এশিয়ার বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে লেনদেনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৩.০৮ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দামও প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬.২৫ ডলারে দাঁড়ায়। বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে কি না—এই অনিশ্চয়তা থেকেই মূলত বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক উত্তেজনার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও সোমবার (১৬ মার্চ) কয়েকটি জাহাজ নিরাপদে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে বলে খবর পাওয়ায় দাম কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছিল, কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকেই আবার দাম বাড়তে শুরু করে। তেলের বাজারে এই অস্থিরতার মধ্যেও এশিয়ার বেশ কয়েকটি প্রধান শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হওয়া সত্ত্বেও জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক প্রায় ০.২৫ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক ২.৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের চাঙ্গাভাব এই উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে। চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া ২০২৭ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার বিক্রির সম্ভাবনার কথা জানানো এবং বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন চুক্তির ঘোষণা দেওয়ায় প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। সূত্র: বিবিসি
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রহিম ইয়ার খান জেলায় একটি দোকানের ছাদ ধসে পড়ে আটজন নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৬ মার্চ) স্থানীয় প্রশাসনের বরাতে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানায়। জানা গেছে, নিহত ও আহত নারীরা বেনজির ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম (বিআইএসপি) থেকে আর্থিক সহায়তা নিতে ওই এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে দোকানটির ছাদ ভেঙে পড়লে সেখানে উপস্থিত অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। দুর্ঘটনাটি রহিম ইয়ার খানের টাব্বা ১২৩পি এলাকায় ঘটে। কর্তৃপক্ষ জানায়, ছাদ ধসে পড়ার পর অন্তত ২০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। তাদের অনেককেই ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করতে হয়। ঘটনার পর রহিম ইয়ার খানের ডেপুটি কমিশনার জহির আনোয়ার জাপ্পার নির্দেশে শেখ জায়েদ হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। আহতদের চিকিৎসার জন্য দ্রুত চিকিৎসক ও প্যারামেডিকেল কর্মীদের ডেকে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রেসকিউ ১১২২, এধি ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংস্থা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডেপুটি কমিশনার জহির আনোয়ার জাপ্পা নিজেই পুরো উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম তদারকি করছেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ গোপনে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে উৎসাহ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তার মতে, যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তারা প্রকাশ্যে যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নিলেও আড়ালে ভিন্ন ভূমিকা পালন করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দিকেও ইঙ্গিত করেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার নিয়মিত ব্যক্তিগত যোগাযোগের খবর প্রকাশিত হয়েছে—এসব তথ্য কতটা সত্য, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় শত শত বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, যাদের মধ্যে দুই শতাধিক শিশু রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানান তিনি। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি উপসাগরীয় অঞ্চলের মুসলিম জনগণের উদ্দেশে বলেন, চলমান সংঘাতে তারা কোন পক্ষকে সমর্থন করবে—এ বিষয়টি তাদের ভাবা উচিত। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যদি উপসাগরীয় দেশগুলোর মাটিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়, তবে তেহরান নীরব থাকবে না। লারিজানির ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান সংঘাত একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং অন্যদিকে “মুসলিম ইরান ও প্রতিরোধ শক্তির” মধ্যকার লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে অন্তত ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আফগানিস্তান দাবি করেছে, রাজধানী কাবুলে মাদকাসক্তদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত একটি হাসপাতালে এই হামলা চালানো হয়। এ তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। অন্যদিকে পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কাবুল ও নানগারহার প্রদেশে শুধুমাত্র সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করেই অভিযান চালানো হয়েছে। বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগকে তারা ভিত্তিহীন এবং জনমত বিভ্রান্ত করার চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছে। তালেবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে কাবুলের ওমর অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে হামলার ঘটনা ঘটে। তার দাবি, প্রায় দুই হাজার শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটির বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। ফিতরাত আরও বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে এবং প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছে। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে দমকলকর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। হাসপাতালটির ৩১ বছর বয়সী নিরাপত্তাকর্মী ওমিদ স্তানিকজাই বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, হামলার আগে তিনি আকাশে যুদ্ধবিমানের শব্দ শুনেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের আশপাশে সামরিক ইউনিট অবস্থান করছিল। সেসব ইউনিট বিমানটির দিকে গুলি চালানোর পর বিমানটি বোমা ফেললে সেখানে আগুন ধরে যায়। তিনি দাবি করেন, নিহত ও আহতদের সবাই বেসামরিক মানুষ।
এশিয়ার বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে লেনদেনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৩.০৮ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দামও প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬.২৫ ডলারে দাঁড়ায়। বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে কি না—এই অনিশ্চয়তা থেকেই মূলত বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক উত্তেজনার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও সোমবার (১৬ মার্চ) কয়েকটি জাহাজ নিরাপদে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে বলে খবর পাওয়ায় দাম কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছিল, কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকেই আবার দাম বাড়তে শুরু করে। তেলের বাজারে এই অস্থিরতার মধ্যেও এশিয়ার বেশ কয়েকটি প্রধান শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হওয়া সত্ত্বেও জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক প্রায় ০.২৫ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক ২.৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের চাঙ্গাভাব এই উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে। চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া ২০২৭ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার বিক্রির সম্ভাবনার কথা জানানো এবং বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন চুক্তির ঘোষণা দেওয়ায় প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। সূত্র: বিবিসি
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনি এক বার্তায় তার বাবা প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-এর নিয়োগ দেওয়া কর্মকর্তাদের নিজ নিজ পদে বহাল থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বার্তায় বলা হয়েছে, বর্তমানে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের নতুন করে নিয়োগের প্রয়োজন নেই। তারা আয়াতুল্লাহ খামেনির জীবদ্দশায় যে নির্দেশনা পেয়েছিলেন, সেই অনুযায়ী তাদের কাজ চালিয়ে যাবেন। গত ৮ মার্চ বাবার উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরও মোজতাবা খামেনিকে এখনো প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তার কোনো ছবি বা ভিডিওও প্রকাশ করা হয়নি। তবে ১২ মার্চ রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে তার একটি বার্তা সম্প্রচার করা হয়েছে। এদিকে পিট হেগসেথ ১৩ মার্চ দাবি করেন, তেহরানে প্রথম বিমান হামলার সময় খামেনি আহত এবং সম্ভবত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যদিও এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান-এর ছেলে ইউসেফ পেজেশকিয়ান ১১ মার্চ জানান, সর্বোচ্চ নেতা সম্পূর্ণ নিরাপদ আছেন এবং তার কোনো শারীরিক সমস্যা নেই। সূত্র: বিবিসি নিউজ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে সামরিকভাবে অংশ নেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। রাজধানী বার্লিন-এ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জার্মানির সংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী এই যুদ্ধে অংশ নেওয়ার মতো কোনো অনুমোদন জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ন্যাটো—কোনো পক্ষ থেকেই পাওয়া যায়নি। শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল, এই সংঘাত ন্যাটোর আওতার বিষয় নয়। মের্ৎস আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর আগে জার্মানির সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শও করেনি। পাশাপাশি ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে কখনোই কোনো যৌথ সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতিতে জার্মানি কীভাবে সামরিকভাবে এতে জড়িত হতে পারে—সে প্রশ্নই ওঠে না।” বিশ্লেষকদের মতে, জার্মানির এই অবস্থান ইউরোপের বড় শক্তিগুলোর মধ্যে যুদ্ধ ইস্যুতে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করতে পারে। সূত্র: আল জাজিরা
মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন বাংলাদেশি হাফেজ ইব্রাহীম শেখ। বাংলাদেশি ইয়ুথ কমিউনিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় মোট ২৮টি দেশের প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের হাফেজরা। প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন মালয়েশিয়ার হাফেজ নূরুল আবছার এবং তৃতীয় স্থান পেয়েছেন থাইল্যান্ডের হাফেজ সায়েদুর রহমান। হাফেজ ইব্রাহীম বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা পরিচালিত মাদরাসা উম্মুল কুরার ছাত্র। সংস্থার মহাসচিব শায়েখ সাদ সাইফুল্লাহ মাদানী এই মাদরাসার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় কুয়ালালামপুরে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার দাতো ডা. হাসনিজাল হাসান। ইয়ুথ কমিউনিটির সভাপতি মোহাম্মদ রাজু মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের লেবার মিনিস্টার সিদ্দিকুর রহমান। এছাড়া সম্মাননা প্রদান করা হয় যমুনা টেলিভিশনের মালয়েশিয়া প্রতিনিধি মো. মনিরুজ্জামানকেও।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যক্রমে অংশ নিতে কিছু মিত্র দেশের অনীহায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সোমবার (১৬ মার্চ) হোয়াইট হাউসে কেনেডি সেন্টারের বোর্ড সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু দেশ আগ্রহী হলেও অনেকেই এই কার্যক্রমে অংশ নিতে অনিচ্ছুক। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এই অনাগ্রহীদের মধ্যে এমন দেশও আছে যেগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে। ইরানের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিংকালে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু দেশ ইতিমধ্যেই সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের মিত্র সত্ত্বেও অনেক দেশ কার্যক্রমে উৎসাহ দেখাচ্ছে না। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে তাদের সুরক্ষা ও সহায়তা প্রদান করেছে, কিন্তু সংকটের সময় তাদের সক্রিয়তা প্রত্যাশার তুলনায় কম। এদিকে সোমবার কয়েকটি মার্কিন মিত্র দেশ জানিয়েছে, আপাতত তারা হরমুজ প্রণালি চালু রাখার জন্য কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে অন্তত ৩০টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ধ্বংস করেছে, তবে নতুন মাইন স্থাপন হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত নন। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো ওই নৌপথ দিয়ে জ্বালানি তেলসহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মিত্রদের নির্লিপ্ততা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র–সম্পর্কিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্মী ও আশপাশের এলাকার মানুষকে দ্রুত সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি-এ প্রকাশিত এক বার্তায় আইআরজিসির এক মুখপাত্র বলেন, অঞ্চলে থাকা সব আমেরিকান শিল্পপ্রতিষ্ঠান খালি করে নিতে হবে। পাশাপাশি যেসব শিল্পকারখানায় আমেরিকানদের অংশীদারিত্ব রয়েছে, সেগুলোর আশপাশের এলাকার মানুষকেও দ্রুত সরে যেতে বলা হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য হামলায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত না হন। তবে ঠিক কোন কোন প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। এর আগে গত সপ্তাহে তাসনিম নিউজ এজেন্সির টেলিগ্রাম চ্যানেলে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত কয়েকটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ের নাম উল্লেখ করা হয়। তালিকায় রয়েছে অ্যামাজন, গুগল, মাইক্রোসফট এবং এনভিডিয়া-এর অফিস। বিশ্লেষকদের মতে, এই সতর্কবার্তা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনা করা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। সূত্র: আল জাজিরা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
এশিয়ার বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে লেনদেনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৩.০৮ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দামও প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬.২৫ ডলারে দাঁড়ায়। বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে কি না—এই অনিশ্চয়তা থেকেই মূলত বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক উত্তেজনার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও সোমবার (১৬ মার্চ) কয়েকটি জাহাজ নিরাপদে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে বলে খবর পাওয়ায় দাম কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছিল, কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকেই আবার দাম বাড়তে শুরু করে। তেলের বাজারে এই অস্থিরতার মধ্যেও এশিয়ার বেশ কয়েকটি প্রধান শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হওয়া সত্ত্বেও জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক প্রায় ০.২৫ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক ২.৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের চাঙ্গাভাব এই উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে। চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া ২০২৭ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার বিক্রির সম্ভাবনার কথা জানানো এবং বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন চুক্তির ঘোষণা দেওয়ায় প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। সূত্র: বিবিসি
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রহিম ইয়ার খান জেলায় একটি দোকানের ছাদ ধসে পড়ে আটজন নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৬ মার্চ) স্থানীয় প্রশাসনের বরাতে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানায়। জানা গেছে, নিহত ও আহত নারীরা বেনজির ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম (বিআইএসপি) থেকে আর্থিক সহায়তা নিতে ওই এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে দোকানটির ছাদ ভেঙে পড়লে সেখানে উপস্থিত অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। দুর্ঘটনাটি রহিম ইয়ার খানের টাব্বা ১২৩পি এলাকায় ঘটে। কর্তৃপক্ষ জানায়, ছাদ ধসে পড়ার পর অন্তত ২০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। তাদের অনেককেই ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করতে হয়। ঘটনার পর রহিম ইয়ার খানের ডেপুটি কমিশনার জহির আনোয়ার জাপ্পার নির্দেশে শেখ জায়েদ হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। আহতদের চিকিৎসার জন্য দ্রুত চিকিৎসক ও প্যারামেডিকেল কর্মীদের ডেকে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রেসকিউ ১১২২, এধি ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংস্থা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডেপুটি কমিশনার জহির আনোয়ার জাপ্পা নিজেই পুরো উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম তদারকি করছেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ গোপনে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে উৎসাহ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তার মতে, যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তারা প্রকাশ্যে যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নিলেও আড়ালে ভিন্ন ভূমিকা পালন করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দিকেও ইঙ্গিত করেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার নিয়মিত ব্যক্তিগত যোগাযোগের খবর প্রকাশিত হয়েছে—এসব তথ্য কতটা সত্য, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় শত শত বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, যাদের মধ্যে দুই শতাধিক শিশু রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানান তিনি। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি উপসাগরীয় অঞ্চলের মুসলিম জনগণের উদ্দেশে বলেন, চলমান সংঘাতে তারা কোন পক্ষকে সমর্থন করবে—এ বিষয়টি তাদের ভাবা উচিত। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যদি উপসাগরীয় দেশগুলোর মাটিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়, তবে তেহরান নীরব থাকবে না। লারিজানির ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান সংঘাত একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং অন্যদিকে “মুসলিম ইরান ও প্রতিরোধ শক্তির” মধ্যকার লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে অন্তত ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আফগানিস্তান দাবি করেছে, রাজধানী কাবুলে মাদকাসক্তদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত একটি হাসপাতালে এই হামলা চালানো হয়। এ তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। অন্যদিকে পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কাবুল ও নানগারহার প্রদেশে শুধুমাত্র সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করেই অভিযান চালানো হয়েছে। বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগকে তারা ভিত্তিহীন এবং জনমত বিভ্রান্ত করার চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছে। তালেবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে কাবুলের ওমর অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে হামলার ঘটনা ঘটে। তার দাবি, প্রায় দুই হাজার শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটির বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। ফিতরাত আরও বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে এবং প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছে। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে দমকলকর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। হাসপাতালটির ৩১ বছর বয়সী নিরাপত্তাকর্মী ওমিদ স্তানিকজাই বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, হামলার আগে তিনি আকাশে যুদ্ধবিমানের শব্দ শুনেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের আশপাশে সামরিক ইউনিট অবস্থান করছিল। সেসব ইউনিট বিমানটির দিকে গুলি চালানোর পর বিমানটি বোমা ফেললে সেখানে আগুন ধরে যায়। তিনি দাবি করেন, নিহত ও আহতদের সবাই বেসামরিক মানুষ।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।