প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, ভবিষ্যতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কোনো সেবা আর ডিজিটাল মাধ্যম ছাড়া দেওয়া হবে না। তিনি জানান, বাজেটে সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি বা কঠোর মিতব্যয়িতা—কোনোটিই নয়; বরং অপচয় রোধই হবে সরকারের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে এলটিইউ-নির্ভর কর আদায়ের চর্চা থেকেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-কে বেরিয়ে আসতে হবে। বুধবার (৪ মার্চ) রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘লুকিং ইনটু বাংলাদেশ’স ডেভেলপমেন্ট: প্রায়োরিটি ফর দ্য নিউলি ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট ইন দ্য শর্ট টু মিডিয়াম টার্ম’ শীর্ষক এ আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও দ্য ডেইলি স্টার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সরকার ‘ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার’-এর দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যার ভিত্তি হবে ইন্টার-অপারেবিলিটি। অর্থাৎ সব সেবা ও ডাটাবেইস একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। সরকারের লক্ষ্য ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’—এর মাধ্যমে সেবা প্রাপ্তিতে অনিয়ম ও অপচয় কমানো সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বর্তমানে তিনটি বড় সমস্যা রয়েছে—বঞ্চনা (এক্সক্লুশন এরর), অযোগ্যদের অন্তর্ভুক্তি (ইনক্লুশন এরর) এবং কর্মসূচির খণ্ডিত অবস্থা। ডিজিটাল কার্ড ও একক সনাক্তকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধান করা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রলম্বিত মূল্যস্ফীতির কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণি ঝুঁকিতে পড়ছে উল্লেখ করে তিনি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন। সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি, যা নারীকেন্দ্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে জোরদার করবে। লক্ষ্য হচ্ছে টার্গেটভিত্তিক ব্যবস্থা থেকে ধীরে ধীরে সর্বজনীন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়া। কর ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সীমিতসংখ্যক বড় করদাতার ওপর নির্ভরশীলতা টেকসই নয়। কর সংস্কৃতি বিস্তার ও কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হবে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি বা কঠোর মিতব্যয়িতা—দুটোর কোনোটিই সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এক্ষেত্রে একমাত্র পথ হলো অপচয় রোধ।”
নরসিংদীর মনোহরদীতে বিলের পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে এক রোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী হলেন স্থানীয়রা। সোমবার বিকেলে উপজেলার শুকুন্দী ইউনিয়নের দিগাকান্দি এলাকার ‘দুয়ার বিল’ থেকে একটি পুরোনো শক্তিশালী গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, গ্রেনেডটিকে মূল্যবান ‘গুপ্তধন’ বা দামি লোহা ভেবে সযত্নে ধুয়ে-মুছে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন শিখা বেগম নামের এক নারী। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন শিখা বেগমের সন্তানরা ওই বিলে মাছ ধরতে নামে। সন্তানদের পানি থেকে তুলে আনতে গিয়ে শিখা বেগমের পায়ের নিচে শক্ত ও ভারী কিছু একটা ঠেকে। কৌতূহলবশত বস্তুটি তুলে আনার পর সেটিকে লোহার তৈরি প্রাচীন কোনো সম্পদ ভেবে বসেন তিনি। বাড়িতে এনে পরিষ্কার করার পর প্রতিবেশীদের সন্দেহ হলে তারা পুলিশে খবর দেন। পরবর্তী সময়ে পুলিশ এসে নিশ্চিত করে যে, এটি একটি যুদ্ধকালীন বা পুরোনো আমলের গ্রেনেড। নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে শিখা বেগম বলেন, "বাচ্চাদের আনতে বিলে নেমেছিলাম। পায়ে শক্ত কিছু লাগলে তুলে দেখি বেশ ভারী। ভেবেছিলাম হয়তো কোনো গুপ্তধন বা দামি লোহা হবে, যা বিক্রি করে কিছু টাকা পাওয়া যাবে। কিন্তু এটি যে প্রাণঘাতী বোমা হতে পারে, তা কল্পনাও করিনি।" এলাকাবাসীর মধ্যে গুঞ্জন শুরু হলে তিনি বুঝতে পারেন যে এটি আসলে একটি গ্রেনেড। মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ গ্রেনেড সদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে নিয়েছে। জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বর্তমানে বিশেষজ্ঞ বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এসে গ্রেনেডটি পরীক্ষা ও নিষ্ক্রিয় করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বিলের পানিতে এই গ্রেনেড কোথা থেকে এলো, তা নিয়ে এখন তদন্ত চলছে।
শনিবার থেকে ইরান-এর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম আনাদোলু-এর সংকলিত তথ্য ও অনুমানে জানা গেছে। সবচেয়ে বড় ক্ষতির মধ্যে রয়েছে কাতার-এর আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটি-তে স্থাপিত মার্কিন এএন/এফপিএস-১৩২ প্রারম্ভিক সতর্কতা রাডার ব্যবস্থা, যার মূল্য প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কাতার নিশ্চিত করেছে। রোববার কুয়েত-এ বন্ধুত্বপূর্ণ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়। ছয়জন ক্রু প্রাণে বেঁচে গেলেও বিমানগুলো রক্ষা করা যায়নি। এসব বিমানের প্রতিস্থাপন ব্যয় প্রায় ২৮২ মিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করা হচ্ছে। এ ছাড়া বাহরাইন-এর রাজধানী মানামা-এ অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে হামলায় স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল ও একাধিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ওপেন-সোর্স তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালগুলোর মূল্য কয়েক কোটি ডলার হতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর আল-রুওয়াইস শিল্পাঞ্চলে মোতায়েন করা একটি অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার উপাদান ধ্বংসের দাবিও করেছে ইরান। স্যাটেলাইট চিত্রে আঘাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়, যার সম্ভাব্য ক্ষতি শত কোটি ডলারের বেশি। এসব হিসাব একত্র করলে অঞ্চলে প্রায় ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন সামরিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংঘাত শুরুর পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত একাধিক মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি ও ক্যাম্প আরিফজান, ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামরিক অংশ, কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটি এবং বাহরাইনের নৌঘাঁটি। কিছু স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড ও অবকাঠামোগত ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি কূটনৈতিক মিশনও হামলার শিকার হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। সৌদি আরব-এর রাজধানী রিয়াদ-এ মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে সীমিত অগ্নিকাণ্ড ও সামান্য ক্ষয়ক্ষতির কথা জানানো হয়েছে। কুয়েত সিটি ও দুবাই-এ অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর কাছেও বিস্ফোরণ ও ধোঁয়া দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে এবার কঠোর ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। বর্তমানে চলমান যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটানো এই হামলাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন তিনি। সিডনির লোয়ি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় কার্নি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি সরাসরি বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এই হামলাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তার এই মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে এবং মিত্র দেশগুলোর সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে কানাডার অবস্থানের পরিবর্তনকে স্পষ্ট করে তুলছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে এবার কঠোর ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। বর্তমানে চলমান যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটানো এই হামলাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন তিনি। সিডনির লোয়ি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় কার্নি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি সরাসরি বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এই হামলাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তার এই মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে এবং মিত্র দেশগুলোর সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে কানাডার অবস্থানের পরিবর্তনকে স্পষ্ট করে তুলছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর স্মরণে আজ রাত ১০টা থেকে (গ্রিনিচ মান সময় ১৮:৩০) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা হলে তিন দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালা শুরু হতে যাচ্ছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রয়াত এই নেতার অনুসারী ও সমর্থকরা আজ রাত থেকেই সেখানে সমবেত হবেন। স্মরণ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রস্তুতিও বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। শেষ বিদায়ের এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
আধুনিক সমরাস্ত্রের লড়াইয়ে এক নতুন ও উদ্বেগজনক সমীকরণ তৈরি করেছে ইরানের তৈরি ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন। মাত্র ৩৫ হাজার ডলার মূল্যের এই সস্তা ড্রোন ঠেকাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে খরচ করতে হচ্ছে লাখ লাখ, এমনকি কোটি ডলারের ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র। এই অসম লড়াইয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে আতঙ্ক ছড়ানোর পর এখন মধ্যপ্রাচ্যের রণাঙ্গনে ডেল্টা-উইং ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন মোতায়েন করেছে তেহরান। মাত্র ৩.৫ মিটার দীর্ঘ এবং ৫০ কেজি বিস্ফোরক বহনে সক্ষম এই ড্রোনটির উৎপাদন খরচ যেখানে মাত্র ৩৫ হাজার ডলার, সেখানে এটি ধ্বংস করতে ব্যবহৃত একেকটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে ব্যয় হচ্ছে ৫ লাখ থেকে ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কার্যত একটি অর্থনৈতিক যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর ওপর শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে গত ৪৮ ঘণ্টায় বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, তেহরান প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৫০০টির বেশি ড্রোন ছুড়ে প্রতিপক্ষের রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করছে। ইরানের হাতে বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ড্রোনের বিশাল মজুত রয়েছে এবং প্রতি মাসে তারা আরও ৫০০টি ড্রোন তৈরি করতে সক্ষম। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ‘থাড’ (THAAD) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি ইন্টারসেপ্টরের দাম প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সময় লাগে তিন থেকে আট বছর। স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো কেলি গ্রিকো সতর্ক করে বলেছেন, "আমরা যে হারে এগুলো ব্যবহার করছি, সে হারে তৈরি করতে পারছি না।" একটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে একাধিক ইন্টারসেপ্টর ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা পশ্চিমা সামরিক শক্তিকে এক দীর্ঘমেয়াদি সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিকল্প হিসেবে ইসরাইল ‘আইরন বিম’ লেজার প্রযুক্তির কথা ভাবলেও তা এখনো পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। ফলে ড্রোনের এই বিশাল ঝাঁক মোকাবিলায় পেন্টাগন এখন চরম অস্থিরতায় দিন কাটাচ্ছে।
ফেসবুক পেজ থেকে আয়ের বিষয়টি সচরাচর গোপন রাখতেই পছন্দ করেন ইনফ্লুয়েন্সার বা তারকারা। তবে এক্ষেত্রে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে মাসিক ও বাৎসরিক আয়ের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো চমক দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে হাসনাত আব্দুল্লাহর ফেসবুক পেজে অনুসারীর সংখ্যা ৪৯ লাখ ছাড়িয়েছে। নিয়মিত জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে ভিডিও, ছবি এবং মতামত শেয়ার করেন তিনি। সম্প্রতি এক তথ্যে তিনি জানান, তার একটি ভিডিও ১৭ মিলিয়ন ভিউ হওয়ার বিপরীতে তিনি মাত্র ৪০ ডলার আয় করেছেন। তবে সবশেষ দুই দিনেই এসেছে ১২০ ডলার। আয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে হাসনাত জানান, গত মাসে তার পেজ থেকে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৩৯৯ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার টাকার সমান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি আয়ের এই ধারা বজায় থাকে, তবে তার মাসিক গড় আয় ৪ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। সেই হিসেবে বছরে তার আয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৪৫ থেকে ৪৮ লাখ টাকা। সাধারণত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আয়ের উৎস নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন থাকে। এমন পরিস্থিতিতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া আয়ের হিসাব জনসমক্ষে এনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক নতুন নজির গড়লেন এই নেতা। তার এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ ও অনুসারীরা।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, ভবিষ্যতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কোনো সেবা আর ডিজিটাল মাধ্যম ছাড়া দেওয়া হবে না। তিনি জানান, বাজেটে সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি বা কঠোর মিতব্যয়িতা—কোনোটিই নয়; বরং অপচয় রোধই হবে সরকারের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে এলটিইউ-নির্ভর কর আদায়ের চর্চা থেকেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-কে বেরিয়ে আসতে হবে। বুধবার (৪ মার্চ) রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘লুকিং ইনটু বাংলাদেশ’স ডেভেলপমেন্ট: প্রায়োরিটি ফর দ্য নিউলি ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট ইন দ্য শর্ট টু মিডিয়াম টার্ম’ শীর্ষক এ আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও দ্য ডেইলি স্টার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সরকার ‘ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার’-এর দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যার ভিত্তি হবে ইন্টার-অপারেবিলিটি। অর্থাৎ সব সেবা ও ডাটাবেইস একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। সরকারের লক্ষ্য ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’—এর মাধ্যমে সেবা প্রাপ্তিতে অনিয়ম ও অপচয় কমানো সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বর্তমানে তিনটি বড় সমস্যা রয়েছে—বঞ্চনা (এক্সক্লুশন এরর), অযোগ্যদের অন্তর্ভুক্তি (ইনক্লুশন এরর) এবং কর্মসূচির খণ্ডিত অবস্থা। ডিজিটাল কার্ড ও একক সনাক্তকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধান করা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রলম্বিত মূল্যস্ফীতির কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণি ঝুঁকিতে পড়ছে উল্লেখ করে তিনি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন। সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি, যা নারীকেন্দ্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে জোরদার করবে। লক্ষ্য হচ্ছে টার্গেটভিত্তিক ব্যবস্থা থেকে ধীরে ধীরে সর্বজনীন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়া। কর ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সীমিতসংখ্যক বড় করদাতার ওপর নির্ভরশীলতা টেকসই নয়। কর সংস্কৃতি বিস্তার ও কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হবে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি বা কঠোর মিতব্যয়িতা—দুটোর কোনোটিই সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এক্ষেত্রে একমাত্র পথ হলো অপচয় রোধ।”
শনিবার থেকে ইরান-এর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম আনাদোলু-এর সংকলিত তথ্য ও অনুমানে জানা গেছে। সবচেয়ে বড় ক্ষতির মধ্যে রয়েছে কাতার-এর আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটি-তে স্থাপিত মার্কিন এএন/এফপিএস-১৩২ প্রারম্ভিক সতর্কতা রাডার ব্যবস্থা, যার মূল্য প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কাতার নিশ্চিত করেছে। রোববার কুয়েত-এ বন্ধুত্বপূর্ণ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়। ছয়জন ক্রু প্রাণে বেঁচে গেলেও বিমানগুলো রক্ষা করা যায়নি। এসব বিমানের প্রতিস্থাপন ব্যয় প্রায় ২৮২ মিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করা হচ্ছে। এ ছাড়া বাহরাইন-এর রাজধানী মানামা-এ অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে হামলায় স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল ও একাধিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ওপেন-সোর্স তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালগুলোর মূল্য কয়েক কোটি ডলার হতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর আল-রুওয়াইস শিল্পাঞ্চলে মোতায়েন করা একটি অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার উপাদান ধ্বংসের দাবিও করেছে ইরান। স্যাটেলাইট চিত্রে আঘাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়, যার সম্ভাব্য ক্ষতি শত কোটি ডলারের বেশি। এসব হিসাব একত্র করলে অঞ্চলে প্রায় ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন সামরিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংঘাত শুরুর পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত একাধিক মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি ও ক্যাম্প আরিফজান, ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামরিক অংশ, কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটি এবং বাহরাইনের নৌঘাঁটি। কিছু স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড ও অবকাঠামোগত ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি কূটনৈতিক মিশনও হামলার শিকার হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। সৌদি আরব-এর রাজধানী রিয়াদ-এ মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে সীমিত অগ্নিকাণ্ড ও সামান্য ক্ষয়ক্ষতির কথা জানানো হয়েছে। কুয়েত সিটি ও দুবাই-এ অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর কাছেও বিস্ফোরণ ও ধোঁয়া দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
শনিবার থেকে ইরান-এর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম আনাদোলু-এর সংকলিত তথ্য ও অনুমানে জানা গেছে। সবচেয়ে বড় ক্ষতির মধ্যে রয়েছে কাতার-এর আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটি-তে স্থাপিত মার্কিন এএন/এফপিএস-১৩২ প্রারম্ভিক সতর্কতা রাডার ব্যবস্থা, যার মূল্য প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কাতার নিশ্চিত করেছে। রোববার কুয়েত-এ বন্ধুত্বপূর্ণ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়। ছয়জন ক্রু প্রাণে বেঁচে গেলেও বিমানগুলো রক্ষা করা যায়নি। এসব বিমানের প্রতিস্থাপন ব্যয় প্রায় ২৮২ মিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করা হচ্ছে। এ ছাড়া বাহরাইন-এর রাজধানী মানামা-এ অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে হামলায় স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল ও একাধিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ওপেন-সোর্স তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালগুলোর মূল্য কয়েক কোটি ডলার হতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর আল-রুওয়াইস শিল্পাঞ্চলে মোতায়েন করা একটি অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার উপাদান ধ্বংসের দাবিও করেছে ইরান। স্যাটেলাইট চিত্রে আঘাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়, যার সম্ভাব্য ক্ষতি শত কোটি ডলারের বেশি। এসব হিসাব একত্র করলে অঞ্চলে প্রায় ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন সামরিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংঘাত শুরুর পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত একাধিক মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি ও ক্যাম্প আরিফজান, ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামরিক অংশ, কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটি এবং বাহরাইনের নৌঘাঁটি। কিছু স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড ও অবকাঠামোগত ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি কূটনৈতিক মিশনও হামলার শিকার হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। সৌদি আরব-এর রাজধানী রিয়াদ-এ মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে সীমিত অগ্নিকাণ্ড ও সামান্য ক্ষয়ক্ষতির কথা জানানো হয়েছে। কুয়েত সিটি ও দুবাই-এ অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর কাছেও বিস্ফোরণ ও ধোঁয়া দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সাম্প্রতিকতম ঘটনায় কুয়েতের আকাশে আমেরিকার আরও একটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ (F-15) যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তেহরান টাইমসের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া টিভি জানিয়েছে, ইরানের সামরিক বাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে এই বিমানটি ধ্বংস হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৪ মার্চ) সকালে কুয়েতের আকাশসীমায় টহলরত বা অভিযানে থাকা একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়। এতে বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং সেটি কুয়েতের মাটিতে আছড়ে পড়ে। তবে এটি এই সপ্তাহের প্রথম ঘটনা নয়; গত সোমবারও কুয়েতে ইরানের হামলায় তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার দাবি করেছিল তেহরান। ইরানি সংবাদ সংস্থা 'ইরনা' (IRNA) একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে একটি যুদ্ধবিমান আগুনের গোলার মতো নিচে পড়ে যাচ্ছে। ইরানের দাবি, তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের চেষ্টা বা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) পূর্ববর্তী ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে দাবি করেছিল যে, বিমানগুলো ইরানের সরাসরি হামলায় নয়, বরং 'ফ্রেন্ডলি ফায়ার' বা কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলক্রমে ছোড়া গোলায় বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে বুধবারের নতুন এই ঘটনা নিয়ে পেন্টাগন থেকে এখনও বিস্তারিত কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। গত শনিবার ইসরায়েল ও মার্কিন যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হওয়ার পর থেকে পুরো অঞ্চল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ইরান 'অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪' (Operation True Promise 4) এর আওতায় কুয়েত, দুবাই এবং আবুধাবিতে থাকা মার্কিন ও মিত্র দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটিতে ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। দুবাই, কুয়েত এবং দোহার মতো প্রধান শহরগুলোতে গত কয়েকদিনে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দুবাই এবং কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চরম অস্থিরতা বিরাজ করায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও বড় ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান একের পর এক ভূপাতিত হওয়ার এই ঘটনাগুলো যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ইরান যেখানে এটিকে তাদের সামরিক শক্তির প্রদর্শন বলছে, সেখানে আমেরিকা ও তার মিত্ররা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর স্মরণে আজ রাত ১০টা থেকে (গ্রিনিচ মান সময় ১৮:৩০) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা হলে তিন দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালা শুরু হতে যাচ্ছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রয়াত এই নেতার অনুসারী ও সমর্থকরা আজ রাত থেকেই সেখানে সমবেত হবেন। স্মরণ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রস্তুতিও বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। শেষ বিদায়ের এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ইউক্রেনের রণক্ষেত্র ছাপিয়ে এবার মধ্যপ্রাচ্যের আকাশেও ত্রাস সৃষ্টি করছে ইরানের তৈরি শক্তিশালী ড্রোন ‘শাহেদ-১৩৬’। ঘাস কাটার যন্ত্রের মতো কর্কশ শব্দের এই ড্রোনগুলো এখন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় বাহরাইন, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে কয়েক শ ড্রোন আঘাত হানায় পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি ও ভীতি প্রদর্শনের কৌশল হিসেবে তেহরান এই ব্যাপক ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে ধারণা করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। শনিবার ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্য করে এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি ড্রোন ছুড়েছে তেহরান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ওপর চালানো ৬৮৯টি ড্রোনের মধ্যে ৬৪৫টি ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও ৪৪টি ড্রোন সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। সাড়ে তিন মিটার দীর্ঘ এই ঘাতক ড্রোনগুলো প্রায় ৫০ কেজি বিস্ফোরক বহন করতে সক্ষম, যা একটি বহুতল ভবন ধসিয়ে দিতে না পারলেও বড় ধরনের কাঠামোগত বিপর্যয় ঘটাতে পারে। বাহরাইন থেকে প্রাপ্ত ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ড্রোন সরাসরি একটি বহুতল ভবনে আঘাত হানছে এবং অন্যটি মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ রাডার ডোম ধ্বংস করে দিচ্ছে। প্রযুক্তিগতভাবে শাহেদ-১৩৬ ড্রোনগুলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক সস্তা এবং তৈরি করা সহজ। রাডার ফাঁকি দেওয়ার জন্য এগুলো অত্যন্ত নিচ দিয়ে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অধীনস্থ ‘শাহেদ এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজ রিসার্চ সেন্টার’ এই ড্রোনের নকশা প্রণয়ন করেছে। ২০২১ সালে ইসরায়েলি জাহাজ ‘মার্সার স্ট্রিট’-এ হামলার মাধ্যমে প্রথম এই ড্রোনের বিধ্বংসী উপস্থিতি বিশ্ববাসী জানতে পারে। বর্তমানে এই প্রযুক্তি রাশিয়ার হাতেও রয়েছে এবং ইয়েলাবুগা শহরের কারখানায় এটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করতে এই ড্রোনগুলো সাধারণত ঝাঁক বেঁধে ব্যবহার করা হলেও পারস্য উপসাগরে এগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে দেখা যাচ্ছে। সোমবার সকালে সৌদি আরবের বৃহত্তম শোধনাগার রাস তানুরায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর সেটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। যদিও এই নির্দিষ্ট হামলায় শাহেদ ড্রোন ব্যবহৃত হয়েছে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়, তবে ধ্বংসক্ষমতার ধরন দেখে বিশেষজ্ঞরা একে শাহেদ ড্রোনের হামলা বলেই সন্দেহ করছেন। ধীরগতির হওয়া সত্ত্বেও এই ড্রোনগুলো এখন মধ্যপ্রাচ্যের আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য এক দুর্ভেদ্য ধাঁধায় পরিণত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।