Live update news
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি, জনমনে তীব্র অসন্তোষ

ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলার জের ধরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় বড় ধরনের সংকটে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোক্তারা। গত এক সপ্তাহে দেশজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (AAA) এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে মার্কিন পাম্পগুলোতে। ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম ৫.২০ ডলারে পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাজেটে বড় ধরনের ধাক্কা দিচ্ছে। ভুক্তভোগী ভোক্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে পণ্য পরিবহন ও যাতায়াত খরচ বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা আরও প্রকট হয়েছে। হোয়াইট হাউস এই পরিস্থিতিকে সাময়িক বিপত্তি হিসেবে বর্ণনা করলেও, সাধারণ মানুষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন।  বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

৬ মিনিট Ago
হাইফা বন্দরের জ্বালানি সংরক্ষাণাগারে ইরানের ড্রোন হামলা

ইসরায়েলের হাইফা বন্দরে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় শহরটির গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস শোধনাগার এবং জ্বালানি সংরক্ষাণাগারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানি সেনাবাহিনী। সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইরানি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।  বিবৃতিতে বলা হয়, হাইফার জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই এই সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।  সম্প্রতি ইরানের নিজস্ব জ্বালানি সম্পদের ওপর চালানো হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১৩ মিনিট Ago
ধর্ষণের পশুবৃত্তিকে রুখবে কোন শক্তি: ভয়, আইন নাকি সামাজিক বিবেক?

মানুষের ভেতরে দুটি শক্তি সব সময় পাশাপাশি কাজ করে—একটি সভ্যতার, অন্যটি প্রবৃত্তির। সভ্যতা মানুষকে সামাজিক করে, নৈতিক করে, দায়িত্বশীল করে; আর প্রবৃত্তি মানুষকে প্রাণীর সঙ্গে যুক্ত করে, তাকে তাড়না দেয়, তাকে তাড়িত করে। এই দুই শক্তির সংঘর্ষই মানবসভ্যতার ইতিহাসের একটি মৌলিক বাস্তবতা। যখন মানুষের ভেতরে সভ্যতার শক্তি প্রবল থাকে, তখন সে ন্যায়-অন্যায় বিচার করতে পারে, অন্যের কষ্ট উপলব্ধি করতে পারে, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু যখন প্রবৃত্তি বা পশুবৃত্তি শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং সেই মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের কোনো বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ শক্তি উপস্থিত থাকে না, তখন মানুষ ভয়ঙ্কর অপরাধও করতে পারে। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধকে বোঝার ক্ষেত্রে এই মানবিক ও প্রবৃত্তিগত দ্বন্দ্বকে উপেক্ষা করলে সমস্যার গভীরে পৌঁছানো যায় না। মানুষের শরীরে যৌনতা একটি প্রাকৃতিক জৈবিক প্রবৃত্তি। এই প্রবৃত্তি মানব প্রজাতির বংশবৃদ্ধি ও অস্তিত্বের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কিন্তু সভ্য সমাজ এই প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নিয়ম, নীতি, মূল্যবোধ ও আইন তৈরি করেছে। যৌনতা তখনই গ্রহণযোগ্য যখন তা নৈতিকতা, সামাজিক বিধি ও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ঘটে। কিন্তু যখন এই প্রবৃত্তি বিকৃত রূপ নেয় এবং অন্যের স্বাধীনতা ও মর্যাদাকে অগ্রাহ্য করে, তখন তা অপরাধে পরিণত হয়। ধর্ষণ আসলে শুধু যৌনতা নয়; এটি ক্ষমতার অপব্যবহার, সহিংসতা, অন্যকে অপমান করার বিকৃত মানসিকতা এবং মানবিকতার চরম অবক্ষয়ের বহি:প্রকাশ।   অনেকেই মনে করেন, মানুষ যদি ধার্মিক হয়, যদি নিয়মিত নামাজ পড়ে বা পূজা করে, যদি সামাজিকভাবে সম্মানিত হয়, তাহলে সে এমন অপরাধ করবে না। বাস্তবতা কিন্তু সব সময় এই ধারণাকে সমর্থন করে না। ইতিহাসে এমন অসংখ্য ঘটনা আছে যেখানে সমাজে সম্মানিত বা ধর্মীয় পরিচয়ের মানুষও ভয়াবহ অপরাধ করেছে। আবার অপরদিকে বলা হয় নারীরা পর্দা করলে ধর্ষণ ঘটত না, এক্ষেত্রেও শত শত উদাহরণ আছে পর্দানশীন নারী, বৃদ্ধ নারী বা নবজাতক বা দু-তিন বছরের মেয়ে শিশুও ধর্ষিতা হচ্ছে। এর কারণ হলো ধর্মীয় আচার বা সামাজিক পরিচয় মানুষকে নৈতিকভাবে শক্তিশালী করার একটি উপায় হতে পারে, কিন্তু তা কখনোই নিশ্চিত নিশ্চয়তা নয়। মানুষের চরিত্র গড়ে ওঠে দীর্ঘ পারিবারিক সুশিক্ষা, পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের আচরণ ও অভ্যাস, পরিবারের অন্য সদস্যদের অনৈতিক কার্যকলাপ, পারিবারিক পরিবেশ, সামাজিক শিক্ষা, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং নৈতিক বোধের মাধ্যমে। শুধু বাহ্যিক পরিচয় বা আচার দিয়ে মানুষের অন্তর্গত প্রবৃত্তিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। মানুষের মস্তিষ্ক একটি জটিল সিস্টেম। এখানে নানা ধরনের সিগন্যাল বা প্রেরণা বা প্রেষণা কাজ করে। একটি সিগন্যাল মানুষকে কোনো কাজ করতে উৎসাহিত করে, আবার আরেকটি সিগন্যাল সেই কাজ থেকে তাকে বিরত থাকতে বলে। সভ্যতা মূলত মানুষের মস্তিষ্কে এই দ্বিতীয় সিগন্যালটি তৈরি করার চেষ্টা করে-যাকে আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ, বিবেক বা নৈতিক বোধ বলতে পারি। কিন্তু সব মানুষের মধ্যে এই শক্তি সমানভাবে বিকশিত হয় না। অনেক সময় পরিস্থিতি, পরিবেশ, পারিবারিক সুশিক্ষা এবং সুযোগের অভাব এই নৈতিক সিগন্যালকে দুর্বল করে দেয়। এই জায়গায় আইন এবং শাস্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আইন শুধু অপরাধ ঘটার পর বিচার করার জন্য নয়; আইন মানুষের মনে একটি সম্ভাব্য পরিণতির ধারণা তৈরি করে। একজন মানুষ যখন কোনো অপরাধ করার কথা ভাবেন, তখন তার মস্তিষ্কে সম্ভাব্য শাস্তির ছবিও ভেসে ওঠে। এই ভয় অনেক সময় মানুষকে অপরাধ থেকে বিরত রাখে। সমাজবিজ্ঞানে এটিকে ‘ডিটারেন্স’ বা প্রতিরোধমূলক প্রভাব বলা হয়।   মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অনেক সিদ্ধান্তই এই ধরনের মানসিক সিগন্যাল দ্বারা প্রভাবিত হয়। কেউ সাপ ধরে না, কারণ তার মনে সাপের কামড়ে মৃত্যুর ভয় কাজ করে। কেউ ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কিছু লেখার আগে দ্বিধা করে, কারণ তার মনে সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়। কেউ আইন ভাঙতে চায় না, কারণ সে জানে এর জন্য শাস্তি হতে পারে। অর্থাৎ মানুষের আচরণের ওপর ভয় বা সম্ভাব্য পরিণতির ধারণা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। এই বাস্তবতা থেকেই অনেকের মনে প্রশ্ন আসে—যদি ধর্ষণের মতো অপরাধের জন্য অত্যন্ত কঠোর এবং প্রকাশ্য শাস্তি দেওয়া হয়, তাহলে কি মানুষের মনে এমন ভয় তৈরি হবে না যা তাকে অপরাধ থেকে বিরত রাখবে? এই প্রশ্নের পেছনে একটি শক্তিশালী যুক্তি আছে। ইতিহাসে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে কঠোর আইন ও দৃশ্যমান শাস্তি অপরাধ কমাতে ভূমিকা রেখেছে। যখন সমাজে একটি বার্তা স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় যে কোনো অপরাধের জন্য কঠিন ও অবধারিত শাস্তি হবে, তখন অনেক মানুষ সেই অপরাধ করার আগে দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য হয়। তবে একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাও রয়েছে। শুধু শাস্তির কঠোরতা সব সময় অপরাধ কমানোর একমাত্র বা সবচেয়ে কার্যকর উপায় নয়। গবেষণায় প্রায়ই দেখা যায় যে অপরাধ কমানোর ক্ষেত্রে শাস্তির কঠোরতার চেয়ে শাস্তির নিশ্চিততা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ যদি মানুষ মনে করে যে অপরাধ করলে ধরা পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম, তাহলে কঠোর শাস্তির ভয়ও অনেক সময় তাকে অপরাধ ঘটানো থেকে বিরত রাখতে পারে না। কিন্তু যদি সে নিশ্চিত থাকে যে অপরাধ করলে ধরা পড়বেই এবং শাস্তি হবেই, তাহলে তুলনামূলক কম শাস্তিও শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। আরেকটি জটিল বিষয় হলো, কিছু ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি বিপজ্জনক ও বিপরীত ফলও বয়ে আনতে পারে। যেমন কোনো অপরাধের শাস্তি যদি হয় মৃত্যুদণ্ড, তাহলে অপরাধী অনেক সময় প্রমাণ মুছে ফেলার জন্য ভিকটিমকে হত্যা করার মতো আরও গুরুতর অপরাধ করতে পারে। কারণ তার কাছে তখন আর হারানোর কিছু থাকে না। তাই আইন প্রণয়ন ও শাস্তির মাত্রা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ও গবেষণাভিত্তিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।   গণতান্ত্রিক সমাজে আরেকটি প্রশ্ন প্রায়ই উঠে আসে—যদি সমাজের অধিকাংশ মানুষ কোনো কঠোর আইন চায়, তাহলে সেটি কেন সব সময় বাস্তবায়িত হয় না? এর উত্তর সহজ নয়। গণতন্ত্র শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠের ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে চলে না; এটি সংবিধান, মানবাধিকার, বিচারব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা সাথেও সম্পৃক্ত। অনেক সময় জনপ্রিয় আবেগের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও টেকসই আইনি প্রভাব বিবেচনা করতে হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে জনগণের উদ্বেগ বা দাবি অগ্রাহ্য করা উচিত। বরং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় জনগণের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে, গবেষণা ও বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে হয়। ধর্ষণ প্রতিরোধের প্রশ্নে তাই একমাত্র কোনো একটি পদ্ধতির ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। এটি একটি জটিল সামাজিক সমস্যা, যার শিকড় রয়েছে পরিবার, শিক্ষা, সংস্কৃতি, আইন, অর্থনীতি এবং মানসিকতার গভীরে। একটি শিশুর চরিত্র গড়ে ওঠে পরিবারে। যদি ছোটবেলা থেকেই তাকে অন্যের মর্যাদা, সম্মতি এবং মানবিকতার শিক্ষা দেওয়া হয়, তাহলে তার মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণের শক্তি তৈরি হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এই মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সামাজিক সংস্কৃতিও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। অনেক সমাজে এখনও নারীর প্রতি অবমাননাকর দৃষ্টিভঙ্গি বা পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা বিদ্যমান। এই মানসিকতা পরিবর্তন না করলে আইন একা খুব বেশি দূর এগোতে পারে না। সামাজিক ও প্রিন্ট-ইলেক্ট্রনিক মাধ্যম, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং জনসচেতনতা কর্মসূচি মানুষের মনোভাব পরিবর্তনে সহায়তা করতে পারে। আইনের কার্যকর প্রয়োগ অবশ্যই অপরিহার্য। একটি সমাজে যদি অপরাধের বিচার দীর্ঘসূত্রিতায় আটক   ©️মো: আবদুর রহমান মিঞা (লেখক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক) ই-মেইল: arahmanmiah@gmail.com  

২৪ মিনিট Ago
যুদ্ধ আমরা শুরু করিনি, তবে শেষটা করব: মধ্যস্থতায় ইরানের কড়া শর্ত

ইরান ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনার মাঝে মধ্যস্থতার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর ও স্পষ্ট করল তেহরান। ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন, কোনো প্রকার মধ্যস্থতা সফল হতে হলে কেবল যুদ্ধবিরতি যথেষ্ট নয়; বরং ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা হবে না—এমন পূর্ণাঙ্গ গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা থাকতে হবে। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী মোহাজেরানি বলেন, "যেকোনো মধ্যস্থতা এমন পরিস্থিতিতে হতে হবে যেখানে শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, বরং হামলার সম্পূর্ণ অবসান এবং এটি আর ঘটবে না এমন নিশ্চয়তা থাকবে।" তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ইরানের সাধারণ মানুষ আজ এই নিশ্চয়তা গুরুত্বের সাথে দাবি করছে। দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য। দৃঢ় কণ্ঠে তিনি জানান, "আমরা যুদ্ধ শুরু করিনি, তবে শেষটা আমরাই করব।"  ইরানের এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, মধ্যস্থতার টেবিলে বসতে হলে আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী শান্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে।

৩৭ মিনিট Ago
হাইফায় ভয়াবহ ড্রোন হামলা
আন্তর্জাতিক
হাইফা বন্দরের জ্বালানি সংরক্ষাণাগারে ইরানের ড্রোন হামলা

ইসরায়েলের হাইফা বন্দরে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় শহরটির গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস শোধনাগার এবং জ্বালানি সংরক্ষাণাগারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানি সেনাবাহিনী। সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইরানি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।  বিবৃতিতে বলা হয়, হাইফার জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই এই সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।  সম্প্রতি ইরানের নিজস্ব জ্বালানি সম্পদের ওপর চালানো হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরাফাত ইবনে আব্দুল্লাহ মার্চ ১০, ২০২৬ 0
পেট্রোল ও ডিজেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি, জনমনে তীব্র অসন্তোষ

ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলার জের ধরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় বড় ধরনের সংকটে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোক্তারা। গত এক সপ্তাহে দেশজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (AAA) এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে মার্কিন পাম্পগুলোতে। ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম ৫.২০ ডলারে পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাজেটে বড় ধরনের ধাক্কা দিচ্ছে। ভুক্তভোগী ভোক্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে পণ্য পরিবহন ও যাতায়াত খরচ বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা আরও প্রকট হয়েছে। হোয়াইট হাউস এই পরিস্থিতিকে সাময়িক বিপত্তি হিসেবে বর্ণনা করলেও, সাধারণ মানুষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন।  বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের যুদ্ধের প্রভাব ইউরোপেও: ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরা

ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাব শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, ইউরোপেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। সোমবার সকালে ইইউ রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, আমরা এখন একটি আঞ্চলিক সংঘাতের মুখোমুখি, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফল তৈরি করছে। ইউরোপের নাগরিকেরা দুই পক্ষের লড়াইয়ের মধ্যে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।   ভন ডার লিয়েন আরও বলেন, ইরানের জনগণের স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদের হাতে রাখার অধিকার রয়েছে। তিনি সতর্ক করেছেন, এই যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।   এর আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও সতর্ক করেছিলেন, এই যুদ্ধ যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, এর অর্থনৈতিক প্রভাব তত গভীর হবে। ইউরোপীয় নেতারা বর্তমানে যুদ্ধের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলার উপায় নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।

ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত: শীর্ষ কর্মকর্তা

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলে দাবি করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতার পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা কামাল খারাজি। সোমবার তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কূটনীতির কোনো সুযোগ নেই। এই যুদ্ধ কেবল অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে শেষ হতে পারে।   খারাজি জানান, ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সংঘাত থেকে সরে আসতে বাধ্য করতে চাইছে। তিনি সতর্ক করেছেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে অন্যান্য দেশকে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হতে হবে।   ইরানের সামরিক অভিযানের ফলে হরমুজ প্রণালির নৌ-চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে বৈপ্লবিক প্রভাব পড়েছে; সোমবার অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। তেহরানের দাবি, তারা উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন আবাসিক ভবন এবং বিমানবন্দরকেও লক্ষ্যবস্তু করছে।   ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি নির্বাচিত হয়েছেন, যা সংঘাত আরও জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। খারাজি বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নতুন নেতার ওপরও থাকবে, এবং আগের মতোই তারা এটি পালন করবেন।

ট্রফি উন্মোচন
বাংলাদেশ - পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি উন্মোচন! শুরু শিরোপার লড়াই।

ফয়জুল ইসলাম : ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ এখন একটাই প্রশ্নে—কার হাতে উঠবে এই ট্রফি? শুরু হয়ে গেলো বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি উন্মোচন। দুই দলের তারকা ক্রিকেটারদের উপস্থিতিতে উন্মোচিত হলো সিরিজের কাঙ্ক্ষিত ট্রফি, আর সেখান থেকেই শুরু শিরোপার লড়াইয়ের উত্তেজনা। মাঠের পারফরম্যান্স, কৌশল আর লড়াই—সবকিছুর সমন্বয়ে নির্ধারিত হবে কে হবে শেষ হাসির মালিক। এখন দেখার বিষয়, টাইগারদের ঘরেই কি থাকবে ট্রফি, নাকি তা নিয়ে যাবে পাকিস্তান।

ধর্ষণের পশুবৃত্তি
ধর্ষণের পশুবৃত্তিকে রুখবে কোন শক্তি: ভয়, আইন নাকি সামাজিক বিবেক?

মানুষের ভেতরে দুটি শক্তি সব সময় পাশাপাশি কাজ করে—একটি সভ্যতার, অন্যটি প্রবৃত্তির। সভ্যতা মানুষকে সামাজিক করে, নৈতিক করে, দায়িত্বশীল করে; আর প্রবৃত্তি মানুষকে প্রাণীর সঙ্গে যুক্ত করে, তাকে তাড়না দেয়, তাকে তাড়িত করে। এই দুই শক্তির সংঘর্ষই মানবসভ্যতার ইতিহাসের একটি মৌলিক বাস্তবতা। যখন মানুষের ভেতরে সভ্যতার শক্তি প্রবল থাকে, তখন সে ন্যায়-অন্যায় বিচার করতে পারে, অন্যের কষ্ট উপলব্ধি করতে পারে, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু যখন প্রবৃত্তি বা পশুবৃত্তি শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং সেই মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের কোনো বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ শক্তি উপস্থিত থাকে না, তখন মানুষ ভয়ঙ্কর অপরাধও করতে পারে। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধকে বোঝার ক্ষেত্রে এই মানবিক ও প্রবৃত্তিগত দ্বন্দ্বকে উপেক্ষা করলে সমস্যার গভীরে পৌঁছানো যায় না। মানুষের শরীরে যৌনতা একটি প্রাকৃতিক জৈবিক প্রবৃত্তি। এই প্রবৃত্তি মানব প্রজাতির বংশবৃদ্ধি ও অস্তিত্বের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কিন্তু সভ্য সমাজ এই প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নিয়ম, নীতি, মূল্যবোধ ও আইন তৈরি করেছে। যৌনতা তখনই গ্রহণযোগ্য যখন তা নৈতিকতা, সামাজিক বিধি ও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ঘটে। কিন্তু যখন এই প্রবৃত্তি বিকৃত রূপ নেয় এবং অন্যের স্বাধীনতা ও মর্যাদাকে অগ্রাহ্য করে, তখন তা অপরাধে পরিণত হয়। ধর্ষণ আসলে শুধু যৌনতা নয়; এটি ক্ষমতার অপব্যবহার, সহিংসতা, অন্যকে অপমান করার বিকৃত মানসিকতা এবং মানবিকতার চরম অবক্ষয়ের বহি:প্রকাশ।   অনেকেই মনে করেন, মানুষ যদি ধার্মিক হয়, যদি নিয়মিত নামাজ পড়ে বা পূজা করে, যদি সামাজিকভাবে সম্মানিত হয়, তাহলে সে এমন অপরাধ করবে না। বাস্তবতা কিন্তু সব সময় এই ধারণাকে সমর্থন করে না। ইতিহাসে এমন অসংখ্য ঘটনা আছে যেখানে সমাজে সম্মানিত বা ধর্মীয় পরিচয়ের মানুষও ভয়াবহ অপরাধ করেছে। আবার অপরদিকে বলা হয় নারীরা পর্দা করলে ধর্ষণ ঘটত না, এক্ষেত্রেও শত শত উদাহরণ আছে পর্দানশীন নারী, বৃদ্ধ নারী বা নবজাতক বা দু-তিন বছরের মেয়ে শিশুও ধর্ষিতা হচ্ছে। এর কারণ হলো ধর্মীয় আচার বা সামাজিক পরিচয় মানুষকে নৈতিকভাবে শক্তিশালী করার একটি উপায় হতে পারে, কিন্তু তা কখনোই নিশ্চিত নিশ্চয়তা নয়। মানুষের চরিত্র গড়ে ওঠে দীর্ঘ পারিবারিক সুশিক্ষা, পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের আচরণ ও অভ্যাস, পরিবারের অন্য সদস্যদের অনৈতিক কার্যকলাপ, পারিবারিক পরিবেশ, সামাজিক শিক্ষা, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং নৈতিক বোধের মাধ্যমে। শুধু বাহ্যিক পরিচয় বা আচার দিয়ে মানুষের অন্তর্গত প্রবৃত্তিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। মানুষের মস্তিষ্ক একটি জটিল সিস্টেম। এখানে নানা ধরনের সিগন্যাল বা প্রেরণা বা প্রেষণা কাজ করে। একটি সিগন্যাল মানুষকে কোনো কাজ করতে উৎসাহিত করে, আবার আরেকটি সিগন্যাল সেই কাজ থেকে তাকে বিরত থাকতে বলে। সভ্যতা মূলত মানুষের মস্তিষ্কে এই দ্বিতীয় সিগন্যালটি তৈরি করার চেষ্টা করে-যাকে আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ, বিবেক বা নৈতিক বোধ বলতে পারি। কিন্তু সব মানুষের মধ্যে এই শক্তি সমানভাবে বিকশিত হয় না। অনেক সময় পরিস্থিতি, পরিবেশ, পারিবারিক সুশিক্ষা এবং সুযোগের অভাব এই নৈতিক সিগন্যালকে দুর্বল করে দেয়। এই জায়গায় আইন এবং শাস্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আইন শুধু অপরাধ ঘটার পর বিচার করার জন্য নয়; আইন মানুষের মনে একটি সম্ভাব্য পরিণতির ধারণা তৈরি করে। একজন মানুষ যখন কোনো অপরাধ করার কথা ভাবেন, তখন তার মস্তিষ্কে সম্ভাব্য শাস্তির ছবিও ভেসে ওঠে। এই ভয় অনেক সময় মানুষকে অপরাধ থেকে বিরত রাখে। সমাজবিজ্ঞানে এটিকে ‘ডিটারেন্স’ বা প্রতিরোধমূলক প্রভাব বলা হয়।   মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অনেক সিদ্ধান্তই এই ধরনের মানসিক সিগন্যাল দ্বারা প্রভাবিত হয়। কেউ সাপ ধরে না, কারণ তার মনে সাপের কামড়ে মৃত্যুর ভয় কাজ করে। কেউ ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কিছু লেখার আগে দ্বিধা করে, কারণ তার মনে সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়। কেউ আইন ভাঙতে চায় না, কারণ সে জানে এর জন্য শাস্তি হতে পারে। অর্থাৎ মানুষের আচরণের ওপর ভয় বা সম্ভাব্য পরিণতির ধারণা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। এই বাস্তবতা থেকেই অনেকের মনে প্রশ্ন আসে—যদি ধর্ষণের মতো অপরাধের জন্য অত্যন্ত কঠোর এবং প্রকাশ্য শাস্তি দেওয়া হয়, তাহলে কি মানুষের মনে এমন ভয় তৈরি হবে না যা তাকে অপরাধ থেকে বিরত রাখবে? এই প্রশ্নের পেছনে একটি শক্তিশালী যুক্তি আছে। ইতিহাসে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে কঠোর আইন ও দৃশ্যমান শাস্তি অপরাধ কমাতে ভূমিকা রেখেছে। যখন সমাজে একটি বার্তা স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় যে কোনো অপরাধের জন্য কঠিন ও অবধারিত শাস্তি হবে, তখন অনেক মানুষ সেই অপরাধ করার আগে দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য হয়। তবে একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাও রয়েছে। শুধু শাস্তির কঠোরতা সব সময় অপরাধ কমানোর একমাত্র বা সবচেয়ে কার্যকর উপায় নয়। গবেষণায় প্রায়ই দেখা যায় যে অপরাধ কমানোর ক্ষেত্রে শাস্তির কঠোরতার চেয়ে শাস্তির নিশ্চিততা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ যদি মানুষ মনে করে যে অপরাধ করলে ধরা পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম, তাহলে কঠোর শাস্তির ভয়ও অনেক সময় তাকে অপরাধ ঘটানো থেকে বিরত রাখতে পারে না। কিন্তু যদি সে নিশ্চিত থাকে যে অপরাধ করলে ধরা পড়বেই এবং শাস্তি হবেই, তাহলে তুলনামূলক কম শাস্তিও শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। আরেকটি জটিল বিষয় হলো, কিছু ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি বিপজ্জনক ও বিপরীত ফলও বয়ে আনতে পারে। যেমন কোনো অপরাধের শাস্তি যদি হয় মৃত্যুদণ্ড, তাহলে অপরাধী অনেক সময় প্রমাণ মুছে ফেলার জন্য ভিকটিমকে হত্যা করার মতো আরও গুরুতর অপরাধ করতে পারে। কারণ তার কাছে তখন আর হারানোর কিছু থাকে না। তাই আইন প্রণয়ন ও শাস্তির মাত্রা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ও গবেষণাভিত্তিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।   গণতান্ত্রিক সমাজে আরেকটি প্রশ্ন প্রায়ই উঠে আসে—যদি সমাজের অধিকাংশ মানুষ কোনো কঠোর আইন চায়, তাহলে সেটি কেন সব সময় বাস্তবায়িত হয় না? এর উত্তর সহজ নয়। গণতন্ত্র শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠের ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে চলে না; এটি সংবিধান, মানবাধিকার, বিচারব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা সাথেও সম্পৃক্ত। অনেক সময় জনপ্রিয় আবেগের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও টেকসই আইনি প্রভাব বিবেচনা করতে হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে জনগণের উদ্বেগ বা দাবি অগ্রাহ্য করা উচিত। বরং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় জনগণের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে, গবেষণা ও বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে হয়। ধর্ষণ প্রতিরোধের প্রশ্নে তাই একমাত্র কোনো একটি পদ্ধতির ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। এটি একটি জটিল সামাজিক সমস্যা, যার শিকড় রয়েছে পরিবার, শিক্ষা, সংস্কৃতি, আইন, অর্থনীতি এবং মানসিকতার গভীরে। একটি শিশুর চরিত্র গড়ে ওঠে পরিবারে। যদি ছোটবেলা থেকেই তাকে অন্যের মর্যাদা, সম্মতি এবং মানবিকতার শিক্ষা দেওয়া হয়, তাহলে তার মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণের শক্তি তৈরি হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এই মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সামাজিক সংস্কৃতিও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। অনেক সমাজে এখনও নারীর প্রতি অবমাননাকর দৃষ্টিভঙ্গি বা পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা বিদ্যমান। এই মানসিকতা পরিবর্তন না করলে আইন একা খুব বেশি দূর এগোতে পারে না। সামাজিক ও প্রিন্ট-ইলেক্ট্রনিক মাধ্যম, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং জনসচেতনতা কর্মসূচি মানুষের মনোভাব পরিবর্তনে সহায়তা করতে পারে। আইনের কার্যকর প্রয়োগ অবশ্যই অপরিহার্য। একটি সমাজে যদি অপরাধের বিচার দীর্ঘসূত্রিতায় আটক   ©️মো: আবদুর রহমান মিঞা (লেখক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক) ই-মেইল: arahmanmiah@gmail.com  

Advertisement
News stories

রাজনীতি

  • ছাত্র রাজনীতি
  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • অন্যান্য দল
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

Advertisement

Opinion

আন্তর্জাতিক

View more
হাইফায় ভয়াবহ ড্রোন হামলা
হাইফা বন্দরের জ্বালানি সংরক্ষাণাগারে ইরানের ড্রোন হামলা
আরাফাত ইবনে আব্দুল্লাহ মার্চ ১০, ২০২৬ 0

ইসরায়েলের হাইফা বন্দরে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় শহরটির গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস শোধনাগার এবং জ্বালানি সংরক্ষাণাগারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানি সেনাবাহিনী। সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইরানি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।  বিবৃতিতে বলা হয়, হাইফার জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই এই সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।  সম্প্রতি ইরানের নিজস্ব জ্বালানি সম্পদের ওপর চালানো হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ থাকবে বাংলাদেশের জাহাজ, নিশ্চয়তা ইরানের
নিলুফা ইয়াসমিন মার্চ ১০, ২০২৬ 0

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিতে বড় স্বস্তি মিলেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের তেল ও এলএনজি বাহী জাহাজগুলো কোনো বাধা ছাড়াই চলাচল করতে পারবে বলে নিশ্চয়তা দিয়েছে ইরান।  বিশ্ববাজারের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌ-করিডরে নিরাপদ চলাচলের বিষয়ে সোমবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদীর মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের আগে জাহাজের আগাম তথ্য সরবরাহ করলে ইরান সেগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করবে। বর্তমানে দেশে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা প্রায় ১২ হাজার টন, যার বিপরীতে ৯ হাজার টন সরবরাহ করা হচ্ছে। এই সংকট কাটাতে সরকার জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প উৎস থেকে সরাসরি ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছেছে এবং চলতি সপ্তাহে আরও চারটি জাহাজে ১ লাখ ২০ হাজার ২০৫ টন ডিজেল দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এছাড়া পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মজুত নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট ও কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি
ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি: অস্তিত্বের সংকটে এক রহস্যময় উত্তরাধিকারী
নিলুফা ইয়াসমিন মার্চ ১০, ২০২৬ 0

এক উত্তাল ও অনিশ্চিত সময়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসলেন মোজতবা খামেনি। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি দেশটির তৃতীয় ‘সুপ্রিম লিডার’।   তবে এমন এক মুহূর্তে তিনি দায়িত্ব নিলেন, যখন ইরান তার ইতিহাসের কঠিনতম অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে লিপ্ত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি হামলায় বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর, বংশপরম্পরা ও রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা এখন তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে। বাবার ছায়া থেকে ক্ষমতার শীর্ষে মোজতবা খামেনি গত কয়েক দশক ধরে তার বাবার ছায়াসঙ্গী হিসেবে কাজ করেছেন। ইরানের প্রভাবশালী ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ তাকে মনোনীত করার পরপরই কট্টরপন্থিরা রাজপথে নেমে উল্লাস প্রকাশ করেন। দেশটির সকল নিরাপত্তা বাহিনী তাদের নতুন কমান্ডারের প্রতি 'শেষ রক্তবিন্দু' দিয়ে অনুগত থাকার শপথ নিয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রদর্শিত ক্ষেপণাস্ত্রের গায়েও লেখা ছিল, "আপনার সেবায় নিয়োজিত, সৈয়দ মোজতবা"। ব্যক্তিগত শোক ও প্রতিশোধের আগুন মোজতবার এই উত্থান কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং অত্যন্ত ব্যক্তিগত। সাম্প্রতিক সেই ভয়াবহ হামলায় তিনি শুধু বাবাকেই হারাননি, হারিয়েছেন মা, স্ত্রী এবং এক সন্তানকেও। তিনি নিজেও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি তাকে আরও রহস্যময় ও প্রতিশোধপরায়ণ করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও আন্তর্জাতিক চাপ ক্ষমতা গ্রহণের শুরুতেই মোজতবাকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে তীব্র অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা। গত রাতেই তেহরানের রাজপথে "মোজতবার মৃত্যু চাই" স্লোগান শোনা গেছে। বিরোধীদের মতে, তার শাসনামলে ইরান আরও কট্টরপন্থি ও দমনমূলক হয়ে উঠবে। আন্তর্জাতিক মহলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মোজতবার নেতৃত্বকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে তিনি বেশিদিন টিকবেন না। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাকে ‘সুস্পষ্ট লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। রহস্যময় ব্যক্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ গতিপথ মোজতবা খামেনি বরাবরই জনসমক্ষে আসতে অপছন্দ করেন। তার কোনো পাবলিক বক্তৃতার রেকর্ড নেই এবং তিনি কখনো আনুষ্ঠানিক সরকারি দায়িত্ব পালন করেননি। তবে ইসলামিক রেভুলিউশনারি গার্ড কোরের (IRGC) সাথে তার গভীর সম্পর্ক তাকে এক অপরাজেয় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কেউ কেউ তাকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ইরানি সংস্করণ’ হিসেবে দেখছেন—যিনি কি না কঠোর হাতে ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করেও কিছুটা সামাজিক পরিবর্তনের আভাস দিতে পারেন। মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া বিধ্বংসী যুদ্ধ এবং ভঙ্গুর অর্থনীতির মাঝে মোজতবা খামেনি ইরানকে কোন দিকে নিয়ে যান, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

ইরানি গণমাধ্যমে নেতানিয়াহুর নিহত হওয়ার দাবি, নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি
ইরানি গণমাধ্যমে নেতানিয়াহুর নিহত হওয়ার দাবি, নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি
নিলুফা ইয়াসমিন মার্চ ১০, ২০২৬ 0

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন এমন দাবি করেছে ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ। একই হামলায় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গিভর আহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে আঘাত হানার পর ঘটনাস্থলেই নেতানিয়াহু নিহত হন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গিভর, যিনি হামলায় আহত হয়েছেন।   তবে এই দাবির পক্ষে কোনো দৃঢ় প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। প্রতিবেদনে মূলত মার্কিন সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটারের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টের উল্লেখ করা হয়েছে। ওই পোস্টে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নেতানিয়াহু ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তবে যে অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি করা হয়েছে, সেটি সত্যিই স্কট রিটার পরিচালনা করেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে হামলার কোনো ভিডিও, ছবি বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণও উপস্থাপন করা হয়নি। বরং নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ভিডিও বার্তার অনুপস্থিতি, তার বাসভবনের আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তার সম্ভাব্য সফর স্থগিত হওয়া এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে একটি কথিত ফোনালাপের উল্লেখসহ বিভিন্ন পরিস্থিতিগত বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।   এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নামে সর্বশেষ বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল গত ৭ মার্চ। সেদিন ইসরায়েলের বিরশেবা এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত কয়েকজনকে দেখতে গিয়েছিলেন তিনি।   উল্লেখ্য, এর আগেও ইরানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম নেতানিয়াহুর নিহত হওয়ার দাবি করেছিল। গত ২ মার্চ কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তিনি নিহত হয়েছেন। তবে পরে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়াসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ দাবিকে গুজব বলে

Follow us

Trending

ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্চ ১, ২০২৬
আসিফ নজরুল Play Video
172 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
আমির খসরু Play Video
188 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
124 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
Advertisement
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
আইন-আদালত
Advertisement
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
বাংলাদেশ
জাতীয়