শেয়ারবাজার

সংগৃহীত
যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উদ্বেগ উপেক্ষা করে রেকর্ড ছুঁইছুঁই যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার

যুদ্ধের অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি খাতকে ঘিরে উদ্বেগ সত্ত্বেও ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার। বছরের শুরু থেকে দেশের প্রধান শেয়ার সূচকগুলো উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং একাধিকবার নতুন রেকর্ড গড়েছে।   বছরের শুরু থেকে স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস ৫০০ সূচক প্রায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট সূচক প্রায় ১২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ডাও জোন্স শিল্প গড় সূচকও প্রায় ৮ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে নতুন উচ্চতায় অবস্থান করছে। মার্চের শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করে শেয়ারবাজারে সাময়িক চাপ সৃষ্টি হলেও পরবর্তী সময়ে বাজার দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। বিশেষ করে অর্ধপরিবাহী চিপ ও স্মৃতিচিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের শক্তিশালী উত্থান বাজারকে নতুন গতি দেয়। মার্চের পর থেকে এ খাতের সূচক প্রায় ৮৮ শতাংশ বেড়েছে, যা এ সূচকের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ত্রৈমাসিক পারফরম্যান্স। তবে জুন মাসে প্রযুক্তি খাতে কিছুটা মন্দাভাব দেখা দেয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অতিরিক্ত বিনিয়োগ এবং সেই বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত আয় কত দ্রুত আসবে—এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস ৫০০ সূচক জুনে প্রায় ১ শতাংশ এবং নাসডাক কম্পোজিট সূচক প্রায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে যায়। বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের শেয়ার জুন মাসে প্রায় ১৭ শতাংশ এবং সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওরাকলের শেয়ার প্রায় ৩৫ শতাংশ কমেছে। এরপরও পুরো ত্রৈমাসিক হিসেবে দুটি প্রধান সূচকের এটি ২০২০ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী পারফরম্যান্স। অন্যদিকে প্রযুক্তি খাত থেকে অর্থ সরিয়ে আর্থিক, স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়ায় ডাও জোন্স জুন মাসে প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। মার্চের পর থেকে সূচকটির মোট প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৩ শতাংশ, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক অর্জন।   এদিকে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে বড় কোম্পানিগুলোর আর্থিক ফলাফল, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগের বাস্তব ফলাফলের দিকে। সাম্প্রতিক উত্থানের পর বাজারে কিছুটা মূল্য সংশোধনের সম্ভাবনা থাকলেও অনেক বিনিয়োগকারী সম্ভাব্য দরপতনকে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে দেখছেন। সব মিলিয়ে, যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার প্রত্যাশার তুলনায় দৃঢ় অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চলেছে।

siddikur rahman জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে লেনদেনের প্রতীকী চিত্র
অর্থনীতি শক্তিশালী, তবু চাপে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার; এআই বিনিয়োগে বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি শক্ত অবস্থানে থাকলেও দেশটির শেয়ারবাজারে চাপ বাড়ছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শক্তিশালী ভোক্তা ব্যয় এবং উন্নত ভোক্তা আস্থার মতো ইতিবাচক অর্থনৈতিক সূচক অর্থনীতিকে সহায়তা করলেও প্রযুক্তি খাতের শেয়ারদর পতন, সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগের ঝুঁকি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।   জুন মাসে স্পেসএক্সের রেকর্ড গড়া প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার (আইপিও) প্রস্তুতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নতুন প্রধান কেভিন ওয়ার্শের প্রথম নীতিনির্ধারণী বৈঠকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মধ্যেও শেয়ারবাজারে বৈপরীত্য দেখা গেছে।   একদিকে ইতিবাচক অর্থনৈতিক তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা তুলে ধরেছে। অন্যদিকে একই সময়ে নাসডাক ও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক নিম্নমুখী ছিল। বাজারের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারও একটি সূচক অনুযায়ী ১০ শতাংশের বেশি কমেছে।   এদিকে তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলেও মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের দাম বেড়েছে এবং ফলন কমেছে।   ফিলাডেলফিয়াভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান জ্যানি মন্টগোমারি স্কটের প্রধান স্থির-আয় কৌশলবিদ গাই লে বাস বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লেও ভোক্তারা জ্বালানিবহির্ভূত পণ্য ও সেবায় ব্যয় অব্যাহত রেখেছেন। তার মতে, এটি প্রমাণ করে যে বছরের শুরুতে ধারণার তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি অনেক বেশি স্থিতিশীল, সহনশীল এবং শক্তিশালী। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আরও বাড়তে পারে।   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিপুল বিনিয়োগের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করা প্রকৃত সুদের হার বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীরা নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। ফেডপ্রধান কেভিন ওয়ার্শের কঠোর অবস্থানের পর বাজারে সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। যদিও অনেক বিশ্লেষকের মতে, আর্থিক পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই কঠোর হয়ে যাওয়ায় বাস্তবে আর সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে।   এদিকে স্বর্ণ, বিটকয়েন, মাইক্রোসফট ও মেটার মতো বিভিন্ন সম্পদের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ওয়াল স্ট্রিটে নতুন শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রি রেকর্ড গতিতে চলছে। এর বড় অংশই ব্যবহৃত হচ্ছে এআই খাতে বিনিয়োগে। যদিও অনেক বিনিয়োগকারী এ খাতে অতিমূল্যায়নের ঝুঁকির কথা বলছেন, তবুও বিনিয়োগের গতি এখনো কমেনি।   গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষক কামাক্ষ্য ত্রিবেদী বলেন, যুদ্ধের আশঙ্কা কমে যাওয়া এবং তেলের দাম হ্রাস পাওয়ায় বাজার আবার অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তির দিকে নজর দিচ্ছে। তবে এই ইতিবাচক পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই শেয়ারের উচ্চ মূল্যায়নে প্রতিফলিত হয়েছে। তার মতে, এআই খাতেই সবচেয়ে বেশি টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে এবং এটিই বর্তমানে বাজারের অস্থিরতার অন্যতম কারণ।   বাজারের অস্থিরতার বড় একটি কারণ হলো বিনিয়োগকারীদের দ্রুত এক খাত থেকে অন্য খাতে বিনিয়োগ স্থানান্তর। মার্চের শেষ দিকে যুদ্ধসংক্রান্ত উদ্বেগ কমে যাওয়ার পর থেকে সেমিকন্ডাক্টর সূচক ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। চলতি বছরে সূচকটির মূল্য বেড়েছে ৮৭ শতাংশ। একই সময়ে মাইক্রনের শেয়ার চার গুণ এবং ইন্টেল ও মার্ভেল টেকনোলজির শেয়ার প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।   অন্যদিকে এনভিডিয়া, অ্যাপল ও অ্যালফাবেটের নেতৃত্বাধীন ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ গ্রুপ চলতি বছরে নিম্নমুখী রয়েছে। অথচ ২০২৫ সালে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের মোট প্রবৃদ্ধির প্রায় ৪০ শতাংশ এসেছিল এই সাত প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বৃদ্ধি ও লভ্যাংশ থেকে। বিশ্লেষকদের মতে, এআই অবকাঠামো নির্মাণে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিপুল ব্যয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। গত বছরের শেষ দিকে ওরাকলসহ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান ব্যাপক ঋণ নেওয়া শুরু করার পর এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।   গত ১২ মাসে অ্যামাজন ও অ্যালফাবেট বিভিন্ন মুদ্রায় প্রায় ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বন্ড ইস্যু করেছে। এআই অবকাঠামো নির্মাণকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ-যোগ্য বন্ড বিক্রির পরিমাণ ইতোমধ্যেই ২০২৫ সালের মোট বিক্রির পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে। বিএনপি পারিবাসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর এই সংখ্যা ২৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে।   ওকলাহোমাভিত্তিক লংবো অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেক ডলারহাইড বলেন, এআই প্রযুক্তি চিপ নির্মাতাদের জন্য ইতিবাচক হলেও যেসব প্রতিষ্ঠান এই প্রযুক্তিতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করছে, তারা এখনো প্রত্যাশিত আর্থিক সুফল পাচ্ছে না। এ কারণেই চলতি বছরে ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেনের শেয়ারদর চাপে রয়েছে।   অনেক বিনিয়োগকারীর আশঙ্কা, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর আরও কমতে পারে। গত সপ্তাহে ইউবিএস তাদের এআইভিত্তিক বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে সেমিকন্ডাক্টর ও হার্ডওয়্যার খাতে বিনিয়োগ কমিয়েছে। তাদের ধারণা, শেয়ারদর কমে যাওয়ায় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে এআই অবকাঠামোয় মূলধনি ব্যয় কমাতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, এমনটি হলে এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। কারণ, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণ অত্যন্ত বড়। গাই লে বাস বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি করপোরেট বিনিয়োগ। সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী কয়েক বছরে ৭০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি মূলধনি ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। তাই এই বিনিয়োগ অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম।   তবে তার মতে, মূলধনি ব্যয় কমে যাবে বলে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার একাধিকবার ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
শেয়ারবাজারে এক সপ্তাহে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার হারালেন ইলন মাস্ক

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তিদের একজন ইলন মাস্কের সম্পদে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। রকেট প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর টানা কয়েক দিন ধরে কমতে থাকায় তার ব্যক্তিগত সম্পদ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।   ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন ডলার কমেছে। এর ফলে তার সম্পদ ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে কমে প্রায় ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এই ক্ষতির পরিমাণ বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী ব্যক্তিদের একজন ল্যারি পেজের মোট সম্পদের চেয়েও বেশি। বর্তমানে ল্যারি পেজের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৯৯ বিলিয়ন ডলার বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।   চলতি মাসের শুরুতে মহাকাশ প্রযুক্তি, উপগ্রহ যোগাযোগ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের ব্যবসা নিয়ে গঠিত একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। শেয়ার লেনদেনের প্রথম কয়েক দিনে কোম্পানিটির শেয়ারদর দ্রুত বাড়তে থাকে এবং বাজারমূল্য কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছে যায়।   তবে সেই উত্থান দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। টানা তিন কার্যদিবস ধরে শেয়ারদর কমতে থাকায় কোম্পানিটির বাজারমূল্যও দ্রুত হ্রাস পায়। এক পর্যায়ে সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে শত শত বিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য হারায় প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ এবং ভবিষ্যৎ আয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চ ব্যয়ের প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা প্রকাশের পর বাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।   প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বড় বিনিয়োগের জন্য অন্তত ২০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এ ঘোষণার পর একদিনেই শেয়ারদর উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়, যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দেয়। যদিও কোম্পানির হাতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি নগদ অর্থ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে, তবুও ভবিষ্যৎ ব্যয় ও মুনাফা নিয়ে বাজারে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।   শুধু ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান নয়, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অন্যান্য বড় কোম্পানির শেয়ারেও চাপ দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিনির্ভর শেয়ারবাজার সূচক নাসডাক কমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সময়ে অ্যালফাবেট ও অ্যামাজনের শেয়ারদরেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। এশিয়ার বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হয়েছে এবং জাপানের প্রধান শেয়ারসূচকেও বড় ধরনের পতন রেকর্ড করা হয়েছে।   বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাত নিয়ে গত কয়েক বছরের উচ্ছ্বাসের পর এখন বিনিয়োগকারীরা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত আয়, ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতার দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন। ফলে প্রযুক্তিখাতের শেয়ারে অস্থিরতা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
প্রযুক্তি খাতে কেনাকাটার চাপ বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ফিরেছে গতি

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে সোমবার মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। প্রযুক্তি খাত ও চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরের পুনরুদ্ধারের ফলে নাসডাক ও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে লেনদেন শেষ করেছে। তবে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ সূচক সামান্য পতনের মধ্য দিয়ে দিন শেষ করেছে।   রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবারের বড় ধরনের দরপতনের পর তুলনামূলক কম দামে শেয়ার কেনার সুযোগ কাজে লাগাতে শুরু করেন বিনিয়োগকারীরা। একই সময়ে ইরান ও ইসরায়েল উভয় পক্ষ হামলা বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয় দেশকে অবিলম্বে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানানোর পর পরিস্থিতির পরিবর্তন দেখা যায়। গত ২৪ ঘণ্টার সংঘাতকে চলতি বছরের এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সবচেয়ে সরাসরি মুখোমুখি অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।   দিন শেষে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ২২ দশমিক ০৭ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ৪০৫ দশমিক ৮১ পয়েন্টে পৌঁছায়। নাসডাক কম্পোজিট সূচক ২২২ দশমিক ১৩ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়ে ২৫ হাজার ৯৩১ দশমিক ৫৬ পয়েন্টে ওঠে। অন্যদিকে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ ৭৫ দশমিক ৬১ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ কমে ৫০ হাজার ৭৯১ দশমিক ১৭ পয়েন্টে নেমে আসে।   দিনের লেনদেনে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলো শক্তিশালী অবস্থান ফিরে পায়। বিশেষ করে ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর সূচকে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা যায়। গত শুক্রবার চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরে বড় পতনের ফলে বাজারমূল্যে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার কমে গিয়েছিল।   চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইন্টেলের শেয়ারদরও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইনফরমেশন’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট ২০২৮ সালের জন্য ৩০ লাখের বেশি টেনসর প্রসেসিং ইউনিট উৎপাদনের অর্ডার দিয়েছে।   নিউ জার্সিভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান চেরি লেন ইনভেস্টমেন্টসের অংশীদার রিক মেকলার বলেন, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরের সাম্প্রতিক পতনের পর অনেক বিনিয়োগকারী এখন কম দামে শেয়ার কিনছেন। তার মতে, বিশ্লেষকেরাও আবার এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনার সুপারিশ করতে শুরু করেছেন।   রিক মেকলার আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাজার প্রায় নিখুঁত পরিস্থিতি ধরে নিয়ে মূল্যায়িত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সে রকম নয়। ফলে বাজারে ওঠানামা এবং বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগকে স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন তিনি।   এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ায় আয়োজিত বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলনে অ্যাপল তাদের ভার্চুয়াল সহকারী সিরির জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন সুবিধা ঘোষণা করেছে। তবে এ ঘোষণার পরও দিনের শেষভাগে কোম্পানিটির শেয়ারদর কিছুটা কমেছে।   বাজার সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রত্যাশিত ঘোষণার পর অনেক বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নেওয়ার কৌশল নিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মার্ভেল টেকনোলজির শেয়ারদরও বেড়েছে। আগামী ২২ জুন থেকে প্রতিষ্ঠানটি এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকে অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে।   ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এলি লিলির শেয়ারও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। কোম্পানিটির নতুন প্রজন্মের স্থূলতা প্রতিরোধী ওষুধ ‘রেটাট্রুটাইড’-এর পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ওষুধটি ওজন কমানোর পাশাপাশি স্লিপ অ্যাপনিয়ার তীব্রতা হ্রাস এবং হাঁটুর ব্যথা উপশমেও সহায়তা করতে পারে।a

শাহারিয়া নয়ন জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
৫ বছরে ১৫০০% প্রবৃদ্ধি, বিশ্বের প্রায় সব দেশের জিডিপিকে ছাড়াল এনভিডিয়া

শেয়ারবাজারের ইতিহাসে এনভিডিয়ার বর্তমান উত্থানটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক নজির সৃষ্টি করেছে। মাত্র পাঁচ বছর আগেও যে প্রতিষ্ঠানটিকে উচ্চমানের গেমিং গ্রাফিক্স কার্ড নির্মাতা হিসেবে চেনা হতো, আজ তারা বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা জেনারেটিভ এআই-এর মূল কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ৫ বছরে প্রায় ১,৫০০% প্রবৃদ্ধি অর্জন করে এনভিডিয়া তার বাজারমূল্যে যুক্ত করেছে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি। বর্তমানে কোম্পানির আনুমানিক বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে।   বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্টদের মধ্যে অ্যালফাবেটের বাজারমূল্য ৪.৭৬ ট্রিলিয়ন, অ্যাপলের ৪.৩৫ ট্রিলিয়ন, মাইক্রোসফটের ২.৯৯ ট্রিলিয়ন এবং অ্যামাজনের বাজারমূল্য ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার। কোনো কোম্পানির বাজারমূল্য এবং দেশের জিডিপি এক বিষয় না হলেও, এই তুলনাটি স্পষ্ট করে যে এনভিডিয়া কতটা দানবীয় আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে এনভিডিয়া কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (৩০.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার) এবং চীন (১৯.৬ ট্রিলিয়ন ডলার) বাদে পৃথিবীর যেকোনো একক দেশের বার্ষিক জিডিপির চেয়েও বেশি মূল্যবান। এটি জার্মানি, জাপান, যুক্তরাজ্য, ভারত ও ফ্রান্সের জিডিপিকে অনায়াসে ছাড়িয়ে গেছে। সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের পরেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সম্পদ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে এনভিডিয়া, যা রূপার চেয়েও বেশি।   জেনারেটিভ এআই বা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM), রোবোটিক্স ও স্বয়ংক্রিয় গাড়ির ডাটা সেন্টার পরিচালনায় এনভিডিয়ার জিপিইউ (GPU) অপরিহার্য হয়ে ওঠায় এই অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি এসেছে। গত অর্থ বছরে কোম্পানিটি প্রায় ২১৬ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব এবং ৯৬.৬ বিলিয়ন ডলার ফ্রি ক্যাশ ফ্লো (FCF) তৈরি করেছে। ওয়াল স্ট্রিটের ধারণা, আগামী দুই বছরে কোম্পানিটি ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ফ্রি ক্যাশ ফ্লো উৎপাদন করবে, যা কর্পোরেট ইতিহাসে বিরল। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, মার্কিন সরকারের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে চীনের মতো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এআই বাজারে পূর্ণ প্রবেশাধিকার না পেয়েও এনভিডিয়া এই উচ্চতায় পৌঁছেছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরে যোগ দিয়েছেন এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং, যা বিনিয়োগকারীরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।   অভাবনীয় এই সাফল্যের মাঝেও বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছু ঝুঁকি থেকে যায়। এনভিডিয়ার বর্তমান মূল্যায়ন ধরে রাখতে হলে তাদের আগামী বহু বছর এআই বাজারে একক আধিপত্য বজায় রাখতে হবে। তবে বর্তমানে অ্যামাজন, মাইক্রোসফট এবং অ্যালফাবেটের মতো ক্লাউড জায়ান্টরা তাদের নিজস্ব কাস্টম এআই চিপ তৈরি করছে, যা এনভিডিয়াকে প্রতিযোগিতার মুখে ফেলবে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর বাজারের চড়াই-উতরাইয়ের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, যা দ্রুত সম্প্রসারণের পর সাধারণত কিছুটা ঠাণ্ডা বা ঝিমিয়ে পড়ে। একটি গেমিং চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র আধ দশকে ৫.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের এআই টাইটানে পরিণত হওয়া আধুনিক পুঁজি বাজারের ইতিহাসে অন্যতম সেরা কর্পোরেট রূপান্তর হিসেবে লেখা থাকবে।  

তাবাস্সুম মে ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: আমেরিকা বাংলা
যুদ্ধের প্রভাবে এক মাসে শীর্ষ ৫ ধনীর সম্পদ কমেছে ৮৮ বিলিয়ন ডলার

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের সম্পদের ওপরও।   ফোর্বস সাময়িকীর এপ্রিলের তালিকা অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ ধনীর মোট সম্পদ এক মাসে কমেছে ৮৮ বিলিয়ন ডলার। এদের মধ্যে শীর্ষ ধনী Elon Musk-এর সম্পদ কমেছে সবচেয়ে বেশি ২২ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৮১৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।   এই তালিকায় থাকা অন্যরা হলেন Larry Page, Jeff Bezos, Sergey Brin এবং Mark Zuckerberg।   ফোর্বসের তথ্যমতে, ল্যারি পেজের সম্পদ কমেছে ২০ বিলিয়ন ডলার, সের্গেই ব্রিনের ১৮ বিলিয়ন ডলার এবং মার্ক জাকারবার্গের কমেছে সর্বোচ্চ ২৭ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে জেফ বেজোসের সম্পদ কমেছে তুলনামূলক কম, প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।   বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরান-ইসরায়েল সংঘাতকে ঘিরে বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়িয়ে শেয়ার বিক্রি শুরু করেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় বড় শেয়ারবাজারে সূচক নিম্নমুখী হয়। এসঅ্যান্ডপি ৫০০, ডাও জোন্স ও নাসডাক সূচকে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে, বিশেষ করে প্রযুক্তি খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   মূলত শেয়ারের দাম কমে যাওয়ার কারণেই এই অতিধনীদের সম্পদের মূল্য হ্রাস পেয়েছে।   বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে শীর্ষ পাঁচ ধনীর এই সম্পদ হ্রাসের পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, যা বাংলাদেশের চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকারের চেয়েও বেশি।   তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুঁজিবাজারের ওঠানামার সঙ্গে এই সম্পদের পরিমাণ দ্রুত পরিবর্তিত হয় এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে তা আবারও বাড়তে পারে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধ অবসানের আভাস: বিশ্ববাজারে তেলের দরপতন, চাঙ্গা শেয়ারবাজার

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তির বার্তার আভাসে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ শেষ করার ইঙ্গিত এবং ইরানের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় বুধবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে, বিপরীতে বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে শেয়ারবাজারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এই মন্তব্যের পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করে।  আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০১.৮ ডলারে নেমে এসেছে, যা দিনের শুরুতে ১০০ ডলারের নিচেও স্পর্শ করেছিল। অন্যদিকে, মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই-এর দাম ২.৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮.৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে তেহরানও যুদ্ধ বন্ধ করতে প্রস্তুত। তবে এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অন্তত ছয় মাস যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন, যা কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি করেছিল। শান্তির এই সম্ভাবনায় বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বুধবার এশিয়ার বাজারে দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক রেকর্ড ৮.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জাপানের নিক্কেই ৫.২ শতাংশ এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং ২ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোপের প্রধান বাজার লন্ডন, প্যারিস এবং ফ্রাঙ্কফুর্টের সূচকগুলোও ১.৫ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা এখনো কিছুটা সতর্ক। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়, যা বর্তমানে যুদ্ধাবস্থার কারণে বিঘ্নিত। স্পার্টা-র বাজার বিশ্লেষক নিল ক্রসবি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতি মানেই দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া নয়। অবকাঠামোগত ও কারিগরি কারণে সরবরাহ পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরতে আরও কয়েক সপ্তাহ বা মাস সময় লেগে যেতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০