পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে হামলার কবলে পড়া থাই মালবাহী জাহাজ ‘ময়ূরী নারি’ এবার ইরানি উপকূলে আটকা পড়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে আক্রান্ত হওয়া এই জাহাজটি দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে কিশম দ্বীপের রামচাহ গ্রামের কাছে বালুচরে আটকে যায়।
পরবর্তীতে জাহাজটির অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি শুক্রবার জানিয়েছে, জাহাজটি কিশম দ্বীপ থেকে সরে গিয়ে পার্শ্ববর্তী লারাক দ্বীপে পৌঁছেছে। তবে জাহাজটি ঠিক কীভাবে সেখানে পৌঁছাল বা বর্তমানে এর যান্ত্রিক অবস্থা কেমন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি তেহরান।
উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ ২৩ জন ক্রু নিয়ে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় জাহাজটিকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিবর্ষণ করা হয়। ওই ভয়াবহ হামলার পর ৩ জন ক্রু নিখোঁজ হন। বাকি ২০ জনকে উদ্ধার করে নিরাপদে ব্যাংককে ফিরিয়ে নেওয়া হলেও জাহাজটির ভাগ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছেই না। আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তাহীনতার উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা বৈশ্বিক রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করলেও, ক্রেমলিনের জন্য তা এক অভাবনীয় আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত কেবল তেলের দামই বাড়াচ্ছে না, বরং রাশিয়ার ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতি ও ইউক্রেন যুদ্ধের খরচ মেটানোর এক মোক্ষম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। তেলের বাজারে রাশিয়ার দাপট দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া তাদের অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজার পর তেলের বৈশ্বিক দাম বেড়ে যাওয়ায় পুতিন প্রশাসন এখন পূর্ণ বাজারমূল্যে তেল বিক্রি করার সুযোগ পাচ্ছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর জ্যেষ্ঠ সহযোগী বেন কাহিল জানান, এই সংঘাতের ফলে রাশিয়ার অর্থনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তন এসেছে। যেখানে রাশিয়ার বাজেট ঘাটতি নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল, সেখানে এখন উপচে পড়ছে ভ্লাদিমির পুতিনের রাজকোষ। কেবল তেল নয়, লক্ষ্য গ্যাস ও সার ইরান সংকটের ফলে বিশ্ববাজারে কেবল জ্বালানি তেল নয়, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং সারের সরবরাহও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যেহেতু রাশিয়া এই দুটি পণ্যের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানিকারক, তাই বিশ্বজুড়ে হাহাকার তৈরি হওয়ায় রাশিয়ার মুনাফা লাভের পথ আরও প্রশস্ত হয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির ‘সবচেয়ে বড় বিজয়ী’ হলো রাশিয়া। খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো অর্থনীতি কার্নেগি রাশিয়া ইউরেশিয়া সেন্টারের ফেলো আলেকজান্দ্রা প্রোকোপেনকো জানান, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে রাশিয়া এক ভয়াবহ বাজেট সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছিল। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি কাঠামোগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা পুতিনকে ‘সময় কিনে’ দিয়েছে। রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, চলতি বছরে যে ব্যয় সংকোচনের পরিকল্পনা ছিল, তা এখন ২০২৭ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, রাশিয়ার অর্থনীতির পালে তত বেশি হাওয়া লাগবে—এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদরা।
চিরশত্রু ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের রক্তক্ষয়ী সংঘাত আজ ২৮তম দিনে পদার্পণ করেছে। যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে দেশটির ইসলামী শাসনতন্ত্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার যে নীল নকশা ওয়াশিংটন ও তেল আবিব তৈরি করেছিল, তা আজ এক নতুন মোড় নিল। চরম উত্তেজনার এই আবহে তেহরান এবার প্রকাশ করেছে তাদের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার জীবনের শেষ মুহূর্তের এক সংবেদনশীল ছবি। পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'দ্য ডন' এবং 'আল মায়াদিন'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবিটি খামেনির মৃত্যুর ঠিক আগমুহূর্তে তোলা। ছবিতে দেখা যায়, তেহরানে নিজ কার্যালয়ে অত্যন্ত নিবিষ্ট মনে দাপ্তরিক কাজ সামলাচ্ছেন তিনি। যা প্রমাণ করে, আমৃত্যু তিনি নিজ কর্তব্যে অবিচল ছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরের দিকে খামেনির বাসভবন ও প্রাসাদ লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে এক ভয়াবহ বিমান হামলা চালায়। পরবর্তীতে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, এক সময়ের সুরক্ষিত সেই প্রাসাদটি এখন কেবলই এক বিশাল ধ্বংসস্তূপ। ইরানি সংবাদ সংস্থা 'ফার্স নিউজ এজেন্সি' নিশ্চিত করেছে, নিজ দপ্তরে দায়িত্ব পালনরত অবস্থাতেই মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'চ্যানেল-১২' জানিয়েছে, হামলার পর পরই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খামেনির মরদেহের ছবি দেখানো হয়েছে। ওই হামলায় কেবল সর্বোচ্চ নেতাই নন, তার কন্যা, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাতাও প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানি উদ্ধারকারীরা প্রাসাদ প্রাঙ্গণ থেকেই তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন। নেতৃত্বের এই বিশাল শূন্যতা ইরানকে দমাতে পারেনি। বরং শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এবং মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক বিধ্বংসী পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান। নজিরবিহীন এই চ্যালেঞ্জের মুখে বর্তমানে দিশেহারা হয়ে পড়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীও।
ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত ন্যাশনাল রিপাবলিকান কংগ্রেশনাল কমিটির এক অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান পর্দার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শান্তি-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তেহরান এই আলোচনার বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করতে প্রচণ্ড আতঙ্কিত। ট্রাম্পের মতে, তেহরান সপ্তাহজুড়ে আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করলেও বাস্তবে তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। কেন তারা এটি গোপন রাখছে—তার ব্যাখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নেতারা মনে করছেন এই আলোচনার খবর জানাজানি হলে তারা নিজ দেশের জনগণের হাতেই প্রাণ হারাবেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নিহত হওয়ার ভয়ও তাদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। অনুষ্ঠানে রিপাবলিকানদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ইরান খুবই মরিয়া হয়ে একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু সেটি প্রকাশ্যে বলতে তারা ভীত।” উল্লেখ্য, একই অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতকে সরাসরি ‘যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত না করে বরং ‘সামরিক অভিযান’ বলে উল্লেখ করেন।