- প্রচ্ছদ
- Topic
রেস্তোরাঁ
রেস্তোরাঁয় ভালো সেবা দেওয়ার পাশাপাশি টিপ বা বকশিশ পাওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু কৌশল কাজ করতে পারে। সাবেক ওয়েট্রেস ও জনপ্রিয় লেখক মেল রবিনস জানিয়েছেন, ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করার সময় তিনি এমন একটি পরামর্শ পেয়েছিলেন, যা তার টিপ পাওয়ার ধারণাই বদলে দেয়। রবিনস জানান, মিশিগানের রেড রুস্টার ট্যাভার্নে ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করার সময় তার এক মেন্টর তাকে বলেছিলেন, ভালো টিপ পাওয়ার একটি কৌশল হলো—টেবিলে কার হাতে টিপ দেওয়ার সিদ্ধান্তে বেশি প্রভাব রয়েছে, সেটি বুঝতে পারা। সাধারণত যে ব্যক্তি রেস্তোরাঁর বিল পরিশোধ করেন, তিনিই টিপের পরিমাণ ঠিক করেন বলে মনে করা হয়। কিন্তু রবিনসের মেন্টরের পর্যবেক্ষণ ছিল, অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ বিল পরিশোধ করলেও টিপের বিষয়ে তার সঙ্গী নারী প্রভাব ফেলতে পারেন। রবিনস বলেন, ভালো সেবা পেলে অনেক সময় নারী সঙ্গী তার পার্টনারকে ওয়েটারের প্রশংসা করে ভালো টিপ দিতে উৎসাহিত করেন। এই পরামর্শের পর তিনি টেবিলের নারীদের প্রতি বিশেষভাবে মনোযোগ দেওয়ার কৌশল নিয়েছিলেন। তবে আতিথেয়তা খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু নারী গ্রাহকদের গুরুত্ব দিয়ে পুরুষদের উপেক্ষা করা ঠিক নয়। নিউইয়র্কভিত্তিক মাহন হসপিটালিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা অংশীদার রবার্ট মাহন বলেন, ভালো ওয়েটারদের পুরো টেবিলের গতিবিধি বুঝতে হয় এবং কাউকে আলাদা করে প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয়। তার মতে, বন্ধুত্বপূর্ণ ও মনোযোগী আচরণই শেষ পর্যন্ত ভালো টিপ পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এমনকি গবেষণাতেও গ্রাহকের সঙ্গে ছোটখাটো ইতিবাচক যোগাযোগ টিপের পরিমাণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ২০১০ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, খাবার বেছে নেওয়ার সময় গ্রাহকদের প্রশংসা করা ওয়েটাররা তুলনামূলকভাবে বেশি টিপ পেয়েছেন। ডালাস স্কুল অব এটিকেটের প্রতিষ্ঠাতা লিসা বারডেটও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে নারীরা টিপের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারেন। তবে একজন দক্ষ ওয়েটারের উচিত টেবিলের সব অতিথিকে সমান গুরুত্ব দেওয়া। অর্থাৎ, বেশি টিপ পাওয়ার ‘গোপন রহস্য’ শুধু একজন নির্দিষ্ট গ্রাহককে খুশি করা নয়—বরং পুরো টেবিলকে ভালোভাবে সেবা দেওয়া, অতিথিদের সঙ্গে ইতিবাচক যোগাযোগ তৈরি করা এবং কে কীভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা বুঝতে পারাই গুরুত্বপূর্ণ।
একটি রেস্তোরাঁয় খাবার শেষে ওয়েট্রেসকে সাধারণ ক্যাশ টিপ না দিয়ে লটারির সম্ভাব্য পুরস্কারের অর্ধেক দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন নিউইয়র্কের এক পুলিশ কর্মকর্তা। তখন হয়তো কেউই ভাবেননি, সেই কথার মূল্য একদিন দাঁড়াবে ৩০ লাখ ডলার। লটারিতে ৬ মিলিয়ন ডলার জেতার পর নিজের দেওয়া কথা রেখেছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা রবার্ট কানিংহাম। ওয়েট্রেস ফিলিস পেনজোকে দিয়েছিলেন ঠিক অর্ধেক, ৩ মিলিয়ন ডলার। ঘটনাটি ১৯৮৪ সালের মার্চের। নিউইয়র্কের ইয়ঙ্কার্সে স্যালস পিজারিয়ায় কাজ করতেন ফিলিস পেনজো। রেস্তোরাঁটির নিয়মিত গ্রাহক ছিলেন কাছের ডবস ফেরি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা রবার্ট কানিংহাম। তাদের পরিচয়ও ছিল দীর্ঘদিনের। সেদিন কানিংহাম একটি লটারির টিকিটের জন্য নম্বর বাছাই করছিলেন। কথার একপর্যায়ে তিনি পেনজোকে ছয়টি নম্বরের মধ্যে তিনটি বেছে নিতে বলেন। বাকি তিনটি বেছে নেন তিনি নিজে। দুজনের মধ্যে কথা হয়, টিকিটে পুরস্কার এলে অর্থ সমানভাবে ভাগ করে নেবেন। পেনজোর জন্য সেই ভাগই হবে তার টিপ। তাদের বেছে নেওয়া ছয়টি নম্বর ছিল ৭, ৯, ২১, ২৮, ২৯ ও ৪৩। সেই টিকিটই শেষ পর্যন্ত ৬ মিলিয়ন ডলারের জ্যাকপট জিতে নেয়। এরপরই আসে গল্পের সবচেয়ে আলোচিত অংশ। টিকিটটি ছিল কানিংহামের কাছে। দুজনের মধ্যে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে কোনো লিখিত চুক্তিও ছিল না। তারপরও তিনি আগের কথার ব্যতিক্রম করেননি। ৬ মিলিয়ন ডলারের অর্ধেক, অর্থাৎ ৩ মিলিয়ন ডলার পেনজোকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ঘটনার সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনে কানিংহাম বলেছিলেন, পেনজো জানতেন তার কথার মূল্য আছে। অন্যদিকে রাতারাতি মিলিয়নিয়ার হয়ে যাওয়া পেনজো কানিংহামের সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত উদার বলে বর্ণনা করেছিলেন। আরও অবাক করার বিষয় হলো, বিপুল অর্থ পাওয়ার পরও পেনজো তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি ছেড়ে দেননি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই রেস্তোরাঁয় কাজ করছিলেন এবং পরিচিত গ্রাহকদের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। এক দশক পর এই বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৯৪ সালে নির্মিত হয় হলিউড সিনেমা ‘ইট কুড হ্যাপেন টু ইউ’। নিকোলাস কেজ ও ব্রিজেট ফন্ডা অভিনীত সিনেমাটির মূল ধারণা কানিংহাম ও পেনজোর ঘটনা থেকে নেওয়া হলেও পর্দার অধিকাংশ কাহিনি ছিল কাল্পনিক। বাস্তবে তাদের মধ্যে কোনো প্রেমের সম্পর্কের গল্প ছিল না। লটারি জয়ের সময় কানিংহাম ও পেনজো দুজনেই নিজ নিজ দাম্পত্য জীবনে ছিলেন। তাদের বাস্তব গল্পের কেন্দ্রবিন্দু ছিল একটি মৌখিক প্রতিশ্রুতি এবং সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা। চার দশকেরও বেশি সময় পর ঘটনাটি এখনও আলোচনায় আসে মূলত একটি কারণে। সাধারণ একটি রেস্তোরাঁর টিপের জায়গায় করা কথার চুক্তি শেষ পর্যন্ত ওয়েট্রেসের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিতে পরিণত হয়েছিল। আর চাইলে সহজেই অস্বীকার করতে পারতেন এমন একটি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে কানিংহাম ভাগ করে দিয়েছিলেন ৬ মিলিয়ন ডলারের জ্যাকপট।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে আলোচিত মিচেল পরিবার হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড় এসেছে। নিহত রেস্তোরাঁ উদ্যোক্তা থাই মিচেলের পরিবারের করা এক দেওয়ানি মামলায় দাবি করা হয়েছে, ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগে বাড়ির রিং ক্যামেরায় স্বামী ম্যাথিউ মিচেলের অস্বাভাবিক আচরণ ও “সবাইকে মেরে ফেলতে হবে” ধরনের মন্তব্য রেকর্ড হয়েছিল। আদালতে দাখিল করা ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। আদালতের নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ৪ মে হিউস্টনের রিভার ওকস এলাকার নিজ বাড়িতে থাই মিচেল, দম্পতির দুই শিশু সন্তান এবং ম্যাথিউ মিচেলকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। হ্যারিস কাউন্টি ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সায়েন্সেস জানায়, থাই মিচেল ও দুই শিশুর মৃত্যু ছিল হত্যাকাণ্ড, আর ম্যাথিউ মিচেলের মৃত্যু আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মামলায় থাই মিচেলের বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, ব্যবসায়িক ঋণ, আর্থিক সংকট এবং প্রতারণার অভিযোগে চাপে পড়ে ম্যাথিউ মিচেল পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যা করেন। তাদের দাবি, ঘটনার আগে তিনি বাড়ির ভেতরে অস্বাভাবিকভাবে পায়চারি করতেন এবং রিং ক্যামেরায় “সবাইকে মেরে ফেলতে হবে” বলে বিড়বিড় করতে শোনা যায়। একই মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের আগে ম্যাথিউ মিচেলের মা বেটি মিচেল ও বোন মেরেডিথ মিচেল প্রায় ১৪ লাখ ডলারের সম্পদ ঋণদাতাদের কাছ থেকে আড়াল করতে সহায়তা করেছিলেন। বাদীপক্ষ আদালতের কাছে ক্ষতিপূরণ এবং ম্যাথিউ মিচেলের সম্পদের ওপর আদালত-নিয়ন্ত্রিত ট্রাস্ট গঠনের আবেদন জানিয়েছে। এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে মামলার বিষয়ে চূড়ান্ত আইনি অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি। ম্যাথিউ ও থাই মিচেল হিউস্টনের পরিচিত দুটি রেস্তোরাঁ, ট্রাভেলার্স টেবিল এবং ট্রাভেলার্স কার্ট এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। পারিবারিক এই ট্র্যাজেডির পরও কিছুদিন দুটি রেস্তোরাঁ চালু ছিল। তবে সম্প্রতি ট্রাভেলার্স কার্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আরেকটি প্রতিষ্ঠান ট্রাভেলার্স টেবিল আগের মতোই চালু থাকবে। ঘটনাটি হিউস্টনের রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী মহলে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে মামলার নতুন তথ্য প্রকাশের পর পারিবারিক সহিংসতা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আর্থিক সংকটের প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মামলার শুনানি ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে নতুন খাদ্য নিরাপত্তা আইন, যার ফলে অলিভ গার্ডেনসহ বড় রেস্তোরাঁ চেইনগুলোকে তাদের মেনুতে খাবারে থাকা প্রধান অ্যালার্জেন সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য উল্লেখ করতে হবে। নতুন আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ২০ বা তার বেশি শাখা রয়েছে এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় পরিচালিত এমন সব রেস্তোরাঁ চেইনকে প্রতিটি খাবারে তথাকথিত “বিগ নাইন” বা নয়টি প্রধান খাদ্য অ্যালার্জেনের উপস্থিতি লিখিতভাবে জানাতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে দুধ, ডিম, মাছ, খোলসযুক্ত সামুদ্রিক প্রাণী, গাছজাত বাদাম, চিনাবাদাম, গম, সয়াবিন এবং তিল। আইন অনুযায়ী, এই তথ্য সরাসরি মেনুতে, কিউআর কোডের মাধ্যমে ডিজিটালভাবে অথবা আলাদা লিখিত তালিকার মাধ্যমে গ্রাহকদের সামনে উপস্থাপন করা যাবে। তবে শুধুমাত্র ডিজিটাল তথ্য দিলে তার পাশাপাশি একটি অ-ডিজিটাল বিকল্পও রাখতে হবে, যাতে সব গ্রাহক সহজে তথ্য দেখতে পারেন। এই নতুন বিধানের আওতায় অলিভ গার্ডেন, টেক্সাস রোডহাউস, লংহর্ন স্টেকহাউসসহ বড় জাতীয় রেস্তোরাঁ ব্র্যান্ডগুলো তাদের মেনু ও অর্ডারিং পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে। যদিও অলিভ গার্ডেন আগে থেকেই তাদের ওয়েবসাইটে অ্যালার্জেন-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করত, এখন ক্যালিফোর্নিয়ার আইনের কারণে সেই তথ্য গ্রাহকদের অর্ডার দেওয়ার সময় আরও স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হবে। ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গুরুতর খাদ্য অ্যালার্জিতে আক্রান্ত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং খাবার নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ করাই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য। এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অঙ্গরাজ্যভিত্তিক আইন, যেখানে বড় রেস্তোরাঁ চেইনের জন্য মেনুতে প্রধান খাদ্য অ্যালার্জেন উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা
সামান্য এক গাড়ি দুর্ঘটনা এবং রেস্তোরাঁ থেকে চুরি করা খাবারের সূত্র ধরে আপন বাবা-মাকে হত্যার এক ভয়ংকর পরিকল্পনার কথা জানতে পেরেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া পুলিশ। স্ট্যাফোর্ড কাউন্টি শেরিফ অফিস জানায়, গত ১৬ জুন বেপরোয়া গতিতে চলা একটি গাড়ি রাস্তার সাইনবোর্ডে ধাক্কা দিলে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে একটি ওয়াওয়া কনভেনিয়েন্স স্টোর থেকে লুইস কনেলি (১৯) এবং ১৭ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত কিশোরকে আটক করেন পুলিশ কর্মকর্তারা। আটকের পর তাদের গাড়ির ড্যাশবোর্ডে 'বাফেলো ওয়াইল্ড উইংস' রেস্তোরাঁ থেকে চুরি করা এক ট্রে খাবার এবং কিছু অক্ষত মদের বোতল দেখতে পায় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা খাবার চুরির কথা স্বীকারও করে। তবে গাড়ি তল্লাশির সময় পুলিশ সেখানে খোলা মদের বোতল, বেশ কয়েকটি ছুরি, চিকিৎসা সামগ্রী এবং কনেলির মালিকানাধীন একটি নোটবুক উদ্ধার করে। আর এই নোটবুক থেকেই মূলত বেরিয়ে আসে ওই কিশোরের বাবা-মাকে হত্যার লোমহর্ষক ছক। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরের পরিবারকে হত্যার জন্য এই দুজন মিলে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত দুটি ছক কষেছিল। গত এপ্রিলে আদান-প্রদান করা তাদের মোবাইল মেসেজ থেকে জানা যায়, তারা বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরা এড়িয়ে কীভাবে খুন করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করেছিল। এমনকি বাবা-মাকে গুলি করে নাকি গলা কেটে হত্যা করা হবে, তা নিয়েও তাদের মধ্যে দীর্ঘ কথোপকথন হয়। পরবর্তীতে কিশোরের শোবার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ বিবি গান, ধারালো অস্ত্র এবং তীর-ধনুক উদ্ধার করে। তবে এই হত্যার পরিকল্পনার পেছনের প্রকৃত কারণ এখনো জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় লুইস কনেলির বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র, লিখিতভাবে প্রাণনাশের হুমকি, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, নাবালকের অপরাধে প্ররোচনা দেওয়া এবং হিট-অ্যান্ড-রানসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তাকে বিনা জামিনে রাপাহানোক রিজিওনাল জেলে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, হত্যার ষড়যন্ত্র ও হুমকির অভিযোগে অভিযুক্ত ১৭ বছর বয়সী কিশোরকে রাখা হয়েছে রাপাহানোক রিজিওনাল কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে। তবে এই দুজনের মধ্যে ঠিক কীভাবে পরিচয় হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
ইতালির একটি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে এক বাংলাদেশি ওয়েটারের ভারত-বিরোধী ও আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে ভারতীয় তরুণীদের সাথে তীব্র বাগ্বিতণ্ডার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার বা নেটপ্রভাবী খুশি দুবের অ্যাকাউন্ট থেকে এই ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর তা নেটদুনিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, বাংলাদেশি ওয়েটারের চরম দুর্ব্যবহার এবং ভারত নিয়ে অশালীন মন্তব্যের মুখে ভারতীয় তরুণীরা শক্ত অবস্থানে থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। প্রকাশিত ভিডিওর তথ্য অনুযায়ী, ইতালির ওই রেস্তোরাঁয় বিল পরিশোধ করার সময় হোসেন নামের ওই বাংলাদেশি ওয়েটার ভারতীয় তরুণীদের সাথে হঠাৎ করেই অত্যন্ত অসম্মানজনক আচরণ এবং তর্ক শুরু করেন। বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে ওই ওয়েটার সরাসরি ভারত নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে বসেন এবং তরুণীদের উদ্দেশ্যে বলেন যে তারা তাদের দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন। এই ভারত-বিরোধী ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য শোনার পর দৃশ্যতই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন খুশি দুবে এবং তার সাথে থাকা বান্ধবীরা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে ক্ষোভে ফেটে পড়া খুশিকে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, "টাকা দিয়ে চল, না হলে আমি ওকে চড় মেরে দেব।" চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতীয় তরুণীরা পিছু হটেননি, বরং তারা ওই ওয়েটারের দেশবিরোধী আচরণের তীব্র প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন এবং তার অশালীন মন্তব্যের জন্য যথাযথ কৈফিয়ত দাবি করেন। তবে ঘটনার মূল সূত্রপাত ঠিক কী কারণে হয়েছিল, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই নির্দিষ্ট ভিডিওটি থেকে স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। ভিডিওটির পরবর্তী অংশে দেখা যায়, বিষয়টি নিয়ে রেস্তোরাঁয় ইতালীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের তলব করা হয়। পুলিশের উপস্থিতিতে খুশি ও তার বান্ধবীরা ওয়েটার হোসেনের মুখোমুখি হন এবং তাকে তার করা সমস্ত ভারত-বিরোধী আপত্তিকর মন্তব্য সবার সামনে স্বীকার করার জন্য চাপ দেন। একই সাথে তারা পুলিশকে জানান যে, ভারতকে নিয়ে করা এই কটূক্তির জন্য ওই ওয়েটারকে অবশ্যই আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। হোসেন প্রথমে ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানালেও ভারতীয় তরুণীরা নিজেদের দাবিতে অনড় থাকেন। খুশি দুবে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ওই ওয়েটারকে বার বার বলতে বাধ্য করেন, "বলো, ভারতের উদ্দেশে কটু কথা বলার জন্য আমি দুঃখিত।" শেষ পর্যন্ত ভারতীয় তরুণীদের অনড় অবস্থানের মুখে পড়ে সেই বাংলাদেশি ওয়েটার সবার সামনে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন। ভিডিওটি অনলাইনে আসার পর থেকে নেটাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং অনেকেই এই ভারতীয় তরুণীদের সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের প্রশংসা করে তাদের ‘ভারতের সিংহী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
আসন্ন ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে আগত লাখ লাখ ফুটবল ভক্তের ঘাড়ে নতুন করে বাড়তি খরচের বোঝা চাপতে পারে। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই ক্রীড়া আসর চলাকালীন মার্কিন রেস্তোরাঁগুলো বিদেশি দর্শনার্থীদের খাবারের বিলের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে ‘টিপস’ বা বকশিশ যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশে রেস্তোরাঁয় টিপস দেওয়ার তেমন কোনো প্রচলন না থাকায় রেস্তোরাঁকর্মীদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি এড়াতেই এমন নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রেস্তোরাঁ শিল্পের কর্মীদের আয়ের এক বিশাল অংশ নির্ভর করে ক্রেতাদের দেওয়া টিপসের ওপর। দেশটির বেশিরভাগ সার্ভার বা খাবার পরিবেশনকারী এবং বারটেন্ডারদের ন্যূনতম মজুরির চেয়েও বেশ কম বেতন দেওয়া হয়। ফলে জীবনধারণের জন্য তারা ক্রেতাদের এই বকশিশের ওপরই প্রায় সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল। বিশ্বকাপের সময় বিপুলসংখ্যক আন্তর্জাতিক দর্শকের সমাগম হবে, যারা মার্কিন এই টিপস সংস্কৃতির সাথে মোটেও পরিচিত নন। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই আয়োজক শহরগুলোর রেস্তোরাঁগুলো কর্মীদের পাওনা নিশ্চিত করতে মূল বিলের সঙ্গেই টিপস যোগ করার কথা ভাবছে। এমনিতেই আকাশছোঁয়া দামের টিকিট, ফ্লাইট এবং হোটেল ভাড়ার চাপে দিশেহারা ভক্তদের জন্য নতুন এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবেই বাড়তি চাপ তৈরি করবে। ইতিমধ্যেই অনেক রেস্তোরাঁ মালিক এই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, আটলান্টার ‘টি’জ ব্রাঞ্চ বার’ তাদের খাবারের বিলের সাথে আগে থেকে কাটা ১৮ শতাংশ টিপস বাড়িয়ে এবার ২০ শতাংশ করার কথা বিবেচনা করছে। রেস্তোরাঁটির মালিক তেনেশিয়া মারে বাটলারের মতে, এটি কোনো সংস্কৃতির দোষ নয়, বরং বিদেশিরা এই নিয়মে অভ্যস্ত না হওয়ায় আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বোস্টন এবং কানসাস সিটির অনেক রেস্তোরাঁও একই পথে হাঁটছে। ম্যাসাচুসেটস রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশনের বোর্ড মেম্বার এবং ‘ড্যাভিওস’ রেস্তোরাঁর মালিক স্টিভ ডিফিলিপ্পো জানিয়েছেন, কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষা দিতে এই নীতির বিষয়ে মেনু কার্ডে বিস্তারিত উল্লেখ করে দর্শকদের আগেই জানিয়ে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, মিসৌরি রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক মাইক বারিস শহরের রেস্তোরাঁগুলোকে এই ছয় সপ্তাহের টুর্নামেন্টে বাধ্যতামূলক টিপস নীতি কার্যকর করার জোর পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এই নীতির সাথে সব ব্যবসায়ী পুরোপুরি একমত নন। ম্যান্সফিল্ডের ‘জিমিস পাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’-এর মালিক জর্জ পান্টোস মনে করেন, বাধ্যতামূলক সার্ভিস চার্জ চাপিয়ে দেওয়ার বদলে রেস্তোরাঁয় নোটিশ টাঙিয়ে অতিথিদের টিপসের বিষয়টি বিনয়ের সাথে স্মরণ করিয়ে দেওয়াটাই বেশি যৌক্তিক। এছাড়া, এই সিদ্ধান্তটি স্থানীয় আমেরিকানদের মধ্যেও ব্যাপক অসন্তোষের কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। খাদ্য গবেষণা সংস্থা টেকনোমিক-এর জ্যেষ্ঠ অধ্যক্ষ ডেভিড হেনকেসের মতে, নানাবিধ অর্থনৈতিক চাপে পিষ্ট স্থানীয় বাসিন্দারা রেস্তোরাঁর এই অতিরিক্ত খরচে ক্ষুব্ধ হতে পারেন। ক্রেতাদের পূর্বানুমতি ছাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিপস কেটে নেওয়ার এই নীতি রেস্তোরাঁগুলোতে ক্রেতার আনাগোনা আরও কমিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।