যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির পেট্রোলের খুচরা বিক্রেতাদের অবিলম্বে জ্বালানির দাম কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নির্দেশ না মানলে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের জন্য ‘বড় ধরনের সমস্যা’ অপেক্ষা করছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, পেট্রোলের খুচরা বিক্রেতাদের অবশ্যই অবিলম্বে তেলের দাম কমাতে হবে। তিনি দাবি করেন, অতিরিক্ত মুনাফার জন্য অন্যায্যভাবে দাম বাড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি। ট্রাম্প বলেন, “খুচরা বিক্রেতারা যদি এটি না করে, তাহলে তাদের সামনে বড় ধরনের সমস্যা অপেক্ষা করছে।
প্রতি গ্যালন প্রায় আড়াই ডলারের পর্যায়ে দাম নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।” তিনি আরও লেখেন, “খুচরা বিক্রেতাদের উচিত এই বক্তব্যের প্রতি দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং তারা যা সঠিক বলে জানে, সেটিই করা। আমাদের মহান মার্কিন জনগণের জন্য দাম কমিয়ে দেওয়া।” ট্রাম্প বিশেষভাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে লক্ষ্য করে অঙ্গরাজ্যটির পেট্রোলের ওপর আরোপিত কর কমানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “খুব শিগগিরই করের পরিমাণ পণ্যের দামের চেয়েও বেশি হয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র এটি মেনে নেবে না, ক্যালিফোর্নিয়ার জনগণও মেনে নেবে না। তারা এই অযৌক্তিক কর এবং নিজেদের সরকারের কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।”
ডেমোক্র্যাট নেতা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার অন্যতম কড়া সমালোচক। বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ট্রাম্পের উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছেন তিনি।
অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও জোরদার করছে এবং আগামী ২০ বছরের মধ্যে কার্বন-নিরপেক্ষ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের পর পেট্রোলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
এর অংশ হিসেবে ২০১৫ সালে বড় ধরনের তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার একটি তেল পাইপলাইন পুনরায় চালু করতে জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে প্রশাসন। এর আগে গত সপ্তাহেও ট্রাম্প বড় তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান।
গত ২৪ জুন ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “বড় তেল কোম্পানিগুলো অপরিশোধিত তেল কেনার ক্ষেত্রে যে হারে কম দামে তেল কিনছে, সেই অনুপাতে তারা পাম্পে পেট্রোলের দাম কমাচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “তেলের দাম পাথরের মতো দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। অন্য কথায়, গ্রাহকদের কাছ থেকে অন্যায্যভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। আমি বিচার বিভাগকে অবিলম্বে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছি।”
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত এবং এর প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন সমালোচনার মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণ রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষ হওয়ার পর জ্বালানির দাম “পাথরের মতো দ্রুত” কমে যাবে। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত নন। তাদের মতে, সংঘাতের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং জ্বালানির দামে তার প্রতিফলনও দেখা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির পেট্রোলের খুচরা বিক্রেতাদের অবিলম্বে জ্বালানির দাম কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নির্দেশ না মানলে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের জন্য ‘বড় ধরনের সমস্যা’ অপেক্ষা করছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, পেট্রোলের খুচরা বিক্রেতাদের অবশ্যই অবিলম্বে তেলের দাম কমাতে হবে। তিনি দাবি করেন, অতিরিক্ত মুনাফার জন্য অন্যায্যভাবে দাম বাড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি। ট্রাম্প বলেন, “খুচরা বিক্রেতারা যদি এটি না করে, তাহলে তাদের সামনে বড় ধরনের সমস্যা অপেক্ষা করছে। প্রতি গ্যালন প্রায় আড়াই ডলারের পর্যায়ে দাম নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।” তিনি আরও লেখেন, “খুচরা বিক্রেতাদের উচিত এই বক্তব্যের প্রতি দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং তারা যা সঠিক বলে জানে, সেটিই করা। আমাদের মহান মার্কিন জনগণের জন্য দাম কমিয়ে দেওয়া।” ট্রাম্প বিশেষভাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে লক্ষ্য করে অঙ্গরাজ্যটির পেট্রোলের ওপর আরোপিত কর কমানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “খুব শিগগিরই করের পরিমাণ পণ্যের দামের চেয়েও বেশি হয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র এটি মেনে নেবে না, ক্যালিফোর্নিয়ার জনগণও মেনে নেবে না। তারা এই অযৌক্তিক কর এবং নিজেদের সরকারের কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।” ডেমোক্র্যাট নেতা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার অন্যতম কড়া সমালোচক। বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ট্রাম্পের উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছেন তিনি। অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও জোরদার করছে এবং আগামী ২০ বছরের মধ্যে কার্বন-নিরপেক্ষ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের পর পেট্রোলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে ২০১৫ সালে বড় ধরনের তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার একটি তেল পাইপলাইন পুনরায় চালু করতে জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে প্রশাসন। এর আগে গত সপ্তাহেও ট্রাম্প বড় তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান। গত ২৪ জুন ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “বড় তেল কোম্পানিগুলো অপরিশোধিত তেল কেনার ক্ষেত্রে যে হারে কম দামে তেল কিনছে, সেই অনুপাতে তারা পাম্পে পেট্রোলের দাম কমাচ্ছে না।” তিনি আরও বলেন, “তেলের দাম পাথরের মতো দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। অন্য কথায়, গ্রাহকদের কাছ থেকে অন্যায্যভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। আমি বিচার বিভাগকে অবিলম্বে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছি।” ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত এবং এর প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন সমালোচনার মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণ রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষ হওয়ার পর জ্বালানির দাম “পাথরের মতো দ্রুত” কমে যাবে। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত নন। তাদের মতে, সংঘাতের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং জ্বালানির দামে তার প্রতিফলনও দেখা যেতে পারে।
বাংলাদেশে নবম-দশম কিংবা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়া কোনো শিক্ষার্থী যদি কোনো রেস্টুরেন্ট, দোকান বা কফিশপে কাজ শুরু করে, অনেকেই প্রথমে ধরে নেন পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন থেকেই সে কাজ করছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে হাইস্কুলের অসংখ্য শিক্ষার্থী, এমনকি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারের সন্তানরাও নিয়মিত খণ্ডকালীন কাজ করে। এর মূল উদ্দেশ্য অর্থ উপার্জন নয়; বরং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন, দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও কর্মজীবনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন শুধু পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে হয় না। বিশেষ করে নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীর সামগ্রিক যোগ্যতা ও ব্যক্তিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভালো ফলাফলের পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি, সমাজসেবা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, গবেষণা এবং বাস্তব কর্ম-অভিজ্ঞতাও ভর্তি প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করে, তাহলে সেটি তার দায়িত্বশীলতা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়। এ কারণে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনকারীর কর্ম-অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করে। তবে শুধু চাকরি করলেই যে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া যাবে, বিষয়টি এমন নয়। একাডেমিক ফলাফল, ভর্তি প্রবন্ধ, সুপারিশপত্র, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি কর্ম-অভিজ্ঞতাও সামগ্রিক মূল্যায়নের একটি অংশ মাত্র। যুক্তরাষ্ট্রে হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা সাধারণত গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে বেশি কাজ করে। আবার বিদ্যালয় চালু হলে অনেকে সপ্তাহান্তে বা প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা কাজ চালিয়ে যায়, যাতে পড়াশোনার কোনো ক্ষতি না হয়। তারা বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, কফিশপ, মুদি দোকান, সুপারমার্কেট, পোশাকের দোকান, গ্রন্থাগার কিংবা স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পায়। এই কাজের মাধ্যমে তারা শুধু কিছু অর্থ উপার্জনই করে না, বরং গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা, সময়ানুবর্তিতা, দলগতভাবে কাজ করার অভ্যাস, দায়িত্ব পালন, সমস্যা সমাধান এবং অর্থ ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জীবনদক্ষতা অর্জন করে। অনেক অভিভাবকও মনে করেন, এসব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে সন্তানদের আরও আত্মনির্ভরশীল ও আত্মবিশ্বাসী হতে সহায়তা করে। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো সৎ কাজকে ছোট করে দেখা হয় না। সমাজে এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যেখানে কর্মের ধরন নয়, বরং কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধকে বেশি মূল্য দেওয়া হয়। এর একটি আলোচিত উদাহরণ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Barack Obama-এর ছোট মেয়ে Sasha Obama। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে তিনি ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের মার্থাস ভিনইয়ার্ডের একটি সামুদ্রিক খাবারের রেস্টুরেন্টে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি কর্মী হিসেবে কাজ করেছিলেন। সেখানে তিনি অন্য কর্মীদের মতোই সাধারণ দায়িত্ব পালন করেন। বিষয়টি সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাস্তব কর্ম-অভিজ্ঞতার গুরুত্বকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসে। অন্যদিকে বাংলাদেশে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের কর্ম-অভিজ্ঞতার সুযোগ এখনও সীমিত। অধিকাংশ পরিবারে পরীক্ষার ফলাফলকেই ভবিষ্যৎ সাফল্যের প্রধান ভিত্তি হিসেবে দেখা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব খণ্ডকালীন কাজ বা শিক্ষানবিশ কর্মসূচির সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম। শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি কিংবা সীমিত পরিসরে বাস্তব কর্ম-অভিজ্ঞতার সুযোগ তৈরি করা গেলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী এবং কর্মমুখী হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা অন্তত সেই বার্তাই দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কাউন্টিতে পৃথক দুটি অভিযানে দুটি যানবাহনের ভেতর লুকিয়ে থাকা মোট ৩৪ জন অভিবাসীকে আটক করেছে মার্কিন সীমান্ত টহল বাহিনী (ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল)। মার্কিন সংবাদমাধ্যম FOX 5/KUSI–এর প্রতিবেদন এবং ইউএস বর্ডার প্যাট্রোলের এল সেন্ট্রো সেক্টর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাগুলো ঘটেছে ইম্পেরিয়াল কাউন্টির ওয়েস্টমোরল্যান্ড এলাকায়, যা হাইওয়ে–৭৮–এর পাশে অবস্থিত। সীমান্ত টহল বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, প্রথম অভিযানে একটি শেভ্রোলেট তাহো (Chevy Tahoe) এসইউভি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। গাড়িটির ভেতরে সাতজন অভিবাসীকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে এটি একটি মানবপাচারের প্রচেষ্টা বলে সন্দেহ করছে কর্তৃপক্ষ। একই এলাকায় পরিচালিত আরেকটি অভিযানে একটি মিনি বটম ডাম্প ট্রেইলার থেকে আরও ২৭ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়। ট্রেইলারের ভেতরে তাদের গোপনে বহন করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে সীমান্ত টহল বাহিনী। দুটি অভিযানে মোট ৩৪ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। তবে তাদের জাতীয়তা, পরিচয়, স্বাস্থ্যগত অবস্থা কিংবা মানবপাচারের অভিযোগে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। এল সেন্ট্রো সেক্টর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, সীমান্ত এলাকায় মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, অতিরিক্ত ভিড় করে বা গোপনে যানবাহনে মানুষ পরিবহন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে যাত্রীদের জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে। ইম্পেরিয়াল কাউন্টি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় এ অঞ্চল দিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা এবং মানবপাচারের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এসব কর্মকাণ্ড ঠেকাতে মার্কিন সীমান্ত টহল বাহিনী নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারি পরিচালনা করে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত অভিবাসন আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।