দক্ষিণ চীন সাগরে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্যের লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে চীন। দেশটির পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এবার তাদের বিশাল উভচর রণতরী ‘টাইপ ০৭৫’ থেকে অত্যাধুনিক মনুষ্যবিহীন হেলিকপ্টার বা ড্রোন পরিচালনা শুরু করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ বিতর্কিত জলসীমায় চীনের নৌ-অভিযানের সংজ্ঞা চিরতরে বদলে দিতে পারে। সম্প্রতি চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি (CCTV)-তে প্রচারিত একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, চীনের বিশাল যুদ্ধজাহাজ ‘হুবেই’ (টাইপ ০৭৫)-এর ডেকে একটি হালকা ওজনের স্বয়ংচালিত হেলিকপ্টার দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্লেষকরা একে ‘এআর-২০০০’ (AR-2000) মডেলের ড্রোন হিসেবে শনাক্ত করেছেন। প্রায় ২ টন ওজনের এই ড্রোনটি ২০২৪ সালের একটি এয়ার শো-তে প্রথম জনসমক্ষে আনা হয়েছিল। কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ? ১. বড় জাহাজে ছোট ড্রোনের শক্তি: টাইপ ০৭৫ রণতরীটি প্রায় ৩৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ টন ওজনের বিশাল একটি জাহাজ, যা মূলত ৩০টিরও বেশি হেলিকপ্টার এবং কয়েকশ সৈন্য বহন করতে সক্ষম। এর ডেকে এখন মানুষবাহী বড় হেলিকপ্টারের পাশাপাশি এই ড্রোন মোতায়েন করায় জাহাজটির কার্যক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে। ছোট আকৃতির হওয়ায় একসাথে অনেকগুলো ড্রোন এখান থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারবে। ২. ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে কার্যকর: অবসরপ্রাপ্ত পিএলএ কর্নেল ইউ গাং-এর মতে, এই ড্রোনগুলো দিয়ে অত্যন্ত বিপজ্জনক গোয়েন্দা নজরদারি এবং সরাসরি হামলা চালানো সম্ভব। এতে পাইলটের প্রাণের ঝুঁকি না থাকায় যেকোনো প্রতিকূল আবহাওয়া বা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এগুলো বারবার ব্যবহার করা যাবে। ৩. সাবমেরিন ধ্বংসের সক্ষমতা: সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই ড্রোনগুলো টর্পেডো, ক্ষেপণাস্ত্র এবং গভীর সমুদ্রের বোমা (depth charges) বহন করতে সক্ষম। ফলে এটি শুধু আকাশ থেকে নজরদারি নয়, বরং সমুদ্রের নিচে থাকা শত্রু সাবমেরিন ধ্বংস করতেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আঞ্চলিক প্রভাব ও উদ্বেগ দক্ষিণ চীন সাগরে তাইওয়ান এবং ফিলিপাইনের সাথে চীনের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। বিশেষ করে ফিলিপাইনের কোস্টগার্ডের সাথে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই ড্রোনের উপস্থিতি ম্যানিলা ও ওয়াশিংটনের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষক সং ঝংপিং জানিয়েছেন, মানুষবাহী হেলিকপ্টার অনেক সময় খারাপ আবহাওয়ায় কাজ করতে পারে না, কিন্তু এই ড্রোনগুলো প্রায় সব ধরণের সামুদ্রিক পরিস্থিতিতে কাজ চালিয়ে যেতে সক্ষম। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা চীন বর্তমানে ‘টাইপ ০৭৬’ নামের আরও একটি নতুন উভচর জাহাজ তৈরি করছে, যা মূলত একটি ‘ড্রোন ক্যারিয়ার’ হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু বড় রণতরী নয়, ভবিষ্যতে ডেস্ট্রয়ার এবং ছোট যুদ্ধজাহাজেও এই ড্রোন মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে বেইজিংয়ের। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ চীন সাগরের মতো উত্তপ্ত অঞ্চলে চীনের এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি কেবল সামরিক শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং এই অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব নিয়ে চলমান লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করার একটি বড় কৌশল।
প্রতিবেশী দুই দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা ও অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে, যা পূর্ণাঙ্গ সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। সোমবার (১৬ মার্চ) আফগানিস্তান অভিযোগ করেছে, রাজধানী কাবুলে একটি মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে পাকিস্তানি বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, সন্ধ্যার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তালেবান সরকারের দাবি, পাকিস্তানের বিমান হামলায় চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানিয়েছেন, এই হামলায় প্রায় ৪০০ জন নিহত এবং অন্তত ২৫০ জন আহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তান সরকার এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কোনো হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। বরং কাবুল ও পূর্বাঞ্চলীয় নানগারহার প্রদেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহৃত অবকাঠামো লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শারাফাত জামান আমরখাইল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানান, হামলার স্থানের আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না, যা ঘটনাটিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় কাবুলজুড়ে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে আকাশে বিমান চলাচল এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শব্দও শোনা গেছে। জাতিসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই দেশের সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৫ জন নিহত এবং ১৯৩ জন আহত হয়েছেন। গত বছরের অক্টোবর মাসে উভয় দেশ একটি নাজুক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এরপর থেকে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চলতেই থাকে, যা এখন বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘাত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা-বিষয়ক কমিশন (USCIRF)-এর সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদনকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রতিবেদনকে কেবল ‘ভ্রান্ত’ নয়, বরং একটি ‘নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিকৃত’ দলিল হিসেবে অভিহিত করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এই প্রতিবেদনে ভারতের বাস্তব চিত্রকে আড়াল করে একটি বিশেষ রাজনৈতিক ও আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, "আমরা এই রিপোর্টটি দেখেছি। এটি পুরোপুরি পক্ষপাতদুষ্ট এবং ভারতের পক্ষ থেকে এটি সরাসরি খারিজ করা হচ্ছে।" প্রতিবেদনে যা ছিল এবং ভারতের কড়া জবাব উল্লেখ্য যে, USCIRF-এর প্রতিবেদনে ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্বের অভিযোগ তুলে দেশটির প্রভাবশালী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস) এবং গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW)-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির সুপারিশ করা হয়েছে। ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগজনক দেশ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি ও বাণিজ্যনীতির ক্ষেত্রে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি শর্ত হিসেবে রাখারও প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে জয়সওয়াল বলেন, যেসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে, তার কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। বরং কমিশন নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। ভারতের সমালোচনা করার আগে কমিশনের উচিত যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়দের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলা এবং হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুরের মতো ঘটনাগুলোর দিকে নজর দেওয়া।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বইছে উত্তপ্ত হাওয়া। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্য করে প্রায় ২,০০০ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরান। মূলত আমিরাতের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত পরিবহন খাত এবং জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এই হামলাগুলো চালানো হচ্ছে। সোমবার দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলার ফলে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যা আন্তর্জাতিক আকাশপথে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায়। শুধু বিমানবন্দরই নয়, অঞ্চলটির অন্যতম বৃহৎ তেল সংরক্ষণ কেন্দ্র ফুজাইরাহ বন্দরেও ড্রোন হামলায় আগুনের ঘটনা ঘটেছে। আবুধাবির উপকণ্ঠে একটি চলন্ত গাড়িতে রকেট হামলায় এক ফিলিস্তিনি নাগরিকের মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করে তুলেছে। এছাড়া ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে দুবাইয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলেও হামলা চালানো হয়। বিবিসির সংবাদদাতা আজাদেহ মশিরি জানিয়েছেন, আরব আমিরাত মনে করছে তাদের অন্যায়ভাবে এই যুদ্ধে টেনে আনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান হয়তো ভাবছে এই চাপের মুখে আমিরাত সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করবে, কিন্তু বাস্তবতা হলো—এই ক্রমাগত হামলায় আমিরাতের কর্মকর্তারা এখন চরম ক্ষুব্ধ।
প্রতিবেশী দুই দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা ও অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে, যা পূর্ণাঙ্গ সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। সোমবার (১৬ মার্চ) আফগানিস্তান অভিযোগ করেছে, রাজধানী কাবুলে একটি মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে পাকিস্তানি বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, সন্ধ্যার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তালেবান সরকারের দাবি, পাকিস্তানের বিমান হামলায় চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানিয়েছেন, এই হামলায় প্রায় ৪০০ জন নিহত এবং অন্তত ২৫০ জন আহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তান সরকার এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কোনো হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। বরং কাবুল ও পূর্বাঞ্চলীয় নানগারহার প্রদেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহৃত অবকাঠামো লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শারাফাত জামান আমরখাইল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানান, হামলার স্থানের আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না, যা ঘটনাটিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় কাবুলজুড়ে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে আকাশে বিমান চলাচল এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শব্দও শোনা গেছে। জাতিসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই দেশের সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৫ জন নিহত এবং ১৯৩ জন আহত হয়েছেন। গত বছরের অক্টোবর মাসে উভয় দেশ একটি নাজুক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এরপর থেকে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চলতেই থাকে, যা এখন বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘাত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
দক্ষিণ চীন সাগরে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্যের লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে চীন। দেশটির পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এবার তাদের বিশাল উভচর রণতরী ‘টাইপ ০৭৫’ থেকে অত্যাধুনিক মনুষ্যবিহীন হেলিকপ্টার বা ড্রোন পরিচালনা শুরু করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ বিতর্কিত জলসীমায় চীনের নৌ-অভিযানের সংজ্ঞা চিরতরে বদলে দিতে পারে। সম্প্রতি চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি (CCTV)-তে প্রচারিত একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, চীনের বিশাল যুদ্ধজাহাজ ‘হুবেই’ (টাইপ ০৭৫)-এর ডেকে একটি হালকা ওজনের স্বয়ংচালিত হেলিকপ্টার দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্লেষকরা একে ‘এআর-২০০০’ (AR-2000) মডেলের ড্রোন হিসেবে শনাক্ত করেছেন। প্রায় ২ টন ওজনের এই ড্রোনটি ২০২৪ সালের একটি এয়ার শো-তে প্রথম জনসমক্ষে আনা হয়েছিল। কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ? ১. বড় জাহাজে ছোট ড্রোনের শক্তি: টাইপ ০৭৫ রণতরীটি প্রায় ৩৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ টন ওজনের বিশাল একটি জাহাজ, যা মূলত ৩০টিরও বেশি হেলিকপ্টার এবং কয়েকশ সৈন্য বহন করতে সক্ষম। এর ডেকে এখন মানুষবাহী বড় হেলিকপ্টারের পাশাপাশি এই ড্রোন মোতায়েন করায় জাহাজটির কার্যক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে। ছোট আকৃতির হওয়ায় একসাথে অনেকগুলো ড্রোন এখান থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারবে। ২. ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে কার্যকর: অবসরপ্রাপ্ত পিএলএ কর্নেল ইউ গাং-এর মতে, এই ড্রোনগুলো দিয়ে অত্যন্ত বিপজ্জনক গোয়েন্দা নজরদারি এবং সরাসরি হামলা চালানো সম্ভব। এতে পাইলটের প্রাণের ঝুঁকি না থাকায় যেকোনো প্রতিকূল আবহাওয়া বা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এগুলো বারবার ব্যবহার করা যাবে। ৩. সাবমেরিন ধ্বংসের সক্ষমতা: সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই ড্রোনগুলো টর্পেডো, ক্ষেপণাস্ত্র এবং গভীর সমুদ্রের বোমা (depth charges) বহন করতে সক্ষম। ফলে এটি শুধু আকাশ থেকে নজরদারি নয়, বরং সমুদ্রের নিচে থাকা শত্রু সাবমেরিন ধ্বংস করতেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আঞ্চলিক প্রভাব ও উদ্বেগ দক্ষিণ চীন সাগরে তাইওয়ান এবং ফিলিপাইনের সাথে চীনের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। বিশেষ করে ফিলিপাইনের কোস্টগার্ডের সাথে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই ড্রোনের উপস্থিতি ম্যানিলা ও ওয়াশিংটনের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষক সং ঝংপিং জানিয়েছেন, মানুষবাহী হেলিকপ্টার অনেক সময় খারাপ আবহাওয়ায় কাজ করতে পারে না, কিন্তু এই ড্রোনগুলো প্রায় সব ধরণের সামুদ্রিক পরিস্থিতিতে কাজ চালিয়ে যেতে সক্ষম। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা চীন বর্তমানে ‘টাইপ ০৭৬’ নামের আরও একটি নতুন উভচর জাহাজ তৈরি করছে, যা মূলত একটি ‘ড্রোন ক্যারিয়ার’ হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু বড় রণতরী নয়, ভবিষ্যতে ডেস্ট্রয়ার এবং ছোট যুদ্ধজাহাজেও এই ড্রোন মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে বেইজিংয়ের। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ চীন সাগরের মতো উত্তপ্ত অঞ্চলে চীনের এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি কেবল সামরিক শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং এই অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব নিয়ে চলমান লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করার একটি বড় কৌশল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে সামরিকভাবে অংশ নেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। রাজধানী বার্লিন-এ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জার্মানির সংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী এই যুদ্ধে অংশ নেওয়ার মতো কোনো অনুমোদন জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ন্যাটো—কোনো পক্ষ থেকেই পাওয়া যায়নি। শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল, এই সংঘাত ন্যাটোর আওতার বিষয় নয়। মের্ৎস আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর আগে জার্মানির সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শও করেনি। পাশাপাশি ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে কখনোই কোনো যৌথ সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতিতে জার্মানি কীভাবে সামরিকভাবে এতে জড়িত হতে পারে—সে প্রশ্নই ওঠে না।” বিশ্লেষকদের মতে, জার্মানির এই অবস্থান ইউরোপের বড় শক্তিগুলোর মধ্যে যুদ্ধ ইস্যুতে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করতে পারে। সূত্র: আল জাজিরা
মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন বাংলাদেশি হাফেজ ইব্রাহীম শেখ। বাংলাদেশি ইয়ুথ কমিউনিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় মোট ২৮টি দেশের প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের হাফেজরা। প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন মালয়েশিয়ার হাফেজ নূরুল আবছার এবং তৃতীয় স্থান পেয়েছেন থাইল্যান্ডের হাফেজ সায়েদুর রহমান। হাফেজ ইব্রাহীম বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা পরিচালিত মাদরাসা উম্মুল কুরার ছাত্র। সংস্থার মহাসচিব শায়েখ সাদ সাইফুল্লাহ মাদানী এই মাদরাসার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় কুয়ালালামপুরে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার দাতো ডা. হাসনিজাল হাসান। ইয়ুথ কমিউনিটির সভাপতি মোহাম্মদ রাজু মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের লেবার মিনিস্টার সিদ্দিকুর রহমান। এছাড়া সম্মাননা প্রদান করা হয় যমুনা টেলিভিশনের মালয়েশিয়া প্রতিনিধি মো. মনিরুজ্জামানকেও।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যক্রমে অংশ নিতে কিছু মিত্র দেশের অনীহায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সোমবার (১৬ মার্চ) হোয়াইট হাউসে কেনেডি সেন্টারের বোর্ড সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু দেশ আগ্রহী হলেও অনেকেই এই কার্যক্রমে অংশ নিতে অনিচ্ছুক। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এই অনাগ্রহীদের মধ্যে এমন দেশও আছে যেগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে। ইরানের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিংকালে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু দেশ ইতিমধ্যেই সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের মিত্র সত্ত্বেও অনেক দেশ কার্যক্রমে উৎসাহ দেখাচ্ছে না। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে তাদের সুরক্ষা ও সহায়তা প্রদান করেছে, কিন্তু সংকটের সময় তাদের সক্রিয়তা প্রত্যাশার তুলনায় কম। এদিকে সোমবার কয়েকটি মার্কিন মিত্র দেশ জানিয়েছে, আপাতত তারা হরমুজ প্রণালি চালু রাখার জন্য কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে অন্তত ৩০টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ধ্বংস করেছে, তবে নতুন মাইন স্থাপন হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত নন। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো ওই নৌপথ দিয়ে জ্বালানি তেলসহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মিত্রদের নির্লিপ্ততা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র–সম্পর্কিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্মী ও আশপাশের এলাকার মানুষকে দ্রুত সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি-এ প্রকাশিত এক বার্তায় আইআরজিসির এক মুখপাত্র বলেন, অঞ্চলে থাকা সব আমেরিকান শিল্পপ্রতিষ্ঠান খালি করে নিতে হবে। পাশাপাশি যেসব শিল্পকারখানায় আমেরিকানদের অংশীদারিত্ব রয়েছে, সেগুলোর আশপাশের এলাকার মানুষকেও দ্রুত সরে যেতে বলা হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য হামলায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত না হন। তবে ঠিক কোন কোন প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। এর আগে গত সপ্তাহে তাসনিম নিউজ এজেন্সির টেলিগ্রাম চ্যানেলে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত কয়েকটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ের নাম উল্লেখ করা হয়। তালিকায় রয়েছে অ্যামাজন, গুগল, মাইক্রোসফট এবং এনভিডিয়া-এর অফিস। বিশ্লেষকদের মতে, এই সতর্কবার্তা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনা করা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। সূত্র: আল জাজিরা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
প্রতিবেশী দুই দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা ও অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে, যা পূর্ণাঙ্গ সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। সোমবার (১৬ মার্চ) আফগানিস্তান অভিযোগ করেছে, রাজধানী কাবুলে একটি মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে পাকিস্তানি বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, সন্ধ্যার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তালেবান সরকারের দাবি, পাকিস্তানের বিমান হামলায় চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানিয়েছেন, এই হামলায় প্রায় ৪০০ জন নিহত এবং অন্তত ২৫০ জন আহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তান সরকার এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কোনো হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। বরং কাবুল ও পূর্বাঞ্চলীয় নানগারহার প্রদেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহৃত অবকাঠামো লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শারাফাত জামান আমরখাইল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানান, হামলার স্থানের আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না, যা ঘটনাটিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় কাবুলজুড়ে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে আকাশে বিমান চলাচল এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শব্দও শোনা গেছে। জাতিসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই দেশের সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৫ জন নিহত এবং ১৯৩ জন আহত হয়েছেন। গত বছরের অক্টোবর মাসে উভয় দেশ একটি নাজুক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এরপর থেকে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চলতেই থাকে, যা এখন বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘাত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা-বিষয়ক কমিশন (USCIRF)-এর সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদনকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রতিবেদনকে কেবল ‘ভ্রান্ত’ নয়, বরং একটি ‘নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিকৃত’ দলিল হিসেবে অভিহিত করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এই প্রতিবেদনে ভারতের বাস্তব চিত্রকে আড়াল করে একটি বিশেষ রাজনৈতিক ও আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, "আমরা এই রিপোর্টটি দেখেছি। এটি পুরোপুরি পক্ষপাতদুষ্ট এবং ভারতের পক্ষ থেকে এটি সরাসরি খারিজ করা হচ্ছে।" প্রতিবেদনে যা ছিল এবং ভারতের কড়া জবাব উল্লেখ্য যে, USCIRF-এর প্রতিবেদনে ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্বের অভিযোগ তুলে দেশটির প্রভাবশালী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস) এবং গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW)-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির সুপারিশ করা হয়েছে। ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগজনক দেশ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি ও বাণিজ্যনীতির ক্ষেত্রে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি শর্ত হিসেবে রাখারও প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে জয়সওয়াল বলেন, যেসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে, তার কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। বরং কমিশন নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। ভারতের সমালোচনা করার আগে কমিশনের উচিত যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়দের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলা এবং হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুরের মতো ঘটনাগুলোর দিকে নজর দেওয়া।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বইছে উত্তপ্ত হাওয়া। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্য করে প্রায় ২,০০০ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরান। মূলত আমিরাতের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত পরিবহন খাত এবং জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এই হামলাগুলো চালানো হচ্ছে। সোমবার দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলার ফলে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যা আন্তর্জাতিক আকাশপথে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায়। শুধু বিমানবন্দরই নয়, অঞ্চলটির অন্যতম বৃহৎ তেল সংরক্ষণ কেন্দ্র ফুজাইরাহ বন্দরেও ড্রোন হামলায় আগুনের ঘটনা ঘটেছে। আবুধাবির উপকণ্ঠে একটি চলন্ত গাড়িতে রকেট হামলায় এক ফিলিস্তিনি নাগরিকের মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করে তুলেছে। এছাড়া ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে দুবাইয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলেও হামলা চালানো হয়। বিবিসির সংবাদদাতা আজাদেহ মশিরি জানিয়েছেন, আরব আমিরাত মনে করছে তাদের অন্যায়ভাবে এই যুদ্ধে টেনে আনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান হয়তো ভাবছে এই চাপের মুখে আমিরাত সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করবে, কিন্তু বাস্তবতা হলো—এই ক্রমাগত হামলায় আমিরাতের কর্মকর্তারা এখন চরম ক্ষুব্ধ।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ভয়াবহ রকেট ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ, ২০২৬) ভোরে গ্রিন জোনে অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত এই কূটনৈতিক মিশনে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। হামলার পর দূতাবাস চত্বর থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা গেছে। ইরাকি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, অন্তত পাঁচটি ড্রোন এবং বেশ কয়েকটি রকেট লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অন্তত তিনটি ড্রোনকে দূতাবাসের দিকে ধেয়ে আসতে দেখা গেছে। দূতাবাসের সি-র্যাম (C-RAM) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে দুটি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও একটি ড্রোন সরাসরি দূতাবাস প্রাঙ্গণের ভেতরে আঘাত হানে। এর পরপরই সেখানে আগুন ধরে যায় এবং ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে চারপাশ। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি এ যাবতকালের অন্যতম তীব্র হামলা। ইরান-ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো এই হামলার পেছনে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার মাত্রা বহুগুণ বেড়েছে। হামলার পরপরই ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী বাগদাদের উচ্চ সুরক্ষিত ‘গ্রিন জোন’ এলাকাটি সিলগালা করে দিয়েছে। সেখানে থাকা অন্যান্য কূটনৈতিক মিশন ও সরকারি ভবনগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে এই হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম অস্থির হয়ে উঠেছে। ইরাকি ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে ইরান-পন্থি গোষ্ঠীগুলো মার্কিন অবস্থানে বারবার আঘাত হানছে, যার ধারাবাহিকতায় আজকের এই বড় ধরনের হামলাটি ঘটল।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।