Live update news
১৩ বছরের লড়াইয়ের অবসান: ভারতে প্রথমবার ‘পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যু’র অনুমতি

দশকেরও বেশি সময় ধরে বিছানায় নিথর পড়ে থাকা দেহ, নাকে-মুখে নল আর যন্ত্রের সাহায্যে কৃত্রিমভাবে বয়ে চলা শ্বাস— অবশেষে এই দীর্ঘ যন্ত্রণার অবসান হতে চলেছে। ভারতের বিচারবিভাগের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও আবেগঘন রায় দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ১৩ বছর ধরে কোমায় থাকা ৩১ বছর বয়সী যুবক হরিশ রাণাকে ‘প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া’ বা পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিয়েছে। ২০১৩ সালে চণ্ডীগড়ের একটি বহুতল থেকে পড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে মারাত্মক চোট পান তৎকালীন ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র হরিশ। সেই থেকে তিনি ছিলেন পুরোপুরি ‘ভেজিটেটিভ স্টেট’ বা উদ্ভিদবৎ অবস্থায়। তার বেঁচে থাকা বলতে ছিল কেবল লাইফ সাপোর্ট আর টিউবের মাধ্যমে শরীরে কৃত্রিমভাবে পুষ্টি সরবরাহ। দীর্ঘ ১৩ বছর আপ্রাণ লড়াই করার পর সহায়-সম্বলহীন পরিবার যখন বুঝতে পারে হরিশের ফেরার আর কোনো পথ নেই, তখনই তারা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ বুধবার এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। আদালত দিল্লির এইমস (AIIMS)-কে নির্দেশ দিয়েছে হরিশের শরীর থেকে ধীরে ধীরে লাইফ সাপোর্ট ও কৃত্রিম পুষ্টি ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করতে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত হয়তো কঠোর যুক্তি দিয়ে বিচার করা যাবে না, তবে এর মধ্যে লুকিয়ে আছে এক পরিবারের ‘ভালোবাসা, ত্যাগ এবং বিচ্ছেদের’ করুণ বাস্তবতা। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার’কে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও, বাস্তবে এর প্রয়োগ এই প্রথম দেখা গেল। ইতিপূর্বে মুম্বাইয়ের অরুণা শানবাগের ঘটনায় স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করা হলেও তখন আদালত তা মঞ্জুর করেনি। হরিশের বাবা অশোক রাণা আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "আমাদের জন্য এটা অত্যন্ত কঠিন এক সিদ্ধান্ত, কিন্তু হরিশের যন্ত্রণামুক্তির জন্য এটাই হয়তো সেরা পথ। আমরা আদালতের কাছে কৃতজ্ঞ।" এই রায়ের মাধ্যমে ভারত এক নতুন আইনি দিগন্তে পা রাখল, যেখানে দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণায় কাতর রোগীর মানবিক বিদায়ের পথ প্রশস্ত হলো। তবে আদালত একই সঙ্গে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে জীবনের অন্তিম পর্যায়ের যত্ন বা ‘এন্ড অফ লাইফ কেয়ার’ নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করতে।

১৩ মিনিট Ago
পারস্য উপসাগরে ৬ জাহাজে হামলা: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়ালো

পারস্য উপসাগর ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে অন্তত ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনায় বিশ্বজুড়ে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থানরত ছয়টি জাহাজে একের পর এক হামলা চালানো হয়। এসব হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করছে পশ্চিমা দেশগুলো। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০.৫০ ডলারে পৌঁছে যায়, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, আক্রান্ত জাহাজগুলোর মধ্যে তেলের ট্যাঙ্কার এবং কার্গো ভেসেল রয়েছে। বেশ কিছু ভিডিওতে জাহাজগুলোতে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। এই হামলার ফলে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। জ্বালানি তেলের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারেও বড় ধরনের ধস লক্ষ্য করা গেছে। মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গোল্ডম্যান স্যাকস-এর মতো বিশ্লেষক সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, যদি হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তবে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৪০ থেকে ২০০ ডলারেও গিয়ে ঠেকতে পারে। বিদ্যমান পরিস্থিতি সামাল দিতে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (IEA) তাদের জরুরি মজুদ থেকে রেকর্ড ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও তার কৌশলগত রিজার্ভ থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত প্রশমিত না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজার স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ওমান ও ইরাকের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোও তাদের তেল টার্মিনালগুলো থেকে সতর্কতা হিসেবে জাহাজ সরিয়ে নিচ্ছে।

২২ মিনিট Ago
জুলাই সনদ ভঙ্গ করে সংসদ শুরু করেছে বিএনপি: সারজিস

বিএনপি জুলাই সনদ ভঙ্গ করে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বরে একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ কথা বলেন।   সারজিস আলম বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য বিএনপি ভালো বার্তা দেয়নি। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অনুযায়ী সংসদে স্পিকার সরকারি দল থেকে হলেও ডেপুটি স্পিকার বিরোধীদল থেকে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডেপুটি স্পিকার করা হয়েছে ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে, যিনি বিএনপি সমর্থিত একজন এমপি।   স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে শপথ পড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করে সারজিস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় পরিবেশগত পরিস্থিতির কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। তবে দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হওয়ার পরও বিএনপি ফ্যাসিস্ট সরকারের রাষ্ট্রপতির মাধ্যমেই শপথ নিয়ে তাদের সরকারের কার্যক্রম শুরু করেছে।   তিনি আরও বলেন, তারা আবারও পূর্বের স্বৈরাচারী ধারার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করছে এবং সেই স্বৈরাচারী লেজ টেনে ধরা শুরু করেছে, যা তাদেরকে মর্মাহত করেছে।

১ ঘন্টা Ago
ইরান যুদ্ধের প্রথম ৬ দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ১১৩০ কোটি ডলার

ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন (১,১৩০ কোটি) ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটরদের সাথে এক রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা এই প্রাথমিক হিসাব তুলে ধরেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন এই তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য হয়। তবে কর্মকর্তাদের মতে, এটি যুদ্ধের মোট ব্যয়ের একটি অংশ মাত্র। হোয়াইট হাউস খুব শীঘ্রই কংগ্রেসের কাছে যুদ্ধের জন্য আরও অতিরিক্ত অর্থায়নের অনুরোধ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কিছু সূত্র জানিয়েছে, এই অতিরিক্ত বরাদ্দের পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন (৫,০০০ কোটি) ডলার বা তারও বেশি হতে পারে। ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ও ক্ষয়ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সম্মিলিত সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ২,০০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই ইরানি ও লেবানিজ নাগরিক। সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর পাল্টা হামলায় জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ (UNICEF) জানিয়েছে, এই তীব্র সংঘাতের ফলে গত কয়েক দিনে ১,১০০ শিশু হতাহত হয়েছে। এছাড়া ইসরায়েলি বিমান হামলার মুখে লেবাননে প্রায় ৮ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অস্ত্রের সংকট ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ব্রিফিংয়ে কর্মকর্তারা জানান, যুদ্ধের প্রথম দুই দিনেই ৫.৬ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে, বিশেষ করে যখন প্রতিরক্ষা শিল্প ইতোমধ্যেই চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই যুদ্ধের স্থায়িত্ব এবং পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে প্রকাশ্য জবাবদিহিতা দাবি করেছেন। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার কেন্টাকি সফরকালে দাবি করেছেন যে, তারা যুদ্ধে "জয়লাভ" করেছেন। যদিও তিনি ইরানকে পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ না করা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেন, যুদ্ধের অবসান খুব শীঘ্রই হতে পারে কারণ মার্কিন বাহিনীর বোমাবর্ষণ করার মতো লক্ষ্যবস্তু ইরানে "আর অবশিষ্ট নেই"। তবে তার এই দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেশ করা হয়নি। সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাজার ৪ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দিলেও তেলের মূল্যবৃদ্ধি থামানো যাচ্ছে না।

১ ঘন্টা Ago
হট্টগোলের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির ভাষণ
জাতীয়
হট্টগোলের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির ভাষণ, প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ ও ওয়াকআউট বিরোধী দলের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে হট্টগোলের মধ্যেই ভাষণ শুরু করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ভাষণ শুরুর আগে প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ জানিয়ে পরে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা।   বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদে রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা নিজেদের আসন থেকে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ কর’ সহ বিভিন্ন স্লোগান।   পরিস্থিতি শান্ত রাখতে স্পিকার সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। এরপর রাষ্ট্রপতি সংসদ কক্ষে প্রবেশ করে স্পিকারের পাশে নির্ধারিত আসনে বসেন এবং হট্টগোলের মধ্যেই তার বক্তব্য শুরু করেন।   রাষ্ট্রপতির বক্তব্য চলাকালে সরকারদলীয় সদস্য ও বিএনপির সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়াতে দেখা যায়। অন্যদিকে বিরোধী দলের সদস্যরা কিছুক্ষণ পর সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন। ভাষণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং সেই আন্দোলনে নিহত শহীদদের স্মরণ করেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন।   রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বিষয়েও তথ্য তুলে ধরেন। কৃষি ও অর্থনীতির উন্নয়নে সরকার জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরাফাত ইবনে আব্দুল্লাহ মার্চ ১২, ২০২৬ 0
জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
জুলাই সনদ ভঙ্গ করে সংসদ শুরু করেছে বিএনপি: সারজিস

বিএনপি জুলাই সনদ ভঙ্গ করে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বরে একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ কথা বলেন।   সারজিস আলম বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য বিএনপি ভালো বার্তা দেয়নি। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অনুযায়ী সংসদে স্পিকার সরকারি দল থেকে হলেও ডেপুটি স্পিকার বিরোধীদল থেকে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডেপুটি স্পিকার করা হয়েছে ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে, যিনি বিএনপি সমর্থিত একজন এমপি।   স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে শপথ পড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করে সারজিস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় পরিবেশগত পরিস্থিতির কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। তবে দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হওয়ার পরও বিএনপি ফ্যাসিস্ট সরকারের রাষ্ট্রপতির মাধ্যমেই শপথ নিয়ে তাদের সরকারের কার্যক্রম শুরু করেছে।   তিনি আরও বলেন, তারা আবারও পূর্বের স্বৈরাচারী ধারার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করছে এবং সেই স্বৈরাচারী লেজ টেনে ধরা শুরু করেছে, যা তাদেরকে মর্মাহত করেছে।

ছবি: সংগৃহীত।
পারস্য উপসাগরে ৬ জাহাজে হামলা: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়ালো

পারস্য উপসাগর ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে অন্তত ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনায় বিশ্বজুড়ে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থানরত ছয়টি জাহাজে একের পর এক হামলা চালানো হয়। এসব হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করছে পশ্চিমা দেশগুলো। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০.৫০ ডলারে পৌঁছে যায়, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, আক্রান্ত জাহাজগুলোর মধ্যে তেলের ট্যাঙ্কার এবং কার্গো ভেসেল রয়েছে। বেশ কিছু ভিডিওতে জাহাজগুলোতে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। এই হামলার ফলে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। জ্বালানি তেলের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারেও বড় ধরনের ধস লক্ষ্য করা গেছে। মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গোল্ডম্যান স্যাকস-এর মতো বিশ্লেষক সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, যদি হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তবে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৪০ থেকে ২০০ ডলারেও গিয়ে ঠেকতে পারে। বিদ্যমান পরিস্থিতি সামাল দিতে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (IEA) তাদের জরুরি মজুদ থেকে রেকর্ড ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও তার কৌশলগত রিজার্ভ থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত প্রশমিত না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজার স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ওমান ও ইরাকের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোও তাদের তেল টার্মিনালগুলো থেকে সতর্কতা হিসেবে জাহাজ সরিয়ে নিচ্ছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।
স্পিকার নির্বাচন কীভাবে হয়? পদাধিকার ও সাংবিধানিক বিধিনিষেধ

বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন।  বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদের প্রথম অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে অভিষিক্ত হন। সংবিধানের ৭৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক। প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে একক প্রার্থী হিসেবে তারা নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য যে, সংসদ ভেঙে গেলেও নতুন স্পিকার কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বিদায়ী স্পিকার পদে বহাল থাকেন, যা এই পদের অনন্য সাংবিধানিক বৈশিষ্ট্য। স্পিকার কি এমপি বা মন্ত্রী থাকতে পারেন? এই প্রশ্নটি জনমনে প্রায়ই দেখা দেয়। সংবিধান অনুযায়ী এর ব্যাখ্যা অত্যন্ত স্পষ্ট: সাংসদ পদ: স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার হতে হলে তাকে অবশ্যই আগে একজন সংসদ সদস্য হতে হবে। অর্থাৎ, তারা একই সাথে স্পিকার এবং এমপি। মন্ত্রী পদ: সংবিধানের ১৪৭(৩) ও ৭৪(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার কোনো 'লাভজনক পদ' বা নির্বাহী বিভাগের (মন্ত্রিত্ব) দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। তাৎক্ষণিক প্রভাব: মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ এতদিন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে শপথ নেওয়ার সাথে সাথেই তাদের মন্ত্রী পদটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়ে গেছে।   সংসদের অভিভাবক হিসেবে স্পিকারের হাতে রয়েছে অপরিসীম ক্ষমতা। তিনি সভার শৃঙ্খলা রক্ষা করেন এবং বিতর্ক পরিচালনা করেন। সাধারণ অবস্থায় তিনি ভোট দেন না, তবে কোনো বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের ভোট সমান হয়ে গেলে তিনি জয়-পরাজয় নির্ধারণী ‘কাস্টিং ভোট’ প্রদান করেন। যদিও তারা দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত হন, তবে চেয়ারে বসার পর তারা দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে দায়বদ্ধ। মেজর হাফিজের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ‘বীর বিক্রম’ খেতাবধারী। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি পাকিস্তান ফুটবল দলের অধিনায়ক এবং টানা তিনবার পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানব ছিলেন। তার দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা সংসদ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত।
১৩ বছরের লড়াইয়ের অবসান: ভারতে প্রথমবার ‘পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যু’র অনুমতি

দশকেরও বেশি সময় ধরে বিছানায় নিথর পড়ে থাকা দেহ, নাকে-মুখে নল আর যন্ত্রের সাহায্যে কৃত্রিমভাবে বয়ে চলা শ্বাস— অবশেষে এই দীর্ঘ যন্ত্রণার অবসান হতে চলেছে। ভারতের বিচারবিভাগের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও আবেগঘন রায় দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ১৩ বছর ধরে কোমায় থাকা ৩১ বছর বয়সী যুবক হরিশ রাণাকে ‘প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া’ বা পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিয়েছে। ২০১৩ সালে চণ্ডীগড়ের একটি বহুতল থেকে পড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে মারাত্মক চোট পান তৎকালীন ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র হরিশ। সেই থেকে তিনি ছিলেন পুরোপুরি ‘ভেজিটেটিভ স্টেট’ বা উদ্ভিদবৎ অবস্থায়। তার বেঁচে থাকা বলতে ছিল কেবল লাইফ সাপোর্ট আর টিউবের মাধ্যমে শরীরে কৃত্রিমভাবে পুষ্টি সরবরাহ। দীর্ঘ ১৩ বছর আপ্রাণ লড়াই করার পর সহায়-সম্বলহীন পরিবার যখন বুঝতে পারে হরিশের ফেরার আর কোনো পথ নেই, তখনই তারা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ বুধবার এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। আদালত দিল্লির এইমস (AIIMS)-কে নির্দেশ দিয়েছে হরিশের শরীর থেকে ধীরে ধীরে লাইফ সাপোর্ট ও কৃত্রিম পুষ্টি ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করতে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত হয়তো কঠোর যুক্তি দিয়ে বিচার করা যাবে না, তবে এর মধ্যে লুকিয়ে আছে এক পরিবারের ‘ভালোবাসা, ত্যাগ এবং বিচ্ছেদের’ করুণ বাস্তবতা। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার’কে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও, বাস্তবে এর প্রয়োগ এই প্রথম দেখা গেল। ইতিপূর্বে মুম্বাইয়ের অরুণা শানবাগের ঘটনায় স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করা হলেও তখন আদালত তা মঞ্জুর করেনি। হরিশের বাবা অশোক রাণা আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "আমাদের জন্য এটা অত্যন্ত কঠিন এক সিদ্ধান্ত, কিন্তু হরিশের যন্ত্রণামুক্তির জন্য এটাই হয়তো সেরা পথ। আমরা আদালতের কাছে কৃতজ্ঞ।" এই রায়ের মাধ্যমে ভারত এক নতুন আইনি দিগন্তে পা রাখল, যেখানে দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণায় কাতর রোগীর মানবিক বিদায়ের পথ প্রশস্ত হলো। তবে আদালত একই সঙ্গে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে জীবনের অন্তিম পর্যায়ের যত্ন বা ‘এন্ড অফ লাইফ কেয়ার’ নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করতে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির রাঙামাটি জেলা কমিটির আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা
রাঙামাটিতে এনসিপিতে বড় ধস: জেলা আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমার পদত্যাগ

রাঙামাটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। জেলা কমিটির যুগ্ম-সদস্য সচিবসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর দলত্যাগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খোদ জেলা কমিটির আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার বিকেলে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে এক দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান। এর আগে গত ৫ মার্চ জেলা কমিটির যুগ্ম-সদস্য সচিব উজ্জ্বল চাকমাসহ সাতজন এবং ৯ মার্চ জুরাছড়ি উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির ৮৪ জন নেতাকর্মী একযোগে পদত্যাগ করেছিলেন। নেতাকর্মীদের এই ধারাবাহিক প্রস্থানের ধারায় এবার শীর্ষ নেতার সরে দাঁড়ানো দলটির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে বিপিন জ্যোতি চাকমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে আসছিলেন। তবে সাংগঠনিক পর্যায়ে ধারাবাহিক অসহযোগিতা, কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে সমন্বয়ের অভাব এবং দলের ভেতরে উপদলীয় কোন্দল তৈরি হওয়ায় তার পক্ষে দায়িত্ব পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, ১১ মার্চ থেকেই তিনি সকল দলীয় কার্যক্রম থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে বিপিন জ্যোতি চাকমা জানান, তিনি এখনো দাপ্তরিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেননি, তবে আজকের মধ্যেই তা কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেবেন। এদিকে জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব এম শোয়াইব বিষয়টিকে 'ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত' হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, এনসিপির পার্বত্য অঞ্চলের সংগঠক মনজিলা সুলতানা ঝুমা জানান, বিপিন জ্যোতি চাকমা এর আগেও একবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ফিরে এসেছিলেন। তিনি কোনো আঞ্চলিক বা রাজনৈতিক চাপে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কি না, তা খতিয়ে দেখে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Advertisement
News stories

রাজনীতি

  • ছাত্র রাজনীতি
  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • অন্যান্য দল
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

Advertisement

Opinion

আন্তর্জাতিক

View more
ছবি: সংগৃহীত।
১৩ বছরের লড়াইয়ের অবসান: ভারতে প্রথমবার ‘পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যু’র অনুমতি
ইসতিয়াক মাহমুদ মার্চ ১২, ২০২৬ 0

দশকেরও বেশি সময় ধরে বিছানায় নিথর পড়ে থাকা দেহ, নাকে-মুখে নল আর যন্ত্রের সাহায্যে কৃত্রিমভাবে বয়ে চলা শ্বাস— অবশেষে এই দীর্ঘ যন্ত্রণার অবসান হতে চলেছে। ভারতের বিচারবিভাগের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও আবেগঘন রায় দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ১৩ বছর ধরে কোমায় থাকা ৩১ বছর বয়সী যুবক হরিশ রাণাকে ‘প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া’ বা পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিয়েছে। ২০১৩ সালে চণ্ডীগড়ের একটি বহুতল থেকে পড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে মারাত্মক চোট পান তৎকালীন ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র হরিশ। সেই থেকে তিনি ছিলেন পুরোপুরি ‘ভেজিটেটিভ স্টেট’ বা উদ্ভিদবৎ অবস্থায়। তার বেঁচে থাকা বলতে ছিল কেবল লাইফ সাপোর্ট আর টিউবের মাধ্যমে শরীরে কৃত্রিমভাবে পুষ্টি সরবরাহ। দীর্ঘ ১৩ বছর আপ্রাণ লড়াই করার পর সহায়-সম্বলহীন পরিবার যখন বুঝতে পারে হরিশের ফেরার আর কোনো পথ নেই, তখনই তারা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ বুধবার এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। আদালত দিল্লির এইমস (AIIMS)-কে নির্দেশ দিয়েছে হরিশের শরীর থেকে ধীরে ধীরে লাইফ সাপোর্ট ও কৃত্রিম পুষ্টি ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করতে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত হয়তো কঠোর যুক্তি দিয়ে বিচার করা যাবে না, তবে এর মধ্যে লুকিয়ে আছে এক পরিবারের ‘ভালোবাসা, ত্যাগ এবং বিচ্ছেদের’ করুণ বাস্তবতা। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার’কে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও, বাস্তবে এর প্রয়োগ এই প্রথম দেখা গেল। ইতিপূর্বে মুম্বাইয়ের অরুণা শানবাগের ঘটনায় স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করা হলেও তখন আদালত তা মঞ্জুর করেনি। হরিশের বাবা অশোক রাণা আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "আমাদের জন্য এটা অত্যন্ত কঠিন এক সিদ্ধান্ত, কিন্তু হরিশের যন্ত্রণামুক্তির জন্য এটাই হয়তো সেরা পথ। আমরা আদালতের কাছে কৃতজ্ঞ।" এই রায়ের মাধ্যমে ভারত এক নতুন আইনি দিগন্তে পা রাখল, যেখানে দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণায় কাতর রোগীর মানবিক বিদায়ের পথ প্রশস্ত হলো। তবে আদালত একই সঙ্গে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে জীবনের অন্তিম পর্যায়ের যত্ন বা ‘এন্ড অফ লাইফ কেয়ার’ নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করতে।

ছবি: সংগৃহীত।
পারস্য উপসাগরে ৬ জাহাজে হামলা: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়ালো
ইসতিয়াক মাহমুদ মার্চ ১২, ২০২৬ 0

পারস্য উপসাগর ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে অন্তত ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনায় বিশ্বজুড়ে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থানরত ছয়টি জাহাজে একের পর এক হামলা চালানো হয়। এসব হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করছে পশ্চিমা দেশগুলো। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০.৫০ ডলারে পৌঁছে যায়, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, আক্রান্ত জাহাজগুলোর মধ্যে তেলের ট্যাঙ্কার এবং কার্গো ভেসেল রয়েছে। বেশ কিছু ভিডিওতে জাহাজগুলোতে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। এই হামলার ফলে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। জ্বালানি তেলের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারেও বড় ধরনের ধস লক্ষ্য করা গেছে। মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গোল্ডম্যান স্যাকস-এর মতো বিশ্লেষক সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, যদি হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তবে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৪০ থেকে ২০০ ডলারেও গিয়ে ঠেকতে পারে। বিদ্যমান পরিস্থিতি সামাল দিতে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (IEA) তাদের জরুরি মজুদ থেকে রেকর্ড ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও তার কৌশলগত রিজার্ভ থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত প্রশমিত না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজার স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ওমান ও ইরাকের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোও তাদের তেল টার্মিনালগুলো থেকে সতর্কতা হিসেবে জাহাজ সরিয়ে নিচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত।
বসরায় মার্কিন তেলবাহী জাহাজে হামলা: ভারতীয় নাবিক নিহত
ইসতিয়াক মাহমুদ মার্চ ১২, ২০২৬ 0

ইরাকের বসরা বন্দরের অদূরে একটি মার্কিন মালিকানাধীন অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবারের এই হামলায় জাহাজে কর্মরত এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন বলে বাগদাদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস নিশ্চিত করেছে। মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী ‘সেফসি বিষ্ণু’ নামক জাহাজটি যখন বসরার কাছাকাছি অবস্থান করছিল, তখনই এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়। ভারতীয় দূতাবাস তাদের অফিসিয়াল বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিহত নাবিক ছাড়া ওই জাহাজে আরও ১৫ জন ভারতীয় ক্রু সদস্য ছিলেন। তাদের সবাইকে সফলভাবে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দূতাবাস বর্তমানে ইরাকি কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট শিপিং কোম্পানির সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে যাতে বাকি নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং নিহত নাবিকের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের সরকার পতনের কোনো সম্ভাবনা নেই, মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট
ইসতিয়াক মাহমুদ মার্চ ১২, ২০২৬ 0

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক বিমান হামলা এবং সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর পরও ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব বা শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কোনো উপক্রম হয়নি।  রয়টার্সের বরাত দিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে জানানো হয়েছে, ইরানের সরকার এখনো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে তাদের পতনের কোনো সম্ভাবনা নেই। সংশ্লিষ্ট বিষয়টির ওপর নজর রাখছেন এমন তিনটি বিশ্বস্ত সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ বলছে যে ইরানি জনগণের ওপর বর্তমান প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ এখনো অটুট। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রথম দিনেই আলী খামেনেই নিহত হলেও, দেশটির রাজনৈতিক কাঠামোতে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ঘটেনি। এমনকি ইসরায়েলি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন যে, এই যুদ্ধের ফলে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি ধসে পড়বে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। সাম্প্রতিক এই মূল্যায়নটি গত কয়েক দিনের নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর চূড়ান্ত করা হয়েছে।

Follow us

Trending

ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্চ ১, ২০২৬
আসিফ নজরুল Play Video
175 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
আমির খসরু Play Video
191 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
126 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
Advertisement
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
আইন-আদালত
Advertisement
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
বাংলাদেশ
জাতীয়