- প্রচ্ছদ
- Topic
নাসা
মহাবিশ্বের নানা প্রান্তের ১৬টি গ্যালাক্সির চোখধাঁধানো ছবি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। বিভিন্ন শক্তিশালী দূরবীক্ষণযন্ত্রের তথ্য একত্র করে তৈরি করা এসব ছবিতে ধরা পড়েছে গ্যালাক্সিগুলোর বৈচিত্র্য, উত্তপ্ত গ্যাস, নক্ষত্রের জন্ম এবং মহাকর্ষীয় নানা ঘটনাপ্রবাহ। নাসার চন্দ্র এক্স-রে মানমন্দিরের নতুন গ্যালারি ‘গ্যালাকটিক জেমস’ বা ‘মহাজাগতিক রত্ন’ নামে প্রকাশ করা হয়েছে। ২৫ আগস্ট প্রকাশিত এই সংগ্রহে থাকা প্রতিটি ছবিতে চন্দ্রের কয়েক দশকের পর্যবেক্ষণ থেকে পাওয়া এক্স-রে তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। সেই তথ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে জেমস ওয়েব ও হাবল মহাকাশ দূরবীক্ষণযন্ত্রসহ আরও বেশ কয়েকটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য। নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গ্যালাক্সিগুলোকে সাধারণত তিনটি বড় শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। সর্পিল গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে বাহুর মতো কাঠামো ছড়িয়ে থাকে, যেমন আমাদের মিল্কিওয়ে। উপবৃত্তাকার গ্যালাক্সিগুলো তুলনামূলকভাবে পুরোনো এবং অনেক ক্ষেত্রে গ্যালাক্সির সংঘর্ষ ও একীভবনের ফল হিসেবে গড়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হয়। আর অনিয়মিত গ্যালাক্সির নির্দিষ্ট কোনো একক আকৃতি নেই এবং এতে নানা ধরনের মহাজাগতিক ঘটনা দেখা যেতে পারে। নতুন প্রকাশিত ১৬টি ছবির সংগ্রহে এই তিন ধরনের গ্যালাক্সিই রয়েছে। ছবিগুলো তৈরিতে শুধু দৃশ্যমান আলোর তথ্য ব্যবহার করা হয়নি। চন্দ্র এক্স-রে মানমন্দিরের তথ্যের সঙ্গে নাসার জেমস ওয়েব ও হাবল মহাকাশ দূরবীক্ষণযন্ত্র, আইএক্সপিই, নিল গেহরেলস সুইফট মানমন্দির এবং নিউস্টারের তথ্যও যুক্ত করা হয়েছে। পৃথিবীর মাটিতে থাকা পর্যবেক্ষণকেন্দ্রসহ মহাকাশে থাকা বিভিন্ন যন্ত্রের তথ্যও এই সমন্বিত ছবিতে ব্যবহার করা হয়েছে। এ ধরনের একাধিক তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তথ্য একসঙ্গে ব্যবহার করার ফলে গ্যালাক্সির এমন অনেক বৈশিষ্ট্য দেখা যায়, যা শুধু সাধারণ দৃশ্যমান আলোতে ধরা পড়ে না। বিশেষ করে এক্স-রে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে গ্যালাক্সির অত্যন্ত উত্তপ্ত ও শক্তিশালী অঞ্চল শনাক্ত করা সম্ভব হয়। চন্দ্রের পর্যবেক্ষণে কয়েক মিলিয়ন ডিগ্রি তাপমাত্রায় উত্তপ্ত গ্যাস, বিশাল নক্ষত্র থেকে বেরিয়ে আসা প্রবাহ, অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর থেকে নির্গত পদার্থ এবং বিস্ফোরিত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষের মতো ঘটনা দেখা যায়। এসব প্রক্রিয়া গ্যালাক্সির বিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নক্ষত্রের ভেতরে তৈরি হওয়া এবং মহাজাগতিক বিস্ফোরণের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন মৌল কীভাবে গ্যালাক্সিতে ছড়িয়ে পড়ে, তারও ধারণা পাওয়া যায়। চন্দ্র এক্স-রে মানমন্দিরের বিজ্ঞানবিষয়ক যোগাযোগ কর্মকর্তা মেগান ওয়াটজকে গ্যালাক্সিগুলোকে মহাজাগতিক রত্নের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর মতে, প্রতিটি গ্যালাক্সির আকার ও গঠনে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। পৃথিবীর বিভিন্ন রত্ন কীভাবে কোটি কোটি বছর ধরে গঠিত হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে পৃথিবীর ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। একইভাবে দূরের গ্যালাক্সিগুলো পর্যবেক্ষণ করেও আমাদের নিজেদের গ্যালাক্সি মিল্কিওয়ের অতীত ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছে নাসা। নতুন গ্যালারির ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে এনজিসি ১৬৭২, আইআই জেডডব্লিউ ০৯৬, এম৩৩, এনজিসি ৪২৫৮, এনজিসি ১৫৬৯ এবং এনজিসি ৪৬৩১সহ বিভিন্ন গ্যালাক্সি। প্রতিটির বৈশিষ্ট্যও আলাদা। কোথাও দেখা যায় নক্ষত্র তৈরির সক্রিয় অঞ্চল, কোথাও আবার কেন্দ্রীয় অতিভারী কৃষ্ণগহ্বরের কার্যকলাপ বা উত্তপ্ত গ্যাসের বিস্তৃত অঞ্চল। উদাহরণ হিসেবে এনজিসি ৪৬৩১ গ্যালাক্সিটি পৃথিবী থেকে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ আলোকবর্ষ দূরে। এর পর্যবেক্ষণে এক্স-রে তথ্যের পাশাপাশি দৃশ্যমান আলোর তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। ছবিতে গ্যালাক্সিটির ডিস্কের ওপর ও নিচে ছড়িয়ে থাকা উত্তপ্ত গ্যাসের উপস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। নতুন গ্যালারিতে থাকা গ্যালাক্সিগুলোর দূরত্বও বিস্তৃত। নাসার চন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সংগ্রহের বিভিন্ন গ্যালাক্সি পৃথিবী থেকে প্রায় ৩০ লাখ থেকে ৪৯ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। অর্থাৎ একই গ্যালারিতে এমন সব মহাজাগতিক বস্তু রয়েছে, যাদের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে কয়েক লাখ থেকে কয়েক কোটি বছর পর্যন্ত সময় লেগেছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে এ ধরনের ছবি শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়। একটি গ্যালাক্সি কীভাবে জন্ম নেয়, কীভাবে নক্ষত্র তৈরি হয়, কৃষ্ণগহ্বর কীভাবে আশপাশের পরিবেশকে প্রভাবিত করে এবং সময়ের সঙ্গে গ্যালাক্সির কাঠামো কীভাবে বদলে যায়, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেও এসব পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। নাসার মতে, এক্স-রে তথ্য অন্য ধরনের আলোর তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে গ্যালাক্সিগুলো কীভাবে গড়ে ওঠে, একে অপরের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে এবং সময়ের সঙ্গে বিবর্তিত হয়, সে সম্পর্কে আরও পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়। দূরের গ্যালাক্সিগুলোকে এভাবে পর্যবেক্ষণ করার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা আমাদের নিজেদের মিল্কিওয়ের বর্তমান অবস্থা, অতীতের পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও আরও ভালোভাবে জানতে পারেন। নাসার এই নতুন গ্যালারি তাই একই সঙ্গে মহাবিশ্বের বৈচিত্র্যকে চোখের সামনে তুলে ধরেছে এবং গ্যালাক্সি সম্পর্কে মানুষের বৈজ্ঞানিক বোঝাপড়া আরও গভীর করার সুযোগ তৈরি করেছে। সংবাদসূত্র: নাসা
মহাকাশবিদ্যা এবং মহাজাগতিক নানা অজানা রহস্য উন্মোচনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে নাসার নতুন ফ্ল্যাগশিপ অবজারভেটরি ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ’। প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই শক্তিশালী স্পেস টেলিস্কোপটি গত রোববার ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন হেভি রকেটে চড়ে মহাশূন্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। ডার্ক এনার্জি এবং ডার্ক ম্যাটারের মতো মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলো অনুসন্ধানের পাশাপাশি বিশাল পরিসরে অভিকর্ষ বলের পরীক্ষা এবং সৌরজগতের বাইরের গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কারের জন্য এই টেলিস্কোপটির নকশা করা হয়েছে। উৎক্ষেপণের আগে কিছুটা বৈরী আবহাওয়ার শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পরিষ্কার আকাশ ভেদ করে সফলভাবেই মহাকাশে পাড়ি জমায় এটি। পৃথিবী থেকে প্রায় ১৬ লাখ কিলোমিটার দূরে ‘ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট ২’ নামক একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথের দিকে অগ্রসর হচ্ছে রোমান। প্রাথমিকভাবে এর মিশনকাল পাঁচ বছর নির্ধারণ করা হলেও নাসার মতে, টেলিস্কোপটিতে আরও পাঁচ বছর চলার মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি রয়েছে। ১৯৯০ সালে উৎক্ষেপিত হাবল স্পেস টেলিস্কোপ এবং ২০২১ সালের জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের সক্ষমতাকে ভিত্তি করেই রোমান তার কার্যক্রম পরিচালনা করবে। নাসার বিজ্ঞান মিশন অধিদপ্তরের প্রধান নিকোলা ফক্স জানান, হাবল এবং জেমস ওয়েব যেখানে মহাবিশ্বের দিকে অনেকটা চাবির ছিদ্র দিয়ে উঁকি দিয়েছে, সেখানে রোমান স্পেস টেলিস্কোপ আক্ষরিক অর্থেই পুরো দরজা ভেঙে ফেলবে। হাবল টেলিস্কোপের সমকক্ষ তীক্ষ্ণতা ও সংবেদনশীলতা থাকলেও রোমান অনেক দ্রুততার সঙ্গে বিস্তীর্ণ আকাশ পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের জ্যেষ্ঠ প্রকল্প বিজ্ঞানী জুলি ম্যাকএনারির মতে, রোমান মাত্র এক মাসে আমাদের গ্যালাক্সির যে পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করতে পারবে, হাবল টেলিস্কোপের তা করতে প্রায় এক শতাব্দী সময় লেগে যেত। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ যেমন মহাবিশ্বের গভীরে অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিষয়গুলো অনুসন্ধান করতে পারে, তেমনি রোমানের ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল বা প্যানোরামিক ভিউ সেই গভীর পর্যবেক্ষণের পরিপূরক হিসেবে একটি বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরবে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই টেলিস্কোপটি মহাবিশ্বের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিস্তারিত ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করে ডার্ক এনার্জি ও ডার্ক ম্যাটারের রহস্য সমাধানে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও হাজার হাজার নতুন এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কারের মাধ্যমে মহাকাশ গবেষণায় নতুন এক দিগন্তের সূচনা করবে ন্যান্সি গ্রেস রোমান।
একসময় পরীক্ষায় বারবার ব্যর্থতা, ভর্তি পরীক্ষায় একের পর এক প্রত্যাখ্যান আর বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনেও ধারাবাহিক রিজেকশন। সেই ইমরানই এখন যুক্তরাষ্ট্রের নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরিতে কাজ করছেন। ইমরানের নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, স্কুলজীবন থেকেই ব্যর্থতার সঙ্গে তার পরিচয়। চতুর্থ শ্রেণিতে গণিতে ১৩ নম্বর পেয়ে ফেল করা দিয়ে শুরু। পরে হাইস্কুলে গণিত ও ইংরেজিতে একাধিকবার ফেল করেন। নবম শ্রেণিতে স্কুলও বদলাতে হয়। এসএসসিতে পান ৩.৫৬ জিপিএ। এইচএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে ছিলেন মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থীর একজন। পরীক্ষায় প্রায়ই সেই পাঁচজনের মধ্যে চতুর্থ হতেন। এরপর মেডিকেল কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় একের পর এক ব্যর্থতা আসে। শেষ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগে ভর্তি হন। সেখানেও থেমে থাকেননি। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য ১০ বারের বেশি চেষ্টা করেন। আইএসএসবিতে অংশ নেন দুইবার, দুবারই রেড কার্ড পান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার পদেও চারবার আবেদন করে সফল হননি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে প্ল্যানেটারি সায়েন্স পড়ার স্বপ্ন দেখেন। সেই পথও সহজ ছিল না। দুইবার জিআরই, দুইবার আইইএলটিএস এবং দুইবার টোফেল দেওয়ার পর ২০১৬ সালে ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রত্যাখ্যাত হন। পরের বছর আরও পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসে রিজেকশন। তবু ব্যর্থতাকে শেষ বলে মেনে নেননি ইমরান। শেষ পর্যন্ত অবার্ন ইউনিভার্সিটিতে স্কলারশিপ নিয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরে ইউনিভার্সিটি অব আরকানসাস থেকে স্পেস ও প্ল্যানেটারি সায়েন্সে পিএইচডি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরিতে কাজ করছেন। নাসার বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও মহাকাশ গবেষণা কার্যক্রমে জেপিএল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রকাশ্য বৈজ্ঞানিক নথিতেও ইমরানের জেপিএলের সঙ্গে গবেষণামূলক কাজের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। তার এই পথচলা দেখায়, একের পর এক ব্যর্থতা কোনো মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেয় না। যে ফলাফলগুলো একসময় তাকে নিজেকেই ব্যর্থ মনে করাত, সেগুলোই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে আরও বড় লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথে অভিজ্ঞতা। ইমরানের গল্প তাই শুধু নাসায় কাজ করার গল্প নয়, বরং বারবার ব্যর্থ হওয়ার পরও চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার এক দীর্ঘ যাত্রার গল্প।
চাঁদে মানুষ পৌঁছানোর ঐতিহাসিক অভিযানের পেছনে যে জটিল গাণিতিক হিসাবগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, সেই কাজের অন্যতম নেপথ্য কারিগর নাসার গণিতবিদ ক্যাথরিন জনসন ১০১ বছর বয়সে মারা গেছেন। ২০২০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় নিজ বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়। ক্যাথরিন জনসন নাসার শুরুর যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘হিউম্যান কম্পিউটার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তখন আধুনিক কম্পিউটার ব্যবহারের আগে জটিল মহাকাশযাত্রার হিসাব মানুষই হাতে করে বের করতেন। ১৯৫৩ সালে তিনি ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি ফর অ্যারোনটিকসের ল্যাংলি ল্যাবরটরিতে কাজ শুরু করেন। পরে প্রতিষ্ঠানটি নাসায় রূপান্তরিত হলে তিনি মহাকাশ কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ গণিতবিদ হয়ে ওঠেন। ১৯৬১ সালে নভোচারী অ্যালান শেপার্ডের ঐতিহাসিক মহাকাশযাত্রার গতিপথ নির্ধারণে তাঁর হিসাব ব্যবহার করা হয়। পরের বছর জন গ্লেন পৃথিবীর কক্ষপথে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে নাসার ইলেকট্রনিক কম্পিউটারের হিসাবও তিনি হাতে পুনরায় যাচাই করেন। গ্লেনের অনুরোধ ছিল, জনসন হিসাব সঠিক বললেই তিনি মহাকাশযাত্রায় যাবেন। মিশনটি সফল হয়। চাঁদে পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। নাসার তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপোলো কর্মসূচিতে চাঁদের কক্ষপথে থাকা কমান্ড ও সার্ভিস মডিউলের সঙ্গে লুনার মডিউলের অবস্থান সমন্বয়ের জন্য প্রয়োজনীয় হিসাবেও তিনি কাজ করেন। নাসা বলেছে, তাঁর গাণিতিক অবদান মানুষকে চাঁদে পৌঁছানোর পথ তৈরি করতে সহায়তা করেছে। শুধু মহাকাশ গবেষণায় অবদান নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণ ও লিঙ্গ বৈষম্যের সময় একজন আফ্রিকান-আমেরিকান নারী হিসেবে জনসনের ক্যারিয়ারও ছিল ব্যতিক্রমী। ২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম দেন। তাঁর জীবন ও কাজ নিয়ে পরে ‘হিডেন ফিগারস’ বই ও চলচ্চিত্রও তৈরি হয়। ১৯৮৬ সালে নাসা থেকে অবসর নেওয়ার আগে ল্যাংলি রিসার্চ সেন্টারে তিনি ৩৩ বছর কাজ করেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণিত ও বিজ্ঞান নিয়ে তাঁর অবদান নাসার ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে। নাসা তাঁর মৃত্যুর পর ক্যাথরিন জনসনকে এমন একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে স্মরণ করে, যাঁর দক্ষতা ও সাহস মহাকাশ অনুসন্ধানের পাশাপাশি নারী ও আফ্রিকান-আমেরিকানদের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নতুন দরজা খুলে দিয়েছিল।
নাসায় ইন্টার্নশিপ শুরুর মাত্র তিন দিনের মাথায় নতুন একটি গ্রহ শনাক্ত করে আলোচনায় আসেন ১৭ বছর বয়সী উলফ কুকিয়ার। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের স্কারসডেল হাইস্কুলের শিক্ষার্থী কুকিয়ার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করার সময় নাসার টিইএসএস মহাকাশ টেলিস্কোপের তথ্য বিশ্লেষণ করছিলেন। সেখানেই ধরা পড়ে পৃথিবী থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ আলোকবর্ষ দূরের এক অদ্ভুত গ্রহের সংকেত। কুকিয়ারের কাজ ছিল এমন নক্ষত্রের তথ্য খতিয়ে দেখা, যেগুলো পরস্পরকে প্রদক্ষিণ করতে গিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর পর একে অপরের আলো আড়াল করে। এমন একটি নক্ষত্রজোড়ার তথ্য বিশ্লেষণের সময় তিনি উজ্জ্বলতায় অস্বাভাবিক হ্রাস দেখতে পান। প্রথমে তার ধারণা হয়েছিল, একটি নক্ষত্র অন্যটির সামনে চলে যাওয়ায় এই পরিবর্তন ঘটেছে। কিন্তু সংকেতটির সময়ের হিসাব সেই ব্যাখ্যার সঙ্গে মিলছিল না। আরও বিশ্লেষণের পর দেখা যায়, সেটি কোনো নক্ষত্রের গ্রহণ নয়। বরং নক্ষত্র দুটির চারপাশে একটি গ্রহ ঘুরছে। গ্রহটির নাম দেওয়া হয় টিওআই ১৩৩৮ বি। এই আবিষ্কারটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ এটি নাসার টিইএসএস মিশনে শনাক্ত হওয়া প্রথম সার্কামবাইনারি গ্রহ। অর্থাৎ গ্রহটি একটি নয়, দুটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। এমন গ্রহকে অনেক সময় ‘দুই সূর্যের গ্রহ’ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়। টিওআই ১৩৩৮ বি পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৬ দশমিক ৯ গুণ বড়। আকারের দিক থেকে এটি নেপচুন ও শনির মাঝামাঝি। গ্রহটি পিক্টর নক্ষত্রমণ্ডলের একটি নক্ষত্রজোড়া থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। ওই দুই নক্ষত্র একে অপরকে প্রায় ১৫ দিনে একবার প্রদক্ষিণ করে, আর গ্রহটি তাদের চারপাশে একবার ঘুরতে প্রায় ৯৫ দিন সময় নেয়। টিইএসএস গ্রহটির গতিবিধি শনাক্ত করতে পেরেছিল যখন এটি বড় নক্ষত্রটির সামনে দিয়ে অতিক্রম করছিল। এই সময় নক্ষত্রটির আলো সামান্য কমে যায়। এমন আলোর পরিবর্তন বিশ্লেষণ করেই দূরের গ্রহ শনাক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। নাসার তথ্য অনুযায়ী, টিওআই ১৩৩৮ বি সম্ভবত একটি গ্যাসীয় গ্রহ। এটি বসবাসযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনাও কম বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দুটি নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণকারী সব গ্রহ যে প্রাণের জন্য অনুপযোগী হবে, এমন নয়। সঠিক দূরত্ব ও পরিবেশ থাকলে এ ধরনের কিছু গ্রহে বাসযোগ্য পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কুকিয়ারের আবিষ্কার পরে বৈজ্ঞানিক গবেষণার অংশ হয় এবং তিনি ওই গ্রহ নিয়ে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সহলেখকও হন। নাসার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মাত্র তিন দিনের ইন্টার্নশিপেই পাওয়া ওই সংকেত শেষ পর্যন্ত টিইএসএস মিশনের একটি উল্লেখযোগ্য আবিষ্কারে পরিণত হয়। সাধারণত ইন্টার্নশিপের প্রথম কয়েক দিন নতুন পরিবেশ ও কাজের সঙ্গে মানিয়ে নিতেই কেটে যায়। আর উলফ কুকিয়ারের ক্ষেত্রে সেই সময়টুকুই যথেষ্ট হয়েছিল মহাকাশের ১ হাজার ৩০০ আলোকবর্ষ দূরের একটি নতুন পৃথিবীর সন্ধান পাওয়ার জন্য।
যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব রকেট ডিজাইন, নির্মাণ ও উৎক্ষেপণের সুযোগ নিয়ে আবারও শুরু হচ্ছে নাসার স্টুডেন্ট লঞ্চ চ্যালেঞ্জ। ২০২৭ সালের এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে কলেজ ও ইউনিভার্সিটির পাশাপাশি যোগ্য মিডল ও হাইস্কুল পর্যায়ের দলগুলো আবেদন করতে পারবে। নাসার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আবেদন বা প্রপোজাল জমা দেওয়ার শেষ সময় ২০২৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল টাইম। নাসার স্টুডেন্ট লঞ্চ মূলত নয় মাসব্যাপী একটি ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জ। এতে নির্বাচিত শিক্ষার্থী দলগুলোকে একটি হাই-পাওয়ার রকেট ডিজাইন, তৈরি, পরীক্ষা এবং শেষ পর্যন্ত উৎক্ষেপণ করতে হয়। রকেটের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক বা ইঞ্জিনিয়ারিং পেলোডও তৈরি করতে হয়। ফলে এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব মহাকাশ ও অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ কাছ থেকে শেখার সুযোগ। পুরো কর্মসূচিটি পরিচালনা করে আলাবামার হান্টসভিলে অবস্থিত নাসার মার্শাল স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের অফিস অব স্টেম এনগেজমেন্ট। চ্যালেঞ্জের বিভিন্ন গবেষণা ও প্রকৌশল বিষয় তৈরিতে নাসার স্পেস লঞ্চ সিস্টেম এবং আর্টেমিস কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও ইন্ডাস্ট্রি পার্টনাররা যুক্ত থাকেন। নাসার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো কলেজ বা ইউনিভার্সিটি ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট লঞ্চ ইনিশিয়েটিভ বিভাগে অংশ নেওয়ার জন্য প্রপোজাল জমা দিতে পারে। এটি প্রতিযোগিতামূলক বিভাগ এবং প্রপোজাল যাচাইয়ের পর দল নির্বাচন করা হয়। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ গ্রেডের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আলাদা স্টুডেন্ট লঞ্চ ইনিশিয়েটিভ বিভাগ। তবে এই পর্যায়ে সরাসরি সব স্কুল আবেদন করতে পারবে না। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। আমেরিকান রকেট্রি চ্যালেঞ্জের শীর্ষ ২৫টি স্কুল এবং রকেটস ফর স্কুলস প্রতিযোগিতার ক্লাস টু বিভাগের শীর্ষ সাতটি স্কুল নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে প্রপোজাল জমা দেওয়ার সুযোগ পাবে। একটি স্কুল থেকে সর্বোচ্চ একটি দল অংশ নিতে পারবে। চ্যালেঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, শিক্ষার্থীদের কাজ অনেকটাই নাসার বাস্তব ইঞ্জিনিয়ারিং প্রক্রিয়ার আদলে পরিচালিত হয়। নির্বাচিত দলকে ধাপে ধাপে প্রিলিমিনারি ডিজাইন রিভিউ, ক্রিটিক্যাল ডিজাইন রিভিউ, ফ্লাইট রেডিনেস রিভিউ এবং লঞ্চ রেডিনেস রিভিউ সম্পন্ন করতে হবে। প্রতিটি ধাপ সফলভাবে শেষ করেই পরবর্তী পর্যায়ে যেতে হবে। রকেট উৎক্ষেপণের পরও কাজ শেষ হবে না। শিক্ষার্থীদের রকেটের ফ্লাইট ও পেলোড থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করতে হবে এবং পোস্ট লঞ্চ অ্যাসেসমেন্ট রিভিউ সম্পন্ন করতে হবে। এর মাধ্যমে একটি প্রকল্পের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে ডিজাইন, পরীক্ষা, উৎক্ষেপণ এবং ফলাফল বিশ্লেষণ পর্যন্ত পুরো ইঞ্জিনিয়ারিং লাইফসাইকেলের অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করে নাসা। ২০২৭ সালের স্টুডেন্ট লঞ্চের চূড়ান্ত আয়োজন হবে আলাবামার হান্টসভিলে। নাসার ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, লঞ্চ ডে নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ এপ্রিল ২০২৭। এখানেই বিভিন্ন দলের তৈরি হাই-পাওয়ার রকেট উৎক্ষেপণ করা হবে। নাসা বলছে, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধু শিক্ষার্থীদের রকেট বানানো শেখানো নয়। ভবিষ্যতের স্টেম ও অ্যারোস্পেস কর্মশক্তি তৈরির জন্য বাস্তব গবেষণা, সমস্যা সমাধান, দলগত কাজ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে আর্টেমিস কর্মসূচির মাধ্যমে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতি এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে আগ্রহী করে তোলার বিষয়টিও এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। আগ্রহী কলেজ ও ইউনিভার্সিটি এবং যোগ্য স্কুল দলগুলোকে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে ১৪ সেপ্টেম্বরের সময়সীমার মধ্যেই নাসার কাছে প্রপোজাল জমা দিতে হবে।
মহাবিশ্বের অদৃশ্য রহস্য উন্মোচনে নতুন এক যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে নাসা। ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি এবং সৌরজগতের বাইরের গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেট নিয়ে গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা শিগগিরই উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ। এই উচ্চাভিলাষী বৈজ্ঞানিক মিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া জ্যোতির্পদার্থবিদ ড. লামিয়া আশরাফ মাওলা, যিনি এর আগে বিশ্বখ্যাত জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ প্রকল্পের বিজ্ঞানী দলেও কাজ করেছেন। নাসার তথ্য অনুযায়ী, ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ ৩০ আগস্ট ২০২৬ সালে উৎক্ষেপণের লক্ষ্যে প্রস্তুত। এই টেলিস্কোপের প্রধান লক্ষ্য হবে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের পেছনের রহস্যময় শক্তি ডার্ক এনার্জি, অদৃশ্য ডার্ক ম্যাটারের প্রভাব এবং হাজার হাজার নতুন এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা। পাশাপাশি এটি বিলিয়ন সংখ্যক গ্যালাক্সির মানচিত্র তৈরি করে মহাবিশ্বের বিবর্তন সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের নতুন ধারণা দিতে পারে। রোমান টেলিস্কোপের বিশেষত্ব হলো, এটি হাবল স্পেস টেলিস্কোপের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বড় আকাশের অংশ একসঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। ফলে অল্প সময়ে বিশাল পরিমাণ মহাজাগতিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। নাসার বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, মিশনের প্রথম পাঁচ বছরেই এটি এক লক্ষের বেশি নতুন গ্রহ, শত শত মিলিয়ন নক্ষত্র এবং বিলিয়ন গ্যালাক্সি সম্পর্কে নতুন তথ্য সংগ্রহ করবে। ড. লামিয়া আশরাফ মাওলা এর আগেও জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই টেলিস্কোপের মাধ্যমে মানবজাতি মহাবিশ্বের প্রাচীনতম গ্যালাক্সির ছবি এবং মহাকাশ সম্পর্কে অভূতপূর্ব তথ্য পেয়েছে। এবার রোমান টেলিস্কোপ মিশনে তাঁর সম্পৃক্ততা বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপের নামকরণ করা হয়েছে নাসার প্রথম প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ন্যান্সি গ্রেস রোমানের নামে। তাঁকে ‘হাবল স্পেস টেলিস্কোপের জননী’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়। নতুন এই টেলিস্কোপের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় অজানা প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ মহাকাশ গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।
এক বছরেরও বেশি সময় মহাকাশে ভেসে থাকার পর অবশেষে চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়েছে মার্কিন মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন ৯’ রকেটের একটি ওপরের ধাপ (আপার স্টেজ)। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই সংঘর্ষের ফলে চাঁদের পৃষ্ঠে একটি নতুন গর্ত বা ক্রেটার তৈরি হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ ধূলিকণা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৪ হাজার কেজি ওজনের রকেটের অংশটি ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল বেগে চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত হানে। এই গতি শব্দের গতির প্রায় সাত গুণ। বিজ্ঞানীদের হিসাবে, সংঘর্ষের শক্তি ছিল প্রায় তিন টন টিএনটি বিস্ফোরণের সমতুল্য। রকেটটির উৎক্ষেপণ হয় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে। এর মাধ্যমে দুটি চন্দ্রযান (লুনার ল্যান্ডার) নির্ধারিত কক্ষপথে পাঠানো হয়। মিশন সফলভাবে শেষ হওয়ার পর রকেটের নিচের অংশ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে এসে ধ্বংস হলেও ওপরের অংশটি মহাকাশেই থেকে যায়। স্পেসএক্সের কর্মকর্তা জুলিয়ানা শেইম্যান জানান, সৌর সক্রিয়তা এবং চাঁদ ও পৃথিবীর মহাকর্ষীয় বলের প্রভাবে রকেটটির গতিপথ ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়। শেষ পর্যন্ত সেটি চাঁদের দিকে ধাবিত হয়ে উচ্চগতিতে আঘাত হানে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এই সংঘর্ষে চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ লাখ কেজি ধূলিকণা ও শিলাখণ্ড ছিটকে বের হয়েছে। এসব ধূলিকণা ও ধ্বংসাবশেষ প্রায় ১১৪ মাইল এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, এই ঘটনায় পৃথিবীর জন্য কোনো ধরনের ঝুঁকি বা ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবে সংঘর্ষের প্রকৃত প্রভাব মূল্যায়নে নাসার ‘লুনার রিকনেসান্স অরবিটার’ (Lunar Reconnaissance Orbiter) আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ঘটনাস্থলের উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি সংগ্রহ করবে। এসব ছবি বিশ্লেষণ করে নতুন সৃষ্ট ক্রেটারের আকার, গভীরতা এবং ছড়িয়ে পড়া ধূলিকণার পরিমাণ সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য জানা যাবে। বিজ্ঞানীদের মতে, ঘটনাটি যদিও পরিকল্পিত ছিল না, তবুও এটি চাঁদের ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। কোনো ভারী বস্তু চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত করলে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, কীভাবে ধূলিকণা ও শিলাখণ্ড ছড়িয়ে পড়ে এবং চাঁদের মাটির গঠন কীভাবে পরিবর্তিত হয় এসব বিষয়ে মূল্যবান তথ্য পাওয়া যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে চাঁদে মানব মিশন, স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণ এবং নতুন মহাকাশযানের নিরাপদ অবতরণের পরিকল্পনায় এ ধরনের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষও ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে দীর্ঘ ২৪১ দিন বা প্রায় আট মাস অবস্থান শেষে সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন নাসার মহাকাশচারী ক্রিস উইলিয়ামস এবং দুই রুশ নভোচারী—কমান্ডার সের্গেই কুদ-ভেরচকভ ও ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার সের্গেই মিকাভ। সয়ুজ এমএস-২৮ মহাকাশযানে চড়ে তাঁরা কক্ষপথ থেকে সফলভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে কাজাখস্তানের বিস্তৃত প্রান্তরে নিরাপদে অবতরণ করেন। এর মাধ্যমে তাঁরা মহাশূন্যে মোট ৩ হাজার ৮৫৬ বার প্রদক্ষিণ করে ১০ কোটি দুই মাইল পথ পাড়ি দেওয়ার অভিযান সম্পন্ন করলেন। রোববার ভোরে স্টেশনের রুশ রাসভিয়েত মডিউল থেকে সয়ুজ ক্যাপসুলটি আলাদা হয়ে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রার পর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। বায়ুমণ্ডলের সাথে প্রচণ্ড ঘর্ষণের পর প্যারাসুট ও ব্রেকিং রকেটের সহায়তায় কাজাখস্তানের জেজকাজগান শহরের কাছে এটি সফলভাবে মাটিতে অবতরণ করে। দীর্ঘ সময় শূন্যতায় কাটিয়ে পৃথিবীতে ফেরার পর রুশ রিকভারি টিম দ্রুত ক্যাপসুলের কাছে পৌঁছে নভোচারীদের বাইরে নিয়ে আসেন এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রিক্লাইনারে বসান। এ সময় তাঁদের পরিবারের সাথে স্যাটেলাইট ফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয় এবং ঐতিহ্যবাহী রুশ মাত্রিয়োস্কা ডল উপহার দেওয়া হয়। অভিযান সফলভাবে সমাপ্ত করার পর ক্রিস উইলিয়ামস ও সের্গেই মিকাভ তাঁদের জীবনের প্রথম মহাকাশযাত্রা শেষ করলেন। অন্যদিকে, অভিজ্ঞ নভোচারী সের্গেই কুদ-ভেরচকভ তাঁর দ্বিতীয় মহাকাশ মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করলেন। মহাকাশে অবস্থানকালে ক্রিস উইলিয়ামস রোবট আর্মের জয়েন্ট মেরামত এবং নতুন সোলার প্যানেল স্থাপনের প্রস্তুতিসহ দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্পেসওয়াক সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি রুশ নভোচারীরাও স্টেশনের রুশ অংশে রক্ষণাবেক্ষণমূলক কাজ পরিচালনা করেন। পৃথিবীতে ফেরার পর প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষ করে নভোচারীদের ক্যারাগান্ডা শহরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ক্রিস উইলিয়ামস নাসার জেটে করে হুস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে এবং দুই রুশ নভোচারী মস্কোর নিকটবর্তী স্টার সিটির উদ্দেশ্যে রওনা হন। ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নতুন ক্রুরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে নতুন মিশন পরিচালনার জন্য সম্প্রতি সয়ুজ এমএস-২৯ যানে করে অন্য নভোচারীরা সেখানে পৌঁছান।
চাঁদ ও মঙ্গলে ভবিষ্যতের মানব অভিযানের প্রস্তুতি জোরদার করতে এক বছরব্যাপী বিশেষ গবেষণা কর্মসূচির জন্য স্বেচ্ছাসেবক খুঁজছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে অবস্থিত জনসন স্পেস সেন্টারে পৃথিবীতেই তৈরি করা চাঁদ ও মঙ্গলের মতো পরিবেশে এক বছর বসবাস ও কাজ করবেন। নাসা জানিয়েছে, এই কর্মসূচির নাম ‘মুন অ্যান্ড মার্স এক্সপ্লোরেশন অ্যানালগ’। এটি ২০২৭ সালের আগস্টের আগে শুরু হবে না। গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানে বিচ্ছিন্ন পরিবেশে মানুষের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা, কর্মদক্ষতা এবং বিভিন্ন প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা। এ তথ্য ভবিষ্যতে আর্টেমিস কর্মসূচি এবং মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনায় কাজে লাগানো হবে। মিশনে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের দুটি বিশেষ আবাসে থাকতে হবে। প্রথম ধাপে তারা প্রায় ১০ মাস একটি সীমিত আয়তনের মহাকাশযানসদৃশ পরিবেশে বসবাস করবেন। এরপর আরও প্রায় দুই মাস মঙ্গলের আবাসস্থলের আদলে তৈরি আরেকটি স্থাপনায় অবস্থান করবেন। পুরো সময় চারজনের একটি দল একসঙ্গে বসবাস ও কাজ করবে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগও থাকবে সীমিত, যাতে বাস্তব মহাকাশ অভিযানের অভিজ্ঞতা যতটা সম্ভব অনুকরণ করা যায়। এই সময় অংশগ্রহণকারীরা মহাকাশচারীদের মতো নানা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে থাকবে কৃত্রিম চন্দ্র ও মঙ্গলপৃষ্ঠে হাঁটার অনুশীলন, রোভার পরিচালনা, আবাসস্থলের রক্ষণাবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করা। গবেষকেরা পুরো সময়জুড়ে তাদের স্বাস্থ্য, মানসিক অবস্থা এবং কর্মক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করবেন। নাসার তথ্যমতে, আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট শিক্ষাগত ও শারীরিক যোগ্যতা থাকতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন পরিবেশে কাজ করার মানসিক প্রস্তুতি এবং মহাকাশ গবেষণায় অবদান রাখার আগ্রহ থাকতে হবে। নির্বাচিতদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার বিভিন্ন পরীক্ষাও পাস করতে হবে। এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা পারিশ্রমিকও পাবেন। যদিও নাসা নির্দিষ্ট অর্থের পরিমাণ প্রকাশ করেনি, সংস্থাটি এটিকে বেতনভিত্তিক গবেষণা কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীতে পরিচালিত এ ধরনের সিমুলেশন ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণ এবং প্রথম মানববাহী মঙ্গল অভিযানের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন পরিবেশে মানুষের আচরণ, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তির কার্যকারিতা সম্পর্কে পাওয়া তথ্য ভবিষ্যতের গভীর মহাকাশ অভিযানের পরিকল্পনা আরও নিরাপদ ও কার্যকর করতে সহায়তা করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন ব্যবস্থায় ১ জুলাই থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। নতুন নিয়মে ঋণ পরিশোধের পদ্ধতি, নতুন ঋণ গ্রহণের সুযোগ এবং কিছু ঋণের সীমায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে বর্তমানে যারা ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন ব্যবহার করছেন এবং ভবিষ্যতে যারা ঋণ নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের ওপর এ পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে। মার্কিন শিক্ষা বিভাগ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা অফিস এবং জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু হওয়া SAVE (Saving on a Valuable Education) ঋণ পরিশোধ কর্মসূচিকে ঘিরে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, SAVE কর্মসূচি আর আগের মতো চালু থাকছে না। বর্তমানে এ কর্মসূচিতে নিবন্ধিত ঋণগ্রহীতাদের অন্য একটি অনুমোদিত পরিশোধ পরিকল্পনায় যেতে হবে। শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাদের এ বিষয়ে ধাপে ধাপে নোটিশ পাঠানো হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন পরিকল্পনা নির্বাচন করতে হবে। তা না হলে অনেক ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য একটি পরিশোধ ব্যবস্থায় স্থানান্তর করা হতে পারে, যেখানে মাসিক কিস্তির পরিমাণ আগের তুলনায় বেশি হতে পারে। একই সঙ্গে ১ জুলাই থেকে নতুন ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন গ্রহণকারীদের জন্যও নতুন কাঠামো চালু হয়েছে। নতুন ঋণগ্রহীতাদের জন্য প্রধান দুটি পরিশোধ পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। এর একটি আয়ভিত্তিক পরিশোধ পরিকল্পনা, যেখানে ঋণগ্রহীতার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাসিক কিস্তি নির্ধারণ করা হবে। অন্যটি নির্দিষ্ট সময়সূচিভিত্তিক পরিশোধ পরিকল্পনা, যেখানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। নতুন নিয়মে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য Graduate PLUS Loan কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি Parent PLUS Loan-এর ক্ষেত্রেও ঋণের সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আগের তুলনায় কিছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের জন্য ফেডারেল ঋণ গ্রহণের সুযোগ সীমিত হতে পারে। অন্যদিকে, শিক্ষা বিভাগ সময়মতো ঋণ পরিশোধে উৎসাহ দিতে স্বয়ংক্রিয় কিস্তি পরিশোধ (AutoPay) ব্যবহারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুদ ছাড়ের সুবিধাও ঘোষণা করেছে। এ সুবিধা গ্রহণ করলে যোগ্য ঋণগ্রহীতারা সুদের হারে অতিরিক্ত ছাড় পেতে পারেন। উচ্চশিক্ষা–সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নিয়মের ফলে অনেক শিক্ষার্থীর মাসিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। তাই বর্তমানে যাদের ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন রয়েছে, তাদের নিজ নিজ লোন সার্ভিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোন পরিশোধ পরিকল্পনা তাদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী হবে, তা দ্রুত যাচাই করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এবং যেসব পরিবার সন্তানদের উচ্চশিক্ষার জন্য ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের ওপর নির্ভর করেন, তাদের জন্যও এ পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগে ঋণের নতুন নিয়ম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ বা জটিলতা এড়ানো সহজ হবে। মার্কিন শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী কয়েক মাসে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাদের পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন নির্দেশনা ও পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে জানানো হবে। তাই যাদের ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন রয়েছে, তাদের শিক্ষা বিভাগের নোটিশ এবং নিজ নিজ লোন সার্ভিসারের বার্তাগুলো নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনা এবার মাঠের সীমানা ছাড়িয়ে সরাসরি মহাকাশে পৌঁছে গেছে। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র যদি চলতি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, তবে তাদের ব্যবহৃত একটি অফিশিয়াল ফুটবল চাঁদে পাঠাবে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ফরাসি ক্রীড়া সাময়িকী ‘এল’একিপ’ ও বার্তা সংস্থা এএফপির এক যৌথ প্রতিবেদনে এই রোমাঞ্চকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মঙ্গলবার এক জমকালো অনুষ্ঠানে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন নাসার বর্তমান প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান। মার্কিন ফুটবল দলের প্রতি বিশেষ সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমেরিকান দল, তোমরা এবার এটা করে দেখাও!’ আইজ্যাকম্যানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র শিরোপা জিতলে সেই স্মরণীয় জয়কে অমর করে রাখতে নাসার আগামী কোনো রোবটিক চন্দ্রাভিযানে ফুটবলটি চাঁদের মাটিতে পাঠানো হবে। নাসার চন্দ্রাভিযান প্রকল্পের ব্যবস্থাপক কার্লোস গার্সিয়া-গালান এই অভিযানের কারিগরি দিক নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, প্রযুক্তিগতভাবে এই লক্ষ্য পূরণ করা নাসার জন্য মোটেও কঠিন কিছু নয়। ফুটবলটি ওজনে খুবই হালকা হওয়ায় মহাকাশযানের ভলিউম বা জায়গা নিয়ে কোনো সমস্যা তৈরি হবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির সাথে ফুটবলটি পাঠানোর সব প্রস্তুতি রয়েছে, এখন পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে মাঠের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ওপর। মহাকাশের সাথে ফুটবল বিশ্বকাপের যুক্ত হওয়ার ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল প্রচারণার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) একটি অফিশিয়াল ফুটবল পাঠিয়েছিল নাসা। তবে এবার মহাকাশ স্টেশন ছাড়িয়ে সেই ফুটবলকে সরাসরি চাঁদের ধূলিকণায় ছুঁইয়ে দেওয়ার এক অভিনব স্বপ্ন দেখছে মার্কিন এই মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি। নাসার এই বড় ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই মার্কিন ফুটবল দলের ওপর প্রত্যাশা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। তবে মাঠের বাইরে মহাকাশীয় আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়রা এখন পুরোপুরি মাঠের লড়াইয়ে মনোযোগী। চলতি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র আগামীকাল ভোর ৬টায় রাউন্ড অব ৩২-এর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বসনিয়ার মুখোমুখি হবে।
মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নাসা তাদের পরবর্তী ফ্ল্যাগশিপ মহাকাশ টেলিস্কোপ 'ন্যান্সি গ্রেস রোমান'-এর মূল কাঠামো তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছে। ২০২৬ সালের মধ্যে এটি মহাকাশে উৎক্ষেপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। হাবলের উত্তরসূরি, জেমস ওয়েবের সঙ্গী নাসার এই নতুন টেলিস্কোপটিকে বিখ্যাত বিজ্ঞানী এবং 'মাদার অফ হাবল' খ্যাত ন্যান্সি গ্রেস রোমানের নামে নামকরণ করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটি বিখ্যাত হাবল টেলিস্কোপের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি এলাকা একবারে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। যেখানে হাবল টেলিস্কোপের কোনো নির্দিষ্ট এলাকার ছবি তুলতে বছরের পর বছর সময় লাগত, সেখানে 'রোমান' সেই কাজ সম্পন্ন করবে মাত্র কয়েক দিনে। সহজ কথায়, এটি হাবলের চেয়ে ১০০০ গুণ দ্রুতগতিতে মহাকাশের মানচিত্র তৈরি করতে সক্ষম। ন্যান্সি গ্রেস রোমান টেলিস্কোপের মূল লক্ষ্য হলো মহাবিশ্বের রহস্যময় 'ডার্ক এনার্জি' এবং 'ডার্ক ম্যাটার' নিয়ে গবেষণা করা। এর ৩০০ মেগাপিক্সেলের শক্তিশালী ক্যামেরা কোটি কোটি গ্যালাক্সির প্যানোরামিক ছবি তুলবে, যা মহাবিশ্বের প্রসারণ এবং বিবর্তন বুঝতে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করবে। এছাড়া আমাদের সৌরজগতের বাইরে হাজার হাজার নতুন গ্রহ বা 'এক্সোপ্ল্যানেট' খুঁজে বের করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারিগরি উৎকর্ষ মেরিল্যান্ডের গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে এই টেলিস্কোপটির সংযোজন সম্পন্ন হয়েছে। এর আয়নাটি হাবলের মতোই ২.৪ মিটার চওড়া হলেও, এর প্রযুক্তিগত ক্ষমতা অনেক গুণ বেশি। এটি মহাকাশের এমন গভীর এবং প্রশস্ত ছবি তুলবে যা আগে কখনো সম্ভব হয়নি। নাসার প্রকল্প বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ যেখানে মহাবিশ্বের গভীরে সুনির্দিষ্ট কোনো বস্তুর ওপর ফোকাস করে, সেখানে রোমান টেলিস্কোপ পুরো আকাশজুড়ে এক বিশাল মানচিত্র তৈরি করবে। এই দুই টেলিস্কোপের যৌথ তথ্য মহাকাশ গবেষণায় নতুন বিপ্লব নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
লাল গ্রহ মঙ্গলে এক সময় কি সত্যিই নীল জলরাশি বয়ে চলত? এই প্রশ্ন দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমন এক জোরালো প্রমাণ পেয়েছেন, যা এই সম্ভাবনাকে প্রায় নিশ্চিত করে তুলেছে। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলের উত্তর গোলার্ধে এক বিশাল প্রাচীন সমুদ্রের উপকূলীয় স্তর বা 'কোস্টাল শেলফ' (Coastal Shelf) খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (ক্যালটেক) এবং ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস অ্যাট অস্টিন-এর গবেষকদের মতে, কয়েকশ কোটি বছর আগে মঙ্গলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা সমুদ্রের নিচে ছিল। এই সমুদ্রটি ছিল অনেকটা পৃথিবীর মহাদেশীয় সোপানের (Continental Shelf) মতো। গবেষক দলের প্রধান আবদুল্লাহ জাকি জানান, তারা নাসার ‘মার্স অরবিটার লেজার অল্টিমিটার’ (MOLA) থেকে প্রাপ্ত ডেটা ব্যবহার করে মঙ্গলের ভূ-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করেছেন। সেখানে তারা এমন এক সমতল ভূমি বা উপকূলীয় ধাপের সন্ধান পেয়েছেন, যা কেবল দীর্ঘস্থায়ী এবং বিশাল কোনো সমুদ্রের ঢেউ ও পলির মাধ্যমেই সৃষ্টি হওয়া সম্ভব। একে বিজ্ঞানীরা বর্ণনা করছেন অনেকটা 'বাথটাব রিং'-এর মতো—যেমন বাথটাবের জল কমে গেলে দেয়ালে একটি দাগ থেকে যায়, ঠিক তেমনি মঙ্গলের বুকে এই চিহ্নটি প্রাচীন সমুদ্রের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এই উপকূলীয় স্তরটি প্রায় ৬৬০ থেকে ১৩০০ ফুট চওড়া। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, মঙ্গলের এই সমুদ্রটি কেবল অল্প সময়ের জন্য ছিল না, বরং কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে স্থিতিশীল ছিল। নদীগুলো যখন সমুদ্রে এসে পড়ত, তখন তারা প্রচুর পলি ও কাদা বহন করে নিয়ে আসত, যা কালক্রমে এই শেলফ তৈরি করেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই আবিষ্কার কেবল মঙ্গলের ইতিহাস নয়, বরং সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনাকেও আরও জোরালো করে তুলল। যদি সেখানে দীর্ঘকাল সমুদ্র থেকে থাকে, তবে সেখানে অণুজীব বা অন্য কোনো প্রাণের বিবর্তন ঘটাও অসম্ভব নয়। ২০৩০ সালে মঙ্গলে অবতরণ করতে যাওয়া ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির ‘রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন’ রোভারটি এই অঞ্চলে প্রাণের সন্ধান চালাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চাঁদে মানুষের উপস্থিতি পুনরায় জোরদার করতে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ কর্মসূচি। ‘আর্টেমিস ২’ মিশনের সফলতার পর এবার ২০২৭ সালে ‘আর্টেমিস ৩’ অভিযানের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, যার মাধ্যমে চাঁদের মাটিতে অবতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজে অবস্থান করে নাসার প্রশাসক Jared Isaacman ‘আর্টেমিস ২’ মিশনকে সফল ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, এই অর্জন শুধু একটি সংস্থার নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক। মিশনের নভোচারীদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে তিনি জানান, এই অভিযানের মাধ্যমে চাঁদে যাওয়া ও নিরাপদে ফিরে আসার সক্ষমতা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। এটি ভবিষ্যতের আরও বড় লক্ষ্য অর্জনের ভিত্তি তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, এখন লক্ষ্য হচ্ছে নিয়মিতভাবে চাঁদে নভোচারী পাঠানো এবং নিরাপদে ফিরিয়ে আনা। এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে ২০২৭ সালে ‘আর্টেমিস ৩’ উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের পৃষ্ঠে একটি স্থায়ী ঘাঁটি গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মহাকাশ গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। নাসা মনে করছে, এই কর্মসূচি শুধু চাঁদে সীমাবদ্ধ থাকবে না; ভবিষ্যতে আরও দূর মহাকাশ অভিযানের পথও সুগম করবে।
দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী পর মানুষের চন্দ্রাভিযানের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনার পথে নাসা। ১০ দিনের সফল মিশন শেষে আজ শুক্রবার পৃথিবীর বুকে ফিরে আসছেন 'আর্তেমিস-২' (Artemis II) মিশনের চার মহাকাশচারী। সবকিছু ঠিক থাকলে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে তাদের বহনকারী ওরিয়ন ক্যাপসুলটি অবতরণ (Splashdown) করবে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, মহাকাশচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন তাদের 'ইন্টিগ্রিটি' নামক ওরিয়ন ক্যাপসুলে চড়ে ঘণ্টায় প্রায় ২৫,০০০ মাইল বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবেন। বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় ঘর্ষণের ফলে ক্যাপসুলটির বাইরের তাপমাত্রা প্রায় ৫,০০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (২,৭৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অবতরণের ঠিক আগে প্রায় ছয় মিনিটের একটি 'রেডিও ব্ল্যাকআউট' বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সময় পার করতে হবে তাদের। এরপর বিশালকার প্যারাশুটের মাধ্যমে গতি কমিয়ে সান ডিয়েগো উপকূলের কাছে সমুদ্রে আছড়ে পড়বে ক্যাপসুলটি। গত ১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে যাত্রা শুরু করেছিল আর্তেমিস-২। এই মিশনে মহাকাশচারীরা চাঁদের অন্ধকার দিক (Far side) প্রদক্ষিণ করেছেন এবং মানুষ হিসেবে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে যাওয়ার নতুন রেকর্ড গড়েছেন। তারা পৃথিবী থেকে প্রায় ২,৫২,৭৫৬ মাইল দূরে পৌঁছেছিলেন, যা ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মিশনের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। এই মিশনটি বেশ কিছু কারণে ঐতিহাসিক। ভিক্টর গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি, ক্রিস্টিনা কচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে চাঁদের কক্ষপথে ভ্রমণের গৌরব অর্জন করেছেন। আর্তেমিস-২ মূলত নাসার একটি পরীক্ষামূলক মিশন। এর সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই চলতি দশকের শেষের দিকে আর্তেমিস-৩ মিশনের মাধ্যমে চাঁদের মাটিতে পুনরায় মানুষ নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে নাসার। দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হিসেবে চাঁদকে একটি ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি। মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ 'ইউএসএস জন পি. মার্থা' ইতিমধ্যে সমুদ্রের নির্ধারিত স্থানে অবস্থান করছে ওরিয়ন ক্যাপসুল ও মহাকাশচারীদের উদ্ধার করার জন্য। সারা বিশ্বের বিজ্ঞানপ্রেমীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই চার বীরের নিরাপদে ঘরে ফেরার।
৫৬ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে মহাকাশ জয়ের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল নাসা। সোমবার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৭১ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে অ্যাপোলো-১৩ মিশনের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। এর আগে কোনো মানুষ পৃথিবী থেকে এত দূরে ভ্রমণ করেনি। বুধবার চাঁদের কক্ষপথ থেকে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নভোচারীরা তাদের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা জানান। মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং জেরেমি হ্যানসেন বর্তমানে ওরিয়ন ক্যাপসুলে চড়ে ঘণ্টায় প্রায় ৩৮ হাজার কিলোমিটারের বেশি গতিতে পৃথিবীর দিকে ধাবিত হচ্ছেন। ফেরার পথে তারা চাঁদের অন্ধকার দিক (ফার সাইড) এবং একটি বিরল সূর্যগ্রহণও প্রত্যক্ষ করেছেন। নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন জানান, খালি চোখে চাঁদের পৃষ্ঠ দেখা ছিল এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। এই মিশনের সফলতার ওপর ভিত্তি করেই ২০২৮ সালে মানুষকে পুনরায় চাঁদের বুকে নামানোর পরিকল্পনা করছে নাসা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী শুক্রবার রাতে ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে তাদের এই ওরিয়ন ক্যাপসুল।
মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে পৃথিবীর দিকে ফিরতে শুরু করেছে নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের ওরিয়ন মহাকাশযান। দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ শেষে চার নভোচারী এখন তাঁদের ১০ দিনের এই রোমাঞ্চকর অভিযানের শেষ ধাপে রয়েছেন। গতকালের (৬ এপ্রিল) ঐতিহাসিক 'লুনার ফ্লাইবাই' বা চাঁদের খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়ার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার পর আজ সপ্তম দিনে নভোচারীরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) থাকা সহকর্মীদের সাথে একটি দীর্ঘ দূরত্বের অডিও কলে যুক্ত হন। প্রায় ১৫ মিনিটের এই কথোপকথনে তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেন। এই অভিযানে নভোচারীরা অ্যাপোলো-১৩-এর গড়া পূর্বের রেকর্ড ভেঙে পৃথিবী থেকে সর্বাধিক দূরত্ব (প্রায় ২,৫২,৭৫৬ মাইল) অতিক্রম করার এক নতুন বিশ্বরেকর্ড স্থাপন করেছেন। ওরিয়ন মহাকাশযানটি চাঁদের উল্টো পিঠ (Far Side) দিয়ে যাওয়ার সময় মহাজাগতিক এক বিরল সূর্যগ্রহণও প্রত্যক্ষ করেছে, যা পৃথিবীর বুক থেকে দেখা অসম্ভব। মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ ও পাইলট ভিক্টর গ্লোভার চাঁদের পৃষ্ঠের অসাধারণ সব খানাখন্দ (Craters) এবং ধুলোবালির স্তরের বর্ণনা দিয়েছেন। ক্রিস্টিনা কোচ বলেন, "চাঁদের এই দৃশ্য দেখে আমি অভিভূত। এটি এতটাই বাস্তব মনে হচ্ছিল যে মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল আমি চাঁদের মাটির খুব কাছে দাঁড়িয়ে আছি।" নভোচারীরা তাঁদের ওরিয়ন ক্যাপসুলের জানালার কাছ থেকে হাই-রেজোলিউশন ক্যামেরা দিয়ে অসংখ্য ছবি তুলেছেন, যা ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী বসতি স্থাপনে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করবে। নাসা জানিয়েছে, ওরিয়ন এখন চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কাটিয়ে পৃথিবীর পথে যাত্রা শুরু করেছে। আজ রাতে মহাকাশযানের থ্রাস্টারগুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চালু করার মাধ্যমে এর গতিপথ সংশোধন করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১০ এপ্রিল (শুক্রবার) যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি অবতরণ করবে। এই অভিযানে আছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। ২০২৬ সালের এই সফল মিশনটি মূলত আগামী বছরের আর্টেমিস-৩ মিশনের প্রস্তুতি, যার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কোনো নারী এবং একজন কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী চাঁদের মাটিতে পা রাখবেন। তথ্যসূত্র: নাসা অফিশিয়াল ব্লগ।
মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় সূচিত হলো। দীর্ঘ ৫৬ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে পৃথিবী থেকে দূরতম পথ পাড়ি দিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে নাসার ‘আর্টেমিস ২’ মিশন। সোমবার (৬ এপ্রিল, ২০২৬) চার নভোচারীবাহী এই মহাকাশযানটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৭৩ কিলোমিটার দূরে পৌঁছে মানব ইতিহাসের নতুন রেকর্ড গড়েছে। এর আগে ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো ১৩ মিশনের নভোচারীরা পৃথিবী থেকে ৪ লাখ ১৭১ কিলোমিটার দূরে গিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। আর্টেমিস ২ সেই সীমানাকে আরও ৬ হাজার ৬০০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে। ওরিয়ন ক্যাপসুলে থাকা তিন আমেরিকান এবং এক কানাডীয় নভোচারী বর্তমানে চাঁদের অন্ধকার দিক (ফার সাইড) প্রদক্ষিণ করছেন। এই যাত্রায় তারা প্রথমবারের মতো খালি চোখে চাঁদের এমন কিছু দৃশ্য দেখছেন যা এর আগে কোনো মানুষ সরাসরি দেখার সুযোগ পায়নি। চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে ব্যবহার করে ‘ফ্রি-রিটার্ন ট্রাজেক্টরি’ পদ্ধতিতে মহাকাশযানটি এখন পৃথিবীর পথে ফিরে আসবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী শুক্রবার প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণের মাধ্যমে ১০ দিনের এই ঐতিহাসিক মিশনের সমাপ্তি ঘটবে। এই মিশনের সাফল্য ২০২৮ সালে চাঁদে পুনরায় মানুষের অবতরণ এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযানের পথ আরও প্রশস্ত করবে।
চাঁদে পরিচালিত অভিযানের অংশ হিসেবে পৃথিবীর এশিয়া, আফ্রিকা ও ওশেনিয়া অঞ্চলের ছবি তোলার পরিকল্পনা করছে নাসা। সংস্থাটি জানিয়েছে, অভিযানে থাকা নভোচারীরা চাঁদ থেকে পৃথিবীর বিরল দৃশ্য ধারণ করবেন। নাসার বিজ্ঞান কর্মকর্তা কেলসি ইয়ং বলেন, ‘আর্থসেট’ ও ‘আর্থরাইজ’ পর্যায়ে নভোচারীরা পৃথিবীর যে অংশ দেখতে পাবেন, সেখানে সরাসরি এশিয়া, আফ্রিকা ও ওশেনিয়া অঞ্চল দৃশ্যমান থাকবে। এ সময় পৃথিবীর মানুষের উদ্দেশে প্রতীকীভাবে ‘হাত নেড়ে শুভেচ্ছা’ জানানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এর আগে অভিযানের কিউরেশন লিড জুলিয়ান গ্রস জানান, চাঁদের বিভিন্ন ভৌগোলিক গঠন কাছ থেকে পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবেন নভোচারীরা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো অ্যারিস্টার্কাস মালভূমি, গ্রিমাল্ডি এবং ওশেনাস প্রোসেলারাম অঞ্চল। নাসা জানিয়েছে, এই মিশনের মাধ্যমে চাঁদ ও পৃথিবীর বিরল এবং গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য ধারণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ মহাকাশ গবেষণায় নতুন তথ্য যোগ করবে। ইতিমধ্যে আর্টেমিস টু মিশনের নভোচারীরা চাঁদের ‘ফার সাইড’ বা দূরবর্তী অংশ প্রদক্ষিণ শুরু করেছেন। এই অংশটি পৃথিবী থেকে সরাসরি দেখা যায় না এবং মানুষের জন্য এটি এখনো অনেকটাই অজানা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মিশন মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
প্রায় পাঁচ দশক পর মানুষকে পুনরায় চাঁদের কক্ষপথে ফিরিয়ে নিতে কাজ করছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)। কিন্তু এই ঐতিহাসিক অভিযানের প্রস্তুতির মাঝেই দেখা দিয়েছে এক অস্বস্তিকর বিপত্তি। আর্টেমিস-২ (Artemis II) মিশনের জন্য ব্যবহৃত মহাকাশযানে টয়লেট বা শৌচাগার নিয়ে বড় ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন নভোচারীরা। টয়লেটের ফ্ল্যাশ ঠিকমতো কাজ না করায় মহাকাশযান জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে উৎকট দুর্গন্ধ, যা নভোচারীদের স্বাভাবিক কাজের পরিবেশে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর অনুযায়ী, আর্টেমিস-২ মিশনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নভোচারীরা যখন বিভিন্ন যান্ত্রিক পরীক্ষা চালাচ্ছেন, তখনই ওরিয়ন (Orion) ক্যাপসুলের টয়লেট সিস্টেমে ত্রুটি ধরা পড়ে। নভোচারীরা অভিযোগ করেছেন যে, মূত্র ত্যাগের পর ফ্ল্যাশ করার সময় তরল বর্জ্য ঠিকমতো নিষ্কাশিত হচ্ছে না। ফলে সেই বর্জ্য থেকে মহাকাশযানের ভেতরে তীব্র ও অস্বস্তিকর গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। শূন্য মাধ্যাকর্ষণ বা জিরো গ্র্যাভিটিতে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। আর্টেমিস-২ মিশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে প্রথমবারের মতো চারজন নভোচারী চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসার কথা রয়েছে। প্রায় ১০ দিনের দীর্ঘ এই যাত্রায় নভোচারীদের সুস্থতা এবং স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখা অপরিহার্য। কিন্তু টয়লেট বা ‘ইউনিভার্সাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (UWMS) যদি সঠিকভাবে কাজ না করে, তবে দীর্ঘ যাত্রায় নভোচারীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন। কারিগরি জটিলতা: মহাকাশ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মহাকাশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য উন্নত মানের পাখা ও এয়ার ফিল্টার ব্যবহার করা হয়। আর্টেমিস-২ এর ক্ষেত্রে ধারণা করা হচ্ছে, ফ্ল্যাশ সিস্টেমের প্রেশার বা বায়ু চলাচলের পথে কোনো যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিয়েছে। যার ফলে বাতাস পরিশোধিত হওয়ার বদলে দুর্গন্ধ ভেতরেই আটকে থাকছে। পূর্বের অভিজ্ঞতা: মহাকাশে টয়লেট সমস্যা নাসার জন্য নতুন নয়। এর আগেও স্পেস-এক্স (SpaceX) এর ড্রাগন ক্যাপসুলেও একবার একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছিল, যার ফলে নভোচারীদের ডায়াপার ব্যবহার করতে বাধ্য হতে হয়েছিল। নাসার প্রকৌশলীরা বর্তমানে এই ত্রুটি সারিয়ে তোলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ আর্টেমিস-২ মিশনের যাত্রা শুরুর কথা রয়েছে। তার আগেই এই ‘গন্ধময়’ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে না পারলে অভিযানের সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নভোচারীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি তাদের মানবিক প্রয়োজনগুলো নিশ্চিত করাই এখন নাসার প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।