আমেরিকা

৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবস ঘিরে নিউইয়র্কে নজিরবিহীন নিরাপত্তা, প্রস্তুত পুলিশ-কোস্ট গার্ড-নৌবাহিনী

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ০:১২
ছবি: নিউ ইয়র্ক পোস্ট
ছবি: নিউ ইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নিউইয়র্ক সিটিজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। আগামী শনিবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কয়েক লাখ মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা থাকায় পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

 

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ ও বিমান প্রদর্শনী, ‘প্যারেড অব সেইলস’ এবং ঐতিহ্যবাহী ম্যাসির আতশবাজির অনুষ্ঠানকে ঘিরে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সপ্তাহান্তে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে একটি বড় আয়োজন এবং মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬-এর একটি ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে।

 

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, প্রতিটি অনুষ্ঠানের জন্য পৃথক ও সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে সবাই নিরাপদে উৎসব উপভোগ করতে পারেন। তিনি জানান, শহরের পাঁচটি বরোতেই অতিরিক্ত ইউনিফর্মধারী পুলিশ মোতায়েন করা হবে। কয়েক মাস ধরে নগর কর্তৃপক্ষ, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রপথে আয়োজন থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর সঙ্গেও সমন্বয় করা হচ্ছে।

 

নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, বুধবার থেকেই অতিরিক্ত নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কারণ আন্তর্জাতিক ও মার্কিন নৌবহরের জাহাজ ইতোমধ্যে শহরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে এ বছরের উদযাপনকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট বা বিশ্বাসযোগ্য হুমকির তথ্য পাওয়া যায়নি। গোয়েন্দা বিভাগ, যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী টাস্কফোর্স এবং কাউন্টার টেররিজম ইউনিট দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সব ধরনের তথ্য সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে।

 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তায় ভারী অস্ত্রধারী বিশেষ ইউনিট, কে-৯ কুকুরদল, বিমান ও নৌ ইউনিট, ড্রোন প্রতিরোধ দল এবং হাজারো পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের ১২ ঘণ্টার শিফটে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে নদীর তীরবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে। প্যারেড দেখতে টিকিটধারী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের নির্ধারিত প্রবেশপথ দিয়ে নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে হবে।

 

এদিকে শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ম্যানহাটনের ৫৯তম স্ট্রিটের দক্ষিণে ওয়েস্ট সাইড হাইওয়ে যান চলাচলের জন্য বন্ধ থাকবে। দিনভর ওই এলাকায় বাণিজ্যিক যানবাহন চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা থাকবে। বিকেল ৩টা থেকে এফডিআর ড্রাইভ ও ব্রুকলিন ব্রিজ বন্ধ করে দেওয়া হবে, যাতে ইস্ট রিভার ও হাডসন নদীতে ম্যাসির স্বাধীনতা দিবসের আতশবাজির প্রস্তুতি নেওয়া যায়। ২০০০ সালের পর এবার প্রথমবারের মতো দুই নদী থেকেই একযোগে আতশবাজি প্রদর্শন করা হবে।

 

এছাড়া ব্রুকলিন ব্রিজ পার্কের পিয়ার-১ থেকে পিয়ার-৬ এবং ম্যানহাটনের সাউথ স্ট্রিট সিপোর্ট এলাকায় শুধুমাত্র টিকিটধারী দর্শনার্থীদের প্রবেশের অনুমতি থাকবে। তাদেরও নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ব্রুকলিনের ক্লার্ক স্ট্রিট সাবওয়ে স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। তবে অতিরিক্ত যাত্রী সামাল দিতে অতিরিক্ত ট্রেন পরিচালনা করবে এমটিএ।

 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সপ্তাহান্তজুড়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: নিউ ইয়র্ক পোস্ট
৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবস ঘিরে নিউইয়র্কে নজিরবিহীন নিরাপত্তা, প্রস্তুত পুলিশ-কোস্ট গার্ড-নৌবাহিনী

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নিউইয়র্ক সিটিজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। আগামী শনিবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কয়েক লাখ মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা থাকায় পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।   বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ ও বিমান প্রদর্শনী, ‘প্যারেড অব সেইলস’ এবং ঐতিহ্যবাহী ম্যাসির আতশবাজির অনুষ্ঠানকে ঘিরে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সপ্তাহান্তে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে একটি বড় আয়োজন এবং মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬-এর একটি ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে।   নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, প্রতিটি অনুষ্ঠানের জন্য পৃথক ও সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে সবাই নিরাপদে উৎসব উপভোগ করতে পারেন। তিনি জানান, শহরের পাঁচটি বরোতেই অতিরিক্ত ইউনিফর্মধারী পুলিশ মোতায়েন করা হবে। কয়েক মাস ধরে নগর কর্তৃপক্ষ, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রপথে আয়োজন থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর সঙ্গেও সমন্বয় করা হচ্ছে।   নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, বুধবার থেকেই অতিরিক্ত নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কারণ আন্তর্জাতিক ও মার্কিন নৌবহরের জাহাজ ইতোমধ্যে শহরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে এ বছরের উদযাপনকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট বা বিশ্বাসযোগ্য হুমকির তথ্য পাওয়া যায়নি। গোয়েন্দা বিভাগ, যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী টাস্কফোর্স এবং কাউন্টার টেররিজম ইউনিট দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সব ধরনের তথ্য সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তায় ভারী অস্ত্রধারী বিশেষ ইউনিট, কে-৯ কুকুরদল, বিমান ও নৌ ইউনিট, ড্রোন প্রতিরোধ দল এবং হাজারো পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের ১২ ঘণ্টার শিফটে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে নদীর তীরবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে। প্যারেড দেখতে টিকিটধারী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের নির্ধারিত প্রবেশপথ দিয়ে নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে হবে।   এদিকে শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ম্যানহাটনের ৫৯তম স্ট্রিটের দক্ষিণে ওয়েস্ট সাইড হাইওয়ে যান চলাচলের জন্য বন্ধ থাকবে। দিনভর ওই এলাকায় বাণিজ্যিক যানবাহন চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা থাকবে। বিকেল ৩টা থেকে এফডিআর ড্রাইভ ও ব্রুকলিন ব্রিজ বন্ধ করে দেওয়া হবে, যাতে ইস্ট রিভার ও হাডসন নদীতে ম্যাসির স্বাধীনতা দিবসের আতশবাজির প্রস্তুতি নেওয়া যায়। ২০০০ সালের পর এবার প্রথমবারের মতো দুই নদী থেকেই একযোগে আতশবাজি প্রদর্শন করা হবে।   এছাড়া ব্রুকলিন ব্রিজ পার্কের পিয়ার-১ থেকে পিয়ার-৬ এবং ম্যানহাটনের সাউথ স্ট্রিট সিপোর্ট এলাকায় শুধুমাত্র টিকিটধারী দর্শনার্থীদের প্রবেশের অনুমতি থাকবে। তাদেরও নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ব্রুকলিনের ক্লার্ক স্ট্রিট সাবওয়ে স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। তবে অতিরিক্ত যাত্রী সামাল দিতে অতিরিক্ত ট্রেন পরিচালনা করবে এমটিএ।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সপ্তাহান্তজুড়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ০:১২
২ জুন, ২০২৬ তারিখে সাউথ ডাকোটা প্রাইমারি নির্বাচনের সময় সু ফলস-এর একটি ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা তাঁদের ব্যালট পূরণ করছেন । ছবি: ম্যাকেঞ্জি হুবার

ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার অনীহায় পিছিয়ে বাংলাদেশি প্রার্থীরা: ‘আমার একটি ভোটে কী আসে-যায়’ মানসিকতাই বড় বাধা

এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়ায় উঠে শান্তির বার্তা সম্বলিত ব্যানার টানানোর পর প্রেম নিবেদন করেন অ্যাঞ্জেলা নিকোলাউ ও ইভান বেয়ারকুস । ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়ায় উঠে প্রেম নিবেদন, পুলিশি হেফাজতে দুঃসাহসী যুগল

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানের প্রতীকী ছবি । ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযানে ব্যাপক ধরপাকড়, পাঁচ দিনে ১০ হাজারের বেশি আটক

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শক্তি টিকিয়ে রাখতে প্রতিরক্ষায় বড় বিনিয়োগ জরুরি: হেগসেথ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন দেশটির যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ। তার ভাষ্য, শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক আধিপত্য ও জাতীয় নিরাপত্তা ধরে রাখা সম্ভব নয়। তাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০২৭ অর্থবছরের ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   একটি মতামতধর্মী নিবন্ধে হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান জাতীয় ঋণ অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। তবে সামরিক খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়াই বর্তমানে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় হুমকি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিই দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, ডলারের আধিপত্য, স্বল্প সুদে ঋণ গ্রহণের সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য নিরাপদ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।   হেগসেথ বলেন, শুধু ট্রেজারি বিভাগ ডলারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে না, এতে মার্কিন বিমান বাহিনীরও ভূমিকা রয়েছে। একইভাবে শুধু ফেডারেল রিজার্ভ নয়, মেরিন কোরও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে যুক্ত। আর বৈশ্বিক মুক্ত বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে শুধু বাণিজ্য বিভাগ নয়, মার্কিন নৌবাহিনীরও অবদান রয়েছে।   তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী থাকলে দেশটি সহজে ঋণ নিতে পারে, বৈশ্বিক বাণিজ্যের নিয়ম নির্ধারণ করতে পারে এবং অর্থনৈতিক সুবিধা ধরে রাখতে সক্ষম হয়। কিন্তু সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হলে বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা বাড়বে, যা বাজার, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।   চীনের সামরিক শক্তি দ্রুত বাড়ছে উল্লেখ করে হেগসেথ বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় প্রতিরক্ষা বাজেট পর্যাপ্ত না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই এখন মহাকাশ, সাইবার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধব্যবস্থা, সমুদ্রের নিচের প্রযুক্তি এবং দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতায় বড় বিনিয়োগের সময় এসেছে।   তিনি জানান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কংগ্রেসের সদস্যদের বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিফিং দিয়েছে এবং কেন এই বাজেটকে জরুরি বলে মনে করছে, তা ব্যাখ্যা করেছে। হেগসেথ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণাঙ্গ আর্থিক নিরীক্ষা (অডিট) পাস করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে বর্তমান প্রশাসন এটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং ২০২৮ সালের মধ্যেই সফলভাবে অডিট সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।   তার ভাষ্য, বাজেটের প্রতিটি খাত পর্যালোচনা করে অগ্রাধিকারহীন ব্যয় কমানো হয়েছে, যার ফলে কয়েক বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করে তা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রকল্পে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বিনিময়ে প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের নিজেদের অর্থে নতুন উৎপাদন কারখানা ও অ্যাসেম্বলি লাইন স্থাপনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে একদিকে কর্মসংস্থান বাড়ছে, অন্যদিকে সরকারের ব্যয়ও কমছে।   হেগসেথের মতে, নতুন এই ব্যবস্থায় সেনাবাহিনী নির্ধারিত সময়ের আগেই আধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি পাবে। একই সঙ্গে বড় প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদেরও নতুন প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে, অন্যথায় তাদের পরিবর্তে নতুন প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দেওয়া হবে।   নিবন্ধের শেষে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও দায়িত্বশীল প্রতিরক্ষা ব্যয় আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, আর্থিক শৃঙ্খলা ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা, দুটি লক্ষ্যই একসঙ্গে অর্জন করা সম্ভব এবং সে জন্য কংগ্রেসকে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন করা উচিত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ২২:৯
ছবি: সাইবারনিউজ

এআই অবকাঠামো এখন চোরদের নিশানায়, যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ লাখ ডলারের ডেটা সেন্টার সরঞ্জাম চুরি

ছবি: সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কার পরও ‘বার্থ ট্যুরিজম’ দমনে কঠোর অবস্থানে ট্রাম্প প্রশাসন

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে ধর্ষণ মামলা: সাজা কম হওয়ায় ক্ষোভ, কলম্বিয়ান নাগরিককে বহিষ্কারের দাবি

কন্যাশিশুকে মাটিতে আছড়ে হত্যার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার I  ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় কন্যাশিশুকে মাটিতে আছড়ে হত্যার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার

ক্লেরমন্ট পুলিশ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত সোমবার বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটের দিকে লিনওক ড্রাইভের ১৪০০ ব্লকের একটি বাড়িতে পুলিশ সদস্যরা পৌঁছান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, অভিযুক্ত ওই কিশোর শিশুটিকে সজোরে মেঝেতে আছড়ে ফেলেছে। এরপর লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য পোমোনা ভ্যালি হাসপাতাল মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান।   অন্যদিকে, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্ত কিশোরকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং তাকে ক্লেরমন্ট পুলিশ বিভাগের কারাগারে নিয়ে যায়।   আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় শিশুটিকে পরবর্তীতে অরেঞ্জ কাউন্টির চিলড্রেনস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরের বিরুদ্ধে হত্যার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং বর্তমানে সে লস প্যাড্রিনোস জুভেনাইল হলে বন্দি রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ক্লেরমন্ট মূলত একটি শান্ত ও অভিজাত শহর। হার্ভে মাড, ক্লেরমন্ট ম্যাককেনা, পোমোনা এবং স্ক্রিপসের মতো মর্যাদাপূর্ণ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত ‘দ্য ক্লেরমন্ট কলেজেস’-এর অবস্থান এখানেই। প্রায় ৩৭ হাজার জনসংখ্যার এই শহরটিতে অপরাধের হার একেবারেই কম। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এক দশকে শহরটিতে মাত্র ছয়টি হত্যাকাণ্ডের রেকর্ড রয়েছে।   তাই এমন একটি শান্তিপূর্ণ শহরে শিশু হত্যার এই রোমহর্ষক ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের রীতিমতো হতবাক করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে ক্লেরমন্ট পুলিশ বিভাগের সাথে যোগাযোগের অনুরোধ করা হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ২০:১৬
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন গড়ে ৮ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন গড়ে ৮ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু, দুর্ঘটনা থেকে আত্মহত্যা কোন কারণে কত প্রাণ ঝরে?

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

মেয়ে ও চার নাতি-নাতনিকে হত্যার পর নিজের জীবনও শেষ করেন দাদি, মৃত্যুর পরও ক্ষমা করল না পরিবার

নিখোঁজ তরুণীর লাশ মিলল সাগরে I ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় নিখোঁজ তরুণীর লাশ মিলল সাগরে, শেষবার দেখা গিয়েছিল এক যুবকের সঙ্গে

0 Comments