দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর আবারও চাঁদের পথে মানুষের যাত্রা শুরু হলো। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে ঐতিহাসিক আর্টেমিস-২ মিশন, যা মানব ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্থানীয় সময় এই মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হয়। এতে চারজন নভোচারী অংশ নিয়েছেন— রেইড উইজম্যান (কমান্ডার), ভিক্টর গ্লোভার (পাইলট), ক্রিস্টিনা কচ (মিশন স্পেশালিস্ট), জেরেমি হ্যানসেন (মিশন স্পেশালিস্ট)।
তারা মহাকাশযানে করে চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
এই মিশনের অন্যতম বিশেষ দিক হলো—এটি কোনো অবতরণ মিশন নয়। বরং এটি একটি পরীক্ষামূলক যাত্রা, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষ নামানোর পরিকল্পনার ভিত্তি তৈরি করা হবে। পুরো মিশনটির সময়কাল ধরা হয়েছে প্রায় ১০ দিন।
মহাকাশ ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, কারণ সর্বশেষ মানুষ চাঁদের পথে গিয়েছিল ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের মাধ্যমে। তার পর থেকে এত দীর্ঘ বিরতির পর আবারও মানুষ চাঁদের কক্ষপথে যাচ্ছে।
এই অভিযানে আরও কিছু ঐতিহাসিক মাইলফলক রয়েছে। প্রথমবারের মতো একজন নারী, একজন কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী এবং একজন অ-আমেরিকান নভোচারী একসঙ্গে চাঁদের অভিযানে অংশ নিচ্ছেন—যা বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তির নতুন বার্তা দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্টেমিস-২ শুধুমাত্র একটি মহাকাশ অভিযান নয়, বরং এটি ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন এবং মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযান পরিচালনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মঘণ্টা কমিয়ে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালুর উদ্যোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দেশটির সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ‘থার্টি-টু আওয়ার ওয়ার্কউইক অ্যাক্ট’ নামে একটি বিল উত্থাপন করেছেন, যেখানে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টার পরিবর্তে ৩২ ঘণ্টা কাজের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে কর্মীদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধা অপরিবর্তিত রাখার কথাই বলা হয়েছে এতে। প্রস্তাব অনুযায়ী, হঠাৎ করে নয়—ধাপে ধাপে তিন বছরের মধ্যে এই পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থাৎ, বর্তমানে প্রচলিত কর্মঘণ্টা ধীরে ধীরে কমিয়ে নতুন কাঠামোয় আনা হবে, যাতে শ্রমবাজারে বড় ধরনের ধাক্কা না লাগে। বার্নি স্যান্ডার্সের যুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে আধুনিক কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু এই বাড়তি উৎপাদনের সুফল মূলত করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফায় প্রতিফলিত হচ্ছে, সাধারণ কর্মীরা তার ন্যায্য অংশ পাচ্ছেন না। তাই কর্মঘণ্টা কমিয়ে সেই ভারসাম্য আনার সময় এসেছে। প্রস্তাবের সমর্থকেরা বলছেন, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরীক্ষামূলকভাবে কম কর্মঘণ্টার যে অভিজ্ঞতা পাওয়া গেছে, তাতে কর্মীদের মানসিক চাপ কমেছে, কাজের প্রতি মনোযোগ বেড়েছে এবং উৎপাদনশীলতাও ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে—কখনো কখনো তা বেড়েছে বলেও দেখা গেছে। তাদের মতে, কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য রক্ষায় এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমতও কম নয়। স্বাস্থ্যসেবা, খুচরা বিক্রয়, উৎপাদন ও পরিবহন খাতের মতো শ্রমনির্ভর শিল্পগুলো এই প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, কর্মঘণ্টা কমে গেলে শ্রমিক সংকট তৈরি হতে পারে, অতিরিক্ত সময় কাজের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশি পারিশ্রমিক দিতে হবে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব কেবল অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি ভবিষ্যতের কর্মসংস্কৃতি, কাজের মূল্যবোধ এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে মানুষের ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে। কর্মক্ষেত্রে মানুষের অবদান ও জীবনের মান উন্নয়নে কীভাবে ভারসাম্য আনা যায়—তা নিয়েও নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বিলটি নিয়ে কংগ্রেসে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এটি পাস হলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্কৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পিএইচডি অধ্যয়নরত এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বোনের স্বামীর বিরুদ্ধে। মর্মান্তিক এ ঘটনার পর সামনে এসেছে নিহত ভিক্টোরিয়া ক্যাসলের একটি পুরোনো ফেসবুক পোস্ট, যেখানে বোনের বিয়ের দিন তিনি অভিযুক্ত জোসেফ হর্নারকে "পৃথিবীর অন্যতম অসাধারণ মানুষ" বলে উল্লেখ করেছিলেন। ভিক্টোরিয়ার সেই ফেসবুক পোস্টে লেখা ছিল, "আমার বোন, আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ, আমার বিশৃঙ্খলার সঙ্গী, আজ পৃথিবীর অন্যতম অসাধারণ একজন মানুষকে বিয়ে করল। আমি তোমাদের দুজনকে চিরকাল ভালোবাসব।" কিন্তু সেই পোস্টের প্রায় তিন বছর পর ২৭ বছর বয়সী জোসেফ হর্নারের বিরুদ্ধে ভিক্টোরিয়াকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ এনেছে পুলিশ। নাসাউ কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, গত ২৯ জুন নিউইয়র্কের নর্থ মাসাপেকুয়ায় একই বহুতল ভবনের পৃথক ইউনিটে বসবাস করতেন তারা। ভবনের ওপরের তলায় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন হর্নার এবং নিচতলায় থাকতেন ভিক্টোরিয়া। ঘটনার সময় হর্নারের স্ত্রী একটি ব্যাচেলোরেট অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাড়ির বাইরে ছিলেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভিক্টোরিয়ার প্রতি অস্বাভাবিকভাবে আসক্ত ছিলেন হর্নার। ঘটনার দিন তিনি একটি পিয়ানো সরাতে সাহায্যের কথা বলে ভিক্টোরিয়াকে নিজের কাছে ডেকে নেন। পরে পেছন থেকে তার ওপর হামলা চালিয়ে গলায় চাপ দিয়ে অচেতন করে ফেলেন। এরপর তার পোশাক খুলে ধর্ষণ এবং শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিক্টোরিয়া ক্যাসল নিউইয়র্কের স্টোনি ব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর হর্নার নিজেই জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত সেখানে অপেক্ষা করেন। পরে তদন্তকারীদের কাছে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলেও প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।
ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য রানি ক্যামিলা শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং তরুণদের মধ্যে পাঠাভ্যাস বিস্তারের লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বখ্যাত লেখক জে. কে. রাউলিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে সেই সাক্ষাতের ছবি রাজপরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রাজপরিবার জানায়, স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে শিশুদের সাক্ষরতা বৃদ্ধি, বইয়ের সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং নতুন প্রজন্মকে বই পড়ায় উৎসাহিত করার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন রানি ক্যামিলা ও জে. কে. রাউলিং। উভয়েই দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের পাঠাভ্যাস উন্নয়নে কাজ করে আসছেন।কিন্তু ছবিটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাংশের ব্যবহারকারী এর তীব্র সমালোচনা করেন। তাদের দাবি, প্রাইড মাসে এমন একজন লেখকের সঙ্গে রাজপরিবারের প্রকাশ্য সাক্ষাৎ বিতর্কের জন্ম দেবে, কারণ জে. কে. রাউলিং অতীতে ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুতে দেওয়া মন্তব্যের কারণে বহুবার সমালোচিত হয়েছেন। রাউলিং এর আগে একাধিকবার বলেছেন, তিনি ট্রান্সজেন্ডার নারীকে জৈবিক অর্থে নারী হিসেবে মনে করেন না। তাঁর এসব মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। তবে লেখিকার দাবি, তিনি নারীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন এবং কাউকে ঘৃণা করার উদ্দেশ্যে এসব মন্তব্য করেননি। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই রানি ক্যামিলার সিদ্ধান্তের সমর্থনও জানিয়েছেন। তাদের মতে, জে. কে. রাউলিং বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় শিশুতোষ সাহিত্যিক এবং শিশুদের বই পড়ায় আগ্রহী করে তুলতে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিশুদের সাক্ষরতা নিয়ে বৈঠককে রাজনৈতিক বা সামাজিক বিতর্কের সঙ্গে না জড়ানোর আহ্বানও জানিয়েছেন অনেকে। এ ঘটনায় ব্রিটিশ রাজপরিবার কিংবা জে. কে. রাউলিং কেউই সমালোচনার বিষয়ে আলাদা কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি।