‘ইসলাম অন্য ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’—কর্ণাটকের মন্ত্রীর মন্তব্যে পদত্যাগ দাবি বিজেপির
কর্ণাটকের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বাসবরাজ রায়ারেড্ডির ‘ইসলাম অন্য সব ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। মন্ত্রীর বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়া, না হলে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিরোধী দল বিজেপি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্ণাটকের কোপ্পাল জেলার কুকনুরে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় রায়ারেড্ডি ইসলামকে মহান ও মানবিক ধর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইসলাম বিজ্ঞানভিত্তিক এবং মানুষকে কীভাবে জীবনযাপন করতে হয়, তা শেখায়।
এরপর তিনি বলেন, ‘ইসলাম অন্য সব ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, কারণ এটি মানবতা দিয়ে শুরু হয়েছে।’
মন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন কর্ণাটক বিজেপির সভাপতি আর অশোক। তার অভিযোগ, রায়ারেড্ডির বক্তব্য হিন্দুধর্ম ও সনাতন ধর্মের প্রতি অবমাননাকর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অশোক মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারকে উদ্দেশ করে বলেন, মন্ত্রীকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না হলে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অশোক আরও অভিযোগ করেন, রায়ারেড্ডি মন্দির ও মঠে না যাওয়ার কথা বলে হিন্দুদের ধর্মীয় বিশ্বাসের কেন্দ্রগুলোকে হেয় করেছেন। একই সঙ্গে ইসলামকে অন্য ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলার মাধ্যমে তিনি সনাতন ধর্মকে অপমান করেছেন বলেও দাবি করেন বিজেপির এই নেতা।
বিজেপির মুখপাত্র অশোক গৌড়াও মন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, কংগ্রেস সরকার ভোটারদের তুষ্ট করার রাজনীতি করছে।
তবে রায়ারেড্ডির বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কংগ্রেস বা মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
রায়ারেড্ডি এর আগে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার অর্থ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চলতি মাসের শুরুতে ডি কে শিবকুমারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সময় তিনি উচ্চশিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreকর্ণাটকের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বাসবরাজ রায়ারেড্ডির ‘ইসলাম অন্য সব ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। মন্ত্রীর বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়া, না হলে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিরোধী দল বিজেপি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্ণাটকের কোপ্পাল জেলার কুকনুরে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় রায়ারেড্ডি ইসলামকে মহান ও মানবিক ধর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইসলাম বিজ্ঞানভিত্তিক এবং মানুষকে কীভাবে জীবনযাপন করতে হয়, তা শেখায়। এরপর তিনি বলেন, ‘ইসলাম অন্য সব ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, কারণ এটি মানবতা দিয়ে শুরু হয়েছে।’ মন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন কর্ণাটক বিজেপির সভাপতি আর অশোক। তার অভিযোগ, রায়ারেড্ডির বক্তব্য হিন্দুধর্ম ও সনাতন ধর্মের প্রতি অবমাননাকর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অশোক মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারকে উদ্দেশ করে বলেন, মন্ত্রীকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না হলে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি। অশোক আরও অভিযোগ করেন, রায়ারেড্ডি মন্দির ও মঠে না যাওয়ার কথা বলে হিন্দুদের ধর্মীয় বিশ্বাসের কেন্দ্রগুলোকে হেয় করেছেন। একই সঙ্গে ইসলামকে অন্য ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলার মাধ্যমে তিনি সনাতন ধর্মকে অপমান করেছেন বলেও দাবি করেন বিজেপির এই নেতা। বিজেপির মুখপাত্র অশোক গৌড়াও মন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, কংগ্রেস সরকার ভোটারদের তুষ্ট করার রাজনীতি করছে। তবে রায়ারেড্ডির বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কংগ্রেস বা মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। রায়ারেড্ডি এর আগে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার অর্থ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চলতি মাসের শুরুতে ডি কে শিবকুমারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সময় তিনি উচ্চশিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান।
ফ্লোরিডায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে ভয়ংকর তথ্য: ৫ দিনে উদ্ধার ১৬৩ নিখোঁজ শিশু
মার্কিন বিচারকের রায়ে সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক ধসের ১৭১ কোটি ডলারের দাবি খারিজ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাসে অভিবাসন জালিয়াতি, জাল গ্রিন কার্ড রাখার দায়ে দুইজন দোষী সাব্যস্ত
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ১১ বছর বয়সী জিওভান্নি ক্রুজ বেসবল খেলার সময় হঠাৎ বুকে ও পিঠে তীব্র ব্যথায় আক্রান্ত হওয়ার পর অত্যন্ত বিরল ইডিওপ্যাথিক মাল্টিসেন্ট্রিক ক্যাসলম্যান রোগে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। জুন মাসে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তার রোগ শনাক্ত করেন। জিওভান্নির মা প্যাট্রিসিয়া জানান, অসুস্থ হওয়ার আগে তার ছেলে নাচছিল, হাসছিল এবং বেসবল খেলছিল। হঠাৎ তার বুকে ব্যথা শুরু হয় এবং শরীর ঘামতে থাকে। পরে ব্যথা বাড়তে থাকলে প্যাট্রিসিয়া তাকে দ্রুত টাকসন মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে একাধিক পরীক্ষা করা হলেও প্রায় এক সপ্তাহ পর কোনো নির্দিষ্ট রোগ শনাক্ত না করেই তাকে বাড়ি পাঠানো হয়। বাড়ি ফেরার পরও জিওভান্নির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তার মা জানান, এক মুহূর্তের মধ্যে সে প্রচণ্ড ব্যথায় চিৎকার করতে শুরু করত, ঘামত এবং পিঠের ব্যথার কথা বলত। পরে তাকে আবার টাকসন মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ব্যানার ডায়মন্ড চিলড্রেনস মেডিকেল সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ইডিওপ্যাথিক মাল্টিসেন্ট্রিক ক্যাসলম্যান রোগ শনাক্ত করেন। ইডিওপ্যাথিক মাল্টিসেন্ট্রিক ক্যাসলম্যান একটি অত্যন্ত বিরল রোগ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি ১০ লাখ আমেরিকানের মধ্যে মাত্র প্রায় তিনজন এই রোগে আক্রান্ত হন। এই রোগে শরীরের বিভিন্ন অংশের লসিকা গ্রন্থি আক্রান্ত হয়ে বড় হয়ে যেতে পারে। রোগটি রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে অতিরিক্ত সক্রিয় করে দেওয়ায় শরীরজুড়ে ব্যাপক প্রদাহ তৈরি হতে পারে এবং বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্যাট্রিসিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, জিওভান্নির অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়েছিল। সে প্রচণ্ড ব্যথায় ভুগছিল, ঘামছিল এবং পরে প্রচুর বমি করতে শুরু করে। তার গালও লাল হয়ে উঠেছিল। পরবর্তী পরীক্ষায় দেখা যায়, তার শরীরের বিভিন্ন লসিকা গ্রন্থি আক্রান্ত হয়েছে। প্যাট্রিসিয়া জানান, ক্যাসলম্যান রোগের এমন একটি ধরন রয়েছে যেখানে একটি মাত্র লসিকা গ্রন্থি আক্রান্ত হলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি অপসারণ করা যায়। তবে জিওভান্নির ক্ষেত্রে রোগটি শরীরের বিভিন্ন লসিকা গ্রন্থিতে ছড়িয়ে রয়েছে। পরিবারের জন্য তৈরি তহবিল সংগ্রহের তথ্য অনুযায়ী, জিওভান্নির চিকিৎসায় একাধিক অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনবার নমুনা পরীক্ষা, তিনটি লসিকা গ্রন্থি অপসারণ করে বিস্তারিত পরীক্ষা, চৌম্বকীয় অনুরণন পরীক্ষা, কম্পিউটারভিত্তিক স্ক্যান, হৃদ্যন্ত্রের পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড, এক্স-রে এবং বহুবার রক্ত পরীক্ষা রয়েছে। তহবিল সংগ্রহের তথ্যে আরও বলা হয়েছে, জিওভান্নির পেট, ফুসফুস ও হৃদ্যন্ত্রের চারপাশে তরল জমেছিল। এর কারণে তার শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল এবং অতিরিক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হচ্ছিল। একই সঙ্গে তার কিডনিতেও জটিলতা দেখা দিয়েছে এবং দীর্ঘস্থায়ী জ্বর রয়েছে। বর্তমানে তাকে আইএল-৬নির্ভর চিকিৎসা, উচ্চমাত্রার শিরাপথে স্টেরয়েড এবং ডায়ালাইসিস দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রায় ছয় থেকে আট সপ্তাহ চলতে পারে বলে তহবিল সংগ্রহের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান চিকিৎসায় সাড়া না দিলে পরবর্তী সময়ে কেমোথেরাপি বিবেচনা করা হতে পারে। তবে জিওভান্নি কতদিন হাসপাতালে থাকবে এবং চিকিৎসায় তার শারীরিক সাড়া কেমন হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইডিওপ্যাথিক মাল্টিসেন্ট্রিক ক্যাসলম্যান রোগের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। এই রোগে লিভার, কিডনি ও অস্থিমজ্জাসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ আক্রান্ত হতে পারে। জিওভান্নির মা তার হাসপাতালে থাকার পুরো সময় তার পাশে রয়েছেন এবং এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কাজেও যেতে পারেননি। অসুস্থ হওয়ার আগে জিওভান্নি সাহুয়ারিটায় ষষ্ঠ শ্রেণি ও মধ্য বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করার অপেক্ষায় ছিল। সে বেসবলের প্রতি আগ্রহী এবং প্রথম ও তৃতীয় বেসে খেলার পাশাপাশি পিচার হিসেবেও খেলত। বর্তমানে বিরল এই রোগের চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ১১ বছর বয়সী শিশুটি। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
জন্মসনদ পাওয়ার দাবিতে ক্যালিফোর্নিয়ার দত্তক নেওয়া ব্যক্তিদের লড়াই, আইন পাসের আবেদন
লেবার ডে ছুটির আগে মিশিগানে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম, চড়া খরচের আশঙ্কা!
সনি মিউজিকের সঙ্গে ১৮ মিলিয়ন ডলারের রয়্যালটি বিরোধ মিটল, মামলা প্রত্যাহার জারমেইন ডুপ্রির
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় ডাটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করা হলে সেসব সম্প্রদায় অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়বে এবং দরিদ্র হয়ে যাবে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ডাটা সেন্টার নির্মাণকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেন। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেসব সম্প্রদায় ডাটা সেন্টার চায় না, তাদের এমন অবস্থানের কারণে তারা পিছিয়ে ও দরিদ্র হয়ে পড়তে পারে। তার দাবি, এসব স্থাপনা গড়ে উঠলে স্থানীয় পর্যায়ে কম কর এবং বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। ডাটা সেন্টার নির্মাণের সুযোগ প্রত্যাখ্যান করলে অন্য অনেক এলাকা সেই সুযোগ গ্রহণ করতে আগ্রহী হবে বলেও সতর্ক করেন ট্রাম্প। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ডাটা সেন্টার স্থাপনের জন্য আরও অনেক জায়গা প্রস্তুত রয়েছে। তাই কোনো সম্প্রদায় এসব প্রকল্প প্রত্যাখ্যান করলে তার জায়গা অন্য কোনো এলাকা নিতে পারে। ট্রাম্প আরও বলেন, ডাটা সেন্টার নির্মাণের সুযোগ নষ্ট করলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোকেই এর দায় নিতে হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ডাটা সেন্টারবিরোধী আন্দোলন চীনের জন্য আনন্দের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ডাটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধিতা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানেনবার্গ পাবলিক পলিসি সেন্টারের জরিপ অনুযায়ী, ৬১ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নিজেদের এলাকায় নতুন ডাটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করছেন। বসন্তকালের জরিপে এই হার ছিল ৪৯ শতাংশ। জরিপে দেখা গেছে, ডাটা সেন্টারের বিরোধিতা কোনো একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ডেমোক্র্যাটদের ৬৯ শতাংশ, রিপাবলিকানদের ৫৪ শতাংশ এবং স্বতন্ত্রদের ৫৩ শতাংশ নিজেদের এলাকায় নতুন ডাটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করেছেন। ডাটা সেন্টার নিয়ে মানুষের উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা, স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও পানির ওপর চাপ এবং শব্দদূষণ। একই সঙ্গে ডাটা সেন্টার নির্মাণের ফলে স্থানীয়ভাবে দীর্ঘমেয়াদে কতটা কর্মসংস্থান তৈরি হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অ্যানেনবার্গের জরিপে আরও দেখা গেছে, ডাটা সেন্টার নিয়ে মানুষের অবস্থান বদলালেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পরিবর্তন আসেনি। জরিপে ৬৮ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। এদিকে ডাটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্কও বাড়ছে। একদিকে এসব স্থাপনা থেকে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুবিধার সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ, পানি, পরিবেশ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিরোধিতা তৈরি হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
টেনেসিতে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি শাহেদ রানার জানাজা মঙ্গলবার ব্রুকলিনে
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত