আমেরিকা

সোয়াট অভিযানের মাঝখানে ঢুকে পড়ল খাবার সরবরাহকারী রোবট, থামাতে ডাক পড়ল কোম্পানির

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১১:২
অ্যারিজোনায় সোয়াট অভিযানের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ঢুকে পড়ল ডোরড্যাশের রোবট | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
অ্যারিজোনায় সোয়াট অভিযানের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ঢুকে পড়ল ডোরড্যাশের রোবট | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের চ্যান্ডলার শহরে একটি চলমান সোয়াট (SWAT) অভিযানের সময় অপ্রত্যাশিতভাবে নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডোরড্যাশের একটি স্বয়ংচালিত রোবট। পুলিশের চলমান অভিযানের মাঝখানে রোবটটির উপস্থিতি কিছু সময়ের জন্য ভিন্নধর্মী পরিস্থিতির সৃষ্টি করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ছাড়াই অভিযান শেষ হয়।

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেপিএনএক্স-টিভি (১২ নিউজ)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৫ জুন চ্যান্ডলার শহরের রে রোড ও হ্যামিল্টন স্ট্রিট এলাকায় অস্ত্র-সংক্রান্ত একটি ঘটনার তদন্তে বিশেষ অস্ত্র ও কৌশলগত ইউনিট (সোয়াট) অভিযান পরিচালনা করছিল। অভিযানের অংশ হিসেবে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয় এবং সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত করা হয়।

 

এমন সময় ডোরড্যাশের স্বয়ংচালিত ডেলিভারি রোবট ‘ডট’ (Dot) নির্ধারিত পথে খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে পুলিশের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে প্রবেশ করে। ঘটনাস্থলে থাকা কর্মকর্তারা রোবটটিকে ফিরে যেতে মৌখিকভাবে নির্দেশ দিলেও সেটি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। কারণ রোবটটি মানুষের কণ্ঠে দেওয়া নির্দেশনা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নয়; এটি পূর্বনির্ধারিত সফটওয়্যার ও সেন্সরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

 

পরে অভিযানের অংশ হিসেবে একটি বাড়ির কাছে পুলিশ ফ্ল্যাশ-ব্যাং ডিভাইস ব্যবহার করে। তবুও রোবটটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেনি। পরে জানা যায়, সামনে পথ বন্ধ থাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে থেমে অপেক্ষা করছিল।

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত চ্যান্ডলার পুলিশ বিভাগ ডোরড্যাশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে প্রতিষ্ঠানটির একজন প্রযুক্তিবিদ একটি বক্স ট্রাক নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে রোবটটিকে সরিয়ে নিয়ে যান। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিঘ্নে তাদের অভিযান সম্পন্ন করে।

 

ঘটনার পর ডোরড্যাশ এক বিবৃতিতে জানায়, রোবটটি ঠিক যেভাবে কাজ করার জন্য নকশা করা হয়েছে, সেভাবেই আচরণ করেছে। কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, পথ বন্ধ থাকলে রোবটটি নিরাপদ অবস্থায় থেমে থাকে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা করে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে জরুরি পরিস্থিতিতে স্বয়ংচালিত ডেলিভারি প্রযুক্তির কার্যক্রম আরও উন্নত করতে ঘটনাটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

 

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বয়ংচালিত ডেলিভারি সেবার ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও জরুরি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে এসব যন্ত্র কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে পুলিশি অভিযান, অগ্নিকাণ্ড বা অন্যান্য জরুরি অবস্থায় স্বয়ংচালিত যন্ত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।

 

কেপিএনএক্স-টিভি (১২ নিউজ) জানায়, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে ভবিষ্যতের নগরজীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বাস্তব চ্যালেঞ্জের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। তবে পুরো ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং পুলিশের মূল অভিযানও সফলভাবে শেষ হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
টেক্সাসে ওষুধের দোকানের এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে বের হওয়া ৭৯ বছরের বৃদ্ধকে মারধর ও ছিনতাই | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে এটিএম থেকে টাকা তুলে বের হতেই বৃদ্ধকে ছিনতাই, সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন এলাকার একটি ওষুধের দোকানের বাইরে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে বের হওয়ার পরপরই ৭৯ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে মারধর ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। টেক্সাসের পিয়ারল্যান্ড পুলিশ বিভাগ এই চঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্ত করছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রধান সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করতে জনসাধারণের সহযোগিতা চেয়েছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।   পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৯ জুন পিয়ারল্যান্ডের একটি ওয়ালগ্রিনস ফার্মেসির বাইরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই প্রবীণ নাগরিক বুথ থেকে নগদ অর্থ তোলার পরপরই ওত পেতে থাকা এক ছিনতাইকারী আকস্মিকভাবে তাঁর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারী বৃদ্ধকে শারীরিক নথিপত্রসহ আঘাত করে তাঁর মানিব্যাগ এবং সদ্য তোলা সব নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।   পিয়ারল্যান্ড পুলিশ বিভাগ ইতিমধ্যে এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে হিউস্টনের বাসিন্দা দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, গ্রেফতারকৃত ওই দুজন এই অপরাধের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিল। তাদের একজন পুরো সময় চারপাশের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছিল বা লুকআউট হিসেবে কাজ করছিল এবং অন্যজন গাড়ি নিয়ে ছিনতাইকারীকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছিল।   লুকআউট এবং গাড়িচালককে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলেও মূল হামলাকারী এখনো পলাতক রয়েছে। পুলিশ জানায়, যে ব্যক্তি সরাসরি বৃদ্ধের ওপর চড়াও হয়েছিল এবং টাকা ছিনিয়ে নিয়েছিল, তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে গোয়েন্দারা। সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়া তার ছবি প্রকাশ করে পুলিশ আশা করছে, কোনো না কোনো নাগরিক তাকে চিনে ফেলবে এবং তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে।   তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ধরনের প্রবীণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে তারা অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। পলাতক আসামিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে পিয়ারল্যান্ড পুলিশ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১১:৩৯
ছবি: হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুকে নির্যাতন ও ভিডিও ছড়ানোর দায়ে যুবকের ৩৪ বছরের কারাদণ্ড

ট্রাম্প মিম কয়েনের দাম ৯৮% কমায় ১ লাখ ডলারের বিনিয়োগ নেমে এসেছে মাত্র ২ হাজার ২০০ ডলারে | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

ট্রাম্পের ক্রিপ্টো কয়েনে ১ লাখ ডলারের বিনিয়োগ নেমেছে ২,২০০ ডলারে, পরিবারের আয় ১৪০ কোটির বেশি

অ্যারিজোনায় সোয়াট অভিযানের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ঢুকে পড়ল ডোরড্যাশের রোবট | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

সোয়াট অভিযানের মাঝখানে ঢুকে পড়ল খাবার সরবরাহকারী রোবট, থামাতে ডাক পড়ল কোম্পানির

সৈয়দা নুসরাত জাহান (স্নেহা) | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট শিক্ষা অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশি নুসরাত জাহান

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে শিক্ষাক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশি কিশোরী সৈয়দা নুসরাত জাহান (স্নেহা)। নিউইয়র্কের ‘নলেজ অ্যান্ড পাওয়ার একাডেমি’ স্কুল থেকে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে অষ্টম গ্রেডে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে তিনি ‘ভ্যালেডিক্টোরিয়ান’ (সেরা শিক্ষার্থী) হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।   একই সঙ্গে শিক্ষায়তনিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অসামান্য কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ নুসরাত পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রেসিডেন্ট শিক্ষা অ্যাওয়ার্ড’। এ ছাড়া ‘সিভিক অ্যাম্বাসেডর অ্যাওয়ার্ড’ ও ‘সিনেট অ্যাওয়ার্ড’সহ মোট সাতটি সম্মানজনক পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি।   সৈয়দা নুসরাত জাহানের গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার নিজপানুয়া খন্দকার বাড়িতে। তিনি নিউইয়র্কের পরিচিত কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট, শিক্ষক ও সাংবাদিক অধ্যাপক সৈয়দ আজাদ এবং জোবায়েদা জেসমিন সোহেলি দম্পতির ছোট মেয়ে।   নুসরাতের এই অর্জনে নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা আনন্দ প্রকাশ করেছেন এবং তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।   ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে নুসরাত বলেন, “আমি ভবিষ্যতে একজন আইনজীবী হয়ে দেশ এবং প্রবাসের অবহেলিত মানুষের সেবা করতে চাই। নিজের সাফল্যের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করাই আমার মূল লক্ষ্য।”   মেয়ের এই সাফল্যে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছেন বাবা অধ্যাপক সৈয়দ আজাদ। তিনি বলেন, “আমার বড় মেয়ে সৈয়দা নূর-ই জান্নাতও এর আগে বিভিন্ন সম্মাননা অর্জন করেছে। বড় বোনের সাফল্য ও অনুপ্রেরণাই ছোট মেয়ের এই অর্জনের পথ আরও সহজ করেছে।”   তিনি সন্তানদের সুন্দর মানবিক গুণাবলি নিয়ে বেড়ে ওঠার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১০:৫৬
যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অ-নিবন্ধিত বিদেশিদের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিবন্ধন নীতি জারি | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি নাগরিকদের নতুন নিয়ম, ৩০ দিনের বেশি থাকলে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক

নিউইয়র্কের সুইমিং পুল থেকে মেয়রের ৭ বছর বয়সী ভাতিজা হারবে নাগির মরদেহ উদ্ধার | ছবি: আদম আলহারবি ফেসবুক

যুক্তরাষ্ট্রে সাত বছর বয়সী মেয়রের ভাতিজা নিখোঁজের পর সুইমিং পুলে মৃত উদ্ধার

সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার স্থূলতা কমানোর ওষুধের খরচ বহন করবে মেডিকেয়ার

কুকুর হামলার ঘটনায় মারিয়া আভিলাকে ১৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ ক্রিস ব্রাউনকে | ছবি: গেটি ইমেজেস
কুকুরের কামড়ে গৃহকর্মীর মুখ-হাত ক্ষতবিক্ষত, মার্কিন গায়ক ক্রিস ব্রাউনকে ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার জরিমানা

বিশ্বখ্যাত মার্কিন পপ গায়ক ক্রিস ব্রাউনের পোষা কুকুরের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার বাড়ির এক গৃহকর্মী। এই ঘটনায় ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত ক্রিস ব্রাউনকে ১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের সেই ভয়াবহ ঘটনার দীর্ঘ সাড়ে ৫ বছর আইনি লড়াই শেষে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার আদালত এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।   মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১২ ডিসেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসে ক্রিস ব্রাউনের বিলাসবহুল প্রাসাদে ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের ব্যাগ পরিষ্কার করতে বাইরে যান গৃহকর্মী মারিয়া অ্যাভিলা। সেখানে ব্রাউনের একটি বিশাল আকৃতির নিরাপত্তা প্রহরী কুকুর (ককেশিয়ান শেফার্ড) আকস্মিকভাবে মারিয়ার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কুকুরের কামড়ে তার মুখ ও হাত ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই মামলার শুনানিতে মারিয়া জানান, এই হামলার পর তার মুখে ও হাতে অসংখ্য অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে এবং তিনি এখনো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। শারীরিক অক্ষমতার কারণে তার গৃহকর্মীর পেশাজীবনও চিরতরে শেষ হয়ে গেছে।   শুনানিতে আরও জানা যায়, ঘটনার সময় মারিয়ার বোন প্যাট্রিসিয়াও সেখানে কাজ করছিলেন। গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় মারিয়া যখন ছটফট করছিলেন, তখন ক্রিস ব্রাউন নিজে জরুরি সেবা বা ৯১১ নম্বরে ফোন করেননি। উল্টো মিডিয়া ও খবরের ঝামেলা এড়াতে এবং নিজের সেলিব্রিটি ইমেজ ধরে রাখতে অ্যাম্বুলেন্স আসার আগেই তিনি গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান। মারিয়ার বোন প্যাট্রিসিয়াকে মানসিক ট্রমার জন্য ৮ লাখ ৮৫ হাজার ডলার এবং মারিয়ার স্বামীকে আলাদাভাবে ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।   আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ক্রিস ব্রাউন স্বীকার করেন যে চারপাশ রক্তে ভেসে যাচ্ছিল, তবে নিজের ইমেজের কথা চিন্তা করে ম্যানেজারের পরামর্শে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছিলেন। এর আগে ২০০৯ সালে তৎকালীন প্রেমিকা ও জনপ্রিয় গায়িকা রিয়হানাকে মারধরের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এই পপ তারকা। কুকুরের কামড়ের এই মামলায় প্রথম থেকেই ব্রাউন নিজের অবহেলার কথা স্বীকার করলেও ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার জুরি বোর্ড মারিয়ার পক্ষে এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১০:৩
নিউইয়র্কজুড়ে চালু করা হয়েছে শতাধিক কুলিং সেন্টার | ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে সপ্তাহজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা, খুলেছে শতাধিক কুলিং সেন্টার

৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবসে ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারে শুরু হচ্ছে ‘ইউ আর আমেরিকা’ কর্মসূচি | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ওবামা সেন্টারের গ্রীষ্মজুড়ে বিনামূল্যে নানা আয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের দুই অঙ্গরাজ্যে আজ সন্ধ্যায় তীব্র ঝড়ের সতর্কতা, আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা

0 Comments