Live update news
লোহিত সাগরে মার্কিন রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে আগুন; আহত ২

মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রণতরীটির প্রধান লন্ড্রি স্পেস থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, আগুনের কারণ যুদ্ধ-সম্পর্কিত ছিল না এবং দ্রুতই তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজন নৌসেনা আহত হয়েছেন, তবে তাদের আঘাত প্রাণঘাতী নয় এবং বর্তমানে তারা স্থিতিশীল অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে জাহাজের প্রপালশন প্ল্যান্ট বা ইঞ্জিন রুমের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং রণতরীটি বর্তমানে সম্পূর্ণ সচল রয়েছে। প্রাথমিক আগুন নেভানো হলেও ক্রু সদস্যরা এখনও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও নিয়ন্ত্রণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া নেভাল সি সিস্টেমস কমান্ডের রিজিওনাল মেইনটেন্যান্স সেন্টার বহরটিকে প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।   জাহাজ পর্যবেক্ষকদের তথ্য মতে, অগ্নিকাণ্ডের সময় রণতরীটি সৌদি আরবের আল ওয়াজ উপকূলে লোহিত সাগরের উত্তরাঞ্চলে অবস্থান করছিল। ফোর্ড এবং এর তিনটি সহায়ক যুদ্ধজাহাজ—ইউএসএস মাহান, ইউএসএস বেইনব্রিজ ও ইউএসএস উইনস্টন এস. চার্চিল—গত সপ্তাহে সুয়েজ খাল অতিক্রম করেছিল। ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

১ মিনিট Ago
বিশ্বের বৃহত্তম মার্কিন রণতরীতে ভয়াবহ আগুন: আহত ২

লোহিত সাগরে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর সর্বাধুনিক এবং বিশ্বের বৃহত্তম পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ (USS Gerald R. Ford)-এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে দুই জন নৌ-সেনা আহত হয়েছেন। ইউএস নেভাল ফোর্সেস সেন্ট্রাল কমান্ড (৫ম ফ্লিট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতিতে জানায়, ১২ মার্চ রণতরীটির প্রধান লন্ড্রি রুমে (কাপড় ধোয়ার স্থান) আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন জাহাজের কর্মীরা। নৌবাহিনী স্পষ্ট করেছে যে, এই অগ্নিকাণ্ড কোনো যুদ্ধকালীন হামলা বা শত্রুদেশের আক্রমণের কারণে ঘটেনি। এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, "আগুনের কারণ যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট নয় এবং এটি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জাহাজের প্রপালশন প্ল্যান্ট (ইঞ্জিন কক্ষ) বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো যন্ত্রাংশের ক্ষতি হয়নি।" আহত দুই নৌ-সেনার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তারা জাহাজে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের আঘাত গুরুতর নয় বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র সমর্থনে লোহিত সাগরে মোতায়েন রয়েছে ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও রণতরীটি বর্তমানে সম্পূর্ণ সচল (Fully Operational) রয়েছে এবং এর সামরিক কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি বলে পেন্টাগন জানিয়েছে। ২০১৭ সালে কমিশন লাভ করা এই রণতরীটি মার্কিন নৌবাহিনীর প্রযুক্তির এক অনন্য নিদর্শন। প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই জাহাজটি বর্তমানে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। ঘটনার বিস্তারিত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন নৌ কর্তৃপক্ষ।

২ মিনিট Ago
বিরোধী দলের ওয়াক আউট নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া জবাব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় সদস্যদের সংসদ কক্ষ ত্যাগের (ওয়াকআউট) ঘটনায় মুখ খুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিরোধী দলের এই অবস্থানের কড়া সমালোচনা করে তাদের রাজনৈতিক ‘স্ববিরোধিতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকেলে সংসদ অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে ওয়াকআউট একটি স্বাভাবিক সংস্কৃতি হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি যুক্তিহীন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, বর্তমান রাষ্ট্রপতির সঙ্গেই ৫ ও ৬ আগস্ট বিরোধী দলগুলো দফায় দফায় আলোচনা করেছে এবং তার কাছেই অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা শপথ নিয়েছেন। সালাহউদ্দিন আহমদ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, "যে রাষ্ট্রপতির অধীনে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলো এবং যাদের দলের সদস্যরা এই সংসদেই শপথ নিলেন, আজ হঠাৎ তাকে কেন অস্বীকার করা হচ্ছে? এই স্ববিরোধিতার জবাব তাদেরই দিতে হবে।" তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সংসদ হবে জাতীয় সমস্যার সমাধানের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে সরকার সামনের দিকে এগিয়ে যাবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, এর আগে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ যখন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার আহ্বান জানান, তখন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সদস্যরা ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’ স্লোগান দিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন। বিরোধী দলের দাবি, জুলাই হত্যাকাণ্ডের সময় রাষ্ট্রপতির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।

৬ মিনিট Ago
আয়াতুল্লাহ: ইরানের জনগণ ও রাজনীতিতে এই পদবি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ক্ষমতার রাজনীতি এবং ধর্মীয় আভিজাত্যের কেন্দ্রে থাকা একটি শব্দ হলো ‘আয়াতুল্লাহ’। আরবি এই শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো ‘আল্লাহর নিদর্শন’। শিয়া ইসলামে এটি এমন এক উচ্চতর ধর্মীয় পদবি, যা দশকের পর দশক ধরে ধর্মতত্ত্ব এবং ইসলামি আইনশাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জনকারী আলেমদের প্রদান করা হয়।  তবে বর্তমান ইরানের প্রেক্ষাপটে এই পদবি কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের মাঝে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন হয়ে উঠেছে দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার প্রধান শর্ত। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, দেশের সর্বোচ্চ নেতা বা ‘সুপ্রিম লিডার’ হতে হলে প্রার্থীকে অবশ্যই একজন জ্যেষ্ঠ ইসলামি আইনবিদ বা মুজতাহিদ হতে হয়। সম্প্রতি মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের সূচনালগ্নে বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তার পুত্র মোজতাবা খামেনির নাম আলোচনায় আসে।  এর আগে তাকে ‘হোজাতোলেসলাম’ (আয়াতুল্লাহর নিচের পদমর্যাদা) হিসেবে গণ্য করা হতো। তবে বর্তমানে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাকে ‘আয়াতুল্লাহ’ হিসেবে সম্বোধন করতে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মোজতাবার এই পদোন্নতি মূলত তাকে ধর্মীয় ও রাজনৈতিকভাবে উত্তরসূরি হিসেবে বৈধতা দেওয়ার একটি কৌশল। ১৯৮৯ সালেও যখন আলী খামেনেই দায়িত্ব নেন, তখনও অনেকটা একইভাবে তার ধর্মীয় পদমর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়েছিল।  মোজতাবা খামেনির কোনো নির্বাচিত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা এবং রেভল্যুশনারি গার্ডসের (IRGC) সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাকে ক্ষমতার দৌড়ে সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিতর্কিত প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

১৩ মিনিট Ago
মার্কিন রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড
আন্তর্জাতিক
বিশ্বের বৃহত্তম মার্কিন রণতরীতে ভয়াবহ আগুন: আহত ২

লোহিত সাগরে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর সর্বাধুনিক এবং বিশ্বের বৃহত্তম পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ (USS Gerald R. Ford)-এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে দুই জন নৌ-সেনা আহত হয়েছেন। ইউএস নেভাল ফোর্সেস সেন্ট্রাল কমান্ড (৫ম ফ্লিট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতিতে জানায়, ১২ মার্চ রণতরীটির প্রধান লন্ড্রি রুমে (কাপড় ধোয়ার স্থান) আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন জাহাজের কর্মীরা। নৌবাহিনী স্পষ্ট করেছে যে, এই অগ্নিকাণ্ড কোনো যুদ্ধকালীন হামলা বা শত্রুদেশের আক্রমণের কারণে ঘটেনি। এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, "আগুনের কারণ যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট নয় এবং এটি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জাহাজের প্রপালশন প্ল্যান্ট (ইঞ্জিন কক্ষ) বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো যন্ত্রাংশের ক্ষতি হয়নি।" আহত দুই নৌ-সেনার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তারা জাহাজে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের আঘাত গুরুতর নয় বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র সমর্থনে লোহিত সাগরে মোতায়েন রয়েছে ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও রণতরীটি বর্তমানে সম্পূর্ণ সচল (Fully Operational) রয়েছে এবং এর সামরিক কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি বলে পেন্টাগন জানিয়েছে। ২০১৭ সালে কমিশন লাভ করা এই রণতরীটি মার্কিন নৌবাহিনীর প্রযুক্তির এক অনন্য নিদর্শন। প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই জাহাজটি বর্তমানে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। ঘটনার বিস্তারিত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন নৌ কর্তৃপক্ষ।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে প্রচুর অর্থ উপার্জন করে যুক্তরাষ্ট্র; দাবি ট্রাম্পের

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে দেশটি "প্রচুর অর্থ উপার্জন" করে। তবে এই আর্থিক লাভের চেয়েও বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাকেই নিজের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন তিনি।   মেরিল্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প সরাসরি ইরানকে "শয়তান সাম্রাজ্য" হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য তথা সমগ্র বিশ্বের স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক শক্তিতে সমৃদ্ধ হতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই তার প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। আর্থিক মুনাফার চেয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।   ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সাম্প্রতিক কঠোর বক্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই ট্রাম্পের এমন কড়া বার্তা ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। ট্রাম্পের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য বজায় রাখা এবং ইরানের ওপর চাপ বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। জ্বালানি বাজারের অস্থিরতাকে পাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন সরাসরি সামরিক ও কৌশলগত নিরাপত্তার দিকেই বেশি নজর দিচ্ছে।

মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট।
তেলবাহী জাহাজগুলো পাহাড়া দেয়ার তথ্য ভুল ছিল! ক্ষমা চাইলেন মার্কিন জ্বালানি সচিব

হরমুজ প্রণালী দিয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর তেলবাহী ট্যাংকার পাহারার বিষয়ে একটি ভুল সামাজিক মাধ্যম পোস্টকে কেন্দ্র করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট।  সম্প্রতি নিজের 'এক্স' (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচারিত সেই বিভ্রান্তিকর তথ্যের জন্য বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে ত্রুটিকে দায়ী করেছেন তিনি। গত সপ্তাহের শুরুতে রাইটের অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মার্কিন নৌবাহিনী সফলভাবে একটি ট্যাংকারকে পাহারা দিয়ে নিয়ে গেছে। তবে পোস্টটি দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা সরিয়ে ফেলা হয়। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রিস রাইট বলেন, "এটি আমাদের বিভাগের একটি অভ্যন্তরীণ ভুল বোঝাবুঝি ছিল। বিভাগের প্রধান হিসেবে আমি এর পূর্ণ দায়ভার নিচ্ছি। বিষয়টি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং আমি কথা দিচ্ছি, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।" হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট গত মঙ্গলবারই নিশ্চিত করেছিলেন যে, মার্কিন নৌবাহিনী ওই সময়ে কোনো জাহাজ পাহারা দেয়নি। এছাড়া আজ অন্য এক সাক্ষাৎকারে রাইট পরিষ্কার করেছেন যে, কৌশলগত এই জলপথে এখনই ট্যাংকার পাহারার দেওয়ার মতো প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের নেই। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভবিষ্যৎ পোস্টগুলো এখন থেকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পর্যালোচনা করবেন বলেও জানিয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।
স্পিকার নির্বাচন কীভাবে হয়? পদাধিকার ও সাংবিধানিক বিধিনিষেধ

বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন।  বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদের প্রথম অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে অভিষিক্ত হন। সংবিধানের ৭৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক। প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে একক প্রার্থী হিসেবে তারা নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য যে, সংসদ ভেঙে গেলেও নতুন স্পিকার কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বিদায়ী স্পিকার পদে বহাল থাকেন, যা এই পদের অনন্য সাংবিধানিক বৈশিষ্ট্য। স্পিকার কি এমপি বা মন্ত্রী থাকতে পারেন? এই প্রশ্নটি জনমনে প্রায়ই দেখা দেয়। সংবিধান অনুযায়ী এর ব্যাখ্যা অত্যন্ত স্পষ্ট: সাংসদ পদ: স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার হতে হলে তাকে অবশ্যই আগে একজন সংসদ সদস্য হতে হবে। অর্থাৎ, তারা একই সাথে স্পিকার এবং এমপি। মন্ত্রী পদ: সংবিধানের ১৪৭(৩) ও ৭৪(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার কোনো 'লাভজনক পদ' বা নির্বাহী বিভাগের (মন্ত্রিত্ব) দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। তাৎক্ষণিক প্রভাব: মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ এতদিন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে শপথ নেওয়ার সাথে সাথেই তাদের মন্ত্রী পদটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়ে গেছে।   সংসদের অভিভাবক হিসেবে স্পিকারের হাতে রয়েছে অপরিসীম ক্ষমতা। তিনি সভার শৃঙ্খলা রক্ষা করেন এবং বিতর্ক পরিচালনা করেন। সাধারণ অবস্থায় তিনি ভোট দেন না, তবে কোনো বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের ভোট সমান হয়ে গেলে তিনি জয়-পরাজয় নির্ধারণী ‘কাস্টিং ভোট’ প্রদান করেন। যদিও তারা দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত হন, তবে চেয়ারে বসার পর তারা দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে দায়বদ্ধ। মেজর হাফিজের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ‘বীর বিক্রম’ খেতাবধারী। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি পাকিস্তান ফুটবল দলের অধিনায়ক এবং টানা তিনবার পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানব ছিলেন। তার দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা সংসদ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত।
১৩ বছরের লড়াইয়ের অবসান: ভারতে প্রথমবার ‘পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যু’র অনুমতি

দশকেরও বেশি সময় ধরে বিছানায় নিথর পড়ে থাকা দেহ, নাকে-মুখে নল আর যন্ত্রের সাহায্যে কৃত্রিমভাবে বয়ে চলা শ্বাস— অবশেষে এই দীর্ঘ যন্ত্রণার অবসান হতে চলেছে। ভারতের বিচারবিভাগের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও আবেগঘন রায় দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ১৩ বছর ধরে কোমায় থাকা ৩১ বছর বয়সী যুবক হরিশ রাণাকে ‘প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া’ বা পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিয়েছে। ২০১৩ সালে চণ্ডীগড়ের একটি বহুতল থেকে পড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে মারাত্মক চোট পান তৎকালীন ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র হরিশ। সেই থেকে তিনি ছিলেন পুরোপুরি ‘ভেজিটেটিভ স্টেট’ বা উদ্ভিদবৎ অবস্থায়। তার বেঁচে থাকা বলতে ছিল কেবল লাইফ সাপোর্ট আর টিউবের মাধ্যমে শরীরে কৃত্রিমভাবে পুষ্টি সরবরাহ। দীর্ঘ ১৩ বছর আপ্রাণ লড়াই করার পর সহায়-সম্বলহীন পরিবার যখন বুঝতে পারে হরিশের ফেরার আর কোনো পথ নেই, তখনই তারা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ বুধবার এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। আদালত দিল্লির এইমস (AIIMS)-কে নির্দেশ দিয়েছে হরিশের শরীর থেকে ধীরে ধীরে লাইফ সাপোর্ট ও কৃত্রিম পুষ্টি ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করতে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত হয়তো কঠোর যুক্তি দিয়ে বিচার করা যাবে না, তবে এর মধ্যে লুকিয়ে আছে এক পরিবারের ‘ভালোবাসা, ত্যাগ এবং বিচ্ছেদের’ করুণ বাস্তবতা। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার’কে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও, বাস্তবে এর প্রয়োগ এই প্রথম দেখা গেল। ইতিপূর্বে মুম্বাইয়ের অরুণা শানবাগের ঘটনায় স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করা হলেও তখন আদালত তা মঞ্জুর করেনি। হরিশের বাবা অশোক রাণা আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "আমাদের জন্য এটা অত্যন্ত কঠিন এক সিদ্ধান্ত, কিন্তু হরিশের যন্ত্রণামুক্তির জন্য এটাই হয়তো সেরা পথ। আমরা আদালতের কাছে কৃতজ্ঞ।" এই রায়ের মাধ্যমে ভারত এক নতুন আইনি দিগন্তে পা রাখল, যেখানে দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণায় কাতর রোগীর মানবিক বিদায়ের পথ প্রশস্ত হলো। তবে আদালত একই সঙ্গে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে জীবনের অন্তিম পর্যায়ের যত্ন বা ‘এন্ড অফ লাইফ কেয়ার’ নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করতে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির রাঙামাটি জেলা কমিটির আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা
রাঙামাটিতে এনসিপিতে বড় ধস: জেলা আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমার পদত্যাগ

রাঙামাটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। জেলা কমিটির যুগ্ম-সদস্য সচিবসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর দলত্যাগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খোদ জেলা কমিটির আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার বিকেলে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে এক দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান। এর আগে গত ৫ মার্চ জেলা কমিটির যুগ্ম-সদস্য সচিব উজ্জ্বল চাকমাসহ সাতজন এবং ৯ মার্চ জুরাছড়ি উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির ৮৪ জন নেতাকর্মী একযোগে পদত্যাগ করেছিলেন। নেতাকর্মীদের এই ধারাবাহিক প্রস্থানের ধারায় এবার শীর্ষ নেতার সরে দাঁড়ানো দলটির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে বিপিন জ্যোতি চাকমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে আসছিলেন। তবে সাংগঠনিক পর্যায়ে ধারাবাহিক অসহযোগিতা, কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে সমন্বয়ের অভাব এবং দলের ভেতরে উপদলীয় কোন্দল তৈরি হওয়ায় তার পক্ষে দায়িত্ব পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, ১১ মার্চ থেকেই তিনি সকল দলীয় কার্যক্রম থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে বিপিন জ্যোতি চাকমা জানান, তিনি এখনো দাপ্তরিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেননি, তবে আজকের মধ্যেই তা কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেবেন। এদিকে জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব এম শোয়াইব বিষয়টিকে 'ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত' হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, এনসিপির পার্বত্য অঞ্চলের সংগঠক মনজিলা সুলতানা ঝুমা জানান, বিপিন জ্যোতি চাকমা এর আগেও একবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ফিরে এসেছিলেন। তিনি কোনো আঞ্চলিক বা রাজনৈতিক চাপে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কি না, তা খতিয়ে দেখে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Advertisement
News stories

রাজনীতি

  • ছাত্র রাজনীতি
  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • অন্যান্য দল
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

Advertisement

Opinion

আন্তর্জাতিক

View more
ছবি: সংগৃহীত
লোহিত সাগরে মার্কিন রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে আগুন; আহত ২
তাবাস্সুম মার্চ ১২, ২০২৬ 0

মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রণতরীটির প্রধান লন্ড্রি স্পেস থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, আগুনের কারণ যুদ্ধ-সম্পর্কিত ছিল না এবং দ্রুতই তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজন নৌসেনা আহত হয়েছেন, তবে তাদের আঘাত প্রাণঘাতী নয় এবং বর্তমানে তারা স্থিতিশীল অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে জাহাজের প্রপালশন প্ল্যান্ট বা ইঞ্জিন রুমের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং রণতরীটি বর্তমানে সম্পূর্ণ সচল রয়েছে। প্রাথমিক আগুন নেভানো হলেও ক্রু সদস্যরা এখনও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও নিয়ন্ত্রণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া নেভাল সি সিস্টেমস কমান্ডের রিজিওনাল মেইনটেন্যান্স সেন্টার বহরটিকে প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।   জাহাজ পর্যবেক্ষকদের তথ্য মতে, অগ্নিকাণ্ডের সময় রণতরীটি সৌদি আরবের আল ওয়াজ উপকূলে লোহিত সাগরের উত্তরাঞ্চলে অবস্থান করছিল। ফোর্ড এবং এর তিনটি সহায়ক যুদ্ধজাহাজ—ইউএসএস মাহান, ইউএসএস বেইনব্রিজ ও ইউএসএস উইনস্টন এস. চার্চিল—গত সপ্তাহে সুয়েজ খাল অতিক্রম করেছিল। ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

মার্কিন রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড
বিশ্বের বৃহত্তম মার্কিন রণতরীতে ভয়াবহ আগুন: আহত ২
শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১২, ২০২৬ 0

লোহিত সাগরে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর সর্বাধুনিক এবং বিশ্বের বৃহত্তম পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ (USS Gerald R. Ford)-এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে দুই জন নৌ-সেনা আহত হয়েছেন। ইউএস নেভাল ফোর্সেস সেন্ট্রাল কমান্ড (৫ম ফ্লিট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতিতে জানায়, ১২ মার্চ রণতরীটির প্রধান লন্ড্রি রুমে (কাপড় ধোয়ার স্থান) আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন জাহাজের কর্মীরা। নৌবাহিনী স্পষ্ট করেছে যে, এই অগ্নিকাণ্ড কোনো যুদ্ধকালীন হামলা বা শত্রুদেশের আক্রমণের কারণে ঘটেনি। এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, "আগুনের কারণ যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট নয় এবং এটি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জাহাজের প্রপালশন প্ল্যান্ট (ইঞ্জিন কক্ষ) বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো যন্ত্রাংশের ক্ষতি হয়নি।" আহত দুই নৌ-সেনার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তারা জাহাজে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের আঘাত গুরুতর নয় বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র সমর্থনে লোহিত সাগরে মোতায়েন রয়েছে ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও রণতরীটি বর্তমানে সম্পূর্ণ সচল (Fully Operational) রয়েছে এবং এর সামরিক কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি বলে পেন্টাগন জানিয়েছে। ২০১৭ সালে কমিশন লাভ করা এই রণতরীটি মার্কিন নৌবাহিনীর প্রযুক্তির এক অনন্য নিদর্শন। প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই জাহাজটি বর্তমানে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। ঘটনার বিস্তারিত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন নৌ কর্তৃপক্ষ।

ছবি: সংগৃহীত।
আয়াতুল্লাহ: ইরানের জনগণ ও রাজনীতিতে এই পদবি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
তাবাস্সুম মার্চ ১২, ২০২৬ 0

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ক্ষমতার রাজনীতি এবং ধর্মীয় আভিজাত্যের কেন্দ্রে থাকা একটি শব্দ হলো ‘আয়াতুল্লাহ’। আরবি এই শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো ‘আল্লাহর নিদর্শন’। শিয়া ইসলামে এটি এমন এক উচ্চতর ধর্মীয় পদবি, যা দশকের পর দশক ধরে ধর্মতত্ত্ব এবং ইসলামি আইনশাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জনকারী আলেমদের প্রদান করা হয়।  তবে বর্তমান ইরানের প্রেক্ষাপটে এই পদবি কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের মাঝে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন হয়ে উঠেছে দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার প্রধান শর্ত। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, দেশের সর্বোচ্চ নেতা বা ‘সুপ্রিম লিডার’ হতে হলে প্রার্থীকে অবশ্যই একজন জ্যেষ্ঠ ইসলামি আইনবিদ বা মুজতাহিদ হতে হয়। সম্প্রতি মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের সূচনালগ্নে বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তার পুত্র মোজতাবা খামেনির নাম আলোচনায় আসে।  এর আগে তাকে ‘হোজাতোলেসলাম’ (আয়াতুল্লাহর নিচের পদমর্যাদা) হিসেবে গণ্য করা হতো। তবে বর্তমানে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাকে ‘আয়াতুল্লাহ’ হিসেবে সম্বোধন করতে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মোজতাবার এই পদোন্নতি মূলত তাকে ধর্মীয় ও রাজনৈতিকভাবে উত্তরসূরি হিসেবে বৈধতা দেওয়ার একটি কৌশল। ১৯৮৯ সালেও যখন আলী খামেনেই দায়িত্ব নেন, তখনও অনেকটা একইভাবে তার ধর্মীয় পদমর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়েছিল।  মোজতাবা খামেনির কোনো নির্বাচিত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা এবং রেভল্যুশনারি গার্ডসের (IRGC) সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাকে ক্ষমতার দৌড়ে সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিতর্কিত প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ছবি: সংগৃহীত।
ড্রোন হামলার মুখে ইরাক থেকে সব সৈন্য ও কর্মী সরিয়ে নিচ্ছে ইতালি
তাবাস্সুম মার্চ ১২, ২০২৬ 0

ইরাকের কুর্দিস্তানে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার ঘটনার পর সেখান থেকে সাময়িকভাবে নিজেদের সমস্ত সৈন্য ও কর্মী সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। বৃহস্পতিবার ইতালীয় সরকারের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। মূলত ওই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে দেশটি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।   ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী গুইডো ক্রোসেত্তো দেশটির সংবাদমাধ্যম টিজিওয়ান (TG1)-কে জানান, বুধবারের ওই ড্রোন হামলায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, এই সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনাটি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। তবে বুধবারের হামলার ঘটনাটি চলমান এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে চূড়ান্ত রূপ দিয়েছে।   বর্তমানে ইরাকি কুর্দিস্তানের ওই ঘাঁটি থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে ইতালির এই পিছু হটা এবং সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

Follow us

Trending

ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্চ ১, ২০২৬
আসিফ নজরুল Play Video
175 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
আমির খসরু Play Video
191 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
126 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
Advertisement
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
আইন-আদালত
Advertisement
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
বাংলাদেশ
জাতীয়