হোয়াইট হাউস

ছবি: সংগৃহীত
হোয়াইট হাউসের ইউএফসি আয়োজনকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও স্নাইপার হামলার পরিকল্পনা, গ্রেপ্তার দুই ক্যালিফোর্নিয়া বাসিন্দা

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত একটি বহুল আলোচিত ইউএফসি অনুষ্ঠানে ড্রোন ও স্নাইপার ব্যবহার করে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ার দুই বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ বলছে, সরকারবিরোধী মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ একটি নেটওয়ার্কের সদস্যরা এই পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তাদের উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে বৃহত্তর রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা।   গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন ব্রায়ান ওমর রোয়া এবং মাইকেল অ্যালান থমাস। তারা দুজনই ক্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইড কাউন্টির বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার তারা আদালতে প্রথমবারের মতো হাজির হন। ফেডারেল তদন্ত নথি অনুযায়ী, এই ষড়যন্ত্রের তথ্য প্রথমে এফবিআইয়ের কাছে পৌঁছে দেন ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ১৯ বছর বয়সী টাইসেন সি. প্রোপার। তার বাবা-মা স্থানীয় পুলিশকে বিষয়টি জানালে ১১ জুন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এফবিআই। জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রোপার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে রোয়া ও থমাসকে শনাক্ত করেন এবং তাদেরকে পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন।   তদন্তকারীরা প্রোপারের আইফোন থেকে বিভিন্ন স্ক্রিনশট উদ্ধার করেন। সেখানে প্রায় ১৯ জন সদস্যের একটি গোপন অনলাইন নেটওয়ার্কের কথোপকথনের তথ্য পাওয়া যায়। সদস্যরা এনক্রিপটেড যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ওয়াশিংটন ডিসি ও হোয়াইট হাউসের মানচিত্র, সম্ভাব্য অবস্থান এবং হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল ১৪ জুন অনুষ্ঠিত ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ নামের বিশেষ আয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানটিতে বিপুল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থা এতে অংশ নেয় এবং দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও বিনোদন জগতের তারকারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ৮০তম জন্মদিন উদযাপনের সময়ও অনুষ্ঠিত হয়।   তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের অনলাইন আলোচনায় স্নাইপারদের অবস্থান নির্ধারণ, ড্রোন উড্ডয়নের সম্ভাব্য স্থান এবং হামলার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। তবে আদালতের নথিতে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির নির্দিষ্ট দায়িত্ব কী ছিল, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।   কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নেটওয়ার্কের সদস্যদের কর্মকাণ্ডের পেছনে সরকারবিরোধী আদর্শিক অবস্থান কাজ করছিল। তদন্তে জানা গেছে, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ‘ভ্যানগার্ড অব দ্য ওল্ড’ নামের একটি টিকটক গ্রুপের মাধ্যমে তারা সংগঠিত হতে শুরু করে। সেখানে ধর্মীয় উগ্রতা, সরকারের প্রতি অসন্তোষ এবং বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক আলোচনার বিষয় উঠে আসে।   প্রোপার তদন্তকারীদের বলেছেন, পরিকল্পিত হামলার উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে একটি বৃহত্তর আন্দোলন বা বিদ্রোহের সূচনা করা। তদন্তে আরও জানা গেছে, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কয়েকজনকে ওহাইও, মিসৌরি, নেব্রাস্কা ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকেও শনাক্ত করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন বহু অঙ্গরাজ্যজুড়ে পরিচালিত একটি তদন্তে পরিণত হয়েছে। এদিকে প্রোপারের পরিবারের সদস্যরা স্বেচ্ছায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ হস্তান্তর করেছেন। এর মধ্যে আধুনিক রাইফেল এবং হাজার হাজার গুলি ছিল বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে রোয়া ও থমাসের কাছ থেকে কী ধরনের অস্ত্র বা সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ব্রায়ান ওমর রোয়া এখনো হেফাজতে রয়েছেন। আগামী ৭ জুলাই তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে মাইকেল অ্যালান থমাসের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ জুলাই।   ফেডারেল তদন্তকারীরা বলছেন, হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই তা শনাক্ত করা সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়ানো গেছে। তবে অনলাইনে সংগঠিত উগ্রপন্থী ও সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক সহিংসতার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
হোয়াইট হাউস–সংলগ্ন ইউএফসি ইভেন্টে ড্রোন হামলার পরিকল্পনায় এফবিআইয়ের অভিযানে ৫ জন গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে অনুষ্ঠিতব্য একটি ইউএফসি ইভেন্টকে লক্ষ্য করে কথিত বিস্ফোরক-ভর্তি ড্রোন হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।   মঙ্গলবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, পরিকল্পনাটি একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের কথা ছিল, যেখানে প্রথমে ড্রোন ব্যবহার করে বিস্ফোরক হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করার পরিকল্পনা ছিল। এরপর ভিড়কে নির্দিষ্ট একটি এলাকায় ঠেলে নিয়ে সেখানে স্নাইপার দলের মাধ্যমে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানানোর কথাও পরিকল্পনায় ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপে হামলাকারীদের একটি দল হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করতে পারে—এমন তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।   এফবিআই জানায়, ১০ জুন তারা এই পরিকল্পনার বিষয়ে তথ্য পায় এবং দ্রুত তদন্ত শুরু করে।  পরে সিনসিনাটিতে একটি তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়, যেখানে প্রথম গ্রেপ্তারটি হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিযান চালিয়ে আরও সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়।   তদন্তে আরও জানা গেছে, কিছু সন্দেহভাজন ১২ বা ১৩ জুন ভার্জিনিয়ার ফ্রেডেরিক্সবার্গ এলাকায় গিয়ে হামলার প্রস্তুতি নেয়। একজন সন্দেহভাজনের আইফোন বিশ্লেষণ করে অন্তত ২৩ জন ব্যবহারকারীর সঙ্গে এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ সিগনালে যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ, যেখানে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।   একজন সন্দেহভাজন জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, এই হামলার লক্ষ্য ছিল “পুঁজিবাদী এলিট”, “ধনকুবের” এবং এমন রাজনীতিবিদরা যারা আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির (AIPAC) অর্থায়ন পান—এমনটাই জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।   এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এক বিবৃতিতে বলেন, দ্রুত ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে সম্ভাব্য হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়েছে। তিনি এটিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর “কার্যকর ও নিয়মিত কাজের অংশ” বলেও উল্লেখ করেন।   ঘটনার সময় আয়োজিত এই হাই-প্রোফাইল ইউএফসি ইভেন্টে প্রায় ৪,৩০০ জন উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে প্রায় ১,২০০ জন সক্রিয় সেনাসদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনের সঙ্গেও একই সময়ে অনুষ্ঠিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এফবিআই জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।

বায়জিদ হাসান জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
হোয়াইট হাউসে ভয়াবহ নাশকতার পরিকল্পনা ব্যর্থ, এফবিআইয়ের অভিযানে গ্রেপ্তার একাধিক সন্দেহভাজন

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে আয়োজিত ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ ইভেন্টে বড় ধরনের হামলার এক ভয়াবহ ছক বানচাল করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। এই নাশকতার পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে অন্তত ১২ জন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, ‘অ্যাকসিলারেশনিস্ট’ বা চরমপন্থি মতাদর্শে বিশ্বাসী এই চক্রটির মূল লক্ষ্য ছিল আমেরিকায় পুঁজিবাদী ব্যবস্থার পতন ঘটানো। ড্রোন ও স্নাইপার দিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে হোয়াইট হাউসে একটি নারকীয় পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা করেছিল তারা।   অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ‘সিগন্যাল’ অ্যাপের মাধ্যমে এই হামলার পরিকল্পনা চলছিল। তবে এফবিআইয়ের তৎপরতায় এবং এক সন্দেহভাজনের মায়ের সতর্কতায় ভেস্তে যায় পুরো ব্লুপ্রিন্ট। গত ১০ জুন ওহাইও থেকে টাইসেন প্রপার নামের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়, মূলত যার মায়ের সন্দেহ থেকেই এই তদন্তের সূত্রপাত ঘটে। ছেলের অতিরিক্ত আগ্নেয়াস্ত্র কেনা এবং অনলাইনে সন্দেহভাজন কিছু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি তিনি স্থানীয় পুলিশকে জানান। প্রপারের মা জানান, অনলাইনে কিছু কথিত সাবেক সেনা সদস্য ও ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর সঙ্গে তার ছেলের যোগাযোগ ছিল। এই গোষ্ঠীটি মূলত সরকারি দুর্নীতি, জেফরি এপস্টেইন ইস্যু এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল।   তদন্তে উঠে এসেছে, চক্রটির এই হামলার ছকটি ছিল কয়েকটি ধাপে বিভক্ত। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হতো। এর ফলে ইভেন্টে আসা দর্শনার্থীরা ভয়ে হোয়াইট হাউসের আঙিনার বাইরে পালাতে বাধ্য হতেন। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা স্নাইপার দল তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালাত। ভার্জিনিয়ার ফ্রেডেরিকসবার্গে জড়ো হয়ে সেখান থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে গিয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর কথা ছিল তাদের। এমনকি হোয়াইট হাউসের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের পরিকল্পনাও ছিল এই চরমপন্থি দলটির।   এই চক্রের হিটলিস্টে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক শীর্ষ রাজনীতিবিদের নামও ছিল। বিশেষ করে ইসরায়েলপন্থি লবিং গ্রুপ ‘আইপ্যাক’ (AIPAC)-এর কাছ থেকে অনুদান নেওয়ার কারণে তারা বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটর ও প্রতিনিধিকে টার্গেট করেছিল। এদের মধ্যে সিনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্ন, জিম জাস্টিস, শেলি মুর ক্যাপিটো এবং প্রতিনিধি ক্যারল মিলার ও রাইলি মুরের নাম উল্লেখযোগ্য। গ্রেপ্তার হওয়া তরুণ প্রপারের ঘর তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ গুলি, আগ্নেয়াস্ত্র ও ট্যাকটিক্যাল পোশাক উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানা যায়, হাইস্কুল পাসের পর উপহার হিসেবে পাওয়া তিন হাজার ডলার দিয়ে সে এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম কিনেছিল। এছাড়া অনলাইনে হিটলারের প্রতি সহানুভূতি ও ইহুদিবিদ্বেষী বিভিন্ন মন্তব্যও করেছিল সে। ১১ জুনের জিজ্ঞাসাবাদে প্রপার স্বীকার করে যে, যুক্তরাষ্ট্রে একটি ‘বিপ্লব’ শুরু করার লক্ষ্যেই তারা এই সংঘবদ্ধ হামলার ছক কষেছিল।   এই ঘটনায় ক্যালিফোর্নিয়া থেকে মাইকেল অ্যালান থমাস ও ব্রায়ান ওমা রোয়া, নেব্রাস্কা থেকে আব্রাহাম হারমোসিলো আলভারেজ এবং মিসৌরি থেকে ড্যানিয়েল এসক্রিজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ষড়যন্ত্রসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, ২৩ সদস্যের এই উগ্রপন্থি গ্রুপটির অনেকেই প্রথমে টিকটকের একটি গ্রুপের মাধ্যমে যুক্ত হয় এবং পরে সিগন্যাল অ্যাপে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করত। এই চরমপন্থি দলটি মূলত ‘অ্যাকসিলারেশনিস্ট’ মতাদর্শ ধারণ করত, যে মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে গত মাসে সান দিয়েগোর মসজিদেও হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এই ঘটনায় সামনে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বায়জিদ হাসান জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
হোয়াইট হাউসে কুস্তি খেলায় ড্রোন ও বন্দুক হামলার বড় ষড়যন্ত্র বানচাল

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের প্রাঙ্গণে গত উইকেন্ডে অনুষ্ঠিত একটি হাই-প্রোফাইল ইউএফসি (UFC) খাঁচা-কুস্তি (কেজ-ফাইটিং) ম্যাচকে লক্ষ্য করে তৈরি করা এক ভয়াবহ হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার (১৬ জুন) আদালতের সিলমোহর মুক্ত করা নথিপত্র থেকে এই তথ্য জানা গেছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ একদল ষড়যন্ত্রকারী বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন ওড়ানো এবং বিস্ফোরণের পর আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যাওয়া সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর ছক কষেছিল।   আদালতের নথি অনুযায়ী, এফবিআই এই ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত প্রায় ২০ জন সদস্যের একটি এনক্রিপ্টেড টেক্সট মেসেজ গ্রুপের চ্যাটিং উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। সেখানে তারা হামলার এলাকার বিস্তারিত মানচিত্র শেয়ার করেছিল এবং হামলার পর লুকিয়ে থাকার জন্য একটি 'সেফ হাউস' ও পালানোর পথ নিয়ে আলোচনা করছিল। তবে গত সপ্তাহে সফলভাবে ব্যর্থ করে দেওয়া এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের কতটা কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছিল তা আদালতের রেকর্ড থেকে এখনো স্পষ্ট জানা যায়নি।   গত ১৪ জুন হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে (দক্ষিণ চত্বর) এই মিক্সড মার্শাল আর্টস বা কুস্তি প্রতিযোগিতার আসর বসার কথা ছিল। এর ঠিক চার দিন আগে, অর্থাৎ ১০ জুন এফবিআই সম্ভাব্য এই হুমকির বিষয়টি প্রথম জানতে পারে। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল বলেন, "এফবিআই, আমাদের সহযোগী সংস্থা এবং বিচার বিভাগের একটি বহুমাত্রিক যৌথ তৎপরতার কারণে একাধিক সন্দেহভাজনকে ইতিমধ্যে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং পরিকল্পিত হামলাটি শুরু হওয়ার আগেই সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে।"   এই ঘটনার তদন্তের সাথে সংশ্লিষ্ট একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছেন যে, ওহাইও, মিসৌরি এবং ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ওহাইও-এর ১৯ বছর বয়সী তরুণ টাইসেন প্রোপার রয়েছেন। এফবিআই-এর হলফনামা অনুযায়ী, গত সপ্তাহে প্রোপারের মা তার ছেলের বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র কেনাকাটা এবং সন্দেহজনক অনলাইন যোগাযোগ নিয়ে স্থানীয় পুলিশের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।   গ্রেপ্তার হওয়া প্রোপারের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে হত্যার চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রোপার স্বীকার করেছেন যে, তিনি এই হামলার পরিকল্পনায় সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন। হলফনামা থেকে আরও জানা যায়, এই চক্রের সদস্যরা গত মার্চ মাস থেকে 'ভ্যানগার্ড অব দ্য ওল্ড' নামক একটি টিকটক গ্রুপের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছিল। নথিতে বলা হয়েছে, চক্রের সদস্যরা বিশ্বাস করত যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভুল পথে এগোচ্ছে এবং দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য এটিকে প্রথমে ধ্বংস করা প্রয়োজন। এছাড়া জেফ্রি এপস্টেইনের মতো বিতর্কিত চরিত্রের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা যেন দেশ শাসন করতে না পারে, সেটিও ছিল তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: এপি
হোয়াইট হাউসে ইউএফসি ইভেন্টে ড্রোন হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ, গ্রেপ্তার ৫

হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ ইভেন্টকে লক্ষ্য করে কথিত বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলার একটি পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।    প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত হেফাজতে ছিলেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এফবিআইয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়।    তদন্তে উঠে এসেছে, সন্দেহভাজনরা হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে অনুষ্ঠিত ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ ইভেন্টকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা করেছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করার পরিকল্পনা ছিল।    এফবিআই ১০ জুন সম্ভাব্য এই ষড়যন্ত্রের তথ্য পায় এবং তদন্ত শুরু করে। পরে একাধিক অঙ্গরাজ্যে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীরা এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপ সিগন্যালের বিভিন্ন চ্যাটও খতিয়ে দেখছেন।    এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এক বিবৃতিতে বলেন, এফবিআই, বিচার বিভাগ এবং অন্যান্য অংশীদার সংস্থার সমন্বিত অভিযানের ফলে পরিকল্পিত হামলা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।    উল্লেখ্য, ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ ইভেন্টটি হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং এতে কয়েক হাজার দর্শক অংশ নেন।

নীলুফা নিশাত জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
হোয়াইট হাউসের ভেতর প্রথমবারের মতো কুস্তি ম্যাচের আয়োজন, ট্রাম্পের জন্মদিনে অন্যরকম উৎসব

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো দেশটির রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসে ‘ইউনাইটেড ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ’ বা ইউএফসি-এর বিশেষ ফাইট বা মারামারি ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে। আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উদযাপন এবং একই সাথে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে আজ রোববার (১৪ জুন) হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে এই নজিরবিহীন ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।   এই মহাগুরুত্বপূর্ণ আয়োজনের মূল আকর্ষণ হিসেবে আনডিস্পিউটেড ইউএফসি লাইটওয়েট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবেন অপরাজিত জর্জিয়ান-স্প্যানিশ ফাইটার ইলিয়া তোপুরিয়া এবং আমেরিকার তারকা জাস্টিন গেইজি। আমেরিকার পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ৮টায় এই মূল লড়াইটি শুরু হবে, যা প্যারামাউন্ট প্লাস প্ল্যাটর্মে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এর আগে বিকেল ৫টা থেকেই হোয়াইট হাউসের লনে অন্যান্য প্রাথমিক ফাইটগুলো শুরু হয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন প্রশাসনের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত থেকে এই বিশেষ ফাইট উপভোগ করবেন। হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সামরিক বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় ৫ হাজার আমন্ত্রিত অতিথি এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে সেখানে জড়ো হবেন। অন্যদিকে সাধারণ ভক্তদের জন্য হোয়াইট হাউসের কাছাকাছি ‘ইলিপ্স’ এলাকা থেকে খেলা দেখার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং ইউএফসি-এর নির্বাহী ডানা হোয়াইট এই বিশেষ আয়োজনের মূল তদারকি করছেন।   আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে এই প্রতিযোগিতার জন্য প্রায় ৯২ ফুট উঁচু করে বিশেষভাবে একটি ইউএফসি ‘অক্টাগন’ বা রিং তৈরি করা হয়েছে, যা আশপাশের রাস্তা থেকেই সাধারণ মানুষের চোখে পড়ছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, খেলা শেষ হওয়ার পরপরই এই অস্থায়ী কাঠামোটি সরিয়ে নেওয়া হবে। এদিকে হোয়াইট হাউসের মতো রাষ্ট্রীয় জায়গায় এমন বাণিজ্যিক ও লাভজনক খেলার আয়োজন করার বিরুদ্ধে আপত্তি তুলে ভার্জিনিয়ার দুই বাসিন্দা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। তবে মার্কিন আদালত শুক্রবার এই আয়োজন বন্ধের আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেয়।   আজকের এই মূল লড়াইয়ের দুই প্রতিযোগী ইলিয়া তোপুরিয়া এবং জাস্টিন গেইজির মধ্যকার ম্যাচটি দারুণ উপভোগ্য হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তোপুরিয়া এখনো পর্যন্ত ১৭-০ ব্যবধানে অপরাজিত রয়েছেন এবং নিজেকে ‘কিং’ বা রাজা বলে দাবি করেন। অন্য দিকে তার প্রতিপক্ষ গেইজি এই ম্যাচের আগে তোপুরিয়ার ব্যক্তিগত জীবন ও তার সাবেক স্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোঁচা দিয়ে মন্তব্য করায় দুই ফাইটারের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই ইতোমধ্যেই তুঙ্গে পৌঁছেছে।   আজকের এই ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ এর মূল ইভেন্টে অন্যান্যদের মধ্যে হেভিওয়েট ইন্টারিম টাইটেল বোটে লড়বেন অ্যালেক্স পেরেইরা ও সিরিল গানে। এছাড়াও ব্যান্টামওয়েট বোটে শন ও'ম্যালি বনাম আইম্যান জহাবি এবং লাইটওয়েট বোটে মরিসিও রুফি মুখোমুখি হবেন মাইকেল চ্যান্ডলারের। আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ট্রাম্পপন্থী সংস্থা ‘ফ্রিডম ২৫০’ এই গ্রীষ্ম জুড়ে ওয়াশিংটনে আরও বেশ কিছু জমকালো অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যার প্রথম ঝলক হিসেবে আজ হোয়াইট হাউসে এই বিশেষ রিং ফাইট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আলোচনার ঝড়

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে হোয়াইট হাউসের লনে ব্যতিক্রমী এক আয়োজন করেছেন—এমনই দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে বলা হয়, জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে সেখানে ‘কেজ ফাইট’ বা খাঁচার লড়াইয়ের আয়োজন করা হয়, যা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ নামে একটি বিশেষ প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে এই আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় মিক্সড মার্শাল আর্ট সংস্থা Ultimate Fighting Championship–এর ১৪ জন তারকা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। দক্ষিণ লনের অস্থায়ী ভেন্যু ‘দ্য ক্ল’-এ এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় বলে দাবি করা হয়েছে।   দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই আয়োজনটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে পরিকল্পনা করা হলেও তা ট্রাম্পের জন্মদিনের সঙ্গে একই সময়ে পড়ে যায়। ফলে বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।   ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৪ জুন, নিউইয়র্কের কুইন্সের একটি ধনী পরিবারে। বাবা ফ্রেড ট্রাম্প ছিলেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন চার ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ। ১৩ বছর বয়সে তাকে নিউইয়র্ক মিলিটারি একাডেমিতে পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে তিনি পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হোয়ার্টন স্কুল থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।   পরবর্তী সময়ে বাবার রিয়েল এস্টেট ব্যবসার দায়িত্ব নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ‘দ্য ট্রাম্প অর্গানাইজেশন’ রাখেন। ম্যানহাটনের ট্রাম্প টাওয়ারসহ একাধিক বহুতল ভবন, হোটেল ও গলফ কোর্স নির্মাণের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি পান। পরে ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’ রিয়েলিটি শোয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তার জনপ্রিয়তা আরও বাড়ে।   রাজনীতিতে প্রবেশের পর ২০১৫ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন এবং ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগান দিয়ে ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ট্রাম্প। ২০২৪ সালে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে আবারও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।   এদিকে জন্মদিন উপলক্ষে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, বিশেষ করে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে তার ভূমিকার জন্য।   হারজগ বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং ইসরায়েলের প্রতি অবিচল সমর্থনের জন্য তার নেতৃত্বকে ইসরায়েলিরা গভীরভাবে মূল্যায়ন করে। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, ট্রাম্প ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সম্পর্ক আরও জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।   তবে হোয়াইট হাউসে জন্মদিন ঘিরে ‘কেজ ফাইট’ আয়োজনের দাবি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিরোধীরা এ ধরনের আয়োজনকে অপ্রত্যাশিত ও অস্বাভাবিক বলে সমালোচনা করছেন, যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনো সরকারি কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

নীলুফা নিশাত জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
নবজাতক কন্যাসন্তানের আগমনের খবর সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট | ছবি: আমেরিকা বাংলা
আবার মা হলেন ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট দ্বিতীয় সন্তানের মা হয়েছেন। তিনি কন্যাসন্তানের জন্মের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করেন।   পোস্টে লেভিট জানান, গত ১ মে তাদের পরিবারে নতুন সদস্য হিসেবে কন্যাসন্তান ‘ভিভিয়ানা’ জন্ম নেয়। পরিবারে তাকে আদর করে ‘ভিভি’ নামে ডাকা হচ্ছে। নবজাতক বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং পরিবারে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে।   তিনি আরও জানান, তার বড় ছেলে নিকোলাস ছোট বোনকে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। নতুন সদস্যকে ঘিরে পরিবারটি বর্তমানে সময় কাটাচ্ছে।   গর্ভাবস্থার সময়ে শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা ও প্রার্থনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ক্যারোলিন লেভিট।   গত এপ্রিল মাস থেকে তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে হোয়াইট হাউসের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং পরিচালনা করছেন প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা। কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে তিনি সাময়িকভাবে দায়িত্বে ফিরে সংবাদমাধ্যমকে তথ্য দেন।   বর্তমানে তার প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তার নিয়মিত কাজে ফেরার সময়সূচি নিয়ে হোয়াইট হাউস এখনো কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা দেয়নি।

শাহারিয়া নয়ন মে ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় ইমিগ্রেশন ফাঁক’ বন্ধের দাবি হোয়াইট হাউসের

 যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে আবারও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে The White House। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় হোয়াইট হাউস জানায়, “আমেরিকা আমেরিকান জনগণের জন্য—আইন পাশ কাটিয়ে প্রবেশ করতে চাওয়া লাখো মানুষের জন্য নয়।”   একই পোস্টে দাবি করা হয়, সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump “যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অভিবাসন ফাঁক” বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। পোস্টে আশ্রয় আবেদন ফরম I-589 Asylum Application এর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় ও বহিষ্কার স্থগিতের আবেদনপত্র হিসেবে পরিচিত।   এই বার্তার মাধ্যমে আশ্রয় প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো এবং অবৈধ প্রবেশ রোধে নতুন নীতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী, সীমান্ত দিয়ে প্রবেশকারীদের আবেদন প্রক্রিয়া এবং মানবিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।   অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, যদি আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়া সীমিত করা হয়, তবে নির্যাতন বা সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা বহু মানুষ বিপদে পড়তে পারেন। অন্যদিকে ট্রাম্প সমর্থকরা এটিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।   বর্তমানে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক নির্বাহী আদেশ ঘোষণা না হলেও, হোয়াইট হাউসের এই বার্তা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ এপ্রিল ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে চুক্তির আশা দেখছে হোয়াইট হাউস, ইসলামাবাদেই হতে পারে দ্বিতীয় দফা সংলাপ

ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস। দেশটির প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লেভিট জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে।   বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এখনো কোনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি, তবে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে হোয়াইট হাউস আশাবাদী। তাঁর ভাষায়, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত নয়, কিন্তু আমরা ইতিবাচক অগ্রগতির আশা করছি।   প্রেস সচিব আরও জানান, সম্ভাব্য এই সংলাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে পারেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এর আগে গত সপ্তাহেও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।   হোয়াইট হাউসের ধারণা, পূর্ববর্তী বৈঠকের ধারাবাহিকতায় একই স্থানেই আবারও আলোচনা হতে পারে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান এই সংলাপ প্রক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক উত্তেজনা ও যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তার মধ্যেও কূটনৈতিক এই অগ্রগতি ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনো বেশ কিছু জটিল বিষয় নিষ্পত্তি প্রয়োজন।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার মেলানিয়া ট্রাম্পের

 জেফ্রি এপস্টেইন ও তার সহযোগী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েল-এর সঙ্গে নিজের কোনো সম্পর্ক থাকার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার সঙ্গে জড়িত করে ছড়ানো এসব মিথ্যা আজই বন্ধ হওয়া উচিত। যারা এসব মিথ্যা প্রচার করছে, তাদের নৈতিকতা ও সম্মানবোধের অভাব রয়েছে। মেলানিয়া ট্রাম্প জানান, তিনি কখনোই জেফ্রি এপস্টেইন-এর বন্ধু ছিলেন না, কেবল নিউ ইয়র্ক ও পাম বিচের একই সামাজিক পরিমণ্ডলে তাদের চলাফেরা ছিল। তিনি আরও বলেন, এপস্টেইন তাকে তার স্বামীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেনএমন দাবিও সঠিক নয়। ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে ইমেইল যোগাযোগের বিষয়টি তিনি 'তুচ্ছ একটি বার্তা” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং নিজেকে কোনোভাবেই এপস্টেইন কেলেঙ্কারির ভুক্তভোগী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে স্বীকার করেননি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি কখনো এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে যাননি বা তার বিমানে ভ্রমণ করেননি, এবং কোনো যৌন পাচার কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন না। একই সঙ্গে তিনি কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানান, যেন এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে তা সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
‘এক রাতেই ইরানকে গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব’: ট্রাম্পের হুমকিতে বাড়ছে উত্তেজনা

ইরানকে লক্ষ্য করে নতুন করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে মাত্র এক রাতের সামরিক অভিযানেই ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে সক্ষম এবং সেই অভিযান শুরু হতে পারে ‘আগামীকাল রাতেই’।   হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল Dan Caine।   সংবাদ সম্মেলনে মূলত ইরানে আটকে পড়া মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্যদের উদ্ধারে পরিচালিত সাম্প্রতিক বিশেষ অভিযানের বিষয়ে কথা বলা হয়। ট্রাম্প ওই অভিযানকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মার্কিন সেনাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে তিনি প্রয়োজনীয় সব নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, এই অভিযানে মোট ২১টি সামরিক উড়োজাহাজ অংশ নেয়।   ইরান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘ভালোভাবেই এগোচ্ছে’। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে সরাসরি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা এমন পর্যায়ে রয়েছে যে, প্রয়োজনে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক হামলা চালানো সম্ভব।   বিশেষ করে ‘আগামীকাল রাত’ উল্লেখ করে দেওয়া এই বার্তাকে অনেকেই একটি স্পষ্ট আলটিমেটাম হিসেবে দেখছেন। এতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   তবে এ ধরনের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে এখনো Pentagon বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এমন বক্তব্য কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং অঞ্চলজুড়ে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প: ইরান ইস্যুতে কী বার্তা আসছে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ (মঙ্গলবার) যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং রুমে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন।   এই সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক ইরান পরিস্থিতি এবং একটি ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেবেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন, বিবিসি ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরানে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রু সদস্যকে উদ্ধারের বিষয়টি এই ব্রিফিংয়ে গুরুত্ব পেতে পারে।   এর আগে ট্রাম্প ওভাল অফিসে সংবাদ সম্মেলন করার কথা বললেও পরে জানানো হয়, সেটি হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং রুমেই অনুষ্ঠিত হবে।   গত শুক্রবার ইরানে একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার দাবি করে তেহরান। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিমানটি লক্ষ্যবস্তু করা হয়।   ওই যুদ্ধবিমানে দুজন ক্রু ছিলেন—একজন পাইলট এবং অন্যজন অস্ত্রব্যবস্থা–সংক্রান্ত কর্মকর্তা। হামলার পর দুজনই ইজেক্ট করেন। পরে পাইলটকে দ্রুত উদ্ধার করা হলেও দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে খুঁজে পেতে কিছুটা সময় লাগে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধার অভিযানে তাকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়।   এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের সংবাদ সম্মেলনে নতুন কোনো ঘোষণা বা অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । ছবি সংগৃহীত
ট্রাম্পের মৃত্যু হলে যুক্তরাষ্ট্রের হাল কে ধরবেন?

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়সে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী জুনে ৮০ বছর বয়সে পৌঁছাবেন। বয়সের এই কদর্যতা সত্ত্বেও তিনি এখনো কার্যনির্বাহী পদে সক্রিয় থাকলেও, অমর নয়—যা নিয়ে রাজনৈতিক ও জনমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।   প্রতিষ্ঠানিক সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদে থাকা অবস্থায় কোনো কারণে মৃত্যুবরণ করলে ক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাইস প্রেসিডেন্টের হাতে হস্তান্তরিত হয়। এতে কোনো ধরনের নির্বাচন বা বিলম্বের প্রয়োজন পড়ে না।   তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের মৃত্যুর পরিস্থিতিতে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং প্রেসিডেন্টের মেয়াদকাল শেষ হওয়া পর্যন্ত হোয়াইট হাউসে নেতৃত্ব দেবেন।   ইতিহাসে এমন পরিস্থিতি আটবার ঘটেছে। এর মধ্যে চারজন প্রেসিডেন্ট হত্যা ও চারজন স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ ঘটনা ঘটে ১৯৬৩ সালে, যখন জন এফ কেনেডি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ডালাসে হত্যার শিকার হন। সেই সময় লিন্ডন জনসন দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।   বর্তমানে ট্রাম্প ইরানে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে চাপের মুখে রয়েছেন। টানা ৩৭ দিন ধরে যুদ্ধ চললেও এখন পর্যন্ত তার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশটির সবচেয়ে বয়সী এই প্রেসিডেন্টের জন্য সংকট মোকাবিলার চাপ আরও বেড়েছে।  

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত পেটেন্ট ওষুধে ১০০ শতাংশ শুল্ক

যুক্তরাষ্ট্র সরকার ঘোষণা দিয়েছে, আমদানিকৃত পেটেন্ট করা বিদেশি ওষুধের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করে এই শুল্ক এড়ানোর সুযোগ পাবেন।   হোয়াইট হাউসের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য দেশীয় ওষুধ উৎপাদন বাড়ানো এবং জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তাৎক্ষণিক প্রভাব সীমিত হবে, কারণ এই শুল্ক জেনেরিক ওষুধের ওপর প্রযোজ্য নয়, যা মার্কিন বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।   বিশাল ওষুধ প্রস্তুতকারী অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ২০২৯ সালের জানুয়ারির মধ্যে যদি কোনো কোম্পানি মার্কিন উৎপাদন শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে তাদের শুল্ক ২০ শতাংশে নেমে আসবে। চুক্তি অনুযায়ী যদি ওষুধের দাম সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়, তাহলে শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে।   কিছু চুক্তিতে দেখা গেছে, কোম্পানিগুলো সরকারি স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচি যেমন মেডিকেইডের সঙ্গে সমপর্যায়ের দাম ধরে বিদেশি ওষুধ সরবরাহে সম্মত হয়েছে। গত বছরের ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় কম শুল্কের সুবিধা বহাল থাকবে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য থেকে রপ্তানিকৃত কিছু ওষুধ তিন বছর শুল্কমুক্ত থাকবে।   বিশ্লেষকরা বলেন, ছোট ও মাঝারি ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর জন্য এই শুল্ক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে। তবে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, এই নীতির প্রভাবে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ইতোমধ্যেই এসেছে।   একই সময়ে, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর আরোপিত শুল্ক নীতিতেও কিছু পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ধাতব উপাদান কম থাকা পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ হবে না।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট।
ওভাল অফিসে প্রেস সেক্রেটারিকে নিয়ে ট্রাম্পের ‘অস্বস্তিকর’ রসিকতা!

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সামনে নিজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটকে নিয়ে এক বিতর্কিত ও অস্বস্তিকর রসিকতা করেছেন। ‘পিপল’ ম্যাগাজিনের ১ এপ্রিলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প রসিকতার ছলে অভিযোগ তোলেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি যে ‘নেতিবাচক প্রচারণা’র শিকার হচ্ছেন, তার পেছনে লেভিটের ব্যর্থতা থাকতে পারে। গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই ঘটনা ঘটে।   ট্রাম্প দাবি করেন, বর্তমানে তিনি ‘৯৩ শতাংশ খারাপ প্রচারণা’ পাচ্ছেন এবং সরাসরি লেভিটের দিকে তাকিয়ে বলেন, “তুমি খুব ভালো কাজ করছ না।” প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে তাৎক্ষণিক অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছুক্ষণ পরই ট্রাম্প হাসতে হাসতে যোগ করেন, “আমরা কি তাকে রাখব? আমার মনে হয়, রাখাই যায়।” পরে ইয়াহু নিউজের এক প্রতিবেদনে হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধি নিশ্চিত করেছেন যে, মন্তব্যটি স্রেফ কৌতুক হিসেবেই করা হয়েছিল।   চলমান গণমাধ্যমের সমালোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও বলেন, তাকে নিয়ে প্রকাশিত অধিকাংশ সংবাদই ‘নেতিবাচক এবং ভুয়া’। তবে ভোটাররা তার নির্বাচনী জয়ের মাধ্যমে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে তারা এসব প্রতিবেদনে আস্থা রাখেন না। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে ২৬ বছর বয়সী লেভিট প্রায়ই ট্রাম্পের এমন আকস্মিক মন্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। এর আগেও গত অক্টোবরে সাংবাদিকদের সামনে তার কাজের মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন প্রেসিডেন্ট।   ব্যক্তিগত জীবনে লেভিট বর্তমানে তার দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় আছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, মাতৃত্বকালীন ছুটি হিসেবে আগামী মে মাস থেকে তিনি সাময়িকভাবে হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব থেকে বিরতি নেবেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুদ্ধ কি শেষ হচ্ছে? জাতির উদ্দেশে ট্রাম্পের ভাষণে নতুন যে বার্তা আসছে

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সেই মুহূর্ত কি তবে এসেই গেল? ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতির উদ্দেশে ভাষণকে ঘিরে যখন যুদ্ধের অবসানের গুঞ্জন তুঙ্গে, ঠিক তখনই পাওয়া গেল এক ভিন্ন ইঙ্গিত।  মঙ্গলবার রাত থেকেই গুঞ্জন ছিল যে, ট্রাম্প সম্ভবত যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। তবে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সূত্র এবং প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক অবস্থান বলছে অন্য কথা। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প এখনই যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটছেন না। বরং যুদ্ধের সময়সীমা আরও কয়েক সপ্তাহ বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ট্রাম্পের এই ভাষণের মূল সুর হতে পারে 'সাময়িক কষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদী প্রাপ্তি'। তিনি আমেরিকান পরিবারগুলোর ওপর যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট আর্থিক চাপের বিষয়টি স্বীকার করবেন, বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে জনগণের উদ্বেগের সাথে সহমর্মিতা জানাবেন। তবে তার যুক্তির কেন্দ্রে থাকছে একটিই লক্ষ্য—একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী ইরানকে রুখে দেওয়া। ট্রাম্পের মতে, বর্তমানের এই অর্থনৈতিক টানাপোড়েন দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।  সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, এই যুদ্ধের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন বেশ কম এবং ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার রেটিংও নিম্নমুখী। এমতাবস্থায়, আমেরিকান জনগণের সমর্থন পুনরুদ্ধারের শেষ চেষ্টা হিসেবেই তিনি এই ভাষণকে ব্যবহার করতে চাইছেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের ব্যয় বহনে আরব দেশগুলোকে আহ্বান জানাতে পারেন ট্রাম্প

ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের ব্যয় বহনে আরব দেশগুলোকে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট।   রোববার (৩০ মার্চ) ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে লিভিট বলেন, ইরান যুদ্ধের ব্যয় ভাগাভাগি করার ধারণা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে রয়েছে এবং এ বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও বক্তব্য আসতে পারে।   এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আরব দেশগুলোকে এই ব্যয় বহনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাতে প্রেসিডেন্ট আগ্রহী হতে পারেন।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ৩০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
হোয়াইট হাউস: ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত, সুর নরম

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনাগুলো চলছেই, যদিও তেহরান ‘সর্বজনীন কৌশলগত বক্তব্য’ দিচ্ছে। রোববার (৩০ মার্চ) ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।   লিভিট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আলোচনাগুলো অব্যাহত রয়েছে এবং ভালোভাবে অগ্রসর হচ্ছে। তবে তেহরানের প্রকাশ্য বক্তব্য এবং ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।   তিনি আরও বলেন, শাসনব্যবস্থার সর্বজনীন কৌশলগত বক্তব্য এবং মিথ্যা রিপোর্টিং সত্ত্বেও আলোচনা এগোচ্ছে এবং ফলপ্রসূ হচ্ছে। প্রকাশ্যে যা বলা হচ্ছে, তা আমাদের ব্যক্তিগতভাবে জানানো তথ্যের সঙ্গে অনেক ভিন্ন।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ৩০, ২০২৬ ১৪:০ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | সংগৃহীত
নিজেকে ‘শান্তির দূত’ হিসেবে দেখতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ভবিষ্যতে নিজের উত্তরাধিকার হিসেবে একজন ‘শান্তির দূত’ হিসেবে পরিচিত হতে চান। শনিবার (২৮ মার্চ) এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমি চাই ইতিহাসে আমার নাম একজন মহান শান্তির দূত হিসেবে লেখা থাকুক।" বর্তমান যুদ্ধাবস্থায় বিষয়টি সাংঘর্ষিক মনে হলেও, তিনি নিজেকে মনেপ্রাণে একজন শান্তিস্থাপক বলে দাবি করেন।   তবে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শান্তির কথা বললেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অবস্থানে অনড় রয়েছেন ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরানে আঘাত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আরও ৩ হাজার ৫৫৪টি লক্ষ্যবস্তু বাকি রয়েছে এবং সেগুলো দ্রুত ধ্বংস করা হবে। ট্রাম্পের দাবি, ইরান এক সময় শক্তিশালী দেশ থাকলেও বর্তমানে তারা সেই সামর্থ্য হারিয়েছে।   ইরানের সাথে চলমান সংঘাত নিয়ে ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ এখনো চলছে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রকেই শেষ করতে হবে। এর আগে গত মঙ্গলবার ওভাল অফিসে এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেছিলেন যে, ইরান যুদ্ধে জয় ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে। সরাসরি বিজয় ঘোষণা না করলেও তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই লড়াইয়ে আমেরিকা জয়ী হয়েছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0