আমেরিকা

৩ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ ব্যালট প্রস্তাবে ভোট, বদলে যেতে পারে কর, আবাসন ও ভোটব্যবস্থা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১১:৬
৩ নভেম্বরের নির্বাচনে বিলিয়নিয়ার করসহ ১৪টি ব্যালট প্রস্তাবে ভোট দেবেন ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটাররা | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
৩ নভেম্বরের নির্বাচনে বিলিয়নিয়ার করসহ ১৪টি ব্যালট প্রস্তাবে ভোট দেবেন ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটাররা | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ভোটাররা আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যব্যাপী ব্যালট প্রস্তাবের ওপর ভোট দেবেন। এসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে বিলিয়নিয়ারদের ওপর নতুন কর, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, জলবায়ু নীতি, ভোটার পরিচয় যাচাই, নির্বাচনী অর্থায়ন এবং করব্যবস্থার বিভিন্ন পরিবর্তন। প্রস্তাবগুলোর ফলাফল ক্যালিফোর্নিয়ার করনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

ব্যালট প্রস্তাবগুলোতে কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বী কর পরিকল্পনা, আবাসন ও চিকিৎসা গবেষণায় বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন, পরিবেশগত পর্যালোচনার সময়সীমা কমানো এবং ভোট ও নির্বাচনী অর্থায়ন ব্যবস্থায় নতুন নিয়ম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাবগুলোর একটি হলো বিলিয়নিয়ার কর। এতে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রায় ২০০ জন বিলিয়নিয়ারের সম্পদের ওপর এককালীন ৫ শতাংশ কর আরোপের কথা বলা হয়েছে। পাঁচ বছরে এই কর আদায় করা হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, আদায়ের বেশির ভাগ অর্থ নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় হবে। বাকি অর্থ শিক্ষা ও খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে ব্যবহার করা হবে।

 

এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে এসইআইইউ ইউনাইটেড হেলথকেয়ার ওয়ার্কার্স ওয়েস্ট, মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, টিমস্টার্স ক্যালিফোর্নিয়াসহ কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন। অন্যদিকে গভর্নর গ্যাভিন নিউসম, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা সের্গেই ব্রিন ও ক্রিস লারসেন, ক্যালিফোর্নিয়া মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন এবং ক্যালিফোর্নিয়া টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন এর বিরোধিতা করছে। আরেকটি প্রস্তাবে নতুন কর থেকে প্রাপ্ত অর্থের বাধ্যতামূলক নিরীক্ষার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সেই অর্থ অঙ্গরাজ্যের ব্যয় সীমা নির্ধারণের নিয়মের আওতায় আনা হবে। বিলিয়নিয়ার কর প্রস্তাবের সঙ্গে এটি একসঙ্গে পাস হলে যে প্রস্তাব বেশি ভোট পাবে, সেটিই কার্যকর হবে।

 

আরেকটি প্রস্তাবে ব্যক্তিগত সম্পদের ওপর নতুন কর এবং অতীত থেকে কার্যকর (রেট্রোঅ্যাকটিভ) কর আরোপ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি মূলত বিলিয়নিয়ার কর বাস্তবায়ন ঠেকানোর উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে। উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ওপর বর্তমানে যে অতিরিক্ত আয়কর রয়েছে, সেটিকে ২০৩১ সালের পরও স্থায়ী করার প্রস্তাবও ব্যালটে রয়েছে। এ কর ব্যক্তি পর্যায়ে বছরে ৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং দম্পতিদের ক্ষেত্রে ৭ লাখ ২১ হাজার ডলারের বেশি আয়ের ওপর প্রযোজ্য। এই অর্থ সরকারি স্কুল ও কমিউনিটি কলেজে ব্যয় করা হয়।

 

স্থানীয় বিশেষ কর অনুমোদনের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে স্থানীয় বিশেষ কর অনুমোদন সম্ভব হলেও নতুন প্রস্তাবে তা দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। আবাসন সংকট মোকাবিলায় ১১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারের বন্ড অনুমোদনের প্রস্তাবও রয়েছে। এ অর্থ সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ, সংস্কার, বিদ্যমান আবাসন সংরক্ষণ এবং প্রবীণ সেনাসদস্যদের আবাসন সহায়তায় ব্যয় করা হবে।

 

এ ছাড়া প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য ২৫ বিলিয়ন ডলারের রাষ্ট্র-সমর্থিত মর্টগেজ সহায়তা কর্মসূচির প্রস্তাব আনা হয়েছে। যোগ্য ক্রেতারা বাড়ির মূল্যের সর্বোচ্চ ১৭ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তা পাবেন। তবে তাদের অন্তত ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিতে হবে। ব্যালটে থাকা অন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজ্যের জরুরি তহবিলের সীমা বৃদ্ধি, আবাসন ও অবকাঠামো প্রকল্পে পরিবেশগত পর্যালোচনার সময়সীমা কমানো, সরাসরি ভোটের ক্ষেত্রে সরকারি পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা, ডাকযোগে ভোটে অতিরিক্ত পরিচয় যাচাই, নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারি অর্থায়নের সুযোগ এবং গভর্নরসহ নির্বাচিত কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার (রিকল) নির্বাচন পদ্ধতিতে পরিবর্তন।

 

এই ১৪টি প্রস্তাবের ওপর ভোটের ফলাফল ক্যালিফোর্নিয়ার করনীতি, আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
কানেকটিকাটে এটিএম বুথে ‘জ্যাকপটিং’ জালিয়াতি; এফবিআইয়ের অভিযানে গ্রেপ্তার ৪ | ছবি: গেটি ইমেজেস
কার্ড ছাড়াই বুথ থেকে অর্ধমিলিয়ন ডলার চুরি, যুক্তরাষ্ট্রে ৪ ভেনিজুয়েলান গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এটিএম বুথে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাখ লাখ ডলার চুরির অভিযোগে চার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির ফেডারেল গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই)। 'জ্যাকপটিং' নামের একটি বিশেষ হ্যাকিং পদ্ধতির মাধ্যমে ওই ব্যক্তিরা বুথ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এই অপরাধ চক্রটি কানেকটিকাটের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৫ লাখ ২৯ হাজার ২২০ মার্কিন ডলার চুরি করেছে বলে আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   কানেকটিকাটের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস এবং নিউ হ্যাভেনের এফবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন ইউক্লিডেস মোরেনো ইতানের, উইলিয়ান রিকার্ডো ফ্লোরেস, আলবার্তো জোসে ফ্রেইটস আরভিলা এবং লুইস জোসে ফ্রেইটস আরভিলা। তারা প্রত্যেকেই ভেনিজুয়েলার নাগরিক এবং বর্তমানে নিউ ইয়র্ক, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ম্যাসাচুসেটসের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন। চোরাই সম্পত্তি এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পরিবহন এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে।   তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, 'জ্যাকপটিং' হলো এমন এক ধরনের অত্যাধুনিক চুরি যেখানে বিশেষ কোনো হার্ডওয়্যার বা ম্যালওয়্যার সফটওয়্যার ব্যবহার করে এটিএম বুথের ভেতরের কম্পিউটার সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এর ফলে ব্যাংকের কোনো কার্ড ছাড়াই বুথের ভেতরে থাকা সব টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাইরে চলে আসে। গত বছরের আগস্ট মাসে এই চক্রটি কানেকটিকাটের মোট ৯টি এটিএম বুথ টার্গেট করেছিল, যার মধ্যে আটটি বুথ থেকে তারা সফলভাবে টাকা তুলতে সক্ষম হয়। তবে একটি বুথে উন্নত নিরাপত্তা সফটওয়্যার থাকায় তাদের চুরির চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল।   বুথগুলোর ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে এই চুরির অভিনব কৌশল দেখতে পেয়েছেন গোয়েন্দারা। ফুটেজে দেখা যায়, আলবার্তো নামের একজন প্রথমে এটিএম বুথ খুলে এর ভেতরের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় প্রবেশ করেন এবং কাজ শেষ করে এলাকা ছেড়ে চলে যান। এরপর অন্য তিনজন পালাক্রমে বুথের সামনে এসে পাহারায় থাকেন এবং টাকাগুলো বস্তাবন্দী করেন। ধরা পড়ার ঝুঁকি এড়াতে তারা কয়েক ঘণ্টা পর পর নিজেদের পোশাক পরিবর্তন করে একই বুথে বারবার আসছিলেন।   আমেরিকার বিচার বিভাগ ও এফবিআই জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে এই 'জ্যাকপটিং' চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত এক সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ হাজার ৯০০টি এই ধরণের চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র গত এক বছরেই ৭০০টিরও বেশি ঘটনায় প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ এটিএম বুথ থেকে হ্যাক করে চুরি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত এই চার ব্যক্তির দোষ প্রমাণিত হলে তাদের সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১২:৭
ফ্লোরিডায় সরকারি সাইনবোর্ড চুরি করে অনলাইনে বিক্রির দায়ে এক ব্যক্তি অভিযুক্ত | ছবি: এক্স

সরকারি সাইনবোর্ড চুরি করে ফেসবুকে বিক্রি, ফ্লোরিডার যুবকের ১০ বছরের জেল

গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ বিল কমাতে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় থার্মোস্ট্যাটের তাপমাত্রা বাড়িয়ে রাখার পরামর্শ ‘জর্জিয়া পাওয়ার’-এর | ছবি: সিবিএস নিউজ

গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে বিদ্যুৎ বিল কমাতে হিমশিম খাচ্ছেন জর্জিয়ার বাড়িওয়ালারা

লং আইল্যান্ড এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার বাসটি | ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড এক্সপ্রেসওয়েতে বাস উল্টে নিহত ২, আহত অন্তত ১০

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সামনে বিক্ষোভ; অভিবাসী সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি লড়াই জোরদার | ছবি: রয়টার্স
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের ট্রাম্পের নির্দেশ খারিজ করে দিলেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট

অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার বা 'বার্থরাইট সিটিজেনশিপ' সীমিত করার লক্ষ্যে জারি করা ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশ বাতিল করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সর্বোচ্চ আদালতের ৬-৩ বিচারকের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে ট্রাম্পের এই বিতর্কিত পদক্ষেপটি খারিজ হয়ে যায়।   চলতি বছরে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় বড় কোনো নীতিগত পরাজয়। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রাম্পের বিশ্বব্যাপী শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তটিও বাতিল করেছিলেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবারের এই রায়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের সেই আদেশটিই বহাল রাখলেন, যা ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, কোনো শিশুর বাবা-মায়ের কেউই যদি মার্কিন নাগরিক বা গ্রিনকার্ডধারী না হন, তবে সেই শিশুর জন্মসূত্রে পাওয়া নাগরিকত্ব মার্কিন সংস্থাগুলো স্বীকৃতি দেবে না।   ট্রাম্পের এই আদেশের বিরুদ্ধে মামলাকারীরা দাবি করেন, এই নির্দেশ মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর পরিপন্থী। আমেরিকার গৃহযুদ্ধের পর প্রণীত এই সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া এবং দেশটির এক্তিয়ারভুক্ত সকল ব্যক্তিই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী। সমালোচকরা শুরু থেকেই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের এই অভিবাসন নীতিকে বর্ণ ও ধর্মভিত্তিক বৈষম্যমূলক বলে অভিহিত করে আসছিলেন।   আদালতের রক্ষণশীল প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস ১৮৯৮ সালের 'ইউনাইটেড স্টেটস বনাম ওং কিম আরক' ঐতিহাসিক মামলার নজির টেনে এই রায় দেন। ওই রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, বিদেশী নাগরিকদের সন্তান হলেও মার্কিন মাটিতে জন্ম নিলে সে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাবে। প্রধান বিচারপতি তার রায়ে উল্লেখ করেন, গত ১২৮ বছর ধরে এই নিয়মটিই চলে আসছে এবং সংবিধানে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার মতো কোনো প্রমাণ বা উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।   আগামী ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উদযাপনের ঠিক আগে সুপ্রিম কোর্টের এই ঐতিহাসিক রায়টি এলো। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ট্রাম্পের এই বিতর্কিত নির্দেশটি কার্যকর হলে প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় আড়াই লাখ শিশুর আইনিstatus হুমকির মুখে পড়ত। নিউ হ্যাম্পশায়ারে কয়েকজন ভুক্তভোগী বাবা-মা ও সন্তানের যৌথ মামলার প্রেক্ষিতেই সর্বোচ্চ আদালত এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।   সূত্র: রয়টার্স

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১১:৩৫
৩ নভেম্বরের নির্বাচনে বিলিয়নিয়ার করসহ ১৪টি ব্যালট প্রস্তাবে ভোট দেবেন ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটাররা | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

৩ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ ব্যালট প্রস্তাবে ভোট, বদলে যেতে পারে কর, আবাসন ও ভোটব্যবস্থা

প্রথম সিটি বাজেট পাসের শেষ মুহূর্তে মেয়র জোহরান মামদানী | ছবি: গেটি ইমেজেস

নিউইয়র্কে মামদানীর ১২৫ বিলিয়ন ডলারের বাজেট চুক্তি, বাড়ছে না পুলিশের জনবল

ছবি: রয়টার্স

মেয়েদের খেলায় ট্রান্সজেন্ডার অংশগ্রহণে অঙ্গরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট

জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চীনা সৌর প্রযুক্তিতে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা | ছবি: রয়টার্স
চীনা সৌর প্রযুক্তিতে নতুন নিষেধাজ্ঞার পথে যুক্তরাষ্ট্র, বিদ্যুৎ গ্রিড নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন চীনে তৈরি বিদ্যুৎ-সংযোগকারী সৌর ইনভার্টার আমদানির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। জাতীয় বিদ্যুৎ অবকাঠামোর সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।   প্রস্তাবিত নিয়মটি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (FCC) প্রস্তুত করছে। এটি কার্যকর হলে বিদেশে তৈরি নতুন মডেলের নির্দিষ্ট ইনভার্টারের আমদানি সীমিত বা নিষিদ্ধ হতে পারে। তবে খসড়া নীতিমালা এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং প্রকাশের আগ পর্যন্ত এতে পরিবর্তন আসতে পারে।   সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও ব্যাটারিকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করতে ইনভার্টার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যন্ত্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, চীনে তৈরি কিছু ইনভার্টারে নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতা থাকলে সেগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি বা সাইবার হামলার ঝুঁকি বাড়াতে ব্যবহৃত হতে পারে। হোয়াইট হাউস ও এফসিসি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত চীনা দূতাবাস অভিযোগ করেছে, জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে চীনা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অযৌক্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তারা বলেছে, চীনা প্রতিষ্ঠানের জন্য ন্যায্য ও বৈষম্যহীন ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা উচিত।   চীন বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম সৌর ইনভার্টার প্রস্তুতকারক দেশ। বিশেষ করে Sungrow এবং Huawei বৈশ্বিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। কম দামে পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে তারা ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারেও অংশীদারিত্ব বাড়িয়েছে।   এর আগে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা কিছু চীনা ইনভার্টার পরীক্ষা করে এমন যোগাযোগ-সক্ষম উপাদানের উপস্থিতির দাবি করেছিলেন, যেগুলোর উল্লেখ পণ্যের আনুষ্ঠানিক নথিতে ছিল না। ওই ঘটনার পর থেকেই মার্কিন প্রশাসনের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।   এদিকে ইউরোপীয় কমিশনও সম্প্রতি সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কিছু জ্বালানি প্রকল্পে চীনে তৈরি ইনভার্টার ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। ইউরোপে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে ভবিষ্যতে ঝুঁকিপূর্ণ সরবরাহকারীদের আরও কঠোরভাবে মূল্যায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগও ২০২৬ অর্থবছরের জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইনের আওতায় বিদেশি উদ্বেগজনক উৎস থেকে উৎপাদিত সৌর সেল, মডিউল ও ইনভার্টার সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১০:৫৬
বাড়িওয়ালার অবহেলায় ঘরেই ইঁদুরের আক্রমণের শিকার শিকাগোর বাসিন্দা হেরিবার্তো হার্নান্দেজ | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে ঘুমের মধ্যে মুখে ইঁদুরের কামড়, বাড়িওয়ালার অবহেলায় রক্তাক্ত ভাড়াটিয়া

বামদিকে: ইসরায়েলি কারাগারে যাওয়ার আগে ড. আবু সাফিয়া। ডানদিকে: ইসরায়েলি কারাগারে দেড় বছর কাটানোর পর । ছবি: সংগৃহীত

গাজা ইস্যুতে আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের নীরবতার প্রতিবাদে চিকিৎসকদের বিক্ষোভ

ছবি: বেন ফ্র্যাক্টেনবার্গ / দ্য সিটি রিপোর্টার

নিউইয়র্কের কারাগারের অন্ধকার জগৎ: নির্যাতন, চিকিৎসা অবহেলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ চিত্র

0 Comments