বারাক ওবামা

বারাক ওবামা ও তার মেয়ে I ছবি: সংগৃহীত
কন্যা মালিয়ার জন্মদিনে বারাক ওবামার আবেগঘন শুভেচ্ছা, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল বাবা-মেয়ের ছবি

বারাক ওবামার আবেগঘন শুভেচ্ছা, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল বাবা-মেয়ের ছবিআমেরিকা বাংলা ডেস্ক: বড় মেয়ে মালিয়া ওবামার জন্মদিন উপলক্ষে আবেগঘন শুভেচ্ছাবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। শৈশবের একটি স্মৃতি আর বর্তমান সময়ের একটি আন্তরিক ছবি শেয়ার করে তিনি কন্যার প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেছেন। পোস্টটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।   নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ওবামা লেখেন, “শুভ জন্মদিন, মালিয়া! সময় কোথায় চলে যায় বুঝতেই পারি না। কিন্তু তোমাকে মেয়ে হিসেবে পাওয়ার আনন্দ কখনো পুরোনো হয় না।”   ওবামার শেয়ার করা প্রথম ছবিতে দেখা যায়, ছোট্ট মালিয়াকে কোলে নিয়ে বই পড়ে শোনাচ্ছেন তিনি। আরেকটি সাম্প্রতিক ছবিতে বাবা-মেয়ের উষ্ণ মুহূর্ত ধরা পড়েছে, যেখানে মালিয়া স্নেহভরে বাবাকে জড়িয়ে ধরেছেন। দুটি ছবি একসঙ্গে প্রকাশ করে ওবামা যেন মেয়ের বেড়ে ওঠার দীর্ঘ পথচলার স্মৃতিই তুলে ধরেছেন।   পোস্টটি প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই লাখো মানুষ এতে প্রতিক্রিয়া জানান। হাজার হাজার ব্যবহারকারী মন্তব্য করে মালিয়াকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান এবং বাবা-মেয়ের আন্তরিক সম্পর্কের প্রশংসা করেন। অনেকেই ছবিগুলোকে পারিবারিক ভালোবাসা ও বন্ধনের অনন্য প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন।   মালিয়া ওবামা ১৯৯৮ সালের ৪ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বারাক ও মিশেল ওবামার বড় মেয়ে। হোয়াইট হাউসে বেড়ে ওঠা মালিয়া পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতে চিত্রনাট্যকার হিসেবে কাজ শুরু করেন।   বিশেষ দিনগুলোতে পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে ব্যক্তিগত বার্তা ও ছবি প্রকাশ করা বারাক ওবামার দীর্ঘদিনের একটি রীতি। এবারও কন্যার জন্মদিনে তার আবেগঘন শুভেচ্ছা ও বাবা-মেয়ের দুটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৪, ২০২৬ ১৪:০
প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং শিকাগোর বর্তমান মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন | ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প টাওয়ারের সামনের রাস্তার নাম ওবামার নামে করার জোর প্রস্তুতি

শিকাগোর ট্রাম্প টাওয়ারের সামনের রাস্তার নাম পরিবর্তন করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নামে নামকরণের একটি প্রস্তাবের প্রতি জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন শহরটির মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন। এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি বাধা বা নিয়ম পরিবর্তনের জন্য তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছেন। চলতি সপ্তাহে এক বিবৃতিতে শিকাগোর মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন বলেন, প্রেসিডেন্ট ওবামার ব্যতিক্রমী ও অনন্য নেতৃত্বের বিষয়ে কোনো ধরনের বিতর্কের অবকাশ নেই। এই বিশেষ সম্মাননা প্রদানের লক্ষ্যে জীবিত কোনো ব্যক্তির নামে রাস্তার নামকরণ না করার যে দীর্ঘদিনের নিয়ম রয়েছে, সেটি সংস্কার করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। এর ফলে ভবিষ্যতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ও বিশিষ্ট শিকাগোবাসীদেরও একই ধরনের সম্মাননা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন তিনি।   মূলত শিকাগোর অ্যালডারম্যান ব্রেন্ডন রেইলি এই নতুন অধ্যাদেশটি সিটি কাউন্সিলে উত্থাপন করেছেন। এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য হলো ওবাশ অ্যাভিনিউ নামক রাস্তাটির একটি অংশকে সম্মানসূচক 'বারাক হুসেইন ওবামা ওয়ে' হিসেবে পুনর্নামকরণ করা। এই নির্দিষ্ট রাস্তাটি সরাসরি ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে দিয়ে চলে গেছে এবং বর্তমানে এই পুরো প্রস্তাবটি পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে রয়েছে। এই পুরো পরিকল্পনাটির পেছনে কেবল শিকাগোর মেয়রের একক সমর্থন নয়, বরং এর সপক্ষে ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষের স্বাক্ষর সংবলিত একটি বিশাল আবেদনপত্র বা পিটিশন জমা পড়েছে, যা এই উদ্যোগের প্রতি সাধারণ মানুষের ব্যাপক জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়।   এই ঐতিহাসিক নামকরণের ক্ষেত্রে বর্তমানে একমাত্র মূল অন্তরায় হিসেবে দেখা দিয়েছে শিকাগো শহরের একটি প্রাচীন আইনি নিয়ম বা বিধান। এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সম্মানসূচক রাস্তার নামকরণ কেবল সেই সমস্ত ব্যক্তিদের স্মরণে করা সংরক্ষিত থাকে, যারা ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন বা আমাদের মাঝে আর বেঁচে নেই। যেহেতু বারাক ওবামা এখনো জীবিত, তাই এই আইনি জটিলতা কাটাতে মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন ইতিমধ্যে আইনটি পুরোপুরি পরিবর্তন বা সংস্কার করার বিষয়ে আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছেন।   মজার বিষয় হলো, ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন এই একই ভবনের গায়ে বিশাল আকৃতির সোনালী অক্ষরে নিজের নাম স্থায়ীভাবে খোদাই করেছিলেন, তখন এই ধরনের কোনো নিয়মের প্রসঙ্গ ওঠেনি। ট্রাম্প নিজেই অবশ্য অতীতে একই ধরনের আইনি নিয়মের মুখোমুখি হয়েছিলেন, যখন তিনি আমেরিকার কাগজের মুদ্রায় নিজের ছবি যুক্ত করার একটি ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছিলেন। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় আইন অনুযায়ীও মুদ্রায় ছবি স্থান পেতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবশ্যই প্রয়াত বা মৃত হতে হয়।   শিকাগো শহর কর্তৃপক্ষ অবশ্য বেশ কয়েক বছর আগেই ট্রাম্পের নামে থাকা সম্মানসূচক রাস্তার নামফলকটি সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করেছে। ট্রাম্পের সেই পুরনো সম্মাননা কেড়ে নেওয়ার পর এখন শহর প্রশাসন সেই একই স্থানে ওবামার নাম যুক্ত করার জন্য ব্যাপকভাবে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ওবামার মধ্যনাম 'হুসেইন' শব্দটিকে নেতিবাচক বা ব্যঙ্গাত্মক অর্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছিলেন। শিকাগো শহর কর্তৃপক্ষ এখন ট্রাম্পের সেই ব্যঙ্গকে এক প্রকার জবাব দিতেই তার মালিকানাধীন ভবনের ঠিক সামনের সাইনবোর্ডে বড় অক্ষরে 'হুসেইন' নামটি স্থায়ীভাবে ঝুলিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তাবাস্সুম জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আগের চেয়েও খারাপ: বারাক ওবামা

ইরানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ ১৫ সপ্তাহের সামরিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তার মতে, বিপুল অর্থ ব্যয়, সামরিক চাপ এবং প্রাণহানির পরও এই সংঘাত থেকে যুক্তরাষ্ট্র কোনো কৌশলগত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।   শুক্রবার (১৯ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওবামা এসব কথা বলেন। শিকাগোতে নির্মিত ওবামা প্রেসিডেনশিয়াল সেন্টারের উদ্বোধনের প্রাক্কালে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, ইরান নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেন।   ওবামা বলেন, কয়েক মাসের এই সংঘাতে শত শত কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। সামরিক বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। কিন্তু এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র যে লক্ষ্য অর্জনের কথা বলেছিল, বাস্তবে তা অর্জিত হয়নি। তার ভাষায়, “আমরা শেষ পর্যন্ত আবার সেই জায়গাতেই ফিরে এসেছি, যেখানে সংঘাত শুরুর আগে ছিলাম। বরং অনেক ক্ষেত্রে বর্তমান পরিস্থিতি আরও জটিল এবং উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।”   সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশেষভাবে সমালোচনা করেন ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ইরানের পারমাণবিক চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তের। তিনি বলেন, তার প্রশাসনের সময় ইরানের সঙ্গে হওয়া যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) চুক্তির মাধ্যমে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছিল। ওবামার দাবি, ইরান তখন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ায় পরিস্থিতি উল্টো আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং ইরান তার পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ পায়।   অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে ইরানের সঙ্গে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে, সেটিকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।   তবে কূটনৈতিক পর্যায়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক স্থগিত হওয়ায় ভবিষ্যৎ আলোচনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যেকোনো আলোচনায় তেহরানের নির্ধারিত সীমারেখা বা ‘রেড লাইন’ মেনে চলতে হবে। অন্যথায় ইরান কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।   যুদ্ধের অন্যতম বড় প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।   জ্বালানি খাতের বৃহৎ প্রতিষ্ঠান এক্সন মবিলের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট নিল চ্যাপম্যান সতর্ক করে বলেছেন, যদি কৌশলগত মজুত সংকটজনক পর্যায়ে নেমে আসে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এমন পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   সাক্ষাৎকারের শেষ অংশে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ওবামা। তিনি বলেন, দেশটিতে রাজনৈতিক বিভাজন ক্রমেই বাড়ছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা ক্ষয়ের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী রাখতে নাগরিকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জবাবদিহির আওতায় রাখা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চা করা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান নিয়ে বিতর্ক আগামী দিনগুলোতেও আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে থাকবে। ওবামার এই মন্তব্য সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ । আমেরিকা বাংলা
শিকাগোতে উদ্বোধন হলো ওবামা প্রেসিডেনশিয়াল সেন্টার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, নেতৃত্বের দর্শন এবং নাগরিক অংশগ্রহণের চেতনাকে ধারণ করে নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত ওবামা প্রেসিডেনশিয়াল সেন্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে শিকাগোতে।   শহরের ঐতিহাসিক সাউথ সাইডের জ্যাকসন পার্কে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয় এই বৃহৎ প্রকল্পের। প্রায় এক দশকের পরিকল্পনা, নকশা প্রণয়ন, তহবিল সংগ্রহ, আইনি প্রক্রিয়া ও নির্মাণকাজ শেষে বাস্তবায়িত এই সেন্টারকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও নাগরিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আজ ১৯ জুন থেকে এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।   উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, বিল ক্লিনটন ও জর্জ ডব্লিউ. বুশসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর, কংগ্রেস সদস্য, শিক্ষাবিদ, শিল্পী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং হাজারো আমন্ত্রিত অতিথি।   অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তব্যে বারাক ওবামা বলেন, “এটি কোনো স্মৃতিস্তম্ভ নয়, এটি একটি কর্মশালা। এখানে মানুষ নেতৃত্ব শিখবে, নতুন ধারণা তৈরি করবে এবং সমাজ পরিবর্তনের জন্য একসঙ্গে কাজ করবে।”   তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্র কোনো দর্শক খেলা নয়। নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া গণতন্ত্র শক্তিশালী হতে পারে না। ওবামা প্রেসিডেনশিয়াল সেন্টার সেই অংশগ্রহণের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে কাজ করবে।”   প্রচলিত প্রেসিডেনশিয়াল লাইব্রেরির ধারণা থেকে অনেকটাই ভিন্নভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে ওবামা প্রেসিডেনশিয়াল সেন্টারকে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য প্রেসিডেন্টদের লাইব্রেরি যেখানে মূলত ঐতিহাসিক নথি ও দলিল সংরক্ষণের কেন্দ্র, সেখানে ওবামা সেন্টারকে গড়ে তোলা হয়েছে একটি সক্রিয় নাগরিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে।   প্রায় ১৯ দশমিক ৩ একরজুড়ে বিস্তৃত এই ক্যাম্পাসে রয়েছে অত্যাধুনিক প্রেসিডেনশিয়াল জাদুঘর, ওবামা ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর, কমিউনিটি ও সিভিক এনগেজমেন্ট সেন্টার, পারফর্মিং আর্টসের স্থান, শিকাগো পাবলিক লাইব্রেরির একটি শাখা, শিশু ও তরুণদের জন্য শিক্ষামূলক কার্যক্রমের ব্যবস্থা, উন্মুক্ত সবুজ পার্ক এবং গবেষণা ও নেতৃত্ব উন্নয়ন কেন্দ্র।   প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি।   সেন্টারের অন্যতম আকর্ষণ চারতলা বিশিষ্ট জাদুঘর, যেখানে বারাক ও মিশেল ওবামার শৈশব, পারিবারিক জীবন, কমিউনিটি সংগঠক হিসেবে তাদের কাজ, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণা এবং হোয়াইট হাউসে ওবামার আট বছরের শাসনামলের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে।   ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিজিটাল প্রদর্শনী, মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা ও ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দর্শনার্থীরা ওবামা প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার, জলবায়ু উদ্যোগ, বৈদেশিক নীতি এবং নাগরিক অধিকার আন্দোলনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানতে পারবেন। এছাড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে ওবামার প্রেসিডেন্সির সময় ব্যবহৃত বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন, ব্যক্তিগত স্মারক, বক্তৃতার খসড়া ও নির্বাচনী প্রচারণার সামগ্রী।   ওবামা প্রেসিডেনশিয়াল সেন্টারের জন্য শিকাগোর সাউথ সাইডকে বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে ওবামা পরিবারের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক। ১৯৮০-এর দশকে কমিউনিটি সংগঠক হিসেবে বারাক ওবামার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সূচনা হয় এই এলাকায়। অন্যদিকে, মিশেল ওবামার শৈশব ও বেড়ে ওঠাও এই অঞ্চলে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই সেন্টার শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়; বরং শিকাগোর দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের একটি বড় চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। নির্মাণকাজে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। পর্যটন, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, খুচরা ব্যবসা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারের মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে আরও হাজারো নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   রাজনৈতিক বিভাজন ও সামাজিক মেরুকরণের এই সময়ে ওবামা প্রেসিডেনশিয়াল সেন্টারকে অনেকেই গণতন্ত্র, নাগরিক সম্পৃক্ততা এবং তরুণ নেতৃত্ব গড়ে তোলার একটি প্রতীকী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।   ওবামা ফাউন্ডেশনের ভাষায়, “এই সেন্টার অতীতকে স্মরণ করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে।”   উদ্বোধনী সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মশালা, বিশেষ প্রদর্শনী এবং তরুণদের অংশগ্রহণমূলক নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী দশকগুলোতে ওবামা প্রেসিডেনশিয়াল সেন্টার শুধু শিকাগোর নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও গণতান্ত্রিক চর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

Unknown জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার | ছবি: সংগৃহীত
অক্টোবর পর্যন্ত ওবামা জাদুঘরের সব টিকিট শেষ, তবে বাকি ক্যাম্পাস দেখা যাবে ফ্রিতে

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে বহুল প্রতীক্ষিত 'ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারের' জাদুঘরটি শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। তবে উদ্বোধনের আগেই আগামী অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই জাদুঘরে প্রবেশের সব টিকিট অগ্রিম বিক্রি হয়ে গেছে। টিকিট শেষ হয়ে গেলেও ৮৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই বিশাল ক্যাম্পাসের অন্যান্য অংশগুলো সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্মুক্ত থাকবে।   গত বৃহস্পতিবার জমকালো এক আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর থেকেই শিকাগোর বহু পরিবার সশরীরে এই ক্যাম্পাসটি ঘুরে দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন। ১৯ একর জায়গার ওপর নির্মিত এই প্রাঙ্গণে উদ্বোধনী সপ্তাহান্ত উপলক্ষে থাকছে নানা আয়োজন। দর্শনার্থীরা বিনামূল্যে এখানকার দৃষ্টিনন্দন বাগান এবং বিভিন্ন শিল্পকর্ম (আর্ট ইনস্টলেশন) ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন। এছাড়া মূল প্লাজায় থাকবে গান ও নাচের বিশেষ পরিবেশনা। ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকা শিকাগো পাবলিক লাইব্রেরির একটি শাখাও এই উদ্বোধনী সপ্তাহে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।   ওবামা ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, তারা আশা করছে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ দর্শনার্থী এই ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারে আসবেন। যেহেতু আগামী শরৎকাল (ফল) পর্যন্ত সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে, তাই যারা আগে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি, তাদের জাদুঘরের ভেতরে ঢুকতে অন্তত আগামী অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।   এদিকে উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে যারা এই সেন্টারে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের গণপরিবহন (সিটিএ বা মেত্রা) ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ। মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কারণে কিছু রাস্তায় যান চলাচল ও ফুটপাতে বিধিনিষেধ থাকায় ওই এলাকায় প্রচণ্ড যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তাবাস্সুম জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা | ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন-ইরান চুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেন বারাক ওবামা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া নতুন সমঝোতা চুক্তি নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতি এবং এই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নতুন এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের বাস্তবসম্মত কোনো অগ্রগতি হবে কি না, তা নিয়ে তাঁর যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।   আমেরিকান সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের ‘গুড মর্নিং আমেরিকা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ওবামা এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক ইরানের সাথে নতুন চুক্তি চূড়ান্ত করার ঘোষণা দেওয়ার ঠিক এক দিন আগে, গত শনিবার শিকাগোর ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারে এই সাক্ষাৎকারটি ধারণ করা হয়। সেখানে ওবামা বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান পরিচালনার কৌশল নিয়ে নিজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।   সাক্ষাৎকারে ওবামা স্পষ্ট করে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের আনা এই নতুন চুক্তিটি ২০১৫ সালে তাঁর নিজের প্রশাসনের করা ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তির চেয়ে খুব একটা আলাদা বা উন্নত কিছু হবে বলে মনে হয় না। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসন ইরানের সাথে একটি কার্যকর পরমাণু চুক্তি করেছিল, যা থেকে পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়।   উল্লেখ্য, আট বছর আগে বারাক ওবামার আমলে করা ওই চুক্তিটিকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে চুক্তি’ আখ্যা দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তা থেকে বের করে এনেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অথচ দীর্ঘ সংঘাতের পর ট্রাম্প প্রশাসন এখন আবার ইরানের সাথেই নতুন একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছে, যা আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে সই হওয়ার কথা রয়েছে।   সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও বোমাবর্ষণ বন্ধের আশা প্রকাশ করে সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে কূটনীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অনেক জটিল আন্তর্জাতিক সমস্যায় ডর-ভীতি বা যুদ্ধ করে সমাধান খোঁজার চেয়ে আলোচনার মাধ্যমে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব, যা যুদ্ধ এড়াতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "আমাদের এত দিনে এই শিক্ষা নেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু মনে হচ্ছে বারবার আমাদের এই একই শিক্ষা নতুন করে নিতে হচ্ছে।"   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সামরিক ও সরকারি স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের সূচনা হয়েছিল। এরপর গত ১৪ জুন ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেন যে, দুই দেশ একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে, যার অধীনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করা হবে। তবে ট্রাম্পের এই চুক্তির স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়েই এখন খোদ আমেরিকার ভেতরেই প্রশ্ন তুললেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

তাবাস্সুম জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে মুখোমুখি হচ্ছেন মামদানি–ওবামা, শিশুশিক্ষা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন শহরের মেয়র জোহরান মামদানি এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। শনিবার একটি শিশুশিক্ষা কর্মসূচিতে তাঁদের এই সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে। খবর সিএনএনের।   মেয়রের কার্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নিউইয়র্ক সিটির একটি প্রারম্ভিক শিশুশিক্ষা কেন্দ্রে শিশু ও অভিভাবকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন মামদানি। এ সময় সেখানে উপস্থিত থাকবেন ওবামাও।   এর আগে গত নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ফোনে কথা হয়েছিল দুই নেতার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেই আলোচনায় ওবামা মামদানিকে সতর্ক করে বলেন—একজন গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে তিনি কীভাবে দেশের বৃহত্তম শহর পরিচালনা করেন, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে অনেকেই। একই সঙ্গে প্রশাসনে দক্ষ জনবল নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।   ওই কথোপকথনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা ও প্রশাসন পরিচালনার বাস্তবতার পার্থক্য সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পান মামদানি। এদিকে, মেয়র হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও দুবার সরাসরি সাক্ষাৎ করেছেন মামদানি।   তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প তাঁর প্রস্তাবিত ‘পাইড-আ-তের’ কর নীতির সমালোচনা করে দাবি করেন, এই নীতির মাধ্যমে নিউইয়র্ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই কর নীতির আওতায় শহরে ৫০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির মালিকদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের প্রস্তাব রয়েছে।   ট্রাম্পের সমালোচনার বিষয়ে মামদানি বলেন, তিনি এ ধরনের অবস্থানে বিস্মিত নন এবং নীতিগত পার্থক্য থাকাটাই স্বাভাবিক।

Unknown এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

স্পেনে নতুন জীবন শুরু করে পরিবার ও কর্মজীবনের ভারসাম্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে মার্কিন দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে স্পেনে নতুন জীবন, এক বছর পর যা বলছে মার্কিন এই পরিবার

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০