত বড় আকার নিতে পারে। এ কারণে অগ্নিঝুঁকি বেড়ে গেলে গ্রিসের কর্তৃপক্ষ খোলা জায়গায় আগুন জ্বালানো ও বারবিকিউ ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ক্রিটের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নির্দেশনাতেও উচ্চ অগ্নিঝুঁকির সময়ে বাইরে যেকোনো ধরনের আগুন ব্যবহার এবং উন্মুক্ত স্থানে বারবিকিউ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনায় অগ্নিঝুঁকির সময় বন বা শুকনো উদ্ভিদের কাছাকাছি খোলা জায়গায় বারবিকিউ না করার জন্য বাসিন্দা ও পর্যটকদের বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। জুলাইয়ের শেষ দিকেও গ্রিসের সিভিল প্রোটেকশন কর্তৃপক্ষ ক্রিটসহ কয়েকটি অঞ্চলে ‘অত্যন্ত উচ্চ’ অগ্নিঝুঁকির সতর্কতা জারি করেছিল। তখন আগুনের সূত্রপাত ঘটাতে পারে এমন কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে বারবিকিউ, খোলা আগুন ও স্পার্ক তৈরি করতে পারে এমন কাজ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় এখন মূলত তদন্ত করা হচ্ছে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল এবং অভিযুক্ত পর্যটকের বারবিকিউয়ের সঙ্গে দাবানলের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না। গ্রেপ্তার হওয়া ওই পর্যটকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আদালতে হাজিরের পর তার আটকের মেয়াদ, অভিযোগের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। একই সঙ্গে আগুনে পরিবেশ, সম্পদ বা স্থানীয় মানুষের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকলে তার পরিমাণও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার কথা। ক্রিটে পর্যটন মৌসুমে দাবানল প্রতিরোধে এমন বিধিনিষেধ নিয়মিতই জারি করা হয়। তাই স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সতর্কতার মধ্যেও যদি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আগুন জ্বালানোর অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে ঘটনাটি শুধু ব্যক্তিগত অসতর্কতার নয়, অগ্নিঝুঁকির সময়ে জননিরাপত্তা বিধি অমান্যের বিষয় হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে রোববার গ্রিসজুড়ে সমন্বিত ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। রাজধানী এথেন্স ও থেসালোনিকির পাশাপাশি বিভিন্ন দ্বীপ ও জনপ্রিয় পর্যটন এলাকাসহ অন্তত ৩৬টি স্থানে সমাবেশ ও প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনগুলো। ৯ আগস্টকে দেশব্যাপী ফিলিস্তিনের সমর্থনে কর্মসূচির দিন হিসেবে ঘোষণা করেছে ‘মার্চ টু গাজা গ্রিস’, ‘বিডিএস গ্রিস’ এবং গ্রিসে বসবাসরত ফিলিস্তিনি কমিউনিটিসহ কয়েকটি সংগঠন। আয়োজকদের আহ্বানে শহরের পাশাপাশি দ্বীপ, পাহাড়ি এলাকা ও পর্যটনকেন্দ্রেও বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির উল্লেখযোগ্য স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে এথেন্স, থেসালোনিকি, করফু, রোডস, সান্তোরিনি, পারোস, কোস, সিরোস এবং ক্রিটের বিভিন্ন এলাকা। এথেন্সে সন্ধ্যায় মোনাস্তিরাকি স্কয়ারে জমায়েত হয়ে সিনতাগমা স্কয়ারের দিকে মিছিলের পরিকল্পনা রয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নে রাজধানীর এই কর্মসূচিতে তুলনামূলক বেশি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে। গ্রিসের জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপগুলোতেও কর্মসূচি থাকায় বিষয়টি বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। করফুতে অ্যানুনজিয়াটা স্কয়ার, রোডসে ওল্ড সিটির প্রবেশপথ, সান্তোরিনির ওইয়া, পারোসের পারিকিয়া এবং কোসের এলেফথেরিয়াস স্কয়ারসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় জমায়েতের কর্মসূচি রয়েছে। মাইকোনোস, জাকিনথোস, পাটমোস, লেরোস ও লেফকাদাসহ আরও কয়েকটি এলাকাতেও বিক্ষোভের তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ নজর রয়েছে ক্রিটের আগিওস নিকোলাওসের দিকে। সেখানে ইসরায়েলি পর্যটকবাহী ক্রুজ জাহাজ ‘ক্রাউন আইরিস’ ভেড়ার কথা রয়েছে। জাহাজটির আগমনকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ বা ইসরায়েলি পর্যটকদের সঙ্গে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর আগে গ্রিসের বিভিন্ন দ্বীপে ইসরায়েলি পর্যটকবাহী জাহাজকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সিরোস দ্বীপে বিক্ষোভের কারণে একটি ইসরায়েলি ক্রুজ জাহাজের যাত্রীরা তীরে নামতে পারেননি। গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে গ্রিসের পর্যটন এলাকায় এ ধরনের প্রতিবাদ এরপরও বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে। রোববারের দেশব্যাপী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গ্রিসে থাকা ইসরায়েলি নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের বিক্ষোভ ও বড় জমায়েত এড়িয়ে চলার পাশাপাশি প্রকাশ্যে ইসরায়েলি বা ইহুদি পরিচয় প্রকাশ করে এমন প্রতীক প্রদর্শনে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তবে গ্রিস ভ্রমণ এড়িয়ে চলার সামগ্রিক নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আয়োজকদের ঘোষণায় মূল লক্ষ্য হিসেবে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদ এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশের কথা বলা হয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিগুলোকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। তবে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগেই কোনো সহিংসতা ঘটবে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
গ্রিসজুড়ে অন্তত ৩৬টি স্থানে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের কর্মসূচির মধ্যে দেশটিতে অবস্থানরত ও ভ্রমণরত ইসরায়েলি নাগরিকদের সতর্ক করেছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বড় জমায়েত ও বিক্ষোভস্থল এড়ানোর পাশাপাশি প্রকাশ্যে ইসরায়েলি বা ইহুদি পরিচয় নির্দেশ করে এমন প্রতীক প্রদর্শন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রোববার গ্রিসের বিভিন্ন শহর ও পর্যটন এলাকায় ফিলিস্তিনের সমর্থনে বিক্ষোভের কর্মসূচি রয়েছে। আয়োজকেরা গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। বিক্ষোভের স্থানগুলোর মধ্যে এমন কিছু পর্যটন এলাকাও রয়েছে, যেখানে বিপুলসংখ্যক ইসরায়েলি পর্যটক অবস্থান করেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের বিক্ষোভ ও বড় জমায়েত থেকে দূরে থাকতে বলেছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক তর্কে জড়ানো এড়ানো, জনাকীর্ণ স্থানে সতর্ক থাকা এবং নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে পরিবারের সদস্যদের অবহিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সতর্কবার্তায় প্রকাশ্যে ইসরায়েলি বা ইহুদি পরিচয় নির্দেশ করে এমন পোশাক ও প্রতীক প্রদর্শন এড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। তবে গ্রিস ভ্রমণ পুরোপুরি এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। মূলত বিক্ষোভ চলাকালে সম্ভাব্য সংঘাত বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গ্রিসে ইসরায়েলি পর্যটকদের উপস্থিতি ঘিরে একাধিক ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ হয়েছে। বিশেষ করে পর্যটন এলাকা ও ইসরায়েলি পর্যটকবাহী জাহাজের আগমনকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ ও পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার ঘটনা সামনে এসেছে। ফলে নতুন কর্মসূচিকে ঘিরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে আগাম সতর্ক করেছে। গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে গ্রিসে ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভ সাম্প্রতিক সময়ে আরও দৃশ্যমান হয়েছে। রোববারের কর্মসূচিগুলো কতটা বড় আকার নেবে এবং কোথাও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না, তা বিবেচনায় রেখে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
লিবিয়ার উপকূল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ভূমধ্যসাগরীয় পথ পাড়ি দিয়ে গ্রিসের দক্ষিণাঞ্চলের ক্রিত (ক্রিট) দ্বীপে পৌঁছানোর পর গত ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ে অন্তত ২০২ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশ ও সুদানের নাগরিক। এছাড়া কয়েকজন মিশরীয় নাগরিকও রয়েছেন। গ্রিক দৈনিক দিমোকরাতিয়া এবং মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের একটি নজরদারি বিমান প্রথমে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ইয়েরাপেত্রা উপকূলের কাছে একটি নৌকা শনাক্ত করে। পরে গ্রিক কোস্টগার্ডের টহল দল এবং একটি মাছ ধরার নৌকার সহায়তায় ৪০ জন আরোহীকে নিরাপদে ইয়েরাপেত্রা বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। বন্দরে পৌঁছানোর পর উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের পরিচয় যাচাই, নিবন্ধন এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই একই এলাকায় আরও দুটি নৌকায় করে ১১২ জন অভিবাসী পৌঁছান। প্রথম নৌকায় ছিলেন ৫৬ জন। তাদের মধ্যে ৩১ জন সুদানের এবং ২৫ জন বাংলাদেশের নাগরিক। দ্বিতীয় নৌকায় থাকা ৫৬ জনের মধ্যে ৪৭ জন বাংলাদেশি এবং ৯ জন মিশরীয় নাগরিক ছিলেন। গত কয়েক দিনে ক্রিত দ্বীপে অভিবাসীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ওপরও চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে উদ্ধার হওয়া সবাইকে পরবর্তী ব্যবস্থাপনার জন্য হেরাক্লিয়ন বন্দরের একটি অস্থায়ী আবাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। এদিকে পৃথক এক অভিযানে অভিবাসী পাচারের অভিযোগে দক্ষিণ সুদানের ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষের দাবি, আগের একটি ঘটনায় ৫০ জন অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা পরিচালনার সঙ্গে সে জড়িত ছিল। অভিবাসীদের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, নৌকাটি লিবিয়ার তব্রুক শহর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। যাত্রীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা বেড়েছে। যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দারিদ্র্য এবং উন্নত জীবনের আশায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ এই ঝুঁকিপূর্ণ রুট ব্যবহার করছেন। তবে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ছোট নৌকায় দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার কারণে প্রতিবছর বহু মানুষ প্রাণ হারান বা নিখোঁজ হন। গ্রিক কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্রিত ও আশপাশের উপকূলে অভিবাসী বহনকারী নৌকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: গ্রিক দৈনিক দিমোকরাতিয়া, মিডল ইস্ট মনিটর।
রেকর্ড তাপমাত্রা ও দীর্ঘ খরার কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ দাবানলে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গোটা ইউরোপ। গ্রীষ্মের এই চরম বৈরী আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে গ্রিস, ফ্রান্স, স্পেন ও হাঙ্গেরির মতো দেশগুলো। এর মধ্যে গ্রিসে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় দুটি অগ্নিনির্বাপক হেলিকপ্টারের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই চালক নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের উত্তর-পশ্চিমে এবং আতিকা অঞ্চলের পসাথা এলাকায় আগুন নেভানোর সময় আকাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় একটি হেলিকপ্টারে থাকা গ্রিক ও ডেনিশ নাগরিক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। তবে অন্য হেলিকপ্টারে থাকা একজন গ্রিক ও একজন ব্রিটিশ নাগরিক অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন। ঠিক কী কারণে আকাশে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল, তা উদঘাটনে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে, বোয়োটিয়া অঞ্চল থেকে শুরু হওয়া আগুন বাতাসের তীব্রতায় দ্রুত আতিকা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি করেছে। ভয়াবহ এই দাবানলে ইতোমধ্যে ওই এলাকার প্রায় ১০০টিরও বেশি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, একটি পবন বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে মূল গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের বেসরকারি লাইনে সৃষ্ট স্ফুলিঙ্গ থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত। কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে এ ঘটনায় দুই গ্রিক নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দাবানল পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় মেগারা শহরের দিকে আগুন দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বসবাস থাকা এই শহর এবং এর আশপাশের এলাকায় চরম সতর্কতা জারি করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ কেফালোনিয়াতেও নতুন করে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় সেখানকার বেশ কয়েকটি এলাকাও ইতোমধ্যে খালি করে দেওয়া হয়েছে।
জানালা ভেঙে কেবিনের বায়ুচাপ কমে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়ায় রায়ানএয়ারের ফ্লাইটে। গুরুতর আহত যাত্রী হাসপাতালে, ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে আন্তর্জাতিক তদন্তকারী দল। গ্রিস থেকে জার্মানিগামী রায়ানএয়ারের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে মাঝ আকাশে জানালা ভেঙে এক যাত্রী প্রায় বাইরে ছিটকে পড়ছিলেন। শেষ মুহূর্তে তাঁর পা শক্ত করে ধরে এবং অন্য দুই যাত্রীর সহায়তায় তাঁকে ভেতরে টেনে এনে প্রাণে বাঁচান তাঁর স্ত্রী। ঘটনাটি গত শুক্রবার ঘটে। ভুক্তভোগী ৬১ বছর বয়সী লিউবিসা কারোভিচ স্ত্রী স্বেতলানা গ্রকোভিচের সঙ্গে গ্রিসের থেসালোনিকি থেকে জার্মানির মেমিংগেনে যাচ্ছিলেন। গ্রিসের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইআরটির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে গ্রকোভিচ জানান, তাঁর স্বামী প্রায় দুই মিনিট বুক পর্যন্ত উড়োজাহাজের বাইরে ঝুলে ছিলেন। তিনি বলেন, “আমি সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পা শক্ত করে ধরে ফেলি। তখন শুধু মনে হচ্ছিল, যদি মরতে হয়, আমরা একসঙ্গেই মরব।” স্বেতলানার ভাষ্য, তাঁর স্বামীর পাশের আসনে বসা এক নারী যাত্রীর সহায়তায় এবং আরও একজনের সহযোগিতায় তাঁরা তিনজন মিলে কারোভিচকে কেবিনের ভেতরে টেনে আনেন। এ সময় উড়োজাহাজে অক্সিজেন মাস্ক নেমে আসে এবং যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঘটনাটির সময় বিস্ফোরণের মতো বিকট শব্দ শোনা যায়। এরপর কেবিনের ভেতরের বায়ুচাপ দ্রুত কমে যায় এবং উড়োজাহাজটি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রায় ৯ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, কারোভিচের সিটবেল্ট বাঁধা থাকায় তিনি পুরোপুরি উড়োজাহাজের বাইরে ছিটকে পড়েননি। তাঁর মাথা ও কাঁধ কেবিনের বাইরে চলে গেলেও সিটবেল্ট এবং অন্য যাত্রীদের সহায়তায় তাঁকে ধরে রাখা সম্ভব হয়। স্বেতলানা জানান, তাঁর স্বামীর হাত গুরুতর জখম হয়েছে, শরীরে ঘর্ষণ ও পোড়ার মতো ক্ষত রয়েছে এবং ঘটনার ধাক্কায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি বলেন, “আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, তিনি বেঁচে আছেন। এখন তিনি ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না, এমনকি পুরো ঘটনাটিও তাঁর মনে নেই।” রায়ানএয়ার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, থেসালোনিকি থেকে মেমিংগেনগামী তাদের একটি ফ্লাইটে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর একটি জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হলে উড়োজাহাজটি নিরাপদে ফিরে আসে। পরে এটি স্বাভাবিকভাবে অবতরণ করে এবং এক আহত যাত্রীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে। ভুক্তভোগী পরিবারের নিয়োগ করা এক বিশেষজ্ঞের দাবি, ডান দিকের ইঞ্জিনের একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে জানালায় আঘাত করায় এটি ভেঙে যায়। তবে তদন্তকারীরা এখনো এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেননি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি ছিল বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের এবং এর বয়স প্রায় ১৮ বছর। ঘটনাটি উত্তর মেসিডোনিয়ার আকাশসীমায় ঘটায় সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। লিউবিসা কারোভিচ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গ্রিসের জাকিনথোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সময় একটি এফ-১৬সি ফাইটিং ফ্যালকন যুদ্ধবিমানে আগুন ধরে যায়। তবে দক্ষতার সঙ্গে বিমানটি অবতরণ করাতে সক্ষম হন পাইলট এবং তিনি অক্ষত রয়েছেন বলে জানিয়েছে গ্রিক বিমান বাহিনী। ঘটনার পর বিমানবন্দরের রানওয়েতে দমকলকর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং সাময়িকভাবে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে গ্রিসের হেলেনিক এয়ার ফোর্সের ৩৩৫তম স্কোয়াড্রনের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ মিশনে অংশ নেওয়ার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির মুখে পড়ে। বিমানটি উত্তর-পশ্চিম গ্রিসের আরাকসোস বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছিল। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পাইলট নিকটতম বিমানবন্দর জাকিনথোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রানওয়েতে নামার পর যুদ্ধবিমানটির নিচের অংশে আগুন জ্বলে ওঠে। আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা বিমানবন্দরের দমকলকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে ফোম ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পাইলট নিরাপদে বিমান থেকে বেরিয়ে আসেন। গ্রিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিমানটির ল্যান্ডিং গিয়ারে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঘটনার কারণে জাকিনথোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একমাত্র রানওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। ফলে নির্ধারিত বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল হয় এবং যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এই দুর্ঘটনার কয়েক দিন আগেই গ্রিসের ১১৬তম কমব্যাট উইং তাদের এফ-১৬ বহর আধুনিকীকরণের ঘোষণা দিয়েছিল। যদিও সাম্প্রতিক এই ঘটনার সঙ্গে সেই আধুনিকীকরণ কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামরিক বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে পাইলটদের কঠোর জরুরি প্রোটোকল অনুসরণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে পাইলট নিরাপদে বিমানটি অবতরণ করাতে সক্ষম হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে। তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
গ্রিসের করিদালোজ কারাগারে কামরান দেলোয়ার হোসেন খান নামের এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের খুঁজে না পাওয়ায় এবং প্রবাসে থাকা এক স্বজনের অনুরোধে তার মরদেহ গ্রিসেই দাফনের উদ্যোগ নিয়েছে এথেন্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৪ মার্চ কারাগারে তার মৃত্যু হয়। তার কাছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা কোনো বৈধ নথি না থাকায় শুরুতে তাকে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবে গ্রিক নথিতে তাকে বাংলাদেশি হিসেবে উল্লেখ থাকায় মানবিক বিবেচনায় দূতাবাস তার মরদেহের দায়িত্ব গ্রহণ করে। অনুসন্ধানে জানা যায়, কামরানের পৈতৃক বাড়ি শরীয়তপুর জেলায়। তবে সেখানে তার বর্তমান পরিবারের কোনো সদস্যকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে বিদেশে অবস্থানরত তার এক ভাই দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং জানান, বাংলাদেশে তাদের আর কোনো স্বজন নেই। তিনি মরদেহ দেশে না পাঠিয়ে গ্রিসেই দাফনের জন্য অনাপত্তি জানান। সাধারণত বৈধ কাগজপত্রহীন বা পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সরকারি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও মানবিক কারণে গ্রিক কর্তৃপক্ষের সহায়তায় মুসলিম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দূতাবাস জানায়, এথেন্স থেকে দূরবর্তী থেসালোনিকি অঞ্চলের কুমুটিনী এলাকার একটি মুসলিম কবরস্থানে আগামী ৭ মে দাফন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকারের বরাদ্দকৃত বাজেটে সাধারণত বৈধ কর্মীদের মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য আর্থিক সহায়তা থাকে। প্রবাসে দাফনের জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ না থাকলেও পরিবারের অনুরোধে দূতাবাস নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এই উদ্যোগ নিয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি দূতাবাস তদারকি করছে।
কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ডিজিটাল আসক্তি কমাতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে গ্রিস। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দেশটিতে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে। বুধবার (৮ এপ্রিল) গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিস এই ঘোষণা দেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মিতসোতাকিস ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ, অনিদ্রা এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর আসক্তি সৃষ্টিকারী ডিজাইনের কথা উল্লেখ করে এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, শিশুদের মানসিক বিকাশে সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব এখন আর উপেক্ষা করার মতো নয়। গ্রিস সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আধুনিক বিশ্বে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বিষণ্নতা ও একাকীত্ব বাড়ার অন্যতম কারণ হলো সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা। বিশেষ করে প্ল্যাটফর্মগুলোর 'অ্যালগরিদম' শিশুদের দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে আটকে রাখে, যা তাদের স্বাভাবিক সামাজিক জীবন ও শিক্ষায় ব্যাঘাত ঘটায়। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য গ্রিস সরকার নতুন আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। ২০২৭ সালের শুরু থেকে টেক জায়ান্ট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে তাদের প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের কঠোর নিয়ম মানতে হবে। ১৫ বছরের কম বয়সী কেউ যাতে অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর। প্রধানমন্ত্রী মিতসোতাকিস আরও জানান, এটি কেবল একটি আইনি পদক্ষেপ নয়, বরং একটি সামাজিক সচেতনতার ডাক। তিনি অভিভাবকদের এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত হওয়ার এবং শিশুদের ডিজিটাল বিশ্বের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করার আহ্বান জানান। এর আগে ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ নিয়ে আলোচনা করলেও গ্রিসের এই সিদ্ধান্তকে এখন পর্যন্ত অন্যতম কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই আইনটি বাস্তবায়িত হলে গ্রিস হবে ইউরোপের প্রথম দেশগুলোর একটি, যারা সরাসরি নির্দিষ্ট বয়সসীমার নিচে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করল।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।