সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

বাংলাদেশি অভিবাসী

৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল করেছেন নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালত। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য স্বস্তি, ট্রাম্পের ভিসা স্থগিতাদেশ বাতিল মার্কিন আদালতে

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি উদ্যোগ আদালতে বড় ধাক্কা খেয়েছে। ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার প্রশাসনিক নীতি বাতিল করে দিয়েছেন নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত। শুক্রবার, ২১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের জেলা জজ জেনেট ভার্গাস এই রায় দেন।   রায়ের ফলে আফগানিস্তান, ইরান, রাশিয়া, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়ায় জাতীয়তার ভিত্তিতে আর ওই সামগ্রিক স্থগিতাদেশ প্রয়োগ করা যাবে না। আদালত বলেছে, কেবল কোনো ব্যক্তির জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসন ভিসা আটকে দেওয়ার এই নীতি ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এই নীতি কার্যকর করেছিলেন।   জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই নীতি চালু করে। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, নির্দিষ্ট ৭৫টি দেশের সম্ভাব্য অভিবাসীদের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। সে কারণে এসব দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল।   তবে আদালত মনে করেছে, অভিবাসন ভিসার যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রত্যেক আবেদনকারীর পরিস্থিতি আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। একজন আবেদনকারী সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন কি না, তা তাঁর জাতীয়তার ভিত্তিতে একযোগে ধরে নেওয়া আইনসম্মত নয়।   জজ ভার্গাস তাঁর রায়ে বলেন, ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসন ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা কংগ্রেসের নির্ধারিত আইনি কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। আদালতের মতে, অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের অধীনে কনস্যুলার কর্মকর্তাদেরই ব্যক্তিভিত্তিকভাবে ভিসা আবেদনের যোগ্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব রয়েছে।   আদালতের সিদ্ধান্তের আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ রয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, উরুগুয়ে, বসনিয়া, আলবেনিয়া, আফগানিস্তান, ইরান, রাশিয়া ও সোমালিয়ার মতো দেশও রয়েছে।   বাংলাদেশের জন্যও এই সিদ্ধান্তটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া স্থগিতাদেশের আওতায় বাংলাদেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়াও পড়েছিল। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারভিত্তিক বা কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশিদের জন্য আদালতের রায়টি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে ভিসা পাওয়ার অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা নয়। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রচলিত অভিবাসন আইন অনুযায়ী ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করা হবে।   এই নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুটি অলাভজনক সংগঠন এবং ১১ জন ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের পরিবারের সদস্যদের ভিসা আবেদন স্থগিত বা প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। অন্যরা কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন। মামলাকারীদের মধ্যে ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক এবং আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদারও ছিল।   মামলাকারীরা আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক আনা গ্যালাঘার বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভিসা স্থগিতের কারণে আলাদা হয়ে থাকা কিছু পরিবার আবার তাদের অভিবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদারও রায়টিকে আইনের শাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছে।   অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছিল যে সম্ভাব্য অভিবাসীদের মধ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন, তাঁদের প্রবেশ সীমিত করা প্রয়োজন। পররাষ্ট্র দপ্তর এর আগে জানিয়েছিল, সরকারি সম্পদের ওপর সম্ভাব্য চাপ কমানো এবং আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করাই এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। কর্মকর্তারা এমন তথ্যও তুলে ধরেছিলেন যে নির্দিষ্ট দেশগুলোর অভিবাসী-অধ্যুষিত ৩০ শতাংশের বেশি পরিবার কোনো না কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা পেয়ে থাকে।   তবে আদালতের মূল আপত্তি ছিল, এই পরিসংখ্যান ব্যবহার করে একটি দেশের সব নাগরিককে একই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলা যায় কি না। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভিসার যোগ্যতা ব্যক্তির নিজস্ব আর্থিক অবস্থা, পারিবারিক পরিস্থিতি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করার আইনি কাঠামো রয়েছে।   এটি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আদালতের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এসেছে। এর আগে জুনে আরেকটি ফেডারেল আদালত এমন একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ আটকে দেয়, যার মাধ্যমে অভিবাসীদের আশ্রয়, কাজের অনুমতি, গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত কিছু সুবিধা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। ফলে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বাস্তবায়ন বারবার আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।   তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি, ঠিক কত দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হবে। প্রশাসন চাইলে উচ্চ আদালতে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিষয়টি আবারও উচ্চতর আদালতের বিবেচনায় যেতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের অভিবাসন নীতিতে ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন আইনি লড়াই শুরু হতে পারে।   আদালতের বর্তমান রায়ে মূলত জাতীয়তার ভিত্তিতে আরোপ করা সামগ্রিক স্থগিতাদেশ বাতিল হয়েছে। যেসব ভিসা প্রত্যাখ্যান শুধুমাত্র ওই নীতির ভিত্তিতে করা হয়েছিল, সেগুলোও পুনর্বিবেচনার আওতায় আসতে পারে। ফলে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অভিবাসনের প্রক্রিয়া আবার ব্যক্তিভিত্তিক মূল্যায়নের দিকে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংবাদসূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, ওয়াশিংটন পোস্ট, এবিসি নিউজ

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছে মার্কিন ফেডারেল আদালত। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিতের নীতি বেআইনি, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতের রায়

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছেন নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত। আজ শুক্রবার, ২১ আগস্ট, নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতের বিচারক জেনেট এ. ভার্গাস সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে রায় দেন। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পররাষ্ট্র দপ্তরের ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল করা হয়েছে।   মামলাটি কয়েকটি অভিবাসী অধিকার সংগঠন, অভিবাসী এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পক্ষ থেকে করা হয়। মামলায় পররাষ্ট্র দপ্তরের ১৪ জানুয়ারি ২০২৬-এর ঘোষণা এবং পরবর্তী নির্দেশনার মাধ্যমে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়।   ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই নীতির আওতায় বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়। আবেদনকারীরা আবেদন জমা দিতে এবং সাক্ষাৎকার দিতে পারলেও ভিসা ইস্যু করা বন্ধ রাখা হয়েছিল। মার্কিন সরকারের যুক্তি ছিল, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। বাংলাদেশও ওই ৭৫ দেশের তালিকায় রয়েছে।   শুক্রবারের রায়ে বিচারক ভার্গাস পররাষ্ট্র দপ্তরের এই সামগ্রিক নীতিকে আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে ঘোষণা করেন। আদালতের সিদ্ধান্তের মূল বিষয় হলো, শুধু কোনো দেশের নাগরিক হওয়ার কারণে একজন আবেদনকারীর অভিবাসী ভিসা আটকে রাখা যাবে না। আইনের অধীনে প্রত্যেক আবেদনকারীর পরিস্থিতি পৃথকভাবে মূল্যায়নের যে প্রক্রিয়া রয়েছে, সেটি অনুসরণ করতে হবে।   আদালত প্রশাসনিক কার্যপ্রণালি আইনের অধীনে পুরো নীতিটি বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখার মূল নীতির ওপরই সরাসরি প্রভাব পড়েছে।   মামলায় বাদীপক্ষের অন্যতম প্রধান যুক্তি ছিল, কংগ্রেসের তৈরি অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন কনস্যুলার কর্মকর্তাদের পৃথকভাবে ভিসা আবেদন যাচাই ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছে। কিন্তু ৭৫ দেশের জন্য জারি করা নীতিতে কর্মকর্তাদের সেই ব্যক্তিগত মূল্যায়নের সুযোগ কার্যত সীমিত করে দেওয়া হয়েছিল। আদালত সরকারের এই পদ্ধতিকে আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করার বিষয় হিসেবে দেখেছেন।   এর আগে একই নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে অন্য ফেডারেল আদালতেও মামলা হয়। ৩১ জুলাই ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক অ্যামিট পি. মেহতা ব্রাজিলের নাগরিক নিউটন দে মোরাউ গোমেস ও তার পরিবারের মামলায় পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছিলেন। তবে সেই রায়ে মূলত ওই পরিবারের আবেদন ব্যক্তিগতভাবে পুনরায় মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ৭৫ দেশের পুরো নীতি বাতিল করা হয়নি।   আজকের নিউইয়র্কের রায়টি সে কারণে আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। এটি শুধু একজন বা একটি পরিবারের ভিসা আবেদন নিয়ে নয়, বরং ৭৫ দেশের নাগরিকদের ওপর প্রয়োগ করা পুরো ভিসা স্থগিত নীতির বৈধতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে এবং নীতিটি বাতিল করার আদেশ দিয়েছে।   বাংলাদেশি অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের জন্য এই রায়ের গুরুত্ব বিশেষভাবে বেশি। জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত থাকায় অনেক পরিবার, স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা ও সন্তান এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।   তবে আদালতের রায়কে এমন অর্থে নেওয়া ঠিক হবে না যে আজই প্রত্যেক বাংলাদেশি আবেদনকারীর হাতে ভিসা চলে আসবে। নীতি বাতিল হলেও প্রত্যেক আবেদনকারীর ভিসা সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কোনো আবেদনকারীর অন্য কোনো আইনগত অযোগ্যতা থাকলে সেটিও কর্মকর্তারা পৃথকভাবে বিবেচনা করতে পারবেন।   এ ছাড়া মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। ফলে রায়ের পর ভিসা প্রক্রিয়া বাস্তবে কীভাবে এগোবে, আগে স্থগিত বা প্রত্যাখ্যাত আবেদনগুলো কীভাবে পুনরায় বিবেচনা করা হবে এবং দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো কখন স্বাভাবিকভাবে ভিসা ইস্যু শুরু করবে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।   বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের জন্য তাই শুক্রবারের রায়টি গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি হলেও, সব আবেদনকারীর ভিসা তাৎক্ষণিকভাবে ইস্যু হবে এমন নিশ্চয়তা এখনো তৈরি হয়নি। পরবর্তী আদালতের কার্যক্রম এবং মার্কিন সরকারের পদক্ষেপের ওপর এর বাস্তব প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি চাকরির আবেদন প্রক্রিয়া বুঝে প্রস্তুতি নিলে বাড়তে পারে সফলতার সম্ভাবনা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে সিটি জবসহ সরকারি চাকরি কীভাবে পাবেন, কোথায় আবেদন করবেন এবং কী কী সুবিধা রয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য সরকারি চাকরি হতে পারে স্থায়ী ক্যারিয়ার গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। সিটি, কাউন্টি, স্টেট এবং ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে প্রশাসন, হিসাবরক্ষণ, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পরিবহন, জননিরাপত্তা, সামাজিক সেবা, ইঞ্জিনিয়ারিং, রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা ধরনের পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে সরকারি চাকরিতে আবেদন করার নিয়ম বেসরকারি চাকরির মতো নয়। কোথায় চাকরিটি, কোন দপ্তরের অধীনে এবং পদটির জন্য পরীক্ষা বা বিশেষ যোগ্যতা প্রয়োজন কি না, তার ওপর পুরো প্রক্রিয়া নির্ভর করে।   সবচেয়ে আগে বুঝতে হবে, সিটি জব, স্টেট জব এবং ফেডারেল জব আলাদা। কোনো শহরের চাকরি হলে সেটি সিটি সরকারের অধীনে, স্টেট জব হলে রাজ্য সরকারের অধীনে এবং ফেডারেল জব হলে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে। তাই চাকরি খোঁজার জায়গাটিও আলাদা। ইউএসএ গভ-এর তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেল চাকরির জন্য ইউএসএজবস প্রধান সরকারি প্ল্যাটফর্ম। আর স্টেট সরকারের চাকরির জন্য সংশ্লিষ্ট স্টেটের অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পোর্টালে যেতে হয়। স্থানীয় সরকারের চাকরির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সিটি বা কাউন্টির সরকারি ওয়েবসাইট দেখতে হয়।   নিউইয়র্ক সিটির চাকরি এর একটি ভালো উদাহরণ। নিউইয়র্ক সিটি সরকারের অধীনে তিন লাখের বেশি কর্মী এবং প্রায় ৮০টি এজেন্সি রয়েছে। ক্লেরিক্যাল ও প্রশাসনিক কাজ থেকে শুরু করে অর্থ ও হিসাব, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, সামাজিক সেবা, প্রকৌশল, রক্ষণাবেক্ষণ, জননিরাপত্তা এবং বিভিন্ন কারিগরি পেশায় চাকরির সুযোগ রয়েছে।   তবে নিউইয়র্ক সিটির চাকরির ক্ষেত্রে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে। সিটির ৮০ শতাংশের বেশি চাকরিতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা প্রয়োজন। অর্থাৎ শুধু চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে জীবনবৃত্তান্ত পাঠালেই অনেক ক্ষেত্রে হবে না। প্রথমে সংশ্লিষ্ট পদের জন্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিতে হতে পারে।   যে পদে পরীক্ষা প্রয়োজন, তার জন্য প্রথমে ওই পদের পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি বা নোটিশ ভালোভাবে পড়তে হবে। সেখানে কাজের ধরন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, পরীক্ষার পদ্ধতি, আবেদন করার সময়সীমা এবং পরীক্ষার ফি সম্পর্কে তথ্য থাকে। যোগ্যতা পূরণ করলে নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেসের অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেমের মাধ্যমে পরীক্ষার জন্য আবেদন করা যায়। চাইলে নির্দিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্র থেকেও আবেদন করা যায়।   পরীক্ষার ধরনও সব পদের জন্য এক নয়। কিছু পরীক্ষা নির্দিষ্ট দিনে অনুষ্ঠিত হয়। আবার কিছু পদে শিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অনলাইনে মূল্যায়ন করা হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রার্থীর নাম নির্দিষ্ট তালিকায় আসে এবং নিয়োগকারী সিটি এজেন্সি প্রয়োজন অনুযায়ী প্রার্থীদের ইন্টারভিউতে ডাকতে পারে।   অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটির সব চাকরিতে পরীক্ষা লাগে না। কিছু পদে সরাসরি আবেদন করা যায়। এসব চাকরি সাধারণত সিটির চাকরির পোর্টালে প্রকাশ করা হয়। তাই শুধু সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার তালিকা দেখলেই হবে না, সরাসরি আবেদন করা যায় এমন চাকরিগুলোও নিয়মিত দেখা দরকার।    বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য বিদেশি ডিগ্রির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির কিছু চাকরিতে বিদেশ থেকে নেওয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সমমান যাচাই করতে হতে পারে। তাই বাংলাদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসা কেউ সরকারি চাকরিতে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে বিদেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল্যায়ন সম্পর্কে কী বলা হয়েছে, সেটি দেখে নেওয়া উচিত।   এবার আসা যাক স্টেট সরকারের চাকরিতে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি স্টেটের নিজস্ব চাকরির ব্যবস্থা রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে জর্জিয়ায় সরকারি চাকরির জন্য টিম জর্জিয়া ক্যারিয়ার্স পোর্টাল ব্যবহার করা হয়। সেখানে রাজ্য সরকারের প্রায় ১০০টি এজেন্সিতে বিভিন্ন ধরনের চাকরির সুযোগ রয়েছে। চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে কাউন্টি, কাজের ক্ষেত্র এবং পদের ধরন অনুযায়ী অনুসন্ধান করা যায়।   জর্জিয়া স্টেটের চাকরিতে শিক্ষা, সাধারণ প্রশাসন, নিয়ন্ত্রক কাজ, আইন প্রয়োগ, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সুযোগ রয়েছে। আবেদন করার আগে চাকরির দায়িত্ব, যোগ্যতা এবং আবেদনের নির্দেশনা ভালোভাবে পড়তে হয়। সব পদে একই ধরনের যোগ্যতা বা আবেদন পদ্ধতি থাকে না।    অন্য স্টেটেও একইভাবে সংশ্লিষ্ট স্টেট সরকারের অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পোর্টাল ব্যবহার করতে হয়। অর্থাৎ আপনি নিউইয়র্ক, জর্জিয়া, নিউ জার্সি, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া কিংবা অন্য কোনো স্টেটে থাকলে প্রথমে সেই স্টেট সরকারের অফিসিয়াল চাকরির পোর্টাল খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি নিজের শহর ও কাউন্টির সরকারি চাকরির পেজও দেখা উচিত।   ফেডারেল সরকারের চাকরির প্রক্রিয়া আবার কিছুটা আলাদা। ফেডারেল চাকরির জন্য ইউএসএজবস হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরির প্ল্যাটফর্ম। আবেদন শুরু করতে প্রথমে লগইন ডট গভ অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয়। এরপর ইউএসএজবস প্রোফাইল তৈরি করে জীবনবৃত্তান্ত ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করা যায়।   চাকরি খোঁজার সময় শুধু পদের নাম দেখলেই হবে না। ফেডারেল চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে “হু মে অ্যাপ্লাই” এবং “হাউ টু অ্যাপ্লাই” অংশ বিশেষভাবে পড়তে হয়। কারণ সব ফেডারেল চাকরি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। কোনো পদ সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকতে পারে, আবার কোনো পদ নির্দিষ্ট যোগ্যতা বা বিশেষ নিয়োগের আওতায় থাকতে পারে।   ফেডারেল চাকরির আবেদন প্রক্রিয়ায় ইউএসএজবস সাধারণত জীবনবৃত্তান্ত ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংযুক্ত করার পর আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট সরকারি এজেন্সির নিজস্ব আবেদন ব্যবস্থায় নিয়ে যায়। সেখানে অতিরিক্ত তথ্য, প্রশ্নপত্র বা ডকুমেন্ট জমা দিতে হতে পারে। তাই ইউএসএজবসে “অ্যাপ্লাই” চাপার পরেই আবেদন সম্পূর্ণ হয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আবেদন শেষ হওয়ার পর অ্যাকাউন্টে গিয়ে আবেদনটি সফলভাবে জমা হয়েছে কি না নিশ্চিত করা উচিত।   আবেদন করার পর শুরু হয় বাছাই প্রক্রিয়া। সরকারি চাকরিতে অনেক সময় আবেদন পাওয়ার পর যোগ্যতা যাচাই, প্রাথমিক বাছাই, ইন্টারভিউ, নির্বাচন এবং ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের মতো একাধিক ধাপ থাকে। ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে যোগ্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগকারী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। এরপর ইন্টারভিউ হতে পারে। নির্বাচিত প্রার্থীকে প্রথমে শর্তসাপেক্ষ চাকরির অফার দেওয়া হতে পারে এবং প্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড বা নিরাপত্তা যাচাই শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত অফার দেওয়া হয়।   সরকারি চাকরির অন্যতম আকর্ষণ হলো বেনিফিট। তবে সব সরকারি চাকরিতে একই সুবিধা পাওয়া যায় না। স্টেট, সিটি বা ফেডারেল সরকারের নিয়ম এবং চাকরির ধরন অনুযায়ী সুবিধা পরিবর্তিত হয়। ফেডারেল সরকারের যোগ্য কর্মীরা হেলথ, ডেন্টাল, ভিশন ও লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ফ্লেক্সিবল স্পেন্ডিং অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ক্ষেত্রে লং টার্ম কেয়ার ইন্স্যুরেন্সের সুবিধা পেতে পারেন। ফেডারেল কর্মীদের জন্য অবসরকালীন সুবিধার ব্যবস্থাও রয়েছে।   জর্জিয়া স্টেটের সরকারি কর্মীদের জন্য মেডিকেল ও ডেন্টাল কভারেজ, অবসরকালীন সুবিধা, পেইড টাইম অফ এবং অন্যান্য কর্মী সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। স্টেট সরকারের চাকরির সুবিধার মধ্যে কর্মীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের অবসর পরিকল্পনাও রয়েছে।  নিউইয়র্ক সিটির চাকরির ক্ষেত্রেও বেতন ছাড়াও বিভিন্ন কর্মী সুবিধা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো কর্মী কোন সুবিধা পাবেন, সেটি তার পদ, চাকরির শ্রেণি, ইউনিয়ন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মের ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই কোনো চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে শুধু বেতন নয়, সেই পদের বেনিফিট সম্পর্কিত তথ্যও দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   সরকারি চাকরির কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অনেক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি সময় নিতে পারে। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা, যোগ্যতার তালিকা, ব্যাকগ্রাউন্ড চেক বা একাধিক ধাপের কারণে চাকরি পেতে অপেক্ষা করতে হতে পারে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির পরীক্ষাভিত্তিক চাকরিতে পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে।   আরেকটি বিষয় হলো, সরকারি চাকরিতে আবেদন করার সময় সাধারণ একটি জীবনবৃত্তান্ত পাঠিয়ে দিলেই সব সময় কাজ হয় না। চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে যে যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে, জীবনবৃত্তান্ত ও আবেদনপত্রে সেই যোগ্যতার সঙ্গে নিজের শিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতার মিল পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হয়। ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রশ্নপত্র বা অতিরিক্ত ডকুমেন্টও লাগতে পারে।   বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য নাগরিকত্বের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সব সরকারি চাকরিতে নাগরিকত্বের নিয়ম এক নয়। বিশেষ করে ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তির “হু মে অ্যাপ্লাই” অংশে কারা আবেদন করতে পারবেন, সেটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। তাই ইউএস সিটিজেন, গ্রিন কার্ডধারী বা অন্য কোনো ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস থাকলেই সব সরকারি চাকরিতে আবেদন করা যাবে, এমন ধারণা করা উচিত নয়। প্রতিটি পদের যোগ্যতা আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।   সরকারি চাকরিতে আবেদন করার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতারণা থেকে সাবধান থাকা। সরকারি চাকরির জন্য কোনো ব্যক্তিকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। চাকরির আবেদন সব সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে করা উচিত। কেউ যদি চাকরি নিশ্চিত করার কথা বলে আগে টাকা চায় বা অফিসিয়াল প্রক্রিয়ার বাইরে ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যাংকিং তথ্য চায়, তাহলে সতর্ক হওয়া জরুরি।   তাহলে একজন বাংলাদেশি কোথা থেকে শুরু করবেন? প্রথমে নিজের স্টেট, সিটি ও কাউন্টির সরকারি চাকরির পোর্টাল খুঁজে বের করতে হবে। এরপর নিজের শিক্ষা, কাজের অভিজ্ঞতা, লাইসেন্স এবং দক্ষতার সঙ্গে মেলে এমন পদ খুঁজতে হবে। চাকরির বিজ্ঞপ্তিটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে দেখতে হবে পদটির জন্য কোনো পরীক্ষা দরকার কি না, ন্যূনতম যোগ্যতা কী, আবেদন কখন শেষ হবে এবং কী কী ডকুমেন্ট লাগবে। এরপর জীবনবৃত্তান্ত ও অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুত করে অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।   নিউইয়র্কে থাকলে সিটি জবের পাশাপাশি নিউইয়র্ক স্টেট ও নিজের কাউন্টির চাকরিও দেখা যেতে পারে। জর্জিয়ায় থাকলে স্টেট সরকারের পাশাপাশি কাউন্টি ও সিটি সরকারের চাকরি খোঁজা উচিত। একইভাবে অন্য স্টেটেও স্থানীয় সরকার, কাউন্টি এবং স্টেট সরকারের আলাদা আলাদা চাকরির সুযোগ থাকে। ফেডারেল চাকরির জন্য আলাদাভাবে ইউএসএজবস ব্যবহার করতে হবে।   সরকারি চাকরি সবার জন্য একই রকম নয় এবং সব পদের বেতন বা সুবিধাও এক নয়। তবে স্থায়ী ক্যারিয়ার, নিয়মিত আয়, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, অবসরকালীন সুবিধা, পেইড টাইম অফ এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মজীবনের সুযোগ খুঁজছেন এমন বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য সরকারি চাকরি একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যারিয়ার অপশন হতে পারে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরিচিত কারও কাছ থেকে শোনা তথ্যের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি চাকরির অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি পড়ে আবেদন করা। কারণ একটি সিটি বা স্টেটের নিয়ম অন্য সিটি বা স্টেটে একই নাও হতে পারে। সঠিক জায়গায় চাকরি খোঁজা, যোগ্যতা যাচাই করা এবং আবেদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ ঠিকভাবে অনুসরণ করাই সরকারি চাকরিতে আবেদন করার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি।

নুরুল্লাহ সাইদ আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিপ্রার্থী ও পেশাদারদের জন্য বিভিন্ন সরকারি ফ্রি জব ট্রেনিং প্রোগ্রাম। ছবি: সংগৃহীত
চাকরি, স্কিল কোনোটিই নেই? যুক্তরাষ্ট্রে ফ্রি চাকরির ট্রেনিং, সাথে মিলবে ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খুঁজছেন কিংবা নতুন স্কিল শিখে ক্যারিয়ার পরিবর্তন করতে চান এমন মানুষের জন্য ২০২৬ সালেও বিভিন্ন সরকারি ও সরকার-সমর্থিত ফ্রি জব ট্রেনিং ও কর্মসংস্থান সহায়তা চালু রয়েছে। এসব সুযোগের কিছুতে যোগ্য বাংলাদেশি অভিবাসীরাও অংশ নিতে পারবেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া “ওয়ার্ক পারমিট থাকলেই সবাই ফ্রি ট্রেনিং ও ১,৮০০ ডলার পাবেন” এমন দাবি সঠিক নয়। প্রোগ্রামভেদে বয়স, আয়, বসবাসের এলাকা ও ইমিগ্রেশন বা ওয়ার্ক অথরাইজেশনসহ আলাদা যোগ্যতা রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ইউএসএগভের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ স্টেটেই সরকারি জব ট্রেনিং প্রোগ্রাম রয়েছে। চাকরি খোঁজা, রেজুমে তৈরি, ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয় ট্রেনিং শনাক্ত করা এবং ট্রেনিংয়ের খরচ মেটানোর সম্ভাব্য সহায়তা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের ক্যারিয়ারওয়ানস্টপের মাধ্যমে।   দেশজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০ আমেরিকান জব সেন্টার রয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অর্থায়নে পরিচালিত এসব সেন্টারে চাকরিপ্রার্থীরা বিনা খরচে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পান। এর মধ্যে রয়েছে চাকরি খোঁজার সহায়তা, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, স্কিল যাচাই, জব সার্চ ওয়ার্কশপ, কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ এবং স্থানীয় ট্রেনিংয়ের তথ্য।   ওয়ার্কফোর্স ইনোভেশন অ্যান্ড অপরচুনিটি অ্যাক্ট বা ডব্লিউআইওএ ব্যবস্থার অধীনেও যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের ট্রেনিং ও কর্মসংস্থান সহায়তা দেওয়া হয়। তবে সব আবেদনকারী একই ধরনের অর্থায়ন বা ট্রেনিং পাবেন এমন নিশ্চয়তা নেই। কোন ট্রেনিংয়ের খরচ দেওয়া হবে এবং একজন আবেদনকারী যোগ্য কি না, সেটি স্থানীয় ওয়ার্কফোর্স সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।   তরুণদের জন্য বড় সুযোগগুলোর একটি জব কর্পস। ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের এই ফেডারেল প্রোগ্রামে যোগ্য শিক্ষার্থীরা বিনা খরচে ক্যারিয়ার ট্রেনিং ও শিক্ষা নিতে পারেন। বর্তমানে দেশজুড়ে ১২০টির বেশি জব কর্পস ক্যাম্পাস রয়েছে এবং ১০টি উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন ইন্ডাস্ট্রির শতাধিক ট্রেনিং এরিয়ায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।   জব কর্পসের সাধারণ যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়স এবং নিম্ন আয়ের শর্ত। পাশাপাশি নাগরিকত্ব, বৈধ রেসিডেন্সি বা অনুমোদিত অন্য স্ট্যাটাসের শর্ত পূরণ করতে হয়। কিছু ওয়ার্ক অথরাইজড ব্যক্তিও যোগ্য হতে পারেন। আবেদনকারীর ব্যাকগ্রাউন্ডসহ অন্যান্য শর্তও যাচাই করা হয়। ফলে শুধু ওয়ার্ক পারমিট থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জব কর্পসে ভর্তি হওয়া যায় না।   যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য জব কর্পসের ট্রেনিং সম্পূর্ণ ফ্রি। প্রোগ্রামটিতে ফ্রি হাউজিং, খাবার, মৌলিক চিকিৎসাসেবা এবং লিভিং অ্যালাউয়েন্সের ব্যবস্থাও রয়েছে। কিছু শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে না থেকেও অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।   অভিবাসী তরুণদের জন্য বোস্টনে আলাদা একটি পেইড সুযোগও রয়েছে। নো ওয়ার্কার লেফট বিহাইন্ডের ২০২৬ ইমিগ্র্যান্ট ইয়ুথ ক্যারিয়ার রেডিনেস বা লার্ন অ্যান্ড আর্ন প্রোগ্রাম ৭ জুলাই থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত ছয় সপ্তাহের হাইব্রিড ট্রেনিং হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।   এই প্রোগ্রামে সপ্তাহে প্রায় ২০ ঘণ্টা অংশ নিতে হয় এবং সফলভাবে শেষ করলে সর্বোচ্চ ১,৮০০ ডলার স্টাইপেন্ড পাওয়া যেতে পারে। ক্যারিয়ার রেডিনেস, এআই ও ডিজিটাল স্কিল, রেজুমে তৈরি, মক ইন্টারভিউ, মেন্টরশিপ এবং নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ এর অন্তর্ভুক্ত।   তবে ১,৮০০ ডলারের সুযোগটি দেশব্যাপী কোনো ফেডারেল বোনাস নয়। এটি বোস্টনের নির্দিষ্ট একটি প্রোগ্রামের স্টাইপেন্ড। অংশগ্রহণকারীদের বয়স ১৯ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং বোস্টনের বাসিন্দা হতে হবে। প্রোগ্রামটি বিশেষভাবে অভিবাসী তরুণ, ইংলিশ লার্নার এবং চাকরির ক্ষেত্রে বাধার মুখে থাকা তরুণদের জন্য তৈরি।   নিউইয়র্কে অভিবাসীদের জন্য রয়েছে অফিস ফর নিউ আমেরিকানসের কর্মসংস্থান কর্মসূচি। এর প্রফেশনাল পাথওয়েজ ফর হাই স্কিলড ইমিগ্র্যান্টস প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকা নতুন আমেরিকানদের এমপ্লয়মেন্ট কোচিং, স্কিল ট্রেনিং এবং জব প্লেসমেন্টে সহায়তা করা হয়।   নিউইয়র্ক সিটিতে ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, ম্যানহাটন, কুইন্স ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের বাসিন্দাদের জন্যও প্রফেশনাল পাথওয়েজের সেবা রয়েছে। অতীতে প্রকাশিত যোগ্যতার শর্ত অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীদের যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে উচ্চশিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতা, যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতি এবং নির্ধারিত আয়সীমার শর্ত পূরণ করতে হয়েছে।   নিউইয়র্কের অফিস ফর নিউ আমেরিকানসের আরেক উদ্যোগ নিউ আমেরিকানস ক্যান কোড। এতে অভিবাসীদের বেসিক কম্পিউটার ব্যবহারের মতো ডিজিটাল লিটারেসি থেকে শুরু করে উন্নত সফটওয়্যার কোডিং ট্রেনিংয়ের সুযোগ রয়েছে।   বাংলাদেশি অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও জাতীয়তার কারণে এসব প্রোগ্রামে আলাদা নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের বয়স, আয়, বাসস্থান, কাজের অনুমতি এবং অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। নতুন ইমিগ্র্যান্ট হলেই যেমন স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্য হওয়া যায় না, তেমনি সব প্রোগ্রামে গ্রিন কার্ড থাকা বাধ্যতামূলকও নয়। প্রতিটি প্রোগ্রামের নিয়ম আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।   চাকরি বা ট্রেনিং খুঁজতে প্রথমে নিজের এলাকার আমেরিকান জব সেন্টারে যোগাযোগ করা যেতে পারে। ক্যারিয়ারওয়ানস্টপের মাধ্যমে কাছাকাছি সেন্টার ও ট্রেনিং খুঁজে পাওয়া যায়। ইউএসএগভও নিজ নিজ স্টেটের লেবার ডিপার্টমেন্ট এবং সরকারি ট্রেনিং রিসোর্স ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন হলো হেল্পলাইন নম্বর। আমেরিকান জব সেন্টার ও চাকরি-ট্রেনিং সংক্রান্ত তথ্যের জন্য ক্যারিয়ারওয়ানস্টপ বর্তমানে ১-৮৭৭-৮৭২-৫৬২৭ নম্বরটি উল্লেখ করছে।   সরকারি বা সরকার-সমর্থিত ফ্রি ট্রেনিংয়ের নামে অর্থ চাওয়া হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে “সব ইমিগ্র্যান্ট ১,৮০০ ডলার পাবেন” বা “ওয়ার্ক পারমিট থাকলেই নিশ্চিত ফ্রি ট্রেনিং” ধরনের প্রচারণায় আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা বা প্রোগ্রামের বর্তমান যোগ্যতার শর্ত যাচাই করাই নিরাপদ।

তাবাস্সুম আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
গ্রিস উপকূল থেকে দুই শতাধিক অভিবাসী উদ্ধার। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিস উপকূলে ৪৮ ঘণ্টায় ২০২ অভিবাসী উদ্ধার, অধিকাংশই বাংলাদেশি

লিবিয়ার উপকূল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ভূমধ্যসাগরীয় পথ পাড়ি দিয়ে গ্রিসের দক্ষিণাঞ্চলের ক্রিত (ক্রিট) দ্বীপে পৌঁছানোর পর গত ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ে অন্তত ২০২ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশ ও সুদানের নাগরিক। এছাড়া কয়েকজন মিশরীয় নাগরিকও রয়েছেন।   গ্রিক দৈনিক দিমোকরাতিয়া এবং মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের একটি নজরদারি বিমান প্রথমে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ইয়েরাপেত্রা উপকূলের কাছে একটি নৌকা শনাক্ত করে। পরে গ্রিক কোস্টগার্ডের টহল দল এবং একটি মাছ ধরার নৌকার সহায়তায় ৪০ জন আরোহীকে নিরাপদে ইয়েরাপেত্রা বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়।   বন্দরে পৌঁছানোর পর উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের পরিচয় যাচাই, নিবন্ধন এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই একই এলাকায় আরও দুটি নৌকায় করে ১১২ জন অভিবাসী পৌঁছান। প্রথম নৌকায় ছিলেন ৫৬ জন। তাদের মধ্যে ৩১ জন সুদানের এবং ২৫ জন বাংলাদেশের নাগরিক। দ্বিতীয় নৌকায় থাকা ৫৬ জনের মধ্যে ৪৭ জন বাংলাদেশি এবং ৯ জন মিশরীয় নাগরিক ছিলেন।   গত কয়েক দিনে ক্রিত দ্বীপে অভিবাসীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ওপরও চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে উদ্ধার হওয়া সবাইকে পরবর্তী ব্যবস্থাপনার জন্য হেরাক্লিয়ন বন্দরের একটি অস্থায়ী আবাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। এদিকে পৃথক এক অভিযানে অভিবাসী পাচারের অভিযোগে দক্ষিণ সুদানের ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষের দাবি, আগের একটি ঘটনায় ৫০ জন অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা পরিচালনার সঙ্গে সে জড়িত ছিল।   অভিবাসীদের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, নৌকাটি লিবিয়ার তব্রুক শহর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। যাত্রীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা বেড়েছে। যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দারিদ্র্য এবং উন্নত জীবনের আশায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ এই ঝুঁকিপূর্ণ রুট ব্যবহার করছেন। তবে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ছোট নৌকায় দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার কারণে প্রতিবছর বহু মানুষ প্রাণ হারান বা নিখোঁজ হন।   গ্রিক কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্রিত ও আশপাশের উপকূলে অভিবাসী বহনকারী নৌকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।   সূত্র: গ্রিক দৈনিক দিমোকরাতিয়া, মিডল ইস্ট মনিটর।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
দুই সপ্তাহে চালকদের ওপর দ্বিতীয় বন্দুক হামলার পর নিউইয়র্কে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে আবারও গুলির শিকার বাংলাদেশি রাইডশেয়ার চালক, দুই সপ্তাহে চালকদের ওপর দ্বিতীয় বন্দুক হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আবারও বন্দুক হামলার শিকার হয়েছেন এক বাংলাদেশি রাইডশেয়ার চালক। ব্রুকলিনে এক যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার পর সামান্য সড়ক দুর্ঘটনার জেরে তৈরি হওয়া উত্তেজনার মধ্যেই অজ্ঞাত এক ব্যক্তি খুব কাছ থেকে তার মুখে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হলেও অস্ত্রোপচারের পর তিনি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্স জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে দায়িত্ব পালনরত চালকদের ওপর এটি দ্বিতীয় বন্দুক হামলার ঘটনা।   পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোর প্রায় ৪টার দিকে ব্রুকলিনের ফোর্ট গ্রিন এলাকার নর্থ পোর্টল্যান্ড অ্যাভিনিউয়ে ঘটনাটি ঘটে। ৫০ বছর বয়সী বাংলাদেশি অভিবাসী ও টিএলসি লাইসেন্সধারী চালক মোহাম্মদ আমিন একজন যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার পর তার গাড়ির সঙ্গে একটি মেডিকেল পরিবহন ভ্যানের সামান্য সংঘর্ষ হয়। এরপর দুই চালকের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হলে ঘটনাস্থলে আরও কয়েকজন উপস্থিত হন।   তদন্তকারীদের ভাষ্য, সংঘর্ষে জড়িত কোনো পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকা এক ব্যক্তি পাশের হুইটম্যান হাউজেস আবাসন এলাকা থেকে বেরিয়ে এসে হঠাৎ চালকের জানালার কাছে গিয়ে তার ডান গালে গুলি করে। হামলার পরপরই ওই ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মোহাম্মদ আমিনকে দ্রুত নিউইয়র্ক-প্রেসবাইটেরিয়ান ব্রুকলিন মেথডিস্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন।   নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্সের প্রতিষ্ঠাতা ফার্নান্দো মাতেও বলেন, মোহাম্মদ আমিন কোনো ঝগড়ায় জড়াননি। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভুল সময়ে ভুল জায়গায় থাকার কারণেই তিনি হামলার শিকার হন। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, কুইন্সের বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিন গত ১৬ বছর ধরে নিউইয়র্কে গাড়ি চালিয়ে পরিবার চালিয়ে আসছেন। তার চিকিৎসা ও পরিবারের সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি হামলাকারীকে শনাক্তে তথ্যদাতার জন্য পুরস্কার ঘোষণার প্রস্তুতিও চলছে।   ঘটনার পর আবারও ট্যাক্সি ও রাইডশেয়ার চালকদের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তুলেছেন ফার্নান্দো মাতেও। তিনি বলেন, নিউইয়র্কের প্রতিটি টিএলসি লাইসেন্সধারী ট্যাক্সি ও রাইডশেয়ার গাড়িতে বাধ্যতামূলকভাবে ক্যামেরা স্থাপন করা উচিত। এতে চালকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সহজ হবে।   এই হামলার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ব্রুকলিনেই আরেক চালক, পাকিস্তানি অভিবাসী ড্যানিশ সারওয়ার, ডাকাতির চেষ্টা ও গাড়ি ছিনতাইয়ের সময় গুলিবিদ্ধ হন। তার ঘাড়ে গুলি লাগে এবং দীর্ঘ সময় তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরপর দুটি ঘটনায় নিউইয়র্কে ট্যাক্সি ও রাইডশেয়ার চালকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   এদিকে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, হামলার কারণ এবং বন্দুকধারীর পরিচয় শনাক্তে তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছেন তদন্তকারীরা। হামলাকারীর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য থাকলে পুলিশকে জানাতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
২৮ বাংলাদেশিসহ ১৭৫ অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া।
মালয়েশিয়া থেকে ফেরত ১৭৫ অভিবাসী, তাদের মধ্যে ২৮ বাংলাদেশি

মালয়েশিয়া ২৮ জন বাংলাদেশিসহ মোট ১৭৫ জন অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দেশটির জোহর রাজ্যের অভিবাসন বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   তাদের জানানো হয়, জোহরের পেকান নেনাস অভিবাসন আটক কেন্দ্রে থাকা বিদেশি নাগরিকদের নিয়মিতভাবে নিজ দেশে পাঠানো হচ্ছে। যেসব অভিবাসী তাদের দণ্ড ভোগ শেষ করেছেন, তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।   চলতি বছরের এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই কেন্দ্র থেকে মোট ১৭৫ জনকে ফেরত পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার ১৩৬ জন, বাংলাদেশের ২৮ জন, ভারতের ৪ জন, থাইল্যান্ডের ২ জন, কম্বোডিয়ার ২ জন এবং ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা ও স্পেনের একজন করে নাগরিক।   প্রত্যাবাসনের সময় তাদের বিভিন্ন পথ দিয়ে নিজ দেশে পাঠানো হয়, যার মধ্যে ছিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও নৌপথের যাত্রীঘাট।   এই যাতায়াত ব্যয় বিভিন্ন উৎস থেকে বহন করা হয়েছে। কেউ নিজ খরচে, কেউ পরিবারের সহায়তায় এবং কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় দেশে ফিরেছেন।   ফেরত পাঠানো সব অভিবাসীর নাম মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত তারা আর কোনোভাবেই মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারবেন না।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি নারী ইয়াসমিনের হত্যাকারীকে ‘পশু’ বললেন ট্রাম্প

ইমা এলিস/বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক:  যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি গ্যাস স্টেশনের বাইরে বাংলাদেশি অভিবাসী নারী নিলুফা ইয়াসমিনের হত্যাকারীকে'পশু' বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার অভিবাসন নিয়ে বক্তব্যের ধরনকে ঘিরে এবং গ্রাফিক ও আনসেন্সরড ভিডিও পোস্ট করার কারণে সমালোচনার মুখেও পড়েছেন তিনি। ২ এপ্রিল ফোর্ট মায়ার্সে ধারণ করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বাংলাদেশি অভিবাসী নিলুফা ইয়াসমিন নামে এক দোকানকর্মীর ওপর হামলা চালানো হয়। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, সন্দেহভাজন হামলাকারী রোলবার্ট জোয়াচিন, যিনি গৃহহীন এক হাইতিয়ান অভিবাসী। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প তাকে 'অবৈধ অভিবাসী' ও 'পশু' বলে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন, বাইডেন প্রশাসনের সময় হাইতিয়ানদের অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (টিপিএস) দেওয়া হয়েছিল। তিনি ভিডিওটিকে 'আপনি জীবনে দেখবেন এমন সবচেয়ে নৃশংস ঘটনার একটি' বলে উল্লেখ করেন। এর আগে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগভিডিওটির একটি ঝাপসা সংস্করণ প্রকাশ করেছিল। দ্য গার্ডিয়ানের মতে, এই পোস্টটি ট্রাম্পের একটি পরিচিত ধারার অংশ তিনি বারবার সহিংস অপরাধের ঘটনাকে অভিবাসনের সঙ্গে যুক্ত করে তুলে ধরেছেন, যা অনেক সময় সঠিক নয়। উদাহরণস্বরূপ, স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে তিনি নর্থ ক্যারোলিনায় ইউক্রেনীয় অভিবাসী ইরিনা জারুতস্কার হত্যাকাণ্ডকে 'ওপেন বর্ডার' নীতির ফল হিসেবে বর্ণনা করেন, যদিও ওই মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এছাড়া ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প একাধিকবার হাইতিয়ানদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন, এমনকি ভুলভাবে দাবি করেন যে তারা 'ওহাইওতে পোষা প্রাণী খাচ্ছে।' হাইতিয়ানদের অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা বাতিলের ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টা একটি ফেডারেল বিচারক আটকে দিয়েছেন। তবে ট্রাম্প যুক্তি দেন, ফ্লোরিডার এই হত্যাকাণ্ডই 'র্যাডিক্যাল বিচারকদের' তার অভিবাসন নীতিতে বাধা দেওয়া বন্ধ করার জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত। সমালোচকরা বলছেন, এই ভিডিও শেয়ার করার উদ্দেশ্য হলো ভয় সৃষ্টি করা এবং অভিবাসীবিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়া। আমেরিকান অভিবাসন পরিষদ-এর অ্যারন রাইখলিন-মেলনিক বলেন, এটি জনমনে আতঙ্ক তৈরি করার একটি কৌশল। ৪০ বছর বয়সী জোয়াচিনকে হত্যাকাণ্ডের দিনই গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা, ভাঙচুর ও সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার একদিন আগে তিনি এটিএম থেকে টাকা তুলতে না পেরে দোকানকর্মীর কাছে অর্থ দাবি করেছিলেন।

তাবাস্সুম এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

আইসিওতে ডাক্তার ছবি:সংগৃহীত

কোলনোস্কপির সময় ভুল করে ফোন অন, সেই রেকর্ডেই জিতলেন ৫ লাখ ডলার

Unknown আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০