জাহাজ

ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজে হামলার শিকার থাই জাহাজ ইরানি দ্বীপে আটক

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে হামলার কবলে পড়া থাই মালবাহী জাহাজ ‘ময়ূরী নারি’ এবার ইরানি উপকূলে আটকা পড়েছে।  ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে আক্রান্ত হওয়া এই জাহাজটি দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে কিশম দ্বীপের রামচাহ গ্রামের কাছে বালুচরে আটকে যায়। পরবর্তীতে জাহাজটির অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি শুক্রবার জানিয়েছে, জাহাজটি কিশম দ্বীপ থেকে সরে গিয়ে পার্শ্ববর্তী লারাক দ্বীপে পৌঁছেছে। তবে জাহাজটি ঠিক কীভাবে সেখানে পৌঁছাল বা বর্তমানে এর যান্ত্রিক অবস্থা কেমন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি তেহরান। উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ ২৩ জন ক্রু নিয়ে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় জাহাজটিকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিবর্ষণ করা হয়। ওই ভয়াবহ হামলার পর ৩ জন ক্রু নিখোঁজ হন। বাকি ২০ জনকে উদ্ধার করে নিরাপদে ব্যাংককে ফিরিয়ে নেওয়া হলেও জাহাজটির ভাগ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছেই না। আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তাহীনতার উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কৃষ্ণ সাগরে তুর্কি ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা: অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ২৭ নাবিক

কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার বন্দর থেকে ছেড়ে আসা একটি তুর্কি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইস্তাম্বুলের বসফরাস প্রণালীর অদূরে সংঘটিত এই বিস্ফোরণে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন এতে থাকা ২৭ জন নাবিক। তুরস্কের পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী ‘আলতুরা’ নামক জাহাজটি যখন বসফরাস প্রণালী থেকে মাত্র ৩৩ কিলোমিটার দূরে ছিল, তখনই এই হামলা চালানো হয়।  রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দর থেকে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে আসা এই জাহাজটির ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করেই মূলত হামলাটি চালানো হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের পরপরই তুর্কি কোস্টগার্ড দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, জাহাজটি প্রায় পূর্ণ বোঝাই ছিল এবং এর উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়ার তেল সরবরাহ করা।  তুরস্কের জলসীমার ঠিক বাইরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি ওই অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালীতে চলাচলে টোল আরোপের আইন আনছে ইরান
হরমুজ প্রণালীতে চলাচলে টোল আরোপের আইন আনছে ইরান

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী বিদেশি জাহাজগুলোর জন্য টোল আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। এ সংক্রান্ত একটি আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে দেশটির পার্লামেন্টে গৃহীত হয়েছে এবং এর খসড়া তৈরির কাজ চলছে।   ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ–কে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পার্লামেন্টের এক আইনপ্রণেতা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌম কর্তৃত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা এবং এই পথ ব্যবহারকারী বিদেশি জাহাজ থেকে ফি আদায়ের লক্ষ্যে এই আইন আনা হচ্ছে।   বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ জোরদার হয়েছে, যার ফলে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দেখা যাচ্ছে।   ইরান জানিয়েছে, তাদের এই পদক্ষেপ মূলত ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে ‘মিত্র’ বা নিরপেক্ষ দেশগুলোর জাহাজ চলাচলে সরাসরি বাধা না থাকলেও নতুন নিয়ম অনুযায়ী তাদেরও নির্দিষ্ট অনুমতি নিতে হবে।   এ বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন–এর সদস্য দেশগুলোকে পাঠানো এক চিঠিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের আগে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে।   এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   সূত্র : দ্য স্ট্রেইট টাইমস

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজে আরও এক জাহাজে হামলা: স্যাটেলাইট চিত্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ESA) সর্বশেষ স্যাটেলাইট চিত্রে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে একটি মাল্টার পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য ধরা পড়েছে।  ১৮ মার্চ ধারণ করা ওই ছবিতে দেখা গেছে, ‘সাফিন প্রেসটিজ’ নামক ১৭৫ মিটার দীর্ঘ বিশাল জাহাজটি থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে। ওমানের রাস মাখবুক থেকে প্রায় ৪.৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে বর্তমানে জাহাজটি নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় ভাসছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) জানিয়েছে, গত ৪ মার্চ একটি ‘অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল’ বা ক্ষেপণাস্ত্র জাতীয় বস্তুর আঘাতে জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে প্রথম আগুন লাগে। প্রাণ বাঁচাতে জাহাজের সব ক্রু ইতোমধ্যেই সেটি ত্যাগ করেছেন। পাকিস্তানের ন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফিক অফিস বুধবার এক জরুরি নেভিগেশনাল সতর্কবার্তায় ওই এলাকায় চলাচলকারী অন্যান্য জাহাজকে সাবধানতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাওয়া এই নতুন আগুন ঠিক কখন শুরু হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সিএনএন জাহাজের দৈর্ঘ্য এবং অবস্থান বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করেছে যে, এটি সেই ক্ষতিগ্রস্ত ‘সাফিন প্রেসটিজ’ জাহাজই।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে আরও দুই জ্বালানিবাহী জাহাজ

দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আমদানিকৃত জ্বালানি দ্রুত খালাস নিশ্চিত করতে বন্দরে ভিড়তে যাচ্ছে আরও দুটি জ্বালানিবাহী জাহাজ। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘চ্যাং হ্যাং হং তু’ ও ‘এলপিজি সেভেন’ নামের জাহাজ দুটি বর্তমানে খালাস কার্যক্রমে রয়েছে। এর মধ্যে ‘চ্যাং হ্যাং হং তু’ বুধবার এবং ‘এলপিজি সেভেন’ শুক্রবার (২০ মার্চ) মূল বন্দরে ভিড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।   মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস অয়েল নিয়ে আসা ‘চ্যাং হ্যাং হং তু’ গত ১৫ মার্চ বন্দরে পৌঁছে বর্তমানে ব্রাভো মুরিং এলাকায় অবস্থান করছে। জাহাজটি থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি খালাস হয়েছে এবং ১৯ মার্চের মধ্যে পুরো খালাস শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।   অন্যদিকে, ওমান থেকে এলপিজি নিয়ে আসা ‘এলপিজি সেভেন’ গত ৮ মার্চ চট্টগ্রামে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে কুতুবদিয়া এলাকায় অবস্থান করছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ২০ মেট্রিক টন এলপিজি খালাস করা হয়েছে। ২০ মার্চের মধ্যে জাহাজটির কার্যক্রম শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মোট ২৮টি জ্বালানিবাহী জাহাজের মধ্যে অধিকাংশই কার্গো খালাস শেষে বন্দর ত্যাগ করেছে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ওমান ও ভারত থেকে আসা এসব জাহাজে এলএনজি, এলপিজি, ক্রুড অয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া কাতার, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, অ্যাঙ্গোলা, থাইল্যান্ড ও ওমান থেকে আরও কয়েকটি জ্বালানিবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের পথে রয়েছে।   চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব রেফায়াত হামিম বলেন, জ্বালানি খালাস ও সরবরাহ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নতুন জাহাজগুলোর আগমনে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: বাসস

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ইরান ভারতের কাছে তিনটি ট্যাংকার জাহাজ ফেরত চাইল
ইরান ভারতের কাছে তিনটি ট্যাংকার জাহাজ ফেরত চাইল

হরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় জাহাজগুলোর নিরাপত্তা সম্পর্কিত নতুন কূটনৈতিক ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ইরান ভারতের কাছে তিনটি জাহাজ—অ্যাসফেল্ট স্টার, আল জাফজিয়া এবং স্টেলার রুবি—ফেরত চেয়েছে। পাশাপাশি, ভারতের কাছে জরুরি ওষুধ ও মেডিকেল সরঞ্জামের অনুরোধও জানানো হয়েছে ইরানের পক্ষ থেকে।   জাহাজগুলোর মধ্যে স্টেলার রুবি ইরানের মালিকানাধীন, আর আল জাফজিয়া ও অ্যাসফেল্ট স্টার যথাক্রমে মালি ও নিকারাগুয়ার পতাকাবাহী। গত ফেব্রুয়ারিতে আরব সাগরের ভারতীয় সীমানায় এই জাহাজগুলো জব্দ করেছিল ভারতীয় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড, কারণ তাদের বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূতভাবে জ্বালানি তেল পাচারের অভিযোগ উঠেছিল। বর্তমানে তিনটি জাহাজ মুম্বাই বন্দরে রয়েছে।   কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তিনটি জাহাজ ফেরত চাওয়া হয় এবং ইরানের জনগণের জন্য জরুরি ওষুধ ও মেডিকেল সরঞ্জামের অনুরোধ জানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় ও ইরানি সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোনো মন্তব্য করেননি।   হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে চলাচল করা তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজের প্রায় ২০ শতাংশ এই রুট ব্যবহার করে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর রপ্তানির জন্য এই পথ অপরিহার্য।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী ১২টিরও বেশি ট্যাঙ্কার জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে, তবে ভারতের জাহাজে কোনো হামলা হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি নির্দেশ দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী ভারতীয় জাহাজগুলোকে নিরাপদ রাখা হবে।   ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রাহ্মনিয়ম জয়শঙ্কর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, এই নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে করা হয়েছে এবং এতে কোনো ‘লুকোছাপা’ নেই।   এ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে ভারতের চারটি জ্বালানিবাহী ট্যাঙ্কার জাহাজকে নিরাপদ প্যাসেজ দেওয়া হয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ প্রণালিতে একইদিনে তিন কার্গো জাহাজে হামলা

বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে পরপর তিনটি কার্গো জাহাজে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার পারস্য উপসাগরের এই কৌশলগত জলসীমায় অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে জাহাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে একটি জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে অধিকাংশ নাবিককে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।   ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি ও যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা (ইউকেএমটিও)-র তথ্যমতে, হামলার শিকার জাহাজগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘মায়ুরি নারি’ ওমানের ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অগ্নিকাণ্ডের শিকার এই জাহাজটির আগুন পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও পরিবেশগত বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে জাহাজটিতে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সংখ্যক নাবিক অবস্থান করছেন।   অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহ থেকে ২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে জাপানি কন্টেইনার জাহাজ ‘ওয়ান ম্যাজেস্টি’ এবং দুবাইয়ের উত্তর-পশ্চিমে মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী ‘স্টার গুইনেথ’ নামের আরও একটি জাহাজ অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই দুটি জাহাজের নাবিকরা সুরক্ষিত আছেন বলে নিশ্চিত করেছে মেরিটাইম ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ভ্যানগার্ড।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আঞ্চলিক উত্তেজনার পর এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক এই তিনটি হামলাসহ সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪টি জাহাজে হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হলো।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১১, ২০২৬ 0
আন্দামান সাগরে দুর্ঘটনা, বাংলাদেশমুখী জাহাজ ডুবে তেল নিঃসরণ
আন্দামান সাগরে দুর্ঘটনা, বাংলাদেশমুখী জাহাজ ডুবে তেল নিঃসরণ

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল নাগাদ থাইল্যান্ডের ফুকেট দ্বীপের কাছে সমুদ্রে একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। ‘লায়েম প্রোমথেপ’ উপকূল থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে বাংলাদেশ অভিমুখী ‘সিলয়েড আর্ক’ নামের একটি পণ্যবাহী জাহাজ হঠাৎই ডুবে যায়। তবে স্বস্তির বিষয়, জাহাজে থাকা ১৬ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয় থাই কর্তৃপক্ষ।   প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, প্রায় ৪ হাজার ৩৩৯ টন ওজনের জাহাজটি ২৯৭টি কন্টেইনার বহন করছিল এবং সেগুলো নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। মাঝ সমুদ্রে আচমকা জাহাজে পানি ঢুকতে শুরু করলে ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং একপর্যায়ে জাহাজটি নিমজ্জিত হয়ে যায়।   ঘটনার পরপরই থাইল্যান্ডের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নৌ ও হেলিকপ্টারের সহায়তায় জাহাজে থাকা সব ক্রু সদস্যকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন কি না, সে বিষয়ে এখনও যাচাই চলছে।   জাহাজডুবির ফলে সমুদ্রজুড়ে বড় ধরনের পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রায় ৪ দশমিক ৫ মাইল দীর্ঘ ও ১ মাইল প্রশস্ত এলাকাজুড়ে তেলের স্তর ভেসে থাকতে দেখা গেছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—জাহাজে থাকা কন্টেইনারগুলোর মধ্যে অন্তত ১৪টিতে ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক পদার্থ ছিল। এই পরিস্থিতিকে থাই কর্তৃপক্ষ একটি বড় ধরনের সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছে।   পরিবেশ বিপর্যয় মোকাবিলায় রোববার একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে থাইল্যান্ড। আকাশপথে নজরদারি চালিয়ে তেলের বিস্তার পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত ফুকেটের মূল উপকূলীয় এলাকায় তেল পৌঁছানোর তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়া রাসায়নিক বোঝাই কন্টেইনার সামুদ্রিক প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করেছে।   এদিকে বাংলাদেশগামী এই জাহাজে আমদানিকৃত পণ্য থাকায় দেশের বাজারে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাই সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার ও সমুদ্র পরিষ্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব কি বন্ধ? ইউএস ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে কী বলা আছে

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস  এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।

Top week

বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?
আমেরিকা

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0