অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার বা 'বার্থরাইট সিটিজেনশিপ' সীমিত করার লক্ষ্যে জারি করা ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশ বাতিল করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সর্বোচ্চ আদালতের ৬-৩ বিচারকের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে ট্রাম্পের এই বিতর্কিত পদক্ষেপটি খারিজ হয়ে যায়।
চলতি বছরে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় বড় কোনো নীতিগত পরাজয়। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রাম্পের বিশ্বব্যাপী শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তটিও বাতিল করেছিলেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবারের এই রায়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের সেই আদেশটিই বহাল রাখলেন, যা ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, কোনো শিশুর বাবা-মায়ের কেউই যদি মার্কিন নাগরিক বা গ্রিনকার্ডধারী না হন, তবে সেই শিশুর জন্মসূত্রে পাওয়া নাগরিকত্ব মার্কিন সংস্থাগুলো স্বীকৃতি দেবে না।
ট্রাম্পের এই আদেশের বিরুদ্ধে মামলাকারীরা দাবি করেন, এই নির্দেশ মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর পরিপন্থী। আমেরিকার গৃহযুদ্ধের পর প্রণীত এই সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া এবং দেশটির এক্তিয়ারভুক্ত সকল ব্যক্তিই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী। সমালোচকরা শুরু থেকেই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের এই অভিবাসন নীতিকে বর্ণ ও ধর্মভিত্তিক বৈষম্যমূলক বলে অভিহিত করে আসছিলেন।
আদালতের রক্ষণশীল প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস ১৮৯৮ সালের 'ইউনাইটেড স্টেটস বনাম ওং কিম আরক' ঐতিহাসিক মামলার নজির টেনে এই রায় দেন। ওই রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, বিদেশী নাগরিকদের সন্তান হলেও মার্কিন মাটিতে জন্ম নিলে সে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাবে। প্রধান বিচারপতি তার রায়ে উল্লেখ করেন, গত ১২৮ বছর ধরে এই নিয়মটিই চলে আসছে এবং সংবিধানে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার মতো কোনো প্রমাণ বা উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
আগামী ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উদযাপনের ঠিক আগে সুপ্রিম কোর্টের এই ঐতিহাসিক রায়টি এলো। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ট্রাম্পের এই বিতর্কিত নির্দেশটি কার্যকর হলে প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় আড়াই লাখ শিশুর আইনি অবস্থান হুমকির মুখে পড়ত। নিউ হ্যাম্পশায়ারে কয়েকজন ভুক্তভোগী বাবা-মা ও সন্তানের যৌথ মামলার প্রেক্ষিতেই সর্বোচ্চ আদালত এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।
সূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সীমান্তবর্তী শহর ডেল রিওতে পাঁচ সন্তানের জননী ক্যারোলিন "ক্যারো" পেনা হত্যাকাণ্ডে ১৯ বছর বয়সী আমায়া "কুকি" ডিয়াজই ছুরিকাঘাত করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। আদালতে জমা দেওয়া নথির বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক পোস্ট। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ৩২ বছর বয়সী পেনার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে কুকি ডিয়াজ তাকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করেন। এ ঘটনায় কুকির পাশাপাশি তার ২১ বছর বয়সী বোন কিটি মিয়া ডিয়াজ এবং তাদের বন্ধু ২১ বছর বয়সী কিয়ান্দ্রা রেনি ফাজের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। শুক্রবার টেক্সাসের একটি আদালত তিন আসামির প্রত্যেকের জামিন পাঁচ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, কিয়ান্দ্রা ফাজ পুলিশকে জানান, পেনা তার বাড়িতে গিয়ে ঝগড়া বাধানোর চেষ্টা করেছিলেন। তদন্তকারীরা পরে ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, পেনার কালো রঙের ডজ পিকআপ ট্রাকটি ফাজের বাড়ির সামনে এসে থামে। কিছুক্ষণ পর একটি কালো ক্রাইসলার ৩০০ গাড়িতে করে কুকি ও কিটি সেখানে পৌঁছান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ি থেকে নেমেই কুকি ডিয়াজ পেনার দিকে এগিয়ে যান। তার ডান হাতে ছুরির মতো একটি ধারালো বস্তু ছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা। ভিডিওতে দেখা যায়, কুকি পেনার পিঠে আঘাত করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তার জামা রক্তে ভিজে যায়। এরপর কিটি ডিয়াজ ও কিয়ান্দ্রা ফাজও হামলায় অংশ নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা পেনাকে মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। আহত পেনাকে তার ভাতিজা স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে হামলার প্রায় সাত ঘণ্টা পর, রাত ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার আদালতে হাজির করা হলে তিন অভিযুক্তই নিজেদের পক্ষে আদালত-নিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করেন।
নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড এক্সপ্রেসওয়েতে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে দুইজন নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার রাতের এ দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের উভয় দিকের যান চলাচল ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ থাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার রাত প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিটে পশ্চিমমুখী একটি বাস গ্রিনপয়েন্ট অ্যাভিনিউর এক্সিট-১৬-এর কাছে প্রথমে দুটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এরপর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পূর্বমুখী লেনে চলে যায় এবং সেখানে আরও দুটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। দুর্ঘটনার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে নিউইয়র্ক সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের (এফডিএনওয়াই) ৭৯ জন অগ্নিনির্বাপক ও জরুরি সেবা কর্মী মোতায়েন করা হয়। সংস্থাটি ঘটনাটিকে গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ডব্লিউএবিসির তথ্য অনুযায়ী, নিহত দুজন হলেন বাসচালক এবং বাসের এক যাত্রী। তবে কর্তৃপক্ষ এখনো তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি। এফডিএনওয়াই জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া আরও সাতজন সামান্য আহত হয়েছেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাসে থাকা প্রায় ২৪ জন যাত্রীকে বেলভিউ হাসপাতাল, নিউইয়র্ক-প্রেসবাইটেরিয়ান কুইন্স এবং এলমহার্স্ট হাসপাতাল সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় মহাসড়ক বন্ধ থাকায় অনেক চালক পূর্বমুখী লেনেই গাড়ি ঘুরিয়ে বিকল্প পথে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট মেয়েদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণে আইডাহো ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। ৬-৩ ভোটের রায়ে আদালত বলেছে, এসব আইন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর সমান সুরক্ষা (Equal Protection) ধারার লঙ্ঘন করে না। এ রায়কে ট্রান্সজেন্ডার অধিকার, স্কুল-কলেজ পর্যায়ের ক্রীড়া নীতি এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর ক্ষমতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সোমবার দেওয়া এ রায়ের ফলে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি অঙ্গরাজ্যে মেয়েদের ক্রীড়ায় জন্মগতভাবে পুরুষ হিসেবে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে আরোপিত একই ধরনের বিধিনিষেধ আরও শক্ত আইনি ভিত্তি পেল। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত লিখেছেন বিচারপতি ব্রেট কাভানফ। তিনি বলেন, এ ধরনের বিরোধে জড়িত অধিকাংশ জৈবিক নারী ও ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থী কিশোর বা তরুণ। তারা খেলাধুলায় অংশ নিতে চায় এবং সেই আগ্রহ সম্মানের দাবিদার। তিনি আরও বলেন, এই বিতর্কের কোনো পক্ষের শিক্ষার্থীই সামাজিকভাবে একঘরে হওয়া বা বিদ্বেষের শিকার হওয়ার যোগ্য নয়। মামলায় দুই ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেট পৃথকভাবে আইডাহো ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার আইন চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। তাদের দাবি ছিল, এসব আইন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর সমান সুরক্ষা বিধান এবং বৈষম্যবিরোধী আইনের পরিপন্থী। তবে শুনানির সময় আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা মেয়েদের ক্রীড়ার সুরক্ষার স্বার্থে অঙ্গরাজ্যগুলোর নীতির পক্ষে অবস্থান নেন। তারা উল্লেখ করেন, ফেডারেল আইনেও ক্রীড়াক্ষেত্রে জৈবিক লিঙ্গভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসের সুযোগ রয়েছে। আইডাহোর মামলায় বোইসি স্টেট ইউনিভার্সিটির ট্র্যাক ও ক্রস-কান্ট্রি অ্যাথলেট হতে আগ্রহী ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থী লিন্ডসে হেকক্স রাজ্যের ‘ফেয়ারনেস ইন উইমেনস স্পোর্টস অ্যাক্ট’-এর বিরুদ্ধে মামলা করেন। তার অভিযোগ ছিল, আইনটি সংবিধানের সমান সুরক্ষা বিধান লঙ্ঘন করছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার মামলায় ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থী বেকি পেপার-জ্যাকসনের পক্ষে তার মা ‘সেভ উইমেনস স্পোর্টস অ্যাক্ট’-এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করেন। মামলায় সংবিধানের পাশাপাশি ১৯৭২ সালের টাইটেল নাইন আইনের ব্যাখ্যাও উঠে আসে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ করলেও পরবর্তী সংশোধনের মাধ্যমে ক্রীড়াক্ষেত্রে জৈবিক লিঙ্গভিত্তিক বিভাগ রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই দুই মামলা, ‘লিটল বনাম হেকক্স’ এবং ‘ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া বনাম বি.পি.জে.’, প্রথমবারের মতো মেয়েদের ক্রীড়ায় ট্রান্সজেন্ডার অংশগ্রহণের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণ করল। এর আগে গত বছর সুপ্রিম কোর্ট অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ট্রান্সজেন্ডার-সংক্রান্ত অস্ত্রোপচার ও হরমোন চিকিৎসা সীমিত বা নিষিদ্ধ করার অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনও বহাল রেখেছিল।